Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

রূপগঞ্জে বিদেশী পিস্তলসহ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

প্রকাশিত:Sunday ১৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৩১জন দেখেছেন
Image

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ মোঃ আবু কাওছার মিঠু 


রূপগঞ্জে বিদেশী পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিসহ রনি (২৫) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। শনিবার সকালে চনপাড়াস্থর নির বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতারকৃত রনি চনপাড়া পূর্ণবাসন কেন্দ্রের ৯/৬ ব্লকের দুদু মিয়ার ছেলে।


রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এএফএম সায়েদ জানান, শনিবার ভোরে গোপন

সংবাদের ভিত্তিতে চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রে রনির বাড়িতে অভিযান চালায়

পুলিশ। পরে রনির দেহ তল্লাশি করে আমেরিকার তৈরী একটি বিদেশী পিস্তল ও দুই

রাউন্ড গুলিসহ রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র

আইনে মামলা হয়েছে।


আরও খবর



ফেসবুকে মাদরাসাছাত্রীর আপত্তিকর ছবি পোস্ট, বখাটের কারাদণ্ড

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৮জন দেখেছেন
Image

বগুড়ার ধুনটে ফেসবুকে মাদরাসাছাত্রীর আপত্তিকর ছবি পোস্ট করায় জুয়েল রানা (২৪) নামের এক বখাটেকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইলটি জব্দ করা হয়।

শনিবার (৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত জুয়েল রানা উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম গুয়াডহরি গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদরাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছেন বখাটে জুয়েল রানা। বিষয়টি নিয়ে তার বাবার কাছে বিচার দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জুয়েল রানা। পরে নিজের মোবাইলে এডিট করে ওই স্কুলছাত্রীর একটি আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়েল রানাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে দোষ স্বীকার করায় তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, রোববার সকালে জুয়েল রানাকে কারাগারে পাঠানো হবে।


আরও খবর



দাম বৃদ্ধির প্রভাব ওষুধ শিল্পেও পড়বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ওষুধ শিল্পেও পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সঙ্গে সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

অনেক ওষুধের জন্য বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে এটা আপনারা জানেন। কিন্তু ওষুধের দাম বেড়েছে বলে আমার জানা নেই। কোথাও যদি এমন হয় তাহলে সেটা অবশ্যই নজরদারিতে আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সামনে যাতে ওষুধের দাম না বাড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্যই আজকের এ আলোচনা। যেহেতু অনেক কিছুর দাম বেড়েছে সেহেতু এর প্রভাব ওষুধ শিল্পেও পড়বে। যেমন ডলারের দামও বেড়েছে তেমনি বিদেশ থেকে নিয়ে আসা কাঁচামালের দামও বেড়েছে। আমরা সবকিছু নিয়েই আলোচনা করেছি।

দেশে উৎপাদিত ওষুধের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারা একমত হয়েছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়ায় আমাদের যে পেটেন্ট সুবিধা আছে ২০২৬ সালে হয়তো সেগুলো অনেকাংশেই তুলে নেওয়া হবে। তখন কী হবে এবং ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায়, কীভাবে রপ্তানি বাড়ানো যায় সভায় এসব বিষয়েও কথা হয়েছে। ভ্যাকসিন কীভাবে তৈরি করা যায় সে বিষয়েও তাগাদা দিয়েছি।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, আলোচনায় আমরা সবাই নীতিগতভাবে একমত হয়েছি যে, ওষুধের উৎপাদন বজায় রাখব। আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওষুধ প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করবে, যে কোনো সমস্যা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করে নেবেন। এছাড়া আমাদের ওষুধের মানও তারা বজায় রাখবেন। পাশাপাশি ওষুধের দামও সহনীয় পর্যায়ে রাখবেন। সব শ্রেণির মানুষ যাতে ওষুধ কিনতে পারে এটিই আমাদের আলোচনার মূল বিষয়।

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান এবং মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামানসহ বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



তেজপাতার চা পানে সারবে যেসব রোগ

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৭২জন দেখেছেন
Image

সবার রান্নাঘরেই তেজপাতা থাকে। রান্নায় স্বাদ বাড়াতে তেজপাতার জুড়ি মেলা ভার। শুধু রান্নায় স্বাদ বাড়াতেই নয়, তেজপাতার আরও গুণাগুণ আছে।

তেজপাতায় আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, সি, আয়রন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।

এতে থাকা ওষুধিগুণ পেতে তৈরি করতে পারেন চা। জেনে নিন তেজপাতার চা পান করলে শরীরে যেসব উপকার মিলবে-

>> গবেষণায় দেখা গেছে, তেজপাতা চা টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করে।

>> তেজপাতার চা হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও এটি খুব কার্যকরী।

>> তেজপাতার চা হার্টের জন্য খুব ভালো। কারণ এতে পটাসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রন আছে। এছাড়া এসব পুষ্টিগুণ রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে।

>> এই চায়ে ভিটামিন সি থাকে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যও আছে, যা বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে দূরে রাখে।

>> তেজপাতা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

>> তেজপাতার চা ক্যানসারের চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয়।

>> এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য শরীরকে বিভিন্ন প্রদাহ থেকে রক্ষা করে।

তেজপাতার চা তৈরি করবেন কীভাবে?

উপকরণ

১. তেজপাতা ৩-৪টি
২. দারুচিনির গুঁড়া এক চিমটি
৩. লেবু ও মধু পরিমাণমতো।

পদ্ধতি

প্রথমে তেজপাতা ভালো করে ধুয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন। তারপর দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে নিন। তারপর তা ছেঁকে মগে ঢেলে নিন। সবশেষে মিশিয়ে নিন মধু বা লেবুর রস।

সূত্র: বোল্ডস্কাই


আরও খবর



জুরাইনে চিপসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৪জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর পোস্তগোলার পূর্ব জুরাইনে একটি চিপসের কারখানায় আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট।

বুধবার (৮ জুন) রাত ১১টা ২২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টায় প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট পৌঁছায় বলে জানান ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া) মো. শাজাহান শিকদার।

তিনি বলেন, রাজধানীর পোস্তগোলার পূর্ব জুরাইনে একটি চিপসের কারখানায় আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো খবর জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।


আরও খবর



সুকুমার রায়ের মজার গল্প: দানের হিসাব

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৯জন দেখেছেন
Image

এক ছিল রাজা। রাজা জাঁকজমকে পোশাক পরিচ্ছদে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেন, কিন্তু দানের বেলায় তার হাত খোলে না। রাজার সভায় হোমরা-চোমরা পাত্র-মিত্র সবাই আসে, কিন্তু গরিব-দুঃখী পণ্ডিত-সজ্জন এরা কেউ আসেন না। কারণ সেখানে গুণীর আদর নাই, একটি পয়সা ভিক্ষা পাবার আশা নাই।

রাজার রাজ্যে দুর্ভিক্ষ লাগল, পূর্ব সীমানার লোকেরা অনাহারে মরতে বসল। রাজার কাছে খবর এলো, রাজা বললেন, এ সমস্ত দৈবে ঘটায়, এর উপর আমার কোন হাত নেই। লোকেরা বলল, রাজভাণ্ডার থেকে সাহায্য করতে হুকুম হোক, আমরা দূর থেকে চাল কিনে এনে এ যাত্রা রক্ষা পেয়ে যাই। রাজা বললেন, আজ তোমাদের দুর্ভিক্ষ, কাল শুনব আর এক জায়গায় ভূমিকম্প, পরশু শুনব অমুক লোকেরা ভারি গরিব, ভুবেলা খেতে পায় না। সবাইকে সাহায্য করতে হলে রাজভাণ্ডার উজাড় করে রাজাকে ফতুর হতে হয়! শুনে সবাই নিরাশ হয়ে ফিরে গেল।

ওদিকে দুর্ভিক্ষ বেড়েই চলেছে। দলে দলে লোক অনাহারে মরতে শুরু করেছে। আবার দূত এসে রাজার কাছে হাজির। সে রাজসভায় হত্যা দিয়ে পড়ে বললো, দোহাই মহারাজ, আর বেশি কিছু চাই না, দশটি হাজার টাকা দিলে লোকগুলো আধপেটা খেয়ে বাঁচে।

রাজা বললেন, অত কষ্ট করে বেঁচেই বা লাভ কি? আর দশটি হাজার টাকা বুঝি বড় সহজ মনে করেছ? দূত বললো, দেবতার কৃপায় কত কোটি টাকা রাজভাণ্ডারে মজুত রয়েছে, যেন টাকার সমুদ্র! তার থেকে এক-আধ ঘটি তুললেই বা মহারাজের ক্ষতি কি? রাজা বললেন, দেদার টাকা থাকলেই কি দেদার খরচ করতে হবে? দূত বললো, প্রতিদিন আতরে, সুগন্ধে, পোশাকে, আমোদে, আর প্রাসাদের সাজসজ্জায় যে টাকা বেরিয়ে যায়, তারই খানিকটা পেলে লোকগুলো প্রাণে বাঁচে। শুনে রাজা রেগে বললেন, ভিখারি হয়ে আবার উপদেশ শোনাতে এসেছ? মানে সরে পড়। দূত বেগতিক দেখে সরে পড়ল।

রাজা হেসে বললেন, যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা! দুশো পাঁচশো হত, তবু না হয় বুঝতাম; দারোয়ানগুলোর খোরাক থেকে দু চারদিন কিছু কেটে রাখলেই টাকাটা উঠে যেত। কিন্তু তাতে তো ওদের পেট ভরবে না, একেবারে দশ হাজার টাকা হেঁকে বসলো! ছোটলোকের একশেষ! শুনে পাত্রমিত্র সবাই মুখে হুঁ-হুঁ করলেও মনে মনে সবাই বললো, ছি, ছি কাজটা অতি খারাপ হলো!

দিন দুই বাদে কোথা থেকে এক বুড়ো সন্ন্যাসী এসে রাজসভায় হাজির। সন্ন্যাসী এসেই রাজাকে আশীর্বাদ করে বললেন, দাতাকর্ণ মহারাজ! ফকিরের ভিক্ষা পূর্ণ করতে হবে! রাজা বললেন, ভিক্ষার বহরটা আগে শুনি। কিছু কমসম করে বললে হয়তো বা পেতেও পারেন। সন্ন্যাসী বললেন, আমি ফকির মানুষ, আমার বেশি দিয়ে দরকার কি? আমি অতি যৎকিঞ্চিৎ সামান্য ভিক্ষা একটি মাস ধরে প্রতিদিন রাজভাণ্ডারে পেতে চাই। আমার ভিক্ষা নেবার নিয়ম এই, প্রথম দিন যা নিই, দ্বিতীয় দিন নিই তার দ্বিগুণ, তৃতীয় দিনে তারও দ্বিগুণ আবার চতুর্থ দিনে তৃতীয় দিনের দ্বিগুণ। এমনি করে প্রতিদিন দ্বিগুণ করে নিই, এই আমার ভিক্ষার রীতি।

রাজা বললেন, তা তো বেশ বুঝলাম। কিন্তু প্রথম দিন কত চান সেইটাই হলো আসল কথা। দু' চার টাকায় পেট ভরে তো ভালো কথা, নইলে একেবারে বিশ পঞ্চাশ হেঁকে বসলে সে যে অনেক টাকার মামলায় গিয়ে পড়তে হয়!

সন্ন্যাসী একগাল হেসে বললেন, মহারাজ, ফকিরের কি লোভ থাকে? আমি বিশ পঞ্চাশও চাইনে, দু' চার টাকাও চাইনে। আজ আমায় একটি পয়সা দিন, তারপর ঊনত্রিশ দিন দ্বিগুণ করে দেবার হুকুম দিন। শুনে রাজা মন্ত্রী পাত্রমিত্র সবাই প্রকাণ্ড দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। তখন চটপট হুকুম হয়ে গেল, সন্ন্যাসী ঠাকুরের হিসাব মত রাজভাণ্ডার থেকে এক মাস তাকে ভিক্ষা দেওয়া হোক। সন্ন্যাসী ঠাকুর মহারাজের জয়-জয়কার করে বাড়ি ফিরলেন।

রাজার হুকুমমতো রাজ-ভাণ্ডারী প্রতিদিন হিসাব করে সন্ন্যাসীকে ভিক্ষা দেয়। এমনি করে দুদিন যায়, দশদিন যায়। দু' সপ্তাহ ভিক্ষা দেবার পর ভাণ্ডারী হিসাব করে দেখল ভিক্ষাতে অনেক টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। দেখে তার মন খুঁৎ খুঁৎ করতে লাগল। রাজামশাই তো কখনো এত টাকা দান করেন না! সে গিয়ে মন্ত্রীকে খবর দিল।

মন্ত্রী বললেন, তাইতো হে, এটা তো আগে খেয়াল হয় নি। তা এখন তো আর উপায় নেই, মহারাজের হুকুম নড়চড় হতে পারে না!

তারপর আবার কয়েকদিন গেল। ভাণ্ডারী আবার মহাব্যস্ত হয়ে মন্ত্রীর কাছে হিসাব শোনাতে চললো। হিসাব শুনে মন্ত্রীমশায়ের মুখের তালু শুকিয়ে গেল। তিনি ঘাম মুছে, মাথা চুলকিয়ে, দাড়ি হাতড়িয়ে বললেন, বল কি হে! এখন এত? তাহলে মাসের শেষে কত দাঁড়াবে?

ভাণ্ডারী বললো, আজ্ঞে তা তো হিসাব করা হয় নি! মন্ত্রী বললেন, দৌড়ে যাও, এখনি খাজাঞ্চিকে দিয়ে একটা পুরো হিসাব করিয়ে আন। ভাণ্ডারী হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে চললো; মন্ত্রীমশাই মাথায় বরফ জলের পট্টি দিয়ে ঘন ঘন হাওয়া খেতে লাগলেন।

আধঘণ্টা যেতে না যেতেই ভাণ্ডারী কাঁপতে কাঁপতে হিসাব নিয়ে এসে হাজির। মন্ত্রী বললেন, সবশুদ্ধ কত হয়? ভাণ্ডারী হাত জোড় করে বললো, আজ্ঞে এক কোটি সাতষট্টি লাখ সাতাত্তর হাজার দুশো পনের টাকা পনের আনা তিন পয়সা। মন্ত্রী চটে গিয়ে বললেন, তামাশা করছ নাকি? ভাণ্ডারী বললো, আজ্ঞে তামাশা করব কেন? আপনিই হিসাবটা দেখে নিন! এই বলে সে হিসাবের কাগজখানা মন্ত্রীর হাতে দিল। মন্ত্রীমশাই হিসাব পড়ে, চোখ উলটিয়ে মূর্ছা যান আর কি! সবাই ধরাধরি করে অনেক কষ্টে তাকে রাজার কাছে নিয়ে হাজির করল।

রাজা বললেন, ব্যাপার কি? মন্ত্রী বললেন, মহারাজ, রাজকোষের প্রায় দু' কোটি টাকা লোকসান হতে যাচ্ছে! রাজা বললেন, সে কি রকম? মন্ত্রী বললেন, মহারাজ, সন্ন্যাসী ঠাকুরকে যে ভিক্ষা দেবার হুকুম দিয়েছেন, এখন দেখছি তাতে ঠাকুর রাজভাণ্ডারের প্রায় দু কোটি টাকা বের করে নেবার ফিকির করেছে! রাজা বললেন, এত টাকা দেবার তো হুকুম হয় নি! তবে এ রকম বে-হুকুম কাজ করছে কেন? বোলাও ভাণ্ডারীকে। মন্ত্রী বললেন, আজ্ঞে, সমস্তই হুকুমমত হয়েছে! এই দেখুন না দানের হিসাব।

রাজামশাই একবার দেখলেন, দুবার দেখলেন, তারপর ধড়ফড় করে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন! অনেক কষ্টে তার জ্ঞান হলে পর লোকজন ছুটে গিয়ে সন্ন্যাসী ঠাকুরকে ডেকে আনল। ১ম দিন ৫ এক পয়সা, ২য় দিন ১০, এভাবে ৩০ তম দিনে তা হলো ৮৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৮ টাকা। মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৭৭ হাজার ২১৫ টাকা ১৫ আনা ৩ পয়সা।

ঠাকুর আসতেই রাজামশাই কেঁদে তার পায়ে পড়লেন। বললেন, দোহাই ঠাকুর, আমায় ধনে-প্রাণে মারবেন না। যা হয় একটা রফা করে আমার কথা আমায় ফিরিয়ে নিতে দিন। সন্ন্যাসী ঠাকুর গম্ভীর হয়ে বললেন, রাজ্যের লোক দুর্ভিক্ষে মরে, তাদের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা চাই। সেই টাকা নগদ হাতে হাতে পেলে আমার ভিক্ষা পূর্ণ হয়েছে মনে করব।

রাজা বললেন, সেদিন একজন এসেছিল, সে বলেছিল দশ হাজার টাকা হলেই চলবে! সন্ন্যাসী বললেন, আজ আমি বলছি পঞ্চাশ হাজারের এক পয়সা কম হলেও চলবে না! রাজা কাঁদলেন, মন্ত্রী কাঁদলেন, উজির-নাজির সবাই কাঁদল। চোখের জলে ঘর ভেসে গেল, কিন্তু ঠাকুরের কথা যেমন ছিল তেমনি রইল। শেষে অগত্যা রাজভাণ্ডার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা গুণে ঠকুরের সঙ্গে দিয়ে রাজামশাই নিষ্কৃতি পেলেন।

দেশময় রটে গেল দুর্ভিক্ষে রাজকোষ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দান করা হয়েছে। সবাই বললে, ‘দাতাকর্ণ মহারাজ!’

লেখা: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।


আরও খবর