Logo
আজঃ শুক্রবার ০৯ জুন ২০২৩
শিরোনাম

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৯ জুন ২০২৩ | ১৩৬জন দেখেছেন

Image

স্পোর্টস ডেস্ক ;আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আয়ারল্যান্ড।

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে আজ শনিবার (১৮ মার্চ)।

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলাদেশ। নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলা এবং জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়েই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে টাইগাররা।

১৫ বছর পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে আয়ারল্যান্ড। এই কন্ডিশনে অনভ্যস্ত আইরিশদের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে নিজেদের সামর্থ্য পরখ করে নিতে চাইছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। আর নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে আইরিশরা।

আইরিশদের বিপক্ষে পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে। দু’দল এখন পর্যন্ত ১০টি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের জয় ৭টি। আয়ারল্যান্ড জিতেছে ২টি এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। আরও একটি বিষয় হলো, গত এক যুগ ধরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি আইরিশরা।

এদিকে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগার শিবিরে অভিষেক হয়েছে তৌহিদ হৃদয়ের।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, তৌহিদ হৃদয়, সাকিব আল হাসান, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান।

আয়ারল্যান্ড স্কোয়াড: অ্যান্ড্রু বালবার্নি (অধিনায়ক), পল স্টার্লিং, স্টিফেন ডহেনি, হ্যারি টেক্টর, মার্ক অ্যাডাইর, লোরকান টাকার, গ্যারেথ ডেলেনি, জর্জ ডকরেল, গ্রাহাম হাম, কার্টিস ক্যাম্ফেল, অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রিন।


আরও খবর



বিশ্বনবী কঠিন বিপদে যে দোয়া পড়তেন

প্রকাশিত:রবিবার ২১ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ০৭ জুন ২০২৩ | ১২৬জন দেখেছেন

Image

ধর্ম ডেস্ক:মানুষ যতদিন বেঁচে থাকবে সুখ-দুঃখ, বিপদ-মুসবিত ততদিন থাকবে। বিপদকে ঘৃণা বা খারাপ দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অনেক সময় বিপদের কারণেই মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। আবার যখন মানুষ চরম অন্যায়ের দিকে ধাবিত হয় তখনই মানুষের ওপর বিপদ-মুসিবত পতিত হয়। তিনি চাইলে মুহূর্তেই বিপদ থেকে মুক্তি দিতে পারেন।

তবে বিপদে পড়লে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) আমাদের ছোট্ট এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন।

আরবি দোয়া : «إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرَاً مِنْهَا».

বাংলা উচ্চারণ : ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা আজুরনী ফী মুসীবাতী ওয়াখলুফ লী খাইরাম মিনহা।

বাংলা অর্থ : আমরা তো আল্লাহ্‌রই। আর নিশ্চয় আমরা তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ! আমাকে আমার বিপদে সওয়াব দিন এবং আমার জন্য তার চেয়েও উত্তম কিছু স্থলাভিষিক্ত করে দিন।” (মুসলিম ২/৬৩২, নং ৯১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো কঠিন বিপদের সম্মুখীন হতেন তখনই তিনি আল্লাহর কাছে একান্তভাবে দোয়া প্রার্থনা করতেন। এ সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন-

আরবি দোয়া : - أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

বাংলা উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাযাবিহি ওয়া ইকাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই ইয়াহদুরুন। (আবু দাউদ)

বাংলা অর্থ : আমি আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে তার ক্রোধ ও আজাব থেকে, তার বান্দার শত্রুতা থেকে এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে সুরক্ষার জন্য আল্লাহ তাআলার আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তারা আমার কাছেই না আসতে পারে।

সুতরাং প্রতিটি মুমিন মুসলমানের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। কারণ, কার বিপদ কখন কীভাবে আসবে সে কথা তো আর আগে থেকে বলা যায় না। তাই সর্বাবস্থায় মহান স্রষ্টার স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা মুমিনের কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার তাওফিক দান করুন। তার রহমতের চাদরে আমাদের আবৃত করুন। আমিন।


আরও খবর



আইএইচএফ চ্যালেঞ্জ ট্রফি উইমেন্স হ্যান্ডবলের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ

প্রকাশিত:শনিবার ২০ মে ২০23 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৮ জুন ২০২৩ | ১১১জন দেখেছেন

Image

আজাদ হোসেনঃ 

আইএইচএফ চ্যালেঞ্জ ট্রফি উইমেন্স হ্যান্ডবলের অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। 


পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বুধবার (১৭ মে) ভারতকে ৪৬-৪৩ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ।  শুরু থেকে ভারতের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়তে থাকে স্বাগতিকরা। দুই দলের প্রথমার্ধ শেষ হয় ২০-২০ সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য করে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় মেয়েরা। 


দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫ বার জালের দেখা পান মার্ফি; এছাড়া রুনা লায়লা ১৪টি ও তাহারা আক্তার তানিয়া ১০টি, দীপা রানী ৫টি গোল করেন। নেপালকে ৪৬-৮ গোলে হারিয়ে এই প্রতিযোগিতায় যাত্রা শুরু করেছিল মেয়েরা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে জিতেছিল ৫৫-৯ ব্যবধানে। রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে ৪৩-৩৩ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। টানা তিন জয়ে ফাইনালের মঞ্চে আসা শক্তিশালী ভারত প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ ডালিয়া আক্তার বলেছিলেন, ফাইনালে চমক উপহার দেওয়ার লক্ষ্য। তা পূরণ হওয়ার উচ্ছ্বাস তার চোখে-মুখে।


তিনি বলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছিলাম চমক দেখাবে আমার দল। সেটাই করে দেখিয়েছে তারা। মেয়েদের এমন পারফরম্যান্সে আমি অনেক খুশি। আমি আমার খেলোয়াড়ী জীবনে কখনও ভারতকে হারাতে পারিনি, কিন্তু প্রথমবার কোচ হয়ে সেই অর্জনে নাম লেখাতে পেরেছি। ভারতকে যে কোনো খেলায় হারানো কঠিন। হ্যান্ডবলে তো আরো কঠিন। সেই কঠিন কাজ আমার মেয়েরা করে দেখিয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে গতকাল দলের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেছি। রাউন্ড রবিন লিগে ভারতের কাছে হেরেছিলাম। সেখানে যে ভুলগুলো মেয়েরা করেছিল; আজ সে ভুলগুলো কম করেছে। সব মিলে আমি দারুণ খুশি।


প্রতিযোগিতার অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে অবশ্য পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে হওয়া ফাইনালে ৪৮-১৭ গোলে হেরে যায় মেয়েরা।



আরও খবর



আসছেন কিসি কা ভাই কিসি কি জান, যাচ্ছেন ‘কসাই’

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৮ জুন ২০২৩ | ৫২জন দেখেছেন

Image

বিনোদন প্রতিবেদক:দেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘পাঠান’র পর এবার আসতে চলেছে সালমান খানের ‘কিসি কা ভাই কিসি কা জান’ সিনেমা। এর পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাবে নিরব অভিনীত ‘কসাই’।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স এন ইউ আহম্মদ ট্রেডার্স সিনেমাটি আমদানি করার অনুমতি চেয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল। আজ বুধবার সিনেমাটি বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিষয়টি জানিয়ে বলেছে, ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ সিনেমা আমদানীর পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে নিরব অভিনীত ‘কসাই’ সিনেমা ভারতে যাবে। এ সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অনন্য মামুন।

ফরহাদ সামজি পরিচালিত ‘কিসি কি ভাই কিসি কা জান’ সিনেমায় বলিউডের সুপারস্টার সালমান খান ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ভেঙ্কটেশ ডাগ্গুবাতি, জগপতি বাবু, রাঘব জুয়াল, সিদ্ধার্থ নিগম, শেহনাজ গিল, ভূমিকা চাওলা, বিজেন্দ্র সিং।

সিনেমাটিতে আরআরআর তারকা রামচরণকে একটি বিশেষ ক্যামিও ভূমিকায় দেখা যাবে।

হল মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে বিশেষ কিছু শর্তে দেশের প্রেক্ষাগৃহে সার্কভূক্ত দেশগুলোর নানা ভাষার সিনেমা মুক্তির অনুমতি দিয়েছে সরকার। সে অনুমতির আওতায় শাহরুখ খানের ‘পাঠান’ দিয়ে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে মুক্তি পায় হিন্দি সিনেমা। সিনেমাটি ভালোই ব্যবসা করেছে।


