Logo
আজঃ বুধবার ১৯ জুন ২০২৪
শিরোনাম

বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ৩৩২জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক; আগামী জুনের পর ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ সময় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ শনিবার ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘এনার্জি ট্রান্সমিশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা জানান।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘যেসব ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, সেগুলোর মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। বেসরকারি খাত চাইলে তেল-গ্যাস আমদানি করতে পারবে।’

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে উল্লেখ করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে এক্সেপ্লোরেশনের জন্য আমাদের কাছে অফার আসছে। আগে কোনো পার্টিই পাওয়া যায়নি। এখন আমাদের কাছে পার্টি আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন না যে, এখানে একটা বিজনেস কেস ইনভলবড। এটা এমন না যে গ্যাস পেলাম, কালকে গিয়ে ঝাঁপায়ে পড়ব। বিজনেস কেসটা হলো খনন করলে সেটা ওই কোম্পানির জন্য লাভজনক হবে কি না। ফিসিবিলিটি ইজ দ্য মেইন থিং। তো ১০ বছর আগে কেন হয়নি? এই কারণেই হয়নি। ইট ওয়াজ নট ফিসিবল। আইওসি ২ ডলারে গ্যাস দেয়। আর সেখানে গিয়ে গ্যাস এক্সপ্লোরেশন করতে গেলে লাগবে ৭ ডলার। তো আমি যদি বলি ৫ ডলার দেব, কেউ রাজি হবে? কেউ রাজি হয়নি। এটা বুঝতে হবে। এখন দাম বেড়েছে, এখন অনেক মানুষ আসছে।’

নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দেই না। যারা থিওরি নিয়ে কাজ করেন, তারা এ বিষয়টি বাইরে গিয়ে চিন্তা করেন না যে, কেন আসে না। কারণ খনন কোম্পানি ব্যবসাও করতে চাচ্ছে। তারা এখানে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। তারা তো বসে নেই যে ২ ডলার করে গ্যাস বিক্রি করবে। তারা চিন্তা করে, আগামী ১০ বছর লাগবে আমার গ্যাস এক্সপ্লোরেশন করে আসতে, সে সময় দাম কত হবে, সে সময় যদি দাম ড্রপ করে, তাহলে কী হবে। আদৌ কি চাহিদা থাকবে কি না। এখানে নানা জটিলতা আছে।’


আরও খবর



বিরামপুরে জমি দখলের চেষ্টা: থানায় জিডি

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ৫৫জন দেখেছেন

Image

মিজান, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃদিনাজপুর জেলার বিরামপুরে পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামে রেল বিভাগ থেকে লীজ নেওয়া জমি একটি সংঘবদ্ধ চক্র জবর দখলের চেষ্ঠা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় লীজ গ্রহীতা আবু সাঈদ থানায় সাধারণ ডাইরী করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিরামপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের বৃদ্ধ আবু সাঈদ জানান, ঐ মৌজায় রেল বিভাগের অনেক পতিত জমি রয়েছে। অন্যনা সে সকল জমি লীজ নিয়ে ভোগ দখল করছে। আবু সাঈদ তার বাড়ির সামনে ১৪ শতক জায়গা রেল বিভাগ থেকে লীজ নিয়ে র্দীদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছেন। তিনি চলতি বছরও খাজনার টাকা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করেছেন। কিন্তু ঐ গ্রামের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বৃদ্ধ আবু সাইদের বাড়ির সামনের জমিটি জোর পূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

এঘটনায় তিনি গত ৮ জুন বিরামপুর থানায় সাইম, ইদ্রিস, আর্জিনা ও হাছেন মিয়ার নামে একটি সাধারণ ডাইরী করেছেন। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে ঐ চক্রটি ১২জুন সকালে আবারো জমিটি জবর দখলের চেষ্টা করেছে। বাড়ির সামনের জমি জবর দখলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বৃদ্ধ আবু সাঈদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আরও খবর

ভোলায় "রাসেল ভাইপার" আতঙ্ক

বুধবার ১৯ জুন ২০২৪




সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করার আহ্বান: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ৬১জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আহ্বান জানিয়েছেন সবাইকে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করার।

