Logo
আজঃ শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪
শিরোনাম

কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে সর্বত্র যান চলাচল ব্যাহত,দুর্ভোগে মানুষ

প্রকাশিত:সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী 20২৪ | ১৩৭জন দেখেছেন

Image

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর। গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কুয়াশা আর শীত তীব্র ভাবে জেকে বসেছে গ্রাম থেকে শহর।কুয়াশায় স্থবির হয়ে গেছে চারদিক। গতকাল সোমবার ১১ ডিসেম্বর ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে সৈয়দপুর, নীলফামারী,রংপুর ও দিনাজপুর মহাসড়ক ও আলুক্ষেত গুলোতে।কুয়াশায় দুর্ঘটনার ভয়ে চালকরা যানবাহন চালাচ্ছেন ধীরগতিতে। একই সাথে আলুচাষিরা তাদের ক্ষেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

১১ ডিসেম্বর সকাল ৬ টা থেকে কুয়াশার কারনে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে ও ধীরগতিতে। খেটে খাওয়া মানুষজন, দিনমজুর ও দরিদ্র মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শীত উপেক্ষা করে অটোরিকশা বা সিএনজিতে চড়ে কর্মস্থলে যাচ্ছে ইপিজেড শ্রমিকরা।ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে আসা নাবিল পরিবহন এর চালক মজনু বলেন,ঘন কুয়াশার কারনে ১০/১২ ফুট সামনের কিছুই দেখা যায় না। তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে সৈয়দপুরে এসেছি।  পার্বতীপুর ও বদরগন্জ থেকে মাছ নিয়ে আসা দুই পিক-আপ চালক জানান, আমরা প্রতিদিন ভোর ৫ টার মধ্যে মাছ নিয়ে আসি সৈয়দপুরে।কিন্তু হঠাৎ ঘন কুয়াশার কারনে গাড়ি চালানো যাচ্ছে না।হেডলাইট জ্বালিয়ে ও ঘন্টায় ১৫/২০ কিলোমিটার পথ ও যাওয়া যাচ্ছে না। 

এবিষয়ে সৈয়দপুর শহরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন বলেন, হঠাৎ করে ঘনকুয়াশার তীব্রতা বেড়েছে। যার ফলে সব যানবাহনই হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সব পরিবহন চালককে সাবধানে ও ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন এর কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৮ একর জমিতে আলুর চাষাবাদ করেছি। গাছও হয়েছে ভালো কিন্তু ডিসেম্বরের শুরুর দিকে হালকা বৃষ্টিতে আলুর গাছ তলিয়ে যায়। একদিন পর পানি সুকিয়ে গেলেও দুদিনের ঘন কুয়াশায় আলুর ক্ষেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

এনিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভুষন রায় এর সাথে, তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে ১৩৮০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এযাবৎ ১১৪৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে। প্রায় প্রতিটি জমির আলুর গাছও হয়েছে ভালো। কিন্তু ঘনকুয়াশা দীর্ঘায়িত হলে আলুর ফলনে ক্ষতির সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি। 

আরও খবর



হিলিতে কমেছে রসুনের দাম,বেড়েছে পেঁয়াজের

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯০জন দেখেছেন

Image

মাসুদুল হক রুবেল,হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে চায়না ও দেশীয় রসুন কেজিতে কমছে ২০ টাকা।আর সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশীয় পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা।

আজ সোমবার হিলি বাজারে পাইকারী ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে,সব ধরনের রসুনের দাম কমেছে। চায়না রসুন ২৪০ টাকা কেজি দরে,আর দেশী রসুন ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই দিন আগে চায়না রসুন ২৬০ টাকা কেজি দরে,আর দেশীয় ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এতে করে কেজি প্রতি কমেছে ২০ টাকা। এদিকে দেশীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই দিন আগে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এতে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

হিলি বাজারে রসুন কিনতে আসা আহম্মদ আলী বলেন,গত সপ্তাহে ২৬০ টাকা কেজি দরে চায়না রসুন কিনেছি।আজকে দাম কম হওয়ায় চায়না রসুন পাঁচ কেজি নিলাম ২৪০ টাকা দরে। কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমেছে। পাঁচ কেজি রসুনে ১০০ টাকা কম পেয়েছি। এভাবে যদি প্রতিটি জিনিসের দাম কম তো তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হয়।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা জুয়েল হোসেন বলেন,আমি দুই দিন আগে ৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। আজকে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনলাম। অন্যান্য জিনিসের দামের মত যদি পেঁয়াজের দামটা ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্য হলে আমাদের মত খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খুব ভালো হতো।

হিলি বাজারের খুচরা রসুন ও পেঁয়াজ বিক্রেতা মোকারম হোসেন বলেন,আমরা পেঁয়াজ পাইকারী ৭৭ টাকা কেজি দরে কিনে ৮০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। সরবরাহ কমে গেছে দেশীয় পেঁয়াজের। তাই আবার দাম বাড়ছে। তিনি আরও বলেন,ভারত থেকে আলু আমদানি না করে যদি পেঁয়াজ আমদানি হতো তাহলে পেঁয়াজের দামটা ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই থাকতো। এক সপ্তাহ আগে চায়না রসুন ২৬০ টাকা কেজি দরে ও দেশীয় রসুন ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। সপ্তাহের ব্যবধানে আজকে ২০ টাকা কমে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এতে করে কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমেছে।


আরও খবর



দুর্দান্ত ফিচারের টেকনোর নতুন ফোন স্পার্ক ২০ প্রো

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৯১জন দেখেছেন

Image

প্রযুক্তি ডেস্ক:ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৪: গ্লোবাল শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশে উন্মোচন করলো নতুন স্পার্ক ২০প্রো মডেলের স্মার্টফোন। টেকনোর জনপ্রিয় স্পার্ক সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ এই ফোনে রয়েছে আকর্ষণীয় সব ফিচারস। যার মধ্যে আছে ১২০ হার্জের ডিসপ্লে, ১০৮ মেগাপিক্সেলের মেইন ক্যামেরা এবং ৩৩ ওয়াটের ফাস্ট চার্জ সুবিধা।

টেকনো স্পার্ক ২০প্রো ফোনটিতে রয়েছে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট যুক্ত ৬.৭৮ ইঞ্চির ফুলএইচডিপ্লাস হোল স্কিন যা ফোনটির ব্যবহারকারীদের চমৎকার ভিউইং অভিজ্ঞতা দিবে। চমৎকার ছবি তোলা ও ভালো মানের ভিডিও ধারণের জন্য ফোনটিতে ১০৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা সেনসিং সেন্সর সমৃদ্ধ মেইন ক্যামেরা রয়েছে যা দিয়ে ক্রিস্টা্ল ক্লিয়ার ছবি তোলা যাবে। পাশাপাশি ১০ এক্স ডিজিটাল জুম ফিচার রয়েছে যা দিয়ে দূরের দৃশ্যও ক্লিয়ার ক্যাপচার করা যাবে। এছাড়াও এর আল্ট্রা লার্জ সেন্সর এবং ওয়াইড অ্যাপারচার অনায়াসে বিভিন্ন ধরনের আলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে, বিভিন্ন মুহূর্তের প্রাণবন্ত ছবি উপহার দিতে পারবে।

টেকনোর নতুন এই ফোনে সেলফি তোলার জন্য রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের গ্লোয়িং সেলফি ক্যামেরা যার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহায়তায় অসাধারন সেলফি তুলতে পারবে ব্যবহারকারী। এছাড়াও এই ফোনে রয়েছে ডুয়েল ভিডিও মুড যা একই সাথে ফ্রন্ট এবং ব্যাক ক্যামেরা ব্যবহার করে মাধ্যমে উভয় সাইডের ভিডিও একসাথে ক্যাপচার করতে পারবে, যারা ফোনে কনটেন্ট তৈরি করেন, তাদের জন্য এই ফিচার আদর্শ চয়েজ হবে। স্মুথ পারফরমেন্সের জন্য টেকনো স্পার্ক ২০প্রো ফোনটিতে শক্তিশালী হেলিও জি৯৯ (৬ ন্যানোমিটার) চিপসেট দেওয়া হয়েছে। যা একই সাথে পাওয়ারফুল এবং ইফিশিয়েন্ট।

ফাস্ট অ্যাপ ওপেনিং এবং লং টাইম গেমিং এর জন্য এই ফোনটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত অরোরা এবং ড্রইন ইঞ্জিন ২.০ দেওয়া হয়েছে। ফোনটিতে রয়েছে ২৫৬ জিবির বিশাল বিল্টইন স্টোরেজ সাথে রয়েছে ১৬ জিবি র‌্যাম (৮+৮ জিবি)। র‌্যাম, রম, শক্তিশালী প্রসেসর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ইঞ্জিনের কম্বিনেশনের জন্য এই ফোন নিশ্চিত করবে স্মুথ, ল্যাগ-হীন গেমিং এক্সপ্রিয়েন্স এবং ডেইলি লাইফ ইউজিং।

চমৎকার সাউন্ড অভিজ্ঞতা দেয়ার জন্য ফোনটিতে রয়েছে হয়েছে ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার। দিনভর ব্যাকআপের জন্য এই ফোনে ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে ও চার্জ করার জন্য রয়েছে ৩৩ ওয়াটের সুপার ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি।টেকনো স্পার্ক ২০প্রো মডেলটি দুইটি নান্দনিক রঙে পাওয়া যাবে যেগুলো হলো সানসেট ব্ল্যাশ এবং মুনলিট ব্ল্যাক কালার।

সেরা সব ফিচারে ভরপুর স্পার্ক ২০ প্রো ফোনটি দেশজুড়ে সকল টেকনো আউটলেটে পাওয়া যাবে মাত্র ২১ হাজার ৯৯৯ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য)। যারা পাওয়ারফুল এবং স্টাইলিশ ফোন খুঁজছে আকর্ষণীয় দামে তাদের জন্য এই ফোন হবে বাজেটে সেরা পছন্দ।


আরও খবর



মধুপুরে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করেন জীবন কুমার চৌধুরী

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৭৮জন দেখেছেন

Image

বাবুল রানা বিশেষ প্রতিনিধি মধুপুর টাঙ্গাইলঃশহীদ মিনার বাঙালির জাতীয় চেতনা, ভাষা ও সংস্কৃতির চিরন্তন প্রতীক। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীতে বাংলা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের সম্মানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সামনে নির্মিত হয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ১৯৬৭ সালে মধুপুর রানী ভবানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে মধুপুরের প্রথম শহীদ মিনার তৈরি হয়েছিল মধুপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তি সর্বজন শ্রদ্ধেয় জীবন চৌধুরী সাহেবের সরাসরি তত্ত্বাবধানে। আজ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত মধুপুরের প্রথম শহীদ মিনার তৈরির ইতিহাস নিয়ে তাঁর লেখা আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করছি।

গৌরব দীপ্ত ইতিহাস মোদের,বাংলা মোদের অহংকার।  বাঙ্গালী চেতনায় গড়েছি মোরা,বেদনার শহীদ মিনার।

১৯৬৫ সাল। আমি তখন রানী ভবানী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। বাংলা, ইংরেজী সহ অন্যান্য বিষয় পড়ার সংগে তখন ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ঊর্দূ পড়া আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। ১৯৬৫ সালেই কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তান ও ভারত যুদ্ধে জড়িয়ে গেল। যুদ্ধের খবরাখবর জানার জন্য পত্রিকা পড়াই ছিল একমাত্র ভরসা।

আজকালের মত তখন পত্রিকা এত সহজ প্রাপ্য ছিল না। হাতে গোনা কয়েকটি পত্রিকা ঢাকা থেকে আসতো তাও আবার একদিন পর- অর্থ্যাৎ ডাকযোগে কয়েকটি ‘‘ইত্তেফাক’’ পত্রিকা মধুপুর আসতো।

মধুপুর ক্লাবের সেক্রেটারীর নামে একটি পত্রিকা নিয়মিত আসতো। আমার প্রয়াত কাকা শ্রদ্ধেয় খগেন্দ্রনাথ চৌধুরী (বৈথুল বাবু) কাবের সেক্রেটারী হওয়ার সুবাদে প্রতিদিন সকালে আমি পোষ্ট অফিসে গিয়ে দীনেশদার (ডাক পিয়ন) কাছ থেকে উৎসাহ ও আগ্রহ ভরে আগে ভাগেই পত্রিকা নিয়ে এসে পড়তাম এবং স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের যুদ্ধের খবরাখবর সহ অন্যান্য সংবাদ জানাতাম।

মূলত তখন থেকেই পূর্ববাংলার তথা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীদের প্রতি পাকিস্তানী জান্তার চরম বৈষম্য মূলক আচরণের কাহিনী জানতে শুরু করলাম। ১৯৬৬ সাল আওয়ামী লীগের ৬ দফা আন্দোলন শুরু হলো। তখনই জানতে পারলাম কিভাবে আমাদের সোনালী আঁশ পাট, চা, চামড়া ইত্যাদি রপ্তানী করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে গিয়ে পাকিস্তানের মরুভূমিকে সুজলা সুফলা করা হতো। আমাদের সম্পদ বিক্রি করে কিভাবে বড় বড় শিল্প কারখানা পাকিস্তানে গড়ে উঠেছিল।

কৃষি ও শিক্ষাখাতসহ সকল ক্ষেত্রে আমরা পূর্ব বাংলার বাংগালীরা ছিলাম চরম উপেক্ষিত ও বৈষম্যের শিকার। এইভাবে যখন আমাদের দেশাত্বরোধ ও বাঙালী চেতনা বৃদ্ধি পাচ্ছিল ঠিক তখন লক্ষ করলাম আমাদের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় স্থান করে দেয়ার আন্দোলনে যারা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী আত্মাহুতি দিয়ে ছিলেন সেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ আরও অনেকে যে গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন সেই দিনটিকেও আমরা শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করতে পারছিনা।

পাকিস্তানের শাসকরা বাংলা ভাষার অস্তিত্ব মুছে ফেলার নানা ষড়যন্ত্র করছিল। পাকিস্তানী ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে কিভাবে এই গৌরবময় ২১ ফেব্রুয়ারীকে স্মরণীয় ও বরণীয় করা যায় সেই চিন্তা তখন থেকেই শুরু হলো।

১৯৬৭ সাল জানুয়ারী মাস। ৯ম শ্রেণী থেকে প্রমোশন পেয়ে নিউ টেন (১০ম শ্রেণী) এর ছাত্র। স্কুলের মাঠে সহপাঠীরা মিলে ক্রিকেট খেলায় মেতে আছি। ময়মনসিংহ গামী একটি বাসের ছাদে কয়েকটি ছেলে স্লোগান দিয়া যাচ্ছে ‘‘জাগো জাগো বাঙ্গালী জাগো’’ ‘‘আইয়ুব মোনায়েম দুই ভাই, এক রশিতে ফাঁসি চাই।

রাজপথে গুলি কেন? আয়ুব শাহী জবাব চাই’’। খবর নিয়ে জানলাম, ৬ দফা আন্দোলনের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিছিলে পাকিস্তানী পুলিশ বাহিনী গুলি চালিয়ে বহু হতাহত করেছে। ঢাকায় কারফিউ জারী হয়েছে। খেলা শেষে বিজ্ঞান বিভাগের কতিপয় ছাত্রদের নিয়ে মাঠে মিটিং করলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম এবাবের ২১শে ফেব্রুয়ারীকে (শহীদ দিবস) ভিন্ন আংগিকে স্মরণ করে দেশ ও মাতৃভাষার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, শ্রদ্ধা জানাতে হবে বীর শহীদদের।

শুধু ছাত্র সমাজ নয় আপামর সাধারণ মানুষদের কেউ এই দিনটির তাৎপর্য্য বোঝাতে হবে এবং তাদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাই স্কুল চত্বরে অতি অবশ্যই একটি শহীদ মিনার গড়তে হবে- যেখানে এসে মানুষ শ্রদ্ধাভরে শহীদদের স্মরণ করতে পারবে।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাকরাইদ কৃষি ফার্ম (বর্তমান বিএডিসি ফার্ম) থেকে ইট সংগ্রহ করে আনা হল, নির্মাণ সামগ্রী সংগ্রহ করা হলো। স্কুল গৃহের মাধবী লতা ফুল গাছের পাশের স্থানটি শহীদ মিনার তৈরীর জন্য নির্বাচন করা হলো।

কিন্তু মিনারের ডিজাইন বা স্থাপত্য কৌশল আমাদের কারও জানা ছিল না। তৎকালীন সময়ে থানা পর্যায়ে কোন হাইস্কুলে তখনও শহীদ মিনার গড়ে উঠে নাই, তাই ডিজাইন সংগ্রহ করতে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হইল।

আমাদের সহপাঠী আঃ হালিম (বর্তমানে শহীদ স্মৃতি স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক) জানালেন তার মামা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, তাই আঃ হালিমের সংগে আরও কয়েকজনকে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শহীদ মিনারের মডেল আঁকিয়ে আনিয়ে সেই আদলে তৈরি করা হলো মধুপুর রানী ভবানী উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারটি।

১৯৬৭ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী ভোর বেলায় প্রভাত ফেরী শেষে নব নির্মিত শহীদ মিনারে নগ্নপদে পুষ্প অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো হলো। তখন থেকে আজ অবধি ভাষা আন্দোলনের শহীদ স্মরণে আমজনতা এখানেই সমবেত হয়ে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে।

আমার জানামতে তৎসময়ে ময়মনসিংহ জেলার, টাংগাইল মহকুমার মধুপুর থানার রানী ভবানী স্কুলে নির্মিত শহীদ মিনারটিই স্কুল লেভেলে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার।

স্বৈরাচার আইয়ুব-মোনায়েম খার শাসন আমলে স্কুল ছাত্রদের দ্বারা শহীদ মিনার নির্মাণ এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে ভাষা দিবস পালনকে তখনকার স্থানীয় প্রশাসন ভাল ভাবে দেখেননি। প্রশাসন থেকে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি হলে রানী ভবানী স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবু মহেন্দ্র লাল বর্ম্মন অত্যন্ত সাহসের সাথে বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়ে কৌশলী ভূমিকা অবলম্বন করে তৎকালীন সার্কেল অফিসার জনাব আবু তাহের সরকার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব আলম সাহেবকে বুঝিয়ে বিষয়টি মোকাবেলা করেছিলেন।

অর্ধ শতাব্দীর পুরানো শহীদ মিনারটির বর্তমান অবস্থা দেখলে অনেক কষ্ট হয়।

-খবর প্রতিদিন/ সি.ব


আরও খবর



চেয়ারম্যান ময়নার কম্বল বিতরণ

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ৭৯জন দেখেছেন

Image
আব্দুস সবুর তানোর থেকে:রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়ন ইউপির অসহায় দুস্থ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মাঝে এমপি ফারুক চৌধুরীর পক্ষে কম্বল ও চাদর এবং শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। রবিবার বিকেলের দিকে বাধাইড় ইউপির বিভিন্ন এলাকায় এসব কম্বল বিতরণ করেন তিনি। এসময় বাধাইড় ইউনিয়ন ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান, সম্পাদক শিক্ষক রবিউল ইসলাম সহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে গত শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির বিভিন্ন আদিবাসী পল্লীর দুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের মাঝে কম্বল চাদর বিতরণ করেন চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। তিনি জানান, গত শনিবার প্রায় তিন শো জন এবং রবিবারে প্রায় ২৫০ জন শীতার্ত দের মাঝে শীত বস্ত্র হিসেবে কম্বল, চাদর  বিতরণ করা হয়েছে।

আরও খবর

জয়পুরহাটে হুমকি পাওয়া সেই বিচারক প্রত্যাহার

বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রাজধানীতে এলডিপির কালো পতাকা মিছিল

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | ১৫৪জন দেখেছেন

Image
মারুফ সরকার, স্টাফ রিপোর্টার : দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবৈধ সংসদ বাতিলসহ ১ দফা দাবী আদায়ে রাজধানীতে কালো পতাকা মিছিল করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
 
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়। নাইটিঙ্গেল, বিজয়নগর, পল্টন হয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশিরের নেতৃত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিলু, প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান মাহবুব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজগর বাবু, সহদপ্তর ওমর ফারুক সুমন, ঢাকা মহানগর উত্তর এলডিপির সাধারণ সম্পাদক অবাক হোসেন রনি, মহানগর পূর্বের সভাপতি সোলায়মান, দক্ষিণের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, গণতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি আমান সোবহান, গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরে আলম, গণতান্ত্রিক শ্রমিক দলের সভাপতি এফএমএ আল মামুন, গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি খালিদ বিন জসিম, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী কামরুল হাসান।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির বলেন, এ সরকার ডামি সরকার। এরা জনবিচ্ছিন্ন। জনগণ এ সরকারের ওপর অনাস্থা দিয়েছে। এ সরকার অবৈধ সরকার। জনগণের ভোট ছাড়া কেউ বৈধ হতে পারে না। যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় তারা কি করে সংসদে বসে? এই ডামি নির্বাচন কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই অতি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।

আরও খবর

আজ রংপুরের স্থপতি আফিফার সাথে ফারাজের বিয়ে

শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