Logo
আজঃ বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম
নিলয় কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে কী বললেন স্থগিত ১৮ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা তিতাসের অভিযানে নারায়ণগঞ্জের ২ শিল্প কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হিলি দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বাড়ায় বন্দরের পাইকারী বাজারে কেজিতে দাম কমেছে ৩০ টাকা জয়পুরহাটে ডাকাতির পর প্রতুল হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন রিয়েলমি সার্ভিস ডে: ফোন রিপেয়ারে খরচ বাঁচান ৬০% পর্যন্ত, উপভোগ করুন ফ্রি সার্ভিস সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ ২জন গ্রেফতার: কোটিপতি সোর্স ও গডফাদার অধরা কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৩ দিনে ৩ খুন, আইনশৃংখলার অবনতি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তাহিরপুর সীমান্তে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: দেখার কেউ নাই

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১২৮জন দেখেছেন

Image

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:দেশের পর্যটন খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তে প্রতিদিন কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে পাচাঁর করা হচ্ছে বিভিন্ন মালামাল। চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে মালামাল পাচাঁর করতে গিয়ে গত ৫ বছরে শতাধিক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এব্যাপারে হয়নি কোন মামলা, গ্রেফতার করা হয়নি চোরাকারবারী ও তাদের গডফাদারকে। যার ফলে এই সীমান্তে দীর্ঘদিন যাবত জমজমাট ভাবে চলছে চোরাচালান বাণিজ্য।  

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- প্রতিদিনের মতো আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ভোর থেকে জেলার তাহিরপুর উপজেলার চাঁনপুর সীমান্তের নয়াছড়া, গারো ঘাট, রজনী লাইন, কড়ইগড়া ও বারেকটিলা এলাকা দিয়ে সোর্স রুসমত আলী, নাসির মেম্বার, জামাল মিয়া, নজরুল মিয়া, বুটকুন মিয়াগং মোটর সাইকেল ও ট্রলি দিয়ে কয়েক হাজার মেঃটন কয়লা, বালি ও চুনাপাথরসহ মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন মালামাল পাচাঁর শুরু করে। অন্যদিকে ভোররাত থেকে চারাগাঁও সীমান্তের কলাগাঁও নদী থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে শতাধিক স্টিলবডি ইঞ্জিনের নৌকা দিয়ে বালি, কয়লা, চুনাপাথর, চিনি, পেয়াজ ও মাদকদ্রব্য বোঝাই করে কিশোরগঞ্জ জেলা ভৈরব ও নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা নিয়ে যায় সোর্স পরিচয়ধারী রফ মিয়া, আইনাল মিয়া, সাইফুল মিয়া, রিপন মিয়া ও লেংড়া জামালগং। অন্যদিকে গডফাদার তোতলা আজাদের নেতৃত্বে সোর্সরা সকাল ৬টায় বীরেন্দ্রনগর সীমান্তের সুন্দরবন, লামাকাটা ও চারাগাঁও সীমান্তে জঙ্গলবাড়ি, মাইজহাটি এলাকা দিয়ে ১০টি স্টিলবডি ইঞ্জিনের নৌকা বোঝাই করে প্রায় ৩শ মেঃটন কয়লা, পেয়াজ ও চিনিসহ মাদকদ্রব্য পাচাঁর করে নিয়ে যায়। অপরদিকে এই সীমান্তের বাঁশতলা ও লালঘাট এলাকা দিয়ে ৮টি স্টিলবডি ইঞ্জিনের নৌকা বোঝাই করে প্রায় ২শ মেঃটন কয়লা ও বিপুল পরিমান মদ, গাঁজা, ইয়াবা পাচাঁর করে নিয়ে যায় সোর্স পরিচয়ধারী চোরাকারবারী রুবেল মিয়া, আমির আলী, হারুন মিয়া, বাবুল মিয়া, সোহেল মিয়া, আনোয়ার হোসেন বাবলু ও রফ মিয়া।

এদিকে বালিয়াঘাট সীমান্তের লাকমা এলাকা দিয়ে সোর্স পরিচয়ধারী রতন মহলদার, কামরুল মিয়া, ইয়াবা কালাম, হোসেন আলী, জিয়াউর রহমান জিয়া ও মনির মিয়াগং পৃথক ভাবে ১৫০মেঃটন কয়লা ও বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাচাঁর করাসহ টেকেরঘাট সীমান্তের রজনী লাইন, বুরুঙ্গাছড়া, বড়ছড়া এলাকা দিয়ে সোর্স আক্কল আলী, কামাল মিয়া, রফিকুল, মুহিবুর, সাইদুল মিয়াগং চুনাপাথর পাচাঁর করে এবং লাউড়গড় সীমান্তের জাদুকাটা নদী, পুরান লাউড়, দশঘর এলাকা দিয়ে সোর্স বয়েজিদ মিয়া, জসিম মিয়া, রফিক মিয়া, জজ মিয়া ও নুরু মিয়াগং ভারত থেকে কয়লা, পাথর, চিনি, পেয়াজ, গরু, নাসির উদ্দিন বিড়ি, ইয়াবা, মদ ও গাঁজা পাচাঁর শুরু করে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই চোরাচালান ওপেন ভাবে চলে। কিন্তু বিজিবি ও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মালামালসহ কাউকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।  

শুল্কস্টেশনের বৈধ ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে- গডফাদার তোতলা আজাদ সোর্সদের মাধ্যমে পাচাঁরকৃত প্রতিটন চোরাই কয়লা থেকে বিজিবির নামে ৮শত টাকা, থানার নামে ১হাজার টাকাসহ মোট ২৩শ টাকা চাঁদা নেয়। এছাড়া বালির নৌকা থেকে ৭শ টাকা, ১ বস্তা পেয়াজ থেকে ২শ টাকা, ১বস্তা চিনি থেকে ৩শ, প্রতি গরু ৫হাজার, ঘোড়া ৭হাজার টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করে। কিন্তু এই চোরাচালান ও চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য নেওয়া হয়না আইনগত পদক্ষেপ। যার ফলে গডফাদার তোতলা আজাদ ও তার সোর্সরা এখন কোটিপতি।

এব্যাপারে চাঁনপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্বাস বলেন- সীমান্ত চোরাচালানের বিষয়ে আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখছি। চারাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের ভিআইপির দায়িত্বে থাকা সৈনিক শামীম বলেন- আমার উপরস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশ মতো আমি দায়িত্ব পালন করছি। ওই ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন- আপনি তথ্য দিয়েন আমি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। টেকেরঘাট কোম্পানীর কমান্ডার দীলিপ বলেন- সীমান্ত এলাকা অনেক বড়, তারপরও খোঁজ খবর নিয়ে দেখব।  

-খবর প্রতিদিন/ সি.

আরও খবর



আজ ১২ ঘণ্টা ইন্টারনেটে ধীরগতি থাকতে পারে

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ৮৮জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:আজ শনিবার (১৩ জুলাই) রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আংশিক বন্ধ থাকবে সাবমেরিন কেবল (সিমিউই-৪)। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যস্থাপনায় ধীরগতি হতে পারে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লিমিটেড পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবমেরিন ক্যাবল (সিমিইউ-৪) সিস্টেমের সিঙ্গাপুর প্রান্তে কনসোর্টিয়াম কর্তৃক গৃহীত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করার জন্য ১৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা এ ক্যাবলের মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিটগুলো আংশিক বন্ধ থাকবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হতে পারে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিএসসিপিএলসি। তবে কুয়াকাটায় স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন (সিমিউই-৫) ক্যাবলের মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিটগুলো যথারীতি চালু থাকবে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিপিএলসি) সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ নামের দুটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল কনসোর্টিয়ামের (কোম্পানি) সদস্য। যেটি বাংলাদেশে সাবমেরিন কেবলসের অধিক ক্ষমতা ও পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করে। বর্তমানে সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ কেবল দুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক ভয়েস ট্র্যাফিক চলছে। সিমিউই-৪ এর জন্য বিএসসিসিএল এর কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে কক্সবাজারে। আর সিমিউই-৫ এর জন্য বিএসসিসিএল এর ল্যান্ডিং স্টেশন চালু হয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাতে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



ভয়াল বন্যার পুনরাবৃত্তির ভয়, ছাত‌কে মানুষের চোখে ঘুম নেই

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ১৬২জন দেখেছেন

Image

র‌নি,ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি:সুনামগঞ্জ জেলার দুই উপ‌জেলার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।বৃষ্টিপাত ছাড়াই নদ নদী সুরমা,চেলা ব‌টের নদী‌তে  ভোর  থেকে বৃদ্ধি পেতে থাকে পাহাড়ি ঢলের পানি। সুরমা নদীর পানি  ছাতক দোয়ারাবজার ম‌ল্লিকপুর প‌য়েন্ট সুরমা নদীর বন‌্যা পা‌নির স্রো‌তে পাকা সড়ক ভে‌ঙ্গে  বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার বা ২.২৩ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপ‌জেলার সদ‌রের স‌ঙ্গে সড়ক যোগা‌যোগ বি‌চ্ছিন্ন র‌য়ে‌ছে।অবিরাম বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এবার বানভাসী‌দের মানুষের ঈদের আনন্দ মাটি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গেল বারের মতো ভয়াল বন্যার আশঙ্কা।