আরও খবর

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন ফেরদৌস

বৃহস্পতিবার ০৮ জুন ২০২৩




বিএনপি নেতা মজনু রিমান্ডে

প্রকাশিত:সোমবার ২২ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ০৭ জুন ২০২৩ | ৯০জন দেখেছেন

Image

আদালত প্রতিবেদক:রাজধানীর পল্টন থানার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফি উদ্দিন এ রিমান্ড আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর শাহিন মিয়া আসামি মজনুকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। মজনুর পক্ষে তার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে গত ২১ মে মধ্যরাতে এক বিবৃতিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, রফিকুল আলম মজনুকে রাত ১২টার দিকে শাহজাহানপুরের বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে।


আরও খবর

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন ফেরদৌস

বৃহস্পতিবার ০৮ জুন ২০২৩




প্রস্তাবিত বাজেট গণবিরোধী, বাস্তবায়ন অযোগ্য: ফখরুল

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ জুন ২০২৩ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৮ জুন ২০২৩ | ৬৮জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এটি নজিরবিহীন লুটপাট ও অলীক কল্পনার অবাস্তবায়নযোগ্য গণবিরোধী বাজেট।

আজ বুধবার দলটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।

ফখরুল বলেন, ‘সরকার গত ০১ জুন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে তা বর্তমান ফ্যাসিস্ট লুটেরা সরকারের অর্থনৈতিক দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার এক বার্ষিক ঘোষণাপত্র মাত্র। এই বাজেট কল্পনাবিলাসী বাস্তবায়ন অযোগ্য এক উচ্চাভিলাষী বাজেট। এটা স্রেফ দুর্নীতিবাজ বর্তমান সরকারের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুটের লক্ষ্যে প্রণীত ‘অর্থ লুটেরাদের বাজেট’।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘বাজেটে চলমান অর্থনৈতিক সংকট, ক্রমবর্ধমান আয়-বৈষম্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে যাওয়া, বেপরোয়া অর্থপাচার, জনগণের কাঁধে রাষ্ট্রীয় ঋণের বোঝা একেবারের জন্যেও স্বীকার করা হয়নি। পরিত্রাণের উপায়ও বলা হয়নি। তেমনিভাবে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে সুশাসন ও ন্যায়বিচার এর ধারণাকে।

ফখরুল বলেন, ‘এই বাজেট পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩.৪% এবং উন্ন্য়ন ব্যয় ৩৬.৪%। বাজেটের এই অর্থের সংস্থান হবে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা আয় থেকে, আর ঘাটতি ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা ঋনের মাধ্যমে। রাজস্ব আয়ের ৩২.৮% পরোক্ষ কর (ভ্যাট) এবং ৩০.৭% প্রত্যক্ষ কর। এরই সাথে সরকার জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৫% এবং মুদ্রাস্ফীতির হার ৬% প্রত্যাশা করছে! এ বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত, প্রতারণামূলক, লোক দেখানো বাজেট, জনকল্যাণের নয়।

‌বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগসহ সামষ্টিক অর্থনীতির যেসব প্রক্ষেপণ করা হয়েছে তা অর্জনযোগ্য নয়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৫% লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করলেও তা কিভাবে অর্জন করা হবে তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বাজেটে নেই। চলতি অর্থবছরেও ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৫%। সংশোধনী বাজেটে তা পরে ৬.৩% পুনঃনির্ধারণ করা হয়। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন- এবারও ৭.৫% টার্গেট অর্জন সম্ভব হবে না। কেননা অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ। এ চাপ মোকাবেলায় বাজেটে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন এবং খাদ্যসহ তেল, চাল, আদা, চিনি, ডিম, মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য অনেক আগেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

