Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

‘ঘরে পোয়াতি বউ, ওর জায়গায় আমারে নিলা না কেন’

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩৫১জন দেখেছেন
Image

‘ওরে আল্লাহ রে...আমি কি করবো। তুমি আমার কী পরীক্ষা করতিছাও। তুমি আমার সন্তানরে ফিরায়ে দাও। সে খুব আদরের। আমি কারে নিয়ে বাঁচবো। ওর ঘরে যে পোয়াতি বউ রয়েছে। প্রথম বাপ হবে আমার ইব্রাহিম। সন্তানের মুখ দেখতে পেল না আল্লাহ রে...। আমি কি করবো। ওর জায়গায় তুমি আমারে নিতে পারলে না কেন!’

এভাবেই বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত ইব্রাহীম হোসেনের মা দুলাপি বেগম। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন বাবা অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষক আবুল কাশেম।

ইব্রাহীমের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামে। সোমবার ভোরে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামে পৌঁছালে কান্নার রোল ওঠে।

ভোরের নীরবতা ভেঙে স্বজনদের আহাজারি ছড়িয়ে পড়ে বাড়ি থেকে পাড়ায়, পাড়া থেকে গ্রামে। বিদায়বেলায় ছুঁয়ে দেখতে পারেননি স্বজনরা। কেন না সুঠামদেহী ইব্রাহিমের মরদেহ দগ্ধ। তাই দাফনের আগ পর্যন্ত ফ্রিজিং গাড়িতেই রাখা হয় মরদেহটি। গাড়ির সাদা গ্লাসের ওপরে হাত বুলিয়েই শেষবিদায় জানানো হয় তাকে।

সকাল ১০টায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ইব্রাহীমের মৃত্যুর খবরে গত দুই দিন ধরে প্রতিবেশী ও আশেপাশের কয়েক গ্রামের লোকজন তাদের বাড়িতে ভিড় করেন। জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে স্ত্রী মুন্নি খাতুন যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। ভাই-বোনসহ অন্য স্বজনদের ক্ষণে ক্ষণে গগণবিদারী আহাজারিতে চারপাশ ভারি হয়ে উঠেছে। বাড়ির ভেতরের বারান্দায় প্রতিবেশী নারীরা নিহত ইব্রাহীমের নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মুন্নী খাতুনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

death1

মুন্নী খাতুন বলেন, ‘আমার এ জীবন রেখে কী লাভ। আমার পাখি চলে গেছে। ও আল্লাহ আমারেও নিয়ে যাও। আমার পাখিরে রেখে কীভাবে বাঁচবো। আমাদের সন্তানরে নিয়ে ওর কত স্বপ্ন ছিল। এখন কি হবে?’

পাশেই বসা মুন্নীর বড়বোন রেহেনা খাতুন বলেন, ‘মুন্নী নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ২৮ জুলাই সন্তান ভূমিষ্ঠের সম্ভাব্য দিন। শনিবার রাত ৯টায় মুন্নীসহ তার মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় ইব্রাহিমের। কোরবানির ঈদে বাড়ি এসে সন্তানের মুখ দেখতে চেয়েছিল। একই সঙ্গে সন্তান ও মুন্নীরে চট্টগ্রামে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। ছেলে হলে মাদরাসায় পড়াতে চেয়েছিল, হাফেজ বানাতে চেয়েছিল। আমার বোন-জামাইয়ের সেই আশা আর পূরণ হলো না।’

ইব্রাহিমের খালাতো ভাই নাজমুল হোসেন বলেন, শনিবার (৪ জুন) রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে ইব্রাহিম আগুনে দগ্ধ হয়। তার আগে সে বাড়িতে মা, বাবা ও স্ত্রীসহ অন্য স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে। বিস্ফোরণে তার মাথার পেছনে ও পেটে আঘাত ও আগুন লাগে। মুখ, টি-শার্ট ও মোবাইল ফোন দেখে তাকে শনাক্ত করি। উদ্ধারের সময় তার ফোনটি সচল ছিল।’

আরেক খালাতো ভাই শিমুল হোসেন বলেন, ‘শনিবার রাতে অনেকের মতো ইব্রাহিমও অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও ফেসবুকে লাইভ করছিল। কিছু সময় পর হঠাৎ ডিপোর কনটেইনারগুলোতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পাওয়া যায়। দেড় বছর আগে নিজ গ্রামেই বিয়ে করে সে। তার এমন মৃত্যুতে তার অনাগত এই সন্তানের কী হবে সেটাই ভাবছি আমরা। আল্লাহ যেন আর কারও এমন মৃত্যু না দেয়।’


আরও খবর



ইংলিশদের বিপক্ষে টেস্ট শুরুর আগেই ধাক্কা, করোনা আক্রান্ত রোহিত

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট শুরুর ঠিক আগেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় দল। আবারও দলটিতে হানা দিলো করোনাভাইরাস। এবার আক্রান্ত খোদ দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। যে কারণে তিনি রয়েছেন আইসোলেশনে।

শনিবার রোহিত শর্মার করোনা পরীক্ষা করা হয়। ফল এসেছে পজিটিভ। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে রোববার সকালে টুইট করে এই খবর জানানো হয়েছে।

ভারত এবং লেস্টারশায়ারের মধ্যে যে প্রস্তুতি ম্যাচ চলছে, তার তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ভারতীয় বোর্ড টুইট করে রোহিতের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায়।

বিসিসিআই লিখেছে, ‘শনিবার একটি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার পরে টিম ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেন মিস্টার রোহিত শর্মার কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। তিনি এই মুহূর্তে টিম হোটেলে আইসোলেশনে রয়েছেন এবং বিসিসিআই মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।’

রোহিত প্রস্তুতি ম্যাচে খেললেও শনিবার ব্যাট করতে নামেননি। অথচ ভারতের সাত উইকেট পড়ে গিয়েছিল। যে কারণে জ্বল্পনা শুরু হয়, কোনো সমস্যা হয়েছে কি না। প্রথম ইনিংসে ২৫ রান করেছিলেন তিনি। রোমান ওয়াকারের বলে আউট হন। দ্বিতীয় দিন ফিল্ডিংও করতে নেমেছিলেন।

১ জুলাই এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট শুরু হবে। তার আগে রোহিত সুস্থ হতে পারবেন কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন।

কিছুদিন আগে ভারতীয় দল ইংল্যান্ড সফর করার ঠিক আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তবে তিনি পুরো সুস্থ হয়ে সম্প্রতি ভারতীয় শিবিরে যোগ দেন। তবে ইংল্যান্ড গিয়েও করোনা পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় দলের।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে কোভিড আক্রান্ত হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। সেই সিরিজে চারটি টেস্ট হওয়ার পরে পঞ্চম টেস্ট বাতিল হয়ে যায়। ওই টেস্ট ম্যাচটিই এবার এজবাস্টনে হওয়ার কথা।

ভারতের ফিজিও যোগেশ পারমারের করোনা ধরা পড়ায় তখন সেই টেস্ট আপাতত বাতিল করা হয়। ক্রিকেটাররা সঙ্গে সঙ্গেই ইংল্যান্ড ছেড়ে দুবাইয়ে আইপিএল খেলতে চলে আসেন।

উল্লেখ্য, তার আগেই ভারতীয় দলের প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী, ফিল্ডিং কোচ আর শ্রীধর এবং বোলিং কোচ ভরত অরুণের করোনা ধরা পড়ায় তাদের নিভৃতবাসে থাকতে হয়েছিল। এই সিরিজে ভারত এগিয়ে রয়েছে ২-১ ব্যবধানে।


আরও খবর



মুম্বাইয়ে সাদ উদ্দিনের পায়ে সফল অস্ত্রোপচার

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সফরে যাওয়ার আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যে কয়জন ইনজুরিতে পড়েছিলেন, তাদের অন্যতম সাদ উদ্দিন। তিনি ইনজুরিতে ক্যাম্প থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন ২৩ মে।

বসুন্ধরা কিংস এরেনায় অনুশীলনের সময় ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাকে যেতে হয়েছিল ছুরির নিচে। শুক্রবার মুম্বাইয়ের সিটিকেয়ার এশিয়া হাসপাতালে ডাক্তার নন্দকুমারের অধীনে সাদের মেনিস্কাস অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার মুম্বাই থেকে সাদ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘ভালোভাবেই আমার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। আমি মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরছি। এসে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হতে হবে।’

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সফরে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে যেতে পারেননি কোচ। গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, সাদ উদ্দিন, সুমন রেজা, মাসুক মিয়া জনি, তারেক কাজী ও মতিন মিয়ারা চোট পাওয়ায় এবার তাদের বাদ দিয়ে দল নিয়ে যেতে হয়েছে কোচকে।


আরও খবর



এ সপ্তাহেই ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:Monday ১৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৯৫জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন। এসময় তিনি দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে সামনে রেখে মোমেনের এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সোমবার (১৩ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে। দুই বছর পর এ বৈঠক হতে যাচ্ছে। এতে দুই দেশের মধ্যে কানেকটিভিটি, নদীর পানি বণ্টন, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা অংশীদারত্বসহ বেশ কিছু ইস্যুতে আলোচনা হবে।

গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুয়াহাটিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেন। সে সময় তিনি রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ব্যাপারে ভারতের পরামর্শ চেয়েছিলেন। কারণ বাংলাদেশও জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়।

বাণিজ্য ও সংযোগের পাশাপাশি জেসিসি বৈঠকে নিরাপত্তা, উন্নয়ন সহযোগিতা, কনস্যুলার ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে আলোচনা করা হবে। পর্যটন ও চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া-আসা করা বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে ট্রেন পরিষেবা ও ফ্লাইট বাড়ানোর উপায় নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকা সফর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


আরও খবর



যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক মুদ্রা সুরক্ষায় বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কিছু পণ্যের ওপর যোগ হয়েছে শুল্ক ও কর। ফলে সেসব পণ্যের দাম বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনায় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম, বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল লক্ষ্য সক্ষমতার উন্নয়ন। বৈশ্বিক ঝুঁকি কাটিয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে জনজীবনে স্বস্তি ফেরানো অন্যতম উদ্দেশ্য। আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

আমদানিকরা বিলাসী পণ্য যেমন-বডি স্প্রে, প্রসাধনী পণ্য, জুস, প্যাকেটজাত খাদ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপ হতে পারে। যদিও ইতোমধ্যে গত ২৩ মে এক প্রজ্ঞাপনে বিদেশি ফল, বিদেশি ফুল, ফার্নিচার ও কসমেটিকসজাতীয় প্রায় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে ওই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে এবার বৃদ্ধি পাচ্ছে তামাকজাত পণ্যের মূল্য। স্ল্যাব অনুসারে শুল্ক আরোপ হয়েছে।

দেশীয় পণ্য সুরক্ষায় শুল্ক আরোপে আমদানি করা স্মার্ট মোবাইল ফোনের দাম আরেক দফায় বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সুবিধা পাবে দেশীয় কোম্পানিগুলো।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত/তাপানুকুল সার্ভিসের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির রেলওয়ে সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব করায় রেল ভ্রমণে লাগবে বাড়তি খরচ।

নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উড়োজাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে সোলার প্যানেল আমদানিতে শূন্য শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। দেশীয় সোলার সেক্টরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি করা সোলার প্যানেলের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাড়ছে বিদেশ থেকে আমদানি করা কফির দামও।

মূল্যবৃদ্ধি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ি। ৪০০০ সিসির ওপর বিলাসবহুল রিকন্ডিশন গাড়িতে সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও আগাম কর এবং ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৮০০ শতাংশে করহার প্রস্তাব করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়।

অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



অন্তত ৬ মাস জ্বালানির মূল্য না বাড়ানোর প্রস্তাব সিপিডির

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

প্রস্তাবিত বাজেটে নেওয়া কৌশল ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে বলে মনে করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। মূল্যস্ফীতি কমানো, ডলার মার্কেটে ভারসাম্য আনা ও ভর্তুকি বিষয়ে বাজেটে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবকে যথাযথ নয় জানিয়ে সংগঠনটি বলছে অর্থমন্ত্রী অসুখের লক্ষণ ধরতে পারলেও এর ওষুধ সম্পর্কে ধারণা নেই তার। এছাড়াও অন্তত ৬ মাস জ্বালানির মূল্য না বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সিপিডি।

বাজেট ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (১০ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা করেন সিপিডির গবেষকরা। এসময় তারা এই প্রস্তাব করেন।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অর্থমন্ত্রী অসুখের লক্ষণ ধরতে পেরেছেন, কিন্তু যে ওষুধ দরকার- তা তার কাছে পর্যাপ্ত নেই বা ওষুধ জানা নেই অথবা যে মাত্রায় ওষুধের ডোজ দেওয়া দরাকার সে মাত্রায় প্রয়োগ হয়নি। যেসব চ্যালেঞ্জের কথা বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন সেটির সাপেক্ষে যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার, আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা অপ্রতুল বা অপর্যাপ্ত দেখতে পেয়েছি।

তার মতে, এখন এমন একটি সময় যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে মূল্যস্ফীতি জনিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা আমরা জানি এটি বাহির থেকে আগত। মূল্যস্ফীতি জনিত অভিঘাতগুলো আসছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর, সে বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া উচিত ছিল।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব করা হয়েছিল তার মধ্যে ছিল করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানো। দরিদ্র নয় কিন্তু সীমিত আয়ের মানুষদের কিছুটা আয়ের সাশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। দ্বিতীয় একটা দিক ছিল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানো। দুর্ভাগ্যবশত বাড়ানোতো হয়নি, অনেকক্ষেত্রে বাজেটে বরাদ্দ কমানোর ঘোষণা রয়েছে। এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ওষুধের ডোজের ক্ষেত্রে এখানে বড় সমস্যা রয়েছে।

এই গবেষক আরও বলেন, সাবসিডির (ভর্তুকি) ক্ষেত্রে যেসব ব্যবস্থাপনা করা হবে অর্থমন্ত্রী সেখানে ঠিক ডোজই নিয়েছেন, সেখানে সাবসিডি বাড়িয়েছেন। সঙ্গে এটাও বলছেন পুরো সাবসিডি দিয়েওে তিনি বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতের মূল্য সমন্বয় না করে থাকতে পারবেন না। তার মানে হচ্ছে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি ও তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা জোরালোভাবে বলতে চাই, এখন যে পরিস্থিতি তাতে জ্বালানির মূল্য বাড়লে ভোক্তার প্রকৃত আয়কে আরও কমিয়ে দেওয়ার প্রকৃত সময় নয়। যদি জ্বালানি সাশ্রয় গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখে, জ্বালানি তেলের উঠানামার বাজেট দেখে অন্তত ছয় মাস পরে এই ধরনের মূল্য সংক্রান্ত বিষয়টি যেন অর্থমন্ত্রী বিবেচনা করেন। তার আগে যেন বিষয়টি (দাম বৃদ্ধি) না হয়।

কোভিডের কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে ক্ষতি হলেও বাজেটে এর বরাদ্দ কমেছে। বলা হয়েছে, ডলারের মার্কেটে ভারসাম্য আনা হবে কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যে ওষুধ সাজেস্ট করা হয়েছে এটা একটি ভুল ওষুধ। বাইরে পাচার হওয়া টাকা করের মাধ্যমে দেশে আনার সুযোগ দেওয়া হলে তা ইতিবাচক হবে না। এটা যারা সৎ করদাতা ও কর ব্যবস্থায় যারা বিশ্বাস করেন তাদের প্রতি স্রেফ চপেটাঘাত বলেও মন্তব্য করেন গোলাম মোয়াজ্জেম।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান চড়া মূল্যের বাজরে অর্থমন্ত্রী মূল্যস্ফীতি পাঁচ দশমিক ৬ শতাংশে রাখার যে প্রাক্কলন করেছেন তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল নেই। সরকারি হিসাবেই এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছয় দশমিক ২৯ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বাড়ছে। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে।

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কীভাবে কমে যাবে সে বিষয় নিয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হিসাব কীভাবে এলো, এটা কীভাবে কমবে তা বলা হয়নি।

বাজেটে বিত্তশালীদের জয় হয়েছে জানিয়ে সিপিডি সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আসলে সম্পদশালী, বড় উদ্যোক্তা, টাকা পয়সা বাইরে পাচার করেছেন তাদের জয়টাই বেশি দেখা যাচ্ছে। সেই অর্থে গরীব মানুষের জন্য বর্ধিত হারে সুযোগ সুবিধা আসেনি। সবচেয়ে বড় উপেক্ষিত জনগোষ্ঠী হলো মধ্যবিত্ত। কর ছাড়ের বিষয়টা সেখানে আসেনি। তিনি কোভিড সুরক্ষাসামগ্রী ও প্রযুক্তি পণ্যের ওপর বাড়তি কর প্রয়োগের সমালোচনা করেন।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার ধরে নিয়েছে কোভিড চলে গেছে। কোভিড চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর তাড়াহুড়ো করে কর আরোপের দরকার ছিল না। আরেকটা ওয়েভ আসলে সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবে।


আরও খবর