Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

জিভে জল আনবে বেগুনের সুস্বাদু কাবাব

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৮০জন দেখেছেন
Image

বিভিন্ন সবজির মধ্যে বেগুনের চাহিদা থাকে সারাবছরই। বাজারে লম্বা, মোটা কিংবা মাঝারি আকৃতির নানা প্রজাতির বেগুন পাওয়া যায়। বেগুন দিয়ে বাহারি পদ তৈরি করা যায়।

সাধারণত তরকারি রান্নাতেই বেশি ব্যবহৃত হয় এই সবজি। তবে চাইলে বেগুন দিয়ে জিভে জল আনার মতো দুর্দান্ত এক পদ তৈরি করতে পারবেন ঘরেই। জেনে নিন রেসিপি-

উপকরণ

১. হাড় ছাড়া মুরগির মাংস ১ কাপ
২. তেল ২ টেবিল চামচ
৩. বেগুন ১ কেজি (টুকরো)
৪. আদা কুচি ১ টেবিল চামচ
৫. পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ
৬. কাঁচা মরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ
৭. লবণ সামান্য
৮. ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
৯. চিলি ফ্লেক্স ২ টেবিল চামচ
১০. ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ
১১. ডিম ১টি
১২. কাবাব মসলা ১ টেবিল চামচ ও
১৩. ব্রেড ক্রামস আধা কাপ।

jagonews24

পদ্ধতি

হাড় ছাড়া মুরগির মাংস সামান্য লবণ, আদা বাটা, রসুন বাটা দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ মাংস ছোট টুকরো করে অথবা হাত দিয়ে ছিড়ে ছোট ছোট করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর সেদ্ধ মাংস ঝুড়ি করে নিয়ে কিছুক্ষণ মেখে নরম করে নিন।

তারপর তেল গরম করে পেঁয়াজ-মরিচ কুচি ভেজে নিন। তারপর টুকরো করে নেওয়া বেগুন দিয়ে নেড়ে দিন। এবার আধা কাপ পানি দিয়ে বেগুন সেদ্ধ করে নিন।

বেগুন সেদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে ভালো করে ভর্তা করে নিন। তারপর বেগুনের সাথে একে একে সেদ্ধ মুরগির মাংসের কিমা ও ৭-১৩ পর্যন্ত সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ১০ মিনিট রেখে দিন সেট হওয়ার জন্য।

এবার হাতে সামান্য তেল মেখে পরিমাণমতো মিশ্রণ হাতে নিয়ে কাবাবের আকারে বানিয়ে নিন। অন্যদিকে চুলায় প্যান বসিয়ে তাতে অল্প তেল গরম করে কাবাব বাদামি করে ভেজে নিন।

কাবাবগুলো অল্প তেলে শ্যালো ফ্রাই করতে হবে। এই কাবাব বানাতে কোনো কিছুই তেমন মেপে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

রেসিপি ও ছবি- ঝুমুর’স কিচেন


আরও খবর



শ্রেণি পাঠদানে ফিরছেন জাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা

প্রকাশিত:Thursday ০৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১০জন দেখেছেন
Image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি গবেষণা কাজে সংশ্লিষ্ট আছেন এবং সরাসরি শ্রেণি পাঠদানে ফেরার ইচ্ছা আছে তার। গত মঙ্গলবার (২ আগস্ট) নিজ বিভাগে (নৃবিজ্ঞান) ফিরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

অধ্যাপক ফারজানা বলেন, আপাতত বিভাগে বেশ কয়েকজন এমফিল এবং থিসিসের শিক্ষার্থী নিয়ে কাজ করছি। সরাসরি শ্রেণি পাঠদানে ফেরার ইচ্ছা আছে। তবে চিকিৎসকের নিষেধ থাকায় আগামী ছয় মাস লেকচার দেওয়ার কাজটি করতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর আমার অবসরে যাওয়ার তারিখ। তবে আমি পাঁচদিন আগে অবসরে যেতে ইচ্ছুক, কেননা আমি ২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত হই। সেই দিনটিকে স্মরণ রাখতে আমার এই ইচ্ছা।

চলতি বছরের ২ মার্চ জাবির উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করেন। এরপরও প্রায় দুই মাস উপাচার্য ভবনে অবস্থান করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর আন্দোলনের মুখে গত ২৫ এপ্রিল তার ছেলে এবং পুত্রবধূ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট শাখার কাছে উপাচার্য ভবনের চাবি বুঝিয়ে দেন। সে সময় অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন বলে জানা গেছে।


আরও খবর



উখিয়ায় আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

কক্সবাজারের উখিয়ার আবাসিক হোটেল থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে উখিয়া উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন জলিল প্লাজার আরাফাত হোটেলের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কালো বোরকা ও সাদা শার্ট পরিহিত তরুণীর মরদেহ ওড়না পেচানো অবস্থায় ঝুলন্ত ছিলো।

হোটেলের রেজিস্ট্রারে বিবরণী মতে, সোমবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় ৩০০ টাকার ভাড়া নেন নুসরাজাহান লিজা (২৩) নামের এক তরুণী। যেখানে ঠিকানা লেখা ছিল- হ্নীলা, টেকনাফ ও পেশা চাকরি উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বিবরণীতে পিতার নাম জিসান মিয়া ও মাতা রোজিনা এবং একটি ফোন নাম্বার দেওয়া আছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মধ্যরাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। ভেতর থেকে রুম বন্ধ ছিলো। সকালে সিআইডির প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তরুণী একাই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ ফোন নাম্বারটি বন্ধ এবং তার কোনো স্বজনের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।


আরও খবর



মন্ত্রী পদমর্যাদা পাচ্ছেন ঢাকার দুই মেয়র

প্রকাশিত:Monday ০৮ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ১০জন দেখেছেন
Image

ঢাকা উত্তরের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে মন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও চট্টগ্রাম সিটির মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার (০৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে দেওয়া হয়েছে।

এতে মেয়রদের নামের পাশে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা প্রদানপূর্বক গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এবং ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ২১ জুন মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরমধ্যে আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর ২০১৯ সালে উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ৯ মাস ডিএনসিসির মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন আতিকুল ইসলাম। তখন তিনিও মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন।


আরও খবর



১৭ দিনে দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসছেন পুতিন-এরদোয়ান

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসতে চলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাশিয়ার সোচি শহরে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৯ সালের শুরু থেকে এটি হবে এরদোয়ানের অষ্টম রাশিয়া সফর।

গত মাসে জাতিসংঘ ও আঙ্কারার মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের শস্য রপ্তানিতে চুক্তি করেছে রাশিয়া। এরই মধ্যে ইউক্রেনের বন্দর ছেড়েছে একাধিক শস্যবাহী জাহাজ। তবে ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলে এখনো তীব্র লড়াই চলছে দু’পক্ষের মধ্যে। এ অবস্থায় পুতিন-এরদোয়ানের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজের অস্থায়ী গবেষক ইয়ুপ এরসয় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, শস্য চুক্তিতে ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাশিয়ার কূটনৈতিক বাহক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হয়েছে তুরস্ক। কূটনৈতিক এই পুনর্বিন্যাস সম্পর্কের অসামঞ্জস্যগুলোকে তুরস্কের আরও পক্ষে নিয়েছে। এটি সাধারণ উদ্বেগের বিষয়গুলোতে তুর্কি নীতি ও উদ্যোগের বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ কিছুটা হলেও কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন-এরদোয়ানের বৈঠকে তুরস্কের প্রধান লক্ষ্য হবে, উত্তর সিরিয়ায় তুর্কি সামরিক অভিযানের প্রতি মস্কোর সমর্থন আদায় অথবা অন্ততপক্ষে বিরোধিতা কমানো।

এর আগে, গত ১৯ জুলাই তেহরানে ইরানের রাজধানী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেন পুতিন ও এরদোয়ান। ওই বৈঠকের মাত্র তিন দিন পরেই ইউক্রেনের সঙ্গে শস্য রপ্তানি চালু করতে চুক্তি করে রাশিয়া। গত ২২ জুলাই ইস্তাম্বুলে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সই হয় বহুল প্রত্যাশিত সেই চুক্তি।

তেহরানে পুতিন-এরদোয়ানের সাক্ষাতের পর বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়, গত কয়েক বছরে পুতিনের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তা জলাঞ্জলি দিতে রাজি নন এরদোয়ান। কিন্তু রাশিয়া-তুরস্কের সম্পর্কের যে ইতিহাস, যে মাত্রার স্বার্থের দ্বন্দ্ব এখনো দুই দেশের মধ্যে রয়েছে, তাতে দুই নেতার এই বন্ধুত্ব নিয়ে সন্দিহান অনেক পর্যবেক্ষকই।

রাশিয়া-তুরস্কের পুরোনো বিরোধ
সিরিয়ায় রাশিয়া ও তুরস্কের সৈন্যরা এখনও কার্যত মুখোমুখি। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রেসিডেন্ট আসাদকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দিতে চায় না তুরস্ক। বরং দেশটির আরও এলাকা দখলের পরিকল্পনা রয়েছে আঙ্কারার।

২০১৫ সালে সিরিয়া সীমান্তে একটি রুশ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে তুরস্ক, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

আজারবাইজানেও দেশ দুটো ভিন্ন দুই প্রান্তে। নাগোরনো-কারাবাখ যুদ্ধে তুরস্কের সাহায্য নিয়ে আজারবাইজান যখন আর্মেনিয়াকে কোণঠাসা করতে শুরু করে, তখন রাশিয়া হস্তক্ষেপ করে যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেয়।

লিবিয়ায় অস্ত্র, টাকা-পয়সা দিয়ে পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকারী মিলিশিয়া নেতা খালিফা হাফতারকে সাহায্য করছে রাশিয়া। অথচ তুরস্ক সমর্থন করছে ত্রিপলির সরকারকে।

পুতিন ও এরদোয়ানের ‘বেমানান’ সম্পর্ক
এত কিছুর পরেও পুতিন ও এরদোয়ানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এই সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো এবং তা কীভাবে টিকে রয়েছে, এই প্রশ্ন উঠছে। লন্ডনে রাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কিত গবেষণাধর্মী সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রধান সম্পাদক ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক সামি হামদী বলেন, এই বেমানান’ সম্পর্কের মূলে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ফ্যাক্টর।

তিনি বলেন, মস্কো-আঙ্কারার মধ্যে এখন যে মাখামাখি তাকে আমি স্বার্থসিদ্ধির জন্য একটি বিয়ে হিসেবে দেখি। দুটো দেশকেই যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন ধরে একঘরে করার চেষ্টা করছে। ফলে প্রত্যাখ্যাত দুই পক্ষ কাছাকাছি হয়ে স্বার্থরক্ষার চেষ্টা করছে।

সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে পুতিন ও এরদোয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপ একেবারেই মানতে পারেনি ওয়াশিংটন। পরে, সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চল থেকে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট কুর্দি মিলিশিয়াদের সরিয়ে একটি ‘সেফ জোন’ তৈরির জন্য তুরস্কের দাবি প্রত্যাখ্যাত হলে ক্ষেপে যান এরদোয়ান।

হামদী বলেন, নিজেদের ভিন্ন সামরিক-রাজনৈতিক অভিলাষ থাকা স্বত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পড়া এই দুই দেশ নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার মধ্যে অভিন্ন স্বার্থ খুঁজে পায়। যার ফলে, ২০১৫ সালের নভেম্বরে তুরস্ক সিরিয়ায় রুশ যুদ্ধবিমান গুলি করে নামালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি।

ওই ঘটনার পরপরই, ২০১৬ সালের সামরিক অভ্যুত্থান থেকে রক্ষা পাওয়ার পর এরদোয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। কারণ এরদোয়ানের সন্দেহ, ওই অভ্যুত্থানের পেছনে পশ্চিমাদের ইন্ধন ছিল।

ন্যাটো জোটের একটি দেশের নেতা হয়েও অভ্যুত্থানের পর এরদোয়ান প্রথমে যে দেশটিতে যান, সেটি ছিল রাশিয়া। সেসময় আঙ্কারা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক এতটাই তিক্ত হয়ে ওঠে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চুক্তি করেন এরদোয়ান। রাশিয়া-বিরোধী সামরিক জোটের সদস্য হয়েও রাশিয়ার কাছ থেকেই সমরাস্ত্র কিনে রীতিমতো নজির সৃষ্টি করেন তিনি।

রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা
রাশিয়ার ওপর তুরস্কের অর্থনৈতিক নির্ভরতাও ক্রমেই বাড়ছে। তুরস্কের গ্যাসের চাহিদার ৪৫ শতাংশ পূরণ করে রাশিয়া, জ্বালানি তেলের চাহিদার ৩৫ শতাংশও আসে সেখান থেকে। রুশ গমের ওপরও তুরস্ক বেশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এছাড়া, সংখ্যার বিচারে তুরস্কে এখন রুশ পর্যটকরা এক নম্বরে। এ কারণে, রাশিয়ার ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করার পেছনে এই অর্থনৈতিক নির্ভরতারও যে বড় ভূমিকা ছিল, তাতে সন্দেহ নেই।

তবে সামি হামদী মনে করেন, তুরস্ক ও রাশিয়ার সম্পর্কের মূলে রয়েছে রাজনীতি। তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশের মতো জ্বালানির জন্য তুরস্কও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এরদোয়ান ও পুতিনের সম্পর্কের প্রধান তাড়না রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক।

এ বিশ্লেষক বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। আবার অতটা কাছাকাছিও হচ্ছে না, যাতে তার গায়ে রাশিয়ার মিত্র তকমা লাগে।

সে কারণে ইউক্রেনকে খোলাখুলি সামরিক ড্রোন বিক্রি করছে তুরস্ক, যা রুশ ট্যাংক ধ্বংস করছে। ইউক্রেনের অনুরোধে কিছুদিন আগে গমভর্তি রুশ জাহাজ আটকও করেছে তারা। পুতিন অসন্তুষ্ট হবেন জেনেও সুইডেন-ফিনল্যান্ডের ন্যাটোয় যোগদানের ব্যাপারে আপত্তি তুলে নিয়েছেন এরদোয়ান।

তবে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টও সমানভাবে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ককে রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করছেন বলে মনে করেন সাদি হামদী। তার কথায়, ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের সঙ্গে এই দহরম-মহরম যুক্তরাষ্ট্রের গায়ে হুল ফোটানোর জন্য পুতিনের হাতে বড় একটি হাতিয়ার। ন্যাটোতে ফাটল রয়েছে এমনটি দেখানোর বড় সুযোগ।

সম্পর্ক টিকবে?
প্রশ্ন হচ্ছে- এই সম্পর্কের ভিত্তি কতটা শক্ত? সম্ভাব্য ঝুঁকি কোথায়? সম্প্রতি লন্ডনের গবেষণা সংস্থা চ্যাটাম হাউজ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে প্রশ্নের উত্তরে তুরস্ক বিশেষজ্ঞ ড. বেইজা উনাল বলেন, সিরিয়া নিয়ে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কে হঠাৎ ফাটল ধরা খুবই সম্ভব।

সিরিয়ার উত্তরে কুর্দি মিলিশিয়াদের তাড়াতে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে কথা বলছে তুরস্ক। কিন্তু ওই এলাকায় রুশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে, পরিস্থিতি যেকোনো সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০২০ সালেও সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলায় ৩৩ জন তুর্কি সৈন্য মারা গেছেন।

ড. উনাল আরও বলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সামরিক গতিবিধি নিয়ে তুরস্কের উদ্বেগ রয়েছে। সেখানে রাশিয়া প্রভাব বিস্তারের বেশি চেষ্টা করলে তুরস্ক সহ্য করবে না।

অবশ্য ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধ-সংঘাত-মতভেদ আয়ত্ত্বের মধ্যে রাখার সচেতন চেষ্টা করছে মস্কো ও আঙ্কারা। দুই নেতাই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

তবে সামি হামদী বলেন, পুতিন ও এরদোয়ানের এই সম্পর্ক একেবারেই পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর। তার কথায়, দু'জনেরই এখন দু’জনকে দরকার। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এরদোয়ানের সম্পর্ক ভালো হচ্ছে, তিনি পুতিনের কাছাকাছি থাকবেন। পুতিনের জন্যও ব্যাপারটি একই। ভালো কোনো বিকল্প তৈরি হলে সম্পর্ক আলগা হতে সময় লাগবে না।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট, আল জাজিরা, বিবিসি বাংলা


আরও খবর



যে কারণে সিরিজ হারতে হলো বাংলাদেশকে

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

শেষ ম্যাচে দলে যুক্ত হলেন ‘পঞ্চ পাণ্ডবে’র অন্যতম সদস্য মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ; কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। জিম্বাবুয়ের কাছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারলো টাইগাররা।

আজ ২ আগস্ট, মঙ্গলবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বাহিনীর ১০ রানের পরাজয়ে সত্যি হলো অনেকের সন্দেহ, সংশয়।

শীর্ষ তারকাদের ছাড়া কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারবে সোহানের দল?’- এই শিরোনামে গত ২৭ জুলাই জাগো নিউজে প্রকাশিত হয়েছিল এক প্রতিবেদন। শিরোনামই বলে দিচ্ছে কী ছিল তার প্রতিপাদ্য বিষয়?

সে প্রতিবেদনেই একটা বিষয় পরিষ্কার ছিল। তাহলো- পাঁচ শীর্ষ ও জনপ্রিয় তারকাকে ছাড়াই এবার জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। এক যুগেরও বেশি সময় সব ফরম্যাটেই যারা ছিলেন টিম বাংলাদেশের প্রধান চালিকাশক্তি, তাদের ঘিরেই আবর্তিতত হতো সব কিছু।

বিশেষ করে সাকিব, তামিম, মুশফিক আর রিয়াদের অন্তত তিনজন ছাড়া ক্রিকেটের ছোট পরিসরে দল হয়েছে খুব কম। এবার তারা কেউ নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে একঝাঁক তরুণ ও নবীন ক্রিকেটারে গড়া দল কী জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পেরে উঠবে?

পাশাাপাশি আরও একটি প্রশ্ন ছিল কারো কারো মনে- এক বছর আগে দুই ম্যাচ জিতিয়ে সৌম্য সরকার যে সিরিজ সেরা হয়েছিলেন, এবার তার ভূমিকা কেউ নিতে পারবে কি না?

অনেকের মনেই সংশয় ছিল, সিনিয়র ও অভিজ্ঞ এবং অপরিহার্য্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতে এসব তরুণরা কী পারবেন নিজেদের মেলে ধরে দলকে সাফল্যের বন্দরে পৌঁছে দিতে?

সে সংশয় সত্য বলেই প্রমাণ হলো। তরুণরা শেষ পর্যন্ত কুলিয়ে উঠতে পারলেন না জিম্বাবুয়ের সাথে। কেউ সৌম্য সরকারের ভূমিকাও নিতে পারেননি। সৌম্যর মত জোড়া অর্ধশতক উপহার দেয়া বহুদুরে, লিটন দাস ছাড়া আর কেউ একটি হাফ সেঞ্চুরিও হাঁকাতে পারেননি।

দিন শেষে টি-টোয়েন্টি হলো ব্যাটারদের খেলা। ব্যাটাররা জ্বলে উঠতে না পারলে সাফল্য পাওয়া কঠিন। এ সিরিজে একটি মাত্র ম্যাচ জেতানো ফিফটি এসেছে টাইগারদের ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৬ রান করেছিলেন লিটন দাস। এছাড়া ম্যাচ জয়ের মত আর কোনো ইনিংস উপহার দিতে পারেননি টাইগার ব্যাটাররা।

বোলিংয়ে পুরো সিরিজে একটিই ম্যাচ উইনিং পারফরমেন্স আছে। সেটা দ্বিতীয় ম্যাচে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ‘ম্যাজিক্যাল বোলিং স্পেলটি (৪ ওভারে ২০ রানে ৫ উইকেট)।

আজ শেষ ম্যাচেও সব বাটাররা ব্যর্থ। ১৫৭ রানের মাঝারিমানের টার্গেট ছুঁতে গিয়েও লিটন দাস, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, শেখ মাহদির কেউই দল জিতিয়ে বিজয়ীর বেশে সাজঘরে ফিরতে পারেননি।

মূলতঃ ব্যাট হাতে ম্যাচ জেতানো ভূমিকা নিতে পারেননি কেউই। তার প্রমাণ তিন ম্যাচে একটি মাত্র ফিফটি। দ্বিতীয় ম্যাচে লিটন দাসের ৩৩ বলে ৫৬ রানের ঝড়ো ও আকর্ষণীয় ইনিংসটি ছাড়া আর একজন ব্যাটারও পুরো সিরিজে পঞ্চাশে পা রাখতে পারেননি।

একটি দলের ব্যাটারদের অবস্থা এমন হলে সেই দলের পক্ষে সিরিজ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে। আজ শেষ দিনও কারো ব্যাট কথা বলেনি। সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে জুনিয়রদের কেউ হাল ধরতে পারেননি। এমনকি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছে যে প্রত্যাশা ছিল, সেটাও মেটাতে পারেননি তিনি। সুতরাং, ১৫৭ রানের টার্গেটও হয়ে থাকলো অধরা।


আরও খবর