Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

ওমিক্রন প্রতিরোধে নির্দেশনা জারি করলেন পুলিশ সদস্যদের

প্রকাশিত:Thursday ০৬ January ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৩৬০জন দেখেছেন
Image

করোনাভাইরাসের এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রতিরোধে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (অপারেশনস-২) মোহাম্মদ উল্ল্যা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো

১. প্রত্যেক পুলিশ সদস্য ডিউটি পালনের সময় অবশ্যই মাস্ক, গ্ল্যাভস, হেডকভার, ফেসশিল্ড প্রভৃতি পরিধান করবেন।

২. ডিউটি পালনকালে কিছু সময় পর পর হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে এবং নিয়মিত ডিউটি শেষে সাবান/হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

৩. কোডিড-১৯ (ওমিক্রন) উপসর্গ দেখা দিলে আইসোলেশন সেন্টারে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কোডিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ইউনিট ইনচার্জ কর্তৃক অধীন পুলিশ ও নন-পুলিশ সদস্যদের ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করা।

৫. পুলিশের সব ইউনিটে ‘No Mask No Service’ এবং ’No Mask No Entry’ নির্দেশনা প্রতিপালন করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাস্কের ব্যবস্থা রাখা।

৬. ডিউটিরত সব ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব (কমপক্ষে ৩ ফুট বা ১ মিটার), হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

৭. সেবা গ্রহীতা ও দর্শনার্থীদের পুলিশ স্থাপনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় ও হাত ধোয়া/স্যানিটাইজ নিশ্চিত করা।

৮. প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী (মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদি) ব্যবহার নিশ্চিত করা।

৯. অপারেশনাল কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র, হ্যান্ডকাফ, রায়ট গিয়ার, হ্যান্ডমাইক, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ইত্যাদি যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা।

১০. ডিউটি শেষে আবাসস্থলে প্রবেশের আগে ইউনিফর্ম ও জুতা ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করা এবং সাবান দিয়ে গোসল করা।

১১. ডাইনিং রুম, ক্যান্টিন, বিনোদন কক্ষ, রোল কল, ডিউটিতে যাবার পূর্বে ও ডিউটি হতে ফেরার পরে, সমাবেশস্থলে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করা।

১২. কোভিড-১৯ উপসর্গ দেখা দিলে কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিল বা এসেছে এমন পুলিশ সদস্যদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।

১৩. কোভিড-১৯ পজেটিভ সদস্যদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কেন্দ্রীয়/বিভাগীয়/জেলা পুলিশ দাসপাতাল ও স্থানীয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

১৪. জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ইউনিট ইনচার্জ কর্তৃক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১৫. ইউনিট ইনচার্জ ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিজ ইউনিটের আক্রান্ত সদস্য ও তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং সার্বিক সহায়তা প্রদান করা।

১৬. হাজতখানা সর্বদা জীবাণুমুক্ত রাখা এবং হাজতে থাকাকালীন কোন ব্যক্তির কোডিড-১৯ এর লক্ষণ প্রকাশ পেলে অবিলম্বে তাকে পৃথক করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

১৭. রেশন সামগ্রী, ওষুধ ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা।

১৮. কোডিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক প্রণীত এসওপি এর নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ এবং রোলকলে সচেতনতামূলক ব্রিফিং প্রদান করা।

১৯. কোডিড-১৯ সংক্রাতে ইতিপূর্বে প্রেরিত নির্দেশনা যথাযথ ও আন্তরিকভাবে প্রতিপালন করবেন।

২০. প্রত্যেক পুলিশ ইউনিটে কর্মরত সব সদস্যদের স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গেসমন্বয়পূর্বক কোভিড-১৯ (বুস্টার ডোজ) ভ্যাকসিন গ্রহণে নিশ্চিত করতে হবে।

২১. কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী বিধায় সব পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গকে অবশ্যই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে


আরও খবর



রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৫৫

প্রকাশিত:Wednesday ১০ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩ হাজার ৯২৯ পিস ইয়াবা, ১৭৪ গ্রাম হেরোইন, ৬১ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৯৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে বুধবার (১০ আগস্ট) ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৮ টি মামলা রুজু হয়েছে।


আরও খবর



ফের একসঙ্গে সিদ্ধার্থ-কিয়ারা

প্রকাশিত:Thursday ১৮ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

বলিউডের জনপ্রিয় জুটি সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদবাণী। তবে নিজেদের সর্ম্পক নিয়ে কখনো খোলাসা করেননি এ জুটি। আর তাই বাস্তব জীবনে তাদের প্রেমের সর্ম্পকটা যেন গুজবেই সীমাবদ্ধ। তাদের একসঙ্গে শেষবার দেখা গিয়েছিল ক্যাপ্টেন বিক্রম বত্রার বায়োপিক ‘শেরশাহ’ ছবিতে।

তবে নতুন খবর হচ্ছে, আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে এই লাভবার্ডকে। এবার তারা জুটি বাঁধবেন ‘অদল বদল’ নামে এক রোমান্টিক কমেডিতে। তবে এখনো গল্প খোলসা করেনননি ছবির নির্মাতা।

জানা গেছে, ছবিতে থাকবে প্রচুর স্পেশ্যাল এফেক্টস। কিয়ারা এবং সিদ্ধার্থের চরিত্রের আত্মা গল্পে অদল বদল হয়ে যাবে। হলিউডে এমন গল্প নিয়ে বহু ছবি হয়েছে। তবে তাদের এ ছবি হলিউডের কোন ছবির অনুকরণ কিনা তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশকিছু দিন।

বর্তমানে সিদ্ধার্থ ব্যস্ত রোহিত শেট্টি পরিচালিত ‘ইন্ডিয়ান পুলিস ফোর্স’ ছবির শ্যুটিংয়ে।


আরও খবর

আসছে ‘গোলমাল ৫’!

Friday ১৯ August ২০২২




বাসচাপায় দোকান কর্মচারীর মৃত্যু: কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ

প্রকাশিত:Wednesday ১৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

বাসচাপায় দোকান কর্মচারী পিন্টু শেখের (২৮) মৃত্যুর মামলায় নিহতের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সু-প্রভাত (আকাশ পরিবহন) বাসের মালিক ও চালককে এ টাকা দিতে হবে। ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া এ নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৭ আগস্ট) আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বিমল সমদ্দার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া এ রায় দেন। সু-প্রভাত (আকাশ পরিবহন) বাসের মালিক মো. নুরুল ইসলাম ও চালক মো. সোহাগ মিয়াকে এ ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে হবে।

মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, এ কথা সত্য মানুষ মরণশীল। মানুষ যে কোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে পারে। তবে প্রতিটি মানুষ তার স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করে। এ দেশের মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুসহ গড় মৃত্যুর বয়স অনেক বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে ৬৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার দাবি কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। বরং এটি স্বাভাবিক ও সাধারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। নিহত পিন্টু শেখ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সে ক্ষেত্রে তার ৬৫ বছর পর্যন্ত চাকরি করার সম্ভাবনাকে যথাযথ ও স্বাভাবিক ছিল বলে বিবেচিত হয়। ফলে তার আরও ৩৭ বছর পর্যন্ত চাকরি করার সুযোগ ছিল। কিন্তু মামলার ড্রাইভার সোহাগ দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে তাকে চাপা দিয়ে তার অকাল মৃত্যু ঘটান।

এ ক্ষেত্রে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ১২৮, ১২৯ এবং ১৩০ ধারার বিধানমতে পিন্টু শেখের ওয়ারিশরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ আদালতের বিবেচনায় নিহত পিন্টু আরও ৩৭ বছর তথা ৪৪৪ মাস চাকরি করলে মাসিক গড়ে ২০ হাজার টাকা বেতন প্রাপ্তির মাধ্যমে সর্বমোট ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রাপ্ত হতেন। এছাড়া তিনি এবং তার আত্মীয়-স্বজন পরস্পর তাদের ভালবাসা ও আদর সোহাগ হতে বঞ্চিত হওয়ায় এ বাবদ তারা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ আদালত এই বিষয়টি বিবেচনায় তারা ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এভাবে পিন্টু শেখের ওয়ারিশরা ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ও ১১ লাখ ২০ হাজার মিলে মোট এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় সু-প্রভাত বাসের ড্রাইভার সোহাগ মিয়া বেপরোয়া গতিতে পিন্টু শেখের মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলসহ বাসের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন পিন্টু। স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পিন্টু শেখ এশিয়ান ইলেক্ট্রনিক্স দোকানে চাকরি করতেন এবং তিনি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও বোন রেখে যান।

মামলার বিবরণীতে আরও বলা হয়, পিন্টু শেখ মাসিক ১৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি হলে সে ক্ষেত্রে তার বয়স ৬৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত এই বেতন বৃদ্ধি হয়ে সর্বশেষ মাসিক এক লাখ ২৩ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ হিসাবে ৩৮ বছরে সম্ভাব্য চাকরির মেয়াদকালে তিনি সর্বমোট দুই কোটি ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৬ টাকা টাকা বেতন পেতেন। তার আত্মীয়স্বজন তার স্নেহ মায়া মমতা ও ভালবাসা হতে বঞ্চিত হওয়ায় উপহার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ টাকাসহ মোট দুই কোটি ৭৭ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৬ টাকার দাবিতে ২০১৭ সালে ক্ষতিপূরণের এই মামলা করা হয়।


আরও খবর



ইউরোপের ইরাসমাস স্কলারশিপ পেলেন ১৫১ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত:Thursday ১১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ১৬ August ২০২২ | ১৩জন দেখেছেন
Image

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ পেলেন বাংলাদেশের ১৫১ শিক্ষার্থী। তারা এ স্কলারশিপের আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন শহরের পছন্দসই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) এই শিক্ষার্থীদের জন্য অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এই জোটের সদস্য দেশগুলো।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মানুষে মানুষে যোগাযোগ ও বোঝাপড়াকে উৎসাহিত করতে ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপের মতো পতাকাবাহী কর্মসূচিগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং রাখা উচিত।

এ কর্মসূচিতে ২০২১-২০২৭ মেয়াদে বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৬ দশমিক ২ মিলিয়ন পাউন্ড (৩২ মিলিয়ন ডলার) করা হয়েছে।

স্কলারশিপের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাদের পছন্দসই বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাটা সায়েন্স, প্রকৌশল, জলবায়ু পরিবর্তন, জেন্ডার স্টাডিজ, সার্কুলার ইকোনমি, জনস্বাস্থ্য, জননীতি, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পাবেন।

স্কলারশিপের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে কাজে লাগাবেন, যা ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।


আরও খবর



গুচ্ছগ্রাম থেকে আশ্রয়ণ: ভাগ্য বদলেছে উপকূলবাসীর

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Wednesday ১৭ August ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

উপকূলীয় উপজেলা লক্ষ্মীপুরের রামগতি। দুর্যোগ-দুর্বিপাক যার নিত্যসঙ্গী। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়ংকর থাবায় এই উপজেলার কত-শতজন হারিয়েছেন আপনজন-ভিটেমাটি, তার ইয়ত্তা নেই। তবে উপকূলীয় এই উপজেলায় যেমন আঘাত এসেছে, তেমনি আলোকিতও হয়েছে। উপকূলের নানা সংকটের পরও আশ্রয়ণের আলোয় সমৃদ্ধ হয়েছে রামগতি।

১৯৭০ থেকে ২০২২, বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা; প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই অঞ্চলের জন্য খুলে দিয়েছেন হাত। সত্তরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত এই জনপদে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু। স্বজন ও ভিটেমাটি হারা শত শত পরিবারকে পুনর্বাসন করেছেন। সেই থেকেই আশ্রয়ণের ধারণার উদ্ভব হয়। যার চিহ্ন ধরে রাখতে এখানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভও করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও এই উপকূলে ক্ষতিগ্রস্তদের আপন করে নিয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন। সত্তর থেকে এ পর্যন্ত রামগতির ২ হাজার ৯৩২ পরিবারকে পুনর্বাসন করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) লক্ষ্মীপুরের সদর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে রামগতির চর পোড়াগাছা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর আশ্রয়ণের গুচ্ছগ্রাম এখন সমাজের মূলধারার মতোই একটি ইউনিয়নে পরিণত হয়েছে। সর্বহারা সেসব মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখানকার সেই ২১০ পরিবার এখন প্রায় ৬ শতাধিক পরিবারে রূপ নিয়েছে।

বিশাল এই গুচ্ছগ্রামে গিয়ে দেখা হয় ষাটোর্ধ্ব মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে। ৭০ এর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৭০ এর সাইক্লোনে আমরা সব হারিয়েছি। সর্বহারার মতো অবস্থা। বঙ্গবন্ধু দেখতে এসেছিলেন। আজকে যেটা সুন্দর গ্রাম দেখছেন, সেটা ছিল মরুভূমির মতো মাঠ। একটা চর। বঙ্গবন্ধু তখন এই জায়গা থেকে আমাদের প্রতি পরিবারকে ২.৫ একর করে জায়গা দিয়েছিলেন।

তারা বলছেন, প্রত্যেকের বাড়ির জন্য ৩০ শতক ও কৃষির জন্য ২ একর ২০ শতক জমি। মোট ৬০০ একর ভূমিতে গুচ্ছগ্রাম। ৫০০ একর লোকদের নামে। ১০০ একর কমন। যেখানে ২২টি পুকুর, ১০ ফ্যামিলির জন্য একটা করে দিঘি, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, বাজার, খেলার মাঠ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। দিঘিতে সবাই মিলে মাছ চাষ করেন। বঙ্গবন্ধুর ঘর করে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার হত্যাকাণ্ডের পর আর ঘর হয়নি।

‘ওনার (বঙ্গবন্ধু) সময়ে সারাদেশে মোট ৭টা গুচ্ছগ্রাম হয়েছে। উনি থাকলে আরও বহু কিছু হতো।’ যোগ করেন মেজবাহ উদ্দিন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দেশে ফিরে আমাদের এখানেও আসেন। নিজের হাতে মাটি কেটে এই গুচ্ছগ্রাম শুরু করেন।

তিনি বলেন, তখন এই জায়গা ছিল মরুভূমির মতো। ঘাসও ছিল। আমরা ঘরবাড়ি করে নিয়েছি।

কথা হয় আরেক উপকারভোগী মাইনুদ্দিন দুলালের সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, তার ৩০ শতক জমি আছে। বাকিটা মামলা করে খুইয়ে ফেলেছেন। পাশ থেকেই এনামুল হক নামের আরেকজন জবাব দেন, বঙ্গবন্ধু যতদিন ছিলেন গায়ে মাছিও বসেনি। পরে অনেকে অনেকভাবে হয়রানি করেছে।

চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ২১০টি পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারকে ২.৫ একর করে ভূমি দিয়ে ছিন্নমূল ও অসহায় এসব মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম সর্বপ্রথম শুরু করেন। এখন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই ইউনিয়নের কলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫.১৫ একর অবৈধ দখল উদ্ধারকৃত জমিতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে, ভিক্ষুক, বিধবা ও অসহায় ১ হাজার ৪২৫ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নূরে আলম বলেন, এখানে ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাইক্লোনে ক্ষতিগ্রস্ত ২১০ পরিবারকে পুনর্বাসন করেন। প্রতিটি পরিবারকে ২.৫ একর জমি বরাদ্দ দেন। সেই পুনর্বাসন স্মৃতিকে ধরে রাখতে এখানে একটা স্মৃতিস্তম্ভসহ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে ২ একর ১২ শতক জায়গার ওপর ২৮ জনের জন্য পাকা ঘর, শিশুপার্ক ও মার্কেট থাকছে।

১৯৭২ সালে রামগতিতে করা বঙ্গবন্ধুর গুচ্ছগ্রামের ধারণা থেকে এখন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে ‘আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প’র মাধ্যমে সারাদেশে ভূমিহীন-গৃহহীনদের পুনর্বাসন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা- ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না।’ এরই মধ্যে পুনর্বাসনের মধ্যদিয়ে দেশের ৫২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করেছে সরকার।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৭০ পরিবারকে ভূমি ও সেমিপাকা ঘর করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্বাহী সেলের মাধ্যমে ৭ হাজার ৮০৯টি পরিবার, ভূমি মন্ত্রণালয় ৭২ হাজার ৪৫২টি পরিবার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ হাজার ২৩৭টি পরিবার, বাংলাদেশের গৃহায়ণ তহবিল থেকে ৮৮ হাজার ৭৮৬টি পরিবার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৬০৯টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এভাবে সারাদেশে মোট ৭ লাখ ১১ হাজার ৬৩ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।


আরও খবর