Logo
আজঃ রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪
শিরোনাম

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চিকিৎসক বেশে এরা কারা!

প্রকাশিত:সোমবার ০১ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৩১৮জন দেখেছেন

Image

ইয়ানূর রহমান : রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট। সাদা অ্যাপ্রোন পরা কয়েকজন নারী দলবদ্ধভাবে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে যান। তাদের প্রবেশের পর  রোগীর স্বজনরা চিকিৎসক ভেবে নড়েচড়ে বসেন। চিকিৎসক বেশে তারা সিভিডিতে (ব্রেইন স্ট্রোক) আক্রান্ত রোগীদের কাছে যান। এরপর নতুন ভর্তি হওয়া প্রতি রোগীকে ৩শ’ টাকার বিনিময়ে
ফিজিওথেরাপি (শারীরিক চিকিৎসা) দেয়া শুরু করেন। তারা দল বেধে হাসপাতালে প্রবেশের আগে ওই চক্রের সদস্যরা চিকিৎসাধীন রোগীদের মাথার কাছে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের পরিচিতি কার্ড রেখে আসেন। যারা কার্ড দিতে গিয়েছিল
তারাও ছিল সাদা অ্যাপ্রোন পরা।

কার্ড দিয়ে স্বজনদের বলা হয় রোগীর কোনো সমস্যা হলেই কার্ডের নম্বরে ফোন করবেন। সহজ সরল মানুষেরা চিকিৎসক মনে করে প্রায় তাদের ডেকে নেন। সাদা অ্যাপ্রোন পরে ফিজিওথেরাপি চক্রের সদস্যদের হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি এই হাসপাতালকে ঘিরে ফিজিওথেরাপি ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। ফিজিওথেরাপিস্ট ছাড়াই একটি চক্র নামমাত্র ফিজিওথেরাপি সেন্টার খুলে ধান্দাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। চক্রের প্রায় সব সদস্য নারী। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না মেনে সেবা ফিজিওথেরাপি সেন্টার ও সোনালী ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সদস্যরা গায়ে অ্যাপ্রন পরে চিকিৎসকের বেশে ওয়ার্ডে ওয়োর্ডে অবাধে প্রবেশ করছেন। প্রথম দেখাতে তাদেরকে যে কোন রোগীর স্বজন চিকিৎসক ভেবে নেন। রোগীর ফিজিওথেরাপির নামে
তারা স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা লুফে নিচ্ছেন।

পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন সঞ্চিতা রানী জানান, রোববার দুপুরে গায়ে চিকিৎসকের সাদা অ্যাপ্রোন পরা ও গলায় কার্ড ঝুলানো তিন মহিলা আসে। রোগী নতুন ভর্তি হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করেন। এরপর ৩শ’ টাকা নিয়ে ফিজিওথেরাপি দেন। সঞ্চিতা রানী আরও জানান, প্রথমে তাদেরকে তিনি চিকিৎসক ভেবেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন ফিজিওথেরাপি সেন্টারের লোক। হাসপাতালের পুরুষ- মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড ও পুরুষ-মহিলা পেইং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় রোগীর মাথার কাছে বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি সেন্টারের ভিজিডিং কার্ড রয়েছে। জানতে চাইলে পুরুষ পেইং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন রাসেল হোসেন জানান, সাদা অ্যাপ্রন পড়া এক নারী কার্ড রেখে গেছেন। দুপুর দুই টার পর রোগীর কোন সমস্যা হলে কার্ডের নম্বরে কল করতে বলেছেন।

সূত্র জানায়, ব্যবসার স্বার্থে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের নারীরা চিকিৎসকের মতো সাদা অ্যাপ্রোন পরে রোগীর কাছে যান। তারা কেউ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপিস্ট না। অথচ তারা ফিজিওথেরাপিস্ট সেজে রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। অথচ ফিজিওথেরাপি মানে কি সেটাই জানেন না অ্যাপ্রন পরা চক্রের অনেক সদস্য। সূত্র আরও জানায়, তাদের ব্যবসা বাড়াতে হাসপাতালের ওয়ার্ডে দায়িত্বরত কর্মচারীদের (ওয়ার্ডবয়/আয়া) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ রক্ষা করেন। সিভিডি রোগী ভর্তি হলে তাদের কাছে খবর পৌঁছে দেয়া হয়। বিনিময়ে কর্মচারীরা তাদের কাছ থেকে কমিশন পেয়ে থাকেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিয়র একজন সেবিকা জানান, ফিজিওথেরাপি সেন্টারের ‘ওরা’ যখন গায়ে অ্যাপ্রন পরে দলবেধে ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন তখন নিজেদের খুব অসহায় মনে হয়। সহজ সরল মানুষ তাদেরকে চিকিৎসক ভেবে রোগের বর্ণনা করেন। ফিজিওথেরাপির নামে প্রতি রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ৩শ’ টাকা আদায় করা হয়।

মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, ফিজিও (শারীরিক) এবং থেরাপি (চিকিৎসা) শব্দ দুটি মিলে হয় ফিজিওথেরাপি বা শারীরিক চিকিৎসা। ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অন্যতম এবং একটি অপরিহার্য শাখা। শুধু ওষুধ সব রোগের পরিপূর্ণ সুস্থতা দিতে পারে না। বিশেষ করে বিভিন্ন মেকানিক্যাল সমস্যা থেকে যেসব রোগের সৃষ্টি হয়, তার পরিপূর্ণ সুস্থতা
লাভের উপায় ফিজিওথেরাপি। একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ফিজিওথেরাপি, যেখানে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর সব কথা শুনে-বুঝে, রোগীকে ভালোভাবে দেখে এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর
সঠিক রোগ, আঘাত বা অঙ্গ বিকৃতির ধরন নির্ণয় করে রোগীকে বিভিন্ন ধরনের ফিজিক্যাল মেথড যেমন-ম্যানুয়াল টেকনিক, তাপ ও ব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপিস্ট প্রয়োজন। অন্যথায় রোগীর আরও ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তিনি আরও জানান, সরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দেয়া হলে রোগীদের অনেক সুবিধা হতো।

এই বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ জানান, ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সাথে সংশ্লিষ্টদের গায়ে চিকিৎসকের অ্যাপ্রন পরে হাসপাতালে যাওয়া পুরোপুরি নিষেধ। কারণ এতে রোগী ও স্বজনরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। তিনি আরও জানান, তারা সাধারণ পোশাক পরে দুপুর ৩ টার পর ওয়ার্ডে যেতে পারবেন বলে অনুমতি দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না মানলে তাদের হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।


আরও খবর



মাগুরার শালিখায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত,আহত ৬ জন

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৬১জন দেখেছেন

Image
স্টাফ রিপোর্টার মাগুরা থেকে:মাগুরার শালিখা উপেজলার মাগুরা - যশোর মহাসড়কের ছয়ঘরিয়া হাজাম বাড়ীর মোড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছে।শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিএনজি ও বাসের মধ্যে সংঘর্ষ  এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলো যশোরের বাঘার পাড়া উপজেলার নারিকেল বাড়ীয়া গ্রামের নিত্যানন্দ দের স্ত্রী নিরুপা রানী দে (৪০), নারায়ন চন্দ্র দের স্ত্রী পুষ্প রানী দে(৫০), কালিপদ শিকদারের পুত্র মধু শিকদার (৫০)।যশোরগামী জিএম পরিবহনের একটি বাস মাগুরাগামী একটি  সিএনজিটিকে চাপাদিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।হতাহতরা মাগুরাতে একটি ধর্মীও অনুষ্ঠানে যোগদিতে যাচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৬ জনকে চিকিৎসার জন্য শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,যশোর সদর হাসপাতাল ও মাগুরা সদর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।দূর্ঘটনার সাথে সাথে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে  নিহতদের লাশ ও আহতদের উদ্ধার করে।নিহত ও আহতদের সবাই সিএনজির চালকসহ   যাত্রী। 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাস্তার দুই পাশে মাটি দেওয়ার  কাজে রাস্তার উপর মাটি রাখায়  এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

আরও খবর

স্বাগত ১৪৩১, আজ পহেলা বৈশাখ

রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪




মানিকছড়ি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশীয় তৈরী চোলাইমদসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ৮৮জন দেখেছেন

Image
জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি:খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশীয় তৈরী চোলাইমদ সহ মো. এসকেন্দার (৩৬)নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২এপ্রিল)মানিকছড়ি থানার একটি চৌকস দল মানিকছড়ি থানা এলাকায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্ধ্যার দিকে মানিকছড়ি থানাধীন ৩নং যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গরমছড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে  দেশীয় তৈরী চোলাইমদ সহ মাদক কারবারি  মো. এসকেন্দার (৩৬), কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী -মো. এসকেন্দার (৩৬) ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত ইউনুস মিয়ার ছেলে।

মানিকছড়ি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে আসামীকে তল্লাশী করে তার  নিকট হতে ২০(বিশ) লিটার অবৈধ মাদকদ্রব্য দেশীয় তৈরী চোলাইমদ সহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।আসামীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিধি মোতাবেক যথাসময়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আরও খবর



ভূমি অফিসের পরিছন্নতা কর্মীর বিরুদ্ধে জমি নামজারি করতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪ | ১৩৪জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃরাজধানীর ডেমরা মাতুয়াইল এলাকায় জমি নামজারি  নামে ঘুষ নিয়েছে এসি ল্যান্ড অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী।ঐ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর নাম সাইফুল। ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে কর্মরত। ই নামজারি ফাইল জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখিয়ে সেবা গ্রহিতাদের কাছ থেকে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে ভূমি অফিসের লোকজন দীর্ঘদিন এমন অভিযোগ করে আসছিলেন সকলেই। নামজারি করতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে নাম জারি চালু করলেও ভূমি অফিসের দুর্নীতি এখনো কমেনি। নানা দোষ ত্রুটি ধরে ফাইল আটকে অর্থ আদায় করা নিত্যদিনের ব্যাপার। এতদিন ভূমি অফিসে নানা কর্মচারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে জানা গেলেও এই অফিসে এবার একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীও নামজারীর নামে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় এমন প্রমাণ পাওয়া গেল। মাতুয়াইল মৌজার ১৬৯৬৫/২০২৩-২৪ নামজারি মোকাদ্দমায় বাদীর কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন পরিছন্নতা কর্মী সাইফুল। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে অকপটে ১০০০০ দশ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন পরিছন্নতা কর্মী সাইফুল ইসলাম। সাইফুল ইসলাম বলেন, কামাল নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে নামজারির জন্য ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছি, কিন্তু আমি সেই টাকা একা নেইনি সার্ভেয়ার আনোয়ার এর কাছে বেশিরভাগ টাকা দিয়েছি নামজারির কাজ করার জন্য, আমরা নামজারি করতে টাকা নিলে শতভাগ গ্যারান্টির সাথে কাজ করে দেই।

সারা জমিনে দেখা যায়, জয় কালী মন্দিরে আশেপাশে ভূমি অফিসের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দালাল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। কোন মানুষ বিনা পয়সায় সেবা পায় না এমনটি বলেছেন ভুক্তভোগীরা। শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারী না নয় এই অফিসের দারোয়ান থেকে শুরু করে ঝাড়ুদার পর্যন্ত আপাদমস্তক দুর্নীতিতে মোড়ানো। প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম দুর্নীতি হয় এই অফিসে। যার ভাগ নিচ থেকে উপর মহল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান মূলক একটি প্রতিবেদন আসছে আগামী সংখ্যায়।


আরও খবর



মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যােগে ঈদ ও বৈসাবি উপলক্ষ্যে মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ এপ্রিল ২০২৪ | ৩৮জন দেখেছেন

Image
জসীম উদ্দিন জয়নাল,বিশেষ প্রতিনিধি:বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যােগে পবিএ ঈদ উল-ফিতর ও বৈসাবি উৎসব উদযাপন উপলক্ষ্যে পাহাড়ী- বাঙ্গালী দুঃস্থ নারী ও পুরুষের মাঝে শাড়ি, পাঞ্জাবী এবং পাহাড়ী ড্রেস বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৮ এপ্রিল)  মাটিরাঙ্গা জোন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক মানবিক সহায়তা  কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।তারই ধারাবাহিকতায় সকালের দিকে , মাটিরাঙ্গা  সরকারি ডিগ্রী কলেজ মাঠে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর- ও বৈসাবি উদযাপন উপলক্ষ্যে মাটিরাঙ্গা জোনের আওতায় ২০০জন  দু:স্থ,অসহায় হতদরিদ্র  পরিবারের মাঝে ঈদ ও বৈসাবি উপহার সামগ্রী বিতরণ ও পাঁচশতাধিক মানুষের মাঝে  স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ, দন্ত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা সহ বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাইসুল ইসলাম, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল উপকার ভোগীদের মাঝে ঈদ ও বৈসাবি উপহার সামগ্রী তুলেদেন।

