Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

মুম্বাইয়ে চার তলা ভবন ধসে নিহত এক

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৬০জন দেখেছেন
Image

ভারতের মুম্বাইয়ে চার তলা একটি ভবন ধসে একজন নিহত হয়েছেন। ভবন ধসে আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। ধ্বংসস্তূপে এখনো আটকা পড়ে আছেন আরও পাঁচজন। সোমবার রাতে কুরলার নায়েক নগর সোসাইটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন।

এখনো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে দেশটির ফায়ার সার্ভিস ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরে গতরাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, বসবাসকারী লোকদের ভবনটি খালি করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তবে তারা যাননি। ভবনের মালিকের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

বিএমসির অতিরিক্ত কমিশনার অশ্বিনী ভিদে বলেছেন যে ধসে পড়া ভবনটি জরাজীর্ণ এবং ২০১৩ সাল থেকে প্রথমে মেরামতের জন্য এবং পরে ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে ২১ জন লোক ছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি


আরও খবর



বেদনাবিধুর আগস্টের প্রথম দিন আজ

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
Image

শোকাবহ ও বেদনাবিধুর আগস্ট মাসের প্রথম দিন আজ (সোমবার)। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

জাতির পিতার কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুড়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী, আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এছাড়াও ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ তাদের পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন।

সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী পশ্চিম জার্মানির নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ শ্রী চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।

টাইমস অব লন্ডন-এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়, ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই।’ একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

প্রতিবারের মতো এবারও ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপী কর্মসূচি। এর আগে কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে দলটি।


আরও খবর



বাড়তি ভাড়া কার্যকর, দুর্ভোগে মানুষ

প্রকাশিত:Sunday ০৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। বাড়তি ভাড়া কার্যকর হলেও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গণপরিবহন সংকটে পড়েছে মানুষ। আবার কোথাও কোথাও সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হয়েছে পরিবহন শ্রমিকদের। এমনকি হাতাহাতির মতো ঘটনাও ঘটছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

রোববার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শনির আখড়া, ধোলাইপাড়, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

bus-3

চিটাগাং রোড থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত চলে শ্রাবণ পরিবহনের বাস। এই বাসে উঠলে দেখা যায়, নির্ধারিত নতুন ভাড়ার চেয়ে পাঁচ টাকা বেশি নিচ্ছেন হেলপার। এ নিয়ে হেলপারের সঙ্গে যাত্রীদের কথা কাটাকাটিও হয়।

একটি বেসরকারি কোম্পানিতে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত সোহেল রহমান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সরকার তেলের দাম বাড়ানোয় বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে বাসগুলো। মাতুয়াইল থেকে উঠলাম, বললো গুলিস্তান ৩০ টাকা। অথচ আগে ২০ টাকা ভাড়া ছিল। কি আর করা বাধ্য হয়ে অনেক বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়ে গেছি। এভাবে আর কত চলবে। বেতন পাই কত টাকা। কিন্তু প্রতিনিয়ত খরচ বাড়ছেই। বেতন তো সেভাবে বাড়ছে না।

bus-3

গুলিস্তান থেকে মিরপুরগামী শিকড় পরিবহনের বাসেও দেখা গেছে পাঁচ টাকা বেশি ভাড়া নিতে। সেই সঙ্গে অন্যান্য সময়ের থেকেও তাদের বাস সড়কে দেখা গেছে কম।

পরিবহনের সংকটের বিষয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সামসুন্নাহার নামে একজন বলেন, কাজলা থেকে অন্য সময় সকাল সাড়ে ৮টার পর বের হই। কিন্তু বাস সংকটের কথা চিন্তা করে আজ ৮টায় বের হয়েছি। তবুও বাস পাচ্ছি না। একটা বাস আসলে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আমি মহিলা মানুষ, আমার তো আর সেভাবে ওঠা সম্ভব না। সেজন্য এক ঘণ্টা দাঁড়িয়েই আছি।

bus-3

বাস সংকট কেন জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিকড় পরিবহনের শ্রমিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘মূলত ভাড়া বাড়লে মানুষ তা মাইনা নিতে চায় না। এখন লস দিয়া তো আর গাড়ি চালাইতে পারুম না। সেজন্য ভাড়া বাড়লে দু-একদিন গাড়ি বন্ধ রাখে। তাইলে মানুষ কিছু মাইনা নেয়। নইলে ভাড়া নিয়া আমগো লগে মারামারি করে।’

এদিকে আবার উল্টো চিত্র দেখা গেছে কোনো কোনো বাসে। আগের মতো ভাড়া নেওয়া এমন একটি পরিবহনের হেলপার বলেন, ‘আসলে আমরা কিছুদিন আগেও একবার তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া বাড়াইছিলাম। তখন একটু বেশি বাড়ানো হইছিল। এখন যে নতুন ভাড়া ঠিক করছে, আগের বাড়তি ভাড়ার সঙ্গে সেটা ঠিক আছে। তাই আমাদের ভাড়া বাড়ানো লাগে নাই। আমরা সেজন্য আগের ভাড়াই নিতাছি।’

jagonews24

এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শনিবার গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

নির্ধারিত নতুন ভাড়া অনুযায়ী মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে বাস ও মিনিবাসে ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। দূরপাল্লায় বাসভাড়া বাড়িয়েছে ৪০ পয়সা। ফলে এখন থেকে মহানগর পর্যায়ে কিলোমিটারে বাসে ২ টাকা ৫০ পয়সা, মিনিবাসে ২ টাকা ৪০ পয়সা ভাড়া হবে। দূরপাল্লার বাসে ভাড়া হবে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা।

আগে ভাড়া ছিল মহানগর পর্যায়ে কিলোমিটারে বাসে ২ টাকা ১৫ পয়সা, মিনিবাসে ২ টাকা ১০ পয়সা ও দূরপাল্লার বাসে ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা।

এর আগে শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাতে ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন, ও অকটেনের দাম বাড়ায় সরকার। এতে করে প্রতি লিটার ডিজেলে ৩৪, কেরোসিনে ৩৪, অকটেনে ৪৬ ও পেট্রলে ৪৪ টাকা বেড়েছে।

দাম বাড়ার পর প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও প্রতি লিটার পেট্রল ১৩০ টাকায় কিনতে হবে।

আগে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ছিল প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা ও পেট্রল ৮৬ টাকা।


আরও খবর



আপন ঠিকানায় ফিরলো বিরল প্রজাতির গুইসাপ

প্রকাশিত:Thursday ২১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক কৃষকের বাড়িতে বন্দিদশা থেকে পাঁচদিন পর বিরল প্রজাতির বড় আকারের একটি গুইসাপ অবমুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে গুইসাপটি অবমুক্ত করেন জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন জীবনের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাছিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নে সরুগ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুল গনি। সোমবার (১৮ জুলাই) দুপুরের দিকে ফসলের মাঠ থেকে কৃষিকাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার সামনে দিয়ে গুইসাপটি হেঁটে যাচ্ছিল। খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসে গুইসাপটি। তখন স্থানীয়দের সহযোগিতায় আব্দুল গনি কৌশলে গুইসাপটি আটক করে বাড়িতে নেন। পরে সিমেন্টের তৈরি একটি বড় পাত্রের ভেতর আটক করে রাখেন তিনি।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন গুইসাপটি দেখতে ওই বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। সংবাদ পেয়ে স্বাধীন জীবনের নির্বাহী পরিচারক ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুইসাপটিকে বন্দিদশা থেকে নিরাপদে মুক্ত করেন।

এ বিষয়ে আব্দুল গনি বলেন, ‘কৌতূহলবশত গুইসাপটিকে ধরে রেখেছিলাম। তবে প্রাণীটির ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করিনি। শখ করে কয়েকদিন পালন করেছি। খাবার দিয়েছি। তবে এটা ঠিক হয়নি। ভুল বুঝতে পেরে প্রাণীটিকে ছেড়ে দিয়েছি।’

স্বাধীন জীবনের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেন, আমাদের পরিবেশের উপকারী বন্ধুরা আজ বড়ই বিপন্ন। যেভাবে বিপন্ন শকুন। ঠিক সেভাবেই বিপন্ন গুইসাপ। কারণ এরা শকুনের মতোই মরা, পচা প্রাণী খেয়ে পরিবেশের অপরিসীম উপকার করে চলে।

তিনি বলেন, খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসেছিল গুইসাপটি। অসচেতন এক কৃষক গুইসাপটি আটক করে রাখেন। তাকে বুঝিয়ে গুইসাপটি নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ধুনট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, গুইসাপ পরিবেশবান্ধব ও মানুষের জন্য অনেক উপকারী একটি প্রাণী। প্রাণীটিকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখা দরকার।


আরও খবর



দিনাজপুরে বৃষ্টির আশায় তিন গ্রামে ইন্দ্র দেবের নগর বিয়ে

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

কয়েকদিন ধরে দিনাজপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির দেখা নেই। তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুকিয়ে যাচ্ছে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়। ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে মাঠঘাট। ব্যাহত হচ্ছে ধানের চাষাবাদ। জাগ দেওয়া যাচ্ছে না পাট। তাই বৃষ্টির আশায় বৃষ্টির দেবতা হিসেবে পরিচিত ইন্দ্র দেবের নগর বিয়ের আয়োজন করে দিনাজপুর সদর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীর লোকজন।

সোমবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের নুলাইবাড়ী কর্মকারপাড়ায় এ বিয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। যা চলে রাত ২টা পর্যন্ত।

এর আগে সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের দক্ষিণ নগর গ্রামেও এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। রাত ২টার পর একই ইউনিয়নের উত্তর গোপালপুরেও বিয়ের আয়োজন করা হয়।

নুলাইবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও দিঘন এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রতন কুমার কর্মকার এ নগর বিয়ের আয়োজন করেন।

দিনাজপুরে বৃষ্টির আশায় তিন গ্রামে ইন্দ্র দেবের নগর বিয়ে

তিনটি বিয়েতেই বর ইন্দ্র দেব হিসেবে আসনে বসেন প্রাণকৃষ্ণ ও কনে সেজে কলাবতীর আসনে বসেন প্রদীপ রায়। এরমধ্যে নুলাইবাড়ী কর্মকারপাড়ায় বিয়েতে বরের বাবা ছিলেন ললিত মোহন রায়। আর কন্যার বাবা ছিলেন রতন কুমার কর্মকার।

বাজনা, সাদনা তলায় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ, সাতপাকে বাধা, মালাবদল, সিদুরদান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রীতি অনুযায়ী সব আয়োজনের মধ্যে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পুরোহিত ছিলেন পরিতোষ চক্রবর্তী। পৃথক তিনটি বিয়ের আয়োজনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথিকে আপ্যায়ন করা হয়।

বিয়ে দেখতে আসা কিশোরী সঞ্চিতা রায় বলেন, এ ধরনের বিয়ে আমি কোনোদিন দেখিনি। আজ জীবনে প্রথম এ বিয়ের আয়োজন দেখলাম। কিন্তু দাদা-দাদির কাছে শুনেছি, যখন অনাবৃষ্টি ও খরা দেখা দেয় তখন এ ধরনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। আজ নিজে উপস্থিত থেকে বিয়েটা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।

দিনাজপুরে বৃষ্টির আশায় তিন গ্রামে ইন্দ্র দেবের নগর বিয়ে

৫৫ বছর বয়সী নীরেন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বৃষ্টির আশায় আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করেছি।’

আয়োজক রতন কুমার কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছে। তীব্র রোদে জমি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত। ঠিকমতো কৃষকরা ধান লাগাতে পারছে না। তীব্র গরমে কোন ভাবেই ক্ষেতেও কাজ করা যাচ্ছে না। পাট জাগ নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। তাই আমরা বৃষ্টির জন্য বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্র দেব ও কলাবতীর এ বিয়ের আয়োজন করেছি।’

পুরোহিত পরিতোষ চক্রবর্তী জাগো নিউজকে বলেন, ‘লোকাচার মেনে পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে নগর বিয়ের এ রীতি চলে আসছে। এটা হলো ইন্দ্র রাজার বিয়ে। যখন কোথাও অনাবৃষ্টি দেখা দেয় তখন সেই এলাকায় নেচে গেয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ইন্দ্র রাজার বিয়ের আয়োজন করা হয়। আমরা সেই পূর্ব পুরুষদের রীতি ধরে রাখছি। বিয়েতে বৃষ্টির জন্য সবাই প্রার্থনা করি।’


আরও খবর



ফিল্মের আত্মঘাতী সমালোচনা, নিজেদেরই ক্ষতি!

প্রকাশিত:Thursday ০৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

ভালোভাবে কোন কিছু না দেখে, না জেনে, না বুঝে মন্তব্য করা পুরনো অভ্যেস-আমাদের। মন্তব্য করতে কিছু ভাবতে হয় না, কোন দায়িত্বও নিতে হয় না। যে কারও সর্ম্পকে, যে কোন কিছু সম্পর্কে মন্তব্য করলেই হল। ব্যক্তি, প্রেক্ষাপট, বিষয়, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, পেশাদারিত্ব, সামাজিক প্রভাব কোনো কিছু বিবেচনায় আনার প্রয়োজন হয় না অমূলক মন্তব্য করতে।

সোশ্যাল মিডিয়া পুরোটাই এক অনিয়ন্ত্রিত বাজার। অনেকটা কারওয়ান বাজার আর লাঠিয়াল বাহিনীর অদ্ভুত মিশেল। জোর যার মুল্লুক তার চরিত্র। কারো সম্পর্কে কোন অপ্রচার করতে চাও, বাহিনী লেলিয়ে দাও, ছড়িয়ে দাও অপবাদের বিষবাষ্প। ভালোমন্দ, উচিত অনুচিত দেখার সময় নেই, গুজব হলে আরো গ্রোগ্রাসে খাও, রীতিমতো গিলো।

বাংলা ছবি ভালো না, ক্ষেত, আনস্মার্ট, মফস্বল আবার এখন বলা হচ্ছে নকল। আমি গাল দিচ্ছি কিন্তু আমার নিজেকে। নিজের দেশের ছবি নিজের পরিচয়। আমার যা সেটাই আমি। অন্যের শতকোটি ভাল, অবশ্যই ভালো কিন্তু তা আমার নিজের নয়।

আমাদের ভালো ছবির দারুণ অতীত আছে। অতীত যখন আছে, অভিজ্ঞতা আছে, ঋদ্ধতা আছে, ফলে ভবিষৎও আছে নিশ্চয়ই। বহুকাল আগেই এদেশের ছবি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত পুরস্কৃত হয়েছে। কাজী হায়াতের প্রথম ছবি ‘দি ফাদার’ বহুকাল আগেই কাল আগে কান ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিল।

আলমগীর কবীরের ‘ধীরে বহে মেঘনা’ থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ছবিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে। জহির রায়হানে ‘স্টপ জেনোসাইড’ সাড়া ফেলেছে বিশ্বে। তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ তো কান ফ্যাস্টিভ্যালে পুরস্কার জিতেছে।

আমি ছবির কোন বাণিজ্যিক-অবাণিজ্যিক ধারা, স্বল্প দৈর্ঘ্য-পূর্ণ দৈর্ঘ্যে বিশ্বাসী নই। সে যার মতো গল্প করতে, বলতে, চিত্রায়ন করতে পারে। সেই চিত্রায়ন কতটা কমিউনিকেটিভ সেটা বিবেচ্য।

কোভিড পরিস্থিতি সারা দুনিয়াকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ফেলেছে। ছবির বাজার সারা দুনিয়াতে প্রবল ধাক্কা খেয়েছে। শুটিং বন্ধ, ছবি বন্ধ, হল বন্ধ ছিল শুধু এখানে নয়, সারা বিশ্বে। তার উপর আমাদের ছবি মন্দা, বন্ধ্যা সময় পার করছে কয়েকবছর যাবত। সেখানে ‘দিন দ্যা ডে’, ‘পরান’ বা ‘হাওয়া’ ছবিগুলো হাউজফুল যাওয়া, ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন হাওয়া নিঃসন্দেহে।

আগেই বলেছি ট্রল করতে, অন্যকে নিয়ে হাস্যরস করতে, টিটকারী করতে, তামাশা করতে, রঙ্গরস করতে কোন দায়িত্ব নিতে হয় না। দায়িত্বের অংশও হতে হয় না। অনন্ত জলিলকে নিয়ে ট্রল হয় নিয়মিত। কিন্তু তিনি যে ছবির বাজার বাঁচাতে নিজের টাকা বিনিয়োগ করে, চেষ্টা করে যাচ্ছেন তা কি আমরা মনে রাখি?

আমি বলছি না অনন্ত খুব ভালো অভিনেতা, সবাই দুর্দান্ত ক্লাসিক অভিনেতা হবেন সেটা আশা করাও বোকামি। কিন্তু তিনি যে ছবি নির্মাণ করেছেন নিজের দেশের মানুষকে কাজে লাগিয়ে; সেই চেষ্টা আর বিনিয়োগের প্রতি সম্মান রাখা উচিত।

বলা হচ্ছে মিজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’, ‘দি ফগে’র নকল। যারা এই মন্তব্য করেছেন তারা ছবি না দেখেই করছেন। মনে রাখতে হবে ছবি কিন্তু বাস্তবের চিত্রায়ন বা দৃশ্যায়ন নয়, ছবি ছবিই। বলা হয় ‘ইমিটেশন অব লাইফ’। জীবনের অনুকৃতি। ফিল্মে ফিল্মিক বিষয় থাকবেই।

নায়িকা বা নায়ক একই গানে ১৯ বার পোশাক বদলাবেন। কোথায়, কিভাবে গিয়ে পোশাক বদল করলো ফিল্ম তা দেখাবে না। এখানেই ফিল্ম আর ডকুমেন্টারির পার্থক্য। যারা ফিল্মের মধ্যে পলিটিক্যাল কারেক্টনেস খুঁজছেন তারা দয়া করা ফিল্ম না দেখে নোয়াম চমস্কি, এডওয়ার্ড সাঈদ বা অরুন্ধতী রায় পড়ুন।

একটা ফিল্ম কিন্তু শুধু একটা ফিল্ম না। নায়ক নায়িকা না, শুধু গ্লামার না, দু-একটা নাচ গান তাও না। একটা ফিল্ম বহু মানুষের, বহু শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবিকা। এর সঙ্গে অনেক লিংকেজ ইন্ড্রাস্টিজ জড়িত। শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রী নয়। কেউ এখানে খাবার সাপ্লাই দেয়, কেউ ক্যামেরা লাইট দেয়, কেউ পরিবহনের গাড়ির সঙ্গে যুক্ত, কেউ পোশাক সরবরাহ করে, পোশাকের ডিজাইন করে, শুটিংয়ের বাড়ি ভাড়া দেয় অনেকে, কেউ কেউ মোশন গ্রাফিক্সের কাজ করে, কেউ এডিটিং, কেউ ভিএফএক্স, কালার, হলের ব্যবসা আরও কত কী! হয়তো কোন একটি লোক বাদাম বিক্রি করে হলের সামনে- এটাই তার জীবিকা, মনে রাখতে হবে।

আমরা বড় আত্মঘাতি। নিজের পায়ে কুড়াল মারি। খাল কেটে হাঙ্গর আনি। বহু লোক ফেসবুকে সারাক্ষণ স্ট্যাটাস দিচ্ছে ‘দেশ শ্রীলংকা হলো হলো’, মনে হয় তারা শ্রীলংকা হবার জন্য প্রার্থনারত। অন্যায়ের প্রতিবাদ অবশ্যই করবো তবে নিজের অমঙ্গল নিশ্চিত করে নয় নিশ্চয়ই।

আমার দেশ, মাটি, আমার পরিচয়, যেখানেই যাই, যে দেশেই থাকি। আজকে বাংলাদেশের ছবির বাজার নষ্ট হলে বুঝতে হবে কার লাভ কার ক্ষতি? নিজেদের ক্ষতি নিজেরা করলে, অন্যেরা তাতে ঘি ঢালবে। আপনার ট্রলে লাইক, কমেন্টেসের বন্যা বয়ে যাবে। তাতে আপনার বা আমার লাভ কী!

লেখক: সম্পাদক, আজ সারাবেলা, সদস্য ফেমিনিস্ট ডট কম, যুক্তরাষ্ট্র।


আরও খবর