Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

হিজাব কিংবা খোলামেলা থাকা দুটোরই স্বাধীনতা থাকা উচিত

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৭৪জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশে একটি ঘটনা ঘটে এবং তা নিয়ে কিছুদিন আলাপ চলে পক্ষে-বিপক্ষে এবং তারপর কোনো রকম সিদ্ধান্ত কিংবা সমাপ্তি ছাড়াই দ্রুত আরেকটি ঘটনা নিয়ে আলোচনার মোড় ঘুরে যায়। একটি ছোট্ট দেশে ১৬-১৭ কোটি মানুষের বসবাস, এখানে মানুষের জন্ম এবং মৃত্যুর মতোই ঘটনার জন্ম এবং মৃত্যুও আলোড়নহীন এবং ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনাও মানুষের কাছে সমানমাত্রায় সহনীয়।

গণমাধ্যম যে বিষয়টিকে আলোচনায় নিয়ে আসে তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও কোনো আলোচনাই স্থায়ী হয় না। সেটা বড় কোনো দুর্ঘটনা হোক কিংবা ভয়ঙ্কর কোনো সামাজিক বৈষম্য হোক। মানুষ আসলে কোনো কিছুতেই দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, তা সে যতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই হোক না কেন। অথচ কিছু কিছু ঘটনা রয়েছে, যা নিয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণও জরুরি। আজ এমনই একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই, আর সেটি হলো নরসিংদী রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া নারী অবমাননার ঘটনা।

একটু দেরিতে আলোচনার সুবিধে হলো, বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা দেখে ও জেনে-বুঝে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া যে তরুণীকে এই রেলস্টেশনে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তিনি বুদ্ধিমান এবং দেশের আলোচিত একটি বিদ্যায়তনের ছাত্রী। ফলে তিনি তার পোশাক বিষয়ে সচেতন এবং তিনি খুব ভেবেচিন্তে পোশাক নির্বাচন করেন বলেই আমরা ধরে নিতে চাই। ফলে যে পোশাকের জন্য তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তা নিয়ে তার কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না বলেই তিনি রাস্তায় বেরিয়েছেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে গেছেন নরসিংদীতে।

একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক নিজ দেশের ভেতর ভ্রমণ করবেন তাতে তিনি কোনো প্রকার হেনস্তার শিকার হবেন না, এটাই সভ্য দেশের দস্তুর। কিন্তু না, এই তরুণী শুধু হেনস্তার শিকার হয়েছেন তাই-ই নয়, তাকে শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে এবং তিনি তার জীবনে এই ‘পাবলিক হ্যারাসমেন্ট’র ট্রমা বা ভীতি থেকে কখনও বের হতে পারবেন বলে মনে হয় না। অর্থাৎ তার মানসিকতায় একটি স্থায়ী ভীতি তৈরি হয়েছে এবং এ ক্ষতি অপূরণীয়। অন্য কোনো সভ্য দেশ হলে তিনি এই ক্ষতিপূরণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে পারতেন এবং রাষ্ট্র তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হতো।

আমরা দেখতে পেলাম যে, একদল মানুষ আলোচ্য এই তরুণীর পোশাক নিয়ে তাকে কটাক্ষ করে তার ওপর হামলা করছে। তরুণীর সঙ্গী পুরুষকেও হেনস্তা করছে এবং তাকেও শারীরিক ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এই খবর দ্রুত গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ ঘটনার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি দল তৈরি হয় এবং এখনও যেহেতু এদেশে আইন-আদালত রয়েছে, সরকার যেহেতু কখনও কখনও জনমতকে ধর্তব্যে নেয়, সেহেতু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে প্রথমে একজন পুরুষ আক্রমণকারীকে গ্রেফতার করে এবং পরে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মার্জিয়া নামের এক নারীকে গ্রেফতার করে।

এই গ্রেফতারের ঘটনায় দেশে-বিদেশে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশংসিত হলেও যারা এ ঘটনায় আক্রান্ত তরুণীকেই দোষী মনে করেন তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা সমাবেশ করে গ্রেফতারকৃত মার্জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। ফলে এখন নরসিংদীর ঘটনায় স্পষ্টতই দুটি পক্ষ লক্ষ্যমান, যারা মনে করেন যে, বাংলাদেশে পোশাকের স্বাধীনতা থাকবে না অর্থাৎ কেউ বা আরও স্পষ্ট করে বলা ভালো কোনো নারী তার ইচ্ছামাফিক পোশাক পরে রাস্তায় বের হতে পারবেন না।

