Logo
আজঃ সোমবার ২৪ জুন 20২৪
শিরোনাম

প্রশাসনের মদদে ফসলী জমিতে নিষিদ্ধ ইটভাটা

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ মার্চ ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ৩০৪জন দেখেছেন

Image
তানোর প্রতিনিধি : চারদিকে আলুর আবাদ, চার ফসলী জমি, তারমধ্যেই নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনির ইটভাটা চলছে প্রশাসনের মদদে বলে কৃষকদের অভিযোগ। সেই ভাটায় দেদারসে পুড়ানো হচ্ছে কাঠ, ভাটার পাশ্বেই আম বাগান। বিষাক্ত ধোয়ায় ঝলসে গেছে মুকুল, নষ্ট হতেই আছে কৃষি ফসল। কৃষকদের দাবির মুখে অভিযানের নামে আইওয়াশ করে থাকেন উপজেলা প্রশাসন। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউনিয়ন(ইউপির) বেলনা কারিগরি কলেজ সংলগ্ন ও গোছা কামারগা মুল রাস্তার ফসলী জমিতে জম্পেশ ভাবে চলছে ইট ভাটাটি। চলতি বছরে উপজেলা প্রশাসন অভিযান দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমান করে ভাটাটিকে আইওয়াশ করেন বলেও ভুক্তভোগী কৃষকরা নিশ্চিত করেন। ফলে দ্রুত ইট ভাটা বন্ধ করে ফসল সুরক্ষার জোরালো দাবি উঠেছে।

সরেজিনে দেখা যায়, তানোর উপজেলার কামারগাঁ টু কেশরহাট, মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউনিয়ন(ইউপির) বেলনা টেকনিক্যাল কলেজ সংলগ্ন কৃষি চার ফসলী জমিতে গড়ে উঠেছে ইট ভাটা। ভাটার উত্তরে বিশাল আম বাগান ও চার দিকে হয়েছে আলু চাষ। অবশ্য আলু উঠতে শুরু করেছে। এরপর রোপন হবে ধান। ইট ভাটা সেই আদিকালের নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনি দিয়ে চলছে। চিমনির উচ্চতা খুবই কম। পুড়ানো হচ্ছে কাঠ। আশপাশের এলাকা থেকে কৃষি জমি ও পুকুরের মাটি আনা হয় ভাটাতে। একারনে পাকা রাস্তাও ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আশপাশে যত ইট ভাটা রয়েছে কোথাও এধরনের চিমনি ব্যবহার হয় না। এচিমনির উচ্চতা খুবই কম। বিষাক্ত ধোয়া ফসল ও গাছে যাওয়ার কারনে নষ্ট হয়ে পড়ছে। যেখানে ফসলী জমি কোন ভাবে ফেলে রাখা যাবে না। কিন্তু ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় ফসল হানি হলেও রহস্য জনক কারনে নিরব। গোছা বাজার পার হলে পড়বে আরেকটি ইট ভাটা। নিয়ম অনুযায়ী চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। জন বসতি ও ফসলী জমিতে ভাটা থাকার কারনে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর। মাঝে মাঝে অভিযান দিয়ে নাম মাত্র জরিমানা করে আইওয়াস করা হয়।

অভিযানের পরে আরো জম্পেশ ভাবে চলে ভাটা। সব চেয়ে হুমকিতে বেলনা কারিগরি কলেজের কাছে ভাটাটি। চলতি আলু মৌসুমে বিভিন্ন মাঠে যে ভাবে ফলন হয়েছে, কিন্তু ভাটার বিষাক্ত ধোয়ার কারনে ফলনও কম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইট ভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এভাটা কেন বন্ধ হচ্ছে না। নাকি ভাটা মালিক হাজি আজিজুরের কাছে সবাই জিম্মি হয়ে আছে। হতবাক হতে হয়, পার্শ্বে আম বাগান মুকুল  ঝরে পড়েছে, পাতাগুলো কালচে আকার ধারন করেছে। আলু তোলার পর ধান রোপন করা হবে। ভাটা বন্ধ না হলে ধানের চাষাবাদ হুমকিতে পড়বে। পরিবেশ অধিদপ্তর মনে হয় ঘুমিয়ে আছে। তারা একদিনও আসেনি। টাকায় সবাই নিরবতা পালন করছে। কৃষকের ফসল নষ্ট হলে তাদের কি আসে যায়। ক্ষতি হলে কৃষকের হবে, তাদের তো না।

ভাটা মালিক হাজি আজিজুল হক জানান, প্রতি বছর সরকারে লাখ লাখ টাকা দেওয়া হয়। তাছাড়া এভাবে ভাটা চালানো যাবে না। ফসলের কোন ক্ষতি হয় না। অন্য ভাটা যে ভাবে চলে এটিও একই ভাবে চলছে।

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, এর আগেও ভাটার বিষয়ে অনেকে বলেছেন। কৃষি চাষাবাদ হুমকিতে ফেলে ইটভাটা পরিচালনা করা যাবে না। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও খবর



সাংবাদিক রিজুর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুষ্টিয়ার মানববন্ধন

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ১৮জন দেখেছেন

Image
হাবিবুর রহমান,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃসংবাদ প্রকাশের জেরে এশিয়ান টেলিভিশন কুষ্টিয়ার স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার প্রকাশক- সম্পাদক হাসিবুর রহমান রিজুর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুষ্টিয়া জেলা শাখা।  শুক্রবার (২১জুন) বিকেল ৫ টায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের থানা মোড়ে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানেই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন বিক্ষোভকারীরা। মানববন্ধনে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।  এসময় সেখানে উপস্থিত হন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ ও কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোহেল রানাসহ পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য। হত্যার উদ্দেশ্যে সিনিয়র সাংবাদিক রিজুর ওপর ন্যাক্কারজনক হামলাকারীদের সবাইকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ  মামলা হিসেবে আমলে নিয়ে এর পিছনে যারা যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে ।
বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আরিফ খান,গুরুতর আহত সিনিয়র সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজুর স্ত্রী টপি বিশ্বাস, সদর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসান হাবিব বিদ্যুৎ প্রমুখ। এছাড়াও বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ হাবিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক স্লোগান মাস্টার শেখ মোঃ শুভীন আক্তার, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি'র সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান, চ্যানেল ২৪-এর স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক কালবেলার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি শরীফ বিশ্বাস, দৈনিক সত্যখবর পত্রিকার সহ-সম্পাদক জিল্লু রহমান, স্টাফ রিপোর্টার শরীফ উদ্দিন। 

বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রশাসনের কাছে জোর দাবি,সিনিয়র সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজুর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে এমন বর্বোরচিত সন্ত্রাসী হামলায় যারা জড়িত দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় প্রশাসনকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানানো হয়।গুরুতর আহত সিনিয়র সাংবাদিক  হাসিবুর রহমান রিজু ভারত-বাংলাদেশ যুব মৈত্রী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। একই সাথে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এছাড়াও এলাকায় নানা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে হাটশ-হরিপুর ইউনিয়নের শালদহ এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী শিপন কটূক্তি করলে এই নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ এবং পূর্ব বিরোধের জেরে হাসিবুর রহমান রিজুর ওপর এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে হাসিবুর রহমান রিজু সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী হন। বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে ওই নির্বাচনের মিটিং-এ অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে হরিপুর বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল যোগে যাচ্ছিলেন। এসময় পথে স্থানীয় প্রভাবশালী শিপন, মুরাদ ও রাজনের নেতৃত্বে কয়েকজন রিজুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে প্রায় আধঘণ্টা ধরে পড়েছিলেন তিনি। এসময় ঘটনাস্থলে কাউকে আসতে দেয়নি হামলাকারীরা। পরে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (২০জুন) সন্ধ্যায় আহত সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজুর স্ত্রী টপি বিশ্বাস কুষ্টিয়া মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ নং আসামী বাবর আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও খবর



দেশ ছেড়েছেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া!

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ১৭০জন দেখেছেন

Image
মারুফ সরকার,স্টাফ রিপোর্টার: ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে তার সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতে পারে দুদক।

এদিকে এরইমধ্যে আছাদুজ্জামান সস্ত্রীক দেশ ছেড়েছেন। গেল সপ্তাহে তারা আমেরিকায় গেছেন। আছাদুজ্জামান দেশটিতে বিভিন্ন সম্পত্তি গড়েছেন। বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন খাতে। এছাড়া সেখানে তাদের ছোট ছেলে আসিফ মাহাদীন পড়াশুনা করেন।

জানা যায়, আছাদুজ্জামান নিজ নামে, স্ত্রী আফরোজা জামান, দুই ছেলে আসিফ শাহাদাত, আসিফ মাহদীন ও মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার নামে দেশে প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তি গড়ার পাশাপাশি আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশেও বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ করেছেন।

