Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

ইরানে জন্মদিনের পার্টিতে আগুন, শিশুসহ নিহত ৮

প্রকাশিত:Wednesday ১৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ১০৫জন দেখেছেন
Image

ইরানে একটি জন্মদিনের পার্টিতে অগ্নিকাণ্ডে চার শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছে। বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, একটি আন্ডারগ্রাউন্ড রেস্টুরেন্টে ওই জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করা হয়।

বার্তা সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত আন্দিশেহ শহরে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তেহরান প্রদেশের রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা শাহিন ফাথি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিন বছরের এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

কাউন্টির প্রসিকিউটর হামিদ আসগরি জানিয়েছেন, খুব দ্রুত গতিতে রেস্টুরেন্টের ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।


আরও খবর



ইসলামের দৃষ্টিতে আইন পেশার গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা

প্রকাশিত:Thursday ০৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্সান

ইসলাম একটি বিজ্ঞানময়, শাশ্বত, পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। মানব জীবনের এমন কোনো দিক নেই যা ইসলামে আলোচিত হয়নি। সংক্ষেপে এখানে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পেশা হিসেবে, আইনপেশা সম্পর্কে কী বলা আছে ও সমাজে এর গুরুত্ব কী তা তুলে ধরবো।

সবার প্রতি ন্যায়বিচার প্রদানই হচ্ছে আদালতের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য। আর মামলা-মোকদ্দমায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনবিদগণ বিচারককে সাহায্য করে থাকেন। সত্য প্রতিষ্ঠায় আদালতকে সাহায্য করা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বিরাট অবদান রাখার সমতুল্য। আদালতকে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া, মক্কেলের স্বার্থে অসত্যের আশ্রয় গ্রহণ করা, মক্কেলকে অন্যায় করতে পরামর্শ দেওয়া কখনও একজন ভালো অ্যাডভোকেটের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

জামেয়া আহমদীয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম হজরত আল্লামা জালালুদ্দীন আল কাদেরী (রহ.) বলেন, ‘ইমামে আজম হজরত আবু হানিফা (রহ.) নিজেই একজন আইনবিদ ও ফিকাহ্ শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর রচিত ফিকাহ্ শাস্ত্রসমূহ ইসলামী আইনের জগতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।’ ইসলামী দুনিয়ার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইলমে ফিকহের পণ্ডিত ইমামে আজম হজরত আবু হানিফা (রহ.) এর মাজহাবের ফেকাহের কিতাব সমূহে ওকালতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এ কিতাবসমূহের মধ্যে হেদায়া, শরহে বেকায়া, কানজুদ দকায়েক, কুদুরী, মালাবুদ্দা মিনহুম প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

ওকালতকে অস্বীকার করা মানে হলো হানাফী মাজহাবের কিতাব সমূহ থেকে ‘বাব-উল-ওকালত’কে রদ করে দেওয়া। বিশ্বজোড়া সর্বজনগ্রাহ্য ফতোয়ার কিতাব ‘ফতোয়ায়ে আলমগিরী’, ‘ফতহুল কাদির’, ‘ফতোয়ায়ে শামী’সহ বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাবসমূহে ‘ওকালত’ ও এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত বলা রয়েছে। তাছাড়া কুতুবে দাওয়ান, মুজাদ্দিদে জামান, হাকীমুল উম্মাত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর ‘বেহেশতী জেওর’-এ উকিল ও ওকালতি সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.) এর অনুবাদকৃত উক্ত কিতাবের পঞ্চম খন্ডের ১৩৩ পৃষ্ঠায় কাউকে উকিল বানানোর বিবরণ শিরোনামে প্রদত্ত মাসয়ালায় উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষ যে কাজ নিজে করার অধিকারী সে কাজ অন্যের দ্বারা করানোরও সে অধিকারী। একেই শরিয়তের ভাষায় ‘উকিল’ বানানো বলে। এখানে উকিলকে আমানতদার ও আমানতের খেয়ানত করাকে শক্ত হারাম বলা হয়েছে।

উকিলকে মেহনতয়ানা যা কিছু দেওয়া হবে, সেটার মালিক সে হবে। উকিলের কাজ করে মেহনতয়ানা চুকিয়ে নেওয়া শরিয়তে জায়েজ আছে। মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর ওকালতি প্রসঙ্গে প্রদত্ত আলোচনায় অনুবাদক উক্ত কিতাবের একই খন্ডের ১৩৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, মনে করুন-

