Logo
আজঃ শনিবার ২৫ মে ২০২৪
শিরোনাম

নির্বাচন ছাড়া বিএনপির রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই: নানক

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ৩৭৪জন দেখেছেন

Image

মারুফ সরকার ,স্টাফ রিপোর্টার:নির্বাচন ছাড়া বিএনপির রক্ষা পাওয়ার আর কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরে পুড়ে যাওয়া কৃষি মার্কেট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নানক বলেন, আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলে যে কোনো মার্চ তারা (বিএনপি) করতে পারে।

আমি দোয়া করি, যেন এ রোডমার্চ শান্তিপূর্ণ থাকে।   তিনি বলেন, এই রোডমার্চ করতে করতে যেন বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন করে ফেলে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে রোডমার্চ করুক। ভুল পথচারী বিএনপি নির্বাচনের পথে এলে আমরা অভিনন্দন জানাব।

নির্বাচন ছাড়া বিএনপির রক্ষা পাওয়ার বা নিজেকে রক্ষা করার আর কোনো উপায় নেই। এ সময় নানক কৃষি মার্কেটে আগুন লাগার কারণ জানতে মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কীভাবে আগুন লেগেছে তা বের করতে সরকারের তদন্ত কমিটির পাশাপাশি আপনারা একটি ছোট তদন্ত কমিটি করবেন। কী দুর্বলতা ছিল, কী দুর্বল দিকগুলো ছিল, সেগুলো বের করা দরকার। যার যেখানে দোকান ছিল, সেখানেই তাকে বরাদ্দ দিতে হবে।  

তিনি আরও বলেন, এখানে আমরা আকাশ কুসুম কল্পনা করতে চাই না। ছয় তলা, নয় তলা, ১৪ তলা মার্কেট কবে হবে, এই ভরসার জোরে এই মানুষগুলো অনিশ্চয়তায় থাকতে পারেন না। দোকান মালিক, দোকানদাররা যা চাইবেন, তাই হবে। এর বাইরে কিছু হবে না। আমরা এর বাইরে কিছু করতে দেব না। মার্কেটটি হলো নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মার্কেট। সেই প্রাণের মার্কেটটি পুড়ে গিয়েছে, আমাদের হৃদয় পুড়ে গিয়েছে।

নানক বলেন, এখানে কেউ বঞ্চিত হবেন না। অসাধু চিন্তা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। আমি মেয়রের সঙ্গে আলাপ করব। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তদারকি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আজ নিউইয়র্কে গেছেন। তিনি দেশে ফিরলে তার সঙ্গে আমি এ বিষয়ে কথা বলব।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর স্থানীয় কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নুর ইসলাম রাষ্টন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ সরকার, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদসহ মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতারা ।


আরও খবর



রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে বাস ও পিকআপভ্যানের সাথে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ | ৯৬জন দেখেছেন

Image

শফিক আহমেদঃরোববার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালের সামনের সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতেরা হলেন বাবুল চিশতি (৪৫) ও কবির হোসেন (৫০)। পিকআপচালক বাবুল চিশতি শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের সামন্ত সাহা গ্রামের আব্দুর রশিদ আকন্দের ছেলে। কবির হোসেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সিঁংঢালা গ্রামের আব্দুর রশিদ বেপারির ছেলে। তারা মাতুয়াইলের মৃধাবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

দুর্ঘটনার পর পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাত পৌনে ৩টার দিকে বাবুল চিশতিকে ও ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কবির হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।পথচারী তরিকুল ইসলাম জানান, মাতুয়াইলের মা ও শিশু হাসপাতালের সামনের সড়কে পিকআপ ভ্যানটি ইউটার্ন নিচ্ছিল। তখন তুহিন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস পিকআপ ভ্যানটিকে ধাক্কা দিলে তা দুমড়েমুচড়ে যায়।

এতে বাসটিও পাশের খাদে পড়ে যায়। পরে পিকআপ ভ্যানের ভেতর থেকে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা মুমূর্ষু অবস্থায় ওই দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । তিনি বলেন, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর



সেচ হার ২ হাজার টাকা তারপরও কার্ডে নিতে হয় পানি ঘটে মারপিট

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ১৯৭জন দেখেছেন

Image
আব্দুস সবুর তানোর থেকে:এক বিঘা জমিতে ২ হাজার টাকা সেচ হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান কাটার আগেই ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। হারের টাকা দেওয়ার পর জমিতে সেচ নিতে হলে কার্ড কিনে নিতে হয়। রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপ অপারেটরেরা চালিয়ে যাচ্ছেন এমন কাল্পনিক নিয়ম। অথচ গভীর নলকূপে সেচ কার্ড আসার পর হার নেয়ার কোন নিয়মই নেই বলে বিএমডিএ নিশ্চিত করেন। কিন্তু বিএমডিএর এমন নিয়ম মানতে নারাজ গভীর  নলকূপের অপারেটরেরা। বিশেষ করে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারনে গভীর নলকূপের সেচ সুবিধা  থেকে কৃষকরা চরমভাবে বঞ্চিত। ফলে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক কার্ডের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থার জোর দাবি কৃষকদের। নচেৎ মানববন্ধন থেকে শুরু করে আন্দোলনে যাওয়ার কথা ভাবছেন কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, উপজেলার তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির আড়াদিঘি মৌজায় দুটি গভীর নলকূপের অপারেটর ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ নেতা শাফিউল ও হাবিবুর। তারা চলতি বোরো মৌসুমে বিঘায় ২ হাজার টাকা করে সেচ হার নির্ধারণ করেন। কিন্তু হারের পুরো টাকা আদায়ের পর কার্ডে পানি নিতে বাধ্য করছেন। যার কারনে কৃষকদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। আবার কোন কৃষক এসবের প্রতিবাদ করলে ওই গভীর নলকূপে আর চাষাবাদ করতে পারবে না। একারনে অপারেটরদের হাজারো সিন্ডিকেট মেনে চাষাবাদ করেই যাচ্ছেন। 

তানোর পৌর এলাকার চাপড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, গভীর নলকূপ স্থাপন হয়েছে কৃষকদের সুবিধার জন্য। কিন্তু গভীর নলকূপ সুবিধার বিপরীতে কৃষকদের কাছে এক প্রকার গলার কাটা হয়ে পড়েছে। আড়াদিঘি গ্রামের অপারেটর শাফিউল ও হাবিবুরের গভীর নলকূপে এক বিঘা  জমির হার ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পুরো টাকা আদায় হওয়ার পর এখন কার্ড কিনে সেচ নিতে হচ্ছে। চাষাবাদের জন্য সার কীটনাশক সহ শ্রমিকের বাড়তি মূল্য গুনতে হচ্ছে। আবার সেচ হার, কার্ডের মাধ্যমে পানি নেওয়া কৃষকের মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে পড়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে টানা  প্রচন্ড খরতাপ আছে। একদিন জমিতে সেচ না দিলে পানি থাকেনা। আবার সেচের জন্য অপারেটর ও ড্রেন ম্যানের কাছে দিনের পর দিন ধরনা দিয়ে মিলে না সেচ।
এদিকে উপজেলায় বোরো চাষ হয় দুভাগে। বিলের জমিতে আগাম ও মাঠের জমিতে আলু উত্তোলনের পর হয় বোরো চাষ। বিলের জমির ধান কাটা মাড়ায় ইতিপূর্বেই শেষ হয়ে গেছে। আলুর জমির ধান  কাটা শুরু হয়েছে। প্রচন্ড টানা তাপমাত্রা থাকা ও সময়মত সেচের পানি না পাওয়ার কারনে বিঘায় ৭ থেকে ৮ মন ধানের ফলন হয়েছে কম। 

কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, টানা খরতাপ ও সময়মত সেচের পানি না পাওয়ার কারনে বিঘায় ৪ থেকে ৫ মন ফলন কম হয়েছে। এই মর্মে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জেলায় এরিপোর্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু জেলা অফিস সেই রিপোর্ট গ্রহণ না করে গত মৌসুমে যে ফলন হয়েছে সেই রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক রিপোর্ট পুনরায় দেয়া হয়।বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত)  জামিলুর রহমান বলেন, সেচের জন্য হার নির্ধারণ করার কোন নিয়ম নেই। কার্ডের মাধ্যমে সেচের পানি নিতে হবে। অতিরিক্ত হার নিলে কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে জমিতে সেচের পানি চাওয়ায় মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। তানোর পৌর এলাকার হরিদেবপুর গ্রামে ঘটে ঘটনাটি। এঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক হরিদেবপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে গত রবিবার অপারেটর একই গ্রামের মোজাহারকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী কৃষক জানান গত সোমবার সকালের দিকে হরিদেবপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর বাড়ির পার্শ্ববর্তী জমিতে সেচের পানি চাওয়ায় অপারেটর মোজাহার আমাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে। সে বিঘায় ১৬০০ টাকা হার নির্ধারণ করে ১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। টাকা নিলেও সঠিক ভাবে সেচ দেয়না। তবে অপারেটর মোজাহার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে অকাথ্য ভাষায় গালমন্দ করার কারনে তাকে উত্তম মাধ্যমে দেয়া হয়েছে । মারপিটের সাথে  সেচের কোন বিষয় নাই। আপনি নাকি ১৬০০ টাকা করে এক বিঘায় হার নির্ধারণ করে ১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনো হার নির্ধারণ করা হয়নি। ধান কাটার পর নির্ধারন করা হবে।

থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রহিম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

আরও খবর



বিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ৯১জন দেখেছেন

Image

মিজানুর রহমান মিজান,বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ২০২৪ইং সালের ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ১ম পর্যায়ে বুধবার ( ৮ মে) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো.পারভেজ কবীর, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোছা: উম্মে কুলসুম বানু ও ভাইস-চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে মো. আতাউর রহমান বেসরকারীভাবে নির্বাচিন হয়েছেন।

বুধবার (৮ মে) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার (ভারঃ) ও  সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, বিরামপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৪৬ জন। এর মধ্যে মধ্যে বৈধ ভোটরে সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার ৭ শত ৭৪টি।

বিরামপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৪২ হাজার ৯'শত ৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিরামপুর আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ আলহাজ্ব মো.পারভেজ কবীর । তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলহাজ্ব মতিউর রহমান পেযেছেন ৩২ হাজার ৮'শত ৭ ভোট। মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে হাঁস মার্কা প্রতীকে উম্মে কুলসুম বানু ২৯ হাজার ৮'শত ৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমেনা বেগম বৈদ্যুতিক পাখা মার্কা নিয়ে ভোট পেয়েছেন ২২ হাজার ৪'শত ২৩টি। ভাইস-চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে মো. আতাউর রহমান চশমা মার্কা প্রতীকে ৩২ হাজার ৬'শত ১৫ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিন হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খোরশেদ আলম মানিক টিউবওয়েল মার্কা পেয়েছেন ১৭ হাজার ১'শত ৮৩ টি ভোট।

নির্বাচন বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার (ভারঃ) ও  সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, এই নির্বাচনে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সঙ্গে বেসরকারিভাবে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেছি।


আরও খবর



মন্ত্রী-এমপির স্বজনদের বিরত রাখা দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | ১৭৩জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে চাপে আছে সরকার,বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের । যুদ্ধের কারণে বিশ্বে যে অর্থনৈতিক সংকট চলছে তা বাংলাদেশেও আছে। বাংলাদেশ এ প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। দ্রব্যমূল্যের যে চাপ তা তো অস্বীকার করার উপায় নেই।

রোববার (৫ মে) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপির স্বজনদের বিরত রাখা আওয়ামী লীগের নীতিগত সিদ্ধান্ত, এখানে আইনগত কোনো বিষয় নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের কর্তাব্যক্তিরা আমাদের দেশে মানবাধিকার যে চোখে দেখে, নিজের দেশে সেই দৃষ্টিতে দেখবে না কেন? আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংঘাতে নেই। তবে সত্য বললে তাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে তো কিছু করার নেই। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ দমনে যে আচরণ করা হয়েছিল, একই রকম নির্মম আচরণ এখন করা হচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমাদের দেশের মানবাধিকার নিয়ে তারা কথা বলে। আমরা কি এসব নিয়ে কথা বলতে পারবো না? আমাদের দেশে তারা যে দৃষ্টিতে মানবাধিকার দেখে সে দৃষ্টিতে নিজের দেশে দেখবে না কেন? তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব নেই এমন কথাতো আমরা বলিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ান আব্দুস সবুর, সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।


আরও খবর



গাংনী; এক সফল জননী নুরজাহান

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪ | ৬৯জন দেখেছেন

Image

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃপঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখার সময় পরিবারের চাপে মাত্র ১২ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল নুরজাহান খাতুনকে। বিয়ের পর আর বিদ্যালয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার। লেখাপড়া শিখতে না পারার কষ্ট বুকে নিয়ে শপথ করেছিলেন ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। আর সেটাই হয়েছে। নুরজাহান খাতুনের ১০ সন্তান আজ উচ্চ শিক্ষিত ও সকলেই কর্মরত। 

অশিতীপর সংগ্রামী এই মায়ের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাঁড়াডোব গ্রামে। তিনি মরহুম কোবাদ আলী শেখের স্ত্রী।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নুরজাহান খাতুনের স্বামী কোবাদ আলী মারা যান। ১০ ছেলেমেয়ে নিয়ে তখন কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেও তিনি ভেঙে পড়িনি। স্বামীর রেখে যাওয়া অল্প কিছু অর্থ দিয়ে প্রথমে বাড়িতেই কয়েকটি ছাগল পালন শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে হাঁস-মুরগি ও গরুর খামার করেন তিনি। জীবনের সাথে সংগ্রাম করেই ১০ সন্তানকেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। সবাই এখন চাকরিজীবী।

নুরজাহান খাতুনের বড় ছেলে আনিসুর রহমান কুষ্টিয়া জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, মেজো ছেলে আনছারুল হক ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের পরিদর্শক, তৃতীয় ছেলে এসএম আইনুল হক বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি ও বর্তমানে সুইডেনে নাগরিকত্ব অর্জন করে সেখানকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, চতুর্থ ছেলে মাসুদুজ্জামান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, পঞ্চম মেয়ে নাছিমা খাতুন গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। 

এছাড়াও ষষ্ঠ ছেলে শাহাজাহান আলী গাংনী উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে সিনিয়র অডিটর, সপ্তম ছেলে আলমগীর হোসেন একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত, অষ্টম মেয়ে নাজমা খাতুন মেহেরপুর জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত, নবম ছেলে জিল্লুর রহমান বেসরকারি প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। কনিষ্ঠ মেয়ে তাসলিমা আক্তার বিসিএস নন ক্যাডারে কুষ্টিয়া ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন।

‘সফল জননী’ হিসেবে নুরজাহান খাতুন গাংনী উপজেলা পর্যায় ও মেহেরপুর জেলা পর্যায় থেকে স্বীকৃতি সরুপ ২০২৩ সালে পেয়েছেন জয়িতা ও রতœগর্ভা পুরস্কার।

নুরজাহান খাতুন জানান, জীবনের সব ক্ষেত্রে তিনি সফলতা পেয়েছেন। ছেলেমেয়েদের সফলতায় তিনি গর্বিত। তিনি আরো জানান, জীবনে অবহেলিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে এবং সমাজের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে সন্তানদেরকে সব সময় পরামর্শ দেন। কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো কাজে সদিচ্ছা, সততা, স্বচ্ছতা ও চেষ্টা থাকলে মানুষ সফল হবেই। কারো ওপর নির্ভর না করে নিজের জীবন নিজেকেই গোছাতে হবে। সফল হওয়ার পেছনে এটাই হচ্ছে মূলমন্ত্র’।

প্রতিবেশিরা জানান, স্বামী মারা যাবার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দিনপাত করেছেন তবুও সন্তানদেরকে পড়ালেখা থেকে বিরত রাখেন নি। নিজেই জিবন সংগ্রাম করেছেন আর সন্তানদেরকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলার চেষ্টায় তিনি সফল। তার সন্তানরাও অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত স্বভাবের। সকলকে এমন মায়ের মত হবার আহবান জানান প্রতিবেশিরা।

তার মেয়ে গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাছিমা খাতুন বলেন, আমার মা খুব ভালো মানুষ। তিনি সব বাধা পেরিয়ে একজন সফল নারী। আমার বাবা মারা যাবার পর পরিবারে হাল ধরার মতো কেউ ছিল না। মা একাই ১০ ভাইবোনকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছেন। বাবা যখন মারা যান আমরা কেউ তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ কলেজে, কেউ মাধ্যমিক নয়তো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি। আমাদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে গিয়ে গ্রামের মানুষের কাছেও তাকে শুনতে হয়েছে নানা ধরনের কটু কথা। তারপরেও তিনি থেমে যাননি। সবকিছু উপেক্ষা করে আমাদের মানুষ করেছেন।


আরও খবর