Logo
আজঃ Tuesday ২৪ May ২০২২
শিরোনাম

নাসিরনগরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রার্থীকে ভোট না দেয়া শিক্ষকদের থাকার রুমে তালা

প্রকাশিত:Wednesday ০৫ January ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৪ May ২০২২ | ২৯১জন দেখেছেন
Image


মোঃ আব্দুল হান্নানঃ

স্কুল কমিটির সভাপতি প্রার্থীকে স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধিরা ভোট না দেয়া তিন শিক্ষকের রুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ওই প্রার্থীর লোকেরা।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোয়াল নগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে।


জানা গেছে গত ২ রা জানুয়ারী ২০২২ রোজ রবিবার সকাল ১১ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার অন্তর্গত গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নাসিরনগর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় স্কুল কমিটির সভাপতি  নির্বাচন। 


নির্বাচনে সভাপতি পদে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আজহারুল হক চৌধুরী ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ কিরণ মিয়া প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।


নির্বাচনে  গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪  জন  নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি,১ জন নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী প্রতিনিধি,১ জন দাতা সদস্য, ১ জন বিদ্যোৎসাহী ও ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।


মোট ১০টি ভোটের মাঝে ৭ ভোট পেয়ে  গোয়ালনগর ইউনিয়ন অাওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ কিরণ মিয়া সভাপতি নির্বাচিত হন। অপরদিকে প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ অাজহারুল হক চৌধুরী  ৩ ভোট পেয়ে পরাজয় বরণ করেন। 


কিন্তু আজহারুল হক পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে তাকে ভোট ও সর্মতন  না করার কারনে এলাকায় গিয়ে ২জন শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ মলাই মিয়া,মোঃ আমান উল্লাহ ও ১ জন অফিস সহকারী অরবিন্দ থাকার রুমে তালাবদ্ধ করে দেন।এখনো ওই রুমে  তাদের দেয়া তালা ঝুলছে বলে জানা কিরণ মিয়া ও শিক্ষকরা। ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা।


গোয়াল নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মলাই মিয়া মোবাইল ফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান,নির্বাচনের আগে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আজহারুল হক চৌধুরী আমাদের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে তাকে ভোট দেয়ার জন্য আমাদের অনেক চাপ প্রয়োগ করে ও প্রশাসেনর ভয় দেখিয়ে হুমকি দেয়।তিনি বলেন আমরা তার কথামত তাকে ভােট না দেয়া এমন করেছে।আমরা তার হুমকিকে উপেক্ষা করে একজন সৎ ও ভাল মানুষকে নির্বাচিত করে আমাদের আর্দশেকে অটুট রেখেছি।


এ বিষয়ে  মুঠুফোনে আজহারুল হকের সাথে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি পাজলামি এবং অযথা বলে দাবী করে উড়িয়ে দেন,তিনি বলেন আমিতো সভাপতি তারাতো এখনো পর্যন্ত আমাকে কিছু জানায়নি।


এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমানের সাথে মুঠুফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন,রুমে তালা ঝুলিয়ে রাখার কারনে তারা লেপতোষক, টাকা পয়সা ও প্রযোজনীয় কাপড় চোপড় বের করতে না পারায় এই তীব্রশীতের মাঝে তিনদিন যাবৎ আমার শিক্ষকরা খুষ্ট কষ্ট ভোগ করছে।প্রধান শিক্ষক বলেন আমি নিজে তিন দিন আগে বিষয়টি চেয়ারম্যানকর অবগত করলেও তিনি কোন কর্নপাত করেননি ও ব্যবস্থা নেননি।


 এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আজহারুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেননি বলে জানান।


আরও খবর



জানে আলম চট্টগ্রাম অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক

চট্রগ্রামে চাঁদাবাজী মামলার প্রধান আসামী জানে আলম গ্রেফতার

প্রকাশিত:Sunday ২২ May 20২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৪ May ২০২২ | ৬৪জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নগরের বাকলিয়া-নতুন ব্রিজ এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনার মূল হোতা মো. জানে আলমকে (৪১) গ্রেফতার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ।


রোববার (২২ মে) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান বাকলিয়া থানার ওসি রাশেদুল হক।


তিনি জানান, বাকলিয়া-নতুন ব্রিজ এলাকার ত্রাস, চাঁদাবাজদের নেতৃত্বদানকারী এবং ভাসমান ভ্যানগাড়ি ও হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কারী এই জানে আলম। চাঁদা না পেয়ে এক ফল বিক্রেতার ওপর হামলা-ভাংচুর মামলার আসামি সে।


চন্দনাইশের পশ্চিম কেশুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোরত আলীর বাড়ির মৃত গুরা মিয়ার ছেলে জানে আলম চট্টগ্রাম অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছে।


পুলিশ জানায়, গত ১৬ মে জানে আলমের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ দলের সদস্যরা নতুন ব্রিজ এলাকায় ভ্যান গাড়িতে ফল বিক্রেতা মো. বাদশার (২০)  কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় জানে আলম তার সহযোগী আরাফাত,  মো. আলী ও জাবেদুল ইসলামকে নিয়ে ১৭ মে রাত ৯টার দিকে নতুন ব্রিজ সংলগ্ন নবাব খাঁ কলোনির সুমনের দোকানের সামনে বাদশার পথরোধ করে।


 এসময় তাকে মারধর করে এবং ভ্যানগাড়ি ভাংচুর করে। পরে থানায় মামলা হলে অভিযান চালিয়ে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও মূল হোতা জানে আলম পালিয়েছিল।


রোববার (২২ মে) দুপুরে আসামি জানে আলমকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান ওসি রাশেদুল হক।


আরও খবর



আগামী জুনেই উদ্বোধন হচ্ছে পদ্মা সেতু

প্রকাশিত:Wednesday ১১ May ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৩ May ২০২২ | ১২৮জন দেখেছেন
Image

বজলুর রহমানঃ

এবছরের জুনের শেষ দিকে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতির সামারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। 


আগামী মাসের (জুন) শেষ দিকে সেতুটি উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছি। তিনি সময় দিলে জুনেই পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।


বুধবার (১১ মে) রাজধানীর সেতু ভবনে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১১তম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী।



ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি শতকরা ৯৮ শতাংশ। এর মধ্যে নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি শতকরা ৯২ শতাংশ এবং মূল সেতুর কারপেটিং কাজের অগ্রগতি শতকরা ৯১ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।




পদ্মা সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা-পদ্মা সেতু’ নামকরণে সেতু বিভাগ প্রস্তাব দেবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সেতুটি উদ্বোধনের আগেই আমরা ‘শেখ হাসিনা -পদ্মা সেতু’ নামকরণ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেবো। তিনি সম্মতি দিল আমরা এ নামে সেতুর উদ্বোধন করবো।


তিনি বলেন, সেতু বিভাগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। ২ হাজার ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতীয় টানেল টিউবে রিং প্রতিস্থাপনসহ ১০০ শতাংশ বােরিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২৩৪ মিটার স্লাব নির্মাণ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় টানেল টিউবের প্রয়ােজনীয় ইন্টার্নাল স্ট্রাকচার নির্মাণের কাজগুলো চলমান রয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮৫ শতাংশ।


আরও খবর



মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ ভাবে অনুষ্ঠিত করার আশ্বাস

প্রকাশিত:Saturday ২১ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৪ May ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সঙ্গে একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেয়। 


আইআরআই-এর প্রেসিডেন্ট ড. ড্যানিয়েল টুইনিং আইআরআই পক্ষের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে আইআরআই-এর এশিয়া বিভাগের পরিচালক জোহানা কাও, ডেপুটি ডিরেক্টর রোন্ডা মেস, সহযোগী পরিচালক ম্যাট কার্টার, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোহুল্লাহ নিয়াজি, বাংলাদেশ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. জিওফ্রে ম্যাকডোনাল্ড এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।


স্থায়ী কমিটির প্রতিনিধি দল উল্লেখ করে, বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নিশ্চিত করার জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছে।


প্রতিনিধি দলটি উল্লেখ করে, সরকারের প্রচেষ্টাকে অন্যান্য সমস্ত রাজনৈতিক দল দ্বারা সমর্থন ও সহায়তা করা দরকার, কারণ তাদের সবারই ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য আইআরআই-এর সহায়তাকে স্বাগত জানান।


আরও খবর



কর্তৃপক্ষের দাবি লাফিয়ে আত্মহত্যা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশিত:Thursday ১৯ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৪ May ২০২২ | ৭৩জন দেখেছেন
Image

নাজমুল হাসানঃ

রাজধানীর গ্রিনরোডে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির সাততলা থেকে পড়ে ইমাম হোসেন (২৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। 


সে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।


বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকাল আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।  


মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সকাল দশটায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নিহত শিক্ষার্থীর বাড়ি ভোলা লালমোহন উপজেলায়। নিহতের বাবার নাম আক্তার হোসেন।


কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ৯৮নং পূর্ব রাজাবাজারে একটি মেসে থাকতেন। ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি।


 বৃহস্পতিবার সকালে তার তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ছিল।


বিশ্ববিদ্যালয়টির এ্যাসিস্টেন্ট অ্যাডমিন অফিসার ফয়সেলুজ্জামান জানান, সকালে তিনি যখন ভার্সিটিতে ঢুকছিলেন তখন শুনতে পান ভবন থেকে এক শিক্ষার্থী নিচে পড়ে গেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।


তিনি দাবি করেন, ভার্সিটির সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে ওই শিক্ষার্থী নয়তলা ভবনটির সাত তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।


 ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়ার মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



আরও খবর



স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:Thursday ১৯ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৪ May ২০২২ | ৬৭জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সব থেকে পরিবেশবান্ধব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  


গ্যাস ফুরিয়ে গেলে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের বিদ্যুৎ দেবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।


বুধবার (১৮ মে) আওয়ামী লীগ আয়োজিত শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।  


বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সভায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে তিনি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।


সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশ পৃথিবীতে উন্নয়নের রোল মডেল।


এর ভেতরে আমাদের কিছু নতুন আঁতেল আবার জুটেছে। একজন অর্থনীতিবিদ বলেই দিলেন আমরা যে, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি এটা না কি অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ক্ষতিকর।


আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এটা হচ্ছে সব থেকে পরিবেশবান্ধব। গ্যাস তো চিরদিন থাকে না। এক একটা কূপের তার তো সময় নির্দিষ্ট থাকে। তেলভিত্তিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ আমরা করি, অনেক খরচেরও ব্যাপার। যদি কোন দিন এমন হয় যে, আমাদের গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টই বিদ্যুৎ দেবে। 


আর এটা পরিবেশবান্ধবও একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখানে বিনিয়োগটা বড় করে দেখা যায়। কিন্তু এর বিদ্যুৎ যখন উৎপাদন হবে আর এর বিদ্যুৎ যখন মানুষ ব্যবহার করবে আমাদের অর্থনীতিতে অনেক বেশি অবদান রাখবে। 


আজ আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি বলেই সারা বাংলাদেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি। আমরা যখন রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করলাম তখন কত সমালোচনা। আমরা যখন ডিজিটার বাংলাদেশ ঘোষণা দিলাম তখন কত সমালোচনা। এখন ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করেই আমাদের সমালোচনা করছে। তারা যে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন এটা কিন্তু আমরা দিচ্ছি। 


খালেদা জিয়ার আমলে, জিয়ার আমাল বা এরশাদের আমলে তাদের কি কথা বলার কোনো সুযোগ ছিল। অধিকার ছিল, কতটুকু অধিকার ভোগ করতেন তারা। টক শো তারা করেই যাচ্ছেন, টক টক কথা বলেই যাচ্ছেন। তাদের তো গলাটিপে ধরি না, মুখ চিপেও ধরি না। বলেই যাচ্ছেন, সব কথা বলার শেষে বলে কথা বলতে দেওয়া হয় না। 


বিএনপির এক নেতা তো সারা দিন মাইক মুখে লাগিয়ে আছেন। সারাক্ষণ বলেই যাচ্ছেন। একবার কথা বলতে বলতে গলায় অসুখও হলো। চিকিৎসা করে তিনি আবার কথা বলছেন। কথা তো কেউ বন্ধ করছে না। তাদের আন্দোলনে যদি জনগণ সাড়া না দেয় সে দোষটা কাদের?


প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যে, অর্থনীতিবিদ তিনি হিসাব দেখালেন তাকে আমি বলবো, তিনি কী এটা প্রকৃতপক্ষে জেনেই বলছেন, না কি না জেনেই বলছেন। আমি তার জ্ঞান নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলবো না কারণ তারা অনেক ভালো লেখাপড়া জানেন। 


কিন্তু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পেয়ে একটি মানুষের বা একটা জাতি যে কতটুকু উন্নতি হতে পারে সে তো আজকের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নটা বাইরের লোকে দেখে কিন্তু তারা দেখে না চোখে।


পদ্মাসেতুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটি হচ্ছে পদ্মাসেতু, এই পদ্মাসেতুর অর্থ বন্ধ করালো ড. ইউনুস। কেন, গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম গ্রামীণ ব্যাংকে উপদেষ্টা হতে। এমিরেটাস উপদ্ষ্টো হিসেবে থাকার জন্যে, আরও উচ্চ মানের। সেটায় সে থাকবে না, তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না। 


ড. ইউনুস কিন্তু আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। কিন্তু কোর্ট আর যাই পারুক তার বয়স তো কমিয়ে দিতে পারবেন না ১০ বছর। গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তখন তার বয়স ৭১ বছর। এই বয়সটা কমাবে কীভাবে, তিনি মামলায় যে হেরে যায়। কিন্তু প্রতিহিংসা নেয় ড. ইউনুস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাফুজ আনাম তারা আমেরিকায় চলে যায়, স্টেট ডিপার্টেটমেন্টে, হেলারির কাছে ই-মেইল পাঠায়। হিলারি লাস্ট একেবারে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার শেষ কর্মদিবসে পদ্মাসেতুর টাকা বন্ধ করে দেয়। 


যাক একদিকে সাপে বর হয়েছে। বাংলাদেশের নিজের অর্থায়নে পদ্মাসেতু করতে পারে সেটা আজকে আমরা প্রমাণ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের এখানে একজন জ্ঞানী লোক বলে ফেললেন পদ্মাসেতু দিয়ে যে রেললাইন হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে, এ টাকা তো ঋণ নিয়ে করা হচ্ছে এই ঋণ শোধ হবে কী করে কারণ দক্ষিণবঙ্গের কোনো মানুষ তো রেলে চড়বে না। তারা তো লঞ্চে যাতায়াত করে। তারা রেলে চড়তে যাবে কেন, এই রেল ভায়াবল হবে না। সেতুর কাজ হয়ে গেছে এখন সেতু নিয়ে আর কথা বলে পারছে না। রেলে কাজ চলছে, রেলের কাজ নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। আমার মনে হয় আমাদের সবার উনাকে চিনে রাখা উচিত। রেলগাড়ি যখন চালু হবে উনাকে রেলে নিয়ে চড়ানো উচিত।


পদ্মাসেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আর খালেদা জিয়া বলেছিলেন জোড়াতালি দিয়ে পদ্মাসেতু করা হচ্ছে। কারণ স্প্যান‌গুলো যে বসাচ্ছে ওটা ছিল তার কাছে জোড়াতালি দেওয়া। বলেছিলেন জোড়াতালি দিয়ে পদ্মাসেতু বানাচ্ছে ওখানে চড়া যাবে না, চড়লে ভেঙে পড়বে। তার সঙ্গে তার কিছু দোসসরাও। তাদেরকে কী করা উচিত, পদ্মাসেতুতে নিয়ে যেয়ে ওখান থেকে টুস করে ফেলে দেওয়া উচিত। আর যিনি একটা এমডি পদের জন্য পদ্মাসেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করে দেয় তাকেও পদ্মানদীতে নিয়ে দুটা চুবনি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত। মরে যাতে না যায়, একটু চুবনি দিয়ে সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত, তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়। 



বড় অর্থনীতিবিদ জ্ঞানীগুণী তারা এই ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা বলে কিভাবে, সেটাই আমার প্রশ্ন। মেগা প্রজেক্টগুলো করে না কী খুব ভুল করছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই উৎক্ষেপণ করেছি, এতো টাকা দিয়ে স্যাটেলাইট করে কি হবে এ প্রশ্নও কিন্তু তুলেছে তারা। অর্থাৎ বাংলাাদেশের জন্য ভালো কিছু করলেই তাদের গায়ে লাগে। কেন তারা কী এখনও সেই পাকিস্তানি জান্তাদের পদলেহনকারি খোসামোদি-তোসামোদি দল। 


গালিটালি দেই না, দেওয়ার রুচিও নাই তবু একটু না বলে পারি না পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী যেভাবে মেয়েদের ওপর নির্যাতন করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে, পেড়ামাটি নীতি নিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল সেই পাকিস্তানিদের পদলেহনকারি সারমেয়র দল এখনও বাংলাদেশে জীবিত। এখনও এরা বাংণাদেশে ভালো কিছু হলে এরা ভালো দেখে না। বাংলাদেশ এগিয়ে গেলে তাদের ভালো লাগে না। 


তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবো ভ্যাকসিনটা বিনা পয়সা দিয়েছি আমি, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি। সে ভ্যাকসিন তো এরা নিয়েছেন, এটা তো বাদ দেয়নি। আমরা বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দিয়েছি। বুস্টার ডোজও আমরা শুরু করেছি। তারা তো নিশ্চয় দুটো ডোজ নিয়েছে, বুস্টার ডোজও নিয়েছেন।


 বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন নিতে পারলো আর আমাদের উন্নয়নটা চোখে পড়ে না। এখন কি ভ্যাকসিন চোখেও দিতে হবে না কি সেটাই মনে হচ্ছে, তাহলে যদি দেখে, তাছাড়া দেখবে না। ম্যাগা প্রজেক্ট জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে।


 আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বাংলাদেশের এই উন্নতি হচ্ছে। এর আগে, যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কি একটা দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবে যে তারা বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করে বা দেশের কোনো উন্নয়ন করেছে বা বিদেশে ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করেছে, করতে পারে নাই। বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের জাতি বানিয়েছিলেন, আজকে আমরা মর্যাদাশীল জাতি। আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের প্রায় ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা অর্জন করেছি।


বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেশি কথা বলে যাচ্ছে বিএনপি, এদের নেতৃত্ব কোথায়, নেতৃত্ব নাই। সব তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এই সাজাপ্রাপ্ত আসামি দিয়ে নির্বাচনে জেতা যায় না। আর নির্বাচনে পরাজয় হবে জেনে তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, কলুষিত করতে চায়। যারা একটু আমাদের জ্ঞানী-গুণী আঁতেলরাও উল্টোপাল্টা কথা বলেন তাদেরকেও বলবো দেশ চালাবার যদি ইচ্ছা থাকে তো মাঠে আসেন, ভোটে নামেন, কেউ ভোট কেড়ে নেবে না। আমরা বলতে পারি, আমরা ভোট কেড়ে নিতে যাই না। আমরা জনগণের ভোট পাই এবং আমরা পাবো কারণ আমরা জনগণের জন্য কাজ করেছি। সেজন্যই জনগণ আমাদের ভোট দেবে।


সবশেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক দিন পর মন খুলে কথা বললাম। এ সময় তিনি বলেন, আসলে এই করোনা ভাইরাস বন্দি করে রেখে দিয়েছে আমাকে। ২০০৭ সালে ছিলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে বন্দি। এখন আমি নিজের হাতে নিজেই বন্দি।


আরও খবর