Logo
আজঃ শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪
শিরোনাম

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শোকজ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | ১৭৩জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে রাজশাহী-৬ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দের আগেই জনসভা করা ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের ‘কুলাঙ্গার’ বলার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজশাহী সদরের সিনিয়র সহকারী জজ ও রাজশাহী-৬ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান মো. সেফাতুল্লাহ স্বাক্ষরিত নোটিশে এ আদেশ দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে- আপনি (শাহরিয়ার আলম) গত ২ ডিসেম্বর (শনিবার) রাতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতীক বরাদ্দের আগেই চারঘাটের ফরহাদ আলাউদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করেন। জনসভায় আপনি (শাহরিয়ার আলম) রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাকুড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান এবং রাজশাহী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা রাহেনুল হকের কর্মী ও সমর্থক মো. মেরাজুল ইসলামকে জনসমক্ষে ‘কুলাঙ্গার’ বলে অপবাদসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এছাড়া ১৭ ডিসেম্বরের পর তাকে দেখে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। আপনার (শাহরিয়ার আলম) উক্ত আচরণের মাধ্যমে আপনি (শাহরিয়ার আলম) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৬(গ) ও বিধি ১১(ক) এবং বিধি ১২ লঙ্ঘন করেছেন যা নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম হিসেবে গণ্য হয়।

এমতাবস্থায়, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৬(গ) ও বিধি ১১(ক) এবং বিধি ১২ লঙ্ঘনের দায়ে আপনার বিরুদ্ধে কেন নির্বাচন কমিশনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না তৎমর্মে আগামী রোববার (১০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নিম্নস্বাক্ষরকারীর (দ্বাদশ জাতীয় সংসদ চেয়ারম্যান নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) মো. সেফাতুল্লাহ) কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।


আরও খবর



এমপিরা এলাকার উন্নয়নে ২০ কোটি টাকা করে পাচ্ছেন

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৭৭জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:এলাকার উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরণের জন্য এমপিরা ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংসদে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্ন বলেন, এমপিরা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেন। তাছাড়া তার এলাকার উন্নয়নে এর আগেও একটা থোক বরাদ্দ থাকত। এখন নতুন সরকার, এ সরকারের আমলে এমপিদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ সরকার দেবে কি না?

এর জবাবে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, এমপিরা স্ব-স্ব এলাকায় উন্নয়নের জন্য মানুষের কাছে অনেক অঙ্গীকার করেন, এটাই স্বাভাবিক। স্বাভাবিকভাবে সেসব অঙ্গীকার পূরণ করার জন্য এমপিদের যেমন আগ্রহ, তেমনি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অনুধাবন করেছেন বলে একটি প্রকল্প করে প্রতিজন এমপির নির্বাচনি এলাকার জন্য এরই মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য ২০ কোটি টাকা দেওয়ার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এটি চলমান। এ প্রকল্প শেষ হলে বা এমপিদের নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন ও অঙ্গীকার পূরণে আবারও নতুন করে প্রকল্প নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।


আরও খবর



হিলিতে ইরি বোরো ধানের চারা রোপণে পুরাদমে শুরু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৫৬জন দেখেছেন

Image

মাসুদুল হক রুবেল,হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:খাদ্য শস্যর ভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জেলা দিনাজপুর।এই জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুর হিলিতে চলতি মৌসুমে ইরি বোরো ধানের চারা রোপণ পুরাদমে শুরু করেছের কৃষকেরা। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকেরা। বর্তমান সময়ে

বিদ্যুৎ, সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ সবকিছুই দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ইরি বোরো চাষে অতিরিক্ত খরচের দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের কপালে। মাঘের হিমেল বাতাস,কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর ঘনকুয়াশাকে উপক্ষো করে জমি তৈরি ও বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ করেছেন পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছে আদিবাসী নারী শ্রমিকরাও। আবহাওয়া ভালো থাকলে বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেলে অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা। হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে,চলতি মৌসুমে ইরি বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৫’শত ৭৪ হেক্টর জমিতে। শুরু থেকে কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনাসহ সবধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

আজ বৃহস্পতিবার (০১ ফেব্রুয়ারী) হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ইরি বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জমিতে বাড়তি সার হিসেবে বিঘা প্রতি ৬-৭ ভ্যান গোবর সার ছিটিয়ে দিচ্ছে। এরপর গভীর নলকূপ থেকে পানি দিয়ে জমি ভিজিয়ে নিয়ে পাওয়ার টিলার দিয়ে কেউবা মেসি (ট্রাক্টর) দিয়ে চাষ করছেন। এতে বিঘা প্রতি ২০ কেজি ডেপ, ১২ কেজি পটাস, ৫ কেজি জিপসার মিশিয়ে দ্বিতীয় বার চাষ করে চারা রোপণের জমি তৈরি করে জমিতে চারা রোপণ করছেন। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় ১৫-২০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে।

