Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

গরম ভাতে লাউশাক ভর্তা

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ১২৯জন দেখেছেন
Image

লাউ শাক খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। লাউয়ের স্বাস্থ্যগুণ অনেক। ঠিক একইভাবে এর শাকেও আছে প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টিগুণ। লাউ পাতারি ভাজি বা তরকারি কেমবেশি সবাই খেয়ে থাকেন।

তবে স্বাদ পাল্টাতে এবার না হয় তৈরি করুন লাউপাতার ভর্তা। গরম ভাতের সঙ্গে দারুন মানিয়ে যায় এই ভর্তা। একবার খেলে মুখে লেগে থাকবে এর স্বাদ। জেনে নিন রেসিপি-

উপকরণ

১. লাউপাতা ৪-৫টি
২. শুকনো মরিচ ২-৩টি
৩. কাঁচা মরিচ ২টি
৪. পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ
৫. রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ
৬. সরিষার তেল পরিমাণমতো ও
৭. লবণ স্বাদ অনুযায়ী।

গরম ভাতে লাউশাক ভর্তা

পদ্ধতি

প্রথমে লাউপাতাগুলো ভাঁপ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। তারপর প্যানে সরিষার তেল গরম করে শুকনো ও কাঁচা মরিচ ভেজে নিন। একই তেলে পেঁয়াজ ও রসুন কুচিও ভেজে নিন।

এবার একটি পাত্রে ভেজে নেওয়া কাঁচা মরিচ, সরিষার তেল, পেঁয়াজ ও রসুন কুচি একসঙ্গে চটকে নিন। স্বাদ অনুযায়ী দিন লবণ।

তারপর সেদ্ধ লাউপাতাগুলো ভালো করে চটকে নিন। তারপর পেঁয়াজ-মরিচের ভর্তার সঙ্গে মেখে নিন চটকে নেওয়া লাউপাতা। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল লাউপাতার ভর্তা। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন এই ভর্তা।


আরও খবর



বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ১৯জন দেখেছেন
Image

কয়েকদিনের বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার (১ আগস্ট) বিকেলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হতে থাকে।

এর আগে রোববার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। এক সময় সোমবার সকালে পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছিল। সোমবার বিকেল তিনটায় নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ছয়টা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২টার পর থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। বিকেল তিনটায় পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তাবেষ্টিত নিম্নাঞ্চলে ফের নতুন করে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। বাইশ পুকুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, এর আগে দুই দফায় এলাকায় পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সোমবার সকাল থেকে আবারও এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার চরের মানুষের মধ্যে আবারও ভয়ভীতি দেখা দিয়েছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা নদীবেষ্টিত কিছু এলাকায় আবারও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষদের আমরা সতর্ক থাকতে বলেছি। পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পেলে নিচু এলাকায় যারা বসবাস করেন তাদের সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ দৌলা বলেন, সকাল থেকে তিস্তার নদীর পানি বাড়তে বাড়তে দুপুর থেকে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শুরু করে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের সবকয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এক মাসেরও বেশি সময় পর ফের তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ ২৯ জুন তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল।


আরও খবর



গুলশানে প্লট বরাদ্দ: জামিন হলেও মুক্তি মিলছে না কুতুবের

প্রকাশিত:Monday ১৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

ভুয়া আমমোক্তারের মাধ্যমে শ্বশুর ও আত্মীয়-স্বজনদের নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। এ মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। সবশেষ কুতুব উদ্দিনকে হাইকোর্ট জামিন দিলেও মুক্তি দিতে পারবে না জেল কর্তৃপক্ষ।

ফলে আপাতত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। কারণ আপিল আবেদনটি শুনানি ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগার থেকে মুক্তি না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বারজজ আদালত।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের আবেদন শুনানি নিয়ে সোমবার (১৮ জুলাই) আপিল বিভাগের বিচারপতি কৃষ্ণাদেব নাথের চেম্বারজজ আদালত এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ দুদকের পক্ষে শুনানি করেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

