Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

পদ্মা সেতুতে যাবে না হাঁটা, চলবে না তিন চাকার যান

প্রকাশিত:Friday ২৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পরপরই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু। তবে টোল দিয়ে যানবাহন চলবে উদ্বোধনের পরদিন ২৬ জুন ভোর ৬টা থেকে। দেশের সবচেয়ে বড় এই সেতুতে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে পাড়ি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। এমনকী সিএনজি অটোরিকশাসহ তিন চাকার যানবাহনও চলতে পারবে না পদ্মা সেতুতে।

গত ৪ জুন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (কারিগরি) কাজী মো. ফেরদাউস জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সিএনজি অটোরিকশাসহ তিন চাকার কোনো যানবাহন পদ্মা সেতুতে চলাচল করতে পারবে না।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেতুতে ১৩ ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। নসিমন, করিমন, ভটভটি ও সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে না। এমনকি হেঁটেও মানুষ যাতায়াত করতে পারবেন না।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সেতু ও সড়ক) শাহ মো. মুসা জাগো নিউজকে বলেন, হেঁটে সেতু পার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কেউ সাইকেল নিয়েও পার হতে পারবে না। সেতুর উপর দিয়ে কোন যানবাহন পার হতে পারবে ও টোল কত সবকিছুর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আপনি দেখে থাকবেন এর মধ্যে কিন্তু সাইকেল নেই।

তিনি আরও বলেন, সেতুর উপর দিয়ে গতিতে যানবাহন চলবে। কেউ যদি পায়ে হেঁটে যায় বা স্লো মুভিং কিছু যায়, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব কথা বিবেচনা করেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা, কার বা জিপে ৭৫০ টাকা, পিকআপ ভ্যানে ১ হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ছোট বাসে (৩১ আসন বা এর কম) ১ হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে (৩২ আসন বা এর বেশি) ২ হাজার টাকা, বড় বাসে (৩ এক্সেল) ২ হাজার ৪০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ছোট ট্রাকে (৫ টন পর্যন্ত) ১ হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (৫ টনের বেশি থেকে ৮ টন) ২ হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৮ টনের বেশি থেকে ১১ টন পর্যন্ত) ২ হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাক (৩ এক্সেল পর্যন্ত) ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রেইলার (৪ এক্সেল পর্যন্ত) ৬ হাজার টাকা ও টেইলর (৪ এক্সেলের বেশি) ৬ হাজারের সঙ্গে প্রতি এক্সেলে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে যোগ করে টোল দিতে হবে। এর মধ্যে সাইকেলের কথা উল্লেখ নেই।


আরও খবর



নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Saturday ২৩ July ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

হাজার বছর ধরে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে মাছ শব্দটি। তাই প্রবাদেও আছে “মাছে ভাতে বাঙালি”। এটি শুধু প্রবাদ নয়, বাঙালির জাতীয় চেতনাও বটে। এ চেতনাকে ধারণ করেই মাছ চাষী, মৎস্য বিজ্ঞানী ও গবেষক এবং সম্প্রসারণবিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ মৎস্য সম্পদে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় সকল ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যাহত হলেও মৎস্য সেক্টরে এর প্রভাব পড়েনি। এর ফলস্বরুপ দেখা যায়, কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্ত্বেও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৪ হাজার ৪২ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ৫ হাজার ১৯১ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে শতকরা ২৬ দশমিক ৯৬ ভাগ বেশি।

বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি সেক্টরে মৎস্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।এক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যহত থাকার ফলে মাছ উৎপাদন নিয়মিত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব পরিমণ্ডলে মাছ উৎপাদনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় রেকর্ড তৈরি করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশ আজ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বিশ্বে ৩য়, স্বাদুপানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির হারে ২য়, বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে ৫ম, অ্যাকোয়াকালচার, অর্থাৎ মাছের সঙ্গে অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ আহরণে বিশ্বে ১ম, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় ক্রাস্টাশিয়া এবং ফিনফিস উৎপাদনে যথাক্রমে ৮ম ও ১২তম। তাছাড়া তেলাপিয়া মাছ উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ এবং এশিয়ায় ৩য় (অ.স ২০২২)।

মাছের সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে এজন্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১৯৭২ সালে কুমিল্লার এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ’।

আর এই সম্ভাবনাময় সম্পদ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে প্রতিবারের ন্যায় এবারো নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে “জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২”। “নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২৩ জুলাই শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ । চলবে ২৯ জুলাই পর্যন্ত ।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি,প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে ও অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে মৎস্যখাত গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।সরকারের সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমানে দেশের মোট জিডিপি’র শতকরা ৩ দশমিক ৫৭ ভাগ, কৃষিজ জিডিপি’র শতকরা ২৬ দশমিক ৫০ ভাগ এবং মোট রপ্তানি আয়ের শতকরা ১ দশমিক ২৪ ভাগ মৎস্য খাতের অবদান। মৎস্যখাতে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি শতকরা ৫দশমিক৭৪ ভাগ।

মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ চাষ, বিপন্নপ্রায় মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণ, মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির জন্য অভয়াশ্রম সৃষ্টি, জাটকা সংরক্ষণ , মা ইলিশ সংরক্ষণ ও পরিবেশ বান্ধব চিংড়ি চাষ ইত্যাদি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর চীন হতে বিশুদ্ধ জিনপুল সমৃদ্ধ ৩৮ হাজার ৪ শত ৬১টি চাইনিজ কার্প, যথা- সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প ও বিগহেড কার্প আমদানি করেছে। বর্তমানে দেশের ৩৯টি সরকারি খামারে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে রেণু উৎপাদন করে এই মূল জাত পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি খামারে এবং চাষি পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মাছের উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করতে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে “ বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ” ঘোষণা করা হয়েছে।এছাড়াও মাছের উৎপাদনকে ত্বরান্বিত ও টেকসই করতে,পাশাপাশি বর্তমান সরকারের আমার গ্রাম, আমার শহর এর কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার ‘দক্ষিণ বিশিউড়া’ ও শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ‘হালইসার’ গ্রামকে ‘ফিশার ভিলেজ’ বা ‘মৎস্য গ্রাম’ ঘোষণা করেছে।

এছাড়া সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিসারিজ প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্প এলাকায় ১০০টি মডেল ভিলেজ প্রতিষ্ঠা ও ৪৫০টি মৎস্যজীবী গ্রাম উন্নয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির বাজার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের জন্য মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গ্রামীণ মৎস্য চাষী ও জেলেদের তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী জেলে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

মৎস্যখাতে সরকার কর্তৃক গৃহীত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্পসমুহের বাস্তবায়নের ফলে ২০২০-২১ অর্থ বছরে মাছ উৎপাদিত হয়েছে ৪৬.২১ লক্ষ মেট্রিক টন,যা ২০১০-১১ অর্থ বছরের মোট উৎপাদনের ( ৩০.৬২ লক্ষ মেট্রিক টন) তুলনায় ৫০. ৯১ শতাংশ বেশি। তাছাড়া ১৯৮৩-৮৪ অর্থ বছরে মাছের উৎপাদন ছিলো ৭.৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন। গত ৩৮ বছরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ গুণের অধিক (অ.স ২০২২)।

মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় জাটকা রক্ষায় ফেব্রুয়ারি হতে মে পর্যন্ত পরিবার প্রতি মাসিক ৪০ কেজি এবং ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের জন্য পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে চাল প্রদান করা হয়। ২০২১-২২ অর্থ বছরে জাটকা ও মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে ৯ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৪৪টি জেলে পরিবারকে মোট ৭০ হাজার ২ শত ৬০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া ৬৫ দিন সামুদ্রিক মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন গত বছরের ন্যায় ২০২১-২২ অর্থবছরেও দেশের ১৪ টি জেলার ৬৮ টি উপজেলার ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ১ শত ৩৫ টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ১ম কিস্তিতে প্রায় ১৬ হাজার ৭ শত ৯১ মেট্রিক টন ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হয়েছে।

জনবহুল বাংলাদেশের খাদ্য চাহিদা মিটাতে, কলকারখানার বর্জ্য , ফসলি জমিতে কীটনাশক ও সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে নদী দূষণ এবং অতিরিক্ত মাছ আহরণসহ নানা কারণে দেশি মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরও বহু প্রজাতি হুমকির মুখে রয়েছে। মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৪৩টি ছোট প্রজাতির। এর মধ্যে ৬৪টি মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবস্থা বদলাতে শুরু করেছে। সরকারের পাশাপাশি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলোও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এবং বিলুপÍ প্রজাতির মাছকে আমাদের খাবার প্লেটে পুণরায় ফিরিয়ে আনতে নিরলস গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ২১ বছরে ৩১টি দেশি মাছের চাষপদ্ধতি উদ্ভাবন করে মৎস্য চাষিদের হাতে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে চলতি বছরেই ১০টি দেশি মাছের জাত বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করে উৎপাদন বাড়ানোর উপায় বের করা হয়েছে। সফলতার ধারাবাহিকতায় ৩১তম মাছ হিসেবে গত বছরের ২৫ আগস্ট যুক্ত হয় কাকিলা মাছ। এ মাছটির কৃত্রিম প্রজনন বাংলাদেশেই প্রথম।

পাবদা, গুলশা, গুজি আইড়, রাজপুঁটি, চিতল, মেনি, ট্যাংরা, ফলি, বালাচাটা, শিং, মহাশোল, গুতুম, মাগুর, বৈরালি, কুচিয়া, ভাগনা, খলিশা, কালবাউশ, কই, বাটা, গজার, সরপুঁটি, গনিয়া, জাইতপুঁটি, পিয়ালি, বাতাসি, রানী, ঢেলা ও কাকিলা- এই ৩১ প্রজাতির মাছ আবার ফিরিয়ে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর মধ্যে ট্যাংরা মাছের দুই রকম জাত রয়েছে। প্রায় এক যুগের প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের জুন মাসে রুই মাছের নতুন জাত “সুবর্ণ রুই” উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের লাইভ জিন ব্যাংকে দেশের বিলুপ্তপ্রায় ৮৯ প্রজাতির দেশীয় মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। গবেষক, চাষি ও উদ্যোক্তারা যেন সহজেই এ মাছগুলো পেতে পারেন- সে কারণেই এ প্রচেষ্টা।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গবেষণাকাজে সাফল্য আসায় গত ১১ বছরে দেশি ছোট মাছের উৎপাদন প্রায় সাড়ে চার গুণ বেড়েছে। ২০০৯ সালে পুকুরে চাষের মাধ্যমে দেশি ছোট মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৬৭ হাজার ৩৪০ টন, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় তিন লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।

আমাদের দেশে মৎস্য উৎপাদনে দেশি ছোট মাছের অবদান শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ। প্রাচীনকাল থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ আমাদের সহজলভ্য পুষ্টির অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে মলা, ঢেলা, পুঁটি, বাইম, টেংরা, খলিশা, পাবদা, শিং, মাগুর, কেচকি, চান্দা ইত্যাদি অন্যতম।

এসব মাছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও আয়োডিনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলে এবং রক্তশূন্যতা, গলগÐ, অন্ধত্ব প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

সর্বোপুরি বলা যায়, মাছ আমাদের দেশে প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস। বর্তমানে দেশে মাথাপিছু মাছ গ্রহণের পরিমাণ দৈনিক ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে ৪৬ লাখ মেট্রিক টন থেকে ৬৫ লাখ মেট্রিক টনে ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৮৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে চায়।

খাদ্যনিরাপত্তা সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। কেবল খাদ্যের প্রাপ্যতা নয়, ব্যালেন্স ডায়েট নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। কারণ, এটি ছাড়া কখনোই বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। এবং এসডিজি অর্জন করা যাবে না। মৎস্য খাতকে অগ্রাধিকার না দিলে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত পাঁচটি সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) কখনোই অর্জন করা যাবে না। তাই ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে রূপান্তর করতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

লেখক: গণযোগাযোগ কর্মকর্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।


আরও খবর



বাংলাদেশের অগ্রগতিতে ইউএসটিডিএ'র ভূয়সী প্রশংসা

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশ সরকারের চলমান অগ্রগতি কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইউএস ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ইউএসটিডিএ) ডিরেক্টর মিস এনো এবাং। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন খাতে অব্যাহত অগ্রগতিতে মার্কিন সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সোমবার (১ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির সদরদপ্তরে সফররত নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে এ সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন ইউএসটিডিএর পরিচালক।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আমেরিকা সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এক অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ইউএসটিডিএর আমন্ত্রণে এবং ইউএসটিডিএ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ ম্যানেজমেন্ট রিভার্স ট্রেড মিশনে’ অংশ নিতে ইউএস সফর করছেন। তিনি আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি, বাল্টিমোর, ভিক্সবার্গ এবং নিউ আরলিনস সফর করেন।


আরও খবর



অন্যের ছাগল জবাই, আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

পটুয়াখালীর দুমকিতে অন্যের ছাগল জবাই করার অপরাধে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। গ্রেফতার রেজাউল করিম রাজন (৫০) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু গাজী তার বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজ জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে বাঁধ দেন। বুধবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম রাজন ওই বাঁধ কাটতে যান। তখন আবু গাজী এতে বাধা দিলে রাজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। ওই সময় রাজন তার হাতে থাকা দা দিয়ে আবুকে খুনের হুমকি দিয়ে চলে যান।

বুধবার বিকেলে আবু গাজীর একটি ছাগল রাজনের বাড়িতে যায়। পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই ছাগলটি জবাই করেন রাজন। ছাগল জবাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ফের আবুকে খুনের হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখান তিনি। পরে বুধবার রাতে ছাগল চুরির ঘটনায় আবু গাজী বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রাজনের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বুধবারে রাতে রেজাউল করিম রাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর



নেই রিয়াদ-মুশফিক-সাকিব, টি-২০ বিশ্বকাপের আগে পঞ্চপাণ্ডবশূন্য দল

প্রকাশিত:Friday ২২ July 20২২ | হালনাগাদ:Thursday ০৪ August ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অফফর্ম আর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। রিয়াদের নেতৃত্বে খেলতে গেলে দল কতটুকু ভালো করতে পারবে, সেই প্রশ্নটা উঠছিল বারবার।

তার সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের টি-টোয়েন্টিতে পারফরম্যান্স নিয়েও রয়েছে নানা সমালোচনা। বিশেষ করে গত বিশ্বকাপে অদূরদর্শী শট খেলে বারবার দলকে বিপদে ফেলা, টি-টোয়েন্টিতে বিশের নিচে গড় কিংবা ১১৫ স্ট্রাইকরেট; কোনোকিছুই মুশফিকের পক্ষে নেই।

মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন মুশফিকও। যদিও বিসিবির পক্ষ থেকে ‘বাদ’ শব্দটির বদলে ব্যবহার করা হয়েছে ‘বিশ্রাম’। তবে কার্যত অফফর্মের কারণেই তারা দলে জায়গা হারিয়েছেন।

এদিকে সাকিব আল হাসান আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফর থেকে বিশ্রাম নিয়েছেন আগেই। তামিম ইকবালও সম্প্রতি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর টি-টোয়েন্টি খেলবেন না। পঞ্চপাণ্ডবের সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা তো এই ফরম্যাট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরে গেছেন সেই ২০১৭ সালে।

যার অর্থ আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টিতে থাকছেন না পঞ্চপাণ্ডবের একজনও। নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে টাইগারদের। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে এক ঝাঁক তরুণ দিয়ে নতুন করে দল সাজানো বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কতটা ইতিবাচক হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে।

জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি দল
মুনিম শাহরিয়ার, এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক), শেখ মেহেদি, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদি হাসান মিরাজ, পারভেজ হোসেন ইমন।


আরও খবর



৭৬ হাজার টন টমেটো আমদানির কারণ জানতে চান কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ৭০জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশে টমেটোর ভালো ফলন হলেও কেন বছরে ৭৬ হাজার টন টমেটো আমদানি করতে হয় তার কারণ জানতে চেয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

রোববার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে বিএআরসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এ প্রশ্ন করেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশে শীতকালের পাশাপাশি সামার টমেটোরও ভালো ফলন হয়। তাহলে কেন ৭৬ হাজার টন টমেটো আমদানি করতে হচ্ছে? অনেকে আবার কেচাপ তৈরির জন্য টমেটোর পেস্ট আমদানি করছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, বীজ উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন। একই সঙ্গে সারাবছর যাতে টমেটো উৎপাদন করা যায় সে মানের বীজ উৎপাদন ও বাজারজাতের নির্দেশনা প্রদান করেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন অনেক বীজ- যেমন ২৮ জাতের ধানবীজ। এটা এখন রিপ্লেস করা দরকার। কারণ একটা বীজ অনেকদিন ব্যবহার করা হলে ধীরে ধীরে এটার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এরকম অনেক জাতই এখন তুলে নেওয়ার সময় হয়েছে। বিজ্ঞানীরা রিল্পেসের চেষ্টা করছেন। তবে একটা রিপ্লেস মাঠে ছড়াতে অনেক সময় ৮-১০ বছর লাগে। এটাকে দুই তিন বছরের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে ভালো জাতের বীজ উৎপাদন করেও খুব একটা কাজে আসবে না।

তিনি বলেন, আমরা ভালো মানের বীজ উৎপাদনের স্বার্থে একটি সার্টিফিকেশন এজেন্সি করার পরিকল্পনা করছি। যেটা সম্পূর্ণ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞাননির্ভর হবে।

অনুষ্ঠানে সারাদেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ধানের বিভিন্ন জাতের বীজ তুলে দেওয়া হয়। সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জে মোট ১০ হাজার কেজি এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটের কৃষকদের মাঝে ২০ হাজার কেজি বীজ বিতরণ করা হয়। সিড অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সবগুলো জেলার মোট ১৩৫২৫ জন কৃষককে এই বীজ প্রদান করা হয়। এই বীজগুলো মূলত আমন ধানের।


আরও খবর