উপজেলার সাদুরিয়া গ্রামের গভীর নলকূপ এর মালিক মফিজুল ইসলাম জানান,প্রতি বছর আমার এই গভীর নলকূপ দিয়ে মাঠে প্রায় ২০০-২৫০ বিঘা জমিতে পানি সেচ দিয়ে থাকি। এবারে ও ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ এর সংযোগ পেয়েছি এবং জমিতে পানি সেচ দিতে শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত আমার গভীর নলকূপ এর আওতায় প্রায় ৬০-৭০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেছে কৃষকেরা। প্রতি ১০০ শতক (এক একর) জমির জন্য নেওয়া হচ্ছে ৩৬০০ (তিন হাজার ছয় শত টাকা। গত বছর নেওয়া হয়েছে তিন হাজার দুই শত টাকা। বিদুৎ এর খরচ বেশি তাছাড়া সবকিছুর দাম বেশি কি আর করা। উপজেলার জাংগই গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন,আমি ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করে থাকি। কয়েক দিনের মধ্যে আমার সম্পূর্ণ জমিতে চারা রোপণ শেষ হবে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার খরচের হিসাব বেশি গুনতে হচ্ছে। পানি সেচের খরচ, জমি চাষ করা,সার, কীটনাশক ও শ্রমিকসহ সবকিছুর দাম বেশি। তাই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা হিসেবে উফশী জাতের ধানের বীজ ও সার পেয়ে খুব উপকার হয়েছে। তবে এবার আবহাওয়া ভালো থাকলে গতবারের মতো এবার ও ইরিবোরো ধানের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। গত বছর ফসলের দাম ভালো পেয়েছি। আশা করছি এবারও ভালো দাম পাবো তাহলে খরচ পুষিয়ে নিতে পারবো বলে আশা করছি।উপজেলার চকচকা গ্রামের কৃষক জাকারিয়া বলেন, হারা ছোট-খাটো কৃষক মানুষ, হামার (আমার) বেশি আবাদি জমি নাই, মিচ্চে এ্যানা ৫-৬ বিঘা জমি চাষ করি।মানুষোক (মানুষ) নিয়ে কাম করে নেই না, নিজেই সব করি। বছরে ইরি আর আমন ধান লাগাই তাতে আল্লাহ দিলে ভালোই আবাদ হয়, ভালোই চলে।

উপজেলার জালালপুর বর্গাচাষি আলিম বলেন, আমরা গরীব মানুষ নিজের আবাদি জমি নাই বললেই চলে। অন্যের জমি চানা (বর্গা) নেই ইরি আবাদের জন্য, এক বিঘা জমি (৩৩ শতক) দশ হাজার টাকা দিয়ে নিতে হয়েছে। বাজারে ইউরিয়া সার আগে ৮৫০-৯০০, পটাশ ৮০০, ডেপ ১০০০ টাকা ছিলো। বর্তমানে ইউরিয়া ১৩৫০, পটাশ ১১৫০, ডেপ ১০৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। জমি সেচের বাড়তি খরচ, সারের দাম, শ্রমিকদের মজুরি বেশি,সবকিছু মিলে কি হবে আল্লাহ ভালো জানে! তবে আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং ধানের দাম ভালো পেলে খরচ পুষিয়ে নিতে পারবো ইনশাআল্লাহ! উপজেলার খাট্রাউচনা মাঠের জমি রোপন করা শ্রমিক শাহাদৎ হোসেন বলেন,আমরা কয়েকজন মিলে একটা দল তৈরি করেছি। দীর্ঘদিন থেকে ইরিবোরো ও আমন ধানের চারা রোপণ করে থাকি। এবার ইরি বোরো ধানের চারা রোপণ প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) ১৩০০ টাকা করে নিচ্ছি। প্রতিদিন ৭ থকে ৮ বিঘা জমিতে ইরি বোরো ধানের চারা রোপণ করতেছি।

উপজেলার আরেক নারী শ্রমিক স্বপনা কুজুর বলেন, আমরা প্রতিদিন হাজিরা হিসেবে ইরি বোরো রোপণ করতেছি। প্রতিদিন হাজিরা হিসেবে ৫০০ টাকা পাই। হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫’শ ৭৪ হেক্টর জমি।ইতোমধ্যে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ইরি বোরো চাষ হবে। ইতিমধ্যে উপজেলায় ১৫-২০ শতাংশ জমিতে ইরি বোরো ধানের চারা রোপণ করা শেষ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ইরি বোরো হাইব্রিড ধানের বীজ (২০০০) জন মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আর উফশি জাতের প্রণোদনা হিসেবে (২০০০) জনের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করেছি। ইরি বোরো চাষে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সবধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীরা। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে আশা করছি এবারও কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকেরা। এবারও ধানের দাম ভালো পেলে অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে নিতে পারবে বলেও আশা করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা ।


আরও খবর

গাংনীতে বালাইনাশক ব্যবহারে উদাসিন কৃষকরা

শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নিখোঁজের ৫ দিন পর শিশু সানজিদার মরদেহ উদ্ধার সৎ বাবাসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | ৪৮জন দেখেছেন

Image
রাকিব সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর ৯ বছরের শিশু সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির সৎ বাবা শরিফুল ও প্রতিবেশী মামা হাসমতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সলঙ্গা থানার অলিদহ পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশু সানজিদা খাতুন (৯) আমশড়া গ্রামের শাহিনের মেয়ে। গ্রেপ্তার শরিফুল অলিদহ গ্রামের মো. নুরালের ছেলে ও হাসমত আলী একই গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে। 

সলঙ্গা থানার ওসি মো. এনামুল হক জানান, নিহত সানজিদার মা জরিনা খাতুন প্রথম স্বামী শাহিনের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর শরিফুলকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন শরিফুলের চতুর্থ স্ত্রী। তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে দেড় মাস আগে জরিনা শ্বশুড়বাড়ী ছেড়ে বাবার বাড়ী চলে যান। শরিফুল তাকে ফিরিয়ে আনতে অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু ফিরে না আসায় জরিনার প্রতিবেশী ভাই হাসমতের শরণাপন্ন হন শরিফুল। হাসমত আলী তাকে বলেন, সানজিদাকে অপহরণ করে তার হাতে তুলে দিলেই তোমার স্ত্রীকে ফেরত পাবে। 

এ অবস্থায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসায় যাবার পথে হাসমত ও শরিফুল সানজিদাকে অপহরণের চেষ্টা করে। তারা চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নেবার চেষ্টা করে। সানজিদা চিৎকার করলে তাকে গলাটিপে হত্যার পর কবরস্থানের জঙ্গলে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। ওই রাতেই তারা মরদেহ পাশের একটি ধানক্ষেতে পুতে রাখে। 

এদিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সানজিদার সন্ধান না পেয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারী তার নানা জহুরুল ইসলাম থানায় জিডি করেন।

ওসি এনামুল আরও বলেন, জিডি হওয়ার পর পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে ওই দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেন তারা। তাদের দেওয়া তথ্যমতে ধানক্ষেতে পুতে রাখা অবস্থায় সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও খবর



কালিয়াকৈরে এবার সাংবাদিকের গাড়িতে তালা ঝুলালেন ইউএনও

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | ৮১জন দেখেছেন

Image

সাগর আহম্মেদ,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের কালিয়াকৈরে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের ভিতরে পাকিং করায় এক সাংবাদিকের গাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরেই ওই কর্মকর্তা এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করছেন অনেকে। সোমবার পর্যন্ত গাড়িটি তালাবন্ধ থাকায় নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের লোকজন।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা গেছে, গত দ্বাদশ নির্বাচন সুষ্ঠ, সুন্দর নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ করার লক্ষে ঢাকার ধামরাই উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকীকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বদলি করা হয়। তিনি কালিয়াকৈরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর নৌকার বিপক্ষে কাজ করে সমালোচিত হন। এরপর তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি খেকোদের চারটি ভেকু জব্দ করে। এতে আলোচিত হলেও কয়েকদিন পরই জব্দকৃত ভেকু ছেড়ে দিয়ে আবারো সমালোচিত হন ওই কর্মকর্তা। পরে তার অলিখিত অনুমোদনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাটি খেঁকোরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। প্রায় অর্ধশত পয়েন্টে অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটি, উচু জমি, খালের পাড়, টিলা, নদীর তীরসহ মাটি কাটার উৎসবে পরিণত হয়েছে। এসব বিষয়ে সংবাদ প্রচারের লক্ষ্যে ওই কর্মকর্তা বক্তব্য নিতে গেলে দুজন টেলিভিশন সাংবাদিকের ওপর চটে যান।

এক পর্যায় তার আনসার সদস্য দিয়ে ওই সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ওই তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মাধ্যমে তার অফিস থেকে বের করে দেন ওই কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারী অবৈধ ইটভাটায় লোক দেখানো অভিযান করে তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বৈষম্যের জরিমানায় ক্ষুব্দ হন ইটভাটার মালিক ও স্থানীয়রা। মনগড়া উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি করে আরো বিতর্কিত হন ওই ইউএনও। এসব বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। এর আক্রোশে কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেনকে তার গাড়ি উপজেলা চত্ত্বরে পাকিং করতে নিষেধ করেন ওই কর্মকর্তা। এরপর থেকে ওই সাংবাদিক কয়েকদিন ধরে উপজেলা চত্ত্বরে তার গাড়ি রাখেন না। কিন্তু গত রোববার সকালে ওই সাংবাদিক তার গাড়িটি উপজেলা চত্ত্বরে রেখে অন্যত্র চলে যান। দুপুরের পরও তার নির্দেশে ওই সাংবাদিকের গাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন তার দেহ রক্ষী আনসার সদস্য। পরে তালা সম্বলিত গাড়ির ছবি ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মুলত ইউএনও’র বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরেই তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করছেন অনেকে। সোমবার পর্যন্ত গাড়িটি তালাবন্ধ থাকায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের লোকজন। তারা বলছেন, আসলে দেশে সাংবাদিকরা এখন নিরাপদ না, সেখানে সাধারণ জনগন কতটুকু নিরাপদ আছে? তিনি এখানে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে এসব একজন ইউএনওর কারনে দেশের সকল ইউএনও, প্রশাসন ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তারা। ওই গাড়ির মালিক সাংবাদিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন আগে উপজেলা চত্বরে গাড়ি রাখায় ওই ইউএনর দেহ রক্ষী (আনসার) আমাকে গাড়ি রাখতে নিষেধ করেন। এর পরে আমি সেখানে আর গাড়ি রাখি না। কিন্তু রোববার অফিস সময়ে ওই চত্বরে গাড়ি রেখে বাহিরে গেলে গাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

মাটি খেঁকোদের পক্ষে সাফাই গেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী জানান, যদি মাটি কাটা বন্ধ হলে বাড়িঘর হবে কিভাবে? আইনে নিয়ম না থাকলেও বাস্তবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। এছাড়া সাংবাদিকের গাড়িতে তালা ঝুলানোর বিষয়ে তিনি মুঠোফোনে বলেন, উপজেলা পরিষদ পাকিংয়ের জায়গা না।

এখানে কেউ অবৈধ ভাবে পাকিং করলে আমরা তালা বদ্ধ করতেই পারি। এখানে বক্তব্য নেওয়ার দরকার নাই। তবে ওনার আসার দরকার বলে তিনি উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, এটা কি নিউজ করার বিষয়?


আরও খবর



যাত্রাবাড়ীতে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে নিহত অপর একজন আহত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৬৯জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃরাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সিনিয়র জুনিয়র দন্ধের জের ধরে মো: জামাল হোসেন (১৮) নামে এক কিশোর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। রাত সোয়া নয় টায় ঢামেকের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আমির হোসেন (২৩) নামে সিনিয়র গ্রুপের একজন। সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন, হাসপাতালে নিয়ে আসা নিহতের বন্ধু আসাদুল্লাহ।সে জানিয়েছে, আমি কোচিংয়ে গিয়েছিলাম, কোচিং শেষ করে কুতুবখালী  স্কুলের পাশে (ঘটনাস্থল) যাই।

সেখানে জামাল,  সজিব, সুমন কয়েকজন বন্ধু দাড়িয়ে ছিলাম।সে সময়ে সিনিয়র গ্রুপের  সিফাত, জামাল কে ডেকে পাশে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর সিফাতের চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে যাই। সেখানে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে আমরা জামাল কে  উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।এর পর পর  আহত আমির হোসেন(২৩) কে নিয়ে আসেন তার বন্ধু ইমন গাজী। আমির হোসেন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইমন গাজী জানান, গত দুদিন আগে জামালদের সাথে কোন কিছু নিয়ে দন্ধ হয়ে ছিল গতকাল তাদের মীমাংসাও হয়েছিল। আজকে সে বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি  মারামারি ঘটনা ঘটে। এতে সে আহত হয়।সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। আহত যুবক পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এদিকে সংবাদ পেয়ে যাত্রবাড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা ঢামেক হাসপাতালে ছুটে আসেন। এবং সিনিয়র জুনিয়র গ্রুপের ৫ জনকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করেন।

তারা হচ্ছেন, ইমন গাজী,মানিক,আসাদুল্লাহ, মুজাহিদ, জাহিদ হাসান।বরিশালের ভাবনা উপজেলায় নিহত জামালের গ্রামের বাড়ি। বাবা-র নাম মৃত আবুল কালাম চৌধুরী।  বর্তমানে কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। তার মা সুফিয়া বেগম বাসা বাড়িতে কাজ করেন। দুই বোন এক ভাই সে ছিল ছোট। সে একটি কারখানায় ওয়েল্ডিংয়ে কাজ করতো বলে জানিয়েছেন তার মামা ইকবাল হোসেন। 

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর