Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১১৩জন দেখেছেন
Image

 

ব্যাটিং ব্যর্থতা পিছু ছাড়েনি বাংলাদেশের। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমেও ১০৯ রান তুলতে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে টাইগাররা।

ফলে ইনিংস পরাজয় চোখ রাঙানি দিচ্ছে সফরকারীদের। ৬ উইকেটে ১১৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতিতে গেছে সাকিব আল হাসানের দল। ইনিংস হার এড়াতে এখনও দরকার ৪৮ রান। সাকিব ৫ আর নুরুল হাসান সোহান ২ রানে অপরাজিত আছেন।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫০ রান। আগের দিন অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল ও প্রমোশন পেয়ে ওপরে ওঠা মেহেদি হাসান মিরাজের উইকেট হারায় সফরকারীরা। ১১২ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শুরু করে বাংলাদেশ।

এর আগে মেহেদি মিরাজের চার উইকেটের সঙ্গে খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনদের জোড়া শিকারে ক্যারিবীয়দের ২৬৫ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় স্বাগতিকরা পেয়ে যায় ১৬২ রানের বড় লিড।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরুর আভাসই দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়। একপ্রান্তে রয়েসয়ে খেলেন জয়, তামিম ছিলেন স্বপ্রতিভ। কিন্তু দশম ওভারে আক্রমণে এসেই তামিমকে ফিরিয়ে দেন আলজারি জোসেফ।

উইকেটের পেছনে ক্যাচ হওয়ার আগে চারটি চারের মারে ৩১ বলে ২২ রান করেন তামিম। তিন নম্বরে নাইটাওয়াচম্যান হিসেবে নামানো হয় মেহেদি মিরাজকে। নিজের পরের ওভারে এ ডানহাতি অলরাউন্ডারকেও ফিরিয়ে দেন জোসেফ। আউট হওয়ার আগে মাত্র ২ রান করতে পেরেছেন মিরাজ।

এরপর দিনের শেষভাগের প্রায় আধঘণ্টা সময় নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দিয়েছেন মাহমুদুল জয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫০ বলের জুটিতে আসে ১৫ রান। জয় ১৮ ও শান্ত ৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করেন।

তৃতীয় দিনের সকালটাও দেখেশুনে শুরু করেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয় আর নাজমুল হাসান শান্ত। প্রথম আধ ঘণ্টা কাটিয়েও দিয়েছিল এই জুটি। কিন্তু এরপরই ভুল করে বসেন শান্ত।

কাইল মায়ার্সের বাউন্সি ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়ে দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ হন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ৪৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে তিনি করেন ১৭ রান। প্রথম ইনিংসে কেমার রোচের বলে শান্ত বোল্ড হয়েছিলেন, আরও একবার দৃষ্টিকটু আউট হলেন।

এরপর দ্রুতই ফিরেছেন মুমিনুল হক। নেতৃত্বের চাপে ভেঙে পড়ছেন, এমনটা ভেবেই অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটার টানা ৯ ইনিংস দশের নিচে আউট হয়েছেন।

এবার মুমিনুল সাজঘরে ফিরেছেন ৪ রানে। কাইল মায়ার্সের ডেলিভারি প্যাডে লাগলে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। মুমিনুল রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু লেগ স্ট্যাম্প অল্প একটু পেয়ে যাওয়ায় আম্পায়ার্স কলে ফিরতে হয়েছে বাঁহাতি এই ব্যাটারকে। প্রথম ইনিংসে তিনি করেছিলেন শূন্য।

ফর্মে থাকা লিটন দাসের ওপর বড় আশা ছিল টাইগার সমর্থকদের। মাহমুদুল জয়ের সঙ্গে ২৫ রানের একটি জুটিও গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাকিদের মতো বাজে শট খেলেই আউট হয়েছেন।

ব্যক্তিগত ১৭ রানে সাজঘরের পথ ধরেন ডানহাতি এই ব্যাটার। কেমার রোচের শরীরের অনেক বাইরে থাকা ডেলিভারি অযথা শট খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হন লিটন।

অভিজ্ঞ ব্যাটাররা একের পর এক ফিরে যাচ্ছেন সাজঘরে। কিন্তু তরুণ মাহমুদুল হাসান জয় ধৈর্যর পরিচয় দিয়ে যাচ্ছিলেন। একদম টেস্ট মেজাজেই খেলছিলেন টাইগার ওপেনার। হাফসেঞ্চুরিটা তার প্রাপ্যই ছিল।

কিন্তু চল্লিশের ঘরে গিয়ে ভুল করে বসেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ। কেমার রোচের বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে শট খেলতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন জয়। ১৫৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে তার ৪২ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটির সমাপ্তি তাতেই।


আরও খবর



যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ টুর্নামেন্ট খেলবে রিয়াল, বার্সা ও জুভেন্টাস

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

গতবছর ইউরোপিয়ান ফুটবলে উয়েফার বিদ্রোহী টুর্নামেন্ট হিসেবে সুপার লিগের কথা শোনা গিয়েছিল। সেই সুপার লিগের প্রতিষ্ঠাকালীন ১২ সদস্যের মধ্যে ৯টিই সরে দাঁড়ালে ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা। তবে এখনও এই লিগের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস।

সেই সুপার লিগ এখনও আলোর মুখ দেখেনি। আদৌ এটি বাস্তবায়িত হবে কি না তা জানা নেই কারও। তবে এবার নতুন আরেক টুর্নামেন্টে খেলতে নামছে এ তিন দল। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া সকাল চ্যাম্পিয়ন্স ট্যুরে খেলবে স্পেন ও ইতালির শীর্ষস্থানীয় ক্লাব তিনটি।

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুরু হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আসরে রিয়াল, বার্সা ও জুভেন্টাস ছাড়াও খেলবে মেক্সিকোর দুই দল ক্লাব আমেরিকা ও দেপোর্তিভো গুয়াদালারা। আগামী ২২ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস, সান ফ্রান্সিসকো, ডালাস ও লস অ্যাঞ্জেলসে হবে পাঁচ দলের এই টুর্নামেন্ট।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে লাস ভেগাসে গুয়াদালারার মুখোমুখি হবে জুভেন্টাস। পরদিন একই মাঠে হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এল ক্লাসিকো ম্যাচটি। যেখানে লড়বে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। আগামী ৩০ জুলাই লস অ্যাঞ্জেলসে রিয়াল ও জুভেন্টাসের ম্যাচ দিয়ে পর্দা নামবে এই টুর্নামেন্টের।


আরও খবর



ধর্ষণকাণ্ডে স্থগিত রাখা ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
Image

টিএসসিতে দলীয় নেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ও ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে তথ্য জালিয়াতি, অভিযুক্তের পক্ষ নেওয়ায় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ।

শনিবার (৪ জুন) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক রেজোয়ান হক মুক্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৪০তম সম্মেলন পরবর্তী ৪র্থ জাতীয় পরিষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহর সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক দীপক শীলের সঞ্চালনায়, সারাদেশের জাতীয় পরিষদ সদস্যদের উপস্থিতিতে সংগঠনকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের তৎকালীন প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আকিফ আহমেদের ধর্ষণের বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও লিঙ্গ সংবেদনশীল সেলের যৌথ তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়, এই গোটা বিষয়ে তদন্ত কমিটি কিছু সুস্পষ্ট অপরাধ লক্ষ্য করে।

প্রথমতো একটা ধর্ষণের ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের মতো সংগঠনে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে না বরং যত দ্রুত সম্ভব সেই ঘটনার তদন্ত করে তার শাস্তি নিশ্চিত করা বা সংগঠনের বক্তব্য পরিষ্কার করার দরকার ছিলো যা ঘটনায় মারাত্মকভাবে অনুপস্থিত।

অভিযোগের সঠিক তারিখ লুকানোর চেষ্টা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। ১৪ তারিখে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও সেটাকে শেষ পর্যন্ত ২০ তারিখ দেখানো হয়েছে। ওই নারীর অভিযোগের তারিখও বদলানো হয়েছে। ১৯ তারিখের লিখিত অভিযোগ ২০ তারিখ দেখানো হয়েছে। যা স্পষ্টতই একটি অপরাধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ তদন্তের নামে যেই প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে তাকে গ্রাম্যসালিশী প্রক্রিয়ার সাথে তুলনা করা যায়।

ওই নারী ও অভিযুক্তকে একই সঙ্গে বসিয়ে তদন্ত করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। এমনকি তদন্ত কমিটি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে যে এটি একটি ফৌজদারী অপরাধ, বাংলাদেশের আইনেরও পরিপন্থী কাজ এই ঘটনা। ভিক্টিমকে নানা হেনস্তার মাধ্যমে অসুস্থ করে তোলা হয়েছে তদন্তের নামে, যা আরো একটি অপরাধ বলে বিবেচিত।

এসব ঘটনার তদন্তের নামে যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তাতে প্রমাণ হয় যে ধর্ষণের মতো একটি ঘটনা ঘটার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার যোগ্যতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতৃত্বের নেই। নারী সম্পর্কে এবং ধর্ষণ-নিপীড়ন সম্পর্কে তাদের বোঝাপড়া যথেষ্ট নয়। তাই দ্রুত তাদের কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত বলে তদন্ত কমিটি মনে করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরেও দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা পরিলক্ষিত হয় যা বড় ধরনের অপরাধ বলে চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি।

সম্পূর্ণ ঘটনায় যেই বিবৃতি সংগঠনের পেজ থেকে দেওয়া হয়েছে তার প্রক্রিয়া ও বিবৃতির ভাষায় নানামাত্রিক অসংগতির মাধ্যমে অভিযুক্তর অপরাধকে লঘু প্রমাণের চেষ্টা করা হয়। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি তার প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদকে বিলুপ্তের সুপারিশ করে। উপস্থিত জাতীয় পরিষদ সদস্যদের সম্মতিতে সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়।

এছাড়াও দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় কমিটির কাজে অনুপস্থিত থাকায়, কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মীম আরাফাত মানব, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুনিরা দিলশাদ ইলা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসমানী আশাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এসব পদে কো-অপ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



নারী চিকিৎসককে নাজেহাল, ৫ তরুণের কারাদণ্ড

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২০১জন দেখেছেন
Image

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নারী চিকিৎসকের সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় ৫ তরুণকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শনিবার (১১ জুন) রাতে এ রায় দেন।

এর আগে মিঠামইন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মিঠামইন সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে তরিকুল (২০), বিল্লাল মিয়ার ছেলে ইমন (১৮), দুলাল মিয়ার ছেলে রাতুল মিয়া (১৯), আমির হোসেনের ছেলে মো. নয়ন (১৯) ও শামীম মিয়ার ছেলে উৎসব (১৯)। তারা সবাই স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কলিন্দ্র নাথ গোলদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাহনাজ আক্তার হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ডিউটি শেষে উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের এই পাঁচ সদস্য রাস্তা আটকে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল সাফীকে অবগত করলে তিনি মিঠামইন থানায় অভিযোগ করেন। এতে ওসি কলিন্দ্র নাথ গোলদার তাৎক্ষণিক তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ফোর্সকে নির্দেশ দেন। পুলিশ শনিবার (১১ জুন) বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

পরে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন।


আরও খবর



মওকুফ করা ঋণের ওপর কর আরোপ অযৌক্তিক: এফবিসিসিআই

প্রকাশিত:Saturday ১১ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

প্রস্তাবিত বাজেটে খেলাপি ঋণ মওকুফ করা হলে তা করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে অবিহিত করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

শনিবার (১১ জুন) মতিঝিল এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য, বিভিন্ন চেম্বার সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, খেলাপি ঋণ মওকুফ করা হলে তা করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য করা হবে কেন? দুর্ভোগ লাঘবের জন্যই খেলাপি ঋণ মওকুফ করা হয়ে থাকে বিধায় মওকুফকৃত ঋণের ওপর কর আরোপ করা যুক্তিযুক্ত নয়। আমরা মনে করি আয়ের ওপর কর আদায় করাই হচ্ছে আয়করের মূলনীতি।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রপ্তানিকারক কর্তৃক রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশের পরিবর্তে এক শতাংশ উৎসে কর কর্তনের বিধান বাতিল করে পূর্বের ন্যায় (০.৫০ শতাংশ) রাখার প্রস্তাব করছি। অর্থবিলে রপ্তানির সংজ্ঞাকে সংকুচিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের ক্ষেত্রে ঋণপত্রের পাশাপাশি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে স্থানীয় সরবরাহকে রপ্তানির সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করছি। সোলার প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে এক শতাংশ করা হয়েছে। সোলার প্যানেলের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে উৎপাদকদের কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ এবং ব্যবসায়িক পণ্যের সরবরাহের ওপর উৎসে করের হার ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। উৎসে কর ফেরতযোগ্য এবং ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি করে বিধায় উৎসে কর প্রত্যাহারের জন্য আমরা পুনরায় আহ্বান জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এনে ব্যক্তি শ্রেণির আয়করের সীমা বর্তমান ৩ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪ লাখ টাকা করার জন্য আমরা প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে আয়করের সীমা বৃদ্ধি করা হয়নি। আয়করের সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ভারতে আয়করের সীমা ৫ লাখ রুপি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কর অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের মূল্য ও খরচ বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে ও মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান পণ্যমূল্য দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এ সমস্যা নিরসনে এফবিসিসিআই উৎপাদনমুখী খাতসহ নিত্য ব্যবহার্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের পরোক্ষ করে রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এ ধরনের শুল্ক ও কর রেয়াতের ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি বিশেষ খাতে মূসক, আগাম কর, উৎসে কর, অগ্রিম কর ইত্যাদি সহ আমদানি শুল্কে রেয়াত দেওয়া হলেও সামগ্রিক শিল্প বাণিজ্য খাত এসব শুল্ক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসমতা দেখা দিচ্ছে। এ সমস্যা নিরসনে এফবিসিসিআইয়ের প্রাক বাজেট প্রস্তাবনাসমূহ পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান সংগঠনটির সভাপতি।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু ও বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র এবং আজকের প্রযুক্তি

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

১৪ জুন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের ৪৭ বছরপূর্ণ হলো। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতিতে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়– এই তিন দেশপ্রেমিকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়ায় যে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন তারই পথপরিক্রমায় শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের যোগাযোগ মাধ্যমকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন। সজীব ওয়াজেদ জয় এদেশকে ডিজিটাল সংস্কৃতিতে উত্তীর্ণ করার সব প্রক্রিয়া দেখিয়ে ও পরামর্শ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধন করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। এর মাধ্যমে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ থাকা দেশগুলোর তালিকায় যোগ হয় বাংলাদেশের নাম। এর আগে বিশ্বের ৫৬টি দেশ মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। তবে বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে উদ্বোধন করেছিলেন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি। গ্রীষ্মের গরমে কিন্তু প্রকৃতির সুশীতল স্নিগ্ধ ছায়াময় বাগানে বসেই বঙ্গবন্ধু চা-পান করেছিলেন। অদূরে শুয়ে থাকা একটি কুকুরকে দেখে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তুইও আমার মতো ভুখা? হাতের বিস্কুট ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘নে খা’। সেসময় চারপাশে ছিল ছোট ছোট পাহাড়। জনমানবহীন পাহাড়গুলো ছিল সবুজের গালিচা।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেলা ১১টায় বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের প্রথম গেটে একটি হাতি বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানায় এবং তাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি আজ আবার গুরুত্ব পেয়ে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাচ্ছে। বেতবুনিয়া কেন্দ্র শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত। দেশে সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হওয়ায় এর ব্যবহার আপাতত সীমিত হয়ে পড়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর এ কেন্দ্রের কার্যকারিতা আরও বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মিত্র শক্তি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জাতির পিতাকে ভারতের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির কাজ সম্পাদনের কথা বললেও সেই সময় বঙ্গবন্ধু এই আহ্বান বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনার মাধ্যমেই স্বাধীন দেশে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি চালু করেন।

প্রায় ১২৮ একরের জায়গার ওপর স্থাপিত কেন্দ্রটি, ঊর্ধ্বাকাশে স্থাপিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষার ব্যবস্থা সচল হয়েছিল। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ১১টি দেশের সঙ্গে টেলিফোন ডাটা কমিউনিকেশন, ফ্যাক্স, টেলেক্স ইত্যাদি আদান-প্রদান শুরু করা হয়। প্রায় ৩৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার ঊর্ধ্বাকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে শক্তিশালী অ্যান্টেনা দিয়ে বার্তা/তথ্য আদান-প্রদানের কাজ সম্পাদিত হয়েছে ২০১৮ সালের আগ অবধি। তবে দীর্ঘ সময়ে এর উন্নয়নের আর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হ নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের নৃশংসভাবে হত্যার পর ক্ষমতায় আসীন পরবর্তী স্বৈরাচারী সরকার এবং ১৯৯০-এর পরে দু’দফায় দেশ পরিচালনায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটিকে কার্যত অচল করে দেয়। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূ-উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু কৃত্রিম উপগ্রহ ঊর্ধ্বাকাশে স্থাপনের পর, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রকে দ্বিতীয় স্টেশন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলেই ভূ-উপগ্রহটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নে স্থাপিত বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এজন্য বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা ঢেলে সাজানো হয়। কয়েকশ গজ ব্যবধানে দুটি ফটক পার করে যেতে হয় মূল কেন্দ্রে। পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। অর্ধ শতাব্দী ধরে মূল ভবনের জৌলুস যেন অমলিন রয়েছে। পাশেই বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী মঞ্চ আর বিশালাকার এন্টেনা (ডিশ)। ডান পাশের দেয়ালজুড়ে আছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামাঙ্কিত ফলক।

তিনি এর উদ্বোধন করেন ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন। এদিন একটি ডাকটিকিটও অবমুক্ত করেন বঙ্গবন্ধু। একটু ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন জাতির পিতা যে স্থানে দাঁড়িয়ে এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন সেই স্থানটি। যেটিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ফলক উন্মোচনী পাথরটি বসানো হয়েছে মূল কার্যালয়ের সম্মুখভাগে। কেন্দ্রের উদ্বোধন শেষে যে জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধু হেলিকপ্টারযোগে উড্ডয়ন করেছিলেন সেই জায়গাটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

পাহাড়বেষ্টিত ১২৮ একর সমতল জমিতে স্থাপন করা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গত শতাব্দীর আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যয়বহুল স্থাপনাটি মূলত কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে শক্তিশালী এন্টেনার মাধ্যমে ওভারসিস সিগন্যাল গ্রহণ করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে টেলিফোন ডাটা কমিউনিকেশন, ফ্যাক্স, টেলেক্স আদান-প্রদান করে আসছে। বর্তমানে এ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যমে সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, হংকং, ওমান, পাকিস্তান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মুম্বাই অর্থাৎ মোট ১১টি দেশের সঙ্গে টেলিফোন ডাটা কমিউনিকেশন, ফ্যাক্স, টেলেক্স ইত্যাদি আদান-প্রদান করা হয়।

অর্থাৎ বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি এখন গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের সুবিধা অনেক। সাধারণত টিভি চ্যানেলগুলো তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এতকাল বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করা হতো। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে এই ভাড়া বাংলাদেশ সংগ্রহ করছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে।

এছাড়া অন্য দেশের টিভি চ্যানেলর কাছে ভাড়া দিতে পারছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। এই কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে মাধ্যমে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়েছে। এই কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা হলো ১ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ। এর ব্যান্ডউইডথ ও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত দূরবর্তী অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও ব্যাংকিংসেবা, টেলিমেডিসিন ও দূরনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রসারেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়লে-এর মাধ্যমে ওই সব অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে। এদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন পর আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে পাহাড়ের অবহেলিত জেলার প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটিতে। এলাকার বেকারত্ব লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আসলে ২০২০ থেকে ২০২১ সালে করোনা মহামারিতে লকডাউনের মধ্যে অনলাইন প্লাটফরম বেশি গুরুত্ব পাওয়া শুরু করলে ইন্টারনেট নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। তখন ভূ-উপগ্রহের মর্ম আমরা উপলব্ধি করতে সক্ষম হই।বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দেশের টেলিযোগাযোগের প্রথম এন্টেনাটি। কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে এটি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্রুততার সাথে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

একসময় সমগ্র বাংলাদেশে বৈদেশিক কল গ্রহণ ও পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল রাঙ্গামাটির এ কেন্দ্র। সরকার তথা রাষ্ট্র, বিদেশি কূটনীতিক কিংবা ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সব যোগাযোগ হতো এর মাধ্যমে। স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠনে এ কেন্দ্রের অবদান ছিল অপরিসীম। আশির দশকের বিশ্বকাপ ফুটবলে ম্যারাডোনার খেলা আর মুষ্টিযুদ্ধে সারা দুনিয়ার সেরা মোহাম্মদ আলীর খেলা হলে এ কেন্দ্রের মাধ্যমেই সমগ্র বাংলাদেশে তা দেখানো হতো। এমনকি বাইরের সব অনুষ্ঠান সম্প্রচার হতো এর মাধ্যমে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উদ্বোধনের পর দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আরও একধাপ এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় ফোর-জি বা চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রচলনের মধ্য দিয়ে আমাদের ডিজিটাল যুগের আরও উন্নতি সম্পন্ন হয়েছে। এর আগের প্রজন্মের প্রযুক্তি ছিল টু-জি এবং থ্রি-জি। টু-জিতে কেবল ফোন কল করা এবং টেক্সট মেসেজ পাঠানো যেতো। থ্রি-জি প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কল করা এবং মিউজিক ও ভিডিও ডাউনলোড করার সুযোগ তৈরি হয়। থ্রি-জিতে যা যা করা সম্ভব, তার সবকিছু ফোর-জিতেও করা যায়, তবে দ্রুতগতিতে এবং ভালোভাবে। অর্থাৎ সুবিধাগুলো পরিষ্কার— থ্রিজিতে ইন্টারনেট ডাউনলোড বা আপলোডে যে সময় লাগত, ফোর-জিতে সে সময় কম লাগে।

কেবল ইন্টারনেটই নয়, ভয়েস কলেও অগ্রগতি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোর-জি হ্যান্ডসেটের চাহিদা মেটাতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ ফোর-জি হ্যান্ডসেট মাত্র ২০ শতাংশ গ্রাহকের হাতে রয়েছে। সেবা নির্বিঘ্ন করতে একইসঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নও দরকার। ফোর-জির দ্রুতগতি প্রান্তিক মানুষকে নানা কাজে উৎসাহী করেছে। ফলে তাদের শহরমুখী হতে হচ্ছে না। ই-কমার্স, আউটসোর্সিংসহ ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল মানুষের ডিজিটালসেবা নিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে তথ্য-প্রযুক্তিবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক সমাজের সাংস্কৃতিক মানকে ডিজিটাল যুগের স্তরে উন্নীত করা একটি কঠিন কাজ। তার জন্য সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দরকার ছিল। শেখ হাসিনা সেই কাজটি সুনিপুণ পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন করে চলেছেন। মনে রাখতে হবে যে, এদেশে আমরা সর্বপ্রথম তাঁর মুখেই ডিজিটাল বাংলাদেশ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির কথা শুনেছি। তাঁর নেতৃত্বেই সম্পন্ন হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তরের ইতিহাস। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে বোঝায় দেশের সব নাগরিককে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারার সক্ষমতা তৈরি করা। উপরন্তু তার চারপাশে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা যাতে তার জীবনধারাটি যন্ত্র-প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশের অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রতিভাত হয়। শিক্ষাসহ সরকারি-বেসরকারি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কল-কারখানা ও সেবাকে ডিজিটাল করা হচ্ছে। এতে দেশের মানুষের জীবনধারা ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করেছে। শিগগির বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। এর মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ।

ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এজন্য বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন মেটাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি কমাতে ইতোমধ্যে সরকারি অফিসে ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সারাদেশে তৈরি করা হয়েছে এক লাখ ওয়াই-ফাই জোন। মূলত দেশে থ্রি-জি সেবার জায়গায় ফোর-জি আনা হয়েছে। অবশ্য তার আগেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েব পোর্টাল করেছি আমরা। সেখান থেকে যেকোনো তথ্যসেবা আমরা দিতে সক্ষম।

আইটি সেক্টরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আরও এগিয়ে যাবো। ১৩ বছর আগে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বলে কিছু ছিল না। তখন আইটি খাত থেকে রপ্তানি আয় ছিল ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এখন ৫০০ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করে বেকারত্ব দূর করাকে অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আইটি পার্ক, পাশাপাশি আইটি ইনস্টিটিউট, আইটি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিরলস প্রচেষ্টায় আইটি খাত ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এসবই সম্ভব হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে হাঁটার ফলে।

একটি সদ্য স্বাধীনপ্রাপ্ত দেশের তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্যই চালু করা হয় বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি। ১৯৭০ সালে এই কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হলেও কেন্দ্রটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার এবং কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নানান চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু জাতির পিতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে কেন্দ্রটির কাজ অব্যাহত থাকে।

কেবল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্রুততার সাথে তথ্য আদান প্রদানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে এ কেন্দ্র থেকে। মনে রাখতে হবে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা থেকেই ৪৭ বছর আগে এ দেশে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি চালু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর হাত ধরেই আজকের প্রযুক্তি প্রসারের বাংলাদেশ গৌরবান্বিত।

লেখক: বঙ্গবন্ধু গবেষক এবং লেখক, কবি, কলামিস্ট। সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]


আরও খবর