এর আগে গত ১৪ জুলাই তার জামিন মঞ্জুর করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে সেই জামিন বাতিলের বিষয়ে আপিল করে দুদক। ওই আবেদনের ওপর আজ শুনানি শেষ না করে এই আদেশ দেন।

এর আগে ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গুলশানে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দের মামলায় কুতুব উদ্দিনকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। ওইদিন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের একক বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কুতুব উদ্দিন আহমেদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এরপর গত ১৫ মার্চ নিম্ন আদালতে সাজার বিরুদ্ধে কুতুবের আপিল শুনানির জন্য নেন হাইকোর্ট।

২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল কুতুব উদ্দিনকে গ্রেফতার করে দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলমের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এর আগে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন মির্জা জাহিদুল আলম।

কুতুব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া আমমোক্তারনামার মাধ্যমে গুলশানে ১০ কাঠার একটি প্লট তার শ্বশুরসহ কয়েকজনের নামে বরাদ্দ করেন। শ্বশুর ও স্বজনদের নামে গুলশান অভিজাত এলাকায় সরকারি ১০ কাঠা জমি ক্রয় দেখিয়ে নিজেই বসবাস করেন।

ওই মামলায় কুতুবের সঙ্গে নাজমুল ইসলাম সাঈদকেও আসামি করা হয়। একই বছরের ১২ এপ্রিল কুতুবকে বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে ভূমি মন্ত্রণালয়।


আরও খবর



আসর থেকে যুবলীগ সভাপতিসহ ১৫ জুয়াড়ি আটক

প্রকাশিত:Thursday ২৮ July ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ০৭ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

পাবনার আটঘরিয়ায় জুয়ার আসর থেকে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আজিজুল গাফ্ফারসহ ১৫ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবোত্তর বাজারের একটি মার্কেটের পেছন থেকে তাদের আটক করা হয়।

পাবনা পুলিশ সুপার (এসপি) মহিবুল ইসলাম খাঁন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসর থেকে যুবলীগ সভাপতিসহ ১৫ জুয়াড়ি আটক

আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বরুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আজিজুল গাফ্ফার (৪৭), দেবোত্তর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মিজান আলী (২৭), মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে আবু সাঈদ (৩৭), নাগদহ গ্রামের হারুনুর রশিদ মন্ডলের ছেলে বাবুল আক্তার (৪০), মৃত ধলু সেখের ছেলে রফিক উদ্দিন (৪০), চক ধলেশ্বর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে ফারক হোসেন (৩৪), মৃত শুকুর আলীর ছেলে আব্দুল মালেক (৩০), বিশ্রামপুর গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে আব্দুল হালিম (৫২), সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে হিরা হোসেন (৩৫) ও শাহাপুর জাশাদল গ্রামের মৃত মজুর আলীর ছেলে রাজা হোসেন (৩৫), মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে সেলিম হোসেন (৩৮), রোস্তম প্রামাণিকের ছেলে লিটন হোসেন (৩৫), কন্দপপুর গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে সজল হোসেন (২৮), মৃত খালেকের ছেলে উকিল আলী (৪০) ও পলাশ প্রামাণিকের ছেলে সাগর প্রামাণিক (২০)।

আসর থেকে যুবলীগ সভাপতিসহ ১৫ জুয়াড়ি আটক

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবোত্তর বাজারে একটি মার্কেটের পেছনে অভিযান চালান হয়। এ সময় জুয়া খেলা অবস্থায় হাতেনাতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজিজুল গাফ্ফারসহ ১৫ জন জুয়াড়িকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে নগদ ৩৪ হাজার ৭৬০ টাকা এবং পাঁচ সেট তাস জব্দ করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আটঘরিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর



মুখ থুবড়ে পড়ছে প্রথম রুট, আরও ৩ রুটে চালুর চিন্তা

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ২৫জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ নামে বাস চালু করেছিল বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র সাত মাসের মাথায় মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে এই সেবা। রুটটিতে এরই মধ্যে বাসের সংখ্যা ৫০ থেকে কমে নেমেছে ত্রিশে। এতে যাত্রীসেবার বদলে বেড়েছে দুর্ভোগ।

যাত্রীদের অভিযোগ, এই রুটে ক্রমান্বয়ে বাসের সংখ্যা বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন উল্টো বাস কমছে। আগে যে বাসগুলো এই রুটে চলাচল করতো, সেগুলোর রুট পারমিটও বাতিল করা হয়েছে। ফলে যাত্রীর তুলনায় কমেছে বাসের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে বাসের জন্য কাউন্টারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে বেশি ভাড়া দিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটের এই অবস্থার মধ্যেই আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন আরও তিনটি রুটে (২২, ২৩ ও ২৬ নম্বর) ঢাকা নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। এতে এই কমিটির কার্যক্রম বা কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটের মতো এই তিনটি রুট মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকার পরিবহন মালিকরা।

কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে রাজধানী হয়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর রুটের দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই পথে ৫০টি বাস নিয়ে চালু হয় ঢাকা নগর পরিবহন। এর মধ্যে ৩০টি দ্বিতল বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও ২০টি বাস দিয়েছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্সসিলভা। তখন বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, এই রুটে পর্যায়ক্রমে ১০০টি বাস নামবে। ২০২৩ সালের মধ্যে পুরো ঢাকায় এই সেবা চালু হবে।

ঘাটারচর থেকে বছিলা, মোহাম্মদপুর, শংকর, ঝিগাতলা, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, মতিঝিল, হাটখোলা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড, সানারপাড় হয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত চলে নগর পরিবহন। সম্প্রতি এই এলাকাগুলো ঘুরে ঢাকা নগর পরিবহনের বাস তেমন একটা চোখে পড়েনি। অনেকক্ষণ পরপর বিআরটিসির দ্বিতল এক-দুটি বাস যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। অফিসের সময় ছাড়া দিনের অন্যান্য সময় প্রায় অর্ধেক আসনই থাকছে ফাঁকা। আর কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের চাপও কম। ট্রান্সসিলভার যে ২০টি বাস এই রুটে চলার কথা, সেগুলো দেখা যায়নি।

ধানমন্ডির ঝিগাতলা থেকে হাটখোলা নিয়মিত যাতায়াত করেন বেসরকারি চাকরিজীবী তাজুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সকালে নগর পরিবহনের বাসে তিনি অফিসে যান। আলাপকালে বলেন, আগে এই রুটে রজনীগন্ধা, সিটি লিংকের কয়েকশ (১৬১টি) বাস যাত্রী পরিবহন করতো। ঢাকা নগর পরিবহন চালু হওয়ার পর ওই বাসগুলোর রুট পারমিট বাতিল করা হয়। তখন নগর পরিবহনের বাসে যাত্রী বাড়ে। বাসগুলো নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে যাত্রী নেওয়ায় কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু এখন রুটে বাস কমে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অফিস সময়ে ঠিকমতো বাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অন্য পরিবহনের কোনো বাস এই রুটে চলাচল করতেও দেওয়া হচ্ছে না।

সাত মাসের মাথায় ঢাকা নগর পরিবহনের দুরবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাহতাব উদ্দিন নামে এক যাত্রী। তিনি বলেন, এই বাসগুলো চালুর পর এই রুটে শৃঙ্খলা এসেছিল। কাউকে বাসে দৌড়-ঝাঁপ করে উঠতে হতো না। কোনো বাসের সঙ্গে চালকের প্রতিযোগিতা ছিল না। যাত্রা অনেকটা নিরাপদ ছিল। এখন বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির তদারকির অভাবে এমন বিশৃঙ্খলা ঘটেছে।

অন্যদিকে বাস সংকটের কারণে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এই পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

কাঁচপুর যাত্রী ছাউনিতে দায়িত্বরত টিকিট বিক্রেতা জামান হোসেন বলেন, গত জুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বেসরকারি পরিবহনের বাসগুলো যাত্রী পরিবহন করেছিল। কিন্তু এরপর লোকসানের অজুহাতে ক্রমান্বয়ে তারা বাস সরিয়ে নেয়। অথচ এই রুটে প্রচুর যাত্রী রয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা নগর পরিবহন যে গতিতে কাজ শুরু করেছিল, এখন বাস সংকটে তা অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। ঠিকমতো যাত্রীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কাউন্টারে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাস না পেয়ে চলে যাচ্ছেন যাত্রীরা। এই সুযোগে অন্যান্য বাস এই রুটের যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে।

একই রকম কথা বলেন বিআরটিসির চালক আমান উল্লাহ। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বাস না থাকায় প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। অথচ ঢাকা নগর পরিবহন চালু হওয়ার পর তা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৫ সালে বাস রুট রেশনালাইজেশন বা রুটভিত্তিক কোম্পানির অধীনে বাস সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক

তখন তিনি বলেছিলেন, ঢাকার পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাসগুলো সরিয়ে চার হাজার নতুন বাস নামানো হবে। একটি রুট একটি কোম্পানির অধীনে চালানো হলে বাসে বাসে প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে, শৃঙ্খলা ফিরবে।

অথচ অব্যবস্থাপনায় প্রথম চালু হওয়া রুটটিই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে বাস চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার জাগো নিউজকে বলেন, বিআরটিসির বিদ্যমান বাসগুলো দিয়েই এই রুটে যাত্রী চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। তারপরও এর সঙ্গে নতুন আরও কিছু বাস যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

কিন্তু আগের ২০টি বাস রুট ছেড়ে কেন চলে গেছে, তার কোনো উত্তর দেননি তিনি।

তবে ডিটিসিএ’র ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম শনিবার (২৩ জুলাই) জাগো নিউজকে বলেন, ট্রান্সসিলভার সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি ছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা বাসাগুলো উঠিয়ে নেয়। এখন নতুন করে আবার ট্রান্সসিলভার বাস ওই রুটে যুক্ত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে ১৫টি বাস যাত্রী পরিবহন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে গত ২১ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে বাস কমে যাওয়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকা নগর পরিবহন ঢাকাবাসীর কাছে সমাদৃত হয়েছে। একটি দুটি বাস কমলো বা বাড়লো-সেটা কিন্তু সাফল্যের নির্ণায়ক নয়। সফলতার বিষয় হচ্ছে- এই পথটি এখনো চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রান্সসিলভা তাদের বাসগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তারা নতুন আরও ২০টি বাস চালুর আবেদন করেছিল। কিন্তু আমরা তাদের নতুন করে আর অনুমোদন দেবো না। জাহান এন্টারপ্রাইজ ২০টি বাস চালুর আবেদন করেছিল এবং সেগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেই বাসগুলো এই পথে আমরা চালু করবো।

মুখ থুবড়ে পড়ছে প্রথম রুট, আরও ৩ রুটে চালুর চিন্তা

নগর পরিবহনে যাত্রীদের সাড়াও ছিল ভালো, ফাইল ছবি

নতুন তিন রুটে বাস চালুর পরিকল্পনা
ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটের সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব পাশ কাটিয়ে নতুন আরও তিনটি রুটে ঢাকা নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই তিনটি রুটে (২২, ২৩ ও ২৬ নম্বর) ২০০টি নতুন বাস চালুর প্রস্তুতি চলছে।

এর মধ্যে ২২ নম্বর রুট যাবে ঘাটারচর থেকে ওয়াশপুর-বসিলা-মোহাম্মদপুর টাউন হল-আসাদ গেট-ফার্মগেট-কাওরানবাজার-শাহবাগ-কাকরাইল-ফকিরাপুল-মতিঝিল-টিকাটুলি-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-কোনাপাড়া হয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত।

২৩ নম্বর রুটে ঘাটারচর থেকে ওয়াশপুর-বসিলা-মোহাম্মদপুর-জাপান গার্ডেন সিটি-শ্যামলী-কলেজ গেট-আসাদ গেট-কলাবাগান-সায়েন্স ল্যাব-শাহবাগ-মৎস্য ভবন-প্রেস ক্লাব-গুলিস্তান (জিরো পয়েন্ট)-দৈনিক বাংলা-রাজারবাগ-কমলাপুর-ধলপুর-যাত্রাবাড়ী-শনির আখড়া-রায়েরবাগ-মাতুয়াইল-সাইনবোর্ড হয়ে চিটাগং রোড যাওয়া যাবে।