গত সোমবার (১৭ জুন) ঈদের দিন ভোরেই সুরমা নদীর পানি উপচে ছাতক শহরে প্রবেশ করে। বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার মধ্যেই মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করতে পারলেও অনেকেই যথাসময়ে পশু কোরবানি করতে পারেননি। বৃষ্টি থামার পর দুপুর থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করে।

মঙ্গলবারও (১৮ জুন) সারাদিন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়। তবে এতে সাময়িক সময়ের জন্য মানুষের মনে স্বস্তি ফিরলেও তা স্থায়ী হয়নি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাদের জন্য কোনো সুসংবাদ বয়ে আনতে পারছে না। পূর্বাভাসে বলা আগামী কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কার কথা শুনে ২০২২ সালের ভয়াল বন্যার পুনরাবৃত্তির আতঙ্ক নিয়ে নির্ঘুম রাত পার করেছেন ছাতক দোয়ারাবাজা‌রে মানুষ।

আবহাওয়া পূর্বাভাসের বিভিন্ন মডেল বলছে,গত বুধবার (১৯ জুন) ভোরেই আবারও শুরু হচ্ছে ভারী বৃষ্টিপাত। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায়ও বৃষ্টিপাত হ‌চ্ছে বেশী। এতে ছাতক দোয়ারাবাজার বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২২ সালের ১৭ জুন ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল ছাতক দোয়ারাবাজার ও সুনামগঞ্জ  বেশিরভাগ এলাকা। গভীর রাতে চোখের পলকেই তলিয়ে যায় পুরো গ্রাম শহর হাট বাজার।

একতলা বাড়ির বাসিন্দারা সাঁতরে বেরিয়ে উঁচু ঘরবাড়িতে আশ্রয় নেন। যারা নিচু ঘরে ছিলেন, তারা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে বানের পানি, বিষাক্ত পোকা মাকড় ও সাপের কামড়ের ভয় নিয়ে বিভীষিকাময় সময় পার করেছেন। ভেসে চলে যায় বহু গবাদিপশু। এখনো সেই দুঃস্মৃতি তাড়া করে ছাতক দোয়ারাবাজা‌রে মানুষকে, বৃষ্টি হলেই বড় বন্যার ভয়ে তারা শিউরে ওঠেন।

উপ‌জেলার উত্তর খুরমা ইউপির আলমপুর,দাহার গিলাছড়া মোহনপুর,তেরাপুর মৈশাপুর ত‌কিরাই নোয়াগা্ও গ্রা‌মে প্রতি‌টি ঘরে  ঘ‌রে পা‌নি উঠে‌ছে। এসব গ্রামে হাস মুরুগ বন‌্যার পা‌নি‌তে ভে‌সে গে‌ছে।

এসব গ্রা‌মে খোজ খবর কেউ নি‌চ্ছেন না ব‌লে গ্রামবাসী অ‌ভি‌যোগ ক‌রে‌ছেন। গোবিন্দগঞ্জ সৈ‌দেরগাও ইউপির গো‌বিন্দনগর গ্রা‌মের রজব আলী, আইয়ুব আলী র‌ফিক আলীর বসত তিন‌দিন ধ‌রে  ঘ‌রে পা‌নি উঠে‌ছে। ঘ‌রে শুকা‌নো খাবার নেই। এখ‌নো কোন জনপ্রতি‌নি‌ধি তা‌দের দেখ‌তে আসে‌নি। রা‌তে তা‌দের প‌রিবা‌রের কেউ ঘুমানি ।

ছাতকে পৌর শহরের কাঁচাবাজারে হাঁটুর উপরে পানি। পশ্চিমবাজার, মধ্যবাজারে বন্যার পানি উঠছে। বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শহরে ঢুকছে পানি। হুট করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে শহরবাসী। নদীর পাড়ের বাসিন্দারা ঘরে থাকার মতো অবস্থা না থাকায় ঘরবাড়ি চে‌ড়ে আশ্রয় কে‌ন্দ্রে উঠ‌তে শুরু করেছেন।

অনেকে ৬৭‌টি  আশ্রয় কে‌ন্দ্রে হাজার প‌রিবার

উঠেছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপ‌জেলা সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্বাঞ্চলের মানুষের বসত ঘরে পানি উঠে  গেছে। ছাতকে সুরমা নদী পা‌নি  বিপদসীমার ১৫৫ সে.মি বা ৫.০৯ ফুট উপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।  এতে বন্যার আশংকা করছে প্রশাসনও।

অপরদিকে পাহাড়ি ঢল নেমে আগে থেকেই প্লাবিত ছিল ছাতক,দোয়ারাবাজার  ৪ শতা‌ধিক গ্রাম, ৩ শতা‌ধিক শিক্ষা প্রতিষ্টান,২০‌টি হাটবাজার। প্রায় সব কয়টি উপজেলাতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হ‌লে ও তবে বেশী এফেক্টেড হয়েছে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলাবাসীরা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, ছাতকে বিপদসীমার ১৫৫ সে.মি বা ৫.০৯ ফুট উপর দিয়ে সুরমার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক দোয়ারাবাজারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে, সেজন্য পানি বিপদসীমার উপরে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জের ছাতকে ৯৫ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ছাতক উপ‌জেলা নিবাহী কমকতা গোলাম মোস্তফা মুন্না যুগান্তরকে জানান, আশ্রয়কেন্দ্র গু‌লো‌তে শুকনো খাবার, ওষুধপত্র বা স্যালাইন পৌঁছানো ব্যবস্থা করা হয়েছে। রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হবে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি, তাদের নৌকা বা বিভিন্ন পরিবহন দিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও ১৩‌টি ইউপি চেয়ারম‌্যান ও পৌর সভার মেয়র স‌ঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়াই  বন্যায় যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়ানো না হয়, সেজন্য মহাজন ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি। তাদের অনুরোধ করে বলেছি, দুঃসময়ে-দুর্যোগে মানবকল্যাণই বড়। তারা যেন নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, গত কয়েকদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে সুনামগঞ্জের কিছু পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে ছাতক,দোয়ারাবাজার সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় আমরা ৫১৬টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি। যাদের প্রয়োজন তারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রিতদের সার্বিক সহযোগিতা করা হ‌বে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, ছাতক, দোয়ারাবাজার,সদর বেশী এফেক্টেড।

এছাড়া জেলা প্রশাসক ও ইউএনও স্থানীয়দের উদ্দেশে সরকা‌রি ফেসবুক পোস্টে তারা বলেছেন, সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানি আরও বাড়তে পারে। আতঙ্কিত হবেন না, সতর্ক হোন। নিরাপদ স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। এই দুর্যোগের সময়ে একে অন্যের পাশে দাঁড়ান। সবাই মিলেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।


আরও খবর



জয়পুরহাটে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের বীমাদাবীর ১২ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৫৪জন দেখেছেন

Image

এস এম শফিকুল ইসলাম,জয়পুরহাট প্রতিনিধি:পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের একক বীমা প্রকল্পের জয়পুরহাট অঞ্চলের মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্রাহকদের বীমাদাবীর ১১ লক্ষ ৯৭হাজার ৫২৭ টাকার চেক হস্তান্তর ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা  অনুষ্ঠিত  হয়েছে। 

সোমবার বিকেলে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের জয়পুরহাটে সার্ভিস সেল কার্যালয়ে এ  বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা  অনুষ্ঠিত হয়।

পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের একক বীমা প্রকল্পের জয়পুরহাট সার্ভিস সেলের ইনচার্জ মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের উর্দ্ধতন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ( ব্রাঞ্চ কন্ট্রোল)  সৈয়দ মোতাহার হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের একক বীমা প্রকল্পের প্রকল্প ইনচার্জ আফজাল হোসেন, পপুলার ডিপিএস প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক (উঃ), একুশে টেলিভিশন ও দৈনিক আজকালের খবরের জেলা প্রতিনিধি এস এম শফিকুল ইসলাম, হিসাব কর্মকর্তা রাজু সরদার, অবলিখন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সানজিদা খাতুন জুই, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার  মুক্তি ঘোষ, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার শাহানাজ তালুকদার, ইউনিট ম্যানেজার নার্গিস শাহানাজ, হিসাব কর্মকর্তা শ্রীফল, ফিনান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট রুনা লায়লা প্রমুখ। 

সমাবেশ  শেষে ১১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫২৭ টাকার বীমা দাবীর চেক গ্রাহকদের হাতে হস্তান্তর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের উর্দ্ধতন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ( ব্রাঞ্চ কন্ট্রোল)  সৈয়দ মোতাহার হোসেন।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



কুড়িগ্রামের রৌমারীর গর্ভপতি মা সাকোর উপর সন্তান প্রসব

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ১০৩জন দেখেছেন

Image

মাজহারুর ইসলাম,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:রৌমারীতে বাঁশের সাঁকোর উপর সন্তান প্রসব করেছে বিলকিস বেগম (২৬) নামে এক গর্ভবতি মা। ঘটনাটি ঘটেছে রৌমারী উপজেলাধীন মাঝিপাড়া’র পুর্ব পাশ্বে স্লুইজগেট নামক স্থানে। বিলকিছ বেগম সুতিরপার গ্রামের আহাম্মেদের মেয়ে। বিলকিচ বেগম যাদুরচর গ্রামের সাইজু দ্দিনের স্ত্রী। 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বিলকিছ বেগম প্রসব কালীন সুবিধার জন্য সুতির পাড়া গ্রামে পিতার বাড়িতে আসেন। গতকাল ৫ জুলাই শুক্রবার বিকাল থেকে প্রসব ব্যাথায় কাঁদছিলো। এমতাবস্থায় স্থানীয়রা প্রসবের জন্য চেষ্টা করে। ব্যর্থ হলে ৬ জুলাই শনিবার সকাল ১১ ঘটিকায় থেকে প্রসব বেদনা বেশী হলে বিলকিচ বেগমকে জরুরী ভিত্তিতে রৌমারী স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে ভর্তির উদ্দেশ্যে ভ্যানগাড়ি যোগে আনার পথে ভাঙ্গা বাঁশের সাঁেকার ঝাকিতে প্রচন্ড প্রসব বেদনা শুরু হয়। এমতাবস্থায় কূলকিনারা না পেয়ে গর্ভবতি মাকে বাঁশের সাঁকোর উপর শুয়ে দিয়ে গ্রামের দায়ীদের মাধ্যমে নরমাল ডেলিভারিতেই আল্লাহর রমহতে সন্তান প্রসব হয়। বর্তমানে মা মেয়ে উভয় ভালো আছে। 

এলাকা বাসির অভিযোগ ১৯৮৮ সালে মাঝিপাড়া সুতির পাড় নামক স্থানে স্লুইজ গেটটি বন্যার পানির চাপে ভেঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে নওদাপাড়া,চান্দার বামনেরচর,খাটিয়ামারী, সুতিরপাড়সহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। মাঝে স্লুইজ গেট নির্মান হলেও দির্ঘ প্রায় ১৫ বছর আগে স্লুইজ গেটটি ভেঙ্গে গেলেও টনক নড়েনি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের । বছরের পর বছর জন প্রতিনিধি ও প্রশাসন ঘাট ডাক হিসাবে ব্যবহার করে সাঁকোটির টোল আদায়ের উপর চালিয়ে যাচ্ছে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে শক্ত হাতে মোকাবিলা হবে: ডিএমপি

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ৪৩জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গ করা হলে তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।বলেছেন,ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান ।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর লালবাগে হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া মিছিল উপলক্ষ্যে ডিএমপির নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, চলমান কোটা আন্দোলনের বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। আদালত যে আদেশ দেবেন তার প্রতি শ্রদ্ধা থাকা এবং তা মেনে নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের একান্ত কর্তব্য। আদালতের নিয়ম মানতে আমরা বাধ্য। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে তৎপরতা কেউ চালালে সেটি যেই হোক সেটি শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিসিএসসহ সব ধরনের সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটার প্রচলন ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা। প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৫৬ জন নিয়োগ দেওয়া হতো কোটাধারী চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকে। এটাকে ‘বৈষম্য’ ধরে নিয়ে এর নিরসনে বিভিন্ন সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালে হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিন সংসদে ঘোষণা করেন, যেহেতু কেউ কোটা চায় না সুতরাং এখন থেকে আর কোনো কোটা থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিসিএসসহ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সব ধরনের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে আসছে। তবে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতোই কোটা পদ্ধতি চালু আছে।

সম্প্রতি, কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে প্রথম ও ২য় শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার আবারও প্রচলন চান। হাইকোর্ট ওই রিট ‘অ্যাবসলুট’ ঘোষণা করেন এবং ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করে জারি করা সরকারি পরিপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে গেছে এবং আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর ৪ সপ্তাহের জন্য ‘স্ট্যাটাস কো’ বা স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। আগামী ৭ আগস্ট এ বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর