Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: শেষ ধাপের ফল প্রকাশ

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৬৫জন দেখেছেন
Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার শেষ ধাপের (তৃতীয়) ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৩২টি জেলায় মোট ৫৭ হাজার ৩৬৮ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকেলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় ও শেষ ধাপের লিখিত পরীক্ষা গত ৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়। এ ধাপে জয়পুরহাট, বগুড়া, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, মেহেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, ঝালকাঠি, সিলেট, ভোলা, বরগুনা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও সিলেটের সব উপজেলায় পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

এছাড়া আংশিক পরীক্ষা হয়, নওগাঁর আত্রাই, বদলগাছী, ধামুইরহাট, মহাদেবপুর ও মান্দা উপজেলা, নাটোরের নলডাঙ্গা, সদর ও সিংড়া উপজেলা, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, দৌলতপুর ও কুমারখালী উপজেলা, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও শৈলকূপা উপজেলা, সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর ও তালা উপজেলা, বাগেরহাটের সদর, চিতলমারী, ফকিরহাট ও রামপাল উপজেলা, জামালপুরের বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর ও সরিষাবাড়ি উপজেলা, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ও সদর উপজেলা, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া, ইন্দুরকানী ও মঠবাড়িয়া উপজেলা, পটুয়াখালীর বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা, সুনামগঞ্জের ছাতক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই ও ধর্মপাশা উপজেলা, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলা, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, চিলমারী, সদর ও নাগেশ্বরী উপজেলা এবং গাইবান্ধার সদর, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলায়।


আরও খবর



খুলনার একটি প্রকল্পে চাকরির সুযোগ

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৭৯জন দেখেছেন
Image

খুলনা শহর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের অধীনে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়
প্রকল্পের নাম: খুলনা শহর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প

পদের বিবরণ

goverment

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: খুলনা

বয়স: ২৩ জুন ২০২২ তারিখ সর্বোচ্চ ৪০ বছর

আবেদন ফরম: আগ্রহীরা www.khulnadiv.gov.bd এর থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।

আবেদনের ঠিকানা: প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়, খুলনা শহর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প, নূরনগর, খুলনা।

আবেদন ফি: ৩০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ২৩ জুন ২০২২

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ০৭ জুন ২০২২


আরও খবর



রুটের সেঞ্চুরিতে লর্ডস টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫১জন দেখেছেন
Image

লর্ডস টেস্ট জয়ের সিংহভাগ কাজ আগেরদিনই করে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডের সদ্য সাবেক অধিনায়ক জো রুট। রোববার ম্যাচের চতুর্থ দিন প্রয়োজন ছিল শুধু সতর্ক-সাবধানী থেকে বাকি থাকা ৬১ রান করে ফেলা। সেটি করতেও খুব একটা সময় নিলেন না তিনি।

বেন ফোকসের সঙ্গে ১২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন ৫ উইকেটের জয়। ক্যারিয়ারের ২৬তম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১১৫ রানে অপরাজিত থেকেছেন রুট। তার অনবদ্য সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৭৭ রানের লক্ষ্য সহজেই টপকে গেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

বোলারদের আধিপত্য ছড়ানো ম্যাচটিতে ২৭৭ রানের লক্ষ্য মোটেও সহজ ছিল না ইংল্যান্ডের জন্য। দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেই চ্যালেঞ্জই জয় করলেন রুট। অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর খেলা প্রথম ম্যাচেই দলকে এনে দিলেন দারুণ এক জয়।

ম্যাচের তৃতীয় দিনই জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৬৫ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৬ রান। আজ আর ১৩.৫ ওভার খেলেই ৬৩ রান তুলে নেন রুট ও ফোকস। যা নিশ্চিত করে ইংলিশদের জয়। ফোকস অপরাজিত থেকে যান ৩২ রানে।

দলকে জেতানোর পাশাপাশি বিশ্বের ১৪তম ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন রুট। বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম দশ বছরের মধ্যেই এ মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন তিনি।


আরও খবর



বোয়েসেলের মাধ্যমে ৫০ জন গার্মেন্টস কর্মী নেবে জর্ডান

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে জর্ডানের ০১টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় ৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীদের আগামী ১০ জুন সরাসরি সাক্ষাৎকারের জন্য উপস্থিত থাকতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)

পদের নাম: মেশিন অপারেটর
পদসংখ্যা: ৫০ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রযোজ্য নয়
অভিজ্ঞতা: ০৩ বছর
বেতন: ১২৫ দিনার

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
চুক্তির মেয়াদ: ০৩ বছর
প্রার্থীর ধরন: নারী
বয়স: ১৮-৩৯ বছর

উপস্থিত থাকার ঠিকানা: শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দারুস সালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।

উপস্থিত থাকার তারিখ ও সময়: ১০ জুন ২০২২ তারিখ সকাল ০৮টা

সূত্র: বোয়েসেলের বিজ্ঞপ্তি
jagonews24


আরও খবর



মনসুর মুসা: ভাষার বিশুদ্ধ চেতনা

প্রকাশিত:Friday ১৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

আলীনূর রহমান

কিছু মানুষের সংস্পর্শে গেলে সব সময়ই ভালো লাগে। মনে হয় আরও কিছু সময় তার সংস্পর্শে কাটিয়ে আসি—কিছু কথা শুনি, নিজেকে ঋদ্ধ করি। এই মহান মানুষেরা সর্বময় জ্ঞানদান করে তাদের ছাত্রছাত্রীদের পৌঁছে দিতে চান শীর্ষে। এটা যে যেভাবে গ্রহণ করবে, সে সেভাবেই নিজেকে সমৃদ্ধ করে তুলবে। আমি বলছি তেমনই একজন মানুষ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও ভাষাতাত্ত্বিক মনসুর মুসা স্যারের কথা। আমরাই তাকে প্রথম পেয়েছিলাম গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা বিভাগে যখন তিনি ডিন হয়ে আসেন। অবশ্য তার আগেও তিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

আমি অনেক আগে থেকেই এই মহান মানুষের নামের সাথে পরিচিত ছিলাম। কেননা সর্বপ্রথম কবি অতীন অভীক আমাকে ঝিনাইদহের কবি ও গল্পকার শহীদুর রহমানের কথা বলেছিলেন। যার বিখ্যাত ছিল বিড়াল গল্প। পরবর্তীতে তার বিড়াল গল্পের নামে বইও প্রকাশিত হয়েছিল। এই শহীদুর রহমানের মৃত্যুর পরে তাকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ করা হয়, সেটি সম্পাদনা করেছিলেন মনসুর মুসা ও জিয়া হায়দার। এই প্রথম স্যারের নামের সাথে পরিচিতি—তারও পূর্বে বোধহয় শিক্ষক ও গবেষক মাহমুদ শাহ কোরেশী স্যারের মুখে তার কিছু কথা শুনেছি।

অনেক বইয়ের ভূমিকায় তার নাম দেখেছি। কারণ তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ভাষা ইনিস্টিটিউটেও তিনি কর্মরত ছিলেন। এই মানুষটিকে পেয়ে আমি ভেতরে ভেতরে একটু বেশিই উৎফুল্ল হয়েছিলাম। এমন ভাষাতাত্ত্বিক মানুষের সংস্পর্শ পাওয়াটাও তো ভাগ্যের ব্যাপার। ছাত্রাবস্থায় তিনি আমার হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছেন। ডিন অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে গণ’র খোলা খেলার মাঠ দেখা যেত—আমরা সেখানে নিয়মিত ভিড় জমাতাম। কোনদিন ডিন অফিসে আমাদের কাজ থাকত না। তবুও স্যারকে দেখার জন্য সামনে ঘোরাঘুরি করতাম—সে ঘোরাটাও কয়েকদিনের। পরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ করে বের হয়ে আসি।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসার বেশ কিছুদিন পর আবার গিয়েছিলাম লেখাপড়ার প্রমাণপত্র আনতে। কারণ সে সময় আমি লক্ষ্মীপুর ভবানীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেছি। স্যারের রুমে ঢুকতেই চিনলেন এবং বললেন, ‘কেমন চলছে দিন—লেখালেখি কিছু কি হচ্ছে?’ ‘চলছে স্যার, কলেজেও জয়েন করেছি বাংলার শিক্ষক হিসেবে।’ জানতে চাইলেন, ‘কোথায়?’ লক্ষ্মীপুর শুনতেই স্যার জানালেন, ‘এত দূর?’ পরে স্যারের সাথে কাজ শেষ করে রুম থেকে বের হয়ে আসি। স্যার শুধু একটি কথাই বললেন, ‘লেগে থাকো, হাল ছেড়ে দিও না।’ আমি সেই কথাটি আজও মনে রেখেছি।

কয়েকদিন আগেও স্যারের সঙ্গে দেখা হলো। স্যার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে আছেন। মাঝে শুনেছিলাম তিনি স্ট্রকও করেছিলেন। সেই সাথে বয়সেরও তো একটি বিষয় সব সময় থেকে যায়। স্যারের রুমে ঢুকতেই কয়েস স্যার (বাংলা বিভাগের প্রথম ছাত্র। আমাদের বড় ভাই। পরে তিনি বাংলা বিভাগে যোগ দিয়েছেন) আমাকে স্যারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ‘স্যার, এ আমাদের ছাত্র—আলীনূর। বঙ্গ রাখাল নামে লেখালেখি করে।’ স্যার কিছু সময় মুখের দিখে তাকিয়ে থাকলেন। কথা শুরু হলো। আমি আমার ‘ছোটবোয়ালিয়া-জয়ন্তীনগর-বসন্তপুর গণহত্যা’ (মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা), ‘কবিতার করতলে’ (প্রবন্ধ) ও ‘কবিতায় ঘর-বসতি’ (প্রবন্ধ) বই তিনটি দিলাম। স্যার বইগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখলেন এবং বললেন, ‘আপনারা যারা লেখালেখি করছেন, তারা কবি তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে কেন লেখেন না?’ আমি বললাম, ‘স্যার, আমার প্রিয় কবি-লেখকদের মধ্যে তসলিমাও একজন। তাকে নিয়ে একটা লেখাও আমি লিখেছি।’ স্যার তখন বললেন, ‘আমার তো আপনার সাথে এর আগেও কথা হয়েছে। আপনি কোন কলেজে যেন চাকরি করতেন? সেখানে আছেন না অন্য কোথাও ঢুকেছেন?’ তখন জানালাম, ‘স্যার, আমি কলেজের চাকরি ছেড়ে একটি বেসরকারি চাকরি করছি।’ বাসার কথা জানতে চাইলেন। বললাম, ‘মিরপুর-২।’ গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কথা বলতেই তিনি বললেন, ‘ওখানে তো আমার একটা বন্ধু থাকতো।’ তার কথার লেশ ধরেই বললাম, ‘স্যার, আমি জানি। আপনি শিক্ষক ও গল্পকার শহীদুর রহমানের কথা বলছেন। আপনি যে তার মৃত্যুর পরে একটা স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা করেছিলেন সেটাও জানি এবং সেটা আমার সংগ্রহেও আছে।’ এবার স্যারের সাথে কথার পর্ব শেষ করে বের হয়ে এলাম।

রুম থেকে বের হয়ে আসতে আসতে মনে পড়ল, কী মানুষ আর কী হয়ে গেছেন। তবুও একটি বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন গভীর মনোযোগে। এই বয়সে এসেও তিনি তার দায়িত্ব থেকে এতটুকু ক্ষ্যান্ত দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠবাদাম বৃক্ষতলে বসে মনে করার চেষ্টা করলাম স্যারের কোনো বই কি সত্যিই আমি পড়েছি। তখন মনে পড়ে গেল, মুক্তধারা প্রকাশনী থেকে ১৯৮৪ সালে শিল্পী হাশেম খানের প্রচ্ছদ করা একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। বইটির নাম ‘ভাষা পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’। এই গ্রন্থে দশটি প্রবন্ধ ছিল। বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, বাংলাদেশের ভাষাপরিস্থিতি, বাংলা ভাষালেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণ, তুর্কী ভাষা-আন্দোলন, ভাষাতাত্ত্বিক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ঔপনিবেশিক ভাষানীতি প্রসঙ্গে, ভাষার বিশুদ্ধতা, ভাষা পরিকল্পনা, বাংলা ভাষা ও প্রশাসনিক নির্দেশ, বাংলা প্রচলন সংক্রান্ত বিবেচনা।

বইটি যে কেউ হাতে নিলেই হয়তো ভয়ে কিছুটা শিহরিত হয়ে উঠবেন—ভাষা হয়তো কত কঠিনই বা হয়ে উঠবে। কিন্তু বইটা পড়তে শুরু করলেই সারল্যতা নিয়ে শুধু পড়েই যেতে ইচ্ছে করবে। ভূমিকা একটু পড়ে নিলেই আমরা বুঝতে পারব—‘ ভাষা কাকে বলে এবং কাকে বলে না এ ধরনের দার্শনিক কূটতর্কে অবতীর্ণ না হয়ে আমরা শুধু স্বীকার করে নেবো যে, ভাষা হচ্ছে মানুষের এক ধরনের মস্তিষ্কজাত মানবীয় ক্ষমতা, যা সামাজিক আবহাওয়ায় পরিপুষ্ট হয়ে মানুষের সামাজিক মানবত্বকে প্রতিষ্ঠা দান করে। জৈবিক মানুষ যখন সামাজিক মানুষে রূপান্তরিত হয়েছিল তখন থেকেই ভাষা মানব-জীবনের অপরিহার্য উপকরণ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল।’

এভাবেই বইয়ের লেখা কত সহজ-সরল বাক্যের মধ্য দিয়ে তিনি শুরু করেছেন—আমাদের ভাষার গুরুত্ব কিংবা ভাষার তৎপর্যের কথা তার এই লেখার মাধ্যমে সব পাঠকের কাছেই তিনি তুলে ধরছেন। তিনি ভাষা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছেন এবং এই ভাষার তাৎপর্য মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করে চলেছেন এখনো। তবে এই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তার ভাষার ব্যবহার নিয়ে অনেক ক্ষোভ আছে। তিনি সেই ১৯৮৪ সালেই বলেছেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ভাষাতত্ত্ব চর্চার গুরুত্ব নানাভাবে স্বীকৃত হয়েছে। অনুন্নত দেশ বলে আমাদের দেশে ভাষাতত্ত্বের বহুমুখী গুরুত্ব স্বীকৃত হয়নি। অবশ্য ‘লবণ আনতে পান্তা ফুরায়’ যে দেশে সেখানে ভাষাতত্ত্বের মতো প্রত্যক্ষ উৎপাদন কর্মের সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয় কম আলোচিত হওয়াই মঙ্গলজনক। তবে ভাষাতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদ যে দেশে শ্লোগান, যেখানে ভাষা একটি মৌলিক রাজনৈতিক হাতিয়ার সেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হলেও কিঞ্চিৎ ভাষাতত্ত্বের চর্চা অধিক হওয়া উচিত ছিল। (তাহলে আমাদের দেশে ভাষার অপব্যবহার যে পরিমাণ বেড়েছে সেটা হতো না)।’

আমাদের দেশে কিছু প্রতিষ্ঠান ভাষা নিয়ে কাজ করলেও তাদের কাজ সেভাবে চোখে পড়ার মতো নয়। আমাদের প্রতিনিয়ত ভুল এবং অশুদ্ধ শব্দের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যে দেশের রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চালিত হয় বায়ান্ন থেকে—সেখানকার ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের কোন বিধি-নিষেধ নেই। টেলিভিশন, বেসরকারি রেডিওগুলোয় হরহামেশা তাদের ইচ্ছামতো বাংলা ভাষাকে ব্যবহার করে থাকেন। আসলে ইতিহাস হাতড়ে দেখতে গেলে আমাদের এই ভাষা ঐতিহাসিকভাবেই অবজ্ঞার বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে—এমনকি এখনো এই ভাষা অবহেলার পাত্র। বাংলায় যারা পড়ালেখা করেন, তাদের করুণ অবস্থা দেখলেও কিছুটা অনুমান করা যায়।

আর্যদের কাছে সব সময়ই এই ভাষা ছিল ‘পাখির ডাকের মতো অস্পষ্ট’। তাদের সময়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ ভাষাছিল সংস্কৃত ভাষা। শাসক পুরোহিত বা অভিজাতদের ভাষাই ছিল সংস্কৃত। সমাজের নিম্নগোছের মানুষেরা এই ভাষা কখনো চর্চা করতে পারতো না। কারণ তারা চর্চা করলেই তাদের রৌরব নামে এক ধরনের নরকের নিকৃষ্টতম জায়গায় নিক্ষেপ করা হতো। এভাবেই নানা ভাবে তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে রাখা হয়েছে—এভাবেই শাসক সম্প্রদায় ভাষাকে সত্যিকার অর্থেই বিকশিত হতে দেয়নি। এই ভাষার অপমানজনক ব্যবহার নিয়েও লেখক মনসুর মুসা অনেক আফসোস করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়োবৃদ্ধ শিক্ষকও ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে এক ধরনের জগাখিচুড়ি ভাষা ব্যবহার করে থাকেন।

সদ্য আগত নবীন অধ্যাপক বিনয়াবনত কণ্ঠে বলেন যে, বহুদিন পর বাংলা বলতে একটু তার অসুবিধা হচ্ছে, কিন্তু শিগগিরই তিনি চমৎকার রপ্ত করতে পারবেন। এই আমাদের ভাষার হাল। এভাবেই তিনি তার ‘ভাষা পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ গ্রন্থে ভাষা নিয়ে অনেক কথাই ধারাবাহিকভাবে বলে গেছেন। কারণ আমরা যে ভাষার ওপর নির্ভর করেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি—সে জায়গাটাই নড়বড়ে হলে আমরা একদিন মুখ থুবড়ে পড়ব। তাই ভাষাকে রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। আমাদের সন্তানদের ভাষার তাৎপর্য তুলে ধরে তাদের ভাষার প্রতি মমতা বাড়াতে হবে। আর এভাবে লাগামহীন ভাষার যাচ্ছেতাই চলতে থাকলে ভাষাহীন মানব একদিন দানবে রূপান্তরিত হবে। তবে ভাষাতত্ত্বের বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অনুধ্যানীত হলেও তা আজ অনেকটা অনালোচিতও বটে।

আবারও মনসুর মুসা স্যারের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হয়, ভাষার বিশুদ্ধিচেতনা ব্যাপারটি পুরাপুরি ভাষাতাত্ত্বিক নয়, সমাজতাত্ত্বিক। ভাষাকে সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে, সমাজবিচ্ছিন্ন করে নয়।


আরও খবর



ফায়ার ফাইটার রনির দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ২৪ June ২০২২ | ৬২জন দেখেছেন
Image

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হলো ফায়ার ফাইটার রনির। মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল ১০টায় নিজ গ্রাম শেরপুর সদরের হেরুয়া বালুরঘাট এলাকায় তার জানাজা হয়। জানাজায় রনির আত্মীয়-স্বজনসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় রনির মরদেহে এসে পৌঁছায় তার নিজ এলাকায়। মরদেহ পৌঁছার পর থেকেই স্থানীয় জনগণের ভিড় বাড়ে তার বাড়িতে।

ফায়ার ফাইটার রনির দাফন সম্পন্ন

এসময় শেরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তারা তাকে গার্ড অব অনার ও শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন। এরপর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


আরও খবর