সোমবার (১৭ জুন) সকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা (ভিডিও) বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি।

শুভেচ্ছা বার্তায় ওবায়দুল কাদের বলেন, বছর ঘুরে আবার এল ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল। মহান আল্লাহ পাকের প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের নিদর্শনে ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। আমাদেরকে কুরবানির তাৎপর্য এবং মর্মার্থ অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে হবে। আর এ জন্য সবাইকে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অর্জনের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভারসাম্যপূর্ণ, শোষণহীন, ন্যায়নিষ্ঠ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন- তা সফল করতে প্রয়োজন নিষ্ঠা, সততা এবং ত্যাগ।

তিনি বলেন, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও ত্যাগের আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলে, প্রতিষ্ঠিত হবে প্রত্যাশিত শান্তি ও সৌহার্দ্য। আমি দল-মত নির্বিশেষে সকলকে একটি অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কর্ম ও চিন্তায় ত্যাগ, আনুগত্য এবং সততা চর্চায় নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানাই। আহ্বান জানাই, ঐক্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার।

এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে পবিত্র ঈদে আমি দেশবাসী, প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি সকলকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা- ঈদ মোবারক।


আরও খবর



রূপগঞ্জে প্রতীক বরাদ্দের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার সামনে মেয়র প্রার্থীর উপর হামলা

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | ১০৬জন দেখেছেন

Image

আবু কাওছার মিঠু রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃনারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রতীক বরাদ্দের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের সামনেই মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের উপর হামলা চালিয়েছে তার প্রতিদ্বন্দী মেয়র প্রার্থী দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা। এসময় মেয়রকে প্রায় ১০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখে বাদশার সমর্থকরা। এক পর্যায়ে তারা উপজেলা সম্মেলন কক্ষের দরজা, জানালা ভাঙচুর ও চেয়ার ছোঁড়াছোঁড়ি করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার বেলা ১১ টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আবুল বাশার বাদশাকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করেছে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইস্তাফিজুল হক আকন্দ।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার উপজেলা সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করছিলেন রিটার্নিংকর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাচন অফিসার তাজাল্লি ইসলাম, রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহাসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রতীক বরাদ্দের আগে থেকেই মেয়র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে নিজের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের নিয়ে বসে ছিলেন রফিকুল ইসলাম। 

এসময় আবুল বাশার বাদশা লোকজন নিয়ে সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করে রফিককে  আসন ছেড়ে পেছনে গিয়ে বসতে বলেন। রফিক চেয়ার ছাড়তে রাজি না হলে বাদশা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং রফিকুলের গায়ে ধাক্কা দেন। এসময় রফিকের সমর্থকরা ঘটনার প্রতিবাদ জানালে বাদশার সঙ্গে আসা লোকজন রফিকের সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়। পরে বাদশার লোকজন সম্মেলন কক্ষের দরজা, জানালা ও প্রজেক্টর ভাংচুর করেন। 

এসময় উপজেলা পরিষদ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, বাদশা বহিরাগত ভাড়া করে এনে নির্বাচন করছে। তাতেও ভোটারদের মধ্যে নিজের কোন প্রভাব তৈরি করতে পারছে না। নিজের পরাজয় নিশ্চিত জেনে সে প্রতীক বরাদ্দের সময় আমার এবং আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে। ওরা প্রশাসনের সামনেই আমার উপর হামলা করার দুঃসাহস দেখায়। নির্বাচন যেন অবাদ ও সুষ্ঠু হয়, বহিরাগতরা যেন নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি। 

আবুল বাশার বাদশা বলেন, বসা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ওরা রিফুজি, ওরা সামনে বসবে কেন? তাই আমি তাদেরকে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দিয়েছি।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। এটা যেনো আর না হয় সেদিকে দৃষ্টি আছে।

জেলা রিটানিং অফিসার ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বলেন, অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ায় আমার আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এ ব্যাপারে বাদশাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। 