সম্প্রতি, সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা আছাদুজ্জামানের দুর্নীতিলব্ধ আয়ে গড়া নানা সম্পত্তির খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। আছাদুজ্জামান তা বুঝতে পেরেই আগেভাগে গা ঢাকা দেন। একপর্যায়ে গেল সপ্তাহে সস্ত্রীক আমেরিকায় চলে যান।

এদিকে গণমাধ্যমে আছাদুজ্জামানের দুর্নীতির খবর আসার পর নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ঈদুল আজহার ছুটির পর তার বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নিতে পারে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

দুদক কমিশনার জহুরুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন, আছাদুজ্জামান মিয়ার সম্পদের তথ্য প্রকাশের খবর তাঁর নজরে আসেনি।... যদি সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়, তাহলে দুদক ব্যবস্থা নেবে।

জানা যায়, আছাদুজ্জামান মিয়ার সম্পদের বাড়াবাড়ির বিষয়টি বেশ কয়েক বছর আগে নজরে এসেছিল দুদকের। শুরু হয় অনুসন্ধানও। তবে তা খুব একটা এগোয়নি। অনুসন্ধান না আগানোর পেছনে কারণও খুব একটা স্পষ্ট নয়।

তবে সংস্থাটির আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলছেন, ছুটির পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। আস্থা নিয়ে পুলিশের উচ্চ পদে আসীনদের এমন কর্মকাণ্ডে, বাহিনীটিতে শুদ্ধি অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

‘মিয়া সাহেবের যত সম্পদ’ নামে দৈনিক মানবজমিন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে শিরোনামে এলেন আসাদুজ্জামান মিয়া। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সম্পদের পাহাড়। অনেক সম্পদের নথি ধরে সরজমিনে সেসবের সত্যতা মিলেছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক আশীর্বাদ ছাড়া এ ধরনের দুর্বৃত্তায়ন সম্ভব নয়। একদিকে প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ অবস্থান অপরদিকে রাজনৈতিক আশীর্বাদ একত্রিত হয়ে তাদের দুর্নীতি এবং অসামঞ্জস্য আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা আইনের সুরক্ষার পরিবর্তে ভক্ষক হয়ে গেছেন। তারা অপরাধ নিয়ন্ত্রক। তার মানে তারা জানেন কোন অপরাধ কীভাবে করতে হয়। এটা জেনে বুঝেই করেছেন ‘

‘তারা যে অসামঞ্জস্য অপরাধগুলো করেছেন প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু এক ধরনের সহযোগী আছে। তাদের অনেকেই হয়তো জেনে বা না জেনে অংশীদার হয়েছেন। এ অবস্থায় সব অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা ছাড়া অন্য কোনো ম্যাজিক বুলেট নেই।’

আরও খবর



হিলিতে বাড়ছে মসলা জাত পণ্যের দাম

প্রকাশিত:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | ১১৫জন দেখেছেন

Image

মাসুদুল হক রুবেল,হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:এখনো প্রায় একমাস বাকি কোরবানি ঈদ।এর আগেই দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে মসলা জাত পণ্যের দাম। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে জিরাসহ মসলা জাতীয় পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে ১/২ গাড়ি জিরাসহ অন্যান্য মসলাপণ্য আমদানি হতো।এখন প্রতিদিনই ৫/৭ গাড়ী জিরাসহ মসলা পণ্য আমদানি হচ্ছে। প্রতি টন জিরা আমদানি হচ্ছে ৩ হাজার ১৩০ ডলার মুল্যে। কোরবানি ঈদের একমাস আগে দাম বৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি।তারা অধিক মুনাফার আশায় মসলা জাত পণ্য মজুদ রেখে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন,আমরা ভারতীয় জিরা,আদা,চায়না রসুন বিক্রি করি। আমদানিকারকদের কাছ থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। আমদানিকারকরা বলছেন,ডলার সংকটের কারণে ভারত অভ্যন্তরে জিরাসহ অন্যান্য মসলা জাত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দাম কয়েক দিনের স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানান আমদানিকারকরা ।  

আজ শনিবার দুপুরে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগে মানভেদে জিরা বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে। এখন সেই জিরাই কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়ে ৭০০ থেকে ৭১০ টাকা কেজি দরে হচ্ছে। অন্যান্য মসলা পণ্যের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কালো এলাচ ২৬০০ থেকে ২৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা এখন ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ থেকে ৩০০০ টাকা কেজি দরে এবং সাদা এলাচ মাঝারি ৩৪০০ শত টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা এখন কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ৩ ৫০০ শত টাকা কেজি দরে, সাদা এলাচ বড় ধরণের ৪১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ৪২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও দারুচিনি, লং, গোল মরিচ,ধনিয়া,কালো জিরা কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। এদিকে আমদানিকৃত আদা গেলো শনিবার (১৮ মে) প্রতিকেজি আদা ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ শনিবার (২৫ মে) বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। প্রতিকেজি দেশীয় রসুন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। এক মাস আগে দেশীয় শুকনা মরিচ ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর গতকাল শুক্রবার দেশীয় পেঁয়াজ ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।   

রংপুর থেকে জিরা কিনতে আসা আকবর আলী জানান, আমি এক মাস আগে হিলিতে ঘুরতে এসে তখন ৫৮০ টাকা কেজি দরে জিরা কিনেছি। আজ হিলিতে একটি কাজে এসে জিরা কিনলাম ৭০০ টাকা কেজি দরে। 

আদা কিনতে আসা ফরহার হোসেন বলেন, কোরবানি ঈদের আগে হঠাৎ করেই আদার দাম বেড়ে গেছে। গত শনিবার প্রতিকেজি আদা বিক্রি হয়েছিল। ২৪০ টাকা কেজি দরে। আমি ৬০ টাকা দিয়ে ২৫০ গ্রাম আদা কিনি। আর আজ শনিবার বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি দরে। ৭০ টাকা দিয়ে ২৫০ গ্রাম আদা কিনলাম। 

আরেক ক্রেতা ধরন্দা গ্রামের গোলাম মোর্শেদ বলেন, প্রতিবছর কোরবানি ঈদের আগে সব ধরনের মসলার দামে বাড়ে। এবারও বেড়েছে। গেলো শনিবার প্রতিকেজি রসুন কিনি ২০০ টাকা কেজি দরে। আর আজ শনিবার কিনতে হলো ২৪০ টাকা কেজি দরে।তিনি আক্ষেপ করে বলেন,হিলি বন্দর দিয়ে প্রতিদিন আদা আসছে। কিন্তু আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মজুদ রেখে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

শুকনা মরিচ,আদা-রসুন ও পেঁয়াজ বিক্রেতা ময়নুল ইসলাম বলেন,আদা হিলিবন্দর দিয়ে আমদানি হয়। আর চায়না রসুন আমদানি হয় অন্যদিকে দিয়ে। পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে এক সপ্তাহ আগে এতিকেজি আদা ২২০ টাকায় কিনে ২৪০ টাকায় বিক্রি করি। আর রসুন ১৮০ টাকা কেজি দরে কিনে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। কিনতেই পড়ছে প্রতিকেজি আদা ২৬০ টাকা এবং রসুন কিনতে পড়ছে ২২০ টাকা। আমরা কেজিতে ২০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করছি। এ কারণেই শুকনা মরিচ,পেঁয়াজ আদা-রসুনের দাম বেড়েছে।

ডলার সংকট কাটিয়ে উঠলে ও জিরা আমদানিতে শুল্ক কমলে দাম আরও কমে আসবে বলে মনে করছেন আমদানিকারকেরা।

হিলি কাষ্টমস সূত্রে জানা গেছে,চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ভারতীয় ৩৮৩ টি ট্রাকে ১০ হাজার ৭১৭ মেট্রিক টন জিরা ও ভারতীয় ১৬ টি ট্রাকে ২৫৩ মেট্রিকটন এলাচ এবং ভারতীয় ২৪১ টি ট্রাকে ৪১৩৭ মেট্রিক টন আদা আমদানি হয়েছে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে।


আরও খবর



বীরগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রতি মেলা ও শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | ১৪১জন দেখেছেন

Image

নাজমুল ইসলাম (মিলন) দিনাজপুর প্রতিনিধি:দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মানব কল্যান পরিষদ এর উদ্যোগে বীরগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল বিতরণ ও স¤প্রীতি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে ২৮ মে মঙ্গলবার সকাল ১১ টা বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ফজলে এলাহীর সভাপতিত্বে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএও) এর আয়োজনে অহিংসা প্রকল্প, মানব কল্যাণ পরিষদ এর সহযোগিতায় ১৬৭ জনকে শিক্ষাবৃত্তির চেক ও ১৮ জনকে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠান হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলার নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আবু হুসাইন বিপু, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো: তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিবেদিতা দাস, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক নুরিয়ার সাইদ সরকার প্রমুখ।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা” কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা বৃত্তির প্রাইমারি ১০০ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, মাধ্যমিক ৪৫ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীকে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ও উচ্চ মাধ্যমিক ২২ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীকে ২ লক্ষ ০৯ হাজার টাকার বৃত্তির চেক ও ১৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ১৮টি বাইসাইকেল বিতরণ করেন।

সম্প্রতি মেলায় বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে বাঙ্গালি, আদিবাসী ও অন্যন্য সকল জাতিসত্তা জীবনধারা, মৌলিক অধিকার, মানবধিকার, ভাষা ও সংষ্কৃতি সর্ম্পকে আলোচনা কালে বীরগঞ্জ থানা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শীতল মার্ডী, বীরগঞ্জ মানব কল্যাণ পরিষদের পরিচালক রবিউল আজম উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



মীরপুর ১০ ব্যাস্ততম এলাকায় রাস্তা দখল করে হকার বসিয়ে চাঁদাবাজী

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ১৬১জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিনিধী:- রাজধানীর ব্যস্ততম মিরপুর১০ নম্বর গোলচত্বরসহ এলাকার  ফুটপাতসহ সড়কের অর্ধেকটা দখল করে চলছে পাচ হাজার হকারদের রমরমা ব্যবসা। এই ব্যবসার দোকান গুলোতে আলো জ্বালাতে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এদিকে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য লোডসিটিং চালু করেছে। অন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মোটা অস্কের টাকার হাতিয়ে নিচ্ছে।


এর পাশাপাশি কোটি টাকার চাঁদাবাজিও হচ্ছে ফুটপাত থেকে। মিরপুর মডেল থানার কর্মরত কনস্টেবল মোহাম্মদ হেলাল প্রায় এক যুগ ধরে পুলিশের নামে ফুটপাত ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পুলিশের পিআই মোহাম্মদ জিয়া সহ পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের নামে এই সব টাকাগুলো ওঠানো হয়। প্রায় চার লেনের চওড়া রাস্তার দুই লেনই দখল করে ব্যবসা করছেন হকারা।এখান থেকে মাসে কোটি টাকার লেনদেন করছেন হকার নেতারা।


 ফুটপাতের একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রসাশনসহ সরকার দলীয় নেতা -কর্মীরা এসব টাকা ভাগ করে খাচ্ছেন। ফুটপাতের পজিশন নিতে প্রথমে দিতে ৪০-৫০ হাজার টাকা। আবার প্রতিদিন দিতে হয় ৩-৪ শ টাকা। এ ছাড়া, আরও অনেককে ম্যানেজ করতে হয়।তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের নামে টাকা উঠায়। এতে করে শুধু পথচারীই নয়, চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকেও। বিশেষ করে মিরপুর-২ নম্বর থেকে১০  গোলচত্বরসহ আশ পাশের পুরো এলাকা জুড়ে ও শাহ আলী মার্কেটের রাস্তার অর্ধেকের বেশি দখলে থাকে হকারদের। ক্রেতা-বিক্রেতা একাকার হয়ে যায় প্রধান সড়কে। 


এসব এলাকার রাস্তা দখল এবং ফুটপাতের অবস্থা বেগতিক। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাাসনকে ম্যানেজ করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রাস্তাকে পজিশন বিক্রি করা হয়েছে। ফলে যেখানে বসে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করছেন হকাররা। এসব হকারদের কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ফুটপাত, রাস্তা দখল করে হকার বসিয়ে স্থানীয় নেতারা প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে। এমন কি সরকারকে ফাকি দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসে অর্ধকোটি টাকা হর্কারদের কাছ থেকে আদায় করছে চক্রটি। যার ভাগ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলেও পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরাও বাদ নেই। কিন্তু এ কারণে মূল মার্কেটের ব্যবসা কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, শাহ আলী মার্কেটের আশপাশের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছে রুবেল, জাহাঙ্গীর, হিরু মিয়া, রাড্ডার সামনে টিংকুর নিয়ন্ত্রণে সাদ্দাম,  আকবর, হাবিব ও নুরু মিয়াসহ কয়েকজন। এবং ১০ নম্বর গোলচত্বরসহ তার আশপাশের ফুটপাতে থেকে মো. আখের মিয়া, রুবেল, নেতা জাকির, সাদ্দাম, ফেলান ও মোরসালিন। তারা নিজেরাও দোকান বসিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আরো অভিযোগ মোরসালিন এমপি এসএম জাহিদের নাম ভাঙ্গিয়ে ফুটপাত দখল করে ও বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে। নিয়ন্ত্রণকারীরা  বলেন, সবাই এসে আমাদেরকে ধরেন হকারেরা।


 আমরা বাধ্য হয়ে মোটা অংকের  টাকা নিয়ে হকারদেরকে বসতে দেই। তাদের নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর সদস্যরা শুধু ফুটপাতই নয়, রাস্তা দখল করে পজিশন বিক্রি করছে হকারদের কাছে। সকাল থেকেই রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। রাস্তায় দেখা দেয় তীব্র যানজট। বাস চালক আবুল কালাম বলেন, ঢাকায় এত চওড়া রাস্তা খুবই কম এলাকাতেই আছে। কিন্তু চওড়া হলে কী হবে। হকারদের কারণে আমরা তার সুফল ভোগ করতে পারি না। সব যায়গায় ফুটপাত দখল করলেও এখানে রাস্তাই দখল করে বসে আছে। থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ সব দেখছে। 


কিন্তু কেউ কিছুই বলছে না। মার্কেটের কয়েক জন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে বলেন, হকারদের এ উৎপাতে আশপাশের মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ীরা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাস্তা, ফুটপাথ বন্ধ থাকার কারণে ক্রেতারা মার্কেটে আসতে পারেন না। যার কারণে তাদের বিক্রিও তেমন হয় না। এসব বিষয়ে কোনো কথা বলতে গেলে দখলদার সন্ত্রাসীরা নানা ধরনের হুমকি দিতে শুরু করে।


শুধু তাই নয়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে থাকে।রাস্তায় পজিশন নেওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলমগীর  হোসেন ও শামসুল আলম বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দিয়ে বসার জায়গাটুকু পেয়েছি। তার পরও প্রতিদিন তাকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। এর পর আবার বিদ্যুৎ জ্বালানোর জন্য প্রতি লাইটে ৩০ টাকা করে দিতে হয়। বিক্রি হোক বা না হোক এই চাঁদা তাদেরকে দিতেই হবে।


এটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে যখন চাঁদা দিতে হয় তখন ব্যবসায়ীদের পুঁজি ভেঙে খাওয়া ছাড়া কোনো পথ থাকে না।তিনি বলেন, ফুটপাতে খুবই কম লাভে পণ্য বিক্রি করতে হয়। এখন প্রচুর দোকান থাকায় খুব বেশি লাভও হয় না। তার মধ্যে থানা পুলিশ, লাইনম্যান, ঝাড়ুদার, পুলিশ সোর্স এবং এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের আলাদা আলাদা করে টাকা দিতে হয়। কেউ দিন হিসেবে আবার কেউ সপ্তাহ হিসেবে এসব টাকা নিয়ে থাকে।


আর যাদের কাছ থেকে জায়গা বা পজিশন নিয়েছি তাদের তো আলাদাভাবে চাঁদা দিয়ে জায়গা রক্ষা করতে হয়।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশে শর্তে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যেই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তাতে লাভ হয় না।তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তারা এবং  প্রসাশনের লোকজন এসব অনৈতিক কাজে জড়িত থাকেন।তা হলে তো আর উচ্ছেদ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না।


একদিকে উচ্ছেদ হচ্ছে আবার কিছুক্ষণ পরে হকাররা আবার দোকান বসাচ্ছে। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হলে উচ্ছেদের পর নতুন করে হকার বসতে পারবে না। ডেসকোর একজন প্রকৌশলী এ ব্যাপারে বলেন, এই সব অভিযোগ শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমরা ওই সব এলাকায় বারবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করা হয়। কিন্তু আমাদের অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে ওই সব অবৈধ চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎতের লাইন সংযোগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।


তিনি দুঃখকরে আরও বলেন, যেখানে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য লোডসিটিংয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে তারা গ্রাহকে ঠকিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগদিয়ে টাকা নিচ্ছেন। মিরপুর জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মোল্লাহ জানান, অতি তাড়াতাড়ি সবার সহযোগিতায় মিরপুর এলাকার ফুটপাথ ও রাস্তা দখল থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হবে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব

আরও খবর