Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
নৌকায় করে মালেয়শিয়া যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা

সমুদ্র সৈকত থেকে ১২জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:Tuesday ২৪ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৫৭জন দেখেছেন
Image

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মিয়ানমারের সমুদ্রের একটি সৈকতে ১৪ জন রোহিঙ্গার মৃতদেহ পাওয়া গেছে। 


স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে সোমবার (২৩ মে) এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।


 

 স্থানীয় একজন রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট জানান, পশ্চিম মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন রোহিঙ্গারা।


মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন থেকে ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত প্যাথেইন জেলার পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুন শোয়ে বলেন, চৌদ্দটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে।


  নৌকার মালিকসহ ৩৫জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমার রেসকিউ অর্গানাইজেশন প্যাথেইনের সদস্য বলেন, রোববার (২২ মে) আটজন রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট জানান, নিহতদের মধ্যে ১২ জন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। নৌকাটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডাং, মংডু এবং সিত্তওয়ে শহর থেকে লোকদের নিয়ে যাচ্ছিল।


 

২০১৭ সালে সেনা অভিযানের জেরে মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। প্রতি বছর শত শত রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।


আরও খবর



র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিলেন কর্নেল কামরুল হাসান

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (র‌্যাব-অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কর্নেল মো. কামরুল হাসান। তিনি কে এম আজাদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

সোমবার (১৩ জুন) তিনি র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (অপারেশনস্) দায়িত্বভার নেন। বিকেলে র‌্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কর্নেল মো. কামরুল হাসান ৩৫তম বিএমএ লং কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোরে কমিশন লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘কর্নেল’ পদবিতে আর্মার্ড কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলের প্রধান প্রশিক্ষক এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিওসি) উইং এ ডিরেক্টিং স্টাফ (ফ্যাকাল্টি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি একটি সাঁজোয়া ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের স্টাফ অফিসার (গ্রেড-২), সাঁজোয়া ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্লাটুন কমান্ডার (প্রশিক্ষক) হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চৌকস অফিসার হিসেবে ২০০৬ সালে মিলিটারি অবজারভার এবং ২০১৮ সালে ব্যানব্যাট-২, দক্ষিণ সুদানে চিফ অপারেশনস্ অফিসার হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত ছিলেন। চাকরির ধারাবাহিকতায় তিনি ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি কর্নেল পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।

কর্নেল কামরুল র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। র‌্যাব ফোর্সেসে দায়িত্ব পালনকালে জঙ্গি, মাদকবিরোধী অভিযান, শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্র গ্রেফতারে প্রশংসনীয় অবদান রাখেন। র‌্যাবে কর্মরত থাকাকালীন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আভিযানিক কর্মকাণ্ড, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকে ভূষিত হন।

কর্নেল কামরুল ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) থেকে আর্মি স্টাফ কোর্স, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিওসি), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মাস্টার অব সায়েন্স ইন মিলিটারি স্ট্যাডিজ ও মাস্টার অব স্যোসাল সায়েন্স ইন সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং শ্রীলঙ্কার ইউনিভার্সিটি অব কেলানিয়া থেকে এমডিএস (মাস্টার ইন ডিফেন্স স্ট্যাডিজ) অর্জন করেন।

কর্নেল কামরুল সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পরিসরে প্রশিক্ষক, কমান্ড ও স্টাফ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চৌকস অফিসার। তিনি কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত সততা, পেশাদারি, পারদর্শিতা, উৎকর্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করে আসছেন।


আরও খবর



মোটরসাইকেলের চাকায় বোরকা পেঁচিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নিহত

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
Image

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মোটরসাইকেলের চাকায় বোরকা পেঁচিয়ে সাথী আক্তার (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৬ জুন) সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের তারালীয়া-কাঁকৈরতলা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাথী আক্তার ওই ইউনিয়নের মালীগাঁও গ্রামের প্রবাসী আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য নিকটাত্মীয় পারভেজের মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজারে রওয়ানা দেন সাথী। পথে তারালীয়া-কাঁকৈরতলা সড়কে মোটরসাইকেলের পেছনের চাকায় বোরকা পেঁচিয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হাজীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল দুর্ঘটনায় ওই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


আরও খবর



১৫ জনকে চাকরি দেবে ওয়ান ব্যাংক

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডে ‘বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার’ পদে ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড

পদের নাম: বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার
পদসংখ্যা: ১৫ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক
অভিজ্ঞতা: ০২ বছর
বেতন: ২০,০০০ টাকা

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ৩০ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



সিরাজগঞ্জে গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

সিরাজগঞ্জে গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক করেছে র‍্যাব। শুক্রবার (২৪ জুন) দুপুরে জেলার রায়গঞ্জ থানার মা ফুড গার্ডেনের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- কুমিল্লার দৌলতপুর এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৩৪), ময়মসিংহের বিটপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে সোলাইমান মিয়া (২২) ও একই জেলার মৃত মইনুদ্দিনের ছেলে শাওন মিয়া (২২)।

র‍্যাব-১২ এর মিডিয়া অফিসার মেজর এম রিফাত বিন আসাদ জানান, আটক মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আলামতসহ তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



বিয়ের রাতের বিড়াল সমাচার

প্রকাশিত:Friday ১৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

বায়াজিদ গালিব, কানাডা

অনেকদিন আগের কথা। ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খ মনে না থাকলেও কুয়াশাচ্ছন্ন স্মৃতি থেকে বর্ণনা করছি। খুব সকালে মহানগর প্রভাতীতে যাত্রা করছিলাম চট্টগ্রামে অফিসের কাজে। ট্রেন ছাড়তে তখন বেশ বাকি। বেশি সকালে ঘুম থেকে উঠার কারণে ক্লান্তি লাগছিলো। নির্দিষ্ট বগিতে উঠে আমার নির্ধারিত আসনে বসে পড়লাম।

মুখোমুখি দুটো আসন। জানালার পাশে। আমার হাতে একটি ছোট্ট ব্যাগ, যাতে একদিনের জামাকাপড় আর কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সযতনে ব্যাগটি কোলের ওপর রেখে চোখ বন্ধ করতেই কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। যখন জেগে উঠলাম দেখলাম প্রায় ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়েছি। ট্রেন মনে হয় অনেক আগেই চলতে শুরু করেছে।

আমার সামনে বসে আছেন এক ভদ্রলোক। গায়ের রং শ্যামলা, চোখে চশমা। ভদ্রলোক মনে হয়ে এতক্ষণ আমাকেই দেখছিলেন গভীরভাবে। আমি চোখ মেলতেই তিনি তার দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন আমার দিক থেকে। তাকে বেশ পরিচিতই মনে হচ্ছিলো। কোথায় যেন দেখেছি? অথবা এমন চেহারার আর কাউকে হয়তো চিনি। সে যা হোক, যাত্রাপথে সঙ্গে বই রাখি, যা পড়তে পড়তে গন্তব্যে পৌঁছে যাই। এ আমার অনেক দিনের অভ্যাস।

রেলগাড়িতে ভ্রমণ আমার সবচেয়ে প্রিয়। শৈশবে যখন রেলগাড়িতে ভ্রমণ করতাম, তখন শরীরের প্রায় অর্ধেক থাকতো জানালার বাইরে। কখনো নির্মল, কখনো বা ধুলোমাখা বাতাস আমার সারা শরীরে পরশ বুলিয়ে যেত। জানালা দিয়ে খুব উপভোগ করতাম বাইরের বিস্তৃত শস্য খেত, প্রায় শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল, মাঝে মধ্যে নদী -নালা, দূরে আকাশের গায়ে মিশে থাকা গাছপালা।

রেলগাড়ি চলার সময় যে দুলোনি হতো সেটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো। ক্লান্ত হয়ে গেলে চোখ বন্ধ করে রেলগাড়ির দুলোনি উপভোগ করতাম। দোলা খেতে খেতে একটা সময় ঘুমিয়ে পড়তাম। এখনো ভালো লাগে রেলগাড়ির দুলোনি।

বই পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। কারণ সামনের লোকটি আমার দিকে চেয়ে আছে। কেমন একটি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। পড়া বন্ধ করে হঠাৎ তার দিকে তাকাতেই সে আবার তার দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। আমি ভনিতা না করে যতটুকু সম্ভব মুখের বিরক্তি দূর করে হাসি মুখে তার দিকে তাকালাম। এবার তার অস্বস্তির পালা।

একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললো, ভাই আপনাকে খুব পরিচিত মনে হচ্ছে। ভাই কি চট্টগ্রামে থাকেন? আমি বললাম, না আমি ঢাকায় থাকি। বললেন, ঢাকা কি আপনাদের আদি বাড়ি। আমি বললাম, না আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। তিনি যেন তড়িতাহত হলেন। বলেন কি, আমার বাড়িও তো সিরাজগঞ্জ। তা আপনার বাড়ি শহরের কোন এলাকায়?

আমি বললাম আসলে আমাদের আদি বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর গ্রামে। তবে আমি আমার মেঝো খালার সিরাজগঞ্জের বাড়িতে বেশ কিছুদিন ছিলাম। তাদের বাড়ির নাম ‘চিটাগং কুঠি’। তিনি উত্তেজিত হয়ে বললেন, আপনি কি চররায়পুর স্কুলে পড়েছেন কখনো? আমি বললাম, হা দুই বছর পড়েছি। তিনি ফুটবলের পেনাল্টি শটের মতই নিশ্চিতভাবেই বললেন, আমার নাম সাত্তার, এ নামে কি কাউকে চিনতেন?

এবার আমার অবাক হবার পালা, আমি আমার নাম বলা মাত্রই উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, বন্ধু তোর সাথে এভাবে দেখা হবে কোনোদিন ভাবিনি। বললাম, তোর তো কোনো পরিবর্তনই হয়নি মুখের আদল অবিকল রয়ে গেছে, শুধু ছোট মুখটি আকারে বড় হয়েছে। তারপর অনেক কথা, অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প। জেনেছিলাম, সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স করে সিরাজগঞ্জ এক বেসরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে।

তারপর সিরাজগঞ্জ বিএল কলেজে অধ্যাপনা করেছিল কিছুদিন। বর্তমানে ঢাকার এক বেসরকারি কলেজে অধ্যাপনা করছে। পরীক্ষার এক্সটার্নাল হিসেবে চট্টগ্রাম যাচ্ছে। এখন নাকি নতুন সিরাজগঞ্জ শহর আমি চিনতেই পারবো না। ভাবলাম, যে শহরে স্মৃতি নেই বললেই চলে তাকে চেনার আগ্রহ তেমন নেই। এখন আমার একমাত্র আগ্রহ সাত্তারের জীবন কাহিনি শোনার।

নিজের চেষ্টায় একজন দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে তার এমন উত্থান আমার বেশ ভালো লাগছিলো। তখন হাতে অনেক সময় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা লাগবে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে। আমি বললাম, তোর সংসারের কথা বল। সে বললো, বিয়ে করেছি প্রায় সাত বছর হয়ে গেলো। আমার একটি মাত্র মেয়ে নিয়ে আমরা ভালোই আছি। তারপর বললো, একটু বস আমি বাথরুম থেকে আসছি। আমি ফিরে গেলাম আমার শৈশবে।

সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় সিরাজগঞ্জের চররায়পুর স্কুলে। সাত্তার গ্রামের অতি সহজ সরল একজন মানুষ। সিরাজগঞ্জ চর রায়পুর স্কুলে আমার সহপাঠীদের মধ্যে যে বন্ধুরা স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পেরেছিলো তাদের মধ্যে সাত্তার অন্যতম। সে সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যারা পড়ালেখা করতো, তাদের হিসাব জ্ঞান হলেই তাদের অভিভাবক লেখাপড়া বন্ধ করে তাদের ব্যবসার কাজে লাগিয়ে দিতেন।

সাত্তার উৎরাতে পেরেছিলো কারণ তার বড়ভাই লেখাপড়া শেষ করে স্থানীয় কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেছিলেন যা সাত্তারকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলো।

প্রতিটি মানুষের বন্ধুত্বের পেছনে রাসায়নিক বন্ধন থাকে। তা না হলে ঠিক বন্ধুত্ব গাঢ় হয় না। সাত্তারের সঙ্গে আমার রাসায়নিক বন্ধন হয়েছিল। আমরা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি তখন তার বড় ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। ওই বয়সে বিশবিদ্যালয় না বুঝলেও বুঝতাম অনেক উঁচু ক্লাসে পড়েন।

ওরা নিম্নবিত্ত পরিবারের। সাত্তারের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের কাল মাত্র দুই বছর। তারপর আমরা পাবনা চলে যাই। এরপর আর সিরাজগঞ্জ শহরে যাওয়া হয়নি। কারণ সে সময় আমাদের গ্রামের বাড়ি যেতে, পাবনার নগরবাড়ি ঘাট থেকে লঞ্চে সোজা আমাদের গ্রামে যেতাম।

সাত্তার ফিরে এসে তার আসনে বসলো। কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে খাঁটি সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা বেরিয়ে এলো ওর মুখ থেকে। বললো, বন্দু, আমগোরে ডাকার বাসায় তোমার কিন্তু আসাই নাগবো নে। আবার কইলাম একলা আইসো না, পরিবার হাতে কইরা নিয়া আসপা, বুজছাও।

আমি বললাম, অবশ্যই যামু। আমি আবার শৈশবে ফিরে গেলাম। ছেলেবেলায় আমার জীবনে একবারই সাত্তারের বাসায় গিয়েছিলাম। সেদিন স্কুল কি কারণে যেন ছুটি হয়েছিল, মনে পড়ছে না। দুই বন্ধু হাঁটছি, হঠাৎ সে বলে বসলো, নও আমগোরে বাড়িত যাই। আমিও কি মনে করে ওর সাথে রওনা হলাম। বাড়িতে ঢোকার মুখে, দেখি একটি ছোট ছেলে, চোখ বন্ধ করে একটি লাঠি ঘোরাচ্ছে আর বলছে, আন্দিকুন্দি ভাই, কারো যদি বাড়ি নাগে আমার দোষ নাই।

আমি বিপদ দেখতে পেলাম। এটুকু বুঝেছিলাম ওর লাঠির বাড়ি আমার দেহে পড়লে তার জন্য সে দায়ী হবে না। মারাত্মক ঝুঁকি। এ ঝুঁকির মধ্যে না যাওয়াই ভালো তাই আর দেরি না করে এক দৌড়ে আমাদের বাড়িতে এসে বাঁচলাম। পরে জেনেছিলাম সে সাত্তারের ছোট ভাই, ভারি দুষ্ট ছিলো। আমি অতীত স্মৃতির কথা তাকে বললাম। সে হেসেই খুন।

সে বললো, সে কথা তোমার মনে আছে? আমি বললাম থাকবে না আবার, লাঠির বাড়ি বলে কথা। তারপর বললাম, এবার নিশ্চিন্তে তোমার বাড়ি যাওয়া যায়, কারণ তোমার ছেলে সন্তান নেই। দুজনেই প্রাণ খুলে হেসে উঠলাম। আমি ওর ছোট ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করলাম, সে বললো না মানুষ হয় নাই, কোনোমতে এস.এস.সি. পর্যন্ত পড়েছিল। আমরা তাকে মিডিল ইস্ট পাঠিয়ে দেই।

ওখানে বেশ ভালোই করেছে, বিয়ে করেছে আমার আগেই। এখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুখেই আছে ওখানে। পরিস্থিতি হালকা করার জন্য বললাম, বাদ দে, তোর কথা বল, তোর কি প্রেমের বিয়ে না কি দেখাদেখির বিয়ে? লাজুক হেসে বললো, কহন যে ছাত্রীর প্রেমে পইড়া গেলাম তা কি কওয়া পারি? তারপর আমার বাবা মাকে জানাইল্যাম, বিয়া কইরা একবারে বউ দ্যাশে নিয়ে আসমু।

আমি বললাম, কেন তোর বাবা মাকে তোর সাথে রাখিস না কেন? সে বললো, তাদের বার্ধক্য এমন পর্যায়ে গ্যাছে যে তাগো নড়াচড়ার উপায় নাই। সব কিছু চিন্তা কইরা দ্যাহাসনার লোক রাইহা দিসি। বললাম, তোর বড় ভাই? সে বললো, তিনি পিএইচডি করতে সেই যে লন্ডন গেলেন আর দেশে ফিরলেন না। তবে বাবা মার জন্য প্রতি মাসে অনেক টাকা পাঠায় আমার মাধ্যমে।

বললাম, তারপর? সে বললো, তারপর আবার কি? আমি বললাম, গাছে উঠলো, পড়লো আর মরলো এমন গল্প শুনতে চাই না। ঝেড়ে কাশ। সে তার প্রথম প্রেম আর দ্বিতীয় প্রেম ও পরিণয়ের সব কথাই সুন্দর বর্ণনা করলো। সাত্তার খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারে। এক পর্যায়ে সে বললো, বন্ধু তোমার সঙ্গে শুদ্ধ ভাষা বলতে ভালো লাগছে না। সিরাগঞ্জের লোকের হাতে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা মানে আঞ্চলিক ভাষাকে অপমান করা।

আমি বললাম, কোনো অসুবিধা নাই। তারপরও আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে মাঝে মাঝে শুদ্ধ ভাষা ওর অজান্তেই বেরিয়ে আসছিলো। তার সুন্দর সাবলীল বর্ণনায় আমি মুগ্ধ। আর কলেজের তরুণী প্রেমে পড়বে না তা কি হয়! তার দুটি প্রেম কাহিনি গল্প-উপন্যাসের মতো। আমি তার বলার মতো করে লিখতে পারলাম না। ওর বলার মতো লিখতে পারলে বেশ ভালো হতো।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একবার প্রেম এসেছিলো নীরবে, কারণ সে প্রেম ছিল এক তরফা। সে প্রেম নিভৃতে নির্জনে গুমরে গুমরে কেঁদে শুধুই সাত্তারের হৃদয় জ্বালা বাড়িয়েছে এর বেশি কিছু না। তাদের বন্ধুত্ব হয়েছিল কিন্তু সাত্তার তাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়নি। সদা ভয়, সদা লাজ, কি জানি সে কি মনে করে। সাত্তারকে আবার বাজে ছেলে ভেবে না বসে। হয়তো ভাবতে পারে প্রেম করে তো বখাটে ছেলেরা।

বেশ কিছুদিন পর তারই এক সহপাঠী সবার সামনে সে মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসলো। মেয়েটি রেগে চলে গিয়েছিলো। সাত্তার তার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে তার নিজের মনে ভালোবাসার ফল্গুধারার স্রোতস্বিনী নদীর বেগে বয়ে গিয়েছিলো। আবেগ উচ্ছাসে সে রাত ঘুমাতেই পারেনি। পরদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীষ্মের ছুর্টির বন্ধ তাই সে গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিলো।

ছুটি শেষে এসে যা দেখলো সে ধকল সাইবার মতো না। মেয়েটি সেই ছেলেটিকে নিয়ে সাত্তারের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়ে, বললো, ওকে তো জানিস সাহসী ছেলে। আমাকে কোনো ভনিতা না করে তোদের সবার সামনে আমাকে ভালোবাসার কথা বললো। অনেক ভেবে চিনতে মনস্থির করে ফেললাম ওর সাথেই বাকি জীবন কাটাবো।

ওর কথা শুনে সাত্তারের হৃদযন্ত্র বন্ধ হবার উপক্রম। বলে কি! প্রেমের প্রস্তাব শুনে যে মেয়ে রেগে চলে গেলো সে কিনা শেষ পর্যন্ত তাকেই বেছে নিলো? তারপর অনেকদিন সে স্বাভাবিক হতে পারেনি। তার মনে একটি ক্ষোভের সৃষ্টি হলো। তারপর মেয়েদের এড়িয়ে চলেছে বাকি জীবন।

তারপর দ্বিতীয় প্রেমের কথা। সাত্তার তখন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রিয় শিক্ষক। সে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় বই পড়তে দিতো। একদিন একটি বইয়ের মধ্যে তাকে উদ্দেশ্য করে একটি প্রেমপত্র পেলো, চিঠির শেষে কোনো নাম নেই, তাই বুঝতে পারছিলো না কে লিখেছে। অনেকদিন পর মেয়েটি নিজেই ধরা দিলো।

সাত্তার খুবই অবাক! এ যে এমন ধারাবাহিক প্রেম-পত্র লিখতে পারে তা কখনোই ভাবতে পারেনি। এবার সে ভুল করলো না। লোক চক্ষুর অন্তরালে তাকে ভালোবাসার কথা জানালো। শিক্ষক ছাত্রীর প্রেমের কথা জানাজানি হলে সর্বনাশ। তাই তারা গোপনে প্রেম পত্রের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের প্রেমের রাজ্যে স্বর্গের বাগান রচনা করলো। অবশেষে পরিবারে প্রস্তাব পাঠালো।

আমি বললাম, বাহ্ বেশ ভালো তো! তোদের প্রেম কাহিনি খুবই মজার। সে বললো তবে একটি ছোট সমস্যা হয়েছিলো বন্ধু। আমি বললাম, সে আবার কি? সাত্তার বললো, বুঝলি সবই কপাল। আমি বললাম, বল না কি সমস্যা। সে বললো, আমার বিয়ের উত্তেজনা সারা কলেজে ছড়িয়ে পড়লো। আমার তখন আর্থিক সঙ্গতি ছিল এমন যে কোনোমতে বিয়ে করে বৌ বাড়ি নিয়ে আসা।

এতো লোক খাওয়ানের তো আমার সামর্থ্য ছিল না। তবে আমার শ্বশুর মশায় সব ব্যবস্থা করে ধুমধামের সাথে বিয়ের দিয়েছিলেন। এমন সুন্দর আনন্দের সময় একটি ভুল করে ফেললাম। আমি বললাম, কি ভুল করলি, প্রেম পরিণয় সবই তো ঠিক!

কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো, আমরা সব সময় শুনে আসছি বিয়ের রাতে বিড়াল মারার কথা। এই জঘন্য চিন্তা মানুষের মনে কি ভাবে আসে বুঝলাম না। প্রাগ ঐতিহাসিক যুগ থেকে অদ্যাবধি চলে আসছে কিভাবে গৃহস্বামী স্ত্রীকে নিজের হুকুমের দাস বানাবে। স্ত্রীকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী, বন্ধু বা জীবনসঙ্গী না ভেবে অধীনস্ত কর্মচারী ভাবার উদাহরণ অনেক আছে।

অনেকে অহংকার করে বলে, আমার ভাইয়ের মারাত্মক পার্সোনালিটি, আমাদের ভাবিকে সবসময় চোখের ইশারায় রাখে। কেউ কিন্তু একবার বলেন না আমার বাবার পার্সোনালিটি অনেক তিনি আমার মাকে দাঁপিয়ে বেড়ান। অথবা আমার বোনের স্বামী বোনকে করা শাসনে রাখেন, বাপরে তার কি পার্সোনালিটি! নিজের বেলায় ষোলো আনা।

এ ব্যাপারে একটি কৌতুক মনে পড়ে গেলো, তোকে বলি, তুই হয়তো শুনে থাকবি তারপর বলছি, দুই নারী প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে খোশগল্প করেন। একদিন প্রথম নারী জিজ্ঞেস করলেন আচ্ছা আপা আপনার ছেলে মেয়ের তো বিয়ে হলো বেশ ক’ বছর, তা তারা কেমন সংসার করছে? দ্বিতীয় নারী বললেন, কি আর বলবো আপা আমার মেয়ের বর কি যে ভালো।

আমার মেয়েকে কোনো কষ্টই দেয় না। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা রেডি করে মেয়েকে ঘুম থেকে ডাকে। তারপর অফিসে যায়। কোনো সময় অফিস থেকে এসে বাইরে নিয়ে যায় আবার মাঝে মাঝে রান্না করে খাওয়ায়। বুঝলেন আপা মেয়েটির বিয়ে খুব ভালো হয়েছে। প্রথম নারী বললেন, আর আপনার ছেলে?

দ্বিতীয় নারী এবার নাক ফুলিয়ে, রেগে বললেন, আমার ছেলের বউ খুবই অলস, কোনো কাজই করে না, আমার ছেলেকে দিয়ে রোজ নাস্তা বানায়, অফিস থেকে আসলে বাইরে নিয়ে যায় খেতে। বাসার সব কাজই আমার ছেলে করে। ছেলের বউ বড়ই বজ্জাত, আমার ছেলেকে খাঁটিয়ে মারছে।

তারপর বললো, বিয়ের রাতে বিড়াল মারার নানা ধরনের গল্প আছে। এমনকি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত কমেডি ‘টেইমিং অফ দা শ্রু’র’ বাংলায় রূপান্তর করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী মনির চৌধুরী ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ নামে। কিভাবে তার বউকে বশ করে তা তো নিশ্চয়ই পড়েছিস। তাছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটকটি প্রচার হয়েছিল। যাহোক, আমার মনে পড়ে আমি যখন বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম সে সময় আমার অগ্রজদের কাছ থেকে নানা উপদেশ আসতে লাগলো।

উপদেশ এমনই একটি জিনিস যা না চাইতেই পাওয়া। আমাকে একজন শেখালেন কিভাবে বিয়ের রাতেই বিড়াল মেরে বউকে বশ করতে হয়। আমি বললাম, ‘বউ কি বন্য হাতি না কি? যে তাকে খাদে ফেলে বশে আনতে হবে’! তিনি হতাশ হয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে পরে বুঝবে, অভিজ্ঞতার তো কোনো দাম নেই’। যে যাই বলুক বিড়াল মারার মতো নিকৃষ্ট কাজ আমি করবো না। তারপর ভুলটি করে ফেলেছিলাম, আমাদের সহকারী অধ্যক্ষের উপদেশে।

তিনি বললেন, রান্নাঘর থেকে বাঁচতে হলে একটি কাজ করতে হবে আপনাকে। আর তা করতে হবে বাসর রাতেই। তবে এটাকে ঠিক বিড়াল মারা বলবেন না। তার কথায় একটু আগ্রহ বাড়লো। বিড়াল মারা না অথচ বিয়ের রাতেই করতে হবে। তিনি বললেন, বৌয়ের সাথে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে চা বানিয়ে আসর কথা বলে রান্না ঘরে যাবেন। তারপর রান্না ঘর নোংরা করে রেখে আসবেন, দেখবেন আপনাকে কখনোই আর রান্না ঘরে যেতে দেবে না। কারণ মেয়েরা রান্না ঘর পরিষ্কার রাখতে পছন্দ করে।

যথাসময়ে বিয়ের রাতে ঘণ্টাখানেক গল্প করার পর বউকে, বললাম একটি অপেক্ষা করো চা বানিয়ে নিয়ে আসছি। এতে সে প্রবল আপত্তি করলো। বললো, আপনি বসেন আমি চা করে আনছি। আমি বললাম, তুমি আজ রাতে আমার মেহমান, কাল থেকে তুমি সাংসারিক সব দায়িত্ব পালন করবে, এ শর্তে সে রাজি হলো। আমি রান্না ঘরে ঢুকে চায়ের পানি চাপিয়ে হাত দিয়ে এদিক ওদিক কিছু পানি ছিটিয়ে দিলাম।

কাপে চা ঢালার সময় ইচ্ছে করেই কিছু চা ফেলে দিলাম। চায়ের কেতলী, চামচ, চিনি সব এলোমেলো করে রাখলাম। দু’কাপ চা নিয়ে যখন ঘুরে দাঁড়িয়েছি, দেখি বৌ পেছনে দাঁড়িয়ে। নিঃশব্দে কখন প্রবেশ করেছে বুঝতে পারিনি। আমাকে বললো, আপনি রান্নাঘর অপরিষ্কার করলেন কেন? আমি অপ্রস্তুত।

মনে মনে ভাবছি বিড়াল মারতে এসে কোনো ঝামেলায় পড়লাম। সবশেষে সে যা বললো, তা হচ্ছে, এগুলো পরিষ্কার করে আসবেন তা না হলে আজ আর বাসর ঘরে ঢুকতে হবে না। ড্রইংরুমে সোফায় বাকি রাত কাটাবেন। এখন বলো বন্ধু কার বিড়াল কে মারলো।

লেখক:- বায়াজিদ গালিব, রম্য লেখক, ক্যালগেরি, কানাডা


আরও খবর