Logo
আজঃ শনিবার ২৫ মে ২০২৪
শিরোনাম

গাইবান্ধায় চরাঞ্চলে বাদাম চাষ করে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৮ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ৩৩১জন দেখেছেন

Image
সিরাজুল ইসলাম রতন গাইবান্ধা সংবাদদাতা:-বর্ষার প্রমত্ত্বা ব্রম্মপুত্র তিস্তা যমুনার আগ্রাসী হয়ে যেমন গিলে খায় বসতি, তেমনই শুকনো মৌসুমে ফিরিয়ে দিচ্ছে কিষাণ-কিষাণীর স্বপ্ন।ব্রম্মপুত্রের ভাঙাগড়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা মানুষগুলো চরাঞ্চলে চিনা বাদাম চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
দিগন্তব্যাপী বাদামের সবুজপাতা হলুদ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে কৃষকরা। কেউ কেউ আগাম বাদাম তুলে রোদে শুকাচ্ছেন। চাষাবাদ সহজ, বিপণনে ঝামেলাহীন ও তুলনামূলকভাবে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা কাঁচা বাদামের নাম দিয়েছেন ‘গুপ্তধন’। 

গাইবান্ধা জেলা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বেষ্টিত ২৮ টি ইউনিয়নে ১৬৫টি চরে বন্যা পরবর্তী বালুময় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর চীনা বাদামের চাষ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।চীনা বাদাম রোপনের পর অন্য ফসলের মতো সেচ, পরিচর্যার ও রাসায়নিক সারের খুব বেশি প্রয়োজন না হওয়ায় চীনা বাদাম চাষে ঝুঁকছে চাষীরা। ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদেও চরাঞ্চল নদের বুক জুড়ে অসংখ্য ছোট বড় চর।আর এসব বালুচরে মাইলের পর মাইল বাদামের জমি। সাদা বালুর জমিতে সবুজ আর সবুজ ছেয়ে গেছে লতানো বাদামের গাছে। 

প্রতিটি লতানো বাদাম গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই উঠে আসছে থোকা সোনালি রঙের বাদাম। এ যেন বালুর নিচে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধন।উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কালাসোনা,কাবিলপুর, রতনপুর, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সাতারকান্দি,রসুলপুর, হাড়ভাঙ্গা, ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী, চন্দনস্বর, কাউয়াবাঁধা, চিকিরপটল, তালতলা, এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী,হরিচন্ডি, বুলবুল চর, ফুলছড়ি ইউনিয়নের খোলাবাড়ী, বাজে ফুলছড়ি,টেংরাকান্দি, দেলুয়াবাড়ী,গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা , গলনাসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চরের জমিতে এবার ব্যাপকভাবে বাদামের চাষ করা হয়েছে। বাদাম পরিচর্যায় খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে।

এসব চরে বাসন্তী, সিংগা সাইস্টোর, বারী চিনাবাদাম-৫, বারী চিনাবাদাম-৬ সহ স্থানীয় জাতের বাদামের আবাদই বেশি করা হয়েছে। কৃষাণি ও কিশোর-কিশোরীরা গাছ থেকে বাদাম ছাড়িয়ে স্তুপ করে রাখছেন। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা জমি থেকে বাদাম হাটে নিয়ে বিক্রি করছেন। বাদাম চাষ করে চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার কৃষক পরিবারে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।
ফলে অনেকটাই দুর হয়েছে চরাঞ্চলের কৃষকদের নিত্য অভাব অনটন। তাদের মলিন মুখে ফুটেছে হাসি। চরের বালুতে প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে বাদাম উৎপাদন হয় ২০-২৪ মণ।

প্রতিমণ কাঁচা বাদামের বাজার মূল্য ২৪০০ থেকে ২৬০০ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের বিঘা প্রতি লাভ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।চলতি মৌসুমে বাদামের ফলন অনেকটা ভালো ও বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় জেলার কৃষকরা উৎফুল্ল।বাদাম গাছ প্রায় পরিপক্ক হওয়ায়  চর এলাকায়  বালির নিচে হাত বাড়ালেই উঠে আসছে মুঠো মুঠো গুপ্তধন। প্রতিটি বাদাম গাছের মুঠি (উপরের অংশ) ধরে টান দিলেও উঠে আসছে থোকা থোকা সোনালী রঙের চিনা বাদাম তথা বালির নিচে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধন।

