Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৮২জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন মালিবাগ বাগানবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে মো. আশিক এলাহি (৭৯) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক খাদ্য কর্মকর্তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে মালিবাগের একটি ভবনের দশতলার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, তিনি এক সপ্তাহ আগে নিজ রুমে মরে পড়ে ছিলেন। মরদেহ পচে দুর্গন্ধ বের হলে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা আমাদের জানায়। তবে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।


আরও খবর



ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চূর্ণ-বিচূর্ণ, লাফ দিয়ে বাঁচলেন চালক

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একটি মোটরসাইকেল চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে। তবে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন চালক।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের হাস্তাবসন্তপুর অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মোটরসাইকেল চালকের নাম জয় হোসেন (২৫)। তিনি আক্কেলপুর উপজেলার হাস্তাবসন্তপুর গ্রামের ডবলো হোসেনের ছেলে।

ট্রেনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চূর্ণ-বিচূর্ণ, লাফ দিয়ে বাঁচলেন চালক

আক্কেলপুর রেলস্টেশনের দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জয় মোটরসাইকেলযোগে হাস্তাবসন্তপুর অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে কিছু দূর নিয়ে যায়। তবে চালক জয় হোসেন এর আগে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।

স্টেশন মাস্টার বলেন, অসতর্কভাবে পারাপারের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এতে ট্রেনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানান তিনি।


আরও খবর



ডিআইজি মিজানসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ৭ আগস্ট

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (২০ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মনিরুল হক নামে এক ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এরপর বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন। এ পর্যন্ত মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

এদিন আসামি ডিআইজি মিজান ও তার ভাগনে মাহমুদুল হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে ডিআইজি মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ও ছোটভাই মাহবুবুর রহমান পলাতক থাকায় তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

২০২০ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আসিফুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এটি ঢাকার বিশেষ জজ-৬ আদালতে বদলির আদেশ দেন। ওইদিন মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ও ছোটভাই মাহবুবুর রহমান পলাতক থাকায় তা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশের কপি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আইন অনুযায়ী আদালত মামলাটি বিচারের জন্য বদলির আদেশ দেন।

এর আগে ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে মিজানের স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তারও আগে ৩০ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ এ মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।

সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজান ছাড়া চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- ডিআইজি মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ওরফে রত্না রহমান, ছোটভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগনে মাহমুদুল হাসান।

২০২০ সালের ১ জুলাই হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য গেলে ডিআইজি মিজানকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ। এসময় মিজানকে তাৎক্ষণিক হাইকোর্ট পুলিশের হাতে তুলে দেন আদালত। গ্রেফতারের পর তাকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। ওই বছরের ২ জুলাই মিজানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত।

মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রীকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া এক সংবাদপাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। নারী নির্যাতনের অভিযোগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

এরপর দুদক কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিআইজি মিজানকে সাময়িক বরখাস্তের একটি প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। ওই বছরের ২৫ জুন মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।


আরও খবর



ভৈরবে চার হাসপাতালকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, রিঅ্যাজেন্ট, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার সরঞ্জাম ব্যবহারের দায়ে চার হাসপাতালকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

শনিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় পৌর শহরের নিউ টাউন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক ।

এ সময় ট্রমা মেডিসিন কর্নারকে ১০ হাজার টাকা, সাঈদ-ইউসুফ মেমোরিয়াল হসপিটালকে ২০ হাজার টাকা, আল মাহিন ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, পদ্মা জেনারেল হাসপাতালকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক বলেন, ট্রমা মেডিসিন কর্নারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র পাওয়া যায়। সাঈদ-ইউসুফ মেমোরিয়াল হসপিটালে কয়েকটি টেস্টের মূল্য বাবদ বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। যা ওই প্রতিষ্ঠানের মূল্য তালিকার সঙ্গে মিল নেই। আল মাহিন ফার্মেসিতে ফিজিসিয়ান স্যাম্পল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। পদ্মা জেনারেল হসপিটালে মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিঅ্যাজেন্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন পাওয়া যায়। ফলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী চার প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলির মালিকদের সর্তক করা হয়েছে।


আরও খবর



কুয়েতের নতুন প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ সাবাহ

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

শেখ মোহাম্মদ সাবাহ আল-সালেম আল-সাবাহকে কুয়েতের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে একটি আমিরি ডিক্রি জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শেখ মোহাম্মদ আল-সাবাহকে নতুন সরকারের সদস্য মনোনীত করার নির্দেশও হয়েছে।

প্রায় তিন মাস আগে শেখ সাবাহ আল-খালিদ প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য ছিল।

নতুন প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ সাবাহ ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুয়েতের ১২তম আমির শেখ সাবাহ আল-সালেম আল-সাবাহের চতুর্থ ছেলে। তার বাবা শেখ সাবাহ আল-সালেম ১৯৬৫-১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কুয়েত শাসন করেছিলেন।

শেখ মোহাম্মদ ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লেরমন্ট কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য স্টাডিজে পিএইচডি করেছেন।

এরআগে শেখ মোহাম্মদ আল-সাবাহ কুয়েতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৩ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন। ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

২০০৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেখ মোহাম্মদ উপ-প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। কুয়েত সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির প্রতিবাদে তিনি ২০১১ সালের ১৮ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। অফিস ছাড়ার পর শেখ মোহাম্মদ আল-সাবাহ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কাজ শুরু করেন।


আরও খবর



ফজলে রাব্বী মিয়া: বর্ণাঢ্য রাজনীতিকের জীবনাবসান

প্রকাশিত:Saturday ২৩ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ৩১জন দেখেছেন
Image

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে বর্ণাঢ্য এক রাজনৈতিক জীবনের অবসান হয়েছে। জাতীয় জীবনে এ মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। সংসদীয় গণতন্ত্রে অসামান্য ভূমিকার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।

শনিবার (বাংলাদেশ সময় ২৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের (স্থানীয় সময় ২২ জুলাই) মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ফজলে রাব্বী মিয়া।

তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকারসহ মন্ত্রীপরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই মৃত্যু দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের শূন্যতা। এটি পূরণ হবার নয়।

শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, সংসদ পরিচালনায় মরহুম ফজলে রাব্বী মিয়ার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সংসদের নেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই ফজলে রাব্বী মিয়া আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ’৬২ এর শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ১১নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে অসামান্য ভূমিকার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আামির হোসেন আমু বলেন, গণতান্ত্রিক সংসদীয় ধারার রাজনীতির বিকাশে মরহুম ফজলে রাব্বী মিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই মৃত্যু জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, রাজনীতিবিদ ও মানুষ হিসেবে ডেপুটি স্পীকার ফজলে রাব্বী মিয়া ছিলেন অনন্য। তার সংসদীয় জ্ঞানের গভীরতা প্রগাঢ়। তার অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ অনুসরণযোগ্য। এমন একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

জন্ম ও বেড়ে উঠা:
ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গটিয়া গ্রামে জন্ম নেন। তার পিতার নাম ফয়জার রহমান ও মাতার নাম হামিদুন নেছা। ১৯৬১ সালে তিনি গাইবান্ধা কলেজে ভর্তি হন। তিনি বিএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সনদ লাভ করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।

বর্ণাঢ্য সেই রাজনৈতিক জীবন:
১৯৫৮ সালে রাজনীতিতে আসেন ফজলে রাব্বী মিয়া। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণীতে পড়তেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান পাকিস্তানে ‘মার্শাল ল’ চালু করেছিলেন। সে সময় ফজলে রাব্বীর চাচা নিজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। চাচার মাধ্যমে তিনি ‘মার্শাল ল’ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পরেন। ১৯৬২-৬৩ সালে শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধেও তিনি আন্দোলন করেছিলেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ফজলে রাব্বী মিয়া মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তিনি ১১নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বৈশ্বিক জনমত গড়ে তুলতে তিনি কাজ করেছেন।

ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৮৮ সালের চতুর্থ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হন। কিন্তু ২০০৮ সালের নবম, ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯০ সালে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দশম সংসদ থেকে তিনি আমৃত্যু ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের জুনে ফজলে রাব্বী মিয়ার পেটে টিউমার অপারেশন হয়। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আগস্টে তাকে ভারত নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান হয়।

তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান হলো। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো।


আরও খবর