Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে অটল ডিআইএ, সংকট জনবলের

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৭৬জন দেখেছেন
Image

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নানান অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। এতে রোধ হচ্ছে সরকারের মোটা অংকের টাকা অপচয়। কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেলেই সোচ্চার হয় সংস্থাটি। কিছু বিষয়ে অটোমেশন চালু করায় অনেক সমস্যা মিটলেও এখনো রয়েছে লোকবল সংকট। জনবল বাড়ানো ও কর্মকর্তাদের সময়পোযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে কাজের গতি আরও বাড়বে বলে মনে করেন সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর।

জানা যায়, জালিয়াতি করে চাকরির মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম, জমি বেহাত হওয়া চিহ্নিতকরণ, ভুয়া শিক্ষক-ছাত্র শনাক্ত, আয়-ব্যয়ের হিসাব ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণ চিহ্নিতকরণ, এক শিক্ষকের একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায় চিহ্নিতকরণ, নির্ধারিত সময়ের আগে উচ্চতর স্কেল গ্রহণ বন্ধসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের অনিময়-দুর্নীতি বন্ধে কাজ করছে ডিআইএ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিআইএ থেকে এ পর্যন্ত ১১শ ৫৬ জন শিক্ষকের ভুয়া সনদ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শিক্ষক অবৈধভাবে নিয়েছেন সাড়ে ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষকের কাছ থেকে সে অর্থ আদায় করা সম্ভব হয়েছে। কেউ কেউ সাধারণ ক্ষমায় পার পেয়েছেন। বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ডিআইএ’র যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একমাত্র প্রতিষ্ঠান ডিআইএ। এ প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘চোখ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ডিআইএর তদন্তের মাধ্যমে সব ধরনের স্কুল-কলেজের অনিয়ম প্রকাশ পাচ্ছে।

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যারা বিধিবর্হিভূত কাজ করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণসহ ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করছি। এর মাধ্যমে সরকারি তহবিলের অর্থ অপচয় রোধ হচ্ছে।’

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আইন শাখার উপ-পরিচালক মোহম্মদ লিয়াকত আলী জাগো নিউজকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী অপরাধীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। সেজন্য ডিআইএ থেকে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠালে সেটি একজন অতিরিক্ত সচিবের সমন্বয়ে শুনানি করা হয়। সেখানে কেউ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে তাকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়। এ পদ্ধতির ব্যত্যয় ঘটালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে পারেন।

জানা যায়, সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে পাঁচ-ছয় বছর আগে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহির আওতায় আনতে পরিদর্শন কাজ ডিজিটালাইজ করা হয়। এতে তদন্ত কাজে বাড়ে গতি। তবে উদ্যোগ নিয়েও তহবিলের অভাবে জোড়া পরিদর্শন (পেয়ার ইন্সপেকশন) চালু করতে পারেনি। এটি চালু করা গেলে প্রতিবছর সব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা সম্ভব হতো।

বর্তমানে সংস্থাটির জনবলের অভাব আছে। চার দশক আগে মাত্র সাড়ে সাত হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের জন্য এ সংস্থায় যে জনবল ছিল, বর্তমানে ৪০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও সেই একই সংখ্যক জনবল আছে। এ কারণে সংস্থাটি বছরে গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারছে। ফলে একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আসার পর দ্বিতীয়বার যেতে সময় লেগে যাচ্ছে অন্তত ১০ বছর।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০১২ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এ সংস্থাটি পরিদর্শন করেছিল। ১০ বছর পর আবার সেখানে এ সংস্থার একটি টিম তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। গত ১০ বছরে এ সংস্থার বিরুদ্ধে অবৈধ ভর্তি, জাল সনদে পদোন্নতিসহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