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর

ভোলায় "রাসেল ভাইপার" আতঙ্ক

বুধবার ১৯ জুন ২০২৪




সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের ৪১তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী উৎযাপন

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | ৮৫জন দেখেছেন

Image

সুন্দরগঞ্জ,(গাইবান্ধার)প্রতিনিধিঃপালিত হল সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের ৪১ তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী।প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন উপলক্ষে সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের অ-স্হায়ী কার্যালয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশার্রফ হোসেন বুলুর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে  উপস্হিত ছিলেন,সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)মাসুদুর রহমান,সভায় বক্তব্য রাখেন,প্রেসক্লাবের সিঃসহ-সভাপতি  একেএম শামছুল হক,সাধারণ সম্পাদক,শফিকুল ইসলাম(অবুঝ),,যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম,এনামুল হক,প্রচার সম্পাদক মোকছেদ আল মামুন,দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান,শিক্ষা বিষায়ক সম্পাদক,জাহিদ হাসান জীবন, ক্রীড়া বিষয়ক যয়ন্ত শাহা জতন, কায্যকরি সদস্য হারুন-অর-রশিদ রাজু, খাইরুল ইসলাম নয়ন,প্রমুখ।


আরও খবর



তানোরে পোস্ট অফিস থেকে টাকা আত্মসাত ফেরত পেতে গ্রাহকের আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | ১৩৮জন দেখেছেন

Image

আব্দুস সবুর তানোর থেকে:রাজশাহীর তানোরে ডিজিটাল  পোস্ট অফিসে জমানো টাকা ফেরত পেতে অফিসের ভিতরেই গলায় ফাঁস দিয়ে  স্বামী পরিত্যক্তা পারুল নামের এক মহিলা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মালেক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পোস্ট মাষ্টার থানায় মোবাইল করলে পুলিশ এসে  নিয়ন্ত্রণ করেন। এর আগেও অফিসের ভিতরে গাছের সাথে দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে ওই দিনও পুলিশ এসে পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণ করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে কুঠিপাড়া গ্রামে অবস্থিত ডিজিটাল  পোস্ট অফিসে ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি। এখবর ছড়িয়ে পড়লে পাশ্ববর্তী আরো কয়েকজন গ্রাহক এসে অফিস ঘেরাও করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে গ্রাহকদের নিয়ে বিভাগীয় ডাক অফিসে রওনা দেন ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মালেক। প্রতি নিয়তই গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পেতে অফিসে ভীড় করছেন। কিন্তু টাকা না পেয়ে আত্মহনন সহ নানা ধরনের গালমন্দ করছেন অসহায় গ্রাহকরা । ফলে পোস্ট অফিসের মত নিরাপদ জায়গায় টাকা রেখেও লোপাটের ঘটনায় চরমভাবে মর্মাহত অসহায় গ্রাহকরা। এমনকি টাকা ফেরতে পাবে কিনা এনিয়েও সন্দিহান গ্রাহকরা। 

এদিকে স্বামী পরিত্যক্তা পারুলের আর্তনাদে পুরো গ্রামবাসী অফিসে ভীড় করেন। পারুলের বাড়ি তানোর পৌর এলাকার গোকুল গ্রামে। সে ইসরাফিলের মেয়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্ট অফিসের ভিতরে দেয়ালের সাথে দাড়িয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে পারুল আর্তনাদ করছেন। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন পুলিশ প্রশাসনের লোকজন। পারুলের একই কথা আমার জমানো টাকা ফেরত চাই তানাহলে অফিস থেকে আমার লাশ বের হবে। পুলিশ পারুলের নাম ঠিকানা লিখছেন আর বলছেন মারা গেলে টাকার কি হবে। আপনি বেঁচে থাকলে কোন না কোন ব্যবস্থা হবেই।  আপনার ছোট বাচ্চা আছে আত্মহনন করবেন কেন। আপনি মারা গেলে বাচ্চার কি হবে। এসব কথা বলেও পারুলকে শান্ত করতে পারছিল না প্রশাসনের লোকজন। প্রায় ঘন্টা ধরে চলে এমন ঘটনা।  পরে এক প্রকার বাধ্য হয়ে পারুলসহ আরো কয়েকজন গ্রাহককে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মালেক বিভাগীয়  অফিসে রওনা দেন।

তার আগে অফিসের ভিতরে পারুল বলেন, বিগত ৫ বছর ধরে ২ লাখ টাকা জমা রেখেছি। আমি একেবারেই অসহায়, সম্বল বলতে এই ২ লাখ টাকা। গত প্রায় ১৫ দিন আগে পোস্ট মাষ্টার আমার টাকা ফেরত দিবেন এমন কথা দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার আমার পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু আমি এসে টাকার কথা বলা মাত্রই পোস্ট মাষ্টার সাব জানিয়ে দেয় যে পোস্ট মাষ্টার টাকা আত্মসাত করেছে তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। মামলার রায় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হল কিনা সেটা আমি কি করে বলব, আমার টাকা ফেরত পেলেই হলো। আমি অসহায় গ্রাহক মামলা মোকদ্দমার কি বুঝি। টাকা জমা রেখেছি মেয়াদ শেষ হয়েছে টাকা ফেরত দিবে ঝামেলা শেষ। গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে আজ না কাল, এমাসে না সামনের মাসে টাকা ফেরত দিবে বলে আমাকে হয়রানি করাচ্ছে। যেখানেই নিয়ে যাক টাকা ফেরত না পেলে আমি অফিসে এসে আত্মহত্যা করব বলে কাঁদতে কাঁদতে পোস্ট মাষ্টারের সাথে বিভাগীয়  অফিসে যান পারুলসহ কয়েকজন। 

ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মালেক জানান, প্রায় পুনে দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেছে আগের পোস্ট মাষ্টার মুকছেদ। সে সাসপেন্ড হয়ে আছেন। দুদকে মামলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয় টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। কতজন গ্রাহকের টাকা আত্মসাত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সঠিক ভাবে বলা যাবেনা। তবে ৬০ থেকে ১০০ জন গ্রাহক হতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আমিসহ সাসপেন্ড হওয়া পোস্ট মাষ্টার মুকছেদের মেয়ে জামাইকে ডেকে টাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা সাব জানিয়ে দিয়েছে মামলায় কি হচ্ছে দেখা যাক। এসব অনেক প্রক্রিয়ার বিষয়,  সময় লাগবে। প্রতিনিয়তই গ্রাহকেরা আসছেন গালমন্দ করছেন, সাথে সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করা হচ্ছে। আমি চাকুরী করি, কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দিবেন, সে মোতাবেক আমাকে কাজ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে গ্রাহকদের বিভাগীয়  অফিসে নিয়ে যাচ্ছি। 

রাজশাহী বিভাগের ডাক অফিসের ডেপুটি পোষ্ট মাস্টার জেনারেল মনিরুজ্জামানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুকছেদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শুরু হবে। সে প্রায় পুনে দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। গ্রাহকেরা টাকা পাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত করে টাকা আত্মসাতের প্রমান পেয়ে তাকে  সাসপেন্ডসহ মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত রায় না দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। তবে দেরি হলেও গ্রাহকেরা টাকা পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

প্রসঙ্গত, পোস্ট অফিস থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়লে চলতি বছরের  (১৮ মার্চ) সোমবার সকালে রাজশাহী ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম তানোর ডিজিটাল পোস্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে গ্রাহকদের কাগজপত্র দেখা শুরু করেন। এ সময় পোস্ট অফিসে একের পর এক গ্রাহকরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। অফিস থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা শুনে গ্রাহকরা অফিসের মধ্যেই উত্তেজনা শুরু করেন। এ সময় ডেপুটি জেনারেল কর্মকর্তা গ্রাহকদের শান্ত করে তাদের কথা শুনেন এবং আশ্বস্ত করে তাদের কষ্টের অর্জিত টাকা ফিরিয়ে দেবার জোর চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।


আরও খবর