Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত

মালয়েশিয়ায় অসামান্য অবদান সাইদুর রহমানের

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৮৫জন দেখেছেন
Image

মালয়েশিয়ায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন, বাংলাদেশি অধ্যাপক সাইদুর রহমান। ময়মনসিংহ জেলার কৃতি সন্তান হিসেবে পরিচিত সাইদুর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। মালয়েশিয়ায় মেধা ও প্রজ্ঞায় যারা নিজ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন তাদের মধ্যে তিনিও একজন।

সাইদুরের গবেষণাপত্র বিশ্বের অন্যান্য গবেষকদের কাছে খুবই সমাদৃত। গবেষণার প্রভাব, কর্মক্ষমতা ও বিশ্বব্যাপী র‌্যাঙ্কিংয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি গুগল স্কলারের বিশ্লেষণ অনুসারে তার ১১৫টি গবেষণায় এইচ-ইনডেক্সসহ ৫০ হাজারেও বেশি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। 

ওয়েব অব সাইন্স ন্যানোফ্লুয়েড গবেষণায় তিনি বিশ্বের গবেষকদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ব সেরা গবেষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তার গবেষণা ক্ষেত্রে শীর্ষ শতাংশ হওয়ার জন্য মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্ধৃতি প্রভাবেও তার ব্যতিক্রমী অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব মালয় যা প্রিমিয়ার রিসার্চ ইউনিভার্সিটি তাকে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১১-২০১৪ এর মধ্যে উদ্ধৃত গবেষকদের সম্মানিত করেছে।

সানওয়ে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর সিব্র্যান্ড পপ্পেমা প্রফেসর সাইদুরের উল্লেখযোগ্য অবদান তুলে ধরে বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ৫০ হাজারের বেশি ভিউ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট তার অসামান্য অবদানের জন্য গবেষণা সম্প্রদায় ও সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে তার জনপ্রিয়তাও তুলে ধরেন।

jagonews24

পাশাপাশি তার অসামান্য অবদানে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও প্রবাসীরা আনন্দিত। তারা বলছেন, অধ্যাপক সাইদুর রহমান বিদেশের মাটিতে নিজগুণে দেশকে পরিচিতি করছেন। অধ্যাপক সাইদুর আমাদের গর্ব।

সাইদুর রহমান ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণায় পুরস্কারও পেয়েছেন।

তিনি ল্যাঙ্কাস্টারের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শক্তি প্রযুক্তি বিভাগ ও মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোম্যাটরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি টেকনোলজির অধ্যাপক। ল্যাঙ্কাস্টার জরিপে ২০২০ সালের সেরা চারজন গবেষকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোমেটেরিয়ালস ও এনার্জি টেকনোলজির প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান রয়েছেন সেরা চারে।

এক সাক্ষাতকারে সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সঠিক গবেষণা কৌশল, গবেষণা সংস্থা ও তহবিল সংস্থার সমর্থনসহ, গবেষকরা উল্লেখযোগ্য উদ্ধৃতি এবং অন্যান্য গবেষণা প্রভাব তৈরি করতে পারেন। গবেষক/শিক্ষাবিদদের অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বিশাল চ্যালেঞ্জিং গবেষণার ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে তত্ত্বাবধান করতে হবে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে, শীর্ষ মানের জার্নালে প্রকাশ করতে হবে, তহবিল খুঁজতে হবে, অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ গবেষণাগার স্থাপন করতে হবে। গবেষকদের তাদের যোগাযোগ, দল গঠন, নৈতিকতা, নেতৃত্ব ও জীবনব্যাপী শেখার দক্ষতাও উন্নত করতে হবে। গবেষণা সংস্থাগুলোকে তাদের গবেষকদের অর্থায়ন, গবেষণা প্রণোদনা, পুরস্কার, পদোন্নতি, প্রেরণা দিয়ে সহায়তা করতে হবে।

jagonews24

সাইদুর রহমান বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে দেশের খ্যাতি ও সুনামকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য দেশকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে। এই ব্র্যান্ডিংয়ের মানে হচ্ছে দেশের আলোকিত দিকগুলো বিশ্বের কাছে তুলে ধরা। ব্র্যান্ডিংয়ের সুফল হচ্ছে, দেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং খাড়া করতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে দেশের জনশক্তি, পর্যটন, দেশে তৈরি পণ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সেবা ও মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে।

সরকার, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, দেশ ও প্রবাসের বাসিন্দা সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। যারা দেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসাবে কাজ করতে পারেন। বিশ্বের জনশক্তির বাজারে শুধু শ্রমিক রপ্তানির কথা না ভেবে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশের ইমেজ বদলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সমস্যা আমাদের আছে ঠিকই, কিন্তু গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হলে নীতিবাচক দিকগুলোকে পেছনে রেখে বিশ্বের কাছে দেশকে নিয়ে একটি সুন্দর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। যা বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দেবে। প্রফেসর সাইদুর ন্যানোম্যাটেরিয়ালের ওপর গবেষণা করছেন এবং শক্তি সঞ্চয়, তাপ স্থানান্তর, সৌর শক্তি, শক্তি দক্ষতার ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োগ করছেন।

অধ্যাপক সাইদুর বিজ্ঞানীদের সুবিধার জন্য অনলাইন সেমিনার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে তার ২৫ বছরের গবেষণার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এছাড়াও, তিনি অসহায় ও দরিদ্র তরুণ প্রতিভাবানদের সহযোগিতা করেন। অধ্যাপক সাইদুর ভবিষ্যতে আরও সামাজিক অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করেন।


আরও খবর



শ্রীলংকাকে হারিয়ে বাংলাদেশকে টপকে গেলো নেপাল

প্রকাশিত:Wednesday ২৭ July ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ৫৬জন দেখেছেন
Image

বিকেলে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল বাংলাদেশ। রাতে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়েছে উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পাওয়া নেপাল।

বুধবার ভারতের ভুবনেশ্বরে কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপাল ৩-০ গোলে হারিয়েছে শ্রীলংকাকে। হিমালয়ের দেশটি প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল মালদ্বীপকে।

দুটি করে ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট করে অর্জন করেছে বাংলাশে ও নেপাল। তবে গোলগড়ে বাংলাদেশকে টপকে টেবিলের এক নম্বরে উঠেছে নেপাল। এই জয়ে বাংলাদেশের মতো নেপালও ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করলো।

পয়েন্ট টেবিলের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ ও নেপালের ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। ২ আগস্ট মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও নেপাল। তার আগে বাংলাদেশ ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে এবং নেপাল খেলবে ভারতের বিপক্ষে।


আরও খবর



‘এমবাপেকে বলে দিন, মেসি ২২ বছরে ৪টি ব্যালন ডি অর জিতেছিল’

প্রকাশিত:Friday ১৯ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে দর্শকদের ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন ফ্রান্সের তরুণ তারকা কাইলিয়ান এমবাপে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপের উদীয়মান তারকার পুরস্কার জেতা এ খেলোয়াড়কেই ভাবা হয় ফুটবল বিশ্বের পরবর্তী রথী-মহারথী হিসেবে।

গত মৌসুম পর্যন্তও ভক্তদের মণিকোঠায়ই ছিলেন এমবাপে। কিন্তু চলতি মৌসুমের শুরু থেকে কমতে শুরু করেছে এমবাপের প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের সম্মান ও ভালোবাসা। অনেক নাটকীয়তার পর রিয়াল মাদ্রিদকে না করে দেওয়ার পর প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে থেকে গিয়ে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনারই জন্ম দিচ্ছেন এমবাপে।

সবশেষ ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেকে পুরোপুরি দল থেকে বিচ্ছিন্নই করে ফেলেছিলেন ২৩ বছর বয়সী এ তারকা। দলের সবাই যখন একসঙ্গে কথা বলছিল, তখন এমবাপে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। এছাড়া একটি আক্রমণের সময় পাস না পাওয়ায় সরেই যান এমবাপে।

এর চেয়েও বড় ঘটনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের সঙ্গে কথা কাটাকাটির বিষয়টি। সেই ম্যাচে দুইটি পেনাল্টি পেয়েছিল পিএসজি। প্রথমটির শট নেওয়ার আগে কাঁধ দিয়ে মেসিকে ধাক্কামতোন দেন এমবাপে। পরে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি তিনি।

এরপর দ্বিতীয় পেনাল্টির সময় নেইমারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এমবাপে। শটটি করার জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু এমবাপে চান তিনি শট করবেন। যা নিয়ে মৃদু বচসা হয় দুজনের। শেষ পর্যন্ত নেইমারই করেন শট এবং গোলও পেয়ে যান। তবে এমবাপের এমন আচরণ ভুলতে পারেনি কেউ।

এ বিষয়ে এবার মুখ খুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার ওয়েইন রুনি। মাত্র ২২-২৩ বছর বয়সে এমবাপে যে অহংকার দেখাচ্ছেন তা মোটেও সমীচীন নয় বলে মনে করেন রুনি। কেননা ২২ বছর বয়সে লিওনেল মেসির ঝুলিতে ছিল চারটি ব্যালন ডি অর শিরোপা। যেখানে এমবাপের একটিও নেই।

দেদার স্পোর্টসে রুনি বলেছেন, ‘এখন ২২-২৩ বছরের খেলোয়াড় কি না মেসিকে কাঁধ দিয়ে ঠেলে দেয়। তার (এমবাপে) চেয়ে বড় অহংকারী কাউকে দেখিনি। কেউ তাকে মনে করিয়ে দিন যে, মেসি ২২ বছর বয়সে চারটি ব্যালন ডি অর জিতে নিয়েছিল।’


আরও খবর



ইয়াবা নিতে এসে ঠাকুরগাঁওয়ের যুবক কক্সবাজারে গ্রেফতার

প্রকাশিত:Friday ১৯ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

কক্সবাজার সদরের খুরুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের খুরুলিয়া সওদাগরপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব-১৫ এর মিডিয়া কর্মকর্তা এএসপি বিল্লাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ওই যুবক অস্ত্র সরবরাহ দিয়ে ইয়াবা নিতে কক্সবাজার এসেছিলেন।

গ্রেফতার সফিজ উদ্দিন (৩৬) ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জের ভূমরাদহ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে। তার কাছ থেকে ১টি থ্রি-কোয়ার্টারগান ও ১টি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়।

jagonews24

এএসপি বিল্লাল উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদে পেয়ে র‍্যাব-১৫ এর একটি দল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে সেখানে পৌঁছালে এক ব্যক্তিকে হাতে প্লাস্টিকের বস্তাসহ অবস্থান করতে দেখে। ঐ ব্যক্তি র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। তার নাম সফিজ উদ্দিন। তার হেফাজতে থাকা প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করে ১টি থ্রি-কোয়ার্টারগান ও ১টি ওয়ানশুটারগান উদ্ধারের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সফিজ জানান, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় বাসিন্দা, পেশাদার অস্ত্র ও ইয়াবা কারবারি। প্রায়ই তিনি কক্সবাজারে এসে অস্ত্র দিয়ে ইয়াবার চালান নিয়ে যান।

তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিজেই রোগাক্রান্ত!

প্রকাশিত:Wednesday ১৭ August ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

দেওয়ালের আস্তরণ খসে পড়েছে, জানালার কাঁচগুলোও ভাঙা। মরিচা পড়েছে জানালার রডে। আশপাশে জমেছে ময়লা। অপরিচর্যায় গাছের ডালে লুকিয়ে গেছে ফাটল ধরা ভবনটি। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। দেখলে মনে হবে যেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিজেই রোগাক্রান্ত!

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমন দৈন্যদশা দেখা গেছে। এখানকার গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ভরসা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন শুধু নামেই দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই। একসময় এই কেন্দ্র থেকে শত শত মানুষ সেবা নিতেন। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।

jagonews24

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে মিরসরাই উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর এ দশা। এর মধ্যে ইছাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্র অন্যতম। একসময় যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেবা নিতেন বর্তমানে সেটি তালাবদ্ধ। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯ গ্রামের মানুষ।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা বলেন, ইছাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানকার মানুষের শহরে গিয়ে সেবা নেওয়াটা অনেক কষ্টের। যখন কেন্দ্রটি থেকে সেবা দেওয়া হতো তখন প্রচুর মানুষ উপকৃত হতো। বর্তমানে সেটি বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা পেতে মানুষকে অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। ভবনটি পুনর্নির্মাণ ও চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং উপজেলায় মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি তুলেছি কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাইনি।

jagonews24

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ আছে। এ বিষয়ে আগামী জেলা বৈঠকে কথা বলবো।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের সহযোগিতা করা স্যাকমো না থাকায় অনেকগুলো কেন্দ্র বন্ধ আছে। ২০১৩ সালে স্যাকমো নিয়োগের সময় নিয়োগ অবাঞ্ছিত হয়। দীর্ঘদিন সে বিষয়ে মামলা চলমান থাকার পর এরই মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া

তিনি বলেন, স্যাকমো নিয়োগের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের জন্য লিখিত আবেদন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, অনুমোদন পেলে স্যাকমো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ফের চালু হবে। আর ভবনগুলো এবছর পুনরায় সংস্কারের কাজ শুরু হবে। তবে সবগুলো একসঙ্গে হবে না, পর্যায়ক্রমে হবে।


আরও খবর



বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে প্রাধান্য রাজনৈতিক বিবেচনা!

প্রকাশিত:Tuesday ০৯ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ১৬ August ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রোবেল আহম্মেদ। ছাত্রজীবনে ছিলেন মাস্টার দা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৮৩, অনার্সে ৩.৬৯, এইচএসসির জিপিএ-৫ এবং এসএসসিতে ৪.৪৪। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। তার কোনো গবেষণাকর্ম নেই।

তার আগে-পরে একই বিভাগ থেকে পাস করে বেরিয়েছেন কয়েকজন। এদের একজন মো. ওমর ফারুক। তিনি অনার্স, মাস্টার্স ও এমফিল করেছেন। মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৯০, অনার্সে ৩.৮৩, এইচএসসিতে জিপিএ-৫, এসএসসিতে ৪.৮৩। দুটি গবেষণাও আছে তার।

মো. ওয়ালিউর রহমান আকন্দ নামে আরেকজনের গবেষণা ও প্রকাশনা চারটি। তিনি এখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক পদে আছেন। মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৭৮, অনার্সে সিজিপিএ ৩.৬০, এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৭০, এসএসসিতে ৪।

আবু হানিফ নামে একজনের মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৯৮, অনার্সে ৩.৮৩, এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৩৩, এসএসসিতে ৪.৫৮।

জিএম রাকিবুল ইসলাম যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি নিয়েছেন। পাশাপাশি তার ৯টি গবেষণা, দুটি বই ও ৭টি প্রবন্ধ আছে।

তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের প্রার্থী।

এছাড়া মোহাম্মদ রাসেল উদ্দিন নামে একজন প্রার্থীর পিএইচডি ও এমএসসি ডিগ্রি আছে। তার গবেষণা ১০টি। এইচএসসি ও এসএসসির শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ করে না বলে বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে। অথচ সেটি উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে শিথিল করার কথা ছিল।

কিন্তু বিষয় হলো উপরের প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ফলাফল কিংবা গবেষণার দিক দিয়ে সব মিলিয়ে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে থাকা রোবেল আহম্মেদ।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাকিং নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। শিক্ষা ও গবেষণায় সর্বাধিক গুরুত্বের কথা বললেও যোজন যোজন পিছিয়ে। নিয়োগের ক্ষেত্রেও ‘ব্যক্তিপছন্দ’ ও ‘রাজনৈতিক বিবেচনা’ও নতুন নয়। সবশেষ এর প্রতিফলন দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে।

নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সব যোগ্যতা থাকার পাশাপাশি গবেষণা থাকার পরও তাদের বিবেচনা করা হয়নি। বরং তুলনামূলক রেজাল্টে পিছিয়ে ও পুরো শিক্ষাজীবনে থিসিস বা গবেষণা নেই এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান, যিনি ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন। শুধু তাই নয়, দুজন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। অথচ পাঁচ-ছয়জন যোগ্যপ্রার্থী থাকলেও নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা একজনকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আবেদনকারী জাগো নিউজকে বলেন, আমি ভালো রেজাল্ট করে দেখলাম, এর কোনো মূল্য নেই। আমাদের চার-পাঁচজনের ভালো রেজাল্ট, অভিজ্ঞতা ও গবেষণা থাকা সত্ত্বেও আমাদের বাদ দিয়ে ছয় নম্বর পজিশন থেকে স্যাররা নিতে চাইছেন। এখানে আমাদের কী করার আছে? বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে যদি স্টিয়ারিং কমিটি থাকতো বা পলিসি থাকতো, তাহলে এটা হতো না। তাকে তাদের পছন্দ হয়েছে। এখানে আর কোনো যুক্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী এক সময় রাজনীতি করতেন, স্যারদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য এভাবেই লেজুড়বৃত্তির রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এটা সবাই জানে।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এন্ট্রি পয়েন্টে (প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে) নিয়োগে ফলাফলকে গুরুত্ব দেই। উচ্চতর পর্যায়ে গবেষণার গুরুত্ব বেশি। সারা পৃথিবীতে বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগে ফলাফলের চেয়ে মুখ্য হলো- তিনি ডিগ্রি কোথা থেকে করছেন, তার প্রকাশনা, তার গবেষণা, তার গবেষণা অরগানাইজ করার সক্ষমতা এবং ফান্ডিং সক্ষমতা। ব্রিটেনে এখন পরিচালক হতে বা প্রফেসর হতে হলে প্রজেক্ট আনতে হয়। না হয় জীবনেও প্রফেসর হতে পারবে না। আজীবন প্রভাষক থাকতে হবে। এটা কলেজের শিক্ষক নয় যে, দেখবে চাকরির বয়স কত আর রেজাল্ট কী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি সেই স্ট্যান্ডার্ডটা মানে।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে কাজ শিক্ষা ও গবেষণা। শুধু শিক্ষাদান আমাদের কাজ নয়। এখানে গবেষণার গুরুত্ব অধিক। তবে এন্ট্রি লেভেলে ফলাফলটাই মুখ্য।

আইইআরের বিজ্ঞপ্তিতে কিন্তু বলা ছিল- উচ্চতর ডিগ্রি প্রাধান্য দেওয়া হবে। যাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তাদেরই যদি গবেষণা না থাকে তাহলে কীভাবে আমরা গবেষণায় নজর দেবো, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এই কথাটা যৌক্তিক নয়। এটা খোঁড়া যুক্তি এবং অসৎ উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো বলা হয়। কারণ যে পদের জন্য যে যোগ্যতা সেটার মৌলিক বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় অধিকাংশ সময়।

শিক্ষক নিয়োগে গবেষণায় প্রাধান্য দেওয়া হয় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্তর ভেদে। কোথাও কোথাও আছে ফ্রেশ, সেটা আরও বেশি পটেনশিয়াল। এটার অনেক ক্রাইটেরিয়া আছে। বেস্ট ইয়াং মাইন্ড যখন হয়, তখন সে আরও ভালোমানের গবেষণা করার সক্ষমতাও রাখে। এখন তো গবেষণা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনছি, যাতে গুণগত মানসমৃদ্ধ গবেষণা করতে পারে। মূল বিষয়টা দেখতে হবে- ন্যূনতম রিকোয়ারমেন্টের ক্ষেত্রে যেন কম্প্রোমাইজ না করা হয়। একটা ভালো জিনিসের ওপর ভালো কিছু বিল্ডআপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। আসলে রাজনৈতিক সংগঠনের পদে ছিলেন কি না, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুপারিশপ্রাপ্ত রোবেল আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, আমি কী ছিলাম, না ছিলাম, ওটা কি মুখ্য বিষয়? শিক্ষক হওয়ার জন্য রাজনৈতিক পদ মুখ্য বিষয় নয়। আমি এখন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। যোগ্যতা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাইটেরিয়া মেনটেইন করে পরীক্ষা দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বোর্ড আমাকে সুপারিশ করতে পারে, নাও করতে পারে। সুপারিশ করেছে কি না, সে বিষয়টি আমি জানিও না। আপনাদের কাছ থেকেই শুনি।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্ট্যারন্যাশনাল, বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগে মেধার চেয়ে অন্য বিষয়গুলো বিবেচিত হয়। যদিও ঢালাওভাবে সবাই এটা করে তা নয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুইভাবে নিয়োগ বা পদোন্নতি হয়- যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে, আরেকটা হলো রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, এভাবে শিক্ষক নিয়োগ হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন, সেটি ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শিক্ষার্থীরাও প্রত্যাশিত শিক্ষা পাচ্ছে না। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মানের দিক থেকে বা র্যাকিংয়ে পিছিয়ে থাকছে। এটা উদ্বেগের বিষয়। ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি অশনিসংকেত।

‘এখান থেকে বেরিয়ে আসতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। নিয়োগের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে’- যোগ করেন ইফতেখারুজ্জামান।


আরও খবর