Logo
আজঃ বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম
নিলয় কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষ নিয়ে কী বললেন স্থগিত ১৮ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা তিতাসের অভিযানে নারায়ণগঞ্জের ২ শিল্প কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হিলি দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বাড়ায় বন্দরের পাইকারী বাজারে কেজিতে দাম কমেছে ৩০ টাকা জয়পুরহাটে ডাকাতির পর প্রতুল হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন রিয়েলমি সার্ভিস ডে: ফোন রিপেয়ারে খরচ বাঁচান ৬০% পর্যন্ত, উপভোগ করুন ফ্রি সার্ভিস সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ ২জন গ্রেফতার: কোটিপতি সোর্স ও গডফাদার অধরা কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৩ দিনে ৩ খুন, আইনশৃংখলার অবনতি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফোর্বস এর প্রচ্ছদে রিয়েলমি’র সিইও স্কাই লি: আবারও জিটি সিরিজ আনার ঘোষণা

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | ১৩২জন দেখেছেন

Image

প্রযুক্তি ডেস্ক:ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে এবার জায়গা করে নিয়েছেন জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি’র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও স্কাই লি। দীর্ঘ দুই বছরের বিরতির পর বিশ্ব স্মার্টফোনের বাজারে আবারও জিটি সিরিজ আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের স্মার্টফোনপ্রেমীদের জন্য এ ঘোষণা একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। কেননা এবার এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির উদ্ভাবনকে সঙ্গী করে নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ স্মার্টফোনের বাজারে হাজির হতে প্রস্তুত রিয়েলমি’র জিটি সিরিজ।

 ফোর্বস এর সঙ্গে একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাত্কারে, প্রতিযোগিতামূলক স্মার্টফোনের বাজারে আলোড়ন তোলার ব্যাপারে রিয়েলমি’র সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন স্কাই লি। তিনি তরুণ ব্যবহারকারীদের চাহিদা বোঝার এবং আসন্ন জিটি ৬ সিরিজ গ্রাহকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে ব্র্যান্ডের প্রতিশ্রুতির উপর গুরুত্ব দেন। জিটি সিরিজের ফোন আবারও বাজারে আনতে ব্র্যান্ডের ভক্তদের কাছ থেকে তুমুল দাবির বিষয়টি স্বীকার করে স্কাই লি নিশ্চিত করেন যে, রিয়েলমি তার বিশ্বস্ত গ্রাহকদের হতাশ করতে পারে না।

 স্মার্টফোনের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে এমন সময়ে রিয়েলমি’র এ ফোনটি আনার ঘোষণা এলো যখন গ্রাহকরা বিদ্যমান ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের উদ্ভাবনী বিকল্প খুঁজছেন। জিটি ৬ আনার মাধ্যমে রিয়েলমি’র লক্ষ্য হলো ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের ধারণাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা, যা অতুলনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শনের পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকে এআই এর অভিজ্ঞতাও প্রদান করবে। ফোনটির আগের সিরিজ রিয়েলমি জিটি ৫জি, যা ভারতে “ফ্ল্যাগশিপ কিলার ২০২১” হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিল, তার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে নতুন জিটি সিরিজটি পারফরম্যান্স ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে প্রস্তুত।

 মোবাইল ইন্ডাস্ট্রির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে রিয়েলমি একটি এআই নেতৃত্বাধীন স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে যাত্রা করতে প্রস্তুত। স্কাই লি প্রযুক্তির ক্ষেত্র পুনর্নির্মাণে এআই-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন। ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনগুলোতে অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তিসমূহকে একীভূত করার জন্য রিয়েলমি’র প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন তিনি। ইমেজিং এবং দৈনন্দিন কাজের বিষয়গুলোতে ফোকাস করে, নতুন রিয়েলমি জিটি সিরিজ সহজবোধ্য এআই সল্যুশন দিয়ে তরুণ ভোক্তাদের ক্ষমতায়ন করবে, যা তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও পছন্দ পূরণে সহায়ক হবে।

 তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ স্মার্টফোনের বাজারে রিয়েলমি’র ফিরে আসা এবং এআই উদ্ভাবনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া ব্র্যান্ডের যুগান্তকারী প্রযুক্তি সরবরাহের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে, যা বাংলাদেশ এবং এর বাইরের তরুণ ভোক্তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

-খবর প্রতিদিন/ সি.


আরও খবর



রাণীশংকৈলে ৫২ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ২ লাক্ষ ৫৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | ১০৩জন দেখেছেন

Image
মাহাবুব আলম,রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বুধবার ( ৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা হলরুমে ইউএনও রকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। 

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আহাম্মদ হোসেন বিপ্লব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা স্যামিয়েল মার্ডি, আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি নিকেল বর্মনসহ কমিটির বিভিন্ন সদস্যরা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রাইমারী স্কুলের ২৫ জন ছাত্র ছাত্রী মাঝে প্রত্যেককে ২৫০০ টাকা, হাইস্কুলের ছাত্র ছাত্রী ১৮ জনের মাঝে ৬ হাজার টাকা,  এবং কলেজ লেভেলের ৯ জন ছাত্র ছাত্রী মাঝে ৯ হাজার ৫ শত টাকা করে। মোট ৫২ জন ছাত্র ছাত্রীর মাঝে ২ লাক্ষ ৫৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। 

আরও খবর



চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১৪

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ১৩৯জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।শনিবার ফৌজদারহাটের ফকিরহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের মবিলাইজিং অফিসার (এমও) দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

তিনি জানান, সকাল ৯টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে যায়। খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত একজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে প্রত্যক্ষদশী সূত্রে, শনিবার সকাল ৯টার সময় চট্টগ্রাম থেকে ফেনীমুখী স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে উল্টে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক নিহত ও আহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনা কবলিত বাস উদ্ধার হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।


আরও খবর



মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | ১২১জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:ভারতে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শনিবার (জুন ২২) মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে পৌঁছালে রাজঘাট সমিতি তাকে স্বাগত জানায়।

পরে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। ভারতের এ মহান নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি সমাধিতে ফুলের পাপড়িও ছিটিয়ে দেন। পরে তিনি পরিদর্শন বইয়ে সই করেন।

এর আগে ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার সকালে ফোরকোর্টের রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শেখ হাসিনা সশস্ত্র সালাম গ্রহণ ও গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন।

এরপর হায়দরাবাদ হাউসে যাবেন। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নয়াদিল্লি ত্যাগ করবেন। রাত ৯টায় তিনি ঢাকায় অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার বিকেলে নয়াদিল্লি পৌঁছান।


আরও খবর



যাবজ্জীবন কারাদন্ড আসামী মামুন রৌমারী থেকে গ্রেফতার

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ১২৭জন দেখেছেন

Image

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:ঢাকার আশুলিয়ায় কান্তা বিউটি পার্লারের মালিক মার্জিয়া কান্তাকে (২৬) তার স্বামী কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল কক্ষে গলা টিপে হত্যার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী মামুনকে আটক করেছে রৌমারী থানা পুলিশ। গত ২৬ জুন বুধবার সহকারী পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ও রৌমারী থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ হিল জামান ও মুশাহেদ খান পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রৌমারী থানা, কুড়িগ্রামের নেতৃত্বে রৌমারী থানাধীন ৪ নং রৌমারী ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী রতনপুর এলাকা হইতে এসআই জুয়েল আলী সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সহিত সু-কৌশলে ঝুকিপুর্ন ভাবে নরসিংদী এর বেলাবো থানার এফআইআর নং-৯, ৩১ জানুয়ারী ২০১৯ জিআর নং-৯ ৩১ জানুয়ারী ২০১৯ ধারা-১১ (ক)/৮/৩০-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩, জিআর ৯(১) ১৯, প্রসেস-২১৫/২৪ (কুড়িগ্রাম) সংক্রান্ত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ সাজাপ্রাপ্ত দন্ডিত আসামী রৌমারী সীমান্ত এলাকা রতনপুর গ্রামের শাহিনুর ইসলাম এর পুত্র মামুন মিয়াকে আটক করে কুড়িগ্রাম বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছেন রৌমারী থানা পুলিশ। 

