Logo
আজঃ সোমবার ২৪ জুন 20২৪
শিরোনাম

উত্ত্যক্তের ঘটনার প্রতিবাদ করায়,স্বামী পরিত্যাক্তা এক মহিলাকে পিটিয়ে আহত

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ১৯৮জন দেখেছেন

Image

মোঃ আব্দুল হান্নানঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে উত্ত্যক্তের ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক স্বামী পরিত্যাক্তা মহিলাকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।ওই ঘটনায় নির্যতিত পারুল আক্তার (৩৫) নামের মহিলা নাজির উল্লাহ (২৩), জিয়ারুল ইসলাম (২৫), তাহের ইসলাম (৫০) ও মুক্তা আক্তার (২০) চার জনের নামে সাধারণ ডায়েরী করার আবেদন করেছেন।


ঘটনাটি ঘটেছে ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ রাত অনুমান ৯ ঘটিকার সময় জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোর্কণ ইউনিয়নের জেঠাগ্রাম কাজীপাড়ায়।অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে পারুল আক্তার একজন স্বামী পরিত্যাক্তা নারী।দুই সন্তান নিয়ে তার পিত্রায়লে বসবাস করেন।প্রতিবেশী উল্লেখিত বিবাদীগণ প্রায়ই রাস্তাঘাটে ও মোবাইল ফোনে পারুলকে উত্ত্যক্ত করে।এমনকি বিভিন্ন সময়ে পারুলকে নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করে।পারুল দীর্ঘদিন তাদের এসব অত্যাচার নীরবে সহ্য করে আসছে।ঘটনার তারিখে তাদের এমন উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তারা একজোট বদ্ধ হয়ে পারুলের উপর হর্তকিত হামলা চালায়।

বিবাদীরা পারুলকে চুলের মুটিধরে,মাটিতে ফেলে, টেনে হিচড়ে,শরীরের বিভিন্ন স্পর্ষকাতর স্থানে কিল,ঘুষি লাথি মেরে মারাত্বক জখম করে।এ সময় তারা পারুলের মাথার অনেক চুলও ছিঁড়ে ফেলেন।


পারুরে চিৎকার শোনে তার ছোটবোন বকুল আক্তার দৌড়ে এগিয়ে আসলে তার উপরও চলে মধ্যযুগীয় কায়দা নির্যাতন।

পরে প্রতিবেশীরা দৌড়ে এসে পারুল ও বকুলকে অত্যাচারীদের হাত থেকে রক্ষা করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে এনে চিকিৎসা শেষে থানায় সাধারণ ডায়েরী করার আবেদন করেন।

সাধারণ ডায়েরীর বিষয়ে জানতে চাইলে এস আই মোঃ আরিফুর রহমান সরকার জানান পারুলের অভিযোগটি তদন্ত করে অনুমতির জন্য আদালতে পাঠানো হবে।আদালতের অনুমতি পেলে বিবাদীদের বিরোদ্ধে প্রসিউকেশন কেটে আদালতে পাঠানো হবে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.বা


আরও খবর



১৪ জেলায় নতুন এসপি নিয়োগ

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ২৫জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:১৪ জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) বদলি করে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।জেলাগুলো হচ্ছে- রংপুর, কুমিল্লা, সিলেট, কুষ্টিয়া পটুয়াখালী, বরগুনা, বগুড়া, ফেনী, পাবনা, টাঙ্গাইল, নীলফামারী, যশোর, মাদারীপুর, সুনামগঞ্জ।

রোববার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করে এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে এসপি সমমর্যাদার ১৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন নতুন জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অপরএকজন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ জানানো হয়নি। বদলি কার্যক্রমটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির চতুর্থ দিনে ইন্দোনেশিয়াকে হারালো বাংলাদেশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ১৭২জন দেখেছেন

Image
মারুফ সরকার, স্টাফ রিপোর্টার:বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে চতুর্থ  দিনের খেলায় ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ ।

আজ বুধবার বিকেল ৪ টায় বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে প্রথম খেলায় জয়লাভ করে বাংলাদেশ । মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ  ৫৯-১৯ পয়েন্টে হারিয়েছে  ইন্দোনেশিয়াকে। বাংলাদেশের খেলা দেখে খুশি ভক্ত সমর্থকরা ।এত বড় জয় দেখে ভক্তরা বলছে কাপ বাংলাদেশেয় থাকবে। 

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়। করোনা মহামারীর কারণে সে সময় নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, পোল্যান্ড ও স্বাগতিক বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশ অংশগ্রহণ করে।

২০২২ সালে দ্বিতীয় আসরে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, ইংল্যান্ড, ইরাক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও স্বাগতিক বাংলাদেশসহ আটটি দেশ অংশগ্রহণ করে। ২০২৩ সালে তৃতীয় আসরে অংশগ্রহণ করেছিল রেকর্ড ১২টি দেশ। এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে টুর্নামেন্টের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছিল দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশেও। টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ ছিল ফুটবলের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাবাডি দল। তৃতীয় আসরে অংশ নেওয়া দেশগুলো ছিল আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, পোল্যান্ড, কেনিয়া, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চাইনিজ তাইপে, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক বাংলাদেশ।

আরও খবর



তানোরে ভূমি সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ৭৮জন দেখেছেন

Image

আব্দুস সবুর তানোর থেকে:স্মার্ট ভূমি সেবা,, স্মার্ট নাগরিক এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে    রাজশাহীর তানোরে ভূমি সেবা সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ-উপলক্ষ্যে  শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে  উদ্বোধন শেষে উপজেলা হলরুমে আলোচনা সভা  ও পরে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিটি  পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে  ভূমি অফিসে শেষ হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও  অতিরিক্ত সহকারী কমিশনার( ভূমি)দাযিত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে, স্বগত বক্তব্য রাখেন সদর তহসিল অফিসের নায়েব ঈমান আলী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা (টিএইচও)  বার্নাবাস হাসদা, পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপির) চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন,  সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ হোসেন খান,   কৃষি অফিসার  সাইফুল্লাহ , প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃমোঃ ওয়াজেদ আলী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান,   উপজেলা মহিলা  ভাইস চেয়ারম্যান  চেয়ারম্যান সোনিয়া সরদার, ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর রেজা, কলমা ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী,  বাঁধাইড় ইউপি চেযারম্যান আতাউর রহমান,সরনজাই ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বাবু,চান্দুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান, কামারগাঁ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন প্রামানিক।
  আরো   উপস্থিত ছিলেন, ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আমানত আলী, নাজির ফিরোজ কবির,অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আরিফুর রহমান শিশির,ইউনিয়ন ভূমি অফিসের  সহকারী কর্মকর্তা রাবিউল ইসলাম,ইমান আলী, কাওসার আলী প্রমুখ। এসময়   উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন ।

আরও খবর



নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদে এসব কি হচ্ছে!

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | ৯৪জন দেখেছেন

Image

নওগাঁ প্রতিনিধি:নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, দূর্নীতি আর সীমাহীন অনিয়মে এসব প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। কয়েকশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্প স্থানীয়দের সুবিধার পরিবর্তে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রকল্প জনগণের কোনই কাজে আসছে না।

প্রকল্পগুলো কেন ও কার স্বার্থে নেয়া হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, প্রকল্পের শত কোটি টাকা পানিতে গচ্ছা গেছে।

জেলার ধামইরহাট, পত্নীতলা ও মহাদেবপুর  উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদের ড্রেজিং, বাঁধ সংস্কার ও তীর প্রতিরক্ষার তিনটি প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড একশ’ ৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। শতকরা ১০ ভাগ কম মূল্যে টেন্ডারে এটির ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১ জুলাই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গতবছর ৩০ জুন শেষ হবার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হলেও এখনও এর কাজ শেষ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী থেকে মহাদেবপুর উপজেলার কালনা ব্রীজ পর্যন্ত মোট ২৭ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং করা হয়। ড্রেজিংয়ের ফলে নদের ডুবোচর বিলুপ্ত, নদেরভাঙন থেকে রক্ষা, নদের গতিপথ পরিবর্তন বন্ধ হওয়া সংক্রান্ত ভাঙন রোধ, নদের পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, নাব্যতা বৃদ্ধি, কৃষি সেঁচের আওতা বাড়া, পানি ডিসচার্জ ক্যাপাসিটি বাড়া, এলাকার পানি নিস্কাষন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হওয়ার মধ্য দিয়ে সাগর বিপ্লব সংঘটিত হওয়া প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল।কিন্তু প্রকল্পের কাজ এতই নিম্নমানের করা হয়েছে যে, এসব কোনটিরই বাস্তবায়ন করা  হয়নি। ড্রেজিং কাজ নামমাত্র করায় নদের পানি প্রবাহ বাড়েনি। বরং এই নদ এখনও আগের মতই শুকিয়ে রয়েছে। শুষ্ক মওসুমে পুরো নদ জুড়ে পানির বদলে বালি আর মাটি দেখা যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ এটি একটি লোক দেখানো টাকা লোপাটের প্রকল্প। প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ কাজ না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের মন্তব্য।

এ প্রকল্পে ২৫ কিলোমিটার নদের পশ্চিম তীরের বাঁধ পূণঃআকৃতিকরণ (রিসেকশন) করার কথা। এতে বর্তমান অবস্থা থেকে বাঁধ দেড় মিটার উঁচু ও ৫ মিটার চওড়া হবে। মহাদেবপুর এলাকায় এ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার প্রকল্পে যেকোন বৈধ স্থান থেকে মাটি এনে দিতে বাধ্য থাকলেও একের পর এক অবৈধ স্থান থেকে মাটি এনে এখানে দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে মাঠের পর মাঠ ফসলি জমি থেকে উর্বর টপ সয়েল কেটে এনে এ প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে। ফসলি জমি নষ্ট করে বেআইনীভাবে শতাধিক পুকুর খনন করে সেই মাটি পরিবহণ করে এ প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে। দূর থেকে খোলা ট্রাক্টরে করে মাটি পরিবহণ করায় পাকা রাস্তায় মাটি পড়ে কাদায় সয়লাব হয়েছে। শুষ্ক মওসুমে পুরো এলাকা ধুলোময় হয়েছে। মানুষ স্বাভাবিক চলাচল ও জীবন ধারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এমনকি এই প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারিরা প্রকাশ্যে নদীতে ভেক্যু মেশিন বসিয়ে মাটি চুরি করে বাঁধে দিয়েছে। এভাবে বেআইনীভাবে ঠিকাদারকে সহযোগিতা করে বিশাল অংকের অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বাঁধে বালুকা মাটি না দিয়ে লাল এঁটেল মাটি দেওয়ায় বর্ষার সময় পুরো বাঁধ কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। ফলে বাঁধের উপর দিয়ে কোন যানবাহন বা মানুষ চলাচল করতে পারে না। বাঁধের আশেপাশের মানুষ এ সময় বাড়িতে একরকম বন্দি অবস্থায় থাকেন। 

এ বাঁধ পূণঃআকৃতিকরণে বাঁধসংলগ্ন লক্ষাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অনেক জায়গায় ব্যক্তি মালিকানার গাছও কেটে সাবাড় করা হয়েছে। ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পরিবর্তে প্রকৃতির মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় বাঁধ সম্প্রসারণে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।এ বাঁধ নিয়ে সবচেয়ে নেতিবাচক যে প্রচারটা হচ্ছে তা হলো, নদের পশ্চিম তীরে দুই যুগ আগে বিশ্ববাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর উপর দিয়ে আবার নতুন করে বাঁধ নির্মাণের কোন প্রয়োজন ছিল না বলে স্থানীয়রা মনে করেন।মহাদেবপুরে সর্বশেষ বন্যা হয়েছে ১৯৯৬ সালে। গত ২৮ বছরে এ উপজেলায় কোন বন্যা হয়নি। বরং বছরের পর বছর ধরে পানির প্রবাহ না থাকায় এ নদ।একটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদে যেখানে পানিই নেই, সেখানে শতকোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ সম্প্রসারণ কার জন্য তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এছাড়া নদের তীর প্রতিরক্ষায় বাঁধের ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সিসি ব্লক ফেলার কাজও করা হচ্ছে। এখানেও নিম্নমানের ব্লক তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফইজুর রহমান অবৈধভাবে ঠিকাদারকে সহযোগিতার কথা অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, নদ থেকে মাটি বাঁধে যায়নি।

মহাদেবপুরে আত্রাই নদের ভাটি অংকে কোন বালু না থাকায় এবার প্রথম পর্যায়ে এ অংশের ডাক দেওয়া হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে মাটি ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভাটি অংশের শুধুমাত্র মহাদেবপুর ও দারিয়াপুর মৌজার বালুমহাল ১৬ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। মহাদেবপুর মৌজায় পাশাপাশি একটি ঢালাই ব্রীজ ও একটি বেইলী ব্রীজ রয়েছে। এর এক কিলোমিটার পরেই অন্য মৌজা। এ ছাড়া দরিয়াপুর মৌজার এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে শিবগঞ্জ খেয়াঘাটে নির্মিত হচ্ছে আরো একটি ঢালাই ব্রীজ। এসব ব্রীজের এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলনের জন্য কিভাবে ইজারা দেওয়া হলো তা নিয়ে স্থানীয়দের হাজারো প্রশ্ন। বালু না থাকায় ইজারাদার নদের  মধ্যে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে বাঁধ দিয়ে বাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে ভেক্যু মেশিন দিয়ে গভীর গর্ত করে লাল মাটি তুলে বিক্রি করছে। ফলে একদিকে বিস্তর টাকা খরচ করে বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে, অন্যদিকে মাটি কেটে ও বাঁধের উপর দিয়ে মাটি পরিবহণ করে বাঁধকে হুমকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।জানতে চাইলে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা জানান, বালুমহাল ইজারা নিয়ে কোনক্রমেই মাটি কাটা যাবেনা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্দিষ্ট দূরত্বে না হলে বালুও তোলা যাবেনা বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান।

২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর মহাদেবপুরে আত্রাই নদের হাতুড় ইউনিয়নের কালনা ঘাট ও উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবগঞ্জ ঘাটে দুটি ব্রীজ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। এজন্য বরাদ্দ করা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল আত্রাই নদের মহিষবাথান ঘাটে একটি ব্রীজ নির্মাণের। এখানে ঐতিহ্যবাহী হাট, প্রতিদিনের বাজার, স্কুল, মাদরাসা, ব্যাংক, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি রয়েছে। কিন্তু সিংহভাগ জনতার দাবি উপেক্ষা করে সেসময় এখানে ব্রীজটি নির্মাণ না করে এখান থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে একটি ফাঁকা জায়গায় কালনা ঘাটে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, মহিষবাথান হাটের কাছাকাছি বালুর পয়েন্ট ছিল। এখানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে নদের ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনের ফলে একশ’ ফুটের বেশি গভীর খাদে পরিণত হয়েছিল। ওই বালুর পয়েন্ট ঠিক রাখতে ব্রীজ নির্মাণের স্থান একটি জনমানবহীন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। মহিষবাথান হাট এলাকায় আত্রাই নদের সাথে মহাদেবপুর-পত্নীতলা পাকা সড়ক ও মহাদেবপুর-সরাইগাছী পাকা সড়কের সংযোগ সড়কও রয়েছে। কিন্তু কালনা ঘাটে কোন সংযোগ সড়ক নেই। জনতার স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে কার স্বার্থে ব্রীজটি কালনা ঘাটে নির্মাণ করা হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এ ব্রীজটি নির্মাণের সময় এর দৈর্ঘ্য ধরা হয় ৩৫০ মিটার। ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু কাজ শুরু হবার কিছুদিন পর জানা যায়, এস্টিমেট ভূল হয়েছে। তখন কাজ বন্ধ রেখে নতুন করে এস্টিমেট করা হয়। নতুন এস্টিমেটে এটির দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় মাত্র ২৬২ মিটার। তিন বছর এর নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এর কাজ আবার শুরু করা হয়। গতবছর ১০ জুলাই নির্মাণ কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও আজও এটির ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়নি। শিবগঞ্জ ঘাটের ব্রীজটিরও একই অবস্থা। বিষয়টি জানতে তদানিন্তন উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রথমে এই নদীকে ‘‘ক’’ শ্রেণির হিসেবে গণ্য করে হাই ফ্লাড লেভেল থেকে ৮ মিটার উঁচুতে ব্রীজের পাটাতন বসানোর প্ল্যান করা হয়েছিল জন্য ব্রীজের দৈর্ঘ্য বেশি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানতে পারেন যে, এই নদী ‘‘ক’’ শ্রেণির নয়, বরং ‘‘খ’’ শ্রেণির। তাই হাই ফ্লাড লেভেলের ৫ মিটার উঁচুতে পাটাতন বসানোর এস্টিমেট করা হয়। এতে ব্রীজের দৈর্ঘ্য কমে আসে। ব্রীজ দুটির ডিজাইন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা করেছিলেন বলেও তিনি জানান। তবে যারা এই ভূল কাজটি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা তা তিনি জানাতে পারেননি।

ভূল ডিজাইন করে বেশি এস্টিমেট দেখিয়ে ওই প্রকৌশলীরা কার স্বার্থ রক্ষা করেছিলেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই ব্রীজ দুটি নির্মাণে এত বেশি সময় লাগাতে স্থানীয়দের দূর্ভোগের দায় কে নেবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া এই নদে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে উপজেলার সবরকমের ময়লা আবর্জনা, হাঁস-মুরগি, মাছ, গরু খাসির নারীভুড়ি ও উচ্ছিষ্ট। ফলে নদী দুষণ বাড়ছে। এনিয়ে একাধিকবার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা করা হলেও নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ হয়নি।


আরও খবর



রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসায় ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ৮৫জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাতের আঁধারে বাসায় ঢুকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে স্বামী শফিকুর রহমান (৬০) ও তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১৯ জুন) রাতের যেকোনো সময় যাত্রাবাড়ী পশ্চিম মমিনবাগের ১৭৫ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. তৌহিদুল হক মামুন বলেন, সকালে খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ীর পশ্চিম মমিনবাগের ১৭৫ নম্বর বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গলাসহ তাদের দুজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, গতরাতের যেকোনো সময় বাসায় ঢুকে তাদের দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে।


আরও খবর