বিভাগভিত্তিক ভুয়া সনদ ও অর্থ আদায়ের সুপারিশ
ডিআইএর অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৩ সাল থেকে ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১ হাজার ১৫৬ জন শিক্ষকের জাল সনদ চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতায় ঢাকা বিভাগের ২৫৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪৪ জন, রাজশাহীতে ৩২৩ জন ও খুলনার রয়েছেন ১৯৪ জন।

মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগের আওতায় ঢাকা বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ৫২ জন, রাজশাহীতে ১২০ জন, খুলনায় ৫৭ জনসহ মোট ৩৩৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিমাসে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বাবদ গ্রহণ করা ৪০ কোটি ৬৯ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬২ টাকা আদায় করতে সুপারিশ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এসব শিক্ষকের মধ্যে একাডেমিক, এনটিআরসিএ, কম্পিউটার, কৃষি, বিশেষায়িতসহ বিভিন্ন ধরনের সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা যায়।

ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর জাগো নিউজকে বলেন, শুরুতে দেশের সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ডিআইএ প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান বাড়লেও সে অনুযায়ী জনবল বাড়ানো হয়নি। অবকাঠোমো সমস্যার কারণে জরুরি ফাইল রাখারও জায়গা হচ্ছে না। এতে তদন্ত তৈরি হয়েছে কাজে ধীরগতি।

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুমাত্রিক অনিয়ম রোধে আমাদের পরিদর্শকরা কীভাবে কাজ করবেন সে বিষয়ে ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। অন্যান্য দেশে কীভাবে পরিদর্শন-তদন্ত করা হচ্ছে সেটি দেখা সম্ভব হলে পরিদর্শকরা আরও অভিজ্ঞ হয়ে উঠবেন। আমাদের কাজের গতি বাড়াতে একটি অটোমেশন সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। এটি পুরোদমে কার্যকর হলে পরিদর্শকরা কাউকে ছাড় দেওয়া বা অবহেলা করার সুযোগ পাবেন না। শিক্ষা প্রশাসনের সবাই ডিআইএর কাজ যে কোনো স্থান থেকে মনিটরিং করতে পারবেন।’

পরিচালক আরও বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ হয়। এসব শিক্ষকদের সুপারিশ করার আগে তাদের সনদ যাচাই-বাছাই করলে জাল করার সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে ডিআইএ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও একাডেমিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। কাজের গতি অনেক বাড়বে। জাল সনদ চিহ্নিত কারণে কর্মকর্তাদের বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে।


আরও খবর



অপহরণের ১৯ দিন পর আ’লীগ নেতার বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী উদ্ধার

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অপহরণের ১৯ দিন পর আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে ব্যবসায়ী হেলাল খানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় একটি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাসসহ চার অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শনিবার (৬ আগস্ট) দিনগত রাতে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লুর বাড়ি থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী হেলাল খানকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই রাতে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে অপহরণ করা হয় ব্যবসায়ী হেলাল খানকে। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের শিরগ্রামের মৃত. আলিম খানের ছেলে। শিরগ্রামে একটি সুতার মিল রয়েছে হেলাল খানের।

অপহৃত হেলাল বলেন, গত ১৮ জুলাই রাতে আমাকে বানা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লু ফোন দিয়ে ডেকে নেয়। বুড়াইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাসে উঠানো হয়। জিল্লু আমাকে বলেন, চল ঘুরে আসি। এরপর গাড়িতে ওঠামাত্রই আমার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। বিভিন্ন স্থান ঘুরে আমাকে নিয়ে রাখা হয় একটি ঘরে। আমি জানালা খুলে ওই এলাকার দোকানের সাইনবোর্ড দেখে বুঝতে পারি খুলনায় আছি। পরদিন জিল্লু আমাকে তার আড়পাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে আটকে রেখে ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

তিনি বলেন, এভাবে বেশ কয়েকদিন চলে যায়। এরই মধ্যে আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে জিল্লুসহ তার সহযোগীরা। আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। বাড়ি থেকে কেউ ফোন দিলে তারা লাউড স্পিকারে কথা বলাতো। ওরা শিখিয়ে দিতো যে আমি ব্যবসার কাজে বাইরে আছি। একারণে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেনি। এরই মাঝে তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে আমার সই নেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি চেকের পাতায়ও সই করিয়ে নেয় জিল্লুসহ তার লোকজন। প্রতিদিনই আমাকে মারধর করা হতো।

হেলাল খান জাগো নিউজকে বলেন, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার মিলের একটি মেশিন বিক্রি করে দেয় ওরা। প্রায় ১২ লাখ টাকায় মেশিন বিক্রি করে দেয়। আমাকে দিয়েই বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে মেশিন বিক্রির কথা বলায়। কাস্টমার আসলে ওরা মিলে গিয়ে তাকে মেশিন বুঝিয়ে দিয়ে ওদের অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে নেয়।

তিনি আরও বলেন, আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লু এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। কয়েকমাস আগে বানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয় জিল্লু। আওয়ামী লীগ করায় বিভিন্ন অপকর্ম করলেও ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। সর্বশেষ আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয় অপহরণকারী জিল্লুর। আমার বড় ভাই থানা পুলিশের কাছে বিষয়টি জানালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ আমাকে জিল্লুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লু বানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সদস্য। জিল্লু ও হেলাল খান দূর সম্পর্কের শ্যালক দুলাভাই। দুজনের মধ্যে ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ঘটনার সত্য-মিথ্যা তারা ও প্রশাসন ভালো বলতে পারবেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত ব্যবসায়ী হেলাল খানকে আড়পাড়া গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিয়া জিল্লুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এসময় জিল্লুসহ (৪৫), বোয়ালমারী উপজেলার ছুলনা গ্রামের পংকজ রায় (৪৩), চরনারানদিয়া গ্রামের রাকিব শেখ (৩২) ও আড়পাড়া গ্রামের মো. নিশানকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়।

ওসি আরও বলেন, উদ্ধার অভিযানে একটি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, দুটি মোবাইল ফোন ও সোনালী ব্যাংকে টাকা জমার একটি রশিদ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।


আরও খবর



অগ্রিম টিকিটেই ২ কোটি আয় করলো রণবীরের ‘শামসেরা’

প্রকাশিত:Friday ২২ July 20২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

রণবীর কাপুরের বহুল আলোচিত সিনেমা 'শামসেরা'। আজ ২২ জুলাই এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ২০ জুলাই শুরু হয় এর অগ্রিম টিকিট বিক্রি। জানা গেছে, অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে প্রথম দিনেই দুই কোটি রুপি আয় হয়েছে সিনেমাটির।

'শামসেরা' দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় প্রত্যাবর্তন হলো অভিনেতা রণবীরের।

অনেক দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে সিনেমাটি। এটি ২০১৮ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল। শুটিং শেষ হয় ২০২০ সালে। মহামারি করোনার কারণেই সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে যায় কয়েক দফা। অবশেষে এটি হলে এসেছে।

রণবীর কাপুরকে শেষ দেখা গিয়েছিলো ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া 'সাঞ্জু'তে। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার 'ব্রহ্মাস্ত্র' সিনেমা। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আলিয়া ভাট।


আরও খবর



‘একচেটিয়া’ বাসভাড়া প্রত্যাখ্যান, সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণের দাবি

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর সঙ্গে সমন্বয় করে বর্ধিত ভাড়াকে ‘একচেটিয়া’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণ করে নতুনভাবে বাস ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে তারা।

রোববার (৭ আগস্ট) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, গেল নভেম্বরে জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির সময়ে বাস ভাড়া ৩৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়। এর ৯ মাসের মাথায় আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে এক লাফে বাস ভাড়া আবারো ২২ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়। প্রতিটি পুরনো লক্কড়-ঝক্কড় বাসকে শো-রুম থেকে নামানো নতুন বাসের দাম, ব্যাংক সুদ ও অন্যান্য নতুন বাসের সুযোগ-সুবিধার হিসাব ধরে ব্যয় বিশ্লেষণ করা হলেও সিটি সার্ভিসে ৯৮ শতাংশ বাস-মিনিবাস চলাচলের অযোগ্য।

আন্তঃজেলা দুরপাল্লায় ৪৮ শতাংশ বাস ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। এসব বাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পুরোনো এসব বাসের যাত্রী সেবার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গতকালের বাস ভাড়া বৃদ্ধির সভায় এসব বাসকে চকচকা নতুন বাস হিসেবে ব্যয় বিশ্লেষণ করায় যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি নতুন বাস এবং পুরাতন বাস আলাদা আলাদা ব্যয় বিশ্লেষণ ও আলাদা আলাদা ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকার বাস মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করলেও কোনো বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর নেই। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশ কয়েকগুণ বর্ধিত ভাড়া বাসে বাসে আদায় হলেও সরকার কার্যত এসব বাসের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না। সিটি সার্ভিসে সরকার কিলোমিটার প্রতি ভাড়া নির্ধারণ করলেও বাসে বাসে ওয়েবিলে যাত্রীর মাথা গুনে গুনে ভাড়া আদায় করা হয়। ঢাকা মহানগরীর কথিত সিটিং সার্ভিসে স্বল্প দুরুত্বে যাতায়াত করলেও সর্বশেষ গন্তব্য পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।

‘ঈদ ও পূজা-পার্বণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যে দিশেহারা হয়ে পড়েন যাত্রী সাধারণ। এ পরিস্থিতি তুলে ধরে দেশের ১৬ কোটি যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগের কথা বলতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বাস ভাড়া নির্ধারণের সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে বার বার আবেদন নিবেদন করলেও সরকার বাস মালিকদের বিশেষ সুবিধা দিতে যাত্রী প্রতিনিধি ছাড়া বার বার বাস ভাড়া নির্ধারণ করে থাকেন।’

অনতিবিলম্বে বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করে সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণপূর্বক নতুন ভাড়া নির্ধারণের দাবী জানান তিনি।


আরও খবর



নেত্রকোনায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষিকার মৃত্যু

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
Image

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা লিজা (৪০) মারা গেছেন।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে তিনি মারা যান।

বুধবার (৩ আগস্ট) কর্মস্থল থেকে ময়মনসিংহের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন সহকারী অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা। পথে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস-সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনি আহত হন।

তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুদিন চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মারা যান তিনি।

রাজিয়া সুলতানা মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের বড় পাইকুড়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান মুকুল ও সৈয়দা পারুল বেগম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান।

তিনি অবিবাহিত ছিলেন। কর্মজীবনের শুরু থেকে মাকে নিয়ে নেত্রকোনা পৌর শহরের নাগড়া এলাকায় বসবাস করতেন। ছয় মাস আগে ওই বাসা পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ শহরে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করেন। পরে ২৮তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে ২০১০ সালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন রাজিয়া।

শনিবার (৬ আগস্ট) নিজ বাড়ি মোহনগঞ্জে নেওয়ার আগে সকালে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


আরও খবর



তরুণদের জন্য ব্যাংকিং পেশা কেন আকষর্ণীয়?

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ধামরাই উপজেলার বালিয়া শাখায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি তার ব্যাংকে চাকরি, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফিচার লেখক ইসমাম হোসেন

জাগো নিউজ: শৈশবের গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই—
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: আমার দুরন্ত শৈশব কেটেছে নিজ গ্রামে। জন্ম ও বেড়ে ওঠা বগুড়ায়। শৈশবে মাছ ধরা, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, ফুটবল, ক্রিকেট খেলে এবং দৌড়ঝাঁপ করেই সময় কেটেছে। তবে পড়াশোনার ব্যাপারে মায়ের ছিল কড়া শাসন। সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে যাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। প্রথম শ্রেণি থেকেই রোল ১, ২, ৩ এর মধ্যে থেকেছে। পড়াশোনার হাতেখড়ি গৃহশিক্ষক রফিকুল ইসলামের হাতে। পরে ভর্তি হই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এমফিল ডিগ্রি অর্জন করি। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কৃষি অর্থনীতি’ নিয়ে পিএইচডি গবেষণারত।

জাগো নিউজ: পড়াশোনায় প্রতিবন্ধকতা ছিল কি না?
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: না। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল না। আমরা চার ভাই। সবার জন্যই আমাদের বাড়িতে একজন গৃহশিক্ষক থাকতেন। স্যারের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ও কড়া অনুশাসনে পড়াশোনা করেছি। আমার পড়াশোনার নেপথ্যের কারিগর আমার মা।

জাগো নিউজ: এত পেশা থাকতে ব্যাংকিং পেশা কেন বেছে নিলেন?
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: সত্য বলতে, আমার চাকরিজীবী বা ব্যাংকার হওয়ার কোনো ইচ্ছাই কখনো ছিল না। প্রবল ইচ্ছা ছিল, চাকরি করব না। আমি অন্যকে চাকরি দেব। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় কিছু কাছের বন্ধুকে নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। কিছুদিন ব্যবসা করার পর অনভিজ্ঞতা ও পুঁজি সংকটের কারণে ব্যবসা থেকে আশানুরূপ রিটার্ন পাচ্ছিলাম না। এদিকে দেশের অন্য দশটা পরিবারের মতো আমার পরিবারও সরকারি চাকরি করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। পরিবারের চাপ এবং সামাজিক মর্যাদার কারণে চাকরির পড়াশোনা শুরু করি স্নাতকোত্তর পাসের পর। প্রথমে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা দিয়ে চাকরি জীবনে প্রবেশ করি। পরে ২০১২ সলে গণমানুষের ব্যাংক বলে খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ‘সিনিয়র অফিসার’ হিসেবে যোগদান করি। বর্তমানে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বালিয়া শাখার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

জাগো নিউজ: কে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে? কার কথা মনে পড়ে?
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: অবশ্যই আমার মা-বাবা। আমার জীবনে যতটুকু সফলতা, তার মূল কারিগর আমার মা। তিনিই আমাকে সর্বদা সার্বিক সহযোগিতা ও সাহস জুগিয়েছেন। পাশাপাশি আমার প্রতি আমার সুহৃদদের যে প্রত্যাশা, সেটাও আমার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এ ছাড়াও আমার অগ্রজ তিন ভাই আব্দুল মান্নান, আব্দুল হান্নান, আব্দুল খালেক, আব্দুল মান্নান স্যার, রফিক স্যার, আ. আজিজ স্যার, বাসেত স্যার, রেজাউল স্যার, আতোয়ার স্যার, আব্দুল হালিম বেগ স্যার ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমার মেন্টর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজী স্যারসহ সবার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা। তাদের সবার অবদান অনস্বীকার্য।

জাগো নিউজ: ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার গল্পটি শুনতে চাই—
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: শুরুতেই বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় আমার ইচ্ছা ছিল না, আমি চাকরি করব। তা হোক সরকারি বা বেসরকারি। কিন্তু ব্যবসায়ে অল্প সময়ে সফলতা না পাওয়া এবং পারিবারিক চাপে একটু দেরীতে বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। ২০১১ সালে বিকেবির বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করি। ২০১২ সালে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে বিকেবিতে যোগদান করি।

জাগো নিউজ: ভাইবার প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছিলেন?
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: ভাইবার জন্য নিজ জেলা, অনার্সের পঠিত বিষয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলী এবং সমসাময়িক ঘটনাবলি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলেই ভালো করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, সফল হতে হলে লেগে থাকতে হবে। জীবনে দু’একটি খুচরা সমস্যা আসবেই। তা বলে ভেঙে পড়লে চলবে না। ভাইবার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সুতরাং হতাশ না হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

জাগো নিউজ: ব্যাংকার হিসেবে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কি?
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: অনেকের ধারণা, যারা বাণিজ্য বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে; তারাই ব্যাংকার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলে। আমাদের দেশে বিসিএসের মতো যে কোনো বিষয়ের স্নাতকরা ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। তবে এ কথা ঠিক যে, অন্যান্য বিষয়ের স্নাতকদের তুলনায় বাণিজ্য বিভাগের স্নাতকরা সহজেই ব্যাংকিংয়ের বিষয়াদি বুঝে উঠতে পারেন। আমি কলা অনুষদের শিক্ষার্থী হওয়ায় শুরুতে কাজ করতে কিছুটা অসুবিধা হলেও অভিজ্ঞ সহকর্মীদের সহযোগিতায় ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা দ্রুতই কেটে উঠতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য আমার প্রথম কর্মস্থলের সহকর্মী তৎকালীন ম্যানেজার ইনামুল স্যার, উত্তম দাদা, ওলী ভাই, দেলোয়ার ভাই এবং বারেক ভাইয়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। পরের কর্মস্থল ফেনীর সাবেক মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মুস্তাফিজুর রহমান স্যার, শরীয়তপুরের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) কাজী কামরুজ্জামান স্যার ও প্রধান কার্যালয়ের ভিজিল্যান্স স্কোয়াড বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) শাহ মুহাম্মাদ মাঈনুল হাসান স্যার ব্যাংকিং বুঝতে নিরন্তর সহযোগিতা করে চলেছেন। বর্তমানে ঢাকার মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম স্যারের সহযোগিতার জন্য স্যারের প্রতি জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা।

জাগো নিউজ: আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই—
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: ছাত্রজীবনের সুপ্ত বাসনা বা যে চিন্তা ছিল, তা আমি গণমানুষের বাংলাদেশে কৃষি অর্থায়নে সর্ববৃহৎ বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালীন প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রান্তিক পর্যায়ে বিস্তৃত ১০৩৮টি শাখা রয়েছে। তার মধ্যে একটি শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার শাখার আওতায় ৫টি ইউনিয়নব্যাপী প্রায় ৬০০০ ঋণগ্রহীতাকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ যে আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, সে ক্ষেত্রে বৃহৎ ভূমিকা পালন করছে কৃষকদের অর্থলগ্নীকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। বিশেষত শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ খাতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্য আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি করছি। যা দেশের
কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা ভূমিকা পালন করতে পেরে ভালো লাগছে। দেশ মাটি ও মানুষের জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করে যেতে চাই।

জাগো নিউজ: নতুন প্রজন্মের যারা ব্যাংকার হতে চান, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: আমি মনে করি, যারা সৎ উপায়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে চান, তাদের জন্য অবশ্যই ব্যাংকিং ক্যারিয়ার আকর্ষণীয়। কারণ ব্যাংকে বেতনের পাশাপাশি স্বল্প সুদে কোটি টাকার উপরে গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট ঋণ, মোটরগাড়ি ঋণ, মোটরসাইকেল ঋণ, কম্পিউটার ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ ও লাঞ্চ সাবসিডিসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধার কারণে একজন ব্যাংকার স্বল্প সময়ে সৎ উপায়ে বাড়ি-গাড়ির মালিক হতে পারেন। যে কারণে বর্তমানে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে ব্যাংকের চাকরি।

জাগো নিউজ: নিজেকে একজন ব্যাংকার হিসেবে কতটুকু সফল মনে হয়?
মুহাম্মাদ মাছুদুর রহমান: আমি সফল না ব্যর্থ, তা আমার সম্মানিত গ্রাহকগণ, সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বলতে পারবেন। তবে আমাকে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সর্বদা নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করেছি।


আরও খবর