সর্বশেষ

আজঃ বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১

শিবচরের লাবিব হত্যা মামলার আসামীদের খুটির জোড় কোথায় ?

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কাঁঠালবাড়ি মদন মোড়লের কান্দির ১৮ টি  লুটপাটের মামলার ঘটনায়যুক্ত ব্যাক্তিরাই শিবচরে বহুল আলোচিত লাবিব হত্যা মামলার প্রধান হোতা বলে জানাগেছে।মাদারীপুর শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মদন মোড়লের কান্দি মান্নান মড়লের বাড়ির পাশে রাস্তার উপর গত ২৮ মার্চ ২০২১ তারিখে রাত অনুমান ৯.০০ টার দিকে লাবিব মিয়া (১৫)কে ডেকে সুমন ও কাওছার মটর সাইকেল যোগে বাংলাবাজার নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উক্ত মান্নান মোড়লের বাড়ির নিকট রাস্তার উপর পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনা মতে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা চারিদিক থেকে মোটরসাইকেলের উপর আক্রমণ করে এবং লাঠি দ্বারা পিটিয়ে, লাথি ঘুসি মেরে গুরুতর জখম করে আহত করে।একপর্যায়ে এলাকার লোক লাবিব মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঁচ্চর ক্লিনিকে নিয়ে আসেন কর্তব্যরত চিকিৎসক লাবিব মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা প্রেরণ করেন। ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্ ঘোষণা করেন।সুরতহাল রিপোর্ট এবং হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত লাবিব কে কঠিন আঘাতেই হত্যা করা হয়েছে।তার ডান বাহুতে পাওয়াগেছে খামচির দাগ/পেছনের ঘাড়ের অংশে মাথার নিচে কঠিন আঘাতে ফোলা,শরীরের পেছনে পিঠে বহু আঘাতের আলামত।লাবিবের পরিবার সুত্রে জানাগেছে যে দশজন এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তাদের প্রত্যেকের নামেই পুর্বে লুটপাট,ডাকাতি সহ নানা অভিযোগে ১৮ টি মামলা রয়েছে শিবচর থানায়।রহস্যজনক কারনে ২ জন আসামী ছারা এ মামলার বাকী সব আসামীরা প্রকাশ্যে পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরলেও কাউকেই গ্রেফতার করছে না পুলিশ।লাবিব মিয়ার বাবা হাজী মো: মুজাহিদ হোসেন জুলহাস বেপারী বলেন, গত ২৮ মার্চ ২০২১ আমার ছেলে লাবিব মিয়া (১৫) কে খুন করার জন্য ষড়যন্ত্র করিয়া অনুমান রাত ৯.০০ ঘটিকার সময় আমার ছেলে লাবিব মিয়াকে আমার বাড়ি কাঁঠাল বাড়ি সংলগ্ন থেকে সুমন ও কাওছার ডেকে মটর সাইকেল যোগে বাংলা বাজার নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উক্ত মান্নান মোড়লের বাড়ীর নিকট রাস্তায় পৌঁছালে আশে পাশে ওৎপেতে থাকা জুলফিকার মুন্সি (৪২), মোজাম্মেল মাদবর (৪৫), মোহাম্মদ আলী মাদবর (৪০), নুরু মল্লিক (৪৮), কালামিয়া মল্লিক (৫০), লাবলু মল্লিক (৩৫), সোহাগ মল্লিক (৩৫), দিদার মুন্সি (২৪), সর্ব থানা জাজিরা, জেলা শরীয়াতপুর। সুমন মিয়া (১৯), কাউছার চোকদার (১৯), সর্ব থানা শিবচর, জেলা মাদারীপুর সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জন  লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, লাথি ঘুসি মেরে আমার ছেলেকে খুন করে। আমি আমার ছেলের খুনিদের ফাঁসি চাই। আমি এই খুনিদের বিরুদ্ধে শিবচর থানায় মামলা করেছি।শিবচর থানার মামলা নং০১ তারিখ ০১/০৪/২০২১ ধারা ১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩০২ পেনালকোড।মামলাটি তদন্ত করছেন শিবচর থানার ওসি তদন্ত মোঃ আমির হোসেন সেরনিয়াবত।মামলাটি দায়ের হলেও আজ দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও পুলিশ সব আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে লাবিব মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা যাওয়ার পথে কারা কারা মেরেছে সমস্ত ঘটনা আমার নিকট বর্ণনা করে গেছে। তাই আমি উপরোক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছি।এ মামলায় এজাহার ভুক্ত দুই আসামী গ্রেফতার হলেও মুল হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরাঘুরি করলেও তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এ হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা এলাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক,তাদের প্রত্যেকের নামেই জাজিরা ও শিবচর থানায় হত্যা,ডাকাতি, মাদক বিক্রির অভিযোগসহ অসংখ্য মারামারির মামলা রয়েছে।তারা নানা সময়ে বড় বড় অপরাধ করেও আইনের ফাঁক ফোকর গলিয়ে বাইরে এসে পুনরায় অপরাধমুলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়।লাবিব হত্যায় জড়িত এসব আসামীরা প্রকাশ্যেই ঘোরাঘুরি করছে বলে জানান এলাকাবাসী।পুলিশ তাদের ধরছেনা ।সকলের একটাই প্রশ্ন হত্যাকারীদের খুটির জোড় কোথায়?

সরেজমিনে শিবচর থানার ওসি তদন্ত মোঃ আমির হোসেন সেরনিয়াবত প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন করোনা মহামারি এবং মামলায় অভিযুক্তদের অনেকের বাড়ি ভিন্ন থানা এলাকায় হওয়াতে এবং আসামীরা গাঁ ঢাকা দেওয়ায় পুলিশ সব আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি।তবে পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট হাতে এসে পৌছলেবাকী আসামীদের গ্রেফতারে কোমরবেঁধে মাঠে নামবে পুলিশ।