দেশের অর্থনীতি মহাবিপর্যয়ে রয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘ডলারের সংকট প্রকট। পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে গেলে প্রায় সকল ব্যাংক ফিরিয়ে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। সরকারি হিসাব মতে গত ৭ বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে গেছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভ দাঁড়ায় ২১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। বিশ্বস্ত সূত্র মতে, ইতিমধ্যে নতুন নোট ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার উপর। একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‌তিনি বলেন, ‘অর্থপাচার অব্যাহতভাবে বাড়ছে। জিএফআই বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ৪,৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়। সিআইডি বলছে, শুধু হুন্ডি প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে গড়ে বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য মিলে প্রতিবছর কমপক্ষে দেড় লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশে চারিদিকে শুধু হাহাকার। তবে এই হাহাকার সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ও সুবিধাভোগী নব্য ধনীদের জন্য নয়।

ফখরুল আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন নৈরাজ্য চলছে। ব্যাংকের অতিরিক্ত ক্যাশ লিকিউডিটি কমেছে ৫৭ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা (ঘবি অমব: ২৪-১-২৩)। ২০০৯ সালে যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। তবে পুনঃ তফসিলকৃত ঋণ যোগ করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। গত বছরের প্রথম নয় মাসেই খেলাপি বেড়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। গত ৩ মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১০০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা।

গত ৬ বছরে বিদেশী ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেক করে ফখরুল বলেন, ‘চীন ও রাশিয়া থেকে নেয়া কঠিন শর্তের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ২০২৪ সন থেকেই বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সে সময় পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের বোঝা ছিল ৩২৪ মার্কিন ডলার, টাকার অংকে যা প্রায় ৩২ হাজার ৭৪০ টাকা (প্রতি ডলার ১০১ টাকা দরে)। বর্তমানে আরও বেড়েছে। আইএমএফ চাচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলোতে ১০ শতাংশ এর নিচে ও বেসরকারি ব্যাংক গুলোতে ৫ শতাংশ এর নিচে থাকুক খেলাপি ঋণের পরিমাণ। কিন্তু বর্তমানে কৌশলে এক ব্যাংকের আদায়যোগ্য খেলাপি ঋণ আরেক ব্যাংকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ফখরুল বলেন, ‘বাজেটে আয় বৃদ্ধির জন্য কর্মসংস্থানের বিশেষ কোনো পদক্ষেপের উল্লেখ করা হয়নি। আর কর্মসংস্থান না হলে মানুষের আয় বাড়বে না। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা তারা সামলাবে কিভাবে?’

তিনি বলেন, ‘সরকার ইতোপূর্বে করযোগ্য আয় নেই এমন ব্যক্তিদেরও ৪৪ ধরনের সেবা গ্রহণে কর দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে যা মধ্যবিত্তের উপর জুলুম। প্রশ্ন হলো যার আয় কম তিনি কি ঐ সকল রাষ্ট্রীয় সেবা পাবেন না! একদিকে ন্যূনতম আয়কর সীমা বাড়িয়ে ৩,৫০,০০০ টাকা প্রস্তাব করেছে, অপরদিকে আয় না থাকলেও মিনিমাম ২০০০ টাকা আয়কর ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে যা সাংঘর্ষিক, ন্যায়নীতি বর্জিত এবং ‘আয়ের উপর কর’ নীতিরও পরিপন্থী।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে প্রয়োজন ছিল দল, মত ও ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে একটি সাহসি ও বাস্তবসম্মত বাজেট। কিন্তু মোটাদাগে এ বাজেট আইএমএফ এর শর্ত বাস্তবায়ন এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের ১৪-১৫% বর্ধিত অবস্থা ছাড়া কিছুই না। অথচ আইএমএফ এর সঙ্গে ঋণচুক্তির কথা উল্লেখই করেননি অর্থমন্ত্রী। এদিকে আইএমএফ এর শর্তপূরণে বাড়তি আদায় করতে হবে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। কর ছাড় কমানোর বড় উদ্যোগ বাজেটে নেই।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট দেশের প্রধান জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার না থাকলে সরকারের জাবাবদিহিতা থাকেনা। দেশের অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই জাতীয় সংকট থেকে মুক্তি পেতে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধমূলক নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটার একমাত্র পথ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান।


আরও খবর