এ সময় মাটিরাঙ্গা জোনের জোন অধিনায়ক লে.কর্ণেল মো.কামরুল হাসান পিএসসি
মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.রফিকুল ইসলাম,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিরন জয় ত্রিপুরা, মাটিরাঙ্গা প্রেস-ক্লাবের সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীর আলম
সহ সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

মানবিক সহায়তার মধ্যে রয়েছে দুই শতাধিক হত-দরিদ্র পাহাড়ি-বাঙ্গালি পরিবারের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি, পাহাড়ী ড্রেস বিতরণ, বিদ্যুৎ বিহীন ১০টি পরিবারকে সোলার প্যানেল, সুবিধা বঞ্চিত ৫টি পরিবারকে সেলাই মেশিন, ১০টি পরিবারের মাঝে ১০বান ডেউটিন, ৮ জন অসহায় ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগদ আর্থিক অনুদান ও ২টি এতিমখানায় ১০টি ফ্যান রয়েছে। এছাড়াও অন্তত পাঁচশতাধিক জনসাধারণের মাঝে  বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাইসুল ইসলাম, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল  বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের পাহাড়ি এবং বাঙ্গালীদের মাঝে অত্যন্ত সোহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ও সু-সসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।পাহাড়ে স্থিতিশীলতা ও শান্তি শৃংঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেও মাটিরাঙ্গা জোন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। আপনারা এই সু-সম্পর্ক বজায় রাখবেন এটাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে। সর্বোপরি আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুরু থেকে বিভিন্ন মানবেতর চাহিদা পরিপূরণের মাধ্যমে মানুষের পাশে আছে। তেমনিভাবে মানুষের একমাত্র সঠিক আস্থাভাজন এবং গৌরবের প্রতীক হিসাবে সুদূর ভবিষতেও এই ধারা অব্যহত রাখবে।পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে পরিশেষে তিনি উপস্থিত সকলকে ঈদ-উল-ফিতর ও বৈসাবি,র শুভেচ্ছা জানান।

আরও খবর



ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আদালতের রায় মানতে হবে: বুয়েট উপাচার্য

প্রকাশিত:সোমবার ০১ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪ | ৭৪জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে আদালতের রায় মানতে হবে,বলেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার ।

সোমবার (১ এপ্রিল) এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা এদিন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত। বুয়েটের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজ রাব্বি এ রিট দায়ের করেন। রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। আদালতের এ আদেশের ফলে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চলতে বাধা নেই বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বুয়েট উপাচার্য বলেন, আদালত যা বলবে, তা আমাদের মানতে হবে। আদালতের আদেশ আমাদের জন্য শিরোধার্য। তাই আদালতের রায় আমাদের মানতে হবে। সেটা না মানলে তা হবে আদালত অবমাননার শামিল।

এর আগে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইইবি) নেতারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবারও বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবি জানান। আইইবি নেতারা মনে করেন, বুয়েটে মুক্ত চিন্তা থাকা প্রয়োজন। তাই সে ব্যাপারে তারা কিছু গাইডলাইন দিতে চাচ্ছেন। নেতার বলেন, বুয়েটে সুস্থ রাজনীতির চর্চা না থাকার কারণে মৌলবাদী ধারার অনুপ্রবেশ ঘটবে। হিযবুত তাহরিরের লিফলেট ছড়ানো হচ্ছে। আমরা সবার সহাবস্থান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই। অবাধ রাজনীতিই পারে বুয়েটে সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করতে। কারণ মুক্তচিন্তা না থাকলে শিক্ষার্থীরা দেশ নিয়ে ভাববে না। এসময় গত বছরের জুলাইয়ে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন বৈঠকের অভিযোগে গ্রেফতর বুয়েটের ৩৪ শিক্ষার্থীর ঘটনা তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বুয়েট উপাচার্য। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ‍বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


আরও খবর