উল্লেখ্য যে, ঢাকার আশুলিয়ায় কান্তার বিউটি পার্লারের মালিক মার্জিয়া কান্তাকে (২৬) তার স্বামী কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল কক্ষে গলা টিপে হত্যা করে। আর পুলিশি ঝামেলা এড়াতে কান্তার লাশ বস্তায় ভরে সাগরে ভাসিয়ে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ।

কান্তা হত্যার প্রায় দুই বছর পর পিবিআইয়ের তদন্তে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্বামী ও তার এক সহযোগী কান্তাকে নিয়ে ওই হোটেলে পর্যটক হিসেবে ওঠার পর কোন এক সময় তাকে হত্যা করে পলিথিনে লাশ মুড়িয়ে খাটের নিচে রেখে দুই খুনি পালিয়ে যায়। এরপর হোটেল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা ঝামেলা এড়াতে রাতের অন্ধকারে কান্তার লাশ বস্তায় ভরে মোটর সাইকেলের পেছনে তুলে নিয়ে সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এভাবে ঘটনাটি আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষের ধামাচাপা দেবার অপচেষ্টা এবং খুনিরা এতদিন ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকলেও পিবিআইয়ের তদন্তে বিস্তারিত বেরিয়ে এসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদী জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ইন্সপেক্টর মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, বেলাবো থানার নরসিংদী জেলার সোহরাব হোসেন রতনের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার কান্তা ঢাকার আশুলিয়ায় বিউটি পার্লারের ব্যবসা করতেন। সেখানে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীর শহিদুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে দুই লাখ টাকার কাবিননামায় তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের কিছুদিন পর মার্জিয়া কান্তা জানতে পারেন তার স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরের আরও এক স্ত্রী রয়েছে। বিষয়টি গোপন করে তাকে বিয়ে করায় সহজে মেনে নিতে পারছিলেন না কান্তা। এ নিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরকে প্রতারক লম্পট হিসেবে তুলে ধরাই কাল হয় কান্তার জীবনে।

এ ঘটনায় কৌশলের আশ্রয় নেন স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগর। ভালবাসার অভিনয় করে ভারতে বেড়াতে নিয়ে যাবার কথা বলে দ্বিতীয় স্ত্রী মার্জিয়া কান্তার মন জয়ের চেষ্টা করে সফলও হন স্বামী সাগর।

এরপর ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে স্বামী-স্ত্রী প্রথমে শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল নূর ইন্টারন্যাশনালে এসে রাত কাটান। সেখানে স্বামী শহিদুলের মামাতো ভাই মামুন এসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। এর পরদিন তারা শরীয়তপুর থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে এসে আবাসিক হোটেল আল-মদিনার বি-১ নং কক্ষে ওঠেন। কোনো এক সময় কান্তাকে গলা টিপে হত্যা করে পলিথিনে লাশ মুড়িয়ে খাটের নিচে রেখে তারা দুজন পালিয়ে যান।

২৩ সেপ্টেম্বর বিকালে ওই হোটেলকক্ষে তালা ঝুলতে দেখে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে মহিপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে কান্তার ব্যবহৃত জামাকাপড় জব্দ করে নিয়ে গেলেও খাটের নিচে লাশ থাকার বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি।

এর দু’দিন পর ওই কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে হোটেল ম্যানেজার আমির এবং হোটেল বয় সাইফুলের নজরে লাশটি এলে তারা হোটেল মালিক দেলোয়ারকে জানান। এরপর দেলোয়ার, তার ছোট ভাই আনোয়ার, ম্যানেজার আমির ও বয় সাইফুল চারজনে মিলে হত্যার আলামত নষ্ট করে লাশ গুমের সিদ্ধান্তনেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত এগারোটার দিকে বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলের পেছনে তুলে দেলোয়ার ও আনোয়ার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে লেম্বুচর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গলা সমান সাগরের পানিতে নেমে লাশ ভাসিয়ে দিয়ে দুইভাই হোটেলে ফিরে আসেন। এরপর তারা এ বিষয়টি নিয়ে আর কোথাও মুখ খোলেনি।

এ ঘটনার প্রায় একবছর পর নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরসহ তার পরিবারের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মার্জিয়া কান্তার বাবা সোহরাব হোসেন রতন বাদী হয়ে গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ হত্যা করে লাশ গুমের মামলা দায়ের করে।

মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে নরসিংদীর বেলাবো থানায় এজাহার হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে। অভিযুক্ত স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরকে গ্রেফতারের পর তদন্তের হালে পানি পায়। এরপর সহযোগী অপর খুনি মামাতো ভাই মামুন পিবিআইর জালে চলতি বছর ১ সেপ্টেম্বর ধরা পড়লে তদন্তে আরও গতি পায়।

মামুনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী তাকে নিয়ে পিবিআই কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল আল-মদিনায় বৃহস্পতিবার অভিযানে গেলে খুব সহজেই হোটেল মালিক দোলোয়ার ও তার ছোট ভাই আনোয়ার এবং হোটেল ম্যানেজার এবং বয় মার্জিয়া কান্তার লাশ গুমের সত্যতা স্বীকার করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর কুয়াকাটা থেকে তাদের চারজনকে নরসিংদী নিয়ে যায় পিবিআই।

মামলার তদন্তের বিস্তারিত অগ্রগতি তুলে ধরে পিবিআই তাদের নরসিংদী কার্যালয়ে শনিবার বিকালে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকান্ড ও লাশ গুমের সত্যতা স্বীকার করেছে বলে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদী পিবিআইর পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করার কথা জানান।

মহিপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হোটেলে অবস্থানকারীরা ভাড়া পরিশোধ না করেই তাদের ব্যবহৃত কিছু জামাকাপড় রেখে পালিয়েছে মর্মে হোটেল আলমদিনার পক্ষ  থেকে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ওইসব ব্যবহৃত জামাকাপড় তখন জব্দ করে থানায় রাখে। পরবর্তীতে খাটের নিচে লাশ পাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে হোটেল মালিক ও কর্মচারীরা আলামত নষ্ট করে লাশ গুম করে।

এ ঘটনার প্রায় একবছর পর নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্বামী শহিদুল ইসলাম সাগরসহ তার পরিবারের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মার্জিয়া কান্তার বাবা সোহরাব হোসেন রতন বাদী হয়ে গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ হত্যা করে লাশ গুমের মামলা দায়ের করে।


আরও খবর



পদ্মা সেতুর নদী শাসনে ব্যয় বাড়ল

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | ১২৪জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনে আরও একদফা বাড়ানো হয়েছে ব্যয়। এ খাতে নতুন করে ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এতে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ৮৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পদ্মা সেতু সংলগ্ন নদী শাসন কাজের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত দরপত্র গ্রহণ করা হয় ২০১৪ সালের ১৯ জুন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নদী শাসন কাজের জন্য চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।

প্রস্তাবটি অনুমোদনের পর সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সঙ্গে ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর ৪৮ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্নের লক্ষ্যে চুক্তিপত্র সই হয়। যার চুক্তিমূল্য ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৬ টাকা। পরে কয়েক দফায় বাড়ানো হয় সময়। এই কাজ তদারকির জন্য কন্সট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট হিসেবে কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস নিয়োজিত আছে।

পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহান চলাচল শুরু হওয়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনের ব্যয় ৮৭৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এখন দ্বিতীয় দফায় পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা বাড়ানো হলো। এতে মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ৮৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।

পদ্মা সেতুর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা হয় বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১৯৯৮-১৯৯৯ সময়ে। ২০০৩-০৫ সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে জাপানের জাইকা। ২০০৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয় বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে। ২০০৯-১১ সময়ে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়। নিউজিল্যান্ডভিত্তিক মনসেল এইকম সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরি করে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর জন্য অর্থায়ন করে এডিবি ও বাংলাদেশ সরকার।

২০১২ সালের জুনে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋণ বাতিল করে। একই বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৪ সালের ১৭ জুন মূল সেতু নির্মাণ কাজের জন্য চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর সেতুর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর কাজ উদ্বোধন করেন।

এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ স্প্যান বসানো হয়। আর ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের দিন ২৬ জুন পদ্মা সেতু দিয়ে যানচলাচল শুরু হয়।


আরও খবর