সুলতানপুর গ্রামের বাদাম চাষী আউয়াল জানান কৃষি অফিস থেকে বীজ নিয়ে বাদম চাষ করেছি।আশানুরূপ ফলন পাবো বলে আশা করছি।একই গ্রামের বাদাম চাষী ছামছুল বলেন ২০ শতক জমিতে বাদাম চাষ করেছি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তা নিয়েছি আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।দাম ও আশানুরূপ পাওয়া যাবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমা বেগম বলেন এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে।কৃষক ন্যায্য মুল্য পাবে।পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা কায়সার মিশু বলেন এ উপজেলায় মোট ৮ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে।

গাইবান্ধা  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন চলতি মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় ৭ টি উপজেলার ২০০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ২০৭০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ও খরিপ মৌসুমে ২৫০ হেক্টর জমিতে চিনা বাদাম চাষের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা চলমান রয়েছে।

আরও খবর



পোরশায় ৫ মাদক সেবী আটক

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ৪৯জন দেখেছেন

Image
ডিএম রাশেদ পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:নওগাঁর পোরশায় ৯০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাল ট্যাবলেট ও ৪ লিটার বাংলা চোলাই মদসহ ৫ মাদক সেবনকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃতরা হলেন, পোরশা হাড়িপাড়া গ্রামের মুগোলের ছেলে তাপস প্রামানিক (২৯), দিঘিপাড়া গ্রামের মৃত গোলাফ্ফরের ছেলে মুসা শাহ্(৩০), পোরশা সদরের আহম্মেদ আলীর ছেলে আবু মুসা (৩৫), মহাদেবপুর উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের মৃত নারায়ন চন্দ্রের ছেলে সাধন চন্দ্র (৩০) ও নিতপুর বড়বাগান এলাকার নাসিরুলের ছেলে রাশিদুল ইসলাম(৩২)।জানা গেছে,  গত শুক্রবার দিবাগত রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ বিজিবি'র নিতপুর বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার আব্দুল কুদ্দুস এর নেতৃত্বে একটি টহল দল বিওপি হতে আনুমানিক ৪ কিলোমিটার পূর্ব দক্ষিণ কোনে এবং সীমান্ত মেইন পিলার ২২৯ থেকে ৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সোহাতি মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে ৪ জন ও গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার শীতলী এলাকা হতে  অপর এক মাদক সেবনকারীকে আটক করেন।নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবি'র নিতপুর ক্যাম্পের সুবেদার মনসেদ আলী জানান, এ ব্যাপারে পোরশা থানায় মামলা হয়েছে এবং আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও খবর



কুমিল্লায় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ৮৯জন দেখেছেন

Image

এস এম শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট:পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের কুমিল্লা  অঞ্চলের মেয়াদ উত্তীর্ণ গ্রাহকদের বীমাদাবীর  চেক হস্তান্তর ও বার্ষিক সম্মেলন  অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গতকাল সকালে কুমিল্লায় পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের নিজস্ব ভবনের হল রুমে এ  বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের আল বারাকা ইসলামী একক বীমা প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমাদাবীর চেক হস্তান্তর ও বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শওকত আলী। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের একক বীমা প্রকল্পের  উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সুলতান মাহমুদ জুয়েল, ইসলামী বীমা তাকাফুল  প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক সাজ্জাদ মাহমুদ কিশোর, ইসলামী ডিপিএস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সোলায়মান হোসেন সোহাগ।

এ সময়ে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী বীমা তাকাফুল প্রকল্পের  মহাব্যবস্থাপক ও জেলা সমন্বয়কারী আহসানুল ইসলাম  সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃন্দ। 

সম্মেলন শেষে  বীমা দাবীর চেক গ্রাহকদের হাতে হস্তান্তর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক  বি এম শওকত আলী। 


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ৯৭জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:বৃহস্পতিবার (৯ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা। সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ‘ভারত সফর সূচি চূড়ান্ত করতে’ দুই দিনের সফরে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা। একটি বিশেষ ফ্লাইটে কোয়াত্রা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) এ টি এম রোকেবুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা তাকে স্বাগত জানান।

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ মোমেনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

আগামী জুলাই মাসে শেখ হাসিনা ভারত সফরে যেতে পারেন বলে সূত্রে জানা গেছে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর এটাই হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম ভারত সফর।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলো প্রধান্য পাবে বলে সূত্রে জানা গেছে।


আরও খবর



তানোরে তামান্না হিমাগারে রাখা আলুতে গাছ মজুদ ভারতীয় আলু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০২ মে 2০২4 | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ১০৬জন দেখেছেন

Image
আব্দুস সবুর তানোর থেকে:রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার কালিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত তামান্না হিমাগারে রাখা কৃষকের আলুতে গাছ গজিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেই সাথে ভারত থেকে আমদানি করা আলু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মজুদ করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে হিমাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আমদানি করা আলু রাতের আধারে ঢুকানো ও বাহির করার কারনে গ্যাস সংকট। মুলত একারনেই আলুতে গাছ বের হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন কৃষকরা । এতে করে অধিক টাকা খরচে কৃষকের রক্ত ঘামের আলু নষ্ট হওয়ায় মাথায় পড়েছে হাত। ফলে হিমাগার কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকান্ডের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ শতশত কৃষকরা। যার কারনে কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছেন কৃষকরা।

কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরের পরে সরেজমিনে হিমাগারে গিয়ে দেখা যায়, আলু রাখা সেটে বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে আলু রাখা একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, আলুতে ট্যাক বা গাছ গজানো দেখতে হলে সকালের দিকে আসতে হত। আলু সেটে ঢালার পর প্রায় আলুতেই এক ইঞ্চি থেকে দেড় ইঞ্চি করে গাছ গজিয়েছে। প্রায় আলুর গাছ পরিস্কার করা হয়েছে। এজন্য এখন কম দেখা যাচ্ছে। গাছ গজানো আলু বিক্রি করা কষ্টকর এবং বাজার দামও কম হবে। কি কারনে গাজ গজিয়েছে জানতে চাইলে তারা জানান ভারত থেকে আমদানি করা আলু হিমাগারে রাখছে আবার সেই আলু বাহির করছে। যার কারনে ঠিকমত গ্যাস দিতে পারেনি। মুলত একারনেই আলুতে গাছ গজিয়েছে। এটার জন্য দায় হিমাগার কর্তৃপক্ষ।  তারা আমদানি করা আলুতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে  অধিক লাভের কারনে সাধারণ কৃষকের আলুর এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন । তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির আলু রাখা এক কৃষক সেখানেই ছিলেন, তিনি বলেন হিমাগার কর্তৃপক্ষই আলু নিয়ে মহা সিন্ডিকেট করে থাকেন প্রতিনিয়তই। আলু বিক্রি করার জন্য সকালের দিকে  সেটে ফেলার পর প্রতিটি আলুতে গাছ গজিয়ে পড়েছে। দেখে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে পড়েছে। আলু ভালো থাকার জন্য হিমাগারে রাখা হয় অথচ ভালো থাকার পরিবর্তে গাছ গজাচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর ও গত সপ্তাহের দিকে ভারত থেকে আমদানি করা আলু হিমাগারে রাখার কারনে গ্যাস সংকট, সে কারনেই আলুতে গাছ গজিয়েছে। তিনি আরো জানান, তামান্নাতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বস্তা ভারতীয় আলু রাখা আছে এবং বায়ার হিমালয় ও রাজেও রাখা আছে ভারতীয় আলু। 
আলু রাখা সেট থেকে যাওয়া হয় ম্যানেজারের চেম্বারে। সেখানে ম্যানেজার আব্দুল মান্নান ও  তার পাশে আরেকজন বসে ছিলেন। ম্যানেজার আব্দুল মান্নানের কাছে হিমাগারে রাখা আলুতে গাছ গজানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এসব বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নাই।  ভারত থেকে আমদানি করা আলু আপনার হিমাগারে মজুদ আছে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তার পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারের বিষয়ে কিছু জানতে হলে তামান্নার হেড অফিসে চলে যেতে হবে।

সেখান থেকে বের হয়ে সেটে আসলে কালিগঞ্জ এলাকার এক কৃষক জানান সকালের দিকে শুনতে পেয়েছি হিমাগারে রাখা আলুতে গাছ গজিয়েছে, আলু বিক্রি করব। কিন্তু গাছ গজালেতো দাম কম হবে। হিমাগার গুলো মহা সিন্ডিকেট শুরু করেছে। এহিমাগারে নাকি ভারত থেকে আমদানি করা আলু মজুদ আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ট্রাকের ট্রাক ভারতীয় আলু মজুদ রাখা আছে। তিনি আরেক বেপারিকে ডেকে বলেন ভারতীয় আলু কত বস্তা হতে পারে তিনি জানান নিম্মে হলেও ১০ হাজার বস্তা ভারতীয় আলু রাখা আছে। স্থানীয় ওই কৃষক আরো জানান, আমাদের  গ্রামের শ্রমিকরাই ভারতীয় আলু বাছাই করেছে।

তানোর পৌর এলাকার এক কৃষক মোবাইলে জানান, আলু বিক্রি করার জন্য সকালের দিকে তামান্না হিমাগারে যায়। গিয়ে দেখি যে সব আলু বের করে সেটে ঢেলেছে প্রায় আলুতে গাছ গজিয়েছে। গাছ গজানো আলু বাজার দর থেকে কম।  আমি বীজের আলুও রেখেছি, সে সবেও গাছ গজিয়েছে।

বেশকিছু প্রান্তিক আলু চাষীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে সব আলু গাছ গজিয়েছে ওই সব আলু সেটে ঢালার পর বাছাই করে বিক্রি করতে হবে। এজন্য গুনতে হবে বাড়তি টাকা।  
হিমাগারে ভাড়া লুজ, প্রতি বস্তা ৩২৫ টাকা,  কন্ট্রাক বুকিং প্রতি বস্তা ২৫০-৬০ টাকা, পেট বুকিং ২৩০-৪০ টাকা, লেবার খরচ প্লাটল বাবদ প্রতি বস্তা ২৫ টাকা, সেট খরচ প্রতি বস্তায়  ৩০ টাকা, লোড প্রতি বস্তায়  ৬ টাকা, ওজন প্রতি বস্তায় ৫ টাকা,কৃষক কে ঋন দিলে হিমাগার ২৮% সুদ নেয়, বাজার দর থেকে বাকিতে কৃষকের কাছ বস্তা প্রতি ৩০ টাকা বাড়তি নেয়।

এছাড়াও যে সব কৃষকরা একজনের নামে বুকিং কেটে ১০ জন মিলে হিমাগারে ৫ হাজার বস্তা আলু রাখলে মজুদদার হিসেবে হিমাগার কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে তাদের তালিকা দিয়েছে । অথচ যারা ফড়িয়া ব্যবসায়ী হাজার হাজার বস্তা আলু মজুদ করে রেখেছে তাদের তালিকা দেয়নি হিমাগার কর্তৃপক্ষ। 

সুত্র জানায়, আলুর বাজার লাগামহীন হওয়ার কারনে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভারত থেকে আলু আমদানি করেছেন সরকার । কিন্তু তামান্না হিমাগারের ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার অস্থির করার কারনে ভারতীয় আলু মজুদ করেছে বলে মনে করছেন প্রান্তিক আলু চাষীরা। 

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, আমরা তামান্না হিমাগার কে একাধিক বার সতর্ক করেছি। কিন্তু আমাদের তো অভিযান দেয়ার ক্ষমতা নেই। বিষয় টি নিয়ে নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে কৃষি বিভাগের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও খবর



তানোরে পোস্ট অফিস থেকে টাকা আত্মসাত ফেরত পেতে গ্রাহকের আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২৫ মে ২০২৪ | ৩৯জন দেখেছেন

Image

আব্দুস সবুর তানোর থেকে:রাজশাহীর তানোরে ডিজিটাল  পোস্ট অফিসে জমানো টাকা ফেরত পেতে অফিসের ভিতরেই গলায় ফাঁস দিয়ে  স্বামী পরিত্যক্তা পারুল নামের এক মহিলা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মালেক। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পোস্ট মাষ্টার থানায় মোবাইল করলে পুলিশ এসে  নিয়ন্ত্রণ করেন। এর আগেও অফিসের ভিতরে গাছের সাথে দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে ওই দিনও পুলিশ এসে পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণ করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে কুঠিপাড়া গ্রামে অবস্থিত ডিজিটাল  পোস্ট অফিসে ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি। এখবর ছড়িয়ে পড়লে পাশ্ববর্তী আরো কয়েকজন গ্রাহক এসে অফিস ঘেরাও করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে গ্রাহকদের নিয়ে বিভাগীয় ডাক অফিসে রওনা দেন ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মালেক। প্রতি নিয়তই গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পেতে অফিসে ভীড় করছেন। কিন্তু টাকা না পেয়ে আত্মহনন সহ নানা ধরনের গালমন্দ করছেন অসহায় গ্রাহকরা । ফলে পোস্ট অফিসের মত নিরাপদ জায়গায় টাকা রেখেও লোপাটের ঘটনায় চরমভাবে মর্মাহত অসহায় গ্রাহকরা। এমনকি টাকা ফেরতে পাবে কিনা এনিয়েও সন্দিহান গ্রাহকরা। 

