Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

সরকারি পাঠ্যপুস্তক সময় মত শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে মহানগরী পাঠ্যপুস্তক বাধাই শ্রমিক ইউনিয়ন

প্রকাশিত:Wednesday ১৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১২৮জন দেখেছেন
Image

বজলুর রহমানঃ

নতুন বছরের শুরুতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে সরকারি পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দিতে অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।


বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে বদ্ধপরিকর  মহানগরী পুস্তক বাধাই শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা। 


সরেজমিনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়ায় বিভিন্ন পুস্তক বাধাই কারখানাগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। পাঠ্য পুস্তক বাঁধাইয়ের কাজ আসার আগেই চলছে জোড় প্রস্ততি।


বছরের প্রথম দিনেই, শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে আশাবাদী, মহানগরী পাঠ্যপুস্তক বাধাই শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু লাল রাউত।


রাজু লাল রাউত সংবাদকর্মীদের জানায় নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক পেতে শিক্ষার্থীদের যাতে বিলম্ব না হয় সেই বিষয়টি খেয়াল রেখেই বাঁধাইয়ের কাজের প্রস্ততি চলছে। মাতুয়াইল দক্ষিণ পাড়ার বেশকিছু কারখানায় আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে  পুস্তক বাধাই শ্রমিকেরা।


মহানগরী পাঠ্যপুস্তক বাধাই শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩৫০৯ বাংলাদেশ শ্রম পরিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু লাল রাউত একজন পরিশ্রমী কর্মবীর মানুষ। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগেরও একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতিকে মনে প্রানে লালন করেন তিনি।


সময় মত সরকারি পাঠ্যপুস্তক বিতরণে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন রাজু লাল রাউত।


শ্রমিকদের কাজের গতি চাঙ্গা রাখতে প্রতিটি কারখানায় ঘুরে ঘুরে কাজের প্রতি উৎসাহিত করছেন তিনি।


বর্তমানে যেভাবে পাঠ্যপুস্তক বাধাই কার্যক্রমের প্রস্তুতি চলেছে সেভাবে কাজ বাস্তবায়ন হলে সময় মত শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই নতুন বই হাতে পাবেন এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।


আরও খবর



স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি: মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৯জন দেখেছেন
Image

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০২১ সালে শুধু ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন নয়, আমরা অনুকরণীয় হতে পেরেছি। এখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সফলতার গল্প বলে শেষ করা যাবে না। সক্ষমতা অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আমরা যা অর্জন করেছি তার থেকে কয়েক লাখ গুণ সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেছেন, আমাদের রোবট ব্যবস্থাপনা করতে হবে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করতে হবে, হার্ডওয়্যার ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এজন্য নিজেদের নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে হবে। শুধু সফটওয়্যার রপ্তানিই আমাদের বাজার নয়, সব ধরনের ডিজিটাল পণ্য ও কার্যক্রমই আমাদের বাজার। একদিন আমরা রোবটও রপ্তানি করবো। আমাদের সবগুলো তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়ক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

সোমবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ: আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির ভূমিকা এবং বেসিস শর্টকোড’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন— জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. রুবানা হক প্রমুখ। প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন বেসিস ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু দাউদ খান।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, এখন আমাদের সন্তানদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আমরা তৈরি করতে পারি এমন বিদেশি সফটওয়্যার যেনো আগামীতে আর দেশে না আসে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দেশে আমাদের ছেলে-মেয়েদের তৈরি সফটওয়্যার দেখতে চাই। সফটওয়্যারের সঙ্গে আইটি অ্যানাবল সার্ভিস থেকেও আমরা রপ্তানি আয় বাড়াতে চাই।

স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি: মোস্তাফা জব্বার

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, স্বপ্নকে সক্ষমতার চেয়ে বড় করতে হবে। এটাই সফলতার মূল। এ জন্য প্রায়োরিটি ফোকাস করতে হবে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষির পরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে প্রযুক্তিকে। স্মার্ট হতে হলে স্মার্ট অপারেবিলিটি, ডেটা এবং আইডেন্টিফিকেশন প্ল্যাটফর্মকে জোড়া দিয়ে একটি টেকসই আর্কিটেকচার নকশা করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না প্রযুক্তি আমাদের ভবিষ্যৎ।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে আমাদের শ্রম নির্ভর অর্থনীতি আজ শিল্প, সেবা ও প্রযুক্তি নির্ভরতায় রূপান্তরিত হয়েছে। সরকার আজকে নিজেই ক্রেতা হয়ে ৯৯৯, ৩৩৩, ১৬২৬৩, ১০৯, ১০৬ কলসেন্টারসহ ২০টি মন্ত্রণালয়ের কলসেন্টার করেছে।

পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ‘বেসিস কনট্যাক্ট সেন্টার’ উদ্বোধন করেন। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনটির সদস্যরা যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ও দ্রুত বেসিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন ও সদস্যসেবা উন্নত ও কার্যকরী হয়। সেই লক্ষ্যে বেসিস কনট্যাক্ট সেন্টারের জন্য বিটিআরসি অনুমোদিত শর্টকোড (১৬৪৮৮) চালু করা হয়।


আরও খবর



‘মধ্যবিত্তরা আর আদর্শবাদী থাকছে না’

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

অধ্যাপক এম এম আকাশ। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। অধ্যাপনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। চেয়ারম্যান, ব্যুরো অব ইকোনমিকস রিসার্চ। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।

প্রান্তিক কৃষি ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাজনীতির প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। বাংলাদেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করছে উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বৈষম্যই এখন রাষ্ট্র, সমাজের বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যবিত্তের আয় না বাড়লে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে না।

দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সায়েম সাবু।

জাগো নিউজ: কৃষকের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছেন, গবেষণা করছেন। সেচের পানি না পেয়ে দুজন আদিবাসী কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটলো সম্প্রতি। আত্মহত্যার এ ঘটনায় আপনার কাছে আলাদা পর্যবেক্ষণ আছে কি না?

এম এম আকাশ: অবশ্যই আলাদা করে বিশ্লেষণ করা যায়। প্রতিটি আত্মহত্যাই দুঃখজনক ও কষ্টের। কিন্তু এই আদিবাসীর আত্মত্যার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে। প্রথমত, প্রান্তিক তথা সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সদস্য। দ্বিতীয়ত, তারা কৃষক ও বরেন্দ্র অঞ্চলের সমতলে বাস করে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেখানে পানির অভাব থাকে এবং সেচ মৌসুমে পানি দিতে না পারলে ক্ষেতের পুরো ফসল নষ্ট হয়। ওই দুই কৃষকের সেচের পানির অভাব ছিল এবং পানি পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছিল। পানি না পাওয়ায় মনের দুঃখে তারা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে, এমনটিই খবর এসেছে। সব মিলিয়ে এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা নয় তো বটেই, উপরন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে দুঃখ পেয়ে দুজন মানুষের আত্মহত্যা।

জাগো নিউজ: এই দুঃখবোধের জায়গা থেকে কী বলা যায়?
এম এম আকাশ: দুঃখের কারণ তারা নিজেরা না। তারা বরং কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছে। তাদের দরকার ছিল পানি এবং পানি পাওয়া ছিল তাদের অধিকার। এই অধিকার থেকে তারা কেন বঞ্চিত হলো এটিই হচ্ছে মৌলিক প্রশ্ন। কারা বঞ্চিত করলো? বঞ্চিত করা অবশ্যম্ভাবী ছিল নাকি লাভ ও লোভের কারণে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি তদন্ত করে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা জরুরি বলে আমি মনে করি।

বরেন্দ্র অঞ্চলে লাভ ও লোভের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়ে আসছে আগে থেকেই। কারণ এ অঞ্চলে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। এই গভীর নলকূপের সরকারি মালিকও আছে, বেসরকারি মালিকও আছে। বিএডিসি, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠান।

প্রাইভেট মালিকরা বাজারের নীতি অনুসরণ করে কাজ করেন, সুতরাং তাদের কাছে মুনাফার বিষয়টিই অধিক গুরুত্ব পায়। তারা তো দানবাক্স খুলে বসবে না। তবে মুনাফার ব্যাপারে অবশ্যই নীতি আছে। সেক্ষেত্রে খোঁজ নিতে হবে কী দামে সে মুনাফা নির্ধারণ করেছিল, যে দাম তারা দিতে পারেনি।

সাধারণত, এসব ক্ষেত্রে মালিকের একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকে। ব্যাপারটি এমন কি না যে, আর কোনো মালিক বা বিকল্প ছিল না বিধায় মালিকের নির্ধারিত দাম দিতে বাধ্য নতুবা আত্মহত্যা! এত কষ্ট করে বোনা ফসল পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এটি তো সহ্য করার মতো নয়।

পানির দরকার পড়লে আগে কৃষককে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়। মূল্য পরেও আদায় করতে পারবে এবং সে ক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে। হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসার মতো। আগে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা, পরে মূল্য আদায় করা। এ নীতি বেসরকারি হাসপাতালেও আছে। এ কারণে আমি বলছি, এই সেচ কাজে কার কী ভূমিকা ছিল তা বের করা জরুরি।

জাগো নিউজ: আদিবাসীদের সংকট তীব্র হচ্ছে। বিলীনও হচ্ছে এই জনগোষ্ঠীর জীবনধারা। আত্মহত্যার ঘটনায় সে দিকটাই উঠে এসেছে।

এম এম আকাশ: আদিবাসী জনগোষ্ঠী হচ্ছে গরিবের মধ্যে আরও গরিব। মূলধারার জনগোষ্ঠীর মধ্যে গরিব থাকলেও তার হয়তো ধনী আত্মীয়-স্বজন আছে। প্রাইভেট-পাবলিক সেক্টরে তাদের এক ধরনের প্রভাব থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ থাকে। কিন্তু সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর এই মানুষদের কেউ গুরুত্ব দেয় না। তারা এরই মধ্যে প্রান্তিকীকরণ হয়ে এক্সক্লুসিভ হয়ে গেছে। তারা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ধারায় ইনক্লুসিভ নয়। এই আত্মহত্যা রাষ্ট্র বা সমাজকে বার্তা দিচ্ছে যে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ করে ভাবতে হবে। বিশেষ করে সেচ ব্যবস্থায় প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আলাদা করে বিধান তৈরি করতে হবে, যেখানে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা অনেকটাই সংঘবদ্ধ এবং তারা একটি শান্তিচুক্তি আদায় করে নিয়েছে। তবে তারাও এই সরকারের নানা কর্মকণ্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছে। তার মানে সংগঠিত একটি গোষ্ঠীই চুক্তি অনুসারে তাদের অধিকার আদায় করতে পারছে না। আর সমতলের অসংগঠিত সাঁওতালরা তাদের অধিকার কীভাবে আদায় করবে! আর তারা কীভাবে বেঁচে আছে তা বলাই বাহুল্য।

জাগো নিউজ: এ ঘটনাকে সামগ্রিক কৃষকের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করে কী বলা যায়?

এম এম আকাশ: সমাজে কৃষকই সবার আগে বঞ্চিত। তাদের অধিকার হরণ করেই অন্যরা প্রাচুর্য গড়ে তোলে। আমরা কৃষি কার্ডের কথা বলে আসছি বহু আগে থেকে। একজন বিত্তবান কৃষক যত সহজে রাষ্ট্র-সমাজ থেকে যেভাবে সুবিধা পায়, একজন গরিব বা প্রান্তিক কৃষক সে সুবিধা পায় না।
কৃষকের সংকট দূর করতে হলে তলানি থেকে ভাবতে হবে। একজন ধনী কৃষক দাম বেশি দিয়ে হলেও কৃষিসামগ্রী কিনতে পারেন। একজন গরিব কৃষক তা পারেন না।

জাগো নিউজ: অধিকার আদায়ের কথা বলছেন। আপনি কমিউনিস্ট পার্টি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কমিউনিস্ট পার্টির কৃষকদের নিয়ে সংগঠন ‘ক্ষেত মজুর সমিতি’ কাজ করছে। কৃষকের অধিকার আদায়ে কী দেখলেন?

এম এম আকাশ: আমি মনে করি, কৃষকের আত্মহত্যার মতো ঘটনা কোনো সমাধান নয়। কৃষকের মধ্যে চেতনা থাকতে হবে যে, আমি আত্মহত্যা করবো না। আমি আমার অধিকার আদায় করে নেবো। এজন্য চাহিদা তৈরি করতে হয়।

আমরা যারা কৃষকের অধিকার নিয়ে কাজ করছি, তাদের উচিত প্রান্তিক পর্যায়েও কৃষকদের নিয়ে সংগঠন করা, তাদের কাছাকাছি যাওয়া। এই দুটো না হলে সংকটের মীমাংসা হবে না। সরকারের তো মনিটরিং নেই। নলকূপ আছে কি না, পানির ঘাটতি কেমন, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে কি না- এসব নিয়ে তদারকি নেই। সরকার আইন লিখেই খালাস। বাস্তবায়ন নিয়ে মাথাব্যথা নেই।

জাগো নিউজ: কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা নিয়ে কী বলবেন?
এম এম আকাশ: এখানে দুদিক থেকে ব্যর্থতা আছে। কৃষকরা নিজেরাই সচেতন নয়। অন্যদিকে যারা কৃষকদের সচেতন করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে, তারা তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা বিস্তৃত করতে পারেনি।

সাধারণত, মধ্যবিত্ত আদর্শবাদী কর্মীরাই কৃষক সংগঠন করেন। মধ্যবিত্তরা আর আদর্শবাদী থাকছে না। ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ নীতিতে মধ্যবিত্তরাও। ষাটের দশকে একজন তাজুল ইসলামকে আমরা দেখেছিলাম, যিনি এমএ পাস করেও চাকরি না করে আদমজী পাটকলে গিয়ে শ্রমিকদের সংগঠিত করার আন্দোলন করেছেন। এখন একজন তাজুল ইসলামকেও পাবেন না।

আদর্শবাদীদের আমি দোষ দিচ্ছি না। তারা হয়তো ভাবছে, এক সময় সমাজতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি। সমাজতন্ত্র তো ব্যর্থ হয়েছে। আবার আদর্শবাদী হয়ে জীবন নষ্ট করবো? এই হতাশা থেকেই মানুষ আদর্শ থেকে সরে আছে। হতাশা দূর করতে হবে।

জাগো নিউজ: রাষ্ট্র, সমাজ যে জায়গায় চলে যাচ্ছে, সেখান থেকে হতাশা কাটানো আর সম্ভব?

এম এম আকাশ: রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত বাণী ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারাইও না। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো হলো পাপ’। সুতরাং, মধ্যবিত্তরা এগিয়ে না এলে প্রান্তিক মানুষেরাই আদর্শের জন্য লড়াই করবে। ক্ষেতমজুররাই এগিয়ে আসবে। তলা থেকে শুরু করতে হবে।

জাগো নিউজ: পরিবর্তনের কথা বললেন। এখন সেই পরিবর্তন (আদর্শচ্যুত) ত্বরান্বিত কি না?

এম এম আকাশ: সব জায়গায় এক রকম নয়। যেমন- গাইবান্ধায় আমাদের পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০ হাজারের ওপরে ভোট পান। হয়তো বিজয়ী হতে পারছেন না। কিন্তু আদর্শের জন্য ২০ হাজার মানুষ তাকে সমর্থন করছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তো কেউ কেউ লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাগো নিউজ: সাধারণ প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই আন্দোলন-লড়াই তীব্র হওয়ার কথা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত-নিম্ন-মধ্যবিত্তের পক্ষ থেকে।

এম এম আকাশ: এক সময় দরিদ্র মানুষদের নিয়ে কমিটমেন্ট করে বামপন্থিরা সংগঠনকে বিস্তৃত করেছিল। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের দিকে আমরা এক ধরনের জোয়ার দেখেছিলাম। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের পর পূর্ব ইউরোপিয়ান দেশগুলো একদিকে চলে গেলো। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলো। এর মধ্যেও কিউবা ভেনিজুয়েলা, ভিয়েতনাম একরকম থেকে গেলো।

চীন আবার মিশ্র পদ্ধতি অবলম্বন করলো। চীন শ্রমজীবীদের অধিকার রক্ষা করছে। চায়নায় জমি জাতীয়করণ করা হয়েছে। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোতে জমি জাতীয়করণ করা হয়নি। চায়না জমি বণ্টন করছে তৃণমূলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তৃণমূলে কমিউনিস্ট পার্টির, কৃষকদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে। তারা বসে ঠিক করছে যে, কোন পরিবারকে কত টাকা দেওয়া যাবে। পরিবারের লোক সংখ্যা বেশি হলে বেশি জমি পাচ্ছে, কম থাকলে কম পাচ্ছে। অথবা দরকষাকষি করে কৃষকরা জমি নিতে পারছে।

সমাজতন্ত্রের দুই ধরনের মডেল রয়েছে। এক, কেন্দ্রীভূত (আমলাতান্ত্রিক) মডেল, দুই, বিকেন্দ্রীভূত মডেল। বিকেন্দ্রীভূত মডেল এতই সফল হয়েছে যে, চীন এখন পৃথিবীতে শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও আর চীনের সঙ্গে পারছে না।

বাংলাদেশে বামপন্থিরা নতুন চিন্তা করে না। নতুন চিন্তা জরুরি। নবায়িত সমাজতান্ত্রিক ধারণা নিয়ে বামপন্থিদের অগ্রসর হতে হবে।

জাগো নিউজ: নবায়িত সমাজতন্ত্র বলতে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?

এম এম আকাশ: যে সমাজতন্ত্র আমলাতান্ত্রিক বা কেন্দ্রভূত নয়, যে সমাজতন্ত্র বাজার ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় না, যে সমাজতন্ত্র বাজারকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রেখে, আমি নবায়িত সমাজতন্ত্র তাকে বোঝাতে চাইছি।

জাগো নিউজ: মূলধারার সমাজতন্ত্র আপনার এই ধারণাকে গ্রহণ করে?

এম এম আকাশ: ধারণা থেকে আলোচনা হতেই পারে। প্র্যাকটিস তো হতে পারে অন্তত। যেমন- চায়নাকে অনেকেই সমাজতান্ত্রিক দেশ বলতে রাজি নয়। আমি মনে করি, চায়না সম্পর্কে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। চায়না থেকে পজিটিভ বিষয়গুলো নিতে হবে, নেগেটিভ বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে। চায়না আলীবাবা তৈরি করেছে। এখন আলীবাবা যদি চায়না দখল করে ফেলে, তাহলে কীসের সমাজতন্ত্র হলো? কিন্তু চায়না যদি আলীবাবার কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করে সব মানুষের কল্যাণে অসমতা কমাতে পারে, তাহলে সমস্যা কোথায়?


আরও খবর



চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংযত হতে বললেন ইলিয়াস কাঞ্চন

প্রকাশিত:Wednesday ১৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৪জন দেখেছেন
Image

জায়েদ খান ও ওমর সানির ঘটনায় কয়েকদিন ধরে উত্তাল চলচ্চিত্রপাড়া। গত তিনদিনের বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা কিন্তু চলমান এখনো। তবে এসব দ্বন্দ্ব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। একইসঙ্গে শিল্পীদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘তালাশ’ সিনেমার মুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি বলেন, ‌‘আপনারা হয়তো জানেন আমি কথা দিলে কথা রাখার চেষ্টা করি। এই পর্যন্ত আমি তাই করে আসছি। সম্প্রতি অনন্ত জলিলের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে একটা স্লোগান দিয়েছিলাম আজ থেকে আমার সবাই বলবো আমাদের সিনেমা। অনন্ত বানিয়েছে বলে সিনেমা শুধু তার একার নয়, কিংবা এই তালাশ শুধু যারা বানিয়েছে, কাজ করেছে তাদের একার নয়। প্রতিটি সিনেমাই আমাদের। মন থেকে যদি এই স্লোগান গ্রহণ করতে পারি তাহলে একটা শুভ কামনা অন্তত জানাবো সবাই।

আর যদি সময় থাকে সেই সিনেমার টিমকে সাহায্য সহযোগিতা করবো। আমাদের সবাইকে সিনেমা, সিনেমাহল, দর্শকের দায় দায়িত্ব নিতে হবে। আশা করছি তাহলে সিনেমার আবারও সোনালী যুগ ফিরে আসবে।’

অনুষ্ঠান শেষে মৌসুমীকে নিয়ে ওমর সানি ও জায়েদ খানের চলমান দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাইছি না। শুধু একটা কথাই বলবো, সমস্ত চলচ্চিত্র কর্মী ও শিল্পীদের কাছে আমার অনুরোধ, চলা-ফেরা, কথাবার্তা ও আচার-আচরণে আপনারা সংযত হন।’

এর আগে রোববার (১২ জুন) ওমর সানি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার দাবি, গত চার মাস ধরে জায়েদ খান তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে বিরক্ত করছেন। এই নিয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তবে এই অভিযোগের ব্যাপারে এখনো মুখ খুলেননি সমিতির সভাপতি বা কার্যকরী কমিটির কোনো নেতা।


আরও খবর



উজবেকিস্তান: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার দেশ

প্রকাশিত:Thursday ০২ June 2০২2 | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
Image

সাইফুর রহমান তুহিন

সমগ্র বিশ্বের অগণিত পর্যটকের মধ্যে অধিকাংশই মূলত দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে ভ্রমণে বের হন। একাংশ চান প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যকে আবিষ্কার করতে এবং তারা সাধারণত দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত কিংবা চোখজুড়ানো পাহাড়ি এলাকাকে বেছে নেন। অন্য অংশটি পছন্দ করেন কোনো ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করতে এবং ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ভালো করে জানতে। আপনি যদি দ্বিতীয় ভাগটির অন্তর্ভুক্ত কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য আদর্শ এক গন্তব্য হতে পারে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান। এটি একটি ভূমিবেষ্টিত রাষ্ট্র এবং দেশটির সাথে সীমান্ত আছে আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কিরঘিজিস্তানের। ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং নজরকাড়া সব মুসলিম স্থাপত্যকর্মের জন্য ব্যাপক পরিচিতি আছে উজবেকিস্তানের। তাসখন্দ, সমরখন্দ, বুখারা, খিভা প্রভৃতি স্থান মুসলিম সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চমৎকার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের কারণে উজবেকিস্তান তার প্রতিবেশী অন্যান্য মধ্য এশিয়ান দেশগুলোর তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ১৯৯১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর উজবেকিস্তানের পর্যটনশিল্প দ্রুত প্রসার লাভ করছে।

উজবেকিস্তানের প্রধান প্রধান গন্তব্য
তাসখন্দ: ঐতিহাসিক তাসখন্দ নগরী শুধু উজবেকিস্তানের রাজধানীই নয়, গোটা মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চতুর্থ বৃহত্তম নগরী ছিল তাসখন্দ। তাসখন্দের রাস্তায় রাস্তায় দেখতে পাবেন মাথায় তারব্যান্ড বাঁধা এবং সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা রাখালদের সাথে ভেড়ার পাল। দায়েউ নেক্সিয়াসের সামনে একটার পর একটা টিকো কার, মাটির নিচে মেট্রোরেলের নড়াচড়া—এসব দেখে আপনি ভালোভাবেই টের পাবেন যে, আপনি তাসখন্দ শহরে আছেন। যদিও অনেক সময় ঐতিহাসিক সিল্ক রোড সংলগ্ন শহর সমরখন্দ, বুখারা ও খিভার সন্ধানের ছায়ায় তাসখন্দ একটু ঢাকা পড়ে যায়। তারপরও আপনি ঘুরে দেখতে পারেন চোরসু বাজার, আমির তৈমুর স্কয়ার, খাস্ত-ইমাম এনসেম্বল, ফলিত শিল্প জাদুঘর, তাসখন্দ মেট্রোরেল, তাসখন্দ টাওয়ার (যা বিশ্বের দীর্ঘতম টেলিভিশন টাওয়ারগুলোর একটি), দৃষ্টিনন্দন কুকেলদশ মাদ্রাসা, স্বাধীনতা স্কোয়ার, উজবেক পার্লামেন্ট ভবন, উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রীয় জাদুঘর প্রভৃতি। আর শহরের বাইরে আছে নজরকাড়া চিমগান পর্বত, যা একটি চমৎকার পিকনিক স্পট।

উজবেকিস্তান: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার দেশ

রাতে থাকার জন্য ভালো হোটেলের কোনো অভাবই নেই তাসখন্দ নগরীতে। শহরটির তেমন কোনো নির্দিষ্ট প্রাণকেন্দ্র নেই। তাই বেশির ভাগ হোটেল গড়ে উঠেছে মূল শহর ও বিমানবন্দরের আশেপাশে। লা গ্র্যান্ড প্লাজা হোটেল, হোটেল উজবেকিস্তান, মিরান ইন্টরন্যাশনাল হোটেল, শডলিক প্যালেস হোটেল, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল তাসখন্দ, হোটেল সিটি প্যালেস, লোটে সিটি তাসখন্দ প্যালেস হোটেল, র্যাডিসন ব্লু তাসখন্দ হোটেল, গোল্ডেন ভ্যালি হোটেল প্রভৃতি হলো তাসখন্দ নগরীর সুপরিচিত হোটেলসমূহ। যে হোটেলেই থাকুন না কেন রেস্টুরেন্টে খাওয়ার সময় উজবেকদের জাতীয় খাবার পালভের (ইংরেজি নাম পিলাফ) স্বাদ পরখ করতে ভুলবেন না। ভেড়ার মাংস, চাল ও সবজি দিয়ে তৈরি মুখরোচক খাবারটি পাবেন তাসখন্দ কিংবা অন্যান্য শহরের যে কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে। এ ছাড়া সেখানকার তান্দির কাবাব, মান্টি ও শরবা নামের একজাতীয় স্যুপ খুবই জনপ্রিয়।

সমরখন্দ: সম্ভবত আধুনিক উজবেকিস্তানের সবচেয়ে বিখ্যাত শহর হলো সমরখন্দ। খ্রিষ্টপূর্ব আনুমানিক ২০০০ সালে এ নগরীর গোড়াপত্তন হয়। পুরোনো শহরটি আফরোসিয়াব নামে পরিচিত এবং গ্রিকরা একে বলে মারাকান্দা। খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৯ সালে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের শাসনামলে পার্সিয়ান প্রদেশ সোগদিয়ানার রাজধানী ছিল সমরখন্দ। পরে এটি চীন ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যকার সড়কের একটি বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে এটি আরবদের দ্বারা শাসিত হয় এবং মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে ওঠে। ১২২০ খ্রিষ্টাব্দে মঙ্গল শাসক চেঙ্গিস খান সমরখন্দকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেন। ১৩৬৯ সালে সম্রাট তৈমুর লং সমরখন্দকে তার রাজধানী বানালে আবার পুনর্গঠিত হয় সমরখন্দ। নিজের রাজধানী হিসেবে সমরখন্দকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেন তৈমুর লং। এখন সেখানে যেসব স্থাপত্যকর্ম দেখা যায়, সেগুলো তৈমুর লং ও তার বংশধরদের হাতে গড়া। ইমাম আল বুখারী স্মৃতিস্তম্ভ, সেন্ট ড্যানিয়েলস স্মৃতিস্তম্ভ, উলুগবেক অবজারভেটরি, শাহ-ই-জিন্দা কমপ্লেক্স, বিবি খানম মসজিদ, গুর আমির স্মৃতিস্তম্ভ ও রেগিস্তান স্কয়ার হলো সমরখন্দের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।

উজবেকিস্তান: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার দেশ

সমরখন্দে বেড়াতে গেলে থাকা-খাওয়া নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পতনের পর অনেক আধুনিক হোটেল গড়ে উঠেছে সেখানে। কামিলা হোটেল, গ্র্যান্ড সমরখন্দ হোটেল, ক্যারাভ্যান সেরাইল চোরাখা হোটেল, হোটেল রেগিস্তান প্লাজা, ওরিয়েন্ট স্টার হোটেল, এশিয়া সমরখন্দ হোটেল, মালিকা প্রাইম হোটেল, হোটেল আর্ক সমরখন্দ, জাহোঙ্গির হোটেল প্রভৃতি হলো সমরখন্দ নগরীর উল্লেখযোগ্য হোটেল।

বুখারা: মধ্য এশিয়ার প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি হলো বুখারা। এই শহরের অবিভক্ত ঐতিহাসিক ভবনগুলোর বেশিরভাগই মধ্যযুগীয় সময়ের শেষ পর্যায়ে নির্মিত। নানান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে আছে বুখারার বিভিন্ন জায়গাজুড়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিরামিক পটারি, ফায়ারপ্লেস, ছবি ও লেখাযুক্ত প্রাচীন মুদ্রা, প্রাচীন ধাতব সামগ্রী, অলংকার, হস্তশিল্পের সরঞ্জাম প্রভৃতি। একটি দীর্ঘ সময় ধরে বুখারা পার্সিয়ান শাসনের অধীনস্থ ছিল। প্রাচীনকালে আরিয়ানরা এখানে বসতি গড়েছিল এবং বুখারার স্থানীয় বাসিন্দারা এদেরই উত্তর পুরুষ। ইরানের সোগদিয়ানরাও এখানে বসবাস করেছিল এবং এর কয়েক শতাব্দী পর এখানে পার্সিয়ান ভাষার বেশ প্রাধান্য ছিল। বুখারায় বেড়াতে গেলে যেখানে অবশ্যই যাবেন, তা হলো হিস্টোরিক সেন্টার অব বুখারা। ইতিহাস ও সভ্যতার অনেক নিদর্শনই আছে সেখানে।

সোভিয়েত আমলে বুখারায় ব্যক্তিমালিকানাধীন আধুনিক আবাসিক হোটেল একপ্রকার অকল্পনীয়ই ছিল এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হোটেলগুলোর পরিবেশ ছিল খুবই বাজে। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। কমিল বুখারা বুটিক হোটেল, বুখারা প্যালেস হোটেল, ওল্ড সিটি হোটেল, হোটেল গ্র্যান্ড বুখারা, ওমর খৈয়াম হোটেল, এশিয়া বুখারা হোটেল, মিনজিফা বুটিক হোটেল, কামেরলট হোটেল প্রভৃতি সদা প্রস্তুত আপনাকে উষ্ণ আতিথেয়তা দিতে।

উজবেকিস্তান: ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সভ্যতার দেশ

খিভা: আরব সাগরের দক্ষিণে অবস্থান খিভা শহরের। খিভা বিখ্যাত তার সব প্রাচীন ভবনগুলোর জন্য, যার অনেকগুলোই জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত। উজবেকিস্তানের প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি হলো খিভা। এখানকার বেশিরভাগ ঐতিহাসিক ভবনগুলো উনবিংশ শতাব্দীতে স্থাপিত এবং স্থাপত্যের বৈচিত্র্যের কারণে খিভা আপনাকে একটি স্পষ্ট ধারণা দেবে যে, মধ্য এশিয়ার অন্যান্য শহরগুলো আগে দেখতে কেমন ছিল। এখানে থাকার জন্য আছে ওরিয়েন্ট স্টার খিভা হোটেল, আজিয়া খিভা হোটেল, হোটেল মালিকা খিভা, হোটেল আরকাঞ্চি, হোটেল মালিকা খিয়েভাক, ইসলামবেক হোটেল, মেরোস হোটেল প্রভৃতি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী: পর্যটকবান্ধব একটি দেশ হিসেবে উজবেকিস্তানের ভিসা জোগাড় করা খুব কঠিন নয়। গুগলে সার্চ দিয়ে আপনি সহজেই ভিসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন। বাংলাদেশে উজবেকিস্তান কনস্যুলেটের ঠিকানা হলো- ওয়াইল সেন্টার, ৩য় তলা, বাড়ি নং-৭৪, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা। হযরত শাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ নগরীর কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই। তবে কানেকটিং ফ্লাইট সহজেই পাওয়া যাবে। টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজ, থাই এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, সৌদি এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া প্রভৃতি ঢাকা ও তাসখন্দের মধ্যে কানেকটিং ফ্লাইট পরিচালনা করে।

উজবেকিস্তানের জলবায়ু একটু উষ্ণমণ্ডলীয়। গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শুষ্ক। এপ্রিল থেকে জুন এবং আগস্টের দ্বিতীয় ভাগ থেকে নভেম্বর হলো উজবেকিস্তান ভ্রমণের সেরা সময়। দেশটির অফিসিয়াল ভাষা উজবেক, তবে রুশ ভাষার প্রচলনও ভালোভাবেই আছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে ইংরেজি ভাষা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রা হলো সুম। এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য হলো আনুমানিক ১০,৯৬০ উজবেক সুম। দেশটির বিভিন্ন স্থানে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন আছে বলে ভ্রমণের সময় একজন ইংরেজি জানা স্থানীয় গাইড সাথে রাখা এবং কমপক্ষে দিন দশেক সেখানে অবস্থান করা উচিত। জাতি হিসেবে উজবেকরা খুবই অতিথিপরায়ণ ও পর্যটকবান্ধব, যা আপনাকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও ভ্রমণ লেখক।


আরও খবর



এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে টেন্ডারবাজি করেননি মোহতেশাম: হাইকোর্ট

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২২ June 20২২ | ৪২জন দেখেছেন
Image

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর টেন্ডারবাজি করেননি। তার কারণে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয়, টাকা পাচারের মূলহোতাও মোহতেশাম হোসেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এসব কথা বলেন। এসময় আদালত প্রশ্ন রাখেন এ ধরনের আসামিদের জামিন কেন দেওয়া হবে?

মোহতেশাম হোসেনের জামিনের বিষয়ে রুলের শুনানি হয় আজ। শুনানিতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আসামি মোহতেশাম স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফের ভাই।

শুনানিতে আসামি ও আইনজীবীকে উদ্দেশ করে হাইকোর্ট বলেন, আপনি একজন মন্ত্রীর (এলজিআরডির সাবেক মন্ত্রী) ভাই। আপনার একটা লিডারশিপ রয়েছে। এলজিইডি থেকে শুরু করে এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে আপনি টেন্ডারবাজি করেননি।

এসময় মোহতেশাম হোসেন বাবরকে ফরিদপুরে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মূলহোতা বলেও উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেন, সংঘটিত অপরাধের মাস্টারমাইন্ড ও রিং লিডার মোহতেশাম। তিনি অন্যান্য আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। ছিলেন তাদের পরামর্শদাতা। তার কারণে সরকার ও দেশের মানুষের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এ ধরনের আসামিদের জামিন দেবো কেন? এরপর আদালত তার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন।

এসময় আদালতে মোহতেশামের আইনজীবী বলেন, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তার চাঁদাবাজি করার কোনো দরকার নেই। তার শ্বশুর মন্ত্রী ছিলেন। পারিবারিকভাবে তারাও ধনী।

তখন আদালত বলেন, যার আছে সেই তো করে। বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট।

আদালত আরও বলেন, এজাহার ও অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পারছি, আপনি (আসামি) একজন মন্ত্রীর ভাই। আপনার লিডারশিপ রয়েছে। এলজিইডি থেকে শুরু করে এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে টেন্ডারবাজি করেননি।

তখন মোহতেশামের আইনজীবী বলেন, মন্ত্রীর ভাই ঠিক আছে। কিন্তু তিনি অপপ্রচারের শিকার। মিডিয়া দিয়ে বিচার করলে হবে না।

এসময় আদালত বলেন, আপনি (মোহতেশাম) অপরাধী কিনা সেটা বিচারে প্রমাণিত হবে। কিন্তু নথিতে প্রাথমিক অপরাধের উপাদান রয়েছে।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, অর্থ পাচার তো একটা অর্গানাইজড ক্রাইম। এই অপরাধের পেছনে প্রধান হোতা হচ্ছেন মোহতেশাম। তার নেতৃত্বে এ সিন্ডিকেট চলেছে। তখন আদালত মামলার নথি দেখে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, উনি তো মুল নেতৃত্বে।

শুনানি শেষে আদালত আদেশ দিতে চাইলে বাবরের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান নট প্রেস রিজেক্ট (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করার আবেদন জানান। পরে আদালত তার আবেদনটি ডিসচার্জ ফর নন প্রসিকিউশন করে আদেশ দেন।

এর আগে মোহতেশাম বাবরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে গত ২৪ মার্চ আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক নজরুল ইসলাম।

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরে এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল। এছাড়া মাদক ব্যবসা ও ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন তারা। ২৩টি বাস, ট্রাকসহ বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হয়েছেন ওই দুই ভাই। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন তারা। রাজবাড়ীতে ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর এক আইনজীবী খুন হন। সেই হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বরকত ও রুবেল।


আরও খবর