Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

এশিয়ান গেমসের টিকিট নিয়ে দেশে ফিরেছে হকি দল

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৫১জন দেখেছেন
Image

এক সঙ্গে দুটি মিশন নিয়ে ঢাকা ছেড়েছিল জাতীয় হকি দল। এক. ব্যাংককে এশিয়ান গেমস বাছাই এবং দুই. ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এশিয়া কাপ। এই দুই মিশন শেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরেছেন জিমি-আশরাফুলরা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে হকি দলকে অভ্যার্থনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ।

ব্যাংককে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠেই এশিয়ান গেমসের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। পরে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ বাজেভাবে হেরে যায় ওমানের কাছে। সেখান থেকে সরাসরি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গিয়ে এশিয়া কাপে অংশ নেয় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য ছিল গতবারের ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত করা এবং পঞ্চম স্থানের জন্য লড়াই করা। বাংলাদেশ গ্রুপ ম্যাচে ওমানকে হারানোয় এবং স্থানী নির্ধারণী ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে হারানোয় টিকে থাকে আগের অবস্থানে। তবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান পড়ায় বড় হারে ষষ্ঠ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

এই টুর্নামেন্টে খেলার পর বাংলাদেশের র‍্যাংকিং ২৭ হয়েছে। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন ঘোষিত এই র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ওমানকে টপকে ২৭ হয়েছে। হকিতে এটি একটি ভালো অর্জন।

এশিয়ান গেমস বাছাইয়ে লক্ষ্যপূরণ, এশিয়া কাপে অবস্থান ধরে রাখা এবং র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি মিলিয়ে এই সফরটা ব্যতিক্রম হয়ে থাকলো বাংলাদেশ হকির জন্য।


আরও খবর



ঈদের দিন দেখা যাবে কাজল আরেফিন অমি’র ‘ব্যাচেলর কোরবানি’

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৯৯জন দেখেছেন
Image

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’। কাজল আরিফিন অমি পরিচালিত নাটকটি নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনার শেষ নেই। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম অপেক্ষায় বসে থাকে কবে আসবে এই ধারাবাহিকের নতুন পর্ব।

যদিও নাটকটির ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে অনেক সমালোচনাও দেখা যায়। সবকিছু ছাপিয়ে ভিউয়ের দিক থেকে এই নাটকটি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। নাটকের চরিত্রগুলোও খুব জনপ্রিয়। এসব চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে ব্যাচেলর গল্পে নানা রকম নাটক তৈরি করেন অমি। এগুলো প্রকাশ হয় বিভিন্ন বিশেষ দিনগুলোতে।

আসছে কোরবানির ঈদেও অমি থাকছেন নতুন নাটক নিয়ে। নাম ‘ব্যাচেলরস কোরবানি’। সুখবরটি দিয়েছেন নির্মাতা নিজেই। তিনি জানান, নাটকটি ঈদের দিনই দেখতে পাবেন দর্শক। এটি প্রচার হবে ধ্রুব টিভি ইউটিউব চ্যানেলে।

অমি জানান, এ নাটকে তুলে ধরা হবে ব্যাচেলররা কীভাবে কোরবানির জন্য গরু কিনতে যায়, গরুর হাটে তাদের সঙ্গে কী ঘটনা ঘটে; কাবিলা, পাশা, শুভ কিংবা হাবু ভাইয়েরা কীভাবে ঈদ উদযাপন করে এ সমস্ত কিছু।

গত ঈদুল ফিতরে অমি নির্মাণ করেছিলেন একক নাটক ‘ব্যাচেলরস রমজান’। সেখানে দেখানো হয়েছিল রমজানে ব্যাচেলরদের নানা কর্মকাণ্ড। নাটকটি প্রচারের পর দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল দেখার জন্য। ভিউয়ের দিক থেকে নতুন এক রেকর্ডও গড়ে নাটকটি। মাত্র ৬ দিনেই ১ কোটি ভিউ হয়েছিল। যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে বিরল রেকর্ড।

ঈদের বিশেষ এই নাটকেও অভিনয় করছেন মারজুক রাসেল, জিয়াউল হক পলাশ, মিশু সাব্বির, চাষী আলম ও শিমুল শর্মা প্রমুখ।


আরও খবর



পাহাড়ধসের আতংকে মিরসরাইয়ের ২০ হাজার মানুষ

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৩৩জন দেখেছেন
Image

ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা মানুষ। টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ধসের আতংকে রয়েছেন অন্তত ২০ হাজার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের সামনের খিল, নলকূপ-আশ্রয়ণ কেন্দ্র, কালাপানিয়া, কয়লা, ঝিলতলী পাহাড়ে বাঙালি ও ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রায় এক হাজার ৫০০ পরিবার বসবাস করে। হিঙ্গুলী ইউনিয়নে ৮০ পরিবার, দূর্গাপুর ইউনিয়নে ২০০ পরিবার, সংশটিলায় ৫০ পরিবার, রব্বাইন্নাটিলা এলাকায় ৫০টি পরিবার বসবাস করে। মিরসরাই সদর ইউনিয়নের উত্তর তালবাড়িয়া, মধ্যম তালবাড়িয়া গ্রামের পাহাড়ে ৫০০ পরিবার, খৈয়াছড়া ইউনিয়নে ৮০ পরিবার, কাঁঠালবাগান এলাকায় ৪০ পরিবার, রেলস্টেশন এলাকায় ৮০ পরিবার বাঙালি বসবাস করে। এছাড়া নিজতালুক এলাকায় প্রায় ৬০০ ত্রিপুরা পরিবার, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে ২০০ পরিবার, বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্প এলাকায় ১০০ পরিবার, হাদি ফকিরহাট এলাকায় ৮০ পরিবার বসবাস করে।

মিরসরাই সদর ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের ছোটন ত্রিপুরা (৪০) বলেন, ছোট বেলা থেকে আমরা এখানে বসবাস করে আসছি। আগে পাহাড়ে বসবাসকারী কম থাকলেও এখন তা বেড়ে গেছে। কেননা বড় পরিবারগুলো আস্তে আস্তে ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের নিজস্ব কোনো ভূমি নেই। সরকারি জায়গায় থাকি। বাঁচলেও এখানে থাকবো মরলেও এখানে মরবো।

jagonews24

রবার্ট ত্রিপুরা নামের আরেকজন বলেন, পাহাড়ের চূড়ায় ভাঙা ঘরে ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। বর্ষাকালে ডরে ডরে (ভয়ে ভয়ে) থাকি কখন পাহাড়ধসে পড়ে। সারারাত জেগে থাকি। বর্ষাকালে মেম্বার-চেয়ারম্যানরা আমাদের সরে যেতে বললেও কোনো স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করেন না।

মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম দিদার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে সরে যেতে পাহাড়ের অধিবাসীদের সর্তকতা করা হয়েছে। তাছাড়া উত্তর ও মধ্য তালবাড়ীয়া এলাকায় বসবাসকারীরা পাহাড়ের উঁচুতে থাকেন। ফলে তারা কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ বলেন, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বড়দারোগারহাট থেকে নয়দুয়ার পর্যন্ত প্রায় ২৫০ পরিবার বসবাস করে। যাদের অধিকাংশ বাঙালি। যাদের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা জানিয়েছেন পাহাড়ে বসবাসকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তারপরও কোনো পাহাড়ে লোকজন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন কী না খতিয়ে দেখা হবে।


আরও খবর



দুই মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে মন্তব্য এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি সাহেদ নুর উদদীনের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিস্তারিত আসছে...


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু ও বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র এবং আজকের প্রযুক্তি

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৫জন দেখেছেন
Image

১৪ জুন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের ৪৭ বছরপূর্ণ হলো। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতিতে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়– এই তিন দেশপ্রেমিকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়ায় যে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন তারই পথপরিক্রমায় শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের যোগাযোগ মাধ্যমকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন। সজীব ওয়াজেদ জয় এদেশকে ডিজিটাল সংস্কৃতিতে উত্তীর্ণ করার সব প্রক্রিয়া দেখিয়ে ও পরামর্শ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধন করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। এর মাধ্যমে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ থাকা দেশগুলোর তালিকায় যোগ হয় বাংলাদেশের নাম। এর আগে বিশ্বের ৫৬টি দেশ মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। তবে বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে উদ্বোধন করেছিলেন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি। গ্রীষ্মের গরমে কিন্তু প্রকৃতির সুশীতল স্নিগ্ধ ছায়াময় বাগানে বসেই বঙ্গবন্ধু চা-পান করেছিলেন। অদূরে শুয়ে থাকা একটি কুকুরকে দেখে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘তুইও আমার মতো ভুখা? হাতের বিস্কুট ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘নে খা’। সেসময় চারপাশে ছিল ছোট ছোট পাহাড়। জনমানবহীন পাহাড়গুলো ছিল সবুজের গালিচা।

১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেলা ১১টায় বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের প্রথম গেটে একটি হাতি বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানায় এবং তাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি আজ আবার গুরুত্ব পেয়ে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাচ্ছে। বেতবুনিয়া কেন্দ্র শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত। দেশে সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হওয়ায় এর ব্যবহার আপাতত সীমিত হয়ে পড়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর এ কেন্দ্রের কার্যকারিতা আরও বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মিত্র শক্তি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জাতির পিতাকে ভারতের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির কাজ সম্পাদনের কথা বললেও সেই সময় বঙ্গবন্ধু এই আহ্বান বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনার মাধ্যমেই স্বাধীন দেশে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি চালু করেন।

প্রায় ১২৮ একরের জায়গার ওপর স্থাপিত কেন্দ্রটি, ঊর্ধ্বাকাশে স্থাপিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষার ব্যবস্থা সচল হয়েছিল। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ১১টি দেশের সঙ্গে টেলিফোন ডাটা কমিউনিকেশন, ফ্যাক্স, টেলেক্স ইত্যাদি আদান-প্রদান শুরু করা হয়। প্রায় ৩৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার ঊর্ধ্বাকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে শক্তিশালী অ্যান্টেনা দিয়ে বার্তা/তথ্য আদান-প্রদানের কাজ সম্পাদিত হয়েছে ২০১৮ সালের আগ অবধি। তবে দীর্ঘ সময়ে এর উন্নয়নের আর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হ নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের নৃশংসভাবে হত্যার পর ক্ষমতায় আসীন পরবর্তী স্বৈরাচারী সরকার এবং ১৯৯০-এর পরে দু’দফায় দেশ পরিচালনায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটিকে কার্যত অচল করে দেয়। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূ-উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু কৃত্রিম উপগ্রহ ঊর্ধ্বাকাশে স্থাপনের পর, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রকে দ্বিতীয় স্টেশন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলেই ভূ-উপগ্রহটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নে স্থাপিত বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এজন্য বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা ঢেলে সাজানো হয়। কয়েকশ গজ ব্যবধানে দুটি ফটক পার করে যেতে হয় মূল কেন্দ্রে। পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। অর্ধ শতাব্দী ধরে মূল ভবনের জৌলুস যেন অমলিন রয়েছে। পাশেই বঙ্গবন্ধুর উদ্বোধনী মঞ্চ আর বিশালাকার এন্টেনা (ডিশ)। ডান পাশের দেয়ালজুড়ে আছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামাঙ্কিত ফলক।

তিনি এর উদ্বোধন করেন ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন। এদিন একটি ডাকটিকিটও অবমুক্ত করেন বঙ্গবন্ধু। একটু ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন জাতির পিতা যে স্থানে দাঁড়িয়ে এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন সেই স্থানটি। যেটিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ফলক উন্মোচনী পাথরটি বসানো হয়েছে মূল কার্যালয়ের সম্মুখভাগে। কেন্দ্রের উদ্বোধন শেষে যে জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধু হেলিকপ্টারযোগে উড্ডয়ন করেছিলেন সেই জায়গাটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

পাহাড়বেষ্টিত ১২৮ একর সমতল জমিতে স্থাপন করা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গত শতাব্দীর আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যয়বহুল স্থাপনাটি মূলত কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে শক্তিশালী এন্টেনার মাধ্যমে ওভারসিস সিগন্যাল গ্রহণ করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে টেলিফোন ডাটা কমিউনিকেশন, ফ্যাক্স, টেলেক্স আদান-প্রদান করে আসছে। বর্তমানে এ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যমে সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, হংকং, ওমান, পাকিস্তান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মুম্বাই অর্থাৎ মোট ১১টি দেশের সঙ্গে টেলিফোন ডাটা কমিউনিকেশন, ফ্যাক্স, টেলেক্স ইত্যাদি আদান-প্রদান করা হয়।

অর্থাৎ বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি এখন গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের সুবিধা অনেক। সাধারণত টিভি চ্যানেলগুলো তাদের সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এতকাল বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করা হতো। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে এই ভাড়া বাংলাদেশ সংগ্রহ করছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে।

এছাড়া অন্য দেশের টিভি চ্যানেলর কাছে ভাড়া দিতে পারছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। এই কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে মাধ্যমে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়েছে। এই কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা হলো ১ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ। এর ব্যান্ডউইডথ ও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত দূরবর্তী অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও ব্যাংকিংসেবা, টেলিমেডিসিন ও দূরনিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা প্রসারেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়লে-এর মাধ্যমে ওই সব অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে। এদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন পর আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে পাহাড়ের অবহেলিত জেলার প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটিতে। এলাকার বেকারত্ব লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আসলে ২০২০ থেকে ২০২১ সালে করোনা মহামারিতে লকডাউনের মধ্যে অনলাইন প্লাটফরম বেশি গুরুত্ব পাওয়া শুরু করলে ইন্টারনেট নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। তখন ভূ-উপগ্রহের মর্ম আমরা উপলব্ধি করতে সক্ষম হই।বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দেশের টেলিযোগাযোগের প্রথম এন্টেনাটি। কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে এটি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্রুততার সাথে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

একসময় সমগ্র বাংলাদেশে বৈদেশিক কল গ্রহণ ও পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল রাঙ্গামাটির এ কেন্দ্র। সরকার তথা রাষ্ট্র, বিদেশি কূটনীতিক কিংবা ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সব যোগাযোগ হতো এর মাধ্যমে। স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠনে এ কেন্দ্রের অবদান ছিল অপরিসীম। আশির দশকের বিশ্বকাপ ফুটবলে ম্যারাডোনার খেলা আর মুষ্টিযুদ্ধে সারা দুনিয়ার সেরা মোহাম্মদ আলীর খেলা হলে এ কেন্দ্রের মাধ্যমেই সমগ্র বাংলাদেশে তা দেখানো হতো। এমনকি বাইরের সব অনুষ্ঠান সম্প্রচার হতো এর মাধ্যমে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উদ্বোধনের পর দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে আরও একধাপ এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় ফোর-জি বা চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রচলনের মধ্য দিয়ে আমাদের ডিজিটাল যুগের আরও উন্নতি সম্পন্ন হয়েছে। এর আগের প্রজন্মের প্রযুক্তি ছিল টু-জি এবং থ্রি-জি। টু-জিতে কেবল ফোন কল করা এবং টেক্সট মেসেজ পাঠানো যেতো। থ্রি-জি প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কল করা এবং মিউজিক ও ভিডিও ডাউনলোড করার সুযোগ তৈরি হয়। থ্রি-জিতে যা যা করা সম্ভব, তার সবকিছু ফোর-জিতেও করা যায়, তবে দ্রুতগতিতে এবং ভালোভাবে। অর্থাৎ সুবিধাগুলো পরিষ্কার— থ্রিজিতে ইন্টারনেট ডাউনলোড বা আপলোডে যে সময় লাগত, ফোর-জিতে সে সময় কম লাগে।

কেবল ইন্টারনেটই নয়, ভয়েস কলেও অগ্রগতি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোর-জি হ্যান্ডসেটের চাহিদা মেটাতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ ফোর-জি হ্যান্ডসেট মাত্র ২০ শতাংশ গ্রাহকের হাতে রয়েছে। সেবা নির্বিঘ্ন করতে একইসঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নও দরকার। ফোর-জির দ্রুতগতি প্রান্তিক মানুষকে নানা কাজে উৎসাহী করেছে। ফলে তাদের শহরমুখী হতে হচ্ছে না। ই-কমার্স, আউটসোর্সিংসহ ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল মানুষের ডিজিটালসেবা নিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে তথ্য-প্রযুক্তিবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক সমাজের সাংস্কৃতিক মানকে ডিজিটাল যুগের স্তরে উন্নীত করা একটি কঠিন কাজ। তার জন্য সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দরকার ছিল। শেখ হাসিনা সেই কাজটি সুনিপুণ পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন করে চলেছেন। মনে রাখতে হবে যে, এদেশে আমরা সর্বপ্রথম তাঁর মুখেই ডিজিটাল বাংলাদেশ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির কথা শুনেছি। তাঁর নেতৃত্বেই সম্পন্ন হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তরের ইতিহাস। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে বোঝায় দেশের সব নাগরিককে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারার সক্ষমতা তৈরি করা। উপরন্তু তার চারপাশে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা যাতে তার জীবনধারাটি যন্ত্র-প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশের অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রতিভাত হয়। শিক্ষাসহ সরকারি-বেসরকারি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কল-কারখানা ও সেবাকে ডিজিটাল করা হচ্ছে। এতে দেশের মানুষের জীবনধারা ডিজিটাল যুগে পদার্পণ করেছে। শিগগির বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। এর মধ্য দিয়ে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ।

ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এজন্য বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন মেটাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি কমাতে ইতোমধ্যে সরকারি অফিসে ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সারাদেশে তৈরি করা হয়েছে এক লাখ ওয়াই-ফাই জোন। মূলত দেশে থ্রি-জি সেবার জায়গায় ফোর-জি আনা হয়েছে। অবশ্য তার আগেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েব পোর্টাল করেছি আমরা। সেখান থেকে যেকোনো তথ্যসেবা আমরা দিতে সক্ষম।

আইