Logo
আজঃ Wednesday ০৫ October ২০২২
শিরোনাম

মেসেঞ্জারে রাজনৈতিক তর্ক, শিক্ষার্থীকে জঙ্গি বলে পুলিশে দিলো ঢাবি

প্রকাশিত:Friday ১৯ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ০৫ October ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিফতাহুল মারুফ। ‘চৌদ্দশিখা’ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে সম্প্রতি তিনি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মূলত ওই গ্রুপে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তাদের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। সেখানে আলোচনার একটি স্ক্রিনশট অন্য শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নজরে আসে। এরপর মিফতাহুল মারুফকে ডেকে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে নিয়ে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেসময় প্রাধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ ও ‘জঙ্গি’ অ্যাখ্যায়িত করে পুলিশে দেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ছাত্রলীগ ও হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের সমালোচনা করেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা, বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও শিক্ষার্থীদের নির্যাতন বিরোধী সেল-স্যাটের নেতৃবৃন্দরা থানায় অবস্থান করেন। পরে দুপুর একটার দিকে বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টা সহযোগী অধ্যাপক আইনুল ইসলামের জিম্মায় মারুফকে ছেড়ে দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ।

jagonews24

মারুফের বন্ধুরা জানান, ‘চৌদ্দশিখা’ নামক একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তারা সমসাময়িক ইস্যু ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। এখানে ২০০৫ সালে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার বিষয়ে আলোচনা ও তর্ক হচ্ছিল। এসময় মারুফ একটি মেসেজ দেন, যার সারমর্ম ছিল এরকম- ‘যদি সিরিজ বোমা হামলার দায় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াতের হয়, তাহলে ২০০৮ সাল থেকে বর্তমান সময়ের মধ্যে ঘটা হলি আর্টিসানসহ সব হামলার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ।’ এই মেসেজের একটি স্ক্রিনশট জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন শান্তের কাছে পাঠায় কেউ। এর সূত্র ধরে শান্ত মারুফকে ডেকে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালেয়ে নিয়ে যান। সেখানে হল প্রাধ্যক্ষ তার এ স্ক্রিনশট দেখে তাকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ ও ‘জঙ্গি’ অপবাদ দিয়ে পুলিশে দেন।

পুলিশে হস্তান্তর করার পর হল প্রাধ্যক্ষ উপস্থিত সাংবাদিকদের সেসময় জানান, আমরা তার কাছ থেকে রাষ্ট্রবিরোধী ও জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাই। এ জন্য আমরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি নিতে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করি।

শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, আমাদের কাছে ওই শিক্ষার্থীকে যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, তদন্ত করে এ ধরনের কোনো অভিযোগের সত্যতা পাইনি। তার পরিবার ও তার কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও পাইনি।

এ বিষয়ে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা আইনুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে হল প্রশাসন বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলে মারুফকে পুলিশে দেয়। আমরা সকালে থানায় এসে তার বিষয়ে খোঁজ নেই। পুলিশ বলেছে তারা অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের প্রমাণ পায়নি। পরে আমার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

jagonews24

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হল প্রশাসন এরকম বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তা না হলে এরকম ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমরা আশা করবো এর পর এরকম ঘটনা ঘটলে হল প্রশাসন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

এদিকে, ভুক্তভোগী মারুফকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী (স্যাট) প্লাটফর্মের প্রতিনিধি সালেহ উদ্দীন সিফাত ও আহনাফ সাইয়েদ খানের ওপর জসিমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী হামলা চালান বলে জানা গেছে। এতে সিফাত ও আহনাফ আহত হন। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


আরও খবর