Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

সাক্কুর হ্যাটট্রিক নাকি নতুন মুখ

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৭১জন দেখেছেন
Image

রাত পোহালেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন (কুসিক)। বুধবার (১৫ জুন) সকাল ৮ থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। শেষ হবে বিকেল ৪টায়। এবার কুমিল্লা সিটির ২৭টি ওয়ার্ডে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে।

এদিকে কুসিক নির্বাচন ঘিরে সবার দৃষ্টি এখন সেখানে। যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার আউয়াল কমিশনের অধীনে বড় কোনো নির্বাচন এটি। তাই এই নির্বাচনে কোনো ধরনের ফাঁক রাখতে চাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন।

এরপরও ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটকক্ষে পেশিশক্তি প্রদর্শনের শঙ্কা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীও সদ্য সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে কালো টাকা বিতরণের অভিযোগ করেছেন।

এবার নির্বাচনে পাঁচজন মেয়রপ্রার্থী রয়েছেন। তবে মূল লড়াইটা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এবং নিজাম উদ্দিন কায়সারে মধ্যে। আর সাক্কু তো গত দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকি দুজন প্রথমবারের মতো লড়াই করছেন। ফলে কুমিল্লাবাসীর মুখে এখন প্রশ্ন- সাক্কুর হ্যাটট্রিক নাকি নতুন মুখের অভিষেক।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব কিছুই করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা ও পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট তৎপর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো শঙ্কার কারণ নেই।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। দায়িত্বে কেউ গাফিলতি ও অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

তিনি জানান, কুসিক নির্বাচনে তিন হাজার ৬০৮ জন পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবেন। সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে থাকবেন যথাক্রমে ১৫ ও ১৬ জন করে পুলিশ। এছাড়া আনসারসহ গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও থাকবেন।

আর পুলিশের মোবাইল ফোর্স থাকবে ২৭টি, প্রতি ওয়ার্ডে একটি। স্ট্রাইকিং ফোর্স নয়টি। রিজার্ভ ফোর্স দুটি। আর বিজিবি মোতায়েন করা হবে ১২ প্লাটুন, র‌্যাবের ২৭টি টিম থাকবে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট ও নয়জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত থাকবেন দুই হাজার ৫৬০ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৬৪০ জন, পোলিং অফিসার ১২৮০ জন এবং সহকারী পোলিং অফিসার ৬৪০ জন।

এদিকে এরই মধ্যে কুমিল্লা সিটির বিভিন্ন পয়েন্টে ৭৫টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে-ভেতরে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার নির্বাচনে মোট ভোটার দুই লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯২, পুরুষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। আর দুজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

মোট ১০৫টি কেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। মেয়র ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১০৬ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রার্থী হয়েছেন।


আরও খবর



নতুন ব্র্যান্ড চালু করলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

বলিউড ও হলিউড দুদিকেই খ্যাতি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার। অভিনেয়র দক্ষতা দিয়ে দুদিকেই এগিয়ে রয়েছেন। তার রয়েছে অসংখ্য ভক্ত এবং ইনস্টাগ্রামে রয়েছে অনেক ফ্যান ফলোয়ার। তিনি অভিনেত্রীর পাশাপাশি ভালো উদ্যোক্তাও। তার একটি প্রোডাকশন হাউস রয়েছে এবং তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘সোনা’ নামে একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁ খুলেছেন।

এরইমধ্যে তিনি আরও নতুন উদ্যোগ শুরু করেছেন। প্রিয়াঙ্কা ‘সোনা হোম’ নামে একটি হোমওয়্যার ব্র্যান্ড চালু করেছেন।

প্রিয়াঙ্কা তার ব্যবসায়িক অংশীদার মনীশ গোয়ালের সঙ্গে এই নতুন হোম ডেকোর ব্র্যান্ড চালু করেছেন। যা তিনি ২০২১ সালে উদ্বোধন করেছিলেন।

অভিনেত্রী একটি ভিডিও শেয়ার করে তাতে বলেছেন, ‘ভারতে আমাদের সংস্কৃতির বিষয় হলো পরিবার, সম্প্রদায়, মানুষকে একত্রিত করা এবং এটাই আমার কাছে সোনা হোমের নীতি। তবে ভারত থেকে নিউইয়র্ক এসে থাকাটা আমার জন্য এত সহজ ছিল না। এখন এটিও আমার আরেকটি বাড়ি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি পরিবার এবং বন্ধুদের একত্রিত হতে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি আমার মতো একজন অভিবাসীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে প্রিয়াঙ্কা তার আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘সিটাডেল’র শুটিং শেষ করেছেন যা অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে প্রিমিয়ার হবে। তাকে পরবর্তীতে আলিয়া ভাট এবং ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে ‘জি লে জারা’-তে দেখা যাবে।


আরও খবর



‘মধ্যবিত্তরা আর আদর্শবাদী থাকছে না’

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

অধ্যাপক এম এম আকাশ। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ। অধ্যাপনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। চেয়ারম্যান, ব্যুরো অব ইকোনমিকস রিসার্চ। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।

প্রান্তিক কৃষি ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাজনীতির প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। বাংলাদেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করছে উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বৈষম্যই এখন রাষ্ট্র, সমাজের বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যবিত্তের আয় না বাড়লে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে না।

দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সায়েম সাবু।

জাগো নিউজ: কৃষকের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছেন, গবেষণা করছেন। সেচের পানি না পেয়ে দুজন আদিবাসী কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটলো সম্প্রতি। আত্মহত্যার এ ঘটনায় আপনার কাছে আলাদা পর্যবেক্ষণ আছে কি না?

এম এম আকাশ: অবশ্যই আলাদা করে বিশ্লেষণ করা যায়। প্রতিটি আত্মহত্যাই দুঃখজনক ও কষ্টের। কিন্তু এই আদিবাসীর আত্মত্যার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে। প্রথমত, প্রান্তিক তথা সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সদস্য। দ্বিতীয়ত, তারা কৃষক ও বরেন্দ্র অঞ্চলের সমতলে বাস করে। বরেন্দ্র অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সেখানে পানির অভাব থাকে এবং সেচ মৌসুমে পানি দিতে না পারলে ক্ষেতের পুরো ফসল নষ্ট হয়। ওই দুই কৃষকের সেচের পানির অভাব ছিল এবং পানি পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছিল। পানি না পাওয়ায় মনের দুঃখে তারা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে, এমনটিই খবর এসেছে। সব মিলিয়ে এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা নয় তো বটেই, উপরন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে দুঃখ পেয়ে দুজন মানুষের আত্মহত্যা।

জাগো নিউজ: এই দুঃখবোধের জায়গা থেকে কী বলা যায়?
এম এম আকাশ: দুঃখের কারণ তারা নিজেরা না। তারা বরং কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছে। তাদের দরকার ছিল পানি এবং পানি পাওয়া ছিল তাদের অধিকার। এই অধিকার থেকে তারা কেন বঞ্চিত হলো এটিই হচ্ছে মৌলিক প্রশ্ন। কারা বঞ্চিত করলো? বঞ্চিত করা অবশ্যম্ভাবী ছিল নাকি লাভ ও লোভের কারণে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এটি তদন্ত করে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা জরুরি বলে আমি মনে করি।

বরেন্দ্র অঞ্চলে লাভ ও লোভের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়ে আসছে আগে থেকেই। কারণ এ অঞ্চলে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। এই গভীর নলকূপের সরকারি মালিকও আছে, বেসরকারি মালিকও আছে। বিএডিসি, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠান।

প্রাইভেট মালিকরা বাজারের নীতি অনুসরণ করে কাজ করেন, সুতরাং তাদের কাছে মুনাফার বিষয়টিই অধিক গুরুত্ব পায়। তারা তো দানবাক্স খুলে বসবে না। তবে মুনাফার ব্যাপারে অবশ্যই নীতি আছে। সেক্ষেত্রে খোঁজ নিতে হবে কী দামে সে মুনাফা নির্ধারণ করেছিল, যে দাম তারা দিতে পারেনি।

সাধারণত, এসব ক্ষেত্রে মালিকের একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকে। ব্যাপারটি এমন কি না যে, আর কোনো মালিক বা বিকল্প ছিল না বিধায় মালিকের নির্ধারিত দাম দিতে বাধ্য নতুবা আত্মহত্যা! এত কষ্ট করে বোনা ফসল পানির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এটি তো সহ্য করার মতো নয়।

পানির দরকার পড়লে আগে কৃষককে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়। মূল্য পরেও আদায় করতে পারবে এবং সে ক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে। হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসার মতো। আগে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা, পরে মূল্য আদায় করা। এ নীতি বেসরকারি হাসপাতালেও আছে। এ কারণে আমি বলছি, এই সেচ কাজে কার কী ভূমিকা ছিল তা বের করা জরুরি।

জাগো নিউজ: আদিবাসীদের সংকট তীব্র হচ্ছে। বিলীনও হচ্ছে এই জনগোষ্ঠীর জীবনধারা। আত্মহত্যার ঘটনায় সে দিকটাই উঠে এসেছে।

এম এম আকাশ: আদিবাসী জনগোষ্ঠী হচ্ছে গরিবের মধ্যে আরও গরিব। মূলধারার জনগোষ্ঠীর মধ্যে গরিব থাকলেও তার হয়তো ধনী আত্মীয়-স্বজন আছে। প্রাইভেট-পাবলিক সেক্টরে তাদের এক ধরনের প্রভাব থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ থাকে। কিন্তু সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর এই মানুষদের কেউ গুরুত্ব দেয় না। তারা এরই মধ্যে প্রান্তিকীকরণ হয়ে এক্সক্লুসিভ হয়ে গেছে। তারা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ধারায় ইনক্লুসিভ নয়। এই আত্মহত্যা রাষ্ট্র বা সমাজকে বার্তা দিচ্ছে যে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ করে ভাবতে হবে। বিশেষ করে সেচ ব্যবস্থায় প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আলাদা করে বিধান তৈরি করতে হবে, যেখানে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দুই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা অনেকটাই সংঘবদ্ধ এবং তারা একটি শান্তিচুক্তি আদায় করে নিয়েছে। তবে তারাও এই সরকারের নানা কর্মকণ্ড নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছে। তার মানে সংগঠিত একটি গোষ্ঠীই চুক্তি অনুসারে তাদের অধিকার আদায় করতে পারছে না। আর সমতলের অসংগঠিত সাঁওতালরা তাদের অধিকার কীভাবে আদায় করবে! আর তারা কীভাবে বেঁচে আছে তা বলাই বাহুল্য।

জাগো নিউজ: এ ঘটনাকে সামগ্রিক কৃষকের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করে কী বলা যায়?

এম এম আকাশ: সমাজে কৃষকই সবার আগে বঞ্চিত। তাদের অধিকার হরণ করেই অন্যরা প্রাচুর্য গড়ে তোলে। আমরা কৃষি কার্ডের কথা বলে আসছি বহু আগে থেকে। একজন বিত্তবান কৃষক যত সহজে রাষ্ট্র-সমাজ থেকে যেভাবে সুবিধা পায়, একজন গরিব বা প্রান্তিক কৃষক সে সুবিধা পায় না।
কৃষকের সংকট দূর করতে হলে তলানি থেকে ভাবতে হবে। একজন ধনী কৃষক দাম বেশি দিয়ে হলেও কৃষিসামগ্রী কিনতে পারেন। একজন গরিব কৃষক তা পারেন না।

জাগো নিউজ: অধিকার আদায়ের কথা বলছেন। আপনি কমিউনিস্ট পার্টি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কমিউনিস্ট পার্টির কৃষকদের নিয়ে সংগঠন ‘ক্ষেত মজুর সমিতি’ কাজ করছে। কৃষকের অধিকার আদায়ে কী দেখলেন?

এম এম আকাশ: আমি মনে করি, কৃষকের আত্মহত্যার মতো ঘটনা কোনো সমাধান নয়। কৃষকের মধ্যে চেতনা থাকতে হবে যে, আমি আত্মহত্যা করবো না। আমি আমার অধিকার আদায় করে নেবো। এজন্য চাহিদা তৈরি করতে হয়।

আমরা যারা কৃষকের অধিকার নিয়ে কাজ করছি, তাদের উচিত প্রান্তিক পর্যায়েও কৃষকদের নিয়ে সংগঠন করা, তাদের কাছাকাছি যাওয়া। এই দুটো না হলে সংকটের মীমাংসা হবে না। সরকারের তো মনিটরিং নেই। নলকূপ আছে কি না, পানির ঘাটতি কেমন, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে কি না- এসব নিয়ে তদারকি নেই। সরকার আইন লিখেই খালাস। বাস্তবায়ন নিয়ে মাথাব্যথা নেই।

জাগো নিউজ: কৃষকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা নিয়ে কী বলবেন?
এম এম আকাশ: এখানে দুদিক থেকে ব্যর্থতা আছে। কৃষকরা নিজেরাই সচেতন নয়। অন্যদিকে যারা কৃষকদের সচেতন করে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে, তারা তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা বিস্তৃত করতে পারেনি।

সাধারণত, মধ্যবিত্ত আদর্শবাদী কর্মীরাই কৃষক সংগঠন করেন। মধ্যবিত্তরা আর আদর্শবাদী থাকছে না। ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ নীতিতে মধ্যবিত্তরাও। ষাটের দশকে একজন তাজুল ইসলামকে আমরা দেখেছিলাম, যিনি এমএ পাস করেও চাকরি না করে আদমজী পাটকলে গিয়ে শ্রমিকদের সংগঠিত করার আন্দোলন করেছেন। এখন একজন তাজুল ইসলামকেও পাবেন না।

আদর্শবাদীদের আমি দোষ দিচ্ছি না। তারা হয়তো ভাবছে, এক সময় সমাজতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি। সমাজতন্ত্র তো ব্যর্থ হয়েছে। আবার আদর্শবাদী হয়ে জীবন নষ্ট করবো? এই হতাশা থেকেই মানুষ আদর্শ থেকে সরে আছে। হতাশা দূর করতে হবে।

জাগো নিউজ: রাষ্ট্র, সমাজ যে জায়গায় চলে যাচ্ছে, সেখান থেকে হতাশা কাটানো আর সম্ভব?

এম এম আকাশ: রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত বাণী ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারাইও না। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো হলো পাপ’। সুতরাং, মধ্যবিত্তরা এগিয়ে না এলে প্রান্তিক মানুষেরাই আদর্শের জন্য লড়াই করবে। ক্ষেতমজুররাই এগিয়ে আসবে। তলা থেকে শুরু করতে হবে।

জাগো নিউজ: পরিবর্তনের কথা বললেন। এখন সেই পরিবর্তন (আদর্শচ্যুত) ত্বরান্বিত কি না?

এম এম আকাশ: সব জায়গায় এক রকম নয়। যেমন- গাইবান্ধায় আমাদের পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০ হাজারের ওপরে ভোট পান। হয়তো বিজয়ী হতে পারছেন না। কিন্তু আদর্শের জন্য ২০ হাজার মানুষ তাকে সমর্থন করছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তো কেউ কেউ লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জাগো নিউজ: সাধারণ প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই আন্দোলন-লড়াই তীব্র হওয়ার কথা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত-নিম্ন-মধ্যবিত্তের পক্ষ থেকে।

এম এম আকাশ: এক সময় দরিদ্র মানুষদের নিয়ে কমিটমেন্ট করে বামপন্থিরা সংগঠনকে বিস্তৃত করেছিল। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের দিকে আমরা এক ধরনের জোয়ার দেখেছিলাম। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ের পর পূর্ব ইউরোপিয়ান দেশগুলো একদিকে চলে গেলো। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলো। এর মধ্যেও কিউবা ভেনিজুয়েলা, ভিয়েতনাম একরকম থেকে গেলো।

চীন আবার মিশ্র পদ্ধতি অবলম্বন করলো। চীন শ্রমজীবীদের অধিকার রক্ষা করছে। চায়নায় জমি জাতীয়করণ করা হয়েছে। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোতে জমি জাতীয়করণ করা হয়নি। চায়না জমি বণ্টন করছে তৃণমূলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তৃণমূলে কমিউনিস্ট পার্টির, কৃষকদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে। তারা বসে ঠিক করছে যে, কোন পরিবারকে কত টাকা দেওয়া যাবে। পরিবারের লোক সংখ্যা বেশি হলে বেশি জমি পাচ্ছে, কম থাকলে কম পাচ্ছে। অথবা দরকষাকষি করে কৃষকরা জমি নিতে পারছে।

সমাজতন্ত্রের দুই ধরনের মডেল রয়েছে। এক, কেন্দ্রীভূত (আমলাতান্ত্রিক) মডেল, দুই, বিকেন্দ্রীভূত মডেল। বিকেন্দ্রীভূত মডেল এতই সফল হয়েছে যে, চীন এখন পৃথিবীতে শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও আর চীনের সঙ্গে পারছে না।

বাংলাদেশে বামপন্থিরা নতুন চিন্তা করে না। নতুন চিন্তা জরুরি। নবায়িত সমাজতান্ত্রিক ধারণা নিয়ে বামপন্থিদের অগ্রসর হতে হবে।

জাগো নিউজ: নবায়িত সমাজতন্ত্র বলতে আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?

এম এম আকাশ: যে সমাজতন্ত্র আমলাতান্ত্রিক বা কেন্দ্রভূত নয়, যে সমাজতন্ত্র বাজার ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় না, যে সমাজতন্ত্র বাজারকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রেখে, আমি নবায়িত সমাজতন্ত্র তাকে বোঝাতে চাইছি।

জাগো নিউজ: মূলধারার সমাজতন্ত্র আপনার এই ধারণাকে গ্রহণ করে?

এম এম আকাশ: ধারণা থেকে আলোচনা হতেই পারে। প্র্যাকটিস তো হতে পারে অন্তত। যেমন- চায়নাকে অনেকেই সমাজতান্ত্রিক দেশ বলতে রাজি নয়। আমি মনে করি, চায়না সম্পর্কে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। চায়না থেকে পজিটিভ বিষয়গুলো নিতে হবে, নেগেটিভ বিষয়গুলো বাদ দিতে হবে। চায়না আলীবাবা তৈরি করেছে। এখন আলীবাবা যদি চায়না দখল করে ফেলে, তাহলে কীসের সমাজতন্ত্র হলো? কিন্তু চায়না যদি আলীবাবার কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করে সব মানুষের কল্যাণে অসমতা কমাতে পারে, তাহলে সমস্যা কোথায়?


আরও খবর



রাষ্ট্রপতি পদে যাদের নাম প্রস্তাব মমতা ব্যানার্জীর

প্রকাশিত:Wednesday ১৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

ভারতে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বিরোধী দলগুলো। কোনো একজনকে ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি বিরোধী ১৭টি দল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে কাকে মনোনীত করা হবে, এ নিয়ে জোর জল্পনা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে। এই ক্ষেত্রে গোপালকৃষ্ণ গাঁধীর নাম ঘিরে আলোচনা চলছে।

বুধবার (১৫ জুন) পশ্চিমবঙ্গের সাবেক রাজ্যপাল বলেন, এত তাড়াতাড়ি মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এদিকে দিল্লির কনস্টিটিউশন হলে বিরোধীদের বৈঠক শেষে আরএসপির এন কে প্রেমচন্দ্রন জানান, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে গোপালকৃষ্ণ গাঁধী ও ফারুখ আবদুল্লার নাম প্রস্তাব করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

জানা গেছে, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য গোপালকৃষ্ণের সঙ্গে দেশটির বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতা ফোনে কথা বলেছেন। বিরোধীদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিরোধী নেতাদের একাংশের অনুরোধে প্রাথমিকভাবে গাঁধী-পৌত্র ‘ইতিবাচক’ সাড়া দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশে দাবি, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হতে ‘সম্মত’ হলে গোপালকৃষ্ণকেই সর্বসম্মতিক্রমে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করা হবে।

বৈঠক শেষে মমতা বলেন, আজকের বৈঠকে অনেক দল যোগ দিয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সর্বসম্মতভাবে একজনকে প্রার্থী করা হবে। সবাই তাকে সমর্থন জানাবে। আমরা বাকিদের সঙ্গেও কথা বলবো। আবারও একসঙ্গে আলোচনায় বসবো।


আরও খবর



দুঃসহ স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি নিমতলীর মানুষ

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

পুরান ঢাকার ভয়াবহ নিমতলী ট্র্যাজেডির এক যুগ আজ (৩ জুন)। ২০১০ সালের এ দিনে রাসায়নিক গুদাম থেকে সূত্রপাত হওয়া আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে মারা যান ১২৪ জন, আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। ওই দিনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় ২৩টি বসতবাড়ি, দোকানপাট ও কারখানা। দুঃসহ সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেন নি নিমতলীর বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৩ জুন) দুপুরে নিমতলীতে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। সকালে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। এছাড়া শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। নিহতদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন স্থানীয়রাও।

এদিকে, স্বজনহারা মানুষদের এখনো সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায়। দুঃসহ সেই স্মৃতির কথা জানিয়ে মো. রিপন নামের একজন জাগো নিউজকে বলেন, আমার পরিবার ও আত্মীয় মিলে মোট ছয়জন সেদিন পুড়ে মারা যায়। আমার মায়ের মরদেহ প্রথমে পাওয়া যায়নি। অনেক পরে পেয়েছি।

‘সেদিন মায়ের সঙ্গে কথা বলে বাইরে গিয়েছিলাম মোবাইলে টাকা রিচার্জ করতে। পরে বাসায় এসে দেখি আগুন দাউদাউ করছে। সেই আগুনে আমার মা, বোন, ভাগিনা ও খালাসহ ছয়জন পুড়ে মারা যায়।’

পরিবারের নিহত লোকজনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিপন বলেন, তাদের স্মৃতি আজও ভুলতে পারি নি। কত কিছু হারিয়েছি। আমাদের যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা সেটা এখনো পাইনি। শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা করেছেন কিন্তু সেটা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছায় নি।

এদিকে, কালো পাঞ্জাবি পড়ে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককেই। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর এ দিনটিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বজন হারানো মানুষগুলো ছুটে আসেন এখানে। স্মরণ করেন তাদের প্রিয়জনদের।


আরও খবর



পদ্মা সেতুতে ট্রাক উল্টে আহত ৩

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উত্তর ভায়াডাক্টে পেঁয়াজবাহী ট্রাক উল্টে তিনজন আহত হয়েছেন। পদ্মা সেতুতে যান চলাচলের দ্বিতীয় দিনে সোমবার (২৭ জুন) বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

jagonews24

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ সদস্য জানান, আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত গতিতে গাড়িটি আসছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। তিনজন আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ট্রাকে থাকা পেঁয়াজের মালিক সাহেদ বলেন, ‘ফরিদপুর থেকে ১৩৪ বস্তা পেঁয়াজ নিয়ে ঢাকার শ্যামবাজারে যাচ্ছিলাম। সেতুর মাওয়া প্রান্তে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।’


আরও খবর