এদিকে স্বামী পরিত্যক্তা পারুলের আর্তনাদে পুরো গ্রামবাসী অফিসে ভীড় করেন। পারুলের বাড়ি তানোর পৌর এলাকার গোকুল গ্রামে। সে ইসরাফিলের মেয়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্ট অফিসের ভিতরে দেয়ালের সাথে দাড়িয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে পারুল আর্তনাদ করছেন। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন পুলিশ প্রশাসনের লোকজন। পারুলের একই কথা আমার জমানো টাকা ফেরত চাই তানাহলে অফিস থেকে আমার লাশ বের হবে। পুলিশ পারুলের নাম ঠিকানা লিখছেন আর বলছেন মারা গেলে টাকার কি হবে। আপনি বেঁচে থাকলে কোন না কোন ব্যবস্থা হবেই।  আপনার ছোট বাচ্চা আছে আত্মহনন করবেন কেন। আপনি মারা গেলে বাচ্চার কি হবে। এসব কথা বলেও পারুলকে শান্ত করতে পারছিল না প্রশাসনের লোকজন। প্রায় ঘন্টা ধরে চলে এমন ঘটনা।  পরে এক প্রকার বাধ্য হয়ে পারুলসহ আরো কয়েকজন গ্রাহককে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মালেক বিভাগীয়  অফিসে রওনা দেন।

তার আগে অফিসের ভিতরে পারুল বলেন, বিগত ৫ বছর ধরে ২ লাখ টাকা জমা রেখেছি। আমি একেবারেই অসহায়, সম্বল বলতে এই ২ লাখ টাকা। গত প্রায় ১৫ দিন আগে পোস্ট মাষ্টার আমার টাকা ফেরত দিবেন এমন কথা দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার আমার পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু আমি এসে টাকার কথা বলা মাত্রই পোস্ট মাষ্টার সাব জানিয়ে দেয় যে পোস্ট মাষ্টার টাকা আত্মসাত করেছে তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। মামলার রায় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হল কিনা সেটা আমি কি করে বলব, আমার টাকা ফেরত পেলেই হলো। আমি অসহায় গ্রাহক মামলা মোকদ্দমার কি বুঝি। টাকা জমা রেখেছি মেয়াদ শেষ হয়েছে টাকা ফেরত দিবে ঝামেলা শেষ। গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে আজ না কাল, এমাসে না সামনের মাসে টাকা ফেরত দিবে বলে আমাকে হয়রানি করাচ্ছে। যেখানেই নিয়ে যাক টাকা ফেরত না পেলে আমি অফিসে এসে আত্মহত্যা করব বলে কাঁদতে কাঁদতে পোস্ট মাষ্টারের সাথে বিভাগীয়  অফিসে যান পারুলসহ কয়েকজন। 

ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাষ্টার আব্দুল মালেক জানান, প্রায় পুনে দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেছে আগের পোস্ট মাষ্টার মুকছেদ। সে সাসপেন্ড হয়ে আছেন। দুদকে মামলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয় টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। কতজন গ্রাহকের টাকা আত্মসাত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সঠিক ভাবে বলা যাবেনা। তবে ৬০ থেকে ১০০ জন গ্রাহক হতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আমিসহ সাসপেন্ড হওয়া পোস্ট মাষ্টার মুকছেদের মেয়ে জামাইকে ডেকে টাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা সাব জানিয়ে দিয়েছে মামলায় কি হচ্ছে দেখা যাক। এসব অনেক প্রক্রিয়ার বিষয়,  সময় লাগবে। প্রতিনিয়তই গ্রাহকেরা আসছেন গালমন্দ করছেন, সাথে সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করা হচ্ছে। আমি চাকুরী করি, কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দিবেন, সে মোতাবেক আমাকে কাজ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে গ্রাহকদের বিভাগীয়  অফিসে নিয়ে যাচ্ছি। 

রাজশাহী বিভাগের ডাক অফিসের ডেপুটি পোষ্ট মাস্টার জেনারেল মনিরুজ্জামানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুকছেদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শুরু হবে। সে প্রায় পুনে দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। গ্রাহকেরা টাকা পাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত করে টাকা আত্মসাতের প্রমান পেয়ে তাকে  সাসপেন্ডসহ মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত রায় না দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। তবে দেরি হলেও গ্রাহকেরা টাকা পাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

প্রসঙ্গত, পোস্ট অফিস থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়লে চলতি বছরের  (১৮ মার্চ) সোমবার সকালে রাজশাহী ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম তানোর ডিজিটাল পোস্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে গ্রাহকদের কাগজপত্র দেখা শুরু করেন। এ সময় পোস্ট অফিসে একের পর এক গ্রাহকরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। অফিস থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা শুনে গ্রাহকরা অফিসের মধ্যেই উত্তেজনা শুরু করেন। এ সময় ডেপুটি জেনারেল কর্মকর্তা গ্রাহকদের শান্ত করে তাদের কথা শুনেন এবং আশ্বস্ত করে তাদের কষ্টের অর্জিত টাকা ফিরিয়ে দেবার জোর চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।


আরও খবর