Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:Thursday ১৯ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৫০জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সব থেকে পরিবেশবান্ধব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  


গ্যাস ফুরিয়ে গেলে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের বিদ্যুৎ দেবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।


বুধবার (১৮ মে) আওয়ামী লীগ আয়োজিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।  


বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সভায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে তিনি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।


সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশ পৃথিবীতে উন্নয়নের রোল মডেল।


এর ভেতরে আমাদের কিছু নতুন আঁতেল আবার জুটেছে। একজন অর্থনীতিবিদ বলেই দিলেন আমরা যে, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি এটা না কি অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ক্ষতিকর।


আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এটা হচ্ছে সব থেকে পরিবেশবান্ধব। গ্যাস তো চিরদিন থাকে না। এক একটা কূপের তার তো সময় নির্দিষ্ট থাকে। তেলভিত্তিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ আমরা করি, অনেক খরচেরও ব্যাপার। যদি কোন দিন এমন হয় যে, আমাদের গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টই বিদ্যুৎ দেবে। 


আর এটা পরিবেশবান্ধবও একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখানে বিনিয়োগটা বড় করে দেখা যায়। কিন্তু এর বিদ্যুৎ যখন উৎপাদন হবে আর এর বিদ্যুৎ যখন মানুষ ব্যবহার করবে আমাদের অর্থনীতিতে অনেক বেশি অবদান রাখবে। 


আজ আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি বলেই সারা বাংলাদেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি। আমরা যখন রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করলাম তখন কত সমালোচনা। আমরা যখন ডিজিটার বাংলাদেশ ঘোষণা দিলাম তখন কত সমালোচনা। এখন ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করেই আমাদের সমালোচনা করছে। তারা যে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন এটা কিন্তু আমরা দিচ্ছি। 


খালেদা জিয়ার আমলে, জিয়ার আমাল বা এরশাদের আমলে তাদের কি কথা বলার কোনো সুযোগ ছিল। অধিকার ছিল, কতটুকু অধিকার ভোগ করতেন তারা। টক শো তারা করেই যাচ্ছেন, টক টক কথা বলেই যাচ্ছেন। তাদের তো গলাটিপে ধরি না, মুখ চিপেও ধরি না। বলেই যাচ্ছেন, সব কথা বলার শেষে বলে কথা বলতে দেওয়া হয় না। 


বিএনপির এক নেতা তো সারা দিন মাইক মুখে লাগিয়ে আছেন। সারাক্ষণ বলেই যাচ্ছেন। একবার কথা বলতে বলতে গলায় অসুখও হলো। চিকিৎসা করে তিনি আবার কথা বলছেন। কথা তো কেউ বন্ধ করছে না। তাদের আন্দোলনে যদি জনগণ সাড়া না দেয় সে দোষটা কাদের?


প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যে, অর্থনীতিবিদ তিনি হিসাব দেখালেন তাকে আমি বলবো, তিনি কী এটা প্রকৃতপক্ষে জেনেই বলছেন, না কি না জেনেই বলছেন। আমি তার জ্ঞান নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলবো না কারণ তারা অনেক ভালো লেখাপড়া জানেন। 


কিন্তু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পেয়ে একটি মানুষের বা একটা জাতি যে কতটুকু উন্নতি হতে পারে সে তো আজকের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নটা বাইরের লোকে দেখে কিন্তু তারা দেখে না চোখে।


পদ্মাসেতুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটি হচ্ছে পদ্মাসেতু, এই পদ্মাসেতুর অর্থ বন্ধ করালো ড. ইউনুস। কেন, গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম গ্রামীণ ব্যাংকে উপদেষ্টা হতে। এমিরেটাস উপদ্ষ্টো হিসেবে থাকার জন্যে, আরও উচ্চ মানের। সেটায় সে থাকবে না, তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না। 


ড. ইউনুস কিন্তু আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। কিন্তু কোর্ট আর যাই পারুক তার বয়স তো কমিয়ে দিতে পারবেন না ১০ বছর। গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তখন তার বয়স ৭১ বছর। এই বয়সটা কমাবে কীভাবে, তিনি মামলায় যে হেরে যায়। কিন্তু প্রতিহিংসা নেয় ড. ইউনুস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাফুজ আনাম তারা আমেরিকায় চলে যায়, স্টেট ডিপার্টেটমেন্টে, হেলারির কাছে ই-মেইল পাঠায়। হিলারি লাস্ট একেবারে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার শেষ কর্মদিবসে পদ্মাসেতুর টাকা বন্ধ করে দেয়। 


যাক একদিকে সাপে বর হয়েছে। বাংলাদেশের নিজের অর্থায়নে পদ্মাসেতু করতে পারে সেটা আজকে আমরা প্রমাণ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের এখানে একজন জ্ঞানী লোক বলে ফেললেন পদ্মাসেতু দিয়ে যে রেললাইন হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, এ টাকা তো ঋণ নিয়ে করা হচ্ছে এই ঋণ শোধ হবে কী করে কারণ দক্ষিণবঙ্গের কোনো মানুষ তো রেলে চড়বে না। তারা তো লঞ্চে যাতায়াত করে। তারা রেলে চড়তে যাবে কেন, এই রেল ভায়াবল হবে না। সেতুর কাজ হয়ে গেছে এখন সেতু নিয়ে আর কথা বলে পারছে না। রেলে কাজ চলছে, রেলের কাজ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। আমার মনে হয় আমাদের সবার উনাকে চিনে রাখা উচিত। রেলগাড়ি যখন চালু হবে উনাকে রেলে নিয়ে চড়ানো উচিত।


পদ্মাসেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আর খালেদা জিয়া বলেছিলেন জোড়াতালি দিয়ে পদ্মাসেতু করা হচ্ছে। কারণ স্প্যান‌গুলো যে বসাচ্ছে ওটা ছিল তার কাছে জোড়াতালি দেওয়া। বলেছিলেন জোড়াতালি দিয়ে পদ্মাসেতু বানাচ্ছে ওখানে চড়া যাবে না, চড়লে ভেঙে পড়বে। তার সঙ্গে তার কিছু দোসসরাও। তাদেরকে কী করা উচিত, পদ্মাসেতুতে নিয়ে যেয়ে ওখান থেকে টুস করে ফেলে দেওয়া উচিত। আর যিনি একটা এমডি পদের জন্য পদ্মাসেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করে দেয় তাকেও পদ্মানদীতে নিয়ে দুটা চুবনি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত। মরে যাতে না যায়, একটু চুবনি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত, তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়। 



বড় অর্থনীতিবিদ জ্ঞানীগুণী তারা এই ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা বলে কিভাবে, সেটাই আমার প্রশ্ন। মেগা প্রজেক্টগুলো করে না কী খুব ভুল করছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই উৎক্ষেপণ করেছি, এতো টাকা দিয়ে স্যাটেলাইট করে কি হবে এ প্রশ্নও কিন্তু তুলেছে তারা। অর্থাৎ বাংলাাদেশের জন্য ভালো কিছু করলেই তাদের গায়ে লাগে। কেন তারা কী এখনও সেই পাকিস্তানি জান্তাদের পদলেহনকারি খোসামোদি-তোসামোদি দল। 


গালিটালি দেই না, দেওয়ার রুচিও নাই তবু একটু না বলে পারি না পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী যেভাবে মেয়েদের ওপর নির্যাতন করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে, পেড়ামাটি নীতি নিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল সেই পাকিস্তানিদের পদলেহনকারি সারমেয়র দল এখনও বাংলাদেশে জীবিত। এখনও এরা বাংণাদেশে ভালো কিছু হলে এরা ভালো দেখে না। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ভালো লাগে না। 


তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবো ভ্যাকসিনটা বিনা পয়সা দিয়েছি আমি, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি। সে ভ্যাকসিন তো এরা নিয়েছেন, এটা তো বাদ দেয়নি। আমরা বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দিয়েছি। বুস্টার ডোজও আমরা শুরু করেছি। তারা তো নিশ্চয় দুটো ডোজ নিয়েছে, বুস্টার ডোজও নিয়েছেন।


 বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন নিতে পারলো আর আমাদের উন্নয়নটা চোখে পড়ে না। এখন কি ভ্যাকসিন চোখেও দিতে হবে না কি সেটাই মনে হচ্ছে, তাহলে যদি দেখে, তাছাড়া দেখবে না। ম্যাগা প্রজেক্ট জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে।


 আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশের এই উন্নতি হচ্ছে। এর আগে, যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কি একটা দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবে যে তারা বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করে বা দেশের কোনো উন্নয়ন করেছে বা বিদেশে ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করেছে, করতে পারে নাই। বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের জাতি বানিয়েছিলেন, আজকে আমরা মর্যাদাশীল জাতি। আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের প্রায় ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা অর্জন করেছি।


বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেশি কথা বলে যাচ্ছে বিএনপি, এদের নেতৃত্ব কোথায়, নেতৃত্ব নাই। সব তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এই সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিয়ে নির্বাচনে জেতা যায় না। আর নির্বাচনে পরাজয় হবে জেনে তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, কলুষিত করতে চায়। যারা একটু আমাদের জ্ঞানী-গুণী আঁতেলরাও উল্টোপাল্টা কথা বলেন তাদেরকেও বলবো দেশ চালাবার যদি ইচ্ছা থাকে তো মাঠে আসেন, ভোটে নামেন, কেউ ভোট কেড়ে নেবে না। আমরা বলতে পারি, আমরা ভোট কেড়ে নিতে যাই না। আমরা জনগণের ভোট পাই এবং আমরা পাবো কারণ আমরা জনগণের জন্য কাজ করেছি। সেজন্যই জনগণ আমাদের ভোট দেবে।


সবশেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক দিন পর মন খুলে কথা বললাম। এ সময় তিনি বলেন, আসলে এই করোনা ভাইরাস বন্দি করে রেখে দিয়েছে আমাকে। ২০০৭ সালে ছিলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে বন্দি। এখন আমি নিজের হাতে নিজেই বন্দি।


আরও খবর



এ বাজেট গরিবের: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ২৫ June ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন থেকে বেরিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ বাজেটে নিশ্চয়তা আছে। সামজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এ খাতে আগের চেয়েও সাত হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সবদিক বিবেচনা করে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তদের বিষয়কে নজর দেওয়া হয়েছে। কাজেই এটা গরিবের বাজেট, ব্যবসাবান্ধব বাজেট ও গণমুখী বাজেট। করোনাপরবর্তী সময়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট।’

করোনাভাইরাসের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়।

অনুদান বাদে এ বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। আর অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



মোহাইমিনুলের পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার গল্প

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

মোহাইমিনুল ময় ৪০তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে (সুপারিশপ্রাপ্ত) প্রথম হয়েছেন। এটি তার প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। সম্প্রতি তার বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ক্যারিয়ার ভাবনা জানিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম—

জাগো নিউজ: প্রথমেই আপনার পড়াশোনা সম্পর্কে জানতে চাই—
মোহাইমিনুল ময়: আমার পড়াশোনা শুরু গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায়। এখানে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা করি। তারপর পারিবারিক কারণে ঢাকায় চলে আসি। আমি ২০১০ সালে শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১২ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করি। তারপর ২০১২-২০১৩ সেশনে বুয়েটে ভর্তি হই এবং পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করি।

জাগো নিউজ: আপনার শৈশবের দিনগুলো কেমন ছিল?
মোহাইমিনুল ময়: আমার শৈশব কেটেছে মফস্বল শহর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায়। প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটতো। তেমন চাকচিক্যময় জীবন ছিল না। মস্বফলে অন্যদের মতো সাধারণভাবে জীবন কেটেছে। তবে ছোটবেলায় বই পড়ার একটা ঝোঁক ছিল। তিন গোয়েন্দার বই অনেক বেশি পড়তাম। সেটার অনেক প্রভাব আছে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও। বই জোগার করা অনেক কঠিন ছিল। বই কালেকশনের জন্য অনেক মেমোরি রয়েছে।

জাগো নিউজ: প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম হওয়ার অনুভূতি কেমন?
মোহাইমিনুল ময়: এটি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কারণ প্রথম হবো এটি একদমই আশা করিনি। তবে রিটেন ও ভাইবা দেওয়ার পর আশা ছিল ভালো রেজাল্ট আসবে। প্রথম যে হবো তখন এটি চিন্তাই করিনি। মনে মনে ভেবেছি, হয়তো ভালো কিছুই হবে। প্রথম হওয়ার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ, যা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।

জাগো নিউজ: আপনার পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল?
মোহাইমিনুল ময়: সত্য বলতে পড়াশোনার জন্য তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়নি। কারণ আমার বাবা একজন ব্যাংকার ছিলেন। তিনি বর্তমানে অবসরে। পড়াশোনার জন্য সব সময় আমাকে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার থেকে উৎসাহ দেওয়া হতো। তাই বলা যায়, পড়ালেখার জন্য আমাকে কোনো প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়নি।

জাগো নিউজ: বিসিএস নিয়ে স্বপ্ন দেখলেন কবে থেকে?
মোহাইমিনুল ময়: ছাত্রাবস্থায় বা গ্র্যাজুয়েশনের আগে বিসিএস নিয়ে তেমন চিন্তা করিনি। তখন বিসিএস দেবো এরকম ইচ্ছে জাগতো না। গ্র্যাজুয়েশনের পর ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু থাকি। জানি, বর্তমানে অন্যান্য চাকরির চেয়ে বিসিএস সবচেয়ে ভালো। এখানে কাজের পরিবেশ উন্নত এবং সুযোগ-সুবিধাও বেশি। তখন থেকেই বিসিএস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ভাবি, অন্য যাই করি না কেন, বিসিএসকে মেইন ফোকাসে রেখে এগিয়ে যাবো। পাশাপাশি চেষ্টা করি, যাতে প্রথম বিসিএসেই একটা ভালো রেজাল্ট চলে আসে।

জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই, প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন?
মোহাইমিনুল ময়: বিসিএসের সিলেবাসে বিভিন্ন বিষয়ের টপিক থাকায় প্রথমে কাজটি একটু কঠিন মনে হয়েছে। কোন অংশ পড়ব, কোন অংশ বাদ দেবো তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। এরপর বিসিএসের সিলেবাস বাদ দিয়ে প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করতে শুরু করি। তখন বুঝতে পারি, কোন টপিকে কম এবং কোন টপিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিতে হবে। পাশাপাশি কোন বিষয়ে কতটুকু বেসিক জানতে হবে। বেসিক জানার জন্য বাজারের বইয়ের তুলনায় বোর্ড বইগুলো বেশি ফলো করি। এমসিকিউর জন্য বাজারের বই থেকে প্রচুর অনুশীলন করেছি। প্রিলিতে এমসিকিউ কনফিডেন্টলি দাগানোর চেষ্টা করতাম। রিটেনের ক্ষেত্রে অনেক ভালো পড়েও লেখা যায়। আবার না পড়েও লেখা যাবে। রিটেনের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকে। কিন্তু এই অল্প জানা থেকে ভালো নম্বর তোলা যায় না। রিটেনের প্রিপারেশনের জন্য বাজারের বই বাদে ইন্টারনেটের সহযোগিতা নিয়েছি। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য বিভিন্ন প্রবন্ধ ও কলাম ফলো করেছি। লিখিতে প্রত্যেকটা টপিক একটু আলাদাভাবে খাতায় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভাইবার ক্ষেত্রে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয় না। এখানে পরীক্ষার্থীর গোছানো লুক ও কথা বলার স্টাইল ফলো করা হয়। ভাইবায় আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী থাকার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি ক্যাডার চয়েস, পঠিত বিষয়, নিজ জেলা, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়গুলো আগে থেকেই জেনে গেছি। স্যারদের প্রশ্নের উত্তর ভিন্নভাবে গুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

jagonews24

জাগো নিউজ: বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে কেন এলেন?
মোহাইমিনুল ময়: এত এত ক্যাডারের মাঝে পররাষ্ট্র ক্যাডারকে প্রথম দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ, আমার যে পারসোনালিটি রয়েছে, সেটি পররাষ্ট্র ক্যাডারের কাজের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। নিজ দেশের সংস্কৃতিকে এবং নিজের দেশকে অন্য দেশে উপস্থাপনের যে সুযোগ পররাষ্ট্র ক্যাডার দেয়; সেটি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আকর্ষণ করে। এ জন্য পররাষ্ট্র ক্যাডারকে নিজের প্রথম ক্যাডার হিসেবে বেছে নিই।

জাগো নিউজ: নতুনরা বিসিএস প্রস্তুতি কীভাবে শুরু করবেন?
মোহাইমিনুল ময়: প্রথমেই প্রিলির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিসিএসের সিলেবাস সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। পাশাপাশি টপিক অনুযায়ী পড়াশোনা এগিয়ে নিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় কম সময় দেওয়াই শ্রেয়। যে কোনো টপিকের বেসিক সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। বেসিক জানা থাকলে যে কোনোভাবে প্রশ্ন আসলে দেওয়া যায়। বেসিকের জানার জন্য বোর্ড বই, ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজা ও নিয়মিত পত্রিকা পড়া উচিত। এমনভাবে পড়তে হবে, যাতে যে কোনো টপিক পড়ার পর অন্যদের সে সম্পর্কে পড়াতে পাড়েন। পাশাপাশি নিয়মিত এমসিকিউ অনুশীলন করতে হবে। বাজারের বই কিনে সময় ধরে প্র্যাক্টিস চালিয়ে যেতে হবে। এতে প্রশ্ন সম্পর্কে ও টাইম মেনেজমেন্ট নিয়ে ভালো ধারণা হয়।

জাগো নিউজ: বিসিএস লিখিতের জন্য কোন বিষয়গুলো ফোকাস করা উচিত?
মোহাইমিনুল ময়: বিসিএস লিখিতের সাথে প্রিলির যথেষ্ট মিল রয়েছে। লিখিতের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে সবাই পরিচিত থাকে। কিন্তু খাতায় লেখার ক্ষেত্রে কোয়ালিটিফুল লেখা জরুরি। লিখিতের টপিক দেখে অনেকেই কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকায় সহজ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এখানে এসএসসি বা এইচএসসির মতো লিখলে ভালো মার্ক পাওয়া যাবে না। লেখার প্রেজেন্টেশন, খাতার স্কিল ও টাইম ম্যানেজমেন্ট মাথায় রাখতে হবে। লেখায় ডাটা বা তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। লেখার প্রেজেন্টেশন অন্যদের থেকে একটু আলাদা লেখার চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিকের জন্য নিজের মতো করে ভালো লিখতে হবে। পত্রিকার প্রবন্ধ ও কলাম পড়ে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাথের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে।

জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রায় সোশ্যাল মিডিয়া কি কোনোভাবে কাজে এসেছে?
মোহাইমিনুল ময়: আমার বিসিএস জার্নিতে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় একটি ভূমিকা রয়েছে। কারণ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া কোনো কিছু চিন্তা করা যায় না। তবে সোশ্যাল মিডিয়া সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। ফেসবুকে অসংখ্য বিসিএস রিলেটেড গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপে প্রতিনিয়ত পরীক্ষার আপডেট, নোট, বিভিন্ন তথ্য ও দিকনির্দেশনামূলক বিভিন্ন লেখা পড়া হতো। গ্রুপগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতাম। এ ছাড়াও আউট নলেজ অর্জনের ক্ষেত্রে ফেসবুক একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ভালো ভালো মানুষের ফলো করে তাদের থেকে বিভিন্ন উপদেশমূলক ও দরকারি তথ্য নিয়ে নিজের জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। বিসিএস প্রস্তুতির সময় আমি চাকরিতে ছিলাম। তখন বই সাথে নিয়ে নিয়ে পড়াটা একটুু কঠিন ছিল। তাই ফেসবুকে বিসিএস রিলেটেড গ্রুপগুলোয় ঢুকে বিভিন্ন বিষয় পড়ার চেষ্টা করতাম। সোশ্যাল মিডিয়া আবার পড়াশোনায় বড় একটি ভূমিকা পালন করেছে। তবে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলবো, সোশ্যাল মিডিয়া প্রকৃতভাবে ব্যবহার করার জন্য। এর নেগেটিভ দিক বাদ দিয়ে পজিটিভ দিকে সময় দেওয়া উচিত।

জাগো নিউজ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মোহাইমিনুল ময়: বিসিএস দেওয়ার আগে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খেত। কী করবো, না করবো দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু একটি অবস্থানে আসতে পেরেছি; সেহেতু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলাদাভাবে কিছু নেই। বাংলাদেশ সরকার থেকে যেই কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমি চেষ্টা করবো দেশের মানুষের জন্য সততার সাথে সেই কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য। একজন পররাষ্ট্র ক্যাডার হিসেবে নিজের দেশকে যেভাবে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতে নিজের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যায়, সেই চেষ্টা থাকবে। সততা ও নিষ্ঠার সাথে সবার দোয়া নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।


আরও খবর



রাইসুল এইচ চৌধুরীর তিনটি কবিতা

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৭৫জন দেখেছেন
Image

১.
এমন একটা সময় ছিল

এমন একটা সময় ছিল, আমার শরীর স্পর্শ করে তুমি বলে দিতে পারতে;
আমার বুকের নদীতে কী রকম কষ্টেরা খেলা করছে
বুকের বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রাটা কতটুকু কমেছে,
আমার শরীরের পাঁজরে হতাশার ঘুণ পোকাটা,
কত মাত্রায় আমাকে নিরন্তর দংশন করে যাচ্ছে,
শরীরের ভাঁজে ভাঁজে হাহাকারের সাইরেনটা কতটা প্রকট;
আমাকে স্পর্শ করে অনায়াসে তুমি তা বুঝতে পারতে।

এমন একটা সময় ছিলে, তুমি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে দিতে পারতে;
আমি দিনের পর দিন, মাসের পর মাস
বছরের পর বছর দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে
গাঁয়ের মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বুড়ো বটগাছটার মতো কতটা ক্লান্ত, কতোটা পরিশ্রান্ত;
নায়ের হাটের বৃদ্ধ কামারের লোহা গরম করার মতো;
আমার হৃৎপিণ্ডটা কতটা উষ্ণ, কতটা লাল টকটকে হয়ে গেছে;
তোমার অবহেলায়, তোমার অনাদরে,
জলজ প্রাণীর মতো জলহীন থাকতে-থাকতে;
আমার আঁখিপল্লব কতটা বিরান হয়েছে,
তোমার মখমলে চঞ্চুর আঘাতে-আঘাতে
ক্ষত-বিক্ষত বায়ুকুঠুরি,
আমার স্থাবর-অস্থাবর, আমার সকল চাওয়া-পাওয়া দিনে দিনে কতটা বেড়েছে-
মুদির দোকানের বাকির খাতায় জমা পড়া
হিসেবের মতো।

এমন একটা সময় ছিল, আমার হেঁটে যাওয়া দেখলেই তুমি বুঝতে পারতে;
আমার পায়ের আঙুলের ভাঁজে লুকোনো কষ্টগুলো জমতে-জমতে
আমার শিড়দাঁড়া বেয়ে কী করে পৌঁছে গেছে মাথার খুলিতে;
তারপর মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে ক্ষত-বিক্ষত করে;
আমার হৃদয়ের বাম অলিন্দ থেকে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ করে দিয়ে,
আমাকে কী করে রক্তশূন্য করেছে!

এমন একটা সময় ছিল, আমার শরীরের ঘ্রাণ শুঁকে দিয়ে
তুমি নির্দ্ধিধায় বলে দিতে পারতে এ তাবৎ সংসারের সকল লেনাদেনা।

২.
বোস কেবিন

নীলিমা, বহুদিন পর আজ বোস কেবিনে
চায়ের আড্ডায় মাতোয়ারা বিকেলে
মনে পড়ে গেল তোমার চোখের মাঝে বোনা সব স্বপ্নগাথা
পরোটার ঝাঁজে কথা হতো চোখের ইশারায় লুকোচুরি
প্রেম-প্রেম খেলেছি দু’জনে কী যে অবলীলায়!
কথার ছলে ছলে তোমাকে বার বার ছুঁয়ে দেওয়া,
এ ছিল আড্ডার ছলে যেন তোমাকে নিবিড় কাছে পাওয়া।

নীলিমা, চায়ের কাপে ঝড় তোলা সেই বোস কেবিনে,
ইট-পাথরের দালান আর তোমার স্পর্শমাখা চেয়ারে
আজও যেন আমি খুঁজে পাই তোমার সেই মিষ্টি হাতের ছোঁয়া
হাতে-হাত রেখে রাত-দিন আড্ডায় কত স্বপ্নের জাল বোনা!
হোস্টেল থেকে পালিয়ে তুমি ছুটে আসতে বোস কেবিনে
আমি পা বাড়াতাম ঊর্ধ্বশ্বাসে তোমাকে দু’দণ্ড কাছে পেতে।

নীলিমা, বোস কেবিনের চায়ের কাপে কত মানুষ আজও ঝড় তোলে,
কত মানুষ স্বপ্ন দেখে আজও তার প্রিয়জনকে নিয়ে
কত আন্দোলন দানা বেঁধেছে এই বোস কেবিনের টেবিলে,
সোহরাওয়ার্দী, সুভাষচন্দ্র বসু, বঙ্গবন্ধু আর ভাসানী
কত নামকরা বিখ্যাত মানুষের এখানে পড়েছে পদধূলি।

নীলিমা, আজও কি তোমার মনে পড়ে আমায় কোনো এক রোদেলা দুপুরে;
বোস কেবিনের দেওয়ালে দেওয়ালে সাজানো স্মৃতির ভিড়ে,
সবকিছু আছে আগেরই মতো তুমি শুধু হলে পরবাসী
কংক্রিটের এই নিয়ন শহরে নীলিমা, তোমায় আজও খুঁজে ফিরি।

৩.
জানে অন্তর্যামী

মেঘবালিকা, কতটা ভালোবাসি তোকে
আমার হাত জানে,
হাতের আঙুল জানে,
আঙুলের নখ জানে,
জানে আপাদমস্তক।
চোখের দৃষ্টি,
চোখের পাতা
চোখের পাপড়ি
চোখের কাজল জানে
কতটা ভালোবাসি তোকে।

মেঘবালিকা, এ বুকের হৃৎপিণ্ড জানে
হৃৎস্পন্দন জানে
জানে বায়ুকুঠরি
আমার অলিন্দ-নিলয় জানে
জানে শিরা-উপশিরা
ধমনী-মহাধমনী জানে
কতটা ভালোবাসি তোকে।

মেঘবালিকা, আমার লোহিত রক্তকণিকা
রক্তের হিমোগ্লোবিন জানে
জানে অনুচক্রিকা, শ্বেত রক্তকণিকা
আমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস জানে
কতটা ভালোবাসি তোকে।

মেঘবালিকা, আমার বুকের প্রতিটি পাঁজর জানে
জানে মস্তিষ্ক, আমার পা জানে
জানে পায়ের আঙুল
আঙুলের নখ
কতটা পথ আমি পাড়ি দিয়েছি
শুধু তোকে ভালোবাসি বলে।


আরও খবর



বাজেটে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের গুরুত্ব

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

আসন্ন বাজেটে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়ক উপকরণ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এসব শিশুর জন্য অভিন্ন শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ঘোষণা করেন।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুসহ ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সমাজের সব শিশুকে মূলধারার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া নিশ্চিতকল্পে একীভূত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছি। মাঠপর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিবন্ধিতা সহায়ক উপকরণ (হুইল চেয়ার, ক্র্যাচ, শ্রবণযন্ত্র, চশমা ইত্যাদি) ক্রয় ও বিতরণের জন্য আমরা প্রতিটি উপজেলা/থানায় চাহিদার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ প্রদান অব্যাহত রেখেছি।

করোনাভাইরাসের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়।

অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশিত:Thursday ০২ June 2০২2 | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মাঠে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল খালিক (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর ২টায় উপজেলার পানিউমদা ইউপির দীঘিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল খালিক পানিউমদা ইউনিয়নের পানিউমদা (তেতৈয়াপাড়া) গ্রামের মৃত আজমান উল্লাহর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে তেতৈয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালিক গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে পার্শ্ববর্তী দীঘিরপাড় এলাকায় গরু চরাতে যান। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা মরদেহ বাড়িতে আনে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহিউদ্দিন বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পেয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।


আরও খবর