Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

ভূমিধসে গ্যাংটকে দুই শিশুসহ মায়ের মৃত্যু

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৮৫জন দেখেছেন
Image

ভারতের সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধসে একই পরিবারের তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, রাত ১টা ১৫ মিনিটে টানা বৃষ্টির জেরে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বিমল মঙ্গার নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ধসে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যু হয়। শিশু দুটির বয়স ৭ ও ১০ বছর।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে আরও বৃষ্টি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তন। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পঙে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ওই জেলাগুলোতে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দুই দিনাজপুর জেলাতেও। বুধবারও ওই জেলাগুলোতে বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে ১৯৯৫ সালের পর এবারই রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ১২৬ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া যায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েন কয়েক লাখ মানুষ। চরম সংকট বিরাজ করছে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে।

সূত্র: আনন্দবাজার


আরও খবর



ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও বিচক্ষণতার প্রতীক বঙ্গমাতা

প্রকাশিত:Monday ০৮ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের কন্টকাকীর্ণ পথে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের অবদান ও গুরুত্ব নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়ার কথা তা হয়নি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ছিলেন অপরিসীম ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও বিচক্ষণতার প্রতীক বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত না থেকেও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস ছিলেন বেগম মুজিব। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি জাতির পিতার পাশে থেকে দেশ ও জাতির মঙ্গলাকাঙ্ক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। তার কর্মের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন একটি সংগ্রামমুখর জীবনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যে জীবন কোটি জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের সাথে দ্বিধাহীনভাবে যুক্ত হয়েছিল ত্যাগ ও নিপীড়ন মোকাবেলা করবার দৃপ্ত প্রতিজ্ঞায়।

বেগম মুজিব সম্পর্কে একটি সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু বলেছেন- “আমার স্ত্রীর মতো সাহসী মেয়ে খুব কমই দেখা যায়। আমাকে যখন পিন্ডির ফৌজ বা পুলিশ এসে জেলে নিয়ে যায়, আমার উপর নানা অত্যাচার করে, আমি কবে ছাড়া পাব বা কবে ফিরে আসব ঠিক থাকে না, তখন কিন্তু সে কখনো ভেঙে পড়েনি। আমার জীবনের দুটি বৃহৎ অবলম্বন। প্রথমটি হলো আত্মবিশ্বাস, দ্বিতীয়টি হলো আমার স্ত্রী আকৈশোর গৃহিণী।”

ছোটবেলা থেকে বঙ্গবন্ধু যে পরিবেশ ও পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছেন, শেখ ফজিলাতুন নেছাও সেই একই পরিবেশে বড় হয়েছেন, এমনকি একই পরিবারে। স্বাভাবিকভাবেই মুজিবের আদর্শ, তাঁর সহজাত মানসিকতা, সাহস ও আত্মবিশ্বাসী সত্ত্বা দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন। সেই কিশোরী বয়স থেকে সকল ক্ষেত্রে স্বামী মুজিবকে সমর্থন করার মধ্যে এটি লক্ষ করা যায়। জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে তিনি প্রশ্নহীনভাবে সমর্থন দিয়েছেন, মনোবল ও সাহস জুগিয়েছেন, অপরিসীম প্রেরণা জুগিয়েছেন। এর সবই তিনি করে গেছেন একান্ত নিভৃতে থেকে।

শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ বংশের নাম তখন ওই অঞ্চলে বেশ পরিচিত। স্বামী শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর চাচাতো ভাই ছিলেন। শেখ ফজিলাতুন নেছার পিতামহ শেখ মোহাম্মদ কাশেম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতামহ শেখ আব্দুল হামিদ ছিলেন চাচাতো ভাই। শেখ ফজিলাতুন নেছা'র ডাকনাম ছিল রেনু। তাঁর পিতা শেখ জহুরুল হক ও মাতা হোসনে আরা বেগম। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি পিতা-মাতা উভয়কেই হারান। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর থেকে তিনি ভাবী-শাশুড়ি এবং বঙ্গবন্ধুর মাতা সায়েরা খাতুনের কাছে সন্তানের মতো করে বড় হতে থাকেন।

পিতামহের ইচ্ছায় ১৯৩৮ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। যদিও তাঁদের সংসারজীবন শুরু হয়েছিল অনেক পরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন কোলাকাতায় পড়াশোনা করতেন। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় এবং দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর স্বামী যখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিভিন্নভাবে মানুষের সেবা করেছেন, তাঁর সাথে একইরকম মনোভাব নিয়ে সার্বক্ষণিক সমর্থন দিয়ে গেছেন শেখ ফজিলাতুন নেছা। এমনকি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের প্রচারণা ও সার্বিক কর্মকাণ্ডে অপরিসীম সহযোগিতায় বেগম মুজিবকে একান্তভাবে যুক্ত থাকতে দেখা যায়। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠন করতে রাস্তায় নেমে লিফলেট বিতরণ করেছেন বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব।

বঙ্গমাতার জ্যেষ্ঠ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন- “বঙ্গবন্ধু জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো কারান্তরালে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। তাঁর অবর্তমানে মামলা পরিচালনার ব্যবস্থা করা, দলকে সংগঠিত করা, আন্দোলন পরিচালনা করা- প্রতিটি কাজে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের বলিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন নেপথ্যে থেকে।

তাঁর স্মরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল, আন্দোলন চলাকালীন সময়ের প্রতিটি ঘটনা জেলখানায় সাক্ষাৎকারের সময় বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশ নিয়ে আসতেন। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে সে নির্দেশ জানাতেন।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চোখ বাঁচিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতেন। আবার আওয়ামী লীগের কার্যকরী সংসদের সভা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে চলাকালীন সময়ে তিনি নিজের হাতে রান্নাবান্না করতেন এবং খাদ্য পরিবেশন করতেন। এই সংগঠনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত করার কাজে তাঁর অবদান অপরিসীম। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চক্ষু বাঁচিয়ে সংগঠনকে সংগঠিত করতেন, ছাত্রদের নির্দেশ দিতেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতেন।”

বেগম ফজিলাতুন নেছা'র পিতামহ শেখ মোহাম্মদ কাশেম তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বেগম ফজিলাতুন নেছা ও তাঁর আরেক বোনকে দান করে গিয়েছিলেন। দাদার দিয়ে যাওয়া সম্পত্তি থেকে যে অর্থ আসত, তা তিনি জমিয়ে রাখতেন। নিজের সাধ-আহ্লাদ পুরণে তা খরচ না করে স্বামীর হাতে তুলে দিতেন। রাজনীতি করতে যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা তিনি বুঝতেন এবং স্বামীর পথচলাকে সহজ করতেই ছিল তাঁর এই প্রয়াস।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে খাজা নাজিমুদ্দিনও একই ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে এদেশের মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সেই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করায় ’৪৮ সালের ১১ মার্চ সচিবালয়ের সামনে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশ শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসনামলে দীর্ঘ ধারাবাহিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকে বারবার কারাগারে যেতে হয়েছে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। কারাগারে অন্তরীন তরুণ শেখ মুজিবকে নবগঠিত সংগঠনের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক করা হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ায় আবারও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৯৫০ সালে কারারুদ্ধ হয়ে টানা দু’বছর কারাগারে থাকতে হয়। ১৯৫৮ সালে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাঁকে ১৪ মাস কারান্তরীণ রাখা হয়।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝোলাবার সব আয়োজন সম্পন্ন করলে ১৯৬৯ এর ২১ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করে আনে এবং রেসকোর্স ময়দানে এক ছাত্র-গণ-সম্বর্ধনায় তিনি বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হন। জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের দীর্ঘ ১৪ বছর বঙ্গবন্ধুকে কারাগারেই কাটাতে হয়েছে। দিনের পর দিন বঙ্গবন্ধুর কারাগারে থাকা অবস্থায় বেগম মুজিব শত সংকট মোকাবেলা করে সংসার সামলে ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করেছেন, তাদেরকে পড়াশোনা করিয়েছেন। কোনদিন স্বামীর প্রতি এতটুকু অভিযোগ করা তো দূরে থাক, সবসময় আপসহীন থেকে তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্যের পানে এগিয়ে যেতে নিরন্তর উৎসাহ যুগিয়ে গেছেন।

মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা লিখেছেন- “জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দেখে আসছি, আমার বাবা কারাবন্দি। মা তাঁর মামলার জন্য উকিলদের সঙ্গে কথা বলছেন, রাজবন্দি স্বামীর জন্য রান্না করে নিয়ে যাচ্ছেন, গ্রামের শ্বশুর-শাশুড়ি ও আত্মীয়-স্বজনের খবরাখবর রাখছেন। আবার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, যারা বন্দি তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে টাকাও পাঠিয়ে দিচ্ছেন। কারাগারে দেখা করতে গিয়ে স্বামীর কাছে বাইরের সব খবর দিচ্ছেন এবং তাঁর কথাও শুনে আসছেন। কাউকে জানানোর থাকলে ডেকে জানিয়েও দিচ্ছেন। এরপর আছে তাঁর ঘর-সংসার। এরমধ্যে ছেলেমেয়েদের আবদার, লেখাপড়া, অসুস্থতা, আনন্দ-বেদনা- সবকিছুর প্রতিও লক্ষ রাখতে হয়। এতকিছুর পরও তাঁর নিজের জন্য সময় খুঁজে নিয়ে তিনি নামাজ পড়ছেন, গল্পের বই পড়ছেন, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে গল্প করছেন।

কী ভীষণ দায়ভার বহন করছেন! ধীর, স্থির এবং প্রচণ্ডরকম সহ্যশক্তি তাঁর মধ্যে ছিল। বিপদে, দুঃখবেদনায় কখনো ভেঙে পড়তে দেখিনি। বরং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে চেষ্টা করেছেন- এটাই ছিল তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা, তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রকাশ।”

কবি সুফিয়া কামাল বলেছেন, "মুজিবের কথা বলতে গেলে মুজিবের স্ত্রীর কথা বলতে হয় এত ধৈর্যশীল, এত শান্ত, এত নিষ্ঠাবতী মহিলা খুব কমই দেখা যায়। মুজিবের বছরের বারো মাসের বেশিরভাগ সময় কেটেছে জেলখানায়। যখনি শুনেছি মুজিবকে ধরে নিয়ে গেছে, ছুটে গিয়ে দেখেছি, মুজিবের স্ত্রী অবিচল মুখে কাপড়, বিছানা-বালিশ গুছিয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে. বলছে, আপনার ভাইতো জেলে গেছে।"

২৩ মার্চ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসে সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হতো। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে সারাদেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগের দিন ২২ মার্চ রাতে খেতে বসে বঙ্গবন্ধুকে চিন্তাক্লিষ্ট দেখে বেগম মুজিব জানতে চেয়েছিলেন, “পতাকা ওড়ানোর ব্যাপারে কি কোন সিদ্ধান্ত নিলেন?” বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- “না, নিতে পারিনি। আমি পতাকা ওড়াতে চাই। একটাই ভয়, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এখনো ঢাকায়। পাকিস্তানীরা বলবে, আলোচনা চলা অবস্থাতেই শেখ মুজিব নতুন পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এই অজুহাত তুলেই তারা নিরস্ত্র বাঙালির উপর সামরিক হামলা চালাবে।”

এ অবস্থায় বেগম মুজিব পরামর্শ দিয়েছিলেন- “আপনি ছাত্র নেতাদের বলুন, আপনার হাতে পতাকা তুলে দিতে। আপনি সেই পতাকা বত্রিশ নম্বরে ওড়ান। কথা উঠলে আপনি বলতে পারবেন, আপনি ছাত্রজনতার দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন।”

বঙ্গবন্ধু আর কোন কথা না বলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেন, পরদিন ২৩ মার্চ তিনি ৩২ নম্বরে স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়াবেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা সেই ঘোষণায় উৎফুল্ল চিত্তে জয় বাংলা শ্লোগানে মুখর করে তোলে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা অনুযায়ী পরদিন পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ সামরিক কায়দায় কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে এবং র‌্যালী করে সেই পতাকা ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে হস্তান্তর করেন। সেদিন সচিবালয় থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের সমস্ত সরকারি বেসরকারি অফিস ও বাসাবাড়িতে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ঢাকায় বিভিন্ন দেশের কনস্যুলেট ভবনেও এদিন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ে। যুক্তরাজ্যের ডেপুটি হাই কমিশন ও সোভিয়েত কনসুলেটে সকাল থেকেই স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়েছিল। চীন, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল নিজেদের পতাকার পাশে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ালেও জনদাবির মুখে তা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা তোলে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এদিন সাধারণ ছুটি পালিত হয়।

এর আগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের আগে একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল এবং দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন পক্ষের নানামুখি প্রস্তাব ও পরামর্শে সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া না দেওয়া নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ বঙ্গবন্ধুকে তিনি কারো পরামর্শ না শুনে নিজে যা সঠিক মনে করেন, তাই বলতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। যেখানে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না। বঙ্গবন্ধু তাই করেছিলেন। এমনই ধী-শক্তিসম্পন্ন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। বস্তুত তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পেছনের কারিগর। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রখরতা ও চিন্তার দূরদর্শিতা দিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে বাঙালির মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে পথনির্দেশনা দিয়ে গেছেন।

তাঁর সুমহান ব্যক্তিত্ব ও অপরিসীম ত্যাগের সাথে পরিচয় ঘটানোর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশমাতৃকার প্রতি নির্মোহ চিত্তে আত্মনিবেদনের তাড়নাকে জাগ্রত করতে পারি। মহীয়সী এই মমতাময়ী জননীর জন্মদিনে আমার কৃতজ্ঞ চিত্তের অশেষ শ্রদ্ধা।

লেখক : সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।


আরও খবর



ঝালকাঠির গাবখান ব্রিজের টোলের দায়িত্বে সওজ

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

আইনি জটিলতা শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝালকাঠির গাবখান ব্রিজের ইজারার দায়িত্ব পরিবর্তন হয়েছে। স্থানীয় সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ আগামী টেন্ডার প্রক্রিয়ার আগ পর্যন্ত টোল আদায় করবে। বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় শান্তিপূর্ণভাবে ইজারা দায়িত্ব হস্তান্তর করেন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্স।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনস্থ গাবখান ব্রিজের টোল আদায়ে ইজারা নেয় মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্স। করোনাকালে লকডাউন থাকায় কাঙিক্ষত টোল আদায় করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন। সেই থেকে টোল আদায় বহাল রাখে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগ আদালতে স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যান।

গত ৬ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করলে সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের আইনানুযায়ী কোনো ক্ষতিপূরণের বিধান না থাকায় ওই স্থিতাবস্থা প্রত্যাহার করে নেন আদালত। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দিয়ে বুধবার দুপুর ১২টায় ইজারাদারের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে টোল আদায় শুরু করে। এ বিষয়ে ক্ষতিপূরণের দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইসলাম ব্রাদার্স।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, গাবখান ব্রিজের ইজারাদার মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্সের কাছ থেকে টোল আদায়ের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্সের ইজারার মেয়াদ ছিল। তখনই তাদের ছেড়ে দেওয়ার নিয়ম কিন্তু তারা ফেব্রুয়ারির দিকে আদালতে করোনাকালে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশের ব্রিজ এবং ফেরির টোল আদায়ে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না বলে ধারায় উল্লেখ রয়েছে। তাই আমরা ২০২০ সালের অক্টোবর মাসেই নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করেছিলাম। আদালতে আবেদনের পূর্ব পর্যন্ত পাঁচটি টেন্ডার আহ্বান করেছিলাম। ওই সময়ে আদালত একটি স্থগিতাদেশ দেন যে, আপতত নতুন করে কোনো টোল আহ্বান করা যাবে না। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসলাম ব্রাদার্স টোল আদায়কারী হিসেবে বহাল থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমরা তাৎক্ষণিক আপিল করে আইনি লড়াই শুরু করি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আপিল পরিচালনা করেছিলাম। নানা জটিলতা ও প্রতিকূলতা শেষে গত ৬ জুলাই আদালত নির্দেশনা দেন যে, গত বছর আদালতের স্থগিতাদেশের যে নির্দেশনা দেওয়া ছিলো তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের টোল আদায়ের নীতিমালা অনুসরণ করে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নির্দেশনা পাওয়ার পরে যাতে বুঝে নেওয়ায় কোনো বাধা না থাকে সেজন্য আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র দিয়ে বুধবার বুঝে নিতে সক্ষম হয়েছি।

মেসার্স ইসলাম ব্রাদার্সের পক্ষে টিটু তালুকদার বলেন, করোনা মহামারিতে লকডাউন থাকায় আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন। ইজারার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরেও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী টোল আদায় করছি। যখন পরবর্তীকালে স্থিতাবস্থা প্রত্যাহার করে নেন তখন আমরাও আইন এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি। তবে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে এরই মধ্যে আপিল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


আরও খবর



আমরা চাই না দেশটা শ্রীলঙ্কার মতো হোক: হাফিজ

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

শ্রীলঙ্কার পথে ধীরে ধীরে বাংলাদেশও আগাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, আমরা চাই না দেশটা শ্রীলঙ্কার মতো হোক। শ্রীলঙ্কার অবস্থা আমরা দেখেছি, এখন মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সেই পথে আগাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার সংকট শুরু হয়েছিল লোডশেডিং থেকে। আমাদের দেশেও সেই অবস্থা শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা বলেছিলেন লোডশেডিংকে তারা জাদুঘরে পাঠিয়েছেন। আমার প্রশ্ন লোডশেডিং কি এখন জাদুর ঘরে, নাকি আপনার আমার ঘরে ।

সোমবার (১ অগাস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ বলেন, এই সরকার যে রাজনীতি করে তার নাম- কথা বলার রাজনীতি। তারা জনগণকে বোঝাচ্ছে এই দেশ উন্নয়নের রোল মডেল। সারাবিশ্বের মানুষ হাততালি দিচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে। অথচ তাদের তিন মাসের আমদানি ব্যয় আছে কি না, এটা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। জনগণকে সব সময় ভুল তথ্য তারা দিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, তারা (সরকার) বলছে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩৯ মিলিয়ন ডলার, আর যারা সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি মনিটরিং করেন তারা বলছে, বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩০ মিলিয়ন ডলার। শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয় আমাদের চারগুণ ছিল। সেই দেশটি কেন আজ দেউলিয়া হয়ে গেলো। দুঃশাসনের কারণে, একটি পারিবারিক শাসনের কারণে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশে একান্তই গণতন্ত্রের সংকট। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও আমরা সেই গণতন্ত্রের দেখা পাচ্ছি না। স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। আজ দেশে কী ধরনের গণতন্ত্র আছে এটা সবাই জানে, এটা হচ্ছে লুটপাটের গণতন্ত্র।

‘সুইস ব্যাংকে লুটারা বাঙালিদের রিজার্ভ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার তো জিজ্ঞেস করছে না যে কারা এখানে টাকা রাখছে। গত এক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে বাংলাদেশের জমা করা অর্থ। কিন্তু কারা এখানে জমা রেখেছে এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন সরকারের কাছ থেকে করা হয় না। সরকার চাইলে আদালত থেকে নোটিশ দিলে যে কোনো ব্যাংক হিসাব দিতে বাধ্য। বাংলাদেশ সরকারের সে বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আজকে সারাবিশ্বে বর্তমান সরকার একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার হিসেবে পরিচিত হয়েছে। তারা জনগণের জান-মালের কোনো তোয়াক্কা করে না। এ কোন ধরনের বাংলাদেশে আমরা বসবাস করছি, যেখানে নির্বাচনের আগের রাতে ভোট হয়ে যায়। পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রে সংসদ বহাল রেখে সংসদ নির্বাচন হয় না, শুধু বহাল রয়েছে বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এটা তাদের একমাত্র উপায় পুলিশ দিয়ে গুলি করে এ দেশে অবৈধভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা। তারা লুটপাট ও অবৈধ শাসন চালিয়ে যাবে।

হাফিজ আরও বলেন, আমরা সেনাবাহিনীতে যদি সংগ্রাম না করতাম তাহলে এ দেশ কখনোই স্বাধীন হতো না। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের কারণে, মুক্তিযুদ্ধ করেছি আমরা। সৈনিকরা এবং লড়াকু ছাত্রসমাজ, এ দেশের ছাত্রসমাজ প্রত্যেকটি আন্দোলনের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সব পরিবর্তনে তাদের অংশগ্রহণ ছিল। আমি আশা করবো এই তরুণ সমাজ বিশেষ করে ছাত্রসমাজ তারা এগিয়ে আসবে। এই অবৈধ সরকারকে বিদায় করার জন্য রাজপথে তাদের শক্তি প্রদর্শন করবেন।

জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের সভাপতি মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশিদ হারুন, গার্মেন্টস শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার হোসেন রুবেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল লতিফ, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের হুমায়ুন কবির বেপারী, কেন্দ্রীয় তাঁতিদলের যুগ্ম আহবায়ক মনিরুজ্জামান মনির, কল্যাণ পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তামান্নাসহ অন্যান্য নেতারা।


আরও খবর



তামিমের মতো বড় বাউন্ডারিতে মারতে গিয়ে ধরা মুশফিকও

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

চলতি জিম্বাবুয়ে সফরে হারারে স্পর্টস ক্লাব মাঠের আকৃতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ দল। মাঠের এক পাশের বাউন্ডারি গড়পড়তা ৬৫ মিটার, অন্যপাশে প্রায় ৯০ মিটার ছুঁইছুঁই। যে কারণে একদিকে বাউন্ডারি হাঁকানো তুলনামূলক সহজ হলেও, অন্যদিকে পার করা বেশ কঠিন কাজ।

সেই কাজটি করতে গিয়ে আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রায় একইভাবে আউট হলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। দুজনই নিজেদের অনসাইডে ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টায় ধরা পড়ে গেছেন মিড উইকেট অঞ্চলে। মুশফিকের পুরোপুরি টাইমিং করা শটের পরও পার হয়নি বাউন্ডারি।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১২৭ রান। মুশফিক আউট হয়েছেন ৩১ বলে ২৫ রান করে। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ৪৫ বলে ৫০ ও এনামুল হক বিজয় ফিরেছেন ২৫ বলে ২০ রান করে। এখন খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

বিস্তারিত আসছে...


আরও খবর



চাল আমদানিতে আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের কম শুল্কে চাল আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার। চার দফায় এ পর্যন্ত ৯ লাখ ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমতি নিয়ে এখন চাল আনা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, সরকার শুল্ক কমানোর সুবিধা দেওয়ার পরে ভারত চালের দাম বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ডলারের মূল্যও বেড়ে গেছে। এ দুই কারণ মিলিয়ে আমদানি করা চাল বাজার পর্যন্ত আনতে যে খরচ হবে, সেটি স্থানীয় বাজারের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে বেশি। এ কারণে চাল আমদানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না তারা।

আমদানির অনুমতি পাওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ভারত এখন প্রতি টন মাঝারি মানের চাল ৪০০ থেকে ৪২০ ডলারে বিক্রি করছে। সরকারের ২৫ শতাংশ শুল্কায়নের পরে যা দাঁড়ায় ৫০০ থেকে ৫২৫ ডলার। অর্থাৎ প্রতি টন চালের দাম টাকার অঙ্কে (৯৮ টাকা ডলার হিসাবে) দাঁড়ায় ৪৯ হাজার থেকে ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা। এরপর এলসি প্রসেসিং, পরিবহন খরচ ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি টন চালে খরচ হবে আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দেশের বাজারে এ চালের আমদানি মূল্য হবে ৫৩ থেকে সাড়ে ৫৬ টাকার মতো। কিন্তু দেশের মিলগুলোতে এরচেয়ে কম দামে মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে।

একই হিসেবে সরু মিনিকেট বা নাজিরশাইল চাল আমদানিতে খরচ হবে ৬৫ টাকার বেশি। যেখানে মিলগেটে সরু এসব চাল এখন ৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে মোটা চাল। এ ধরনের চাল আমদানি করলে তার খরচ দাঁড়াবে ৪৫ টাকার মধ্যে। দেশের মিলগুলোতে এর চেয়ে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

৪ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি নেওয়া নীলফামারীর শামসুল অটো রাইস মিলের কর্ণধার শামসুল হক বলেন, ভারত মোটা চাল ছাড়া সব চালের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। ফলে সেখান থেকে গুটি স্বর্ণা বা স্বর্ণা-৫ ছাড়া অন্য কোনো চাল এনে সুবিধা করা সম্ভব নয়। সে জন্য মোটা চাল আনা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু মোটা চালের আবার উত্তরবঙ্গ ছাড়া চাহিদা কম। সব মিলিয়ে উভয়সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি পর্যায়ে যে দাম তা পাইকারি বিক্রেতাদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে আসতে খরচ আরও অনেক বেড়ে যায়। মিলে একই মানের চাল কম দামে পাওয়া গেলে আমদানিকারকরা চাল আনলেও তাদের কাছ থেকে কিনতে চাইবেন না ব্যবসায়ীরা। এসব হিসাব করে আমদানির অনুমতি নিলেও এখনই চাল আনছেন না অনেক ব্যবসায়ী।

এদিকে ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহের বিষয়টি পরিষ্কার হচ্ছে আমদানির তথ্য বিশ্লেষণেও। প্রথম দফায় শুল্ক কমানোর পর বেসরকারি উদ্যোগে চার লাখ নয় হাজার টন চাল আমদানি করতে ৯৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।

এই অনুমোদনের ভিত্তিতে ৩০ হাজার টন আতপ চাল এবং তিন লাখ ৭৯ হাজার টন সিদ্ধ চাল আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আমদানির এলসি করতে শর্ত দেওয়া হয়। এছাড়া ১১ আগস্টের মধ্যে আমদানি করা এসব চাল বাজারজাত করারও নির্দেশ রয়েছে। অর্থাৎ এলসির সময় শেষ হয়ে এলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত এলসি খোলা হয়নি। আর বাজারজাত করার সময় অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও দেশে চাল এসেছে মাত্র ২ হাজার টনেরও কম।

সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়া গেলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ১ হাজার ১০০ টন। আর বেনাপোল বন্দর দিয়ে রোববার চাল এসেছে ৫১২ টন।

এ প্রসঙ্গে খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা যে পরিমাণ আমদানির অনুমতি দিয়েছি, সে পরিমাণ এলসি হচ্ছে না সেটা ঠিক। তবে এখনো সময় আছে। দেখা যাক কী পরিস্থিতি হয়। প্রথম ধাপের সময় রয়েছে আরও কয়েকদিন। অন্যান্য ধাপে বেশ কিছুদিন সময় রয়ে গেছে।

এদিকে আমদানিকারকরা বলছেন, বেসরকারিভাবে যে চাল আমদানি হয় তার ৮০ ভাগেরও বেশি আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং পাকিস্তান থেকেও চাল আমদানির সুযোগ রয়েছে। তবে এসব দেশ থেকে চাল আমদানি করতে হলে পরিবহন খরচ আরও বাড়বে। কারণ এর আগে কার্গো সংকটে পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শহিদুর রহামন পাটোয়ারী ৭ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি নিয়েছেন। কিন্তু এখনো তিনি কোনো এলসি খোলেননি।

জাগো নিউজকে তিনি বলেন, গত বছরের এই সময়ে ডলারের বিপরীতে খরচ হয়েছে ৮৪-৮৫ টাকা। এবার সেটা কিনতে হচ্ছে ৯৮ টাকায়। এছাড়া ভারত ছাড়া অন্য দেশে পরিবহন খরচ আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। সেজন্য চালের আমদানি বাড়াতে শুল্ক আরও কমানো দরকার।

চাল আমদানিতে আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের

ভারতীয় চালের অন্যতম গন্তব্য বাংলাদেশ

তবে এ দাবি নাকচ করে দিয়ে খাদ্য সচিব বলেন, আমরা এ পরিস্থিতি ঠিক মনে করছি। ব্যবসায়ীদের কথায় শুল্ক আরও কমানো যাবে না। প্রয়োজনে আমরা হিসাব করে দেখবো।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এলসি খোলার পর ভারত থেকে চাল আমদানি করা যায় এক সপ্তাহের মধ্যেই। কিন্তু ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত চাল এসেছে ২ হাজার টনেরও কম। যেখানে প্রথম দফায় যারা অনুমতি পেয়েছেন তাদের আড়াই সপ্তাহ কেটে গেছে।

এদিকে তথ্য বলছে, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের কম শুল্কে চাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরও এর সুফল বরাবরই পাওয়া যায় না। কারণ গত অর্থবছরের ১৭ আগস্ট থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সংকট কাটাতে ৪১৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেসময় চাল আসে মাত্র ৩ লাখ ৩১ হাজার টন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, শুল্ক কমালে ব্যবসায়ীরা চাল আনবেন কি না সেটি তার মজুত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। নিজেদের মজুত চাল থাকলে আমদানির কারণে বাজারে দাম পড়ে যাক সেটা তারা কখনো চাইবেন না। ফলে অনাগ্রহ দেখাবেন। আবার সংকট মোকাবিলার কথা তারা কখনো ভাববেন না, লাভটা আগে হিসাব করবেন। ধান-চালের হিসাব এত সোজা নয়।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের ভরসা করে তাদের মাধ্যমে দাম কমবে- এ ভাবনায় বসে থাকা ঠিক হবে না। তাদের সাপ্লাই বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই। তারা মুনাফা ছাড়া কিছুই করেন না। আমদানি সংকট সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে সেটা দেখার বিষয়।


আরও খবর