এছাড়া ২৬ নম্বর রুটে ঘাটারচর থেকে ওয়াশপুর-বসিলা-মোহাম্মদপুর-টাউন হল-আসাদ গেট-কলাবাগান-সায়েন্স ল্যাব-নিউমার্কেট-আজিমপুর-পলাশী- চাঁনখারপুল-ফ্লাইওভার হয়ে পোস্তগোলা ও কদমতলী বাস চলাচল করবে।

মুখ থুবড়ে পড়ছে প্রথম রুট, আরও ৩ রুটে চালুর চিন্তা

নগর পরিবহনের বহরে ছিল বিআরটিসি, ফাইল ছবি

ডিটিসিএ সূত্র জানায়, গত ২১ জুন দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভায় এই রুটগুলোতে ঢাকা নগর পরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে এই তিনটি পথে ঢাকা নগর পরিবহন চালু করার জন্য বাস চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তিনটি রুটেই আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২২ নম্বর যাত্রাপথে অভি মোটরস ২০২২ সালে নির্মিত ৫০টি বাস চালুর প্রস্তাব করেছে। একইভাবে ২৩ নম্বর যাত্রাপথে হানিফ এন্টারপ্রাইজ ২০২২ সালে নতুন নির্মিত ১০০টি বাস চালুর আবেদন করেছে। ২৬ নম্বর যাত্রাপথে ৫০টি ডাবল ডেকার বাস চালুর আবেদন করেছে বিআরটিসি। এখন আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে।

তবে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির এই উদ্যোগ সফল হবে না বলে মনে করছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একাধিক নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেন, যে তিনটি রুটে ঢাকা নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এখন সেই রুটে বিভিন্ন কোম্পানির হাজারো বাস যাত্রী পরিবহন করে। ঢাকা নগর পরিবহন চালু হলে এই বাসগুলোর রুট পারমিট বাতিল করার কথা বলা হচ্ছে। এমনটা হলে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার।


আরও খবর



ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে ডাকাতি, ইউপি সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশিত:Monday ০১ August ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৭জন দেখেছেন
Image

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে ডাকাতির ঘটনায় শহীদ মিয়া নামের এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১ আগস্ট) দুপুরে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার শহীদ মিয়া উপজেলার আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩১ জুলাই) বিকেলে নিকলী হাওর এলাকা ভ্রমণ করে ট্রলারে করে ফিরছিলেন স্থানীয় ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। পথে ভৈরবের মেঘনা নদীর লুন্দিয়া এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতদের কবলে পড়েন তারা। ডাকাতরা তাদের ১৪টি মোবাইল ও প্রায় ৭০ হাজার টাকা লুটে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীরা ভৈরব নৌপুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। রাতেই ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রলার উপজেলার জাফরনগর এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে শহীদ মিয়াকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে দেখে চিহ্নিত করেন এবং তিনিও ডাকাতির বিষয়টি স্বীকারে করে তার সঙ্গীয় চারজনের নাম পুলিশের কাছে প্রকাশ করেন। তারা হলেন মিজান, লিটন, মামুন ও গরু তাহের। এ চারজনসহ আরও তিনজন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভৈরব নৌ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতা মাকসুদ হাসান মুন্না বলেন, রোববার আমরা ১০-১২ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী নিকলী হাওর এলাকায় একটি ট্রলারে করে ভ্রমণে যাই। ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মেঘনা নদীতে ডাকাতের কবলে পড়ি। ডাকাতরা ১৪টি মোবাইল ও প্রায় ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তাদের লাঠির আঘাতে দুজন আহত হন। পরে বিষয়টি নৌপুলিশকে জানাই।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার শহীদ মিয়াকে আমরা চিনতে পেরেছি। তিনি ডাকাতির সময় আমাদের মারধর করেন।

ভৈরব নৌ থানার ইনচার্জ মো. সাইদুর রহমান জানান, গ্রেফতার শহীদ ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর