Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

ষাটগম্বুজ মসজিদে হবে বাগেরহাটের ঈদের প্রধান জামাত

প্রকাশিত:Friday ২৯ April ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৯৯জন দেখেছেন
Image

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

ঐতিহ্যবাহী ষাটগুম্বজ মসজিদে প্রতিবারের মতো এবারও বাগেরহাটের ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।  মুসল্লিদের আধিক্যের কারণে এই মসজিদে এবারও তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।এবার ঈদের প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল সোয়া ৮টায় এবং ৩য় ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়।


বিশ্ব ঐতিহ্য এই মসজিদে ঈদের প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বাগেরহাট আলিয়া (কামিল) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন ষাটগম্বুজ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হেলাল উদ্দিন। তৃতীয় এবং সর্বশেষ জামাতে ইমামতি করবেন বাগেরহাট শহরের সিঙ্গাইড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম।  


ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট ষাটগুম্বজ মসজিদে ঈদের জামাতের মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখক সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।


পবিত্র ঈদুল ফিতর-১৪৪৩ হিজরি (২০২২) উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তুতি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলার অন্যান্য মসজিদে প্রথম জামাত সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।


এছাড়া পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি আরবি ও বাংলা হরফে লেখা ঈদ মোবারক লেখা পতাকা উত্তোলন করতে বলা হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ঈদ মোবারক লিখিত প্লাকার্ড ও ব্যানার স্থাপন করবে স্থানীয় জন প্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসন।  


আরও খবর



সৌদি আরবে গিয়ে লাশ হলেন ছেলে, বিচার চেয়ে কাঁদছেন বাবা

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image

পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে কাজের সন্ধানে যান নজিবুল্লাহ (২২)। কিন্তু আড়াই মাসের মাথায় মৃত্যু জোটে তার ভাগ্যে। নজিবুল্লাহকে বিদেশে পাঠাতে তিন দফায় দালাল চক্রের হাতে সাড়ে ৭ লাখ টাকা দিয়েও রক্ষা হয়নি তার। সন্তান ও সম্পদ হারিয়ে এখন নিঃস্ব নজিবুল্লাহর বাবা।

এ ঘটনায় রোববার (১২ জুন) এক নারীসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে নড়াইল সদর আমলি আদালতে ১২ জুন অভিযোগ দায়ের করেছেন নজিবুল্লাহর বাবা কেরামত শেখ। বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে এজাহার আকারে লিপিবদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার মিরাপাড়া গ্রামের জলিল মিনার ছেলে শাহাবুদ্দিন মিনা কেরামত শেখের স্ত্রীর ফুফাতো ভাই হওয়ার সুবাদে ছেলে নজিবুল্লাহকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদি আরবে পাঠানোর মৌখিক চুক্তি করেন বাবা। শাহাবুদ্দিন মিনার ভগ্নিপতি নড়াইল সদর উপজেলার চাঁচড়া গ্রামের সাইফুল আব্দার সৌদি আরবে কর্মরত।

কেরামত শেখ ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সাইফুল আব্দারের স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও শ্যালক (রাবেয়ার চাচাতো ভাই) আমিনুর মিনার কাছে প্রথম দফায় ৩ লাখ টাকা দেন। গত ১ মার্চ রাবেয়া ও আমিনুরের কাছে আরো ৩ লাখ টাকা প্রদান দেন কেরামত শেখ। মোট ৬ লাখ টাকা দেওয়ার পর ১৭ মার্চ সৌদি আরবে পৌঁছান নজিবুল্লাহ।

পরবর্তীতে নজিবুল্লাহর কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে এবং সৌদি পুলিশের ভয় দেখিয়ে কেরামত শেখের কাছে আরো দেড়লাখ টাকা দাবি করেন শাহাবুদ্দিন মিনা। গরু বিক্রি ও ধারদেনা করে দাবিকৃত দেড়লাখ টাকাও দেন কেরামত শেখ।

কিন্তু ৪ জুন কেরামত শেখ সৌদি আরবে অবস্থানরত অন্য লোকের মাধ্যমে জানতে পারেন তার ছেলে নজিবুল্লাহকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করেছে এবং ছেলের মৃতদেহ সৌদি আরবের হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে।

নজিবুল্লাহর বাবা কেরামত শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে সব সম্বল বিক্রি করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম সুখে শান্তিতে বসবাস করবো বলে। কিন্তু শাহাবুদ্দিন মিনা ও তার বোন রাবেয়া ভগ্নিপতি সাইফুল আব্দারের খপ্পরে পড়ে আমার সব শেষ। আমি এর বিচার চাই।
শাহাবুদ্দিন মিনা ও রাবেয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, নজিবুল্লাহকে বিদেশ পাঠাতে আমরা সহযোগিতা করেছি এবং সে সৌদি আরবে পৌঁছেছে। পরবর্তীতে কী হয়েছে আমরা জানি না।

সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সজিব মোল্যা জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমরা অন্যভাবে জানতে পেরেছি। তবে কেরামত শেখ আমাদের কাছে বা পরিষদে এখানো কোনো অভিযোগ দেননি।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত কবির বলেন, থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি, শুনেছি আদালতে মামলা করেছে। আমাদের কাছে তদন্তভার এলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।


আরও খবর



গাইবান্ধায় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বোন নিহত

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ভাইয়ের লাঠির আঘাতে নাদিরা বেগম (৫৪) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুন) সকালে উপজেলার দক্ষিণ সাথালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাদিরা বেগম উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাথালিয়া গ্রামের নাদের মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে আপন বড় ভাই লেবু মিয়ার সঙ্গে নাদিরার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জেরে মঙ্গলবার সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে লেবু মিয়ার লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন নাদিরা। পরে তাকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।


আরও খবর



সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: ফায়ারম্যান আলাউদ্দিনের বাড়িতে শোকের মাতম

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের আগুন নেভাতে গিয়ে নিহত ফায়ারম্যান মো. আলাউদ্দিনের (৩৫) বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

রোববার (৫ জুন) দুপুর ১২টায় নোয়াখালীর চাটখিলে গ্রামের বাড়িতে তার মৃত্যুর খবর আসার পর পুরো এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। নিহত আলাউদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানসা গ্রামের বড় মুন্সি বাড়ির মো. আবদুর রশিদ মেম্বারের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার মধ্যরাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে তিনি মারা যান।

এদিকে নিহত আলাউদ্দিনের বাবা মাস্টার ইলিয়াস ভূঁইয়া (৯০), মা মমতাজ বেগম (৭৫) ও স্ত্রী তাসলিমা সুলতানা (২৮) কান্নায় বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনরা বাড়ির আঙিনায় ভিড় করছেন। আলাউদ্দিনের নিহতের সংবাদের পরিবারসহ পুরো বানসা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের বড়ভাই স্থানীয় কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জহির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ছয়ভাই ও চার বোনের মধ্যে আলাউদ্দিন পঞ্চম। সে সাড়ে সাত বছর আগে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের সাহাপুর গ্রামের মাস্টার মো. ইলিয়াস ভূঁইয়ার মেয়ে তাসলিমা সুলতানাকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে মো. তাজউদ্দিন তাহিম নামে ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেলে আমার ভাইয়ের মরদেহের পাশে তার স্ত্রীর ভাইসহ আমাদের কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাড়িতে আনার চেষ্টা চলছে। তবে বাবা, মা, ভাইয়ের স্ত্রী ও অবুঝ শিশু সন্তানকে কী বলে সান্ত্বনা দিবো বুঝতে পারছি না।’

চাটখিল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা চন্দ্র শেখ গাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফায়ারম্যান চাটখিলের আলাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। এছাড়া আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফায়ারম্যান আলাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো বার্তা আসেনি। আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শনিবার (৪ জুন) রাত ১১টার দিকে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। এ সময় এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। একটি কনটেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। ভেঙে পড়ে আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাঁচ।

সবশেষ এ ঘটনায় ৪২ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আলাউদ্দিনসহ আটজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী।


আরও খবর



সৌদি আরব যাওয়ার পথে সড়কে লাশ হলেন যুবক

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৭৯জন দেখেছেন
Image

গাজীপুরের রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন।

মঙ্গলবার (৭ জুন) বিকেলে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের টেংরারটেক লিচু ফ্যাক্টরির সামনে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম জহির (৩৫)। তিনি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার মৃত মুসলিম খানের ছেলে।

jagonews24

আহতরা হলেন নিহত জহিরের শ্যালক কাদির (২০), প্রাইভেটকার চালক রুবেল (২৭), চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার পূর্ব চরকৃষ্ণপুর এলাকার অলি মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর ও তার শ্যালক একই উপজেলার আলনী বাজার এলাকার মুক্তারের ছেলে মিঠু (১৬)।

দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মজিবুর জানান, জহিরের আজ সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে তিনি স্বজনদের সঙ্গে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। টেংরারটেক লিচু ফ্যাক্টরির সামনে গাজীপুর-চট্টগ্রাম এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জহির।

তিনি আরও জানান, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর



পদ্মা সেতুর প্রকৃত ব্যয় বাড়েনি: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

পদ্মা সেতুর প্রকৃত ব্যয় যেভাবে শুরু করা হয়েছে সেটি দিয়েই নির্মাণ হয়েছে। এখানে অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. সামসুল আলম।

তিনি বলেছেন, আমরা ব্যয় বাড়ার কথা বলি, কিন্তু ২০১৫ সালে আমরা যে ব্যয় ধরেছি তার সঙ্গে যদি মূল্যস্ফীতিটা ধরা হয় তাহলে হিসাব করলে ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়ে যায়। বাকি ব্যয়টা বেড়েছে নদী শাসনের ফলে। ১২ কিলোমিটার নদী শাসন করার কথা ছিল, সেটা হয়েছে ১৪ কিলোমিটার। এছাড়া মাঝের দুইটি পিলার করতে গিয়ে দেখা গেছে তলদেশ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সেটাতে আরও বাড়তি ব্যয় হয়েছে। আরেকটি বিষয় ছিল তিনগুণ দামে জমিগুলো নিতে হয়েছে। এতে ৩০ হাজার কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে সেতুর ব্যয়।

শনিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণ: বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ তথা উন্নয়নশীল দেশসমূহের এক যুগান্তকারী বিজয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটি।

ড. সামসুল আলম বলেন, ২০০১ সালের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন। তারপর কোনো কাজ হয়নি। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট তৈরি করেন। সেখানে এটা বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০১৪-১৫ অর্থবছর। ২০০৭ সালে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ দশমিক ৫১ মিলিয়ন টাকা। সে সময় ডলারের দাম ছিল প্রতি ডলারের ৭০ টাকা। তারা তখন কিছু করে যেতে পারেননি। ২০০৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসে প্রথমবার এটির ব্যয় ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেন। সর্বশেষ খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৫৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এটা বলার অর্থ কীভাবে টাকার পরিমাণটা বেড়েছে।

‘অর্থনৈতিক লাভ কী হবে সেটি প্রথম বলা হয়েছিল এক দশমিক ২৩ শতাংশ জিডিপিতে যুক্ত হবে। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় জিডিপি হবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তখন কিন্তু আমাদের পায়রা সমুদ্রবন্দর হয়নি, মংলা বন্দরও এত আধুনিকায়ন হয়নি। আমাদের পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও ছিল না। এই যে পর্যাপ্ত বিদ্যুতের সুবিধা এখন। আগে সেটি ছিল না। তখন জিডিপির প্রবৃদ্ধি যে ধরা হয়েছিল সেটি কম ধরা হয়েছে। সবগুলো মিলিয়ে দেখলে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে।’

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর প্রকল্প শুরুর সময়ে বলা হয়েছিল, দারিদ্র্যের হার কমবে বছরে দশমিক ৮৪ শতাংশ। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর প্রতি বছর টোল আদায় হবে এক হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। সরকার ৩৫ বছরে সুদসহ ৩৬ হাজার কোটি টাকা পাবে। সরকারের কাছ থেকে সেতু কর্তৃপক্ষ ঋণ নিয়ে সেতু করেছে। সেতুর প্রতিফল আমরা এই সময়ে পেতে শুরু করবো।

পদ্মা সেতু নির্মাণের পেছনে নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আর্থিক কোনো কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করেনি, যা ছিল সেটি একটি রাজনৈতিক কারণে। পাক-বাঙালি জিন্দাবাদ বলতে যারা ভালোবাসে তাদের ষড়যন্ত্রের অংশও ছিল পদ্মা সেতু।

সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান বলেন, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু প্রকল্প বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। পদ্মা নদীর দৈর্ঘ্য কম হলেও খর স্রোতের দিক থেকে নির্মাণশৈলীর দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম সেতু এটি। এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক যে উন্নয়ন করবে সেটা বলে বোঝানো যাবে না। ওই অঞ্চলের মানুষের যে দুর্ভোগ ছিল সেটি পরিমাপ করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী অদম্য শক্তি কারণেই বাংলাদেশের এত বড় প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। পদ্মা সেতু আমাদের জয়যাত্রার উদাহরণস্বরূপ।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান, পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।


আরও খবর