আরেকপক্ষ এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলতে চাইছে যে, হিজাব পরা যদি ব্যক্তি স্বাধীনতা হয় তাহলে হিজাব না পরা অথবা ইচ্ছেমতো যে কোনো পোশাক পরারও স্বাধীনতা থাকতে হবে। এরই মধ্যে আদালতের এক রায়েও বলা হয়েছে যে, হিজাব পরার স্বাধীনতা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আদালত অন্য কোনো পোশাক পরার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নিয়ে কিছু বলেননি। বাংলাদেশে হিজাব পরার কারণে কোথাও কেউ হেনস্তার শিকার হয়েছে বলে জানা নেই, ভারতে এরকম বিতর্ক শুরু হলেও বাংলাদেশে এটা হয়নি, যদিও বলা হচ্ছে যে, হিজাব পরতে বাধা দেওয়ার কারণেই কোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।

এখন তবে এমন কাউকে আদালতে গিয়ে বলতে হবে যে, বাংলাদেশে যে কোনো নারী তার ইচ্ছেমতো পোশাক পরে বাইরে যেতে কেন পারবেন না সে বিষয়টি আদালতকে স্পষ্ট করে দিতে হবে? কিংবা নারী কোন পোশাক পরে বাইরে বেরুতে পারবেন আর কোন পোশাক পরে পারবেন না সেটিও তাহলে আদালতকে বলতে হবে। নাহলে রাস্তাঘাটে আবারও কোনো তরুণীকে পোশাকের কারণে হেনস্তা হতে হবে এবং এ নিয়ে শুধু পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনাই সার হবে, সিদ্ধান্ত কিছুই হবে না।

আমাদের সংবিধানে স্বাধীন নাগরিক সত্তার ওপর জোরারোপ করা হয়েছে। ফলে আদালত নিশ্চয়ই নারীর এই স্বাধীন সত্তার বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, কারণ তা হবে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই সংঘর্ষ নিশ্চয়ই কাম্য হতে পারে না। ফলে আমরা এটা ধরে নিয়েই এগোতে চাই যে, বাংলাদেশের নাগরিকের পোশাকের স্বাধীনতা রয়েছে। এক্ষেত্রে সমাজ হয়তো একটি ‘শালীন’ বা ‘অশালীনের’ প্রশ্ন তুলতে পারে কিন্তু সেটাও ধর্তব্য নয় কারণ একজনের চোখে যা শালীন আরেকজনের চোখে তাই-ই অশালীন হতে পারে।

যেহেতু এর কোনো সঠিক নির্ণায়ক নেই, তাই ব্যক্তি নিজে যা শালীন মনে করবেন সেটি পরেই তিনি পথে বের হবেন। আর ব্যক্তি নিজে যাকে অশালীন মনে করবেন তা তিনি পরবেন না। কিন্তু অন্য যদি সেটা পরে? সেক্ষেত্রে কী হবে? সেক্ষেত্রেও তিনি এ বিষয়ে নিজের মতামতকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। শালীন কিংবা অশালীন নির্ণয়ের দারভার তাকে কেউ দেয়নি এবং এ বিষয়ে অন্যকে জ্ঞান দেওয়া, হেনস্তা করা কিংবা শারীরিক আক্রমণের অধিকারও তিনি রাখেন না। বরং এসব যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সেটিই রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে পোশাকের কারণে তরুণী আক্রান্ত হওয়ার পর গ্রেফতারদের শাস্তি এজন্যই নিশ্চিত করা জরুরি যে, এই আক্রমণের ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারতো, ‘মব’-কে খেপিয়ে তুললে তরুণী গণপিটুনির শিকার হতে পারতো এবং হয়েওছে তাই। ভিডিওতে দেখা গেছে যে, মার্জিয়া বার বার অকথ্য ভাষায় তরুণীকে গাল দিচ্ছে এবং তাকে কোণঠাসা করে ফেলছে এবং মার্জিয়ার সঙ্গে আরও কিছু লোকজন যুক্ত হয়ে তরুণীকে আক্রমণ করছে। তরুণী ভয় পেয়ে স্টেশনমাস্টারের রুমে গিয়ে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারছেন না। এই ভীতি এবং আক্রমণ যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ তা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তবে যারা মার্জিয়ার মুক্তি চাইছেন তারা বিষয়টি জানেন না বলেই লেখাটিতে আবার সেটি মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে একটি ধর্মবাদী রাজনীতি রয়েছে, যার শিকার সব সময় আসলে নারী, এক্ষেত্রেও সেই রাজনীতিকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীর পোশাককে অশালীন আখ্যা দিয়ে একদল মানুষ এগিয়ে এসে নারীকে আক্রমণ করে, কখনও মৌখিক, কখনও শারীরিক এবং অনেক সময় সেটা পরিবার ও সমাজ পর্যন্ত গড়ায়। ঢাকা শহরে তো বটেই ঢাকার বাইরেও নারীকে এই পোশাকের জন্য আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনা আকছার ঘটে এবং ঘটছে। এই ভীতি নারীকে ঘরবন্দি করেতো বটেই, বরং নারীর শিক্ষাদীক্ষা এবং পেশাজীবী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও বিশাল প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এদেশে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে বলে আমরা মাঝে মাঝেই আনন্দ করি কিন্তু ক্ষমতায়নের পথে এই পোশাক-রাজনীতি যে কত ভয়ংকর একটি বাধা তা এদেশের নারীমাত্রই জানা আছে। এখানে পুরুষের পক্ষে এর গভীরতা অনুধাবন মোটেও সম্ভব নয়।

উপজেলা কিংবা জেলা শহরে জন্ম নিয়ে রাজধানী শহর পর্যন্ত আসতে একজন নারীকে কতটা মূল্য চুকাতে হয় তা জানা থাকলে পুরুষ মাত্রেরই লজ্জা পাওয়ার কথা, কিন্তু সে লজ্জা পুরুষের যেমন নেই তেমনি আমরা দেখতে পাই যে, পুরুষতন্ত্রের নর্দমার মধ্যে বড় হওয়া নারীর মধ্যেও সে লজ্জাবোধ তৈরি হয়নি। পুরুষের বেঁধে দেওয়া গণ্ডির ভেতর নিজে যেমন ঢুকে বসে আছে তেমনই অন্যকেও টেনে নিতে চায় এসব নারীরা। তারা এটা বুঝতে চান না যে, তিনি বাধ্য হয়েই হোক কিংবা স্বেচ্ছায়ই হোক যে পোশাকটি তিনি পরেছেন সেটা যেমন তার ‘চয়েস’ কিংবা সম্প্রতি আদালতের দেওয়া নির্দেশমতে তার ‘অধিকার বা স্বাধীনতা’ তেমনই পাশের নারীটি যা পরেছেন সেটাও সেই নারীর ‘চয়েস’, অধিকার কিংবা স্বাধীনতা।

তিনি যদি হিজাব পরার জন্য আক্রান্ত না হতে চান তাহলে তার মতে ‘অশালীন’ বা ‘খোলামেলা’ পোশাক পরিহিতা নারীটিরও অধিকার আছে এগুলো পরে নিশ্চিন্তে চলাফেরার। পোশাকের জন্য কোনো পক্ষই যদি কারও দ্বারা আক্রান্ত হন তাহলে সেটা ফৌজদারি অপরাধ এবং রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনেই তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এটুকু বুঝলেই কিন্তু নরসিংদীর মতো ঘটনা এদেশে আর ঘটবে না কোনোদিন। প্রশ্ন হলো, এদেশের পোশাক-রাজনীতি কিংবা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কিংবা পুরুষতন্ত্রের জঠরে বেড়ে ওঠা নারী-পুরুষরা সেটা বুঝবেন কি না। বুঝলে ভালো, না বুঝলে মার্জিয়ার মতো আইনি শাস্তির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখাও উচিত হবে তাদের।

ঢাকা ৬ জুন, সোমবার ২০২২
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট।
[email protected]


আরও খবর



কবে গোল পাবে ক্যাবরেরার বাংলাদেশ?

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৩৬জন দেখেছেন
Image

নতুন স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে এক এক করে চারটি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশের। অথচ, নতুন এই কোচের অধীনে এখনো গোলের দেখা পায়নি জামাল ভূঁইয়ারা। লাল-সবুজ জার্সিধারীরা সর্বশেষ ম্যাচটি খেললো বুধবার মালয়েশিয়ায় বাহরাইনের বিপক্ষে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের এই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হেরেছে ২-০ গোলে।

জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছেন ক্যাবরেরা। বাংলাদেশের ডাগআউটে তার অভিষেক হয়েছিল মালেতে ২৪ মার্চ মালদ্বীপের বিপক্ষে। ওই ম্যাচ বাংলাদেশ হেরেছিল ২-০ গোলে। ক্যাবরেরার বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ খেলেছিল মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে। ২৯ মার্চ সিলেটে হওয়া ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। প্রথম দুই ম্যাচের মতো তৃতীয় ম্যাচটিও ছিল ফিফা ফ্রেন্ডলি। মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ১ জুন ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ম্যাচে বাহরাইনের কাছে হারলো ২-০ গোলে।

চার ম্যাচে চারটি গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের জাল এখনো চিনতে পারেননি ক্যাবরেরার শিষ্যরা। গোল করতে না পারলে জিতবে কিভাবে বাংলাদেশ? কবেই বা করবে বহুল প্রত্যাশিত সেই গোল?

গোল করতে হলে গোলের সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখে গোলের চেষ্টা করতে হবে। সর্বশেষ দুই ম্যাচে তা পারেনি বাংলাদেশ।

পারবে কি করে? গোল করার মতো ট্রেডমার্ক কেউ তো নেই ক্যাবরেরার দলে। একটু ভুল বোঝাবুঝিতে নাবিব নেওয়াজ জীবনকে ক্যাম্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দল থেকে ছুঁড়ে ফেলার মতো অপরাধ কি নাবিব নেওয়াজ জীবন করেছিলেন? তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

মতিন মিয়া, সুমন রেজারা বাদ পড়েছেন চোটের কারণে। ক্যাবরেরার দলে গোল করার মানুষটা কে? আপনি কার ওপর ভরসা রাখতে পারবেন? যে কারণে টানা চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালের দেখা পায়নি বাংলাদেশের কোন খেলোয়াড়।

২০১৫ সালে টানা ৬ ম্যাচ গোলহীন ছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ছিল টানা ৫ ম্যাচ। মালয়েশিয়ায় বাকি দুই ম্যাচে গোল করতে না পারলে ২০১৬ সালের পর আবারো টানা ৬ ম্যাচ গোল না পাওয়ার দুঃখ পোড়াবে জামাল ভূঁইয়াদের।


আরও খবর



‘হাওরের প্রাণ-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়েও উন্নয়ন সম্ভব’

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২১জন দেখেছেন
Image

গওহার নঈম ওয়ারা। লেখক, গবেষক। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের সামাজিক ইতিহাস তার প্রধানতম গবেষণার ক্ষেত্র। দুর্যোগ-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে লিখছেন দীর্ঘদিন ধরে।

হাওরে বন্যার প্রসঙ্গ নিয়ে মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। বলেন, হাওরের স্বকীয়তা বজায় রেখেই উন্নয়ন করা সম্ভব। প্রাণ-প্রকৃতির ভাবনা না করে উন্নয়নে গেলে হাওরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবেই। প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা-জবাবদিহিতা না থাকার কারণে দুর্যোগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সায়েম সাবু

জাগো নিউজ: হাওরের দুঃখ পুরোনো। আপনার লেখায়, গবেষণায় গুরুত্ব পাচ্ছে এ অঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতিও। এবারের বন্যার অস্বাভাবিকতা নিয়ে কী বলবেন?

গওহার নঈম ওয়ারা: অল্পসময়ে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে এবং বন্যার জন্য এটিই প্রধানতম কারণ। ক্ষয়ক্ষতির আরেকটি কারণ হচ্ছে, আমরা এই বন্যার অস্বাভাবিকতাকে ধারণায় আনতে পারিনি। আর আমরা আত্মতুষ্টিতে এতই মগ্ন হয়ে আছি যে, আমাদের করণীয় আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম। এ কয়টি কারণেই এবারের বন্যায় দুঃখ-কষ্ট বেড়েছে।

এবারের বন্যাটা আচমকা হয়েছে এবং মানুষ ভাবতেই পারেনি যে, এত পানি নেমে আসবে। মেস বা একা থাকা চাকরিজীবীদের অনেকেই বৃহস্পতিবার অফিস করে বাড়ি যান। পানির কারণে তারা আর রেখে যাওয়া ভাড়াবাড়িতে ঢুকতে পারেননি। ঘর-বাড়ি সব তলিয়ে গেছে। আট-দশ ফুট উঁচু হয়ে জলোচ্ছ্বাসের মতো পানি এসেছে। পরিস্থিতি ধারণার বাইরে ছিল।

জাগো নিউজ: বন্যার পূর্ভাবাস মিলেছিল আগেই। ধারণার বাইরে বলছেন কেন?

গওহার নঈম ওয়ারা: সাধারণ মানুষ তো বুঝতে পারেনি। তাদের সেভাবে বোঝানো হয়নি, বলা হয়নি। যারা বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তাদের ধারণার বাইরে ছিল না হয়তো। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে যে বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছায়নি সেটা এখন পরিষ্কার। কী পরিমাণ পানি এলে সিলেট শহরের কোন কোন জায়গা প্লাবিত হবে, এটি সাধারণ মানুষের বোঝার কথা নয়। তারা বুঝতেও পারেনি।

জাগো নিউজ: প্রকৃতির ওপর কী আসলে অনুমান যায়?

গওহার নঈম ওয়ারা: বৃষ্টি হচ্ছে, কী পরিমাণ বৃষ্টি হতে পারে, তারও অনুমান করে বার্তা মিলছে। উজানের চেরাপুঞ্জি থেকে সিলেটে পানি নেমে আসতে কতক্ষণ সময় লাগবে এসব তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি তো আমরা ব্যবহার করেই আবহাওয়ার খবর দিচ্ছি। এই তথ্যগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে যদি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যেত, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতো।

আমি আরেকটু সহজ করে বিষয়টি বলতে চাই। গত ডিসেম্বর ও মার্চের শুরুতে বাংলাদেশে বৃষ্টি হলো। এই বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হলো ফসলের। কাঁটাতারের ওপারে পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রায় একই ধরনের আবহাওয়ায় দু’অঞ্চলের মানুষ বাস করি। আমাদের ফসলও প্রায় একই। ওই বৃষ্টিতে কিন্তু তাদের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তারা এই অসময়ের ভারি বৃষ্টির কথা একেবারে গ্রামে গ্রামে গিয়ে পঞ্চায়েত পর্যন্ত পৌঁছিয়েছিল। মাইকিং করেছিল। কৃষক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পেল। আর আমাদের কৃষকের কাটা ধান মাঠে থেকে ভিজে নষ্ট হলো। ওরা আলু বা অন্য ফসল বৃষ্টির পরে বপন করলো। আমাদের কৃষক তথ্য না জানার কারণে বৃষ্টির আগেই বপন করে ক্ষতির সম্মুখীন হলেন।

আমাদের আবহাওয়ার বার্তা এতই কেন্দ্রীভূত যে, আগারগাঁওয়ের বাইরে সাধারণ মানুষের কাছে আর পৌঁছায় না। অথচ, আবহাওয়ার বার্তা আরও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সর্বত্র পৌঁছানোর কথা। আমাদের দেশ ছোট্ট। কিন্তু এখানে কৃষিব্যবস্থার বৈচিত্র্য আছে। একেক অঞ্চলে একেক ফসল জন্মে।

জাগো নিউজ: এই প্রশ্নেই আপনার পরামর্শ জানতে চাই?

গওহার নঈম ওয়ারা: আমাদের মানসিকতার সমস্যা। একই মানুষ পশ্চিমবঙ্গে পারলে আমরা পারছি না কেন। সিস্টেম তো একই হওয়ার কথা।

পশ্চিমবঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে, জবাবদিহির বিষয় আছে। সেখানে অফিসে গিয়ে মানুষ প্রশ্ন করতে পারেন, জানতে পারেন। আপনি বাংলাদেশে কোনো নির্বাহী অফিসারকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা রাখেন না। এক সাংবাদিক এক ইউএনওকে ভাই বলে সম্বোধন করেছিলেন। এই অপরাধে সাংবাদিককে থাপ্পড় মেরে দুটি দাঁত ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এদেশে। আমলা স্বৈরতন্ত্র তো আপনার অধিকার প্রতিমুহূর্তে ক্ষুণ্ন করছে।

আমি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে কাজ করেছি। সেখানে আমলাদের সঙ্গে কাজ করেছি। সুনামির পর একবার দেখলাম, এক আইসিএস অফিসারের বদলির সময় গ্রামের মানুষ শুয়ে পড়েছে। তাকে যেতে দেবে না। আমাদের এখানে এই চিত্র দেখতে পাবেন না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের যে আইন করা হয়েছে সেখানে দায়মুক্তির বিষয়ও রাখা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা অন্যয় করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ আদালতে মামলা করতে পারবেন না। এটি আমাদের দেশের আইন। দুর্যোগ আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কর্মকর্তাকে অপমান বা অপমান করার চেষ্টা করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির কারাদণ্ড হতে পারে! এটাই এখানকার আইন। এই আইন মাথায় রেখে কে তাকে প্রশ্ন করবে? আর ওই কর্মকর্তা উত্তরই বা দেবে কেন?

আপনাকে আরেকটি উদাহরণ দেই। মে মাসে সিলেটে বন্যা হলো। তখন অনেকগুলো সাবস্টেশন বন্ধ হয়ে গেলো পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলো অনেক জায়গা। এরপর তো প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ছিল। বর্ষায় আরও খারাপ অবস্থা হতে পারে। ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও বন্যা হচ্ছে।

উচিত ছিল এরমধ্যেই সাবস্টেশনগুলো ঘিরে দেয়াল তুলে দেওয়া বা মাটির বাঁধ দেওয়া। এই বন্যার মধ্যেও পৌরমেয়র সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কুমারগাঁও সাবস্টেশন নিরাপদ করলেন। তার মানে চাইলেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

সিলেটের মতো একটি শহর নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। একে একে হাসপাতাল, এয়ারপোর্ট, রেলস্টেশন বন্ধ হয়ে গেলো। পানিতেই এই অবস্থা। তাহলে ভূমিকম্পে কী হাল দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সিলেট শহর।

শহর নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন একজন মেয়র। কিন্তু মেয়রকে কি আমরা সেই ক্ষমতা দিয়েছি? মেয়রের ডাকে তো মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষই আসবেন না। যে দেশে বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা যত ভালো, সেই দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তত ভালো। এ কারণেই উন্নত দেশগুলোয় স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে।

জাগো নিউজ: স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আছেই। কিন্তু সবাই তো কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী। এটি তো প্রতিষ্ঠিত কাঠামো। বিকেন্দ্রীকরণ হলেই সমাধান?

গওহার নঈম ওয়ারা: সমাধান হবেই এমন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু আমাদের তো চেষ্টা করতে হবে। রাজনৈতিক গণতন্ত্র ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এর সমাধান করতে হবে।

বিভিন্ন সংস্থা থেকে নৌকা নামানো হয়েছে। এই নৌকাগুলো তো বন্যার জন্য উপযোগী না। বিশেষ ধরনের নৌকা দরকার। বিশেষ নৌযান কেনার কথা ছিল ১৯৯১ সালের বন্যার পর। কেনা হয়নি। এখন আবারও কেনার কথা হচ্ছে। কেনায় সিদ্ধহস্ত। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণে নজর নেই। বহু যন্ত্র কেনা হয়। কিছুদিন পরেই বিকল হয়ে যায়। যত্নের দরকার পড়ে।

সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে ঢাকা থেকে যন্ত্রপাতি নেওয়া হয়েছে। ততক্ষণে সব শেষ। সেখানে ইন্ডাস্ট্রি, বন্দর রয়েছে। বাড়তি ব্যবস্থা থাকতে হবে সেখানে। সব কেন ঢাকায় থাকতে হবে?

আজ ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবী) পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের প্রস্তুতিতেই আত্মতুষ্টি। বাস্তবায়নে নেই। আমাদের এলাকায় এক ছেলে এসএসসি পরীক্ষায় ফার্স্ট ডিভিশন পেয়ে এমন খুশি হলো যে পরে এইচএসসিই পাস করতে পারলো না। উচ্ছ্বাস হোক। সমস্যা নেই। কিন্তু সিলেটের প্রশাসনের কাছে জবাব চাওয়া তো যায়, কেন তারা সাবস্টেশনগুলো রক্ষার আগাম পদক্ষেপ নিলো না।

জাগো নিউজ: হাওরের উন্নয়ন বিশেষ করে অল-ওয়েদার সড়ক নিয়ে তো ইতিবাচক গল্পও আছে। এখন এই উন্নয়নকে বিষফোঁড়া বলছেন অনেকেই। এই বন্যা কেন্দ্র করেই এমন সমালোচনা, নাকি প্রাণ-প্রকৃতির সামগ্রিক বিবেচনা থেকে?

গওহার নঈম ওয়ারা: আমরা ধারণার ভিত্তিতে কথা বলতে অভ্যস্ত। কোনো স্ট্যাডি নেই। হাওরে সড়ক নির্মাণের সময় বলা হলো উত্তর-দক্ষিণে করা হয়েছে আর পানি যায় পূর্ব-পশ্চিমে। পানিপ্রবাহে কোনো সমস্যা হবে না। ল্যাবরেটরির মধ্যে বসে কথা বলা আর মাঠে গিয়ে দেখার মধ্যে অনেক ফারাক। হাওরের মধ্যে ২৯ কিলোমিটার রাস্তা বানিয়ে পানি যাওয়ার জায়গা রাখা হলো ৮শ মিটার।

প্রধানমন্ত্রী এখন বলছেন, হাওরের মধ্যে এমন রাস্তা আর বানানো হবে না। পরিকল্পনামন্ত্রীও বারবার একই কথা বলছেন। এখন উড়ালসেতুর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আগের পরিকল্পনা কে করলো, কেন করলো, তার উত্তর মিলবে?

আপনি হাওরের অষ্টগ্রামে গিয়ে দেখেন। হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে আর চাষাবাদ হচ্ছে না। সমস্ত জমিতে বালু পড়ে যাচ্ছে। বালুমিশ্রিত পানি আটকে গিয়ে জমি ভরাট হচ্ছে। ফসল ফলছে না। কৃষক আজ দিশেহারা। আমাদের কৃষক তো আর ইন্ডিয়ার কৃষক না। ইন্ডিয়ার কৃষক দিল্লি দখল করতে পারে। আমাদের কৃষক তার ফসলের জন্য প্রশ্নও করতে পারে না। আমাদের কৃষক তো জমির মালিকানাও না। মালিকরা তো থাকেন ঢাকায়। তারা আগাম নগদ টাকা নিয়ে নেন কৃষকের কাছ থেকে। কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করে। ফসল নষ্ট হলে তার যায়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে সেটা পায় জমির মালিক। কৃষক পায় না। প্রান্তিক কৃষক সব সুযোগ থেকেই বঞ্চিত। যমুনা সেতু যখন নির্মাণ করা হয় তখন বলা হয়েছিল, উত্তরবঙ্গের ঘরে ঘরে উন্নয়নের জোয়ার বইবে। মানুষ শস্যের দাম পাবে। এখন লালমনিরহাট থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত আসতে একটি ট্রাক মালিককে যে পরিমাণ চাঁদা দিতে হয়, তাতে দুই বছরে আরেকটি ট্রাক কেনা সম্ভব। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে কীভাবে?

জাগো নিউজ: প্রান্তিক কৃষকের জন্য কী উপায় বলবেন?

গওহার নঈম ওয়ারা: সব জায়গায় ব্লক সুপারভাইজর বা সহকারী কৃষি অফিসার আছেন। তারা জানেন কোন জমি কোন শর্তে কে আবাদ করেন। ক্ষতিপূরণ প্রদানে তাকে যুক্ত করতে পারলে সঠিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তার কাছে ক্ষতিপূরণ বা প্রণোদনা পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু এভাবে কেউ চিন্তা করবে না।

জাগো নিউজ: এই উন্নয়ন সংস্কৃতি কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

গওহার নঈম ওয়ারা: হাওর ব্যবস্থাপনায় সার্বিকভাবে ভাবতে হবে। হাওরের প্রাণ-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়েও উন্নয়ন করা সম্ভব। মিঠামইনে একটা সড়ক করলে সুনামগঞ্জে তার প্রভাব কী পড়বে তা বিবেচনায় আনতে হবে। বিজ্ঞানীদের কথা, বিশেষজ্ঞদের কথা শুনতে হবে। তাদের কথা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তর্কের মধ্য থেকে যেটি কম ক্ষতিকর সেটি গ্রহণ করতে হবে। এই তর্ক তো হয় না। এই তর্ক তোলা জরুরি। নদী, পাহাড়, হাওরের আলাদা আলাদা ধারা আছে। এই ধারাকে ধারণ করেই ভাবতে হবে।

হাওর চলে গেলে আমাদের অনেককিছুই হারাতে হবে। মেঘনা নদীর পানি সরবরাহ হয় হাওর থেকে। হাওর ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেঘনা নদীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব নিয়ে গবেষণা চলামান রাখতে হবে।


আরও খবর



এইচএসসি পাসে বসুন্ধরা গ্রুপে চাকরির সুযোগ

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
Image

শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপে ‘সেফটি অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বসুন্ধরা গ্রুপ
বিভাগের নাম: বিসিআইএল

পদের নাম: সেফটি অফিসার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক/এইচএসসি
অভিজ্ঞতা: ০৩ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: পুরুষ
বয়স: ২৫ বছর
কর্মস্থল: চট্টগ্রাম (মীরসরাই)

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৮ জুন ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



বাটারের পর দাম বাড়লো চিজেরও

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

বাটার ও চিজ পণ্য দুটি সমজাতীয়। আগে বাটার আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বিদ্যমান থাকলেও চিজ আমদানিতে তা আরোপিত ছিল না। এ কারণে বাটারের মতো চিজের আমদানিতেও ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ পণ্যটির দাম বাড়বে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

জাতীয় সংসদে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার এই বাজেট উপস্থাপন করেন তিনি।

করোনাভাইরাসের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়।

অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। আর অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস আজ

প্রকাশিত:Tuesday ০৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৮৪জন দেখেছেন
Image

আজ ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।

এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপসহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি।

প্রতিবছরের মত এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মঙ্গলবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এছাড়াও সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে। এদিন বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে বক্তব্য রাখবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয় দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ছয় দফা উত্থাপন করেন। এ নিয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ছয় দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে অনুমোদন করিয়ে নেন।

ছয় দফার মূল বক্তব্য ছিল, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দপ্তর স্থাপন। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ছয় দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় উত্তর দেওয়া হবে।

এদিকে, ছয় দফা কর্মসূচি জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ছয় দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। ফলে শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ অন্যান্য কয়েকটি স্থানে ছয় দফার পক্ষে প্রচারকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন।

ছয় দফা দাবি আদায় প্রসঙ্গে ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কর্মীরা যথেষ্ট নির্যাতন ভোগ করেছে। ছয় দফা দাবি যখন তারা দেশের কাছে পেশ করেছে তখনই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে যে তাদের দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হবে। এটা ক্ষমতা দখলের সংগ্রাম নয়, জনগণকে শোষণের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য সংগ্রাম।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস আছে আওয়ামী লীগের ও ছাত্রলীগের নিঃস্বার্থ কর্মীরা, তাদের সাথে আছে। কিছু সংখ্যক শ্রমিক নেতা-যারা সত্যই শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করে-তারাও নিশ্চয়ই সক্রিয় সমর্থন দেবে। এত গ্রেফতার করেও এদের দমাইয়া দিতে পারে নাই।’

পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ছয় দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে।

অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাকিস্তানের শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারো বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং সেই সময়ের ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ একটি নিবন্ধে লিখেছেন, ‘ছয় দফা’কে প্রতিহত করার জন্য পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বহু ষড়যন্ত্র করেছে। বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়েছে। তারপরও যখন‘ছয় দফা’ আন্দোলন রোধ করা যাচ্ছিল না, তখন বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে চিরতরে তার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’ তথা আগরতলা মামলা দেন। সেদিন‘ছয় দফা’ দাবি আদায় এবং বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত করতে আমরা ছাত্ররা ’৬৯-এর জানুয়ারির ৪ তারিখে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ছয়-দফাকে এগারো দফায় অন্তর্ভুক্ত করে গ্রামে-গঞ্জে-শহরে-বন্দরে-কলে-কারখানায় ছড়িয়ে দিয়েছিলাম।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক বলেন, ছয় দফাই এনে দিয়েছে আমাদের তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূর দৃষ্টি, অন্তঃদৃষ্টি ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এতই প্রখর ছিল যে, তিনি ছয় দফাকে এক দফার দাবিতে পরিণত করে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের ডাক দেন।


আরও খবর