Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

মাদকমুক্ত চা বাগানের স্বপ্ন সুনীলের, ছড়িয়েছেন শিক্ষার আলো

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৭২জন দেখেছেন
Image

বাবা ছিলেন চা বাগানের শ্রমিক। নিজেও এখন কাজ করছেন একটি চা বাগানের হিসাব রক্ষক হিসেবে। ফলে একেবারে কাছ থেকে চা শ্রমিকদের জীবনযাপন দেখেছেন তিনি। জানেন তাদের অশিক্ষার কথা, কষ্টের কথা। তাই সমাজের এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিজের ক্ষুদ্র অবস্থান থেকেই কাজ শুরু করেন। পেয়েছেন সফলতাও। তার প্রচেষ্টায় এখন চা শ্রমিকদের অনেকের সন্তান উচ্চশিক্ষিত হয়ে ভালো চাকরি করছেন।

বলছি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের হিসাব রক্ষক সুনীল বিশ্বাসের কথা। চা শ্রমিক পরিবারে জন্ম নিয়েও নিজের প্রচেষ্টায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। করেছেন শিক্ষকতাও। ভাই-বোন, সন্তানদেরও করেছেন উচ্চশিক্ষিত। শুধু নিজে আর নিজের পরিবার নয়, চা শ্রমিকদের শিক্ষিত আর নেশামুক্ত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। গড়ে তুলেছেন থিয়েটার। নাটকের মাধ্যমে তাদের জাগ্রত করতে কাজ করছেন। তুলে ধরছেন তাদের বঞ্চনার কথা।

সুনীল বিশ্বাস জাগো নিউজকে জানান, ১৯৮১ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮৮ সালে বিয়ে পাস করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ৬ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে চা বাগানে এসে আরও চার বছর শিক্ষকতা করেছেন। পাশাপাশি ঢাকা থেকে নিয়েছেন পল্লী চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ। ২০০০ সাল থেকে তিনি বাগানের হিসাব রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাগান ও এর আশপাশের এলাকার মানুষকে চিকিৎসা সেবাও দেন।

তিনি বলেন, আমি যখন এসএসসি পাস করি তখন বাগান এলাকার কোনো মানুষ পড়ালেখা করতো না। আমার সঙ্গে আমাদের বিদ্যালয় থেকে মাত্র ১০ জন এসএসসি পাস করেছিলাম। নিজে শিক্ষক হওয়ার কারণে আমার ভাই মলিন বিশ্বাস ও বোন চামেলি বিশ্বাসকেও পড়ালেখা করিয়েছি। আমি প্রথম আর আমার ভাই দ্বিতীয় ব্যক্তি যে বাগানে থেকে এসএসসি পাস করেছি। আর মেয়েদের মধ্যে আমার বোন প্রথম যে এসএসসি পাস করেছিল।

সুনীল বিশ্বাস আরও বলেন, আমাদের বাবা হরিদাশ বিশ্বাস ছিলেন বাগানের ফ্যাক্টরির মেশিনম্যান। তিনি এ চাকরির পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। তিনি জীবনে একদিনও মদ পান করেননি। আমি চা শ্রমিকদের জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। এখান থেকেই মূলত আমরা শিক্ষাগ্রহণ করেছি। বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের পড়ালেখা করিয়েছেন। শিক্ষিত হয়ে আমরা বুঝতে শিখেছি যে মদ পান করা যাবে না। মাদক সেবন কখনোই কল্যাণ এনে দিতে পারে না।

jagonews24

তিনি জানান, তার দুই ছেলে। বড় ছেলে কানন বিশ্বাস প্রকৌশলী। তিনি ঢাকায় একটি বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ছোট ছেলে প্লাবন বিশ্বাস তবলা বাদকের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট (সিএ) পড়ছেন।

সন্তানদের শিক্ষিত করার পাশাপাশি চা বাগানের প্রতিটি ছেলে-মেয়েকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলনে চান সুনীল। চা শ্রমিকরা মাদক থেকে দূরে থাকবে এটা আর স্বপ্ন। সে জন্য ১৯৮৮ সালে চা শ্রমিকদের কথা তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন প্রতীক থিয়েটার নামে একটি নাট্য সংগঠন। প্রতীক থিয়েটারের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি। চা শ্রমিকদের জাগ্রত করতে কাজ করছেন। তাদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরছেন।

চা শ্রমিকের সন্তান শাকিল বাউরী। তিনি সরকারি বৃন্দাবন কলেজে বিবিএস প্রথম বর্ষে পড়ছেন। শাকিল বলেন, সুনীল বিশ্বাস আছেন বলেই আমরা আজ চা শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরতে পারছি। তার অনুপ্রেরণায় আজ আমরা পড়ালেখা করছি। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তার প্রতিষ্ঠিত থিয়েটারের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারছি চা শ্রমিকদের জীবনধারার কথা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কাঞ্চন বিশ্বাস বলেন, বাগানের শুরু থেকে এখানে শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সুনীল বিশ্বাস যখন এসএসসি পাস করেন তার আগে বাগানে কেউ এসএসসি পাস করেননি। তার অনুপ্রেরণায় এখন এই বাগানের হাজারও ছেলে-মেয়ে শিক্ষিত হয়েছেন। সুনীল এ বাগানের উন্নয়নের কান্ডারি।

শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মিলি ভূমিজ প্রতীক থিয়েটারের একজন কর্মী। তিনি বলেন, সুনীল বিশ্বাস যখন এসএসসি পাস করেন তখন বাগানে কেউ পড়াশোনা করতো না। কোনো ছাত্রছাত্রী ছিল না। সবাই তখন শ্রমিক ছিলেন। বাগানে কাজ করতেন। বর্তমানে তাকে দেখে বাগানের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে। শুধু তাই নয়, তার প্রতিষ্ঠিত থিয়েটারের মাধ্যমে মাদক সম্পর্কে আমরা মানুষকে সচেতন করছি।


আরও খবর



৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন, ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে সূচক

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৫৯জন দেখেছেন
Image

বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বৈঠক ঘিরে দুদিন শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও ফের বড় দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে দেশের শেয়ারবাজার।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে।

সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসইতে দরপতনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ছয় হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে।

এর আগে ঈদের পর শেয়ারবাজারে টানা ৯ কার্যদিবস দরপতন হলে সোমবার (২৫ জুলাই) ৩০ জন বড় বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠক করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

বিএসইসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস দেন বড় বিনিয়োগকারীরা। সেই সঙ্গে বড় বিনিয়োগকারীরা মার্কেট মেকারের ভূমিকা পালন করবেন বলে কথা দেন।

বিএসইসি বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে এমন খবরে টানা ৯ কার্যদিবস দরপতনের পর সোমবার শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। বৈঠকের পরদিন মঙ্গলবারও ঊর্ধ্বমুখী থাকে বাজার। অবশ্য মঙ্গলবার লেনদেনের একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ১০৩ পয়েন্ট বাড়লেও, লেনদেন শেষে সূচকটি বাড়ে ২৯ পয়েন্ট।

এরপর বুধবার শেয়ারবাজারে আবার বড় দরপতন হয়। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৪ পয়েন্ট কমে যায়। এ পরিস্থিতে বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যায়। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে দরপতনের তালিকা।

এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখাতে পেয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৩৩টির ও ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৭ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে নেমে গেছে।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় পতন হয়েছে অপর দুই সূচকের। এরমধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৩০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৪১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৭৭৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে লেনদেন কমেছে ৩৩৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনালী পেপারের ১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১৬ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফরচুন সুজ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে মতিন স্পিনিং, ইনট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, কেডিএস এক্সসরিজ, শাহিনপুকুর সিরামিকস এবং স্কয়ার টেক্সটাইল।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১১ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ২৭১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪০টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।


আরও খবর



স্বচ্ছলের ঘরে আসহায়ের ১০ টাকা কেজির চাল

প্রকাশিত:Wednesday ১০ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক স্বচ্ছল পরিবারে পৌঁছে যাচ্ছে সরকারের দেওয়া ১০ টাকা কেজির চাল। আর এসব স্বচ্ছল পরিবারকে সুবিধা দিতে গিয়ে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে অনেক অস্বচ্ছল ও অসহায় পরিবার।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে দেখা গেছে, সরকারের খাদ্য কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি চালের আগের কার্ডধারী ২০০ জনের বেশি সুবিধাভোগীর নাম বাদ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। যাদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক, মজুর, প্রতিবন্ধী ও বিধবা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন তালিকায় তপন নামক এক সুবিধাভোগীর বসবাস পাকাবাড়িতে। নিজের বড় ব্যবসা থাকার কথা নিজ মুখেই বেশ গর্বের সঙ্গে স্বীকার করলেন তিনি।

এছাড়াও তালিকার অনেক সুবিধাভোগী নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারের খাদ্য কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি চালের সুবিধা ভোগ করছেন।

এই বিষয়ে শীবগঞ্জ বাজারে দলবদ্ধভাবে অভিযোগ করেছেন চাতাল শ্রমিক শহিদুল ইসলাম, দিনমজুর শাহেদ আলী, মামুন, বাসুদেবসহ অনেকে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে প্রতিবন্ধী সুমনের পরিবারেরও।

চাতাল শ্রমিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাসের বেশি সময় ধরে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ডের মাধ্যমে চাল কিনে থাকি। এবার নতুন তালিকা করেছে যেখানে আমার নাম বাদ দিয়েছে। বলেছে আর চাল দেবে না। কার্ডটাও নিয়ে রেখে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোদে পুড়ে চাতালে কাজ করে ৪০০ টাকা পাই। আবার প্রতিদিন কাজ হয় না। চেয়ারম্যান যদি আমাকে বিত্তবান বলেন তাহলে আমার কিছু করার নাই।

স্বচ্ছলের ঘরে আসহায়ের ১০ টাকা কেজির চাল

দিনমজুর শাহেদ আলী বলেন, এর আগেও আমিসহ অনেক গরিব মানুষের নাম বাদ দিয়েছিলো। তখন আমরা চেয়ারম্যানের প্রতি চাপ সৃষ্টি করে নামগুলো বহাল রেখেছিলাম। কয়েক মাস বাদে আবারও নাম বাদ দিয়েছে। আমরা গরিব মানুষ। প্রতিমাসে অন্তত চালে সাশ্রয়ী হতো। এখন আর সেটাও পাবো না। এটা আমাদের প্রতি চেয়ারম্যানের জুলুম।

প্রতিবন্ধী সুমনের পরিবারের লোকজন জানান, আমাদের কার্ড ছিলো। ১০ টাকা কেজি চাল সংগ্রহ করতাম। কিন্তু সুমনের কার্ডটাও রেখে দিয়ে নাম বাতিল করা হয়েছে। শুনেছি আমরা আর চাল পাবো না।

এ বিষয়ে জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ বলেন, নির্দেশনা মোতাবেক যারা অস্বচ্ছল, যারা ভিজিডি সুবিধা পায় এবং যারা মারা গেছেন তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ভুল করে কিছু বিত্তবান এই তালিকায় আসতে পারে। এটা দ্রুত সমাধান করতে হবে।

এ বিষয়ে ইউএনও আবু তাহের মো. শাসুজ্জামান বলেন, আমরা চাই সরকারের সুবিধায় অস্বচ্ছল ব্যক্তিরা যেন অগ্রাধিকার পান। ভোক্তাদের নতুন তালিকা হালনাগাদের সময় কোনো অস্বচ্ছল ব্যক্তি বাদ পড়ে গেলে বা স্বচ্ছল পরিবারের নাম যোগ হলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে৷


আরও খবর



জনগণ আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে বিশ্বাস করে না, বিকল্প চায়: মান্না

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Thursday ০৪ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভিত্তি নেই। মানুষ এখন আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে না। আবার বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকেও বিশ্বাস করে না। তারা বিকল্প চান। আমরা সেই চেষ্টা করছি।’

মঙ্গলবার (২ অগাস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক প্রস্তাব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গণসংহতি আন্দোলন এ সভার আয়োজন করে।

মান্না বলেন, ‘খুব শিগগির গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এটি বিকল্প শক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। আমরা একটা পরিবর্তন চাই এবং মানুষকে সেটি বোঝাতে হবে। এ পরিবর্তন শুধু সরকারের পরিবর্তন না, রাষ্ট্র ব্যবস্থারও পরিবর্তন।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ জিজ্ঞাসা করে, আওয়ামী লীগ সরকার চেঞ্জ হলে কে আসবে? শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের বদলে বিএনপি আসলে জনগণের লাভ কী? আমরা একটা সুন্দর কেয়ারটেকার সরকার চাই, সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। কিন্তু সেই নির্বাচনে সরকার কে হবে, সেটাই প্রশ্ন।’

মান্না আরও বলেন, ‘আমাদের দল বড় নয়, লোক কম। ডাকলেই লাখ লাখ লোক আসে না। তাতে কী, রাজনীতিতে কোয়ালিটির চেয়ে দরকার কোয়ানটিটি ৫০ বছর নিষিদ্ধ থাকার পরও মিশরে মুলিম ব্রাদারহুড ক্ষমতায় এসেছে।’

জ্বালানি সংকট নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, আমরা ডিজেলের ব্যবস্থা করেছি। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবো। অথচ আমরা এত বছর বললাম, আপনারা কেনো সম্ভাবনাময় অপসর কিংবা অনসরে এক্সপ্লোরেশন করছেন না। এখন আবার এত বছর পর সংকটের মাথায় তারা বলছে- গবেষণা চলছে, এত ঘনফুট ওত ঘনফুট গ্যাস আসবে। মিথ্যার একটা সীমা আছে।’

জনশুমারির ভুল তথ্যের সমালোচনা করে মান্না বলেন, ‘জনশুমারি করলো তারা, আমার পরিবারের কাছে আসেনি। এখানেও অনেকের কাছে আসেনি। দুই কোটি মানুষকে বাদ দেওয়ার কারণ কী হতে পারে? মাথাপিছু আয় বেশি দেখানো। তাছাড়া তো আর কোনো কারণ দেখছি না।’

মত বিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, জাতীয় লীগের সভাপতি ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, স্বদেশি গণতান্ত্রিক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।

ভাসানী অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান রিজু। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।


আরও খবর



যে কারণে কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়

প্রকাশিত:Sunday ২৪ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৮৩জন দেখেছেন
Image

বর্ষায় মশার প্রাদুর্ভাব অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। এ মৌসুমে মশাবাহিত রোগেরও ঝুঁকি বাড়ে। মশা কমবেশি সবাইকেই কামড়ায়। তবে অনেকের ধারণা যে, মশা তাদেরকেই বেশি কামড়ায়! বিষয়টি কি সত্যিই নাকি পুরোটাই ভিত্তিহীন?

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মশা বেশি কামড়ানো কিংবা কম কামড়ানোর মধ্যে বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি আছে। সত্যিই মশা কাউকে বেশি কামড়ায় আর কাউকে কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ হলো রক্তের গ্রুপ ও পোশাকের রং।

আসলে মশারও পছন্দের রক্তের গ্রুপ আছে। আর এ কারণেই ওই রক্ত আছে যাদের শরীরে তাদেরকেই বেশি কামড়ায় মশা। পাশাপাশি কোন রঙের পোশাক পরে আছেন তার উপরও অনেকটা নির্ভর করে মশা বেশি নাকি কম কামড়াবে। গবেষকদের মতে, কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক পরে থাকা ব্যক্তিদের মশা বেশি কামড়ায়।

আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউসি ডেভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানাচ্ছেন, কিছু কিছু মানুষের শরীরে মশার প্রিয় রাসায়নিক বেশি থাকে। তাই মশা সেসব মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।

ইউসি ডেভিস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লার্ক কফির মতে, মানুষের শরীরের গন্ধ এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডে আকৃষ্ট হয় মশা। কারো কারো শরীরের গন্ধ মশার কাছে বেশি প্রিয়।

তার মতে, আমাদের ত্বক থেকে নিঃসৃত কিছু রাসায়নিক (যেমন, ল্যাকটিক এসিড) মশাকে বেশি আকর্ষণ করে। যাদের শরীর থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড বেশি নির্গত হয়, তাদের প্রতি মশা বেশি আকৃষ্ট হয়।

এমনকি গবেষকদের দাবি, গর্ভবতী মহিলা, যাদের শরীর অতিরিক্ত মেদযুক্ত, শরীরচর্চার পর বা মদ্যপানের পর মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়।


আরও খবর



আইসিডিডিআরবিতে ১৬ ঘণ্টায় ২৫৪ ডায়রিয়ার রোগী

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

রাজধানীতে দিন দিন বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ ঘণ্টায় আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে (আইসিডিডিআরবি) ভর্তি হয়েছেন ২৫৪ জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাপ্তবয়স্ক।

আইসিডিডিআরবির তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে শুক্রবার (৫ আগস্ট) দুপুর ৪টা পর্যন্ত ১৬ ঘণ্টায় হাসপাতালটিতে ২৫৪ জন ভর্তি হয়েছেন। আজ রাতের মধ্যে এ সংখ্যা সাড়ে তিনশো ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে, আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ের তুলনায় বেশি।

এ বছরের মার্চ ও এপ্রিলের দিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এসময় আইসিডিডিআরবিতে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি রোগী ভর্তি হতো। সেই তুলনায় জুন-জুলাইয়ে কিছুটা কমলে বর্তমানে ফের বাড়ছে। আগস্টের শুরু থেকে ফের বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। তবে, বর্তমানে আক্রান্তের বেশিরভাগই প্রাপ্তবয়স্ক।

jagonews24

আইসিডিডিআরবি বলছে, আগস্টের শুরু থেকে প্রতিনিয়ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ মাসের প্রথম দুদিন রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৪০ ও ৩৪২ জন। তৃতীয়দিন তা বেড়ে ৩৯৩ জনে দাঁড়ায়। এরপর দিন ৪ আগস্ট ৩৯৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ফেলো ডা. সিফাত আহমেদ চৌধুরী জাগো নিউজকে জানান, আগস্টে সাধারণত বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এখন যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের অনেকের পানি শূন্যতা রয়েছে। দশ বছরের নিচের রোগীর সংখ্যা খুবই কম।

তিনি জানান, এ মুহূর্তে শিশু আক্রান্তের সংখ্যা কম। তবে, নভেম্বরের দিকে ফের বাড়তে পারে। অক্টোবর থেকে নভেম্বরের দিকে শিশুরা ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়। আমরা সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি।


আরও খবর