Logo
আজঃ শনিবার ২৫ মে ২০২৪
শিরোনাম

র‌্যাবের অভিযানে গোলাগুলি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, অস্ত্রসহ ২ জঙ্গি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:সোমবার ২৩ জানুয়ারী 20২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ২৭৯জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ সোমবার ভোর থেকে কুতুপালং ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলির পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জঙ্গি সংগঠনটির শুরা সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান রণবীর এবং তার সহযোগী ‘বোমা বিশেষজ্ঞ’ বাশার।

কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালাম চৌধুরী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সোমবার ভোরে অভিযানে নামেন কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ সদস্যরা। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি শুরু করে।

তিনি জানান, এক পর্যায়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আস্তানা থেকে নব্য জঙ্গি সংগঠন ‘জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র শীর্ষ নেতা, শুরা সদস্য ও সামরিক শাখার প্রধান রণবীর এবং তার সহযোগী বোমা বিশেষজ্ঞ বাশারকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

এ ঘটনায় পরে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।


আরও খবর



মা মেয়ের একসাথে এসএসসি পাশ

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ১৪৫জন দেখেছেন

Image

আব্দুল হান্নান,নাসিরনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃএ বছর মা মেয়ে  এক সাথে এস, এস সি পরীক্ষা দিয়ে  পাশ করে তাকলাগিয়ে দিলেন মা।ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নে।চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নুরুন্নাহার বেগম (৪৪)ও তার মেয়ে নাসরিন আক্তার মা মেয়ে মিলে এবার এস এস সি পরীক্ষা দিয়ে দু জনই পাশ করেছেন । নুরুন্নাহার একাধারে দুই বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য।নুরুন্নাহার চাতলপাড় ওয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়  থেকে জিপিএ  ৪.৫৪ পেয়ে  ও তার  মেয়ে নাসরিন আক্তার জিপিএ  ২.৬৭ পেয়ে এস, এস,সি, পরীক্ষায়  উত্তীর্ণ হয়।

তাদের বাড়ি নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় গ্রামে। তাদের পাশের খবর শুনে এলাকার মানুষ দলে দলে তাহাদের বাড়িতে ছুটে  আসে ।নুরুন্নাহার কৃতিত্বের সাথে পাশ করায়, পাড়া-প্রতিবেশী, সহপাঠী ও স্কুলের শিক্ষকগণ, পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ তাকে উৎসাহ দিচ্ছে । ইউপি সদস্য নুরুন্নাহার বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানায়,আমি শত ব্যস্ততার মধ্যেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি।

আমি এবার কলেজে ভর্তি হব এবং যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন,শিক্ষা, নিয়ে বেঁচে থাকব, আমার ভাই ও স্বামীর সহযোগিতায় আমি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। আমার একটা সার্টিফিকেটের দরকার ছিল, আল্লাহর রহমতে আমি সেটা অর্জন করতে পেরেছি। শিক্ষার কোন বয়স নাই, যেকোন মানুষ ইচ্ছা করলে যেকোনো বয়সে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে বলে জানান নুরুন্নাহার।

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কেন্দ্র দখলে ব্যর্থ হয়ে পোলিং অফিসারকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | ১৯৬জন দেখেছেন

Image

মোঃ আব্দুল হান্নান,নাসিরনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ-

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসরিনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চাতলপাড় ইউনিয়নের এক ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজন পোলিং অফিসার গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বুধবার সকাল ১১ ঘটিকার সময় রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কেন্দ্র দখল করে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে চশমা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান  শেখ হুমায়ুন কবীর ও তার কর্মী সমর্থকরা।


এ ঘটনায় একজন পোলিং অফিসার গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার পলাশ সরকার। আহত পোলিং অফিসারের নাম মো. ফয়সাল আহমদ। তিনি চাতলপার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।স্থানীয় ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাতলপাড় ইউনিয়নের রতনপুর কেন্দ্রে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ হুমায়ূন কবীরের পক্ষের লোকজন পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে কেন্দ্র দখল নিতে চায়। সকাল ১০ ঘটিকার সময় কেন্দ্র দখল করতে গেলে পোলিং অফিসার  বাধা দেন।


তখন তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ওই কেন্দ্রের পোলিং অফিসারের উপর। এ ঘটনায় কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ প্রায় ৩০ মিনিট বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়।স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল করিম রানা সহ আরো অনেকেই বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে অনৈতিক সুবিধা না নিতে পেরে পোলিং অফিসারকে মারধর করা হয়েছে। এটা খুবই অন্যায়।নাসিরনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ভোট কেন্দ্রে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার কথা শুনেছি। এখন নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর



চরফ্যাশনে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের বীমাদাবীর ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর ও বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | ৪৫০জন দেখেছেন

Image
এস এম শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট ঃপপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের চরফ্যাশনে অঞ্চলের মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্রাহকদের বীমাদাবীর ২কোটি ১১ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর ও বার্ষিক সম্মেলন  অনুষ্ঠিত হয়েছে।রবিবার (২৮ এপ্রিল) সকালে চরফ্যাশন হোটেল মারুফ ইন্টারন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টার মিলনায়তনে এ  বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের আল আমিন বীমা প্রকল্পের উপ-মহাব্যবস্থাপক মাসুদ হাসানের সভাপতিত্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্য নির্বাহী সদস্য  বি এম ইউসুফ আলী। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উর্দ্ধতন  উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ব্রাঞ্চ কন্ট্রোল) সৈয়দ মোতাহার হোসেন, আল আমিন বীমা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী  মাসুদ রানা মাসুম, আল আমিন বীমা প্রকল্পের  মহাব্যবস্থাপক (উন্নয়ন) আমজাদুল হক টুলু। 

এ সময়ে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, একক বীমা প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক (উন্নয়ন) ইয়াকুব আলী শামীম, আল আমিন বীমা প্রকল্পের উপ-মহাব্যবস্থাপক  বাবুল হোসেন ।

সম্মেলন শেষে ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকার বীমা দাবীর চেক গ্রাহকদের হাতে হস্তান্তর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্য নির্বাহী সদস্য  বি এম ইউসুফ আলী। 


আরও খবর



জয়পুরহাটে ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ১৫১জন দেখেছেন

Image
এস এম শফিকুল ইসলাস জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃজয়পুরহাটে ভ্যানচালক আবু সালাম হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ম আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌশলী অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার কালাই উপজেলার আওড়া গ্রামের জাহাঙ্গীরের ছেলে হারুন অর রশিদ, মোসলেমের ছেলে মোস্তাক ও জসিমের ছেলে হাফিজার। এদের মধ্যে হারুন অর রশিদ পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার দুর্গাদহ এলাকার ভ্যানচালক আবু সালামকে আসামীরা শ্বাসরোধে হত্যা করে কালাই পৌরসভার আওড়া এলাকার একটি পুরাতন কবরে লাশ লুকিয়ে রেখে ভ্যান ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ২০০৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দুপুরে স্থানীয়রা ওই কবরে জীবজন্তু খাওয়া অবস্থায় তার লাশের পা দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় কালাই থানার তৎকালীন পরিদর্শক মির্জা মোঃ শাহাজাহান আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ এ রায় দেন।

আরও খবর



রৌমারীতে এলডিডিপি প্রকল্পে দুর্নীতি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | ১০৮জন দেখেছেন

Image

মাজহারুল ইসলাম,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সরকারি অর্থায়নে ছাগল ও ভেড়ার পরিবেশ বান্ধব শেড নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। তাদের অভিযোগ, নিজেদের একাউন্টে টাকা আসলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৌশলে তাদের কাছ থেকে চেকের পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলন করে ছাগল ও মুরগির পরিবেশ বান্ধব ঘর নির্মানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সিংহভাগ টাকা পকেট অস্ত্র করেন।

সরেজমিনে গিয়ে উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্রের মতে, উপকারভোগীদের একাউন্টে প্রেরিত অর্থ দিয়ে তাদের নিজেদের পরিবেশ বান্ধব ঘর তৈরির কথা থাকলেও সংশিষ্ট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তাদের সে সুযোগ না দিয়ে নিজেরাই এসব ঘর তৈরীর কাজ শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজের শুরুতেই এলডিডিপি প্রকল্পের প্রস্তাবিত পরিবেশ বান্ধব সেড নির্মাণে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার শুরু করলে দুর্নীতিপরায়ণ ওই কর্মকর্তা দ্বয় উপকারভোগীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) কর্তৃক উপজেলা পর্যায়ে গঠিত প্রডিউসার গ্রুপে (পিজি) সদস্যদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট সাপোর্টের আওতায় ছাগল ও ভেড়ার পরিবেশ বান্ধব সেড (ঘর) নির্মাণের জন্য এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এ বরাদ্দ দেয় । 

অভিযোগ উঠেছে , এসব পরিবেশ বান্ধব সেড নির্মাণের জন্য ৯৭ জন উপকার ভোগীর জন্য ২৫ হাজার করে এবং ৩৪ জন উপকারভোগীর জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে মাত্র সাত আট হাজার টাকায় প্রতিটি সেড নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। এভাবেই অবশিষ্ট সিংহভাগ টাকা পকেটস্থ করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এটিএম হাবিবুর রহমান ও প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদন্নবী মিলন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উপকারভোগী জানান, "আমাদের কাছ থেকে প্রথমেই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ব্যাংকে একাউন্ট খোলার কথা বলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবি  নিয়ে ব্যাংকে একাউন্ট খুলে দেন। পরবর্তীতে ওই একাউন্টে সেড নির্মাণের বরাদ্দ আসলে প্রাণিসম্পদ কর্মককর্তারা ছাগল রাখার ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে চেকের পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলন করে নেন।

জানা গেছে, নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পের অর্থে শেড নির্মাণের জন্য উপকারভোগীদের সাথে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিনামা সম্পাদন করেন ওই প্রকল্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। এমন কি স্ট্যাম্পের টাকাও উপকারভোগীদের কাছ থেকে আদায় করে নেওয়া হয়। এছাড়াও সেড ঘরের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়ার জন্য প্রতি সদস্যদের কাছ থেকে ২ শ থেকে ৩ শত টাকা নেওয়া হয়। এসব অর্থ খরচের বৈধ কোন ভাউচার পাওয়া যায়নি।  

উপকারভোগীদের বরাদ্দে টাকার পরিমানে কমবেশি থাকলেও সরজমিন ঘুরে ১৩১ টি ঘর একই রকম পাওয়া গেছে। যার প্রতিটি ঘর তৈরি করতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা লাগতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। সংশিষ্ট সূত্র জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর বামনেরচর ৩৬ টি, জিগ্নীকান্দী ৩৩ টি, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চরধনতল ২৮ টি ও হরিণধরা গ্রামে ৩৪ টি ঘর নিমার্ণ করা হয়। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প এলডিডিপির সহযোগীতায় বাস্তবায়ন করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল রৌমারী।

একাধিক উপকারভোগীর দাবী, "বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে আমরা সেড নির্মাণ করলে শেডগুলো পরিবেশ বান্ধব এবং টেক সই হতো। যা অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যেত। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা শেড গুলো অল্পদিনের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। 

অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন উপকারভোগীকে ম্যানেজ করে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এটিএম হাবিবুর রহমান ও প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদুন্নবী মিলন ঠিকাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অত্যন্ত কৌশলে উপকারভোগীদের নামে আসা বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা পকেটস্থ করেছেন। 

এদিকে প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী কাঠ, টিন, কনক্রিটের খাম ব্যবহার না করায় উপকারভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে শেড ঘরের মেঝে পাকা করার কথা থাকলেও  ওই কর্মকর্তারা তা না করে শেড ঘরের মেঝে পাকা করার জন্য উপকারভোগীদের কাছে দ্বায়িত্ব চাপিয়ে দেন।

রৌমারী সদর ইউনিয়নের চরবামনেরচর গ্রামের পিজি কমিটির সভাপতি ও সদস্য হোসনে আরা বলেন, প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে আমাদের কাছ থেকে কাগজ পত্র নিয়ে তারাই ব্যাংকে একাউন্ট খুলে আমাদের কাছ থেকে চেকে সই করে তারা টাকা উত্তোলন করেন। যে ঘর নিমার্ণ করে দেন তা একে বারেই নি¤œমানের।

এব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ সম্পসারণ কর্মকর্তা মাহমুদন্নবী মিলন জানান, দেখা শুনার দ্বায়িত্বে ছিলাম এর বেশি কিছু জানিনা। আমরা বড় স্যারের নির্দেশেনায় কাজ করেছি। নি¤œমানের শেড নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নীরব থাকেন।

রৌমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, সদস্যদের দ্বায়িত্ব দিলে এসব ঘরের কাজ ভালো ভাবে হবেনা তাই আমরা নিজেরাই করেছি। শেড নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এগিয়ে যান।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো মোনাক্কা আলীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, শেড নির্মাণে অনিয়ম হয়ে থাকলে লেখেন আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।



আরও খবর