আপনি একজনকে উকিল বানালেন আপনার এক মোকদ্দমা চালাবার জন্যে। এক্ষেত্রে আপনিও এ কথা বলতে পারবেন না যে, আমাকে মোকদ্দমায় জিতাতে হবে এবং উকিলও একথা বলতে পারবেন না যে, আমি নিশ্চয়ই মোকদ্দমায় জিতিয়ে দেব। অবশ্য জিতাবার জন্য প্রত্যেকের চেষ্টা হবে এই কথা সুনিশ্চিত। হারবার জন্য তো আর কেউ মোকদ্দমা করে না। কিন্তু এইরূপ শর্ত করা বা শর্ত লাগানো অথবা মোকদ্দমা জিতানোর বা জিতানোর জন্য মিথ্যা সাক্ষী বানানো বা ঘুষের আশ্রয় গ্রহণ করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। অবশ্য বুদ্ধির তীক্ষ্ণতার দ্বারা, মস্তিষ্কের প্রখরতার দ্বারা ও বিদ্যার গভীরতার দ্বারা সত্যের সীমা লঙ্ঘন না করে অনেক সময় এমন অনেক সূক্ষ্ণ পয়েন্ট বের করা যায়, যা দ্বারা উকিলের কৃতিত্ব প্রমাণিত হয়, মিথ্যা সাক্ষীও লাগে না।

মূলকথা এই যে, সত্যের সীমা, ন্যায়ের সীমা, ধর্মের সীমা লঙ্ঘন না করে, ওকালতি ব্যবসার দ্বারা পয়সা উপার্জন করা জায়েজ আছে। বিনা পয়সায় নিঃসহায়ের সহায়তা করলেও তাতে সওয়াব আছে।

প্রকৃত পক্ষে প্রত্যেক পেশাকে হালাল-হারামভাবে পরিচালনা করা স্ব-স্ব পেশাজীবিদের উপর নির্ভর করে। ব্যাংকার, ডাক্তার, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী সব পেশায় সততা ও ন্যায় নিষ্ঠা বজায় রাখলে তা হালাল অন্যথায় তা হারাম।

প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা মহিউদ্দিন খান সম্পাদিত বহুল প্রচারিত মাসিক মদিনায় জামালপুর জজ আদালতের জনৈক অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আইন ব্যবসা করা কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে হালাল ব্যবসা কিনা এবং এই ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত আয় হালাল কিনা?

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান সংক্ষেপে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আইনব্যবসা নিঃসন্দেহে বৈধ পেশা এবং এর দ্বারা উপার্জিত আয় হালাল।’ (মাসিক মদীনা, এপ্রিল’ ৯৭ সংখ্যা)

মুসলিম আইনবেত্তাগণ মামলা-মোকদ্দমায় উকিল নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বহু গবেষণা করেছেন। প্রায় সব মুসলিম আইনবেত্তাগণই বিচার ব্যবসাকে সহজ করে ন্যায়বিচার প্রদানের পথকে সুগম করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/পক্ষের উপস্থিত-অনুপস্থিত সব অবস্থায় মামলা-মোকদ্দমায় উকিল নিয়োগ করার বিষয়টি বৈধ বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত সহিহ আল বুখারি-এর ২য় খন্ডের ৩৯০ পৃষ্ঠায় কিতাবুল ওকালত প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রকৃত অর্থে আইন পেশা একটি মহৎ পেশা। হাদিসের আলোকে আলোচনায় সেখানে উল্লেখ আছে যে, উপস্থিত ও অনুপস্থিতদের জন্যে উকিল নিয়োগ করা জায়েয। কোনো উকিলকে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিকে কিংবা কোনো কওমের সুপারিশকারীকে কোনো বস্তু হেবা (দান) করা জায়েয।

কিতাবুল ওকালতের উক্ত অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে যে, যদি কেউ কোনো উকিল (ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি) নিয়োগ করে আর ওই উকিল কোনো কিছু ছেড়ে দেয় এরপর মুয়াক্কিল (উকিল নিয়োগকারী) তা অনুমোদন করে, তবে তা জায়েয।

‘উকিল’ এবং মুয়াক্কিল আদালতের দুটি প্রচলিত পরিভাষা ও ইসলামী শব্দ বা পরিভাষা। আদালতে আইনবিদ আইনগত তথ্য উদঘাটনে, সাক্ষ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা প্রদান করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

কারণ, বিচারের নীতি হলো-প্রয়োজনে প্রতি ১০ জন অপরাধীর ৯ জনই ছাড়া পেয়ে যাবে তবুও যেন ১ জন নিরপরাধ ব্যক্তির ভুলবশত হলেও সাজা হয়ে না যায়। কেননা প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তি দিতে গিয়ে যদি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি কিংবা কারাভোগ করতে হয়; তার চেয়ে বড় কোনো অপরাধ হতে পারে না। এতে করে মানবাধিকার হয় ভ‚লুণ্ঠিত এবং সমাজে প্রতিশোধের জিঘাংসা ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে বিচারকের দৃষ্টিতে যে সব সূক্ষ্ণ ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তথ্য ও তত্ত্ব ধরা পড়ে না আইনজিবীগণ নিজ নিজ পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করার মাধ্যমে বিচারকগণকে সত্য উদঘাটনে প্রচুরতম সহযোগিতা প্রদান করে মানবাধিকার সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছেন।

