Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যস্ত শ্রীলংকা সরকারের নতুন নয় মন্ত্রীর শপথ গ্রহণ

শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভায় নতুন নয় জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন

প্রকাশিত:Friday ২০ May ২০22 | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৩৯জন দেখেছেন
Image

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

শ্রীলঙ্কার নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় নিয়োগ পেয়েছেন  ৯ জন। 


শুক্রবার (২০ মে) নতুন মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে।


এদিকে, শপথ নিয়েই ২১তম সংশোধনী নিয়ে কথা বলেছেন বিচার, কারা বিষয়ক ও সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ক নতুন মন্ত্রী ডা. বিজয়দাসা রাজাপক্ষে। 


আগামী সোমবার (২৩ মে) দেশটির মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত খসড়া উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


লঙ্কান সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর ও নিউজ ফার্স্ট’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনগুলোয় বলা হয়, শুক্রবার নতুন ৯ মন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।



বিজয়দাসা রাজাপক্ষসহ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা হলেন- বন্দর, নৌ ও বিমানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নিমাল সিরিপালা ডি সিলভা, শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন সুশীল প্রেমজয়ন্ত।


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন কেহেলিয়া রামবুকওয়েলা, হারিন ফার্নান্দো পর্যটন ও ভূমিমন্ত্রী, রমেশ পাথিরানা প্ল্যান্টেশন শিল্পমন্ত্রী, মানুশা নানায়াক্কারা শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, নালিন ফার্নান্দো বাণিজ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রী এবং তিরান আলেস জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।


নিউজ ফার্স্ট জানিয়েছে, ২১তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে মন্ত্রিসভায়। শপথ পড়েই বিষয়টি আলোচনায় তুলে আনেন বিচার, কারা বিষয়ক ও সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ক নতুন মন্ত্রী বিজয়দাসা রাজাপক্ষে।


তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করাই আমার প্রথম দায়িত্ব। যে কারণে সংবিধানের ২১তম সংশোধনী আনতে হবে। 


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মন্ত্রিত্ব নিতে চাননি বিজয়দাসা। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী জোরালো অনুরোধের কারণে তিনি বিকল্প খুঁজে পাননি। তবে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার শর্তে তিনি পদটি গ্রহণ করেন।



আরও খবর



রূপগঞ্জের গঙ্গানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে থৈ থৈ পানি ॥ পাঠদান ব্যাহত ॥ উপস্থিতি কম

প্রকাশিত:Sunday ১৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩৮৬জন দেখেছেন
Image

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ মোঃ আবু কাওছার মিঠু 


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে থৈ থৈ পানি। সামান্য বৃষ্টিতে মাঠে হাঁটু পানি জমে থাকে। তাতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। 


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় মাঠে পানি থৈ থৈ করছে। শিক্ষার্থীরা প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাওয়া আসা করছে। কারো কারো কাপড় ভিজে গেছে। বিদ্যালয়ের তিন দিকে বহুতল ভবন। পশ্চিম দিকে রূপসী-মুড়াপাড়া-কাঞ্চন সড়ক। তাতে পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা নেই। নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সারা বছরই মাঠে পানি জমে থাকে। মাঝে মধ্যেই মাঠে হাঁস সাঁতার কাটে। 


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা সুলতানা বলেন, ১৯৭৩ সালে গঙ্গানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। বর্তমানে এখানে ২৭৪ জন শিক্ষার্থী লেখাপাড়া করছে। পাঠদানের জন্য রয়েছে ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। ফলাফলও ভালো।  জলাবদ্ধতা দূর করতে  মাঠে মাটি ভরাট করা হলেও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।


তাতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সমাবেশ কিংবা অ্যাসেম্বলি হয় না । খেলাধুলাসহ স্বাভাবিক হাঁটা চলা করতে পারে না তারা। স্কুলের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের বন্দি হয়ে থাকতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও অ্যাসেম্বলী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভবন অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের দেয়াল ও ছাদ থেকে পলেস্তেরা খসে পড়ছে। দুর্ঘটনার ভয়েও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি দিনদিন কমে যাচ্ছে। 


বিদ্যালয়ের ২৩ শতাংশ জমির অধিকাংশই এখন বেদখল হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের নামে নামজারি করা ১২ শতাংশ জমিই এখন দখলে রয়েছে। এ বিদ্যালয়টি স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনী ভোট কেন্দ্র। সেই হিসেবে আগামী নির্বাচনের আগেই নতুন ভবন নির্মাণ করার প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী মনে করছে। রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করতে না পারায় দীর্ঘ দিনেও গঙ্গানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। অগ্রিম অর্থ নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের তালিকা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 


রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদা আখতার তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি পুরাতন এবং জরাজীর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই নতুন ভবন নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অগ্রাধীকার ভিত্তিতে গঙ্গানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হবে। 


আরও খবর



ভোলার নিম্নাঞ্চলের ১০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিত:Friday ১৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
Image

মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভোলার মনপুরা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের।

প্লাবিত গ্রামগুলো হলো হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনারচর, চরযতিন, দাসেরহাট ও চরজ্ঞান; মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড়, কূলাগাজী তালুক, কাউয়ারটেক; নতুন ইউনিয়ন কলতালী ইউনিয়নের চরকলাতলী ও চরখালেক এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাস্টারহাটের বিচ্ছিন্ন চরনিজাম।

jagonews24

মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড়, কূলাগাজী তালুক ও কাউয়ারটেক গ্রামের পানিবন্দি মাকছুদ, কামাল, রহিমা, ঝুমুর, হাবিব বলেন, ‘শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল ও দুপুরের জোয়ারের পানিতে আমাদের উঠান ডুবে বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে। দুপুরের দিকে আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বসতঘরে হাঁটুসমান পানি হয়েছে। রান্নাঘরের চুলা ডুবে যাওয়ায় দুপুরে রান্না হয়নি। তখন থেকে আমরা কিছুই খেতে পারিনি।’

তারা আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) থেকে আমরা জোয়ারের পানিতে কষ্ট পাচ্ছি। বৃহস্পতিবার কম হলেও শুক্রবার জোয়ারের পানির পরিমাণ বেশি। জোয়ারের পানি প্রবেশ করলে আমরা ৩-৪ ঘণ্টা পানিবন্দি থাকি। এ অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।’

পুকুরের মালিক মো. ইউনুস ও নুরন্নবী জানান, জোয়ারের পানি প্রবেশ করে তাদের পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে। এতে তাদের প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

jagonews24

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান মাহমুদ বলেন, গত দুদিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর অতি জোয়ারের কারণে মনপুরা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। তবে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মনপুরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চরফ্যাশন ইউএনও মো. আল নোমান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


আরও খবর



বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন

প্রকাশিত:Saturday ২৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশের সবগুলো জেলাই শুধুমাত্র পদ্মা সেতু উদ্বোধনী আমেজে মজেনি, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও জমকালোভাবে এই অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করেছে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস।

শুক্রবার (২৪ জুন) রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার। এটি আমাদের গৌরব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের পাশাপাশি দৃঢ় সংকল্প ও মনোবলের কারণে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এর আগে ডেপুটি চিফ অব মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার স্বাগত দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনাইদ আহমেদ বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ দেশের জন্য বিশাল গৌরবের ব্যাপার। গত কয়েক বছরে দেশের যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু এই খাতকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন করা হয়। এজন্য কনস্যুলেটে বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রবাসীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বীর মুক্তযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে কনস্যুলেটে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ভিয়েতনামের বাংলাদেশ দূতাবাসেও পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিয়েতনামে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো। অন্যদিকে, এই সেতুর ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। প্রতি বছর ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।

এদিকে, লেবাননের বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করেছে। শনিবার দূতাবাসের হলরুমে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আল মুস্তাহিদুর রহমান, প্রথম সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ দূতাবাসের সব কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা টেলিভিশনে পদ্মা সেতুর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করেন।

jagonews24

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং পদ্মা সেতুর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের সবার অহংকার। এটি আমাদের গৌরব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ঐতিহাসিক পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালী সম্পৃক্ত হতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।

jagonews24

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য আজ একটি গর্বের দিন, একটি ঐতিহাসিক দিন। পদ্মা সেতু আমাদের দেশের জন্য একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল, যেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করে শেষও করেছেন। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে প্রধানমন্ত্রী কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু দেশের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত করেছেন। এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আশার প্রতীক ও তাদের জীবনমান অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশিরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদসহ সেতুর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এর অ্যাপ্রোচ সড়ক ১২ দশমিক ১১৭ কিলোমিটার।


আরও খবর



আমিরাতে লটারিতে ৪৮ কোটি টাকা জিতলেন বাংলাদেশি যুবক

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৭৬জন দেখেছেন
Image

সংযুক্ত আরব আমিরাতে লটারিতে দুই কোটি দিরহাম জিতেছেন বাংলাদেশের এক যুবক। বাংলাদেশি মু্দ্রায় এই অর্থপুরস্কারের মূল্য প্রায় ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। শুক্রবার (৩ জুন) দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, আরিফ খান নামে ওই যুবক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। চার বছর ধরে তিনি আমিরাতের শারজাহ শহরে ব্যবসা করছেন। সেখানে একটি গাড়ির ওয়ার্কশপ চালান আরিফ।

বাংলাদেশি এ যুবক জানান, গত ২৭ মে বিগ টিকিট আবুধাবির ‘মাইটি ২০ মিলিয়ন’ র্যাফেল ড্রয়ের একটি টিকিটি কেনেন তিনি। আরিফ বলেন, আমি আগে কোনোদিন টিকিট কিনিনি। এক বছর আগে থেকে কেনা শুরু করেছি। সবসময় একা একাই টিকিট কিনতাম। আমি আমার ভাগ্য পরীক্ষা করছিলাম।

এসময় আমিরাতের দুই কোটি দিরহামে বাংলাদেশি মুদ্রায় কত টাকা হয় জানতে চাইলে গুনে বের করার চেষ্টা করেন আরিফ, কিন্তু অংক মেলাতে না পেরে একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দেন।

তিনি বলেন, আমি জানি না। সত্যি বলতে, আমি যে দুই কোটি দিরহাম জিতেছি, তা এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। মাত্র আধা ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি সময় আমি এই সংখ্যাটা শুনতে শুরু করেছি: ‘দুই কোটি দিরহাম’।

বিশাল এই অর্থপুরস্কার দিয়ে ভবিষ্যতে কী করবেন, তা এখনো ঠিক করেননি আরিফ খান। তবে এই অর্থ দিয়ে অভাবীদের সাহায্য করার ইচ্ছা রয়েছে তার।

আরিফ বলেন, আমার দুই সন্তান, স্ত্রী ও বাবা-মা রয়েছে। আমার ভাইও এখানে একটি দোকান চালায়। আমরা সুখি পরিবার। আমি আশা করি, এই অর্থ অন্যদের সাহায্যে কাজে আসবে।

তার কথায়, টাকা পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জিনিস। তাই আমি চাই না, এটি আমাকে বদলে দিক। এই অর্থ আমি অন্যদের সাহায্যে কাজে লাগাতে চাই।


আরও খবর



হজ-ওমরা একসঙ্গে করবেন যারা

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

তিনভাবে হজ করা যায়। কেউ হজ মৌসুমে এক ইহরামে শুধু হজ করে। আবার কেউ আলাদা ইহরামে ওমরা-হজ করে। আবার কেউ এক ইহরামে একসঙ্গে হজ-ওমরা করে। এক ইহরামে একসঙ্গে যারা ওমরা-হজ করেন; তারা হলেন কিরান হজ আদায়কারী। কিরান হজ আদায়কারীর জন্য ১৪টি কাজ করতেই হবে। কষ্টকর এ হজ পালনে সতর্ক থাকতে হয়। কিরান হজ পালনকারীদের করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো-

. হজ ওমরার ইহরাম বাঁধা (ফরজ)

কিরান হজ পালনের জন্য হজ ও ওমরার ইহরাম একসঙ্গে বাঁধা ফরজ। হজ ও ওমরা উভয়টি আদায় করা ছাড়া ইহরাম থেকে বের হওয়া বা হালাল হওয়া যাবে না।

কিরান হজের নিয়ত

اَللَّهُمَّ لَبَّيْكَ حَجًّا وَ عُمْرَةً فَيَسِّرْهُ لِى وَ تَقَبَّلْهُ مِنِّى

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা হাজ্জান ওয়া ওমরাতান। ফাইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিননি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি ওমরা ও হজ পালনের ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং তা কবুল করুন।’ অতঃপর উচ্চস্বরে ৪ ভাগে তালবিয়া পড়া। (১ বার তালবিয়া পড়া শর্ত)

لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ : ‘লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক, লা শারিকা লাক।’

তালবিয়ার পর এ দোয়াটিও পড়া-

اَللَّهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ رِضَاكَ وَ الْجَنَّةَ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنْ غَضَبِكَ وَ النَّارِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা রিদাকা ওয়াল জান্নাতা ওয়া আউ’জুবিকা মিন গাদাবিকা ওয়ান্নারি’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশা করছি এবং আপনার অসুন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।’

মসজিদে হারামে প্রবেশের দোয়া

ওমরা উদ্দেশ্যে মসজিদে হারামে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে এ দোয়া পড়া-

بِسْمِ اللهِ وَ الصّلَاةُ وَ السَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ  أعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْم وَ بِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَ سُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ  اَللهُمَّ افْتَحْ لِىْ اَبْوَابَ رَحَمَتِكَ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ। আউজুবিল্লাহিল আজিম ওয়া বি-ওয়াজহিহিল কারিম ওয়া সুলতানিহিল কাদিমি মিনাশশায়ত্বানির রাজিম। আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।

কাবা ঘর দেখে এ দোয়া পড়া-

اَللَّهُمَّ أَنْتَ السّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَامُ حَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ اَللَّهُمَّ زِدْ هَذَا الْبَيْتَ تَشْرِيْفاً وَ تَعْظِيْماً وَ تَكْرِيْماً وَ مَهَاَبَةً وَ زِدْ مَنْ شَرّفَهُ وَ كَرّمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ وَاعْتَمَرَهُ  تَشْرِيْفاً وَ تَعْظِيْماً وَ بِرُّا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু হাইয়্যিনা রাব্বানা বিস্‌সালাম। আল্লাহুম্মা যিদ হাজাল বাইতা তাশরিফান ওয়া তা’জিমান ওয়া তাকরিমান ওয়া মুহাবাতান; ওয়া জিদ মান শার্‌রাফাহু ওয়া কার্‌রামাহু মিম্মান হাজ্জাহু ওয়া’তামারাহু তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া তা’জিমান ওয়া বির্‌রা।

. ওমরার তাওয়াফ (ওয়াজিব)

কিরান হজ আদায়কারী আগে ওমরা করলে তাওয়াফ করা ওয়াজিব। এ তাওয়াফে ইজতিবা ও রমল করা আবশ্যক। কাবা শরিফ তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন, ইসতেলাম (স্পর্শ) বা হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোনায় দাঁড়িয়ে কাবার দিকে ফিরে দুই হাত দিয়ে ইশারা করে পুরুষরা ইজতিবা ও রমলসহ আর নারীরা সাধারণভাবে তাওয়াফ শুরু করবে আর এ দোয়া পড়া-

بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر - اَللَّهُمَّ اِيْمَنًا بِكَ و بصديقًا بِكِتَابِكَ وَرَفَعًا بِعَهْدِكَ وَ اِتِّبَعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার; আল্লাহুম্মা ইমানান বিকা ওয়া তাসদিকান বিকিতাবিকা ওয়া রাফাআন বিআহদিকা ওয়া ইত্তিবাআন লিসুন্নাতি নাবিয়্যিকা।’

তাওয়াফের সময় কাবা শরিফ ও হাজরে আসওয়াদকে বাম দিকে রেখে রোকনে শামি ও রোকনে ইরাকি অতিক্রম করে রোকনে ইয়ামেনিতে আসবে। এ স্থানে তালবিয়া, তাকবির-তাসবিহ ইত্যাদি পড়বে।

রোকনে ইয়ামেনি অতিক্রম করে এ দোয়া পড়া

এরপর (সম্ভব হলে) রোকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করবে। সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে হাজরে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হবে এবং কুরআনে শেখানো এ দোয়া পড়বে-

رَبَّنَا اَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِى الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আজাবান্ নার।’

তাওয়াফে কুদুম (সুন্নাত)

মক্কায় আগমনকারী সব হাজিগণই তাওয়াফ করে থাকেন। হাজিদের জন্য এ তাওয়াফকে ‘তাওয়াফে কুদুম’ বলা হয়; যা আদায় করা (সুন্নাত)।

. সায়ী (ওয়াজিব)

ওমরা আদায়ের জন্য সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সায়ী করা রোকন। তবে ক্বিরান হজ আদায়ের নিয়তকারীদের জন্য ওমরার সায়ীর পর চুল ছাঁটা, কাঁটা বা মুণ্ডন নিষেধ। বরং ইহরামের সব বিধান মেনে চলা। অর্থাৎ কিরান হজ আদায়কারীরা সব ধরনের নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। হজ সম্পন্ন করার আগ পর্যন্ত ইহরাম থেকে হালাল হতে পারবে না।

হজের প্রস্তুতি

জিলহজ মাসের ৭ তারিখ হারাম শরিফে হজের নিয়মাবলীর ওপর যে খুতবা দেয়া হবে, তা মনোযোগ দিয়ে শোনা বা হজের বিষয়াবলী বুঝে নেয়া। অতঃপর ৮ জিলহজ জোহরের নামাজের আগে মিনায় গিয়ে উপস্থিত হওয়া।

. মিনায় অবস্থান (সুন্নাত)

জিলহজ মাসের ৮ তারিখ জোহর থেকে ৯ তারিখ ফজর পর্যন্ত ৫ ওয়াক্ত (জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর) নামাজ মিনায় পড়া (মুস্তাহাব) এবং তথায় অবস্থান করা (সুন্নাত)। ৯ জিলহজ ফজরের পর সম্ভব হলে গোসল অথবা অজু করে দুপুরের আগে আরাফাতের ময়দানে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

. আরাফার ময়দানে অবস্থান (ফরজ)

আরফায় অবস্থানই হজ। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ জোহরের আগেই হজের অন্যতম রোকন পালনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ কাজ। আর এটাই হলো হজের অন্যতম রোকন। ৯ জিলহজ সকালে মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করে আরাফায় আসার প্রস্তুতি স্বরূপ গোসল করে একবার তাকবিরে তাশরিক পড়া-

اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَاَللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার; ওয়া লিল্লাহিল হামদ

তাকবিরে তাশরিক পড়ার পর তালবিয়া পড়া। পুরো তালবিয়াকে ৪ ভাগে (নিঃশ্বাসে) ৩ বার পাঠ করা-

لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ - لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ - اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ - لاَ شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ : লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক, লা শারিকা লাক।

অর্থ :‘ আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সব প্রশংসা ও সম্পদরাজি তথা নেয়ামত আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্যও আপনার। আপনার কোনো অংশীদার নেই ‘

হজের খুতবা শোনা

আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে হজের খুতবা শোনা এবং নিজ নিজ তাবুতে জোহর ও আসরের নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আলাদাভাবে আদায় করা। অতঃপর আরাফাতের ময়দান থেকে ৯ জিলহজ সুর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ না পড়ে মুজদালিফার দিকে রওয়ানা হওয়া।

আরাফার ময়দানে দোয়া পড়া

আরাফাতের ময়দানে পড়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে এ দোয়াটি বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত বলে অনেকেই উল্লেখ করেন থাকেন-

لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ المُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرً - اَللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كَالَّذِىْ تَقُوْلُ وَ خَيْرًا مِمَّا نَقُوْلُ - اَللَّهُمَّ لَكَ صَلَاتِىْ وَ نُسُكِىْ وَ مَحْيَاىَ وَ مَمَاتِىْ وَ اِلَيْكَ مَأبِىْ وَ لَكَ رَبِّ تُرَاثِىْ - اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ وَسْوَسَةِ الصَّدْرِ وَ شَتَاتِ الْاَمْرِ - اَللَّهُمَ اِنِّىْ أَسْئَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَجِىْءُ بِهِ الرِّيْحُ - اَللَّهُمَّ اجْعَلْ فِىْ قَلْبِىْ نُوْرًا وَّ فِىْ سَمْعِىْ نُوْرًا وَّ فِىْ بَصِرِىْ نُوْرًا- اَللَّهُمَّ اشْرَحْ لِىْ صَدْرِىْ وَ يَسِّرْلِىْ اَمْرِىْ وَ اَعُوْذُبِكَ مِنْ وَسَاوِسٍ فِىْ الصَّدْرِ وَشَتَاتِ الْاَمْرِ وَ عَذَابِ الْقَبْرِ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির। আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু কাল্লাজি তাকুলু ওয়া খাইরাম মিম্মা নাকুলু। আল্লাহুম্মা সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি ওয়া ইলাইকা মাআবি ওয়া লাকা রাব্বি তুরাছি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি ওয়া ওয়াসওয়াসাতিস সাদরি ওয়া শাতাতিল আমরি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি মা তাঝিউবিহির রিহু। আল্লাহুম্মাঝআল ফি ক্বালবি নুরাও ওয়া ফি সাময়ি নুরাও ওয়া ফি বাসারি নুরা। আল্লাহুম্মাশরাহলি সাদরি ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি ওয়া আউজুবিকা মিন ওয়াসায়িসিন ফিস সাদরি ওয়া শাতাতিল আমরি ওয়া আজাবিল ক্বাবরি।

