Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

সন্তানসহ স্ত্রী উধাও, থানার সামনে আগুনে যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৭২জন দেখেছেন
Image

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকায় নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন আনন্দ ভূঁইয়া (২৭) নামের এক যুবক।

শনিবার (১৮ জুন) বিকেলে আড়াইহাজার থানা গেটের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার দৌড়ে এসে ওই যুবককে রক্ষা করেন। আনন্দ ভূঁইয়া উপজেলার পাঁচরুখী গ্রামের ইব্রাহিম ভূঁইয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে রয়েছে।

আনন্দ ভূঁইয়া জানান, দুই বছর আগে আড়াইহাজার উপজেলার বগাদী গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে হালিমাকে (২২) বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। এর মধ্যেই স্ত্রী হালিমা আরেক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত হন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। শনিবার সকালে আনন্দ বাইরে থেকে বাড়ি এসে দেখতে পান তার স্ত্রী ও সন্তান ঘরে নাই। স্ত্রীর মোবাইলে ফোনে করলে পরকীয়া প্রেমিক রিসিভ করেন এবং আর কল দিতে নিষেধ করেন। স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বিকেলে আড়াইহাজার থানার সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন আনন্দ। একই সঙ্গে নিজের শরীরে আগুন দেওয়ার জন্য কেরোসিন ঢালেন।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, থানার সামনের রাস্তায় এক যুবক শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরে ফেলি। যার কারণে সে আগুন দিতে পারেনি। পরে তাকে সাবান দিয়ে গোসল করাই এবং আমাদের হেফাজতে নিই।

ওসি আরও বলেন, পরে ওই যুবকের কাছে আগুন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে বলে, তার স্ত্রী বাচ্চাকে নিয়ে ভোরবেলা পালিয়ে গেছে। ফোন দিলে তাকে পায় না। রাগে-দুঃখে রাস্তায় আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। এখন থানায় তার স্ত্রী ও শ্বশুর আসছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।


আরও খবর



পদ্মা সেতু দেখতে ২৭০ কিমি পাড়ি দিয়ে মাওয়ায় রুয়েব

প্রকাশিত:Friday ১৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৩৬জন দেখেছেন
Image

সিলেটের বড়ইকান্দি এলাকার বাসিন্দা রুয়েব আলম। টেলিভিশনে স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে দেখেছেন অনেকবার। তখন থেকে ইচ্ছা ছিল কাছ থেকে একবার দেখবেন। সিলেটে তার বাড়ি থেকে পদ্মা সেতুর দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার। তাই বলে কি আর বসে থাকা যায়, তাইতো ইচ্ছা পূরণে দূরত্ব কোনো বাধা হয়নি। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পদ্মা পাড়ে ছুটে এসেছেন এই ব্যক্তি।

শুক্রবার (১৭ জুন) বিকেলে পদ্মা পাড়ে দেখা হয় রুয়েব আলমের সঙ্গে। কাছ থেকে পদ্মা সেতু দেখে মুগ্ধতার কথা জানান তিনি। অনেকটাই আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্ত্রী, বাচ্চা, বড় ভাই-বোনদের নিয়ে আসছি সিলেট থেকে। পদ্মা সেতু দেখবো ইলিশ খাবো। সেতু খুব সুন্দর। এখানে একটা পার্ক করে দিলে ভালো হয়। অনেক সুন্দর এই সেতু।’

jagonews24

শুক্রবার বিকেলে রুয়েব আলমের মতো দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের মিলনমেলার চিত্র দেখা যায় মুন্সিগঞ্জের লৌহজং পদ্মাপাড়ে। শিমুলিয়াঘাট ও মাওয়া মৎস্য আড়ৎ সংলগ্ন পাড়ে দেখা যায় নানা বয়সী শ্রেণিপেশার শত শত মানুষের উপস্থিতি। সেতুর সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল রাতে বেলার আলোকিত সেতু।

ঢাকা থেকে মাকে সঙ্গে নিয়ে আসা আরেক যুবক বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কথা অনেক শুনেছি। তাই মাকে নিয়ে দেখতে এসেছি।’

jagonews24

দর্শনার্থী মনিরুল ইসলামের বাড়ি বরিশালে। চাকরির সুবাদে থাকেন নারায়ণগঞ্জ। তিনি বলেন, ‘এই সেতু আমাদের গর্ব। আজ ছুটের দিন ছিল তাই ঘুরতে এলাম। স্পিডবোট নিয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলাম তবে ছুঁয়ে দেখতে পারিনি। ২৬ তারিখ চালু হলে রাতে সেতুতে উঠবো।’

পদ্মা সেতু দেখতে আসা ফয়জুল করিম বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সেতুতে সড়কবাতি জ্বলছে। দিনের বেলা দেখিছি, রাতের বেলা দেখা হয়নি। আজ ছুটি তাই দেখতে এলাম। রাত পর্যন্ত থেকে অপরূপ দৃশ্য দেখবো।’

jagonews24

শুধু নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে নয়; ট্রলার, স্পিডবোটে চড়ে নদীতেও ভ্রমণ করতে দেখা যায় অনেককে। যদিও সেতুর নিরাপত্তা বিবেচনায় নির্ধারিত দূরন্ত বজায় রাখতে হয় সবাইকে।

সব বাধা, প্রতিকূলতা আর চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এখন উদ্ধোধনের অপেক্ষায় কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। অপেক্ষার প্রহর আর মাত্র সাতদিনের।

jagonews24

প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, সেতুর সড়কপথ একেবারেই প্রস্তুত। উদ্ধোধনকে ঘিরে বাকি থাকা ছোটখাটো কাজগুলোর দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। কাজ শেষে আগামী ২২ জুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেতু কর্তৃপক্ষকে পদ্মা সেতু বুঝিয়ে দেবে।

আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন ভোর ৬টা থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।


আরও খবর



সাহিত্য একাডেমির ফেলোশিপ পেলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৬২জন দেখেছেন
Image

ভারতের সাহিত্য একাডেমির সর্বোচ্চ ‘ফেলোশিপ’ পেলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

শনিবার (২৫ জুন) কলকাতায় সাহিত্য একাডেমি সভাঘরে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের হাতে এ ফেলোশিপ তুলে দেন সাহিত্য একাডেমির সভাপতি চন্দ্রশেখর কাম্বার। এসময় সেখানে সাহিত্য একাডেমির সচিব কে শ্রীনিবাস রাও, বাংলা উপদেষ্টা পর্ষদের অন্যতম সদস্য কবি সুবোধ সরকার উপস্থিত ছিলেন।

পরে কে. শ্রীনিবাস রাও বলেন, ‘বহু সম্মানে ভূষিত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা শুধু বাংলাভাষী মানুষের কাছে নয়, সারাদেশে জনপ্রিয়। তাকে ফেলোশিপ দিতে পেরে সাহিত্য একাডেমি গর্বিত।


আরও খবর



হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও ফেইলিওরের মধ্যে পার্থক্য

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৭৪জন দেখেছেন
Image

বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। ৪০ পার হতেই কিংবা অল্পবয়সীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে হার্টের নানা সমস্যা। তবে হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কিংবা হার্ট ফেইলিওর সম্পর্কে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। সবগুলোকে এক সমস্যা ভেবেই ধরে নেন অনেকেই।

আসলে হার্ট যখন নিজের থেকে রক্ত সঞ্চালন বা পাম্প করার ক্ষমতা হারায় সেই অবস্থাকেই আমরা সাধারণ ভাবে হার্ট ফেইলিওর বলতে পারি। হার্ট ফেইলিওয়রের আরেকটি ধরন হলো, যখন হৃদপিণ্ডের পেশি শক্ত হয়ে যায় ও শিথিল করতে অক্ষম হয়। অন্যদিকে হার্ট অ্যাটাক হয় যখন হার্টে রক্ত সরবরাহে বাঁধা থাকে।

ভারতের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জামশেদ দালাল জানিয়েছেন, বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই হৃদরোগ সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা নেই। অনেকের মধ্যেই হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কিংবা হার্ট ফেইলিওর নিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা আছে।

হার্ট ফেইলিওর শুধু বয়স্কদের হয়?

এ বিষয়ে ডা. জামশেদ জানান, আগে ৫৫ পেরোনোর পরই হার্ট ফেলিওরের সম্ভাবনা থাকত। তবে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি আগে থেকেই কিছুটা টের পাওয়া যায়। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে থাকে শ্বাসকষ্ট, গোড়ালি ও পেট ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি ও খিদে কমে যাওয়া।

অনেক রোগীই মনে করেন হার্ট ফেলিওর মানেই জীবন শেষ। আসলে প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা পড়লে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে গেলে রোগী সুস্থ হতে পারেন। তবে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়লে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টেশন ছাড়া বুপায় নেই বলে জানান চিকিৎসক জামশেদ।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কী?

হৃদস্পন্দনে সমস্যা কিংবা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে যখন তখন। একে অনেক সময় ভেন্ট্রিকিউলার ট্যাকিকার্ডিয়া অথবা ভেন্ট্রিকিউলার ফাইব্রিলেশন বলা হয়। সাধারণত হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েই এমনটা হয়, আবার হৃদস্পন্দন ভীষণ ধীর গতিতে হলেও এমনটা হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, হার্ট ফেলিওর কী এক?

হঠাৎ হওয়া কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও হার্ট অ্যাটাক কিন্তু এক নয়। অনেকেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাকের পার্থক্যটা বোঝেন না, ফলে সমস্যায় পড়ে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন অনেকেই।

করোনারি আর্টারির কাজ হৃদপিণ্ডে রক্ত পাঠানো। কোনো কারণে একটি করোনারি আর্টারির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক হয়। এ ক্ষেত্রে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হার্টে অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে সেই জায়গার কোষগুলো মরে যায়। তবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ আলাদা। এক্ষেত্রে অ্যারিদমিয়ার কারণে হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কী কী?

হার্ট অ্যাটাকের আগে একেকজনের শরীরে ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তবে সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ হলো হাঁটতে গিয়ে বুকে চাপ। অনেকেই এই ব্যথাকে গ্যাসের সমস্যা ভেবে ভুল করেন।

দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ভুগলে সতর্ক হতে হবে। মনে রাখতে হবে সিভিয়ার প্যানক্রিয়াটাইটিস ছাড়া এমন ব্যথা হয় না। কাজেই বুঝে নিতে হবে এগুলো হার্ট থেকেই হচ্ছে।

অন্যান্য উপসর্গগুলো হলো- রাতে ঘুমের মধ্যে বুকে চাপ, হঠাৎ ঘুম ভেঙে গিয়ে আর ঘুম না আসা, ঘুম থেকে উঠে সকালে শরীর খারাপ লাগা, বুক ধড়ফড়, শ্বাস নিতে সমস্যা, ক্লান্ত লাগা ইত্যাদি।

হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত কী করবেন?

হার্ট অ্যটাকে আক্রান্ত হয়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে সিপিআর দিতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে কার্ডিও পালমোনারি রিসাসকিটেশন। এক্ষেত্রে আক্রান্তের বুকে চাপ দিতে হবে।

৩০ বার চাপ দেওয়ার পর একবার করে আক্রান্তের মুখে মুখ দিয়ে হাওয়া দিতে হবে। মুখ দিয়ে যদি হাওয়া দিতে নাও পারেন, শুধুই বুকে চাপ দিতে থাকুন ঘনঘন।

হৃদরোগের ঝুঁকি কাদের বেশি?

হার্টের সমস্যার পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, রক্তে বেশিমাত্রায় কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, ওবেসিটি, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হরমোনঘটিত সমস্যা, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যা কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। হার্ট ফেলিওরের ক্ষেত্রে নারীদের ঝুঁকি বেশি।

হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

>> শর্করা জাতীয় খাবার যেমন, চিনি, গুড়, মধু, মিষ্টি এসব বাদ দিন
>> রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খাবেন না।
>> লাল মাংস স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, তা বাদ দিন।
>> কলিজা, মাছের ডিম ইত্যাদিতে কোলেস্টেরল থাকে, তাই এগুলো খাওয়াও বাদ দিন।
>> ট্রান্সফ্যাট আছে এমন খাবার খাবেন না।
>> অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন আজই।
>> চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চা করুন।
>> প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


আরও খবর



রাস্তাহীন আশ্রয়ণ ঘরে পানি মাড়িয়ে চলাচল দম্পতির

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বসতঘর পেয়েছেন শামসুল হক (৭২) ও ফিরোজা বেগম (৬০) দম্পতি। তবে ওই ঘরে আসা-যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। হাঁটু সমান পানি জমে থাকা মাঠ দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

মঙ্গলবার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মিঠাখালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘর ও মূল সড়কের সঙ্গে চলাচলের কোনো রাস্তা নেই। ফলে শামসুল হক ও ফিরোজা বেগম দম্পতি মাঠে থাকা হাঁটু পানি মাড়িয়ে ঘরে আসা-যাওয়া করছেন। বৃদ্ধ শামসুল হক হাওলাদার বয়সের ভারে তেমন কথা বলতে ও চলাচল করতে পারছেন না। বর্ষায় যাতায়াত বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ফিরোজা বেগম বলেন, সরকার ঘর দিয়েছ। এতে আমরা ভীষণ খুশি। কিন্তু রাস্তা না থাকায় যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। সামনে বর্ষার সময় ঘর বাইরে বেরোতে পারবো না। তাই জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

উত্তর মিঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. রুস্তম আলী বলেন, ‘নিঃসন্তান এ দম্পতি খুবই অসহায়। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকার তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর দিয়েছে। কিন্তু সেই ঘরে যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকায় মাঠের পানি মাড়িয়ে তাদের চলাচল করতে হয়। বর্ষায় পানি আরও বাড়লে তারা ঘর থেকেও বের হতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ তাদের যেন একটি রাস্তার ব্যবস্থা করে দেন।’

স্থানীয় মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘বৃদ্ধ দম্পতির কোনো সন্তান নাই। তাই সব কিছু তাদের নিজেদেরই করতে হয়। বৃদ্ধ শামসুল হক স্ট্রোকের রোগী। রাস্তা না থাকায় তারা প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। পরিবারটি যাতে চলাচল করতে পারে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উর্মি ভৌমিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমন বিষয় আমার জানা নাই। সরজমিনে গিয়ে পরিবারটির জন্য শিগগির চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।


আরও খবর



স্বপ্নের দেশে আগ্নেয়াস্ত্রের অভিশাপ

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

সহপাঠীর চেহারা দেখতে ভালো লাগছে না। ব্যস এইটুকু কারণেই গুলি ছুড়ে দেয় ৭ বছরের এক শিশু। অবুঝ শিশুর এমন কর্মকাণ্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার হাজারো যুক্তি দেওয়া যায়। কিন্তু ১৮ বা তার বেশি বয়সীরা যখন নিজ স্কুলে বিনা কারণেই ব্রাসফায়ার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের খুন করে, তখন এর সরল ব্যাখ্যা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে দিনে-দুপুরে সবার সামনে অহরহই ঘটে এমন লোমহর্ষক ঘটনা। বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও মার্কিনিদের কাছে বন্দুক হামলার ঘটনা অনেকটা ডাল-ভাতের ব্যাপার হয়ে গেছে।

স্বপ্নের আমেরিকায় দুঃস্বপ্নের নাম এখন অস্ত্র সহিংসতা। আগ্নেয়াস্ত্র রাখা মার্কিনিদের সাংবিধানিক অধিকার। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু এই অধিকারের অপপ্রয়োগে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার। সড়ক, হাট-বাজার, স্কুল, উপাসনালয় কিংবা নিজ ঘর কোথাও আর নিরাপদ নন নাগরিকরা। যখন তখন যে কেউ বন্দুক নিয়ে গুলি ছুড়ছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৬৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরে ১৫ লাখের বেশি মার্কিনি গুলিতে নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে আড়াইশো বছরে সব যুদ্ধে নিহতদের সংখ্যা যোগ করা হলেও এর বেশি হবে না। গত পাঁচ বছরে বন্দুক হামলার সংখ্যা বেড়েছে ২৫ শতাংশ। আর ১০ বছরে ৪৩ ভাগ।

অস্ত্র দিয়ে হামলা প্রতি লাখে ১১ মার্কিনির মৃত্যু হয়। এই তালিকায় বিশ্বে ২০তম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে উন্নত বিশ্বের তুলনায় বন্দুক হামলার নিহতের এই হার কয়েকগুণ বেশি। পিউ রিসার্চ বলছে, এই সহিংসতায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি লাখে নিহত হন একজন। স্পেন ও জার্মানিতে একজনেরও কম। কানাডায় সোয়া দুই ও ফ্রান্সে পৌনে তিন।

অস্ত্র সহিংসতার তথ্য নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা-গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য মতে, বর্তমানে গড়ে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে ৪৭ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এর অর্ধেকের বেশি মৃত্যু আবার আত্মহত্যায়। বিশ্বে আত্মহত্যার শীর্ষ তিন দেশ হলো ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। বন্দুক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতার কাজ করা বেসরকারি সংগঠন স্যান্ডি হুক বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১২ শিশুর মধ্য একজন বন্দুক হামলায় নিহত হয়।

গত ৫০ বছরে স্কুলে দুই হাজারের বেশি বন্দুক হামলা হয়েছে। যার অর্ধেকই হয়েছে গত ১০ বছরে। নিজ ঘরেই ভয়াবহ ঝুঁকিতে থাকে ৪৬ লাখ শিশু। এসব ঘরে সেফটি লক খোলা বা গুলিভর্তি পিস্তল-বন্দুক থাকে। বাবা-মা, অভিভাবকদের অর্ধেকই এই ভুল ধারণার মধ্যে থাকে যে, বন্দুক-পিস্তল কোথায় রাখা হয়েছে; সেটি জানে না তাদের সন্তানরা।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র-সিডিসির তথ্য বলছে, বছরে প্রতি পাঁচজনের একজন মার্কিনি দুশ্চিন্তাসহ নানান মানসিক সমস্যার শিকার হন। তবে ৬০ শতাংশই কোনো ধরনের চিকিৎসা নেন না। এছাড়া ৩২ কোটি মানুষের দেশটিতে অন্তত ১ শতাংশ লোক সিজেফ্রেনিয়ার মতো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। সংখ্যার হিসাবে যা হতে পারে ৩২ লাখ। মানসিক স্বাস্থ্যের এই করুণ অবস্থা শুধু বয়স্কই নয়, শিশুদের মধ্যেও রয়েছে।

এত এত তথ্য-সমীক্ষা একটি বিষয় স্পষ্ট করছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহভাবে বাড়ছে বন্দুক হামলার ঘটনা। কিন্তু এর কারণ কী? মোটা দাগে অন্তত তিনটি কারণ পাওয়া যায়।
১. বন্দুকের সংখ্যা ও শিথিল আইন।
২. মানসিক সমস্যা।
৩. বর্ণ বৈষম্য।

সুইডিশভিত্তিক গবেষণা প্রকল্প স্মল আর্মস সার্ভে বলছে, প্রতি একশো আমেরিকানের কাছে রয়েছে ১২০টি আগ্নেয়াস্ত্র। ৩২ কোটি মানুষের হাতে রয়েছে ৩৯ কোটি অস্ত্র। নাগরিকদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার এই তালিকায় বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রই শীর্ষে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে প্রতি একশোজনে অস্ত্রের সংখ্যা ৫২ দশমিক ৮।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে তা অর্ধেকেরও কম। দেশটির বেশিরভাগ রাজ্যে প্রাপ্ত হলেই অনলাইনে অস্ত্র কিনতে পারেন যেকোনো নাগরিক। এছাড়া ২৫টি রাজ্যে লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশ্যে অস্ত্র সঙ্গে রাখার আইনি সুবিধা রয়েছে। বন্দুক সহিংসতার বিভিন্ন লোমহর্ষক ঘটনার পর বারবার অস্ত্র আইন শক্ত করার দাবি উঠলেও স্বার্থবাদীদের কারণে তা ধোপে টেকে না। যার মধ্যে অন্যতম বন্দুক রাখার অধিকার নিয়ে কাজ করা দেড়শো বছরের পুরোনো অ্যাডভোকেসি গ্রুপ-ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা বা এনআরএ। এর সদস্য সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি।

বন্দুক আইন শিথিল রাখার ক্ষেত্রে আইনপ্রণেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবার পেছনেই অর্থ খরচ করে এই সংস্থাটি। এই কাজে এনআরএ’র মতো সংগঠনগুলো যে পরিমাণ অর্থ খরচ করে; তা আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা প্রতিরোধ ও শক্ত আইন তৈরির জন্য জনসচেতনতায় খরচের চেয়ে অনেক বেশি।

প্রথাগতভাবে নাগরিকদের একটি বড় অংশই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে শক্ত আইনবিরোধী। পিউ রিসার্চ বলছে, অর্ধেক মার্কিনি শক্ত আইনের পক্ষে থাকলেও বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন ৩৫ শতাংশ নাগরিক। এই হার গ্রামে অনেক বেশি। বিশেষ করে রিপাবলিকান দলের সমর্থক গ্রামের মানুষদের মধ্যে ৭১ শতাংশ মনে করেন, স্কুল-কলেজে শিক্ষকদের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা উচিত। শহরের রিপাবলিকানদের মধ্যে এমন মত ধারণ করেন ৫৬ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই বর্ণবৈষম্য এখনো প্রকট। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ ঘৃণিত হলেও ব্যাপকভাবে চর্চিত হচ্ছে। যার ধারকরা ‘রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’ বা প্রতিস্থাপন তত্ত্বের মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী। ট্রাম্প জমানায় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীরা পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় মদত, যা এখন ফুলে ফেঁপে অতিকায় দানব আকৃতি নিয়েছে।

মূলত ২০ শতকে ফরাসি জাতিয়তাবাদী ধারণা থেকে এসেছে এই রিপ্লেসমেন্ট থিওরি। যাতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীরা বিশ্বাস করেন, ধীরে ধীরে তাদের স্থান দখল করে নিচ্ছে অশ্বেতাঙ্গরা। এটি একটি পরিকল্পনামাফিক করা হচ্ছে। মিথ্যা এই ধারণার পালে হাওয়া লাগে ২০১১ সালে ফরাসি লেখক রেনু কামুর হাত ধরে।

যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘরে ঘরে ছড়িয়েছেন ফক্স নিউজের উপস্থাপক টাকার কার্লসন। টক শোক টাকার কার্লসন টু নাইট নামে অনুষ্ঠানের ৪শ’ পর্ব নিয়ে গবেষণা করেছে মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। যাতে উঠে এসেছে, অভিবাসীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনমিতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শ্বেতাঙ্গদের। বিভিন্ন রাজ্যে দ্রুত কমছে তাদের হার।

বর্তমান বিশ্বে অস্ত্র সরবরাহকারী শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির সবকটিই যুক্তরাষ্ট্রের। বিভিন্ন দেশকে নিরাপত্তার নামে অস্ত্র বিক্রি; কখনওবা দুই দেশের ঝগড়ার ফায়দা নিয়ে অস্ত্রচুক্তি। এ সবেরই নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা। এছাড়া বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের মুখোশ পরে ধ্বংস করেছে বহু দেশ। যাতে মরেছে লাখ লাখ মানুষ। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। মানুষ মারার এই খেলা চলে এসেছে আজ নিজ অন্দরেই। প্রতিটি মার্কিনির মনেই অন্য মার্কিনিকে নিয়ে ভয়। কখন সে গুলি করে দেয়।

লেখক: নিউজ এডিটর, চ্যানেল 24।


আরও খবর