ফলে বিচারকগণ নিখুঁত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, আইনবিদগণ নিরপরাধীকে যেমন সাহায্য করেন তেমনি অপরাধীকেও সাহায্য করেন, এ ধারণা সঠিক নয়।

অপরাধীর পক্ষ সমর্থন করার মানে অপরাধীকে সমর্থন করা নয় বরং অপরাধীর বিরুদ্ধে অপরাধ করার প্রমাণ সন্দেহাতীতরূপে উপস্থিত করা হয়েছে কিনা তা নির্ধারণে আইনবিদগণ বিচারককে সাহায্য করেন।

ফৌজদারী আইনে একটা ম্যাক্সিম আছে, ‘দ্য প্রসিকিউসন মাস্ট প্রুভ ইটস কেইজ বাউন্ড অল রেস্পোন্সিবল ডাউট’। একটি হাদিসে এ ব্যাপারে প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলমানের উপর শরিয়তের বিধান কার্যকরী করা হতে যতদূর সম্ভব দূরে থাক। অভিযুক্তের নিষ্কৃতি দেওয়ার সামান্যমাত্র সুযোগ থাকলেও তার মুক্তির পথ উন্মুক্ত করে দাও। কেননা, রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে ভুল করে কাউকে মুক্তিদান করা, ভুল করে কাউকে শাস্তি দান করা অপেক্ষা উত্তম ও কল্যাণকর। (তিরমিজি)

একজন ভালো আইনবিদের জেরা করাকে ওপেন হার্ট সার্জারীর সঙ্গেও তুলনা করা যায়। কেননা এর ফলে আদালতের সামনে সত্য ও লুকায়িত তথ্য বেরিয়ে আসে। অর্থ আয়ের জন্য সব পথই বৈধ-এ কথা একজন পরকালে বিশ্বাসী আইনবিদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। মামলাবাজ, ধুরন্ধর শয়তান ব্যক্তির অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে ধর্মপ্রাণ আইনবিদ কখনো আল্লাহ প্রদত্ত তাঁর মেধাশক্তিকে কাজে লাগান না তথা তাদের প্রশ্রয় দিতে পারেন না। যদি কেউ দিয়ে থাকেন সে ব্যাপারে তাকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহির জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য সমগ্র আইনবিদ ও আইন পেশাকে হারাম বলা যেতে পারে না।

আইনবিদ বিতর্ক সৃষ্টি করেন না। আইনের মাধ্যমে তর্ক মিটাতে ভূমিকা রাখেন মাত্র। একজন আদর্শ আইনবিদ বিচারককে আইন বা ঘটনা সম্পর্কে কোনো চাতুরী বা মিথ্যা উক্তি দ্বারা ভুল বুঝাতে পারেন না। জেনে-শুনে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আদালতকে ভ্রমে পতিত করে মক্কেলের উপকার করার চেষ্টা তিনি কখনো করতে পারেন না। একজন কৌশুলী ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় নিজের শ্রম ও মেধাকে কাজে লাগান মাত্র।

প্রতিটি মানুষের কথা বলা ও মতামত বা যুক্তিতর্ক ব্যক্ত করার আলাদা পদ্ধতি রয়েছে। কারো যুক্তিতর্ক খুবই তীক্ষ্ণ ও কৌশলপূর্ণ, আবার কারো খুবই সহজ-সরল। প্রতিটি মানুষ তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন। কেউ তীক্ষ্ণ জোরালো কৌশলপূর্ণ যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে অধিকার সম্পর্কে সচেতন।

অন্যদিকে কেউ এ গুণের অভাবে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকে। বিচারকের সামনে নিজের যুক্তিতর্ক ব্যক্ত করে নিজের অধিকার আদায় ও ন্যায়বিচার পাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে কষ্টসাধ্য। কেননা একজন সাধারণ লোক সত্যটিকে সহজভাবে উপস্থাপন করার মতো জ্ঞানী নাও হতে পারে।

বিচারক প্রতিটি পক্ষের যুক্তিতর্ক ও ঘটনার বর্ণনা শুনে প্রমাণ দেখে ন্যায়ানুগ বিচার বিশ্লেষণ করে রায় দিয়ে থাকেন। মামলা- মোকদ্দমায় ঘটনার উপর জোরালো যুক্তিতর্কের উপর নির্ভর করছে ন্যায়বিচার। আর এই ধারণাটি আজকের নয়, পুরনোকাল থেকেই মানুষের মাঝে বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে আমাদের সবার পথপ্রদর্শক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি তো একজন মানুষ। আমার কাছে বিবাদকারীরা আসে। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের চেয়ে অধিক বাকপটু। তখন আমি মনে করি যে, সে সত্য বলেছে। তাই আমি তার পক্ষে রায় দেই। বিচারে যদি ভুলবশত অন্য কোনো মুসলমানের অধিকার (হক) তাকে দিয়ে থাকি, তবে তা দোজখের আগুনের টুকরা। এখন সে তা গ্রহণ করুক বা ত্যাগ করুক।’ (বুখারি)

অন্যদিকে আইনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুসলিম শাসন আমলেও আইনপেশার প্রচলন ছিল। বিশেষ করে মুঘল শাসন আমলে আইন পেশাজীবীদের প্রচলন পরিলক্ষিত হয়। তখনকার আইনপেশা বর্তমান পেশার মতো এতো উন্নত না হলেও দেখা যায় মুফতিগণ বিচারকার্যে বিচারকদের সাহায্য করতেন। তাদেরকে আধুনিক যুগের অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এর আরও পরে দেখা যায় মামলার পক্ষসমূহ পেশাদার আইনজ্ঞ দ্বারা মামলা পরিচালনা করতেন এবং তাদের উকিল বলা হতো।

বলা যায়, মুসলিম শাসকদের সময়েই পেশাদার আইনবিদের বিকাশ ঘটে। তবে আজকের আইনবিদ সমিতির মতো সে সময় তেমন কোনো বার এসোসিয়েশন ছিল না। ফিকহে ফিরোজশাহী এবং ফতওয়ায়ে আলমগীরিতে উকিলের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে।

সম্রাট শাহজাহানের আমলে সর্বপ্রথম সরকারি উকিল নিয়োগ করা হয় এবং আইন ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় প্রতিটি জেলায় সরকারি উকিল নিয়োগ করা হয়। তাদের বলা হতো উকিল-ই শরয়ি। তাদের প্রধান কাজী নিয়োগ দিতেন এবং কখনো প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতেন। সে সময় লিগ্যাল এইডেরও প্রচলন দেখা যায়। যেমন- গরীব ও অসহায় মামলাকারীদের আইনগত সহায়তার জন্য আইনবিদ(উকিল) নিয়োগ করা হতো। এতে বুঝা যায়, আইন পেশা ইসলামের অন্তরায় নয় বরং সত্যিকার আইনপেশা ইসলামের ইতিহাসের একটি স্বীকৃত পেশা।

লেখক : আইনবিদ, গবেষক, কলামিস্ট, সুশাসন ও মানবাধিকারকর্মী।


আরও খবর



মহররমের ফজিলত ও বর্জনীয় কাজ

প্রকাশিত:Wednesday ০৩ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

বছরের বেশ কিছু দিন মাস ও মুহূর্ত আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন। এসবের মধ্যে হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম ও এ মাসের ১০ তারিখ ইয়াওমে আশুরাও একটি। আশুরা শব্দটি ব্যাপক পরিচিত। এটি আরবি শব্দ। যার অর্থ দশম। হিজরি বর্ষের মহররম মাসের ১০ তারিখকে বুঝায়। ১৪৪৪ হিজরি বছরে এ দিনটি আগামী ৯ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে। এ মাসের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও অনেক করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়। কী সেগুলো?

মহররমের তাৎপর্যপূর্ণ ফজিলত

ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাসগুলোর মধ্যে অনন্য মহররম। এটি আরবি ১২টি মাসের মধ্যে ৪টি হারাম মাসের একটি। এ ছাড়া এটি আরবি বছরের প্রথম মাস। আল্লাহর গণনায়ও মাস ১২টি। এ ১২ মাসের মধ্যে সম্মানিত হারাম মাস ৪টি। যে মাসগুলোতে যাবতীয় যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাতকে মহান আল্লাহ হারাম ঘোষণা করেছেন। তন্মধ্যে মহররম একটি। এটি হিজরি বছরের প্রথম মাস। যা হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রস্তাবনায় হিজরি বছরের প্রথম মাস হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়।

কোরআনে ঘোষিত সম্মানিত চার নিষিদ্ধ মাস কোনটি? এ সম্পর্কে হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে-

হজরত আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিনটি হলো ধারাবাহিক মাস- জিলকদ, জিলহজ ও মহররম আর একটি হলো রজব মাস জমাদিউস সানি ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী মাস অর্থাৎ রমজানের আগের মাসের আগের মাস’ (বুখারি)

আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে এ চারটি মাসকে সম্মানিত বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ যে মাসগুলোকে সম্মানিত মাস বলে অভিহিত করেছেন, সে মাসগুলোকে মর্যাদা দেয়া মুমিন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। এর মধ্যে অন্যতম দুটি নির্দেশ হলো-

মহররমকে মর্যাদা দেওয়া

আল্লাহ তাআলার কাছে যে মাসগুলো সম্মানিত, সে মাসগুলোকে সম্মান দেখানো ও মর্যাদা দেওয়া মুমিনের প্রথম কাজ। মহররমসহ এ মাসগুলোতে আল্লাহর দেওয়া সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা প্রত্যেক ঈমানদারের প্রথম করণীয়।

কিন্তু মুমিন মুসলমানের অনেকেই জানেন না যে, ইসলামের সম্মানিত ও মর্যাদার মাস কোনগুলো। মানুষ যখন জানবে যে এ মাসগুলো সম্মানিত। তখন মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হবে যে, আসলেই এটি মহররম মাস। এ মাসের যাবতীয় পাপাচার নিষিদ্ধ। তাই সস্মানিত মাসগুলো সম্পর্কে যেমন জানা জরুরি। তেমনি হারাম মাসের ইবাদত ও আমল সম্পর্কে ধারণা নেয়া জরুরি।

পাপাচারমুক্ত থাকার মাস

আল্লাহর দেওয়া সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে মহররমসহ সম্মানিত ৪ মাসের দুনিয়ার যাবতীয় পাপাচার থেকে মুক্ত থাকা মুমিন মুসলমানের দ্বিতীয় কাজ। তবেই জীবনের বাকি সময়গুলো এ মাসের অনুসরণ ও অনুকরণে গুনাহমক্ত থাকা সহজ হবে। এ মাসগুলোর করণীয় সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

এ (মাসের) মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি কোনোরূপ অত্যাচার করো না।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৩৬)

আয়াতের ব্যাখ্যা তাফসির বিশারদগণ বলেছেন, অত্যাচার বলতে এখানে যে কোনো ধরণের পাপাচার করাকে বুঝানো হয়েছে। তাই এ মাসের পাপাচার না করাই কোরআনে নির্দেশিত সেরা অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আমল।

এমনিতে অন্যান্য মাসে গোনাহের কাজ করা মুমিন মুসলমানের জন্য জঘন্য কাজ। আর সম্মানিত চার মাস জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব মাসের পাপাচার করা দ্বিগুণ মারাত্মক অন্যায় ও সরাসরি মহান আল্লাহর নির্দেশের লঙ্ঘন।

সওয়াবের প্রতিযোগিতার মাস

সওয়াব ও ভালো কাজের প্রতিযোগিতা করা এ মাসের তৃতীয় কাজ। ইসলামিক স্কলারদের মতে, সম্মানিত ৪ মাসের মধ্যে মহররম মাসই শ্রেষ্ঠ। তাই এ মহররম মাসে গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি যেসব কাজে সওয়াব ও উপকারিতা রয়েছ, সেসব কাজের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দেওয়া খুবই জরুরি। আবার মর্যাদার বিচারে রমজানের পরেই এ মহররম মাসের স্থান। কেননা মহররম শব্দের অর্থই হলো- সম্মানিত।

মহররমকে সম্মান ও মর্যাদা দেখানোর অন্যতম কারণ

মাসটির নাম হলো ’মহররম’। এর অর্থ : সম্মানিত। হাদিসেও এ মাসটিকে আল্লাহর মাস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এটি (মহররম) শাহরুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস’ (মুসলিম)

মহররম মাসে রোজা

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা।’ (মুসলিম)

ক্ষমার ঘোষণা

আশুরার দিন ও মহররম মাসজুড়ে বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা। কেননা এ দিন ও মাসের বিশেষ মুহূর্তে তাওবাহ-ইসতেগফারে আল্লাহ তাআলা পুরো জাতিকে ক্ষমা করে দেবেন। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মহররম হলো আল্লাহ তাআলার (কাছে একটি মর্যাদার) মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যাতে তিনি অতিতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাপর সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন।’ (তিরমিজি)

ত্যাগ ও কোরবানির শিক্ষা গ্রহণ

দ্বীন ও ইসলামের কল্যাণে হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু জীবন থেকে আত্মত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করা সব মুসলমানের জন্য একান্ত করণীয়। যাদের মাঝে হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ ঈমানি চেতনা জাগরিত হলেই ইসলামের পরিপূর্ণ বিজয় আসবে।

মহররমে রোজাদারকে ইফতার করানো

এমনিতে ইফতার করানো অনেক ফজিলতপূর্ণ কাজ। সম্ভব হলে আশুরার দিনে নিজে রোজা রাখার পাশাপাশি রোজা পালনকারীদের ইফতার করানো উত্তম। সাধ্যমত দান-সাদাকাহ করা। গরিবদেরকে পানাহার করানো। ইয়াতিমের প্রতি সদয় ব্যবহার ও সহযোগিতা করা।

মহররম মাসে বর্জনীয়

১. হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্মরণে কাল্পনিক তাযিয়া বা নকল কবর বানানো থেকে বিরত থাকা।

২. তাযিয়া বানিয়ে তা কাঁধে বা যানবাহনে বহন করে মিছিলসহ সড়ক প্রদক্ষিণ করা থেকেও বিরত থাকা।

৩. নকল এসব তাযিয়ার সামনে হাতজোড় করে দাড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকা এবং এসব তাযিয়া বা নকল কবরে নজরানা স্বরূপ অর্থ দান করা থেকেও বিরত থাকা।

৪. হজরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর স্মরণে নিজেদের দেহে আঘাত বা রক্তাক্ত করা থেকে বিরত থাকা।

৫. শোক বা মাতম করা থেকে বিরত থাকা।

৬. যুদ্ধ সরঞ্জামে সজ্জিত হয়ে ঘোড়া নিয়ে প্রদর্শনী করা থেকে বিরত থাকা।

৭. হায় হুসেন, হায় আলি ইত্যাদি বলে বিলাপ, মাতম কিংবা মর্সিয়া ও শোকগাঁথা প্রদর্শনীর সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বুকে পেটে পিঠে ছুরি মেরে রক্তাক্ত করা থেকেও বিরত থাকা।

৮. ফুল দিয়ে সাজানো এসব নকল তাযিয়া বা কবরের বাদ্যযন্ত্রের তালে প্রদর্শনী থেকে বিরত থাকা।

৯. হজরত ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহ আনহুর নামে ছোট বাচ্চাদেরকে ভিক্ষুক বানিয়ে ভিক্ষা করানো। এটা করিয়ে মনে করা যে, ঐ বাচ্চা দীর্ঘায়ু হবে। এটাও মহররম বিষয়ক একটি কু-প্রথাও বটে।

১০. আশুরায় শোক প্রকাশের জন্য নির্ধারিত কালো ও সবুজ রঙের বিশেষ পোশাক পরা থেকে বিরত থাকা।

১১. আশুরা বা ১০ মহররমকে কেন্দ্র করে এসব প্রচারণা থেকে বিরত থাকা জরুরি-

> ১০ মহররম পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়।

> কেয়ামত সংঘটিত হওয়া।

> হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের সৃষ্টি। বেহেশতে প্রবেশ। আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হওয়া।

> হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আগুন থেকে নাজাত।

> হজরত নুহ আলাইহিস সালামকে মহাপ্লাবন থেকে নিষ্কৃতি ও পাপিষ্ঠ জাতিকে ধ্বংস।

> এই দিনেই অত্যাচারী শাসক নমরূদের ধ্বংস।

উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে আশুরার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মিথ্যা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জাহান্নামে নিজেদের ঠিকানা বানানো থেকে বিরত থাকাই জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহররম ও আশুরার ফজিলত পেতে করণীয়গুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। বর্জনীয় ও মিথ্যা ঘটনা বর্ণনা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর



সপ্তাহের রসালাপ: গোপালের ঘরে চুরি

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
Image

গোপাল তখনও পাকাবাড়ি করতে পারেনি। মাটির দেওয়াল, টালির ছাউনি। আগে গ্রাম-দেশে চোরেরা সচরাচর হয় সিঁধ কাটত, নতুবা ঘরের চালের দু’একখানা টালি সরিয়ে ঘরে নেমে মালপত্র নিয়ে অন্য দরজা দিয়ে পালিয়ে যেত। তখন মাঝরাত, একটা চোর চুরি করবে বলে গোপালের ঘরের টালির উপর সবে উঠছে। গোপাল এবং গোপালের স্ত্রী তখনও জেগে ছিল। চোর সবে একখানা টালি সরিয়েছে, আর একখানা সরিয়ে নিচে নামবে আর কি।

গোপাল টের পেয়ে তখন স্ত্রীকে সাবধান হতে বললো। অন্যদিকে গোপালের বাড়িতে ঠিক এই সময়েই হা রে রে রে করে বিরাট ডাকাত দল চড়াও হল। ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঢোকার আগেই গোপাল টাকাপয়সা ও গয়নাগাটি নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে বৌকে সাবধান করে বাগানে পালিয়ে গেল। চোর ব্যাটা কিন্তু আর পালাতে পারল না। সে টালির চালে বসেই ঠক-ঠকিয়ে কাপঁতে লাগল।

বৌ সব বুঝতে পেরেছে যে চালের উপর একজন কেউ আছে, ওর উপস্থিতি ডাকাত দল আসার আগেই হয়েছে-গোপাল বৌকে সেজন্য সাবধান করে বলে দিয়েছে কী করতে হবে। কাঠের দরজা ভেঙে ডাকাতরা ঘরে ডুকেই গোপালের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করল, বাড়ির কর্তা কোথায় আগে বল, নইলে তোকেই রাম ধোলাই দেব। মিথ্যা কথা বললেই খুন করব, তাড়াতাড়ি বল।

গোপালের স্ত্রী বেজায় বুদ্ধিমতি। সে ডাকাতদের বললো, বাড়ির কর্তা তোমাদের ভয়ে টালির চালের উপর বসে রয়েছে। তার কাছেই সিন্দুকের চাবি আছে। এর বেশি কিছু আমি জানিনা গো, তোমাদের পাড়ে পড়ি গো। আমাকে মেরো না গো বাছারা সব!

ডাকাতরা চোরকে চাল থেকে নামিয়ে জিজ্ঞেস করলে, সিন্দুকের চাবি কোথায় শিগগির বল, কোথায় আছে? না হয় তোকে মেরে ফেলব। হারামজাদা কোথাকার। চোর ভ্যাবা চ্যাকা খেয়ে বললো, সত্যি বলছি, মাইরি বলছি আমি কিছুই জানি না। আমি এ বাড়ির কেউ নই, আমি নতুন লোক।

ডাকাতেরা চোরের কথা মোটেই বিশ্বাস করলে না, তাকে বাড়ির কর্তা ভেবে চাবি আদায় করার জন্য নির্দয়ভাবে পেটাতে লাগল। তবুও চাবি পেল না কোনোমতেই। এতে খানিকক্ষণ দেরিও হয়ে গেল ডাকাত দলের।

এরই মধ্যে গোপাল বাইরে থেকে গ্রামের লোকজন নিয়ে হই হই করে আসতে থাকলে ডাকাতেরা ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল বটে, কিন্তু চোরটাকে প্রায় মেরেই রেখে গেল। গোপাল আর একটু দেরি করলেই বেচারা প্রাণে মারা যেত সেদিন। পাড়াপড়শী ডাকাত তাড়াতে এসে মৃতপ্রায় চোরটাকে বাগে পেয়ে যেই মারতে যাবে গোপালের স্ত্রী বাধা দিয়ে বললে, ওকে আর মেরো না গো, ওকে বাড়ির কর্তা বানিয়ে আমরা এ যাত্রায় বেঁচে গেলুম।

আধমরা চোরটাকে মরার উপর খাড়ার ঘা আর দিও না। ও আমাদের অনেক উপকার করেছে। তারপর গোপালের স্ত্রী যখন সব কথা খুলে বললে পাড়ার লোকেদের, তখন পাড়ার লোকেরা গোপাল ও গোপালের স্ত্রীর বুদ্ধির খুব প্রশংসা করতে লাগল।

চোরটাকে গরম দুধ খাইয়ে চাঙা করে তুলে বিদায় করে দেওয়া হলো। বলাবাহুল্য যাতে কোনো দিন চুরি আর না করে তার জন্য সতর্ক করে দিয়ে এবং ব্যবসা পত্র করে সৎপথে চলার জন্য গোপাল কিছু টাকা ব্যবস্থা করে দিয়ে চোরকে ছেড়ে দিল।

লেখা: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।


আরও খবর



সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্বোধন ২৮ আগস্ট

প্রকাশিত:Friday ২৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
Image

দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আগামী ২৮ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিন এ তথ্য জানান। বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটির উদ্বোধন করবেন।

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, পদ্মা সেতুর পর এই হাসপাতালটি হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট অর্জন। আওয়ামী লীগ বারবার ক্ষমতায় আসলে এ রকম উন্নয়ন হতে থাকবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি এন্ড অনকোলজি বিভাগ ও মুভমেন্ট ফর থ্যালাসেমিয়া ইরাডিকেশন ইন বাংলাদেশের (এমটিইবি) যৌথ উদ্যোগে ‘থ্যালাসেমিয়া এন ইমার্জিং ন্যাশনাল হেলথ ইস্যু: ওয়ে টু মিনিফাই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যে সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে-

> ১০০টি অত্যাধুনিক আইসিইউসহ ৭৫০ শয্যার হাসপাতাল।
> ১১টি আন্তর্জাতিকমানের মডিউলার অপারেশন থিয়েটার।
> বিশ্বমানের পাঁচটি সেন্টার- জরুরি বিভাগ, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড।
> কিডনি ডিজিজ, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং হেপাটোলজি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট।
> অত্যাধুনিক সিটিস্ক্যান, এমআরআই থেকে শুরু করে সব পরীক্ষা।
> বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ও জিন থেরাপি।
> অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান।
> মৌলিক গবেষণার সুযোগসহ গবেষণার জন্য আলাদা সেন্টার।


আরও খবর



দেশের প্রথম ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হচ্ছে পঞ্চগড়

প্রকাশিত:Monday ১৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image

মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে দেশের প্রথম ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত জেলা হতে যাচ্ছে পঞ্চগড়। আগামী ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পঞ্চগড়কে শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করবেন। জেলার চার হাজার ৮৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আশ্রয় পাবেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দুই শতক জমির মালিকানার সঙ্গে প্রতিটি একক গৃহে রয়েছে দুটি করে শোয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি শৌচাগারসহ একটি বারান্দা। প্রতি গৃহে বিদ্যুৎ সংযোগসহ সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে নলকূপ।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম হলো দেশকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম থেকে তৃতীয় পর্যায়ের জেলার ৫ উপজেলায় চার হাজার ৮৫০টি একক গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় এক হাজার ৪৯৬টি, বোদা উপজেলায় ৪২৩টি, দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৮০৩টি, তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৭২৭টি এবং আটোয়ারী উপজেলায় ৪০১টি। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণ করা দুই হাজার ৪১৬টি একক গৃহ জমির কবুলিয়াতসহ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়।

দেশের প্রথম ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হচ্ছে পঞ্চগড়

তৃতীয় পর্যায়ে ১৭৬ স্থানে দুই হাজার ৪৩৪টি একক গৃহের মধ্যে এক হাজার ২১টি এরই মধ্যে প্রদান করা হয়েছে। বাকি এক হাজার ৪১৩টি একক গৃহ ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার সরেজমিন বিভিন্ন এলাকার আশ্রয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, পঞ্চগড় উপজেলা সদরের পঞ্চগড় ইউনিয়নের মাহানপাড়া আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকায় যেন উৎসবের আমেজ চলছে। এই আশ্রয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলাকে দেশের প্রথম শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন। এজন্য মাহানপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা বিশেষভাবে সাজানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের সার্বক্ষণিক এবং আন্তরিক তদারকিতে মাহানপাড়া আশ্রয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক আশ্রয়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করার বিশেষ এই উদ্যোগ গ্রহণের পর থেকেই জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম পঞ্চগড় জেলাকে দেশের মধ্যে প্রথম ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা করার জন্য মাঠে নামেন। তিনি পুলিশ সুপার মোহম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আমিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন বিভিন্ন আশ্রয়নের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময় পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধানকে নিয়েও বিভিন্ন আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখানো হয়। তাদের হাত দিয়ে আশ্রয়হীন মানুষদের হাতে জমি রেজিস্ট্রি, কবুলিয়াতের কাগজপত্রসহ ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর্থিক অনটনসহ নানা কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এসব মানুষের নিজস্ব কোনো আশ্রয় ছিল না। এদের কেউ সরকারি জমিতে, সড়ক মহাসড়কের পাশে ফুটপাতে, কেউ অন্যের মালিকানার জমিতে ঝুপড়ি ঘর তুলে, কেউ আবার নিরুপায় হয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন বছরের পর বছর।

দেশের প্রথম ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হচ্ছে পঞ্চগড়

এদের মধ্যে রয়েছেন আদিবাসী মানুষজন, পাথর ও মাটিকাটা শ্রমিক, দিনমজুর চা ও কৃষি শ্রমিক পরিবার। ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সে পঞ্চগড় প্রান্তে রেলপথ মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম সুজন এমপি, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিকাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের মাহানপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রয় পাওয়া ভূমিহীন দুদু মিয়া (৬৫), জহুর আলী (৬০) লোকমান আলী (৫৫) বলেন, আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি কোনো দিন নিজের জমিতে বিল্ডিং ঘরে ঘুমাতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই।

দেশের প্রথম ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত জেলা হচ্ছে পঞ্চগড়

ধাক্কামার ইউনিয়নের রাজারপাড় ডাংগার আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর পাওয়া নুরুল ইসলামের স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, আমরা সরকারি জায়গায় কোনোমতে বসবাস করতাম। আমাদের নিজেদের কোনো জমি বা বাড়ি ছিল না। আমরা আশ্রয়হীন ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন, পাকা বাড়ি করে দিয়েছেন। এমন প্রধানমন্ত্রীই আমরা চাই।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়ীনাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, আমরা এলাকায় মাইকিং করেছি। বিভিন্নভাবে প্রচারও করেছি। এপর ২৬টি ভূমিহীন এবং গৃহহীন পরিবার পেয়েছি। তাদের প্রত্যেককে জমিসহ পাকা বাড়িঘর করে দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য খেলার মাঠ করা হয়েছে। আমাদের ইউনিয়নে আশ্রয়হীন এসব পরিবারের সঙ্গে অন্যরাও বেশ খুশি হয়েছেন।

সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে জেলার ৪৩ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আবেদন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। আবেদনকৃত প্রত্যেক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে এই আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের উন্নয়ন যাতে মানসম্মত হয় এ নিয়েও আমাদের আন্তরিক তদারকি ছিল।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন, গৃহহীন, আশ্রয়হীন থাকবে না। মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন দীপ্ত ঘোষণায় সারাদেশে ভূমিহীন, গৃহহীনদের একক গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২১ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলাকে দেশের প্রথম শতভাগ ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ঘোষণা করবেন বলে আশা করি।


আরও খবর