. মুজদালিফায় অবস্থান (ওয়াজিব)

আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও ইশার নামাজ এক আজানে ও একই ইক্বামাতে একসঙ্গে আদায় করা। রাতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা (সুন্নাত)। এ রাতে কিছু সময় ঘুমানো এবং তাসবিহ-তাহলিল পড়া উত্তম।

১০ জিলহজ ফজরের নামাজের পর সূর্য ওঠার আগে কিছু সময় অবস্থান আবশ্যক। তবে ১০ জিলহজ ফজরের পর সুর্য ওঠার আগেই মুজদালিফা ত্যাগ করে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হতে হবে।

মুজদালিফা থেকে কংকর সংগ্রহ : মুজদালিফায় অবস্থানকালীন সময়ে কংকর সংগ্রহ করা।

. মিনায় কংকর নিক্ষেপ (প্রথম দিন)

১০ জিলহজ মুজদালিফা থেকে মিনায় এসে বড় জামরায় ৭টি (সাত) কংকর নিক্ষেপ করা (ওয়াজিব)। আর তা করতে হবে জোহরের আগে।

. কোরবানি করা (ওয়াজিব)

কংকর নিক্ষেপের পর মিনায় কোরবানির পশু জবাই করা অথবা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে জবাইয়ের সময় নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

. মাথা মুণ্ডন করা (ওয়াজিব)

কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মাথা হলক বা মুণ্ডন করার মাধ্যমে কিরান হজ পালনকারীরা নবিজীর আদর্শের অনুসরণ করবে। (ওয়াজিব)

সতর্কতা

১০ জিলহজ মিনায় জামরাতে আকাবায় কংকর নিক্ষেপ, কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডনের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি। মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবে। শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্ক (স্ত্রী সহবাস) ছাড়া সব কাজ করা যাবে।

১০. তাওয়াফে জিয়ারাত (ফরজ)

হজের সর্বশেষ রোকন হলো তাওয়াফে জিয়ারত। যা ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে সম্পন্ন করতে হবে। ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগে করতে না পারলে দম বা কোরবানি দিতে হবে।

১১. সাফা-মারওয়ায় সায়ী (ওয়াজিব)

তাওয়াফে কুদুমের সময় সায়ী করতে না পারলে তাওয়াফে জিয়ারতের পর সাফা-মারওয়ায় সায়ী করা ওয়াজিব।

১২. মিনায় কংকর নিক্ষেপ (ওয়াজিব)

১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করা। উভয় দিন মিনায় হজ মন্ত্রণালয় ঘোষিত নির্ধারিত সময়ে ৩ জামরাতে ৭টি করে প্রতিদিন ২১টি কংকর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

কংকর নিক্ষেপে প্রথমে ছোট জামরায় তারপর মধ্যম, অতঃপর বড় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করা। সব ক্ষেত্রেই দুর্বল ও নারীদের জন্য রাতের বেলায় কংকর নিক্ষেপ করা উত্তম।

মিনায় রাত যাপন : ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় রাত যাপন করা (সুন্নাত)।

১৩ জিলহজ : যারা ১২ জিলহজ সুর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবে না বা করতে পারবে না; তাদের জন্য রাতে মিনায় অবস্থান করা এবং ১৩ জিলহজ আরও ২১টি কংকর নিক্ষেপ করা। তবে এর মাঝে মক্কায় এসে তাওয়াফে জিয়ারাত সম্পন্ন করে আবার মিনায় যাওয়া।

১৩. মিনা ত্যাগ

১৩ জিলহজ মিনায় না থাকতে চাইলে ১২ জিলহজ সন্ধ্যার আগে মিনা ত্যাগ করতে হবে। সুর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করা উত্তম। ১২ তারিখ মিনা ত্যাগ না করলে ১৩ তারিখ মিনায় আরও ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবে। কেননা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১৩ তারিখও কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন।

১৪. বিদায়ী তাওয়াফ (ওয়াজিব)

সমগ্র বিশ্ব থেকে আগত সব হজপালনকারীর জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। তবে হজ শেষে যে কোনো নফল তাওয়াফই বিদায়ী তাওয়াফে পরিণত হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এক ইহরামে ওমরা-হজ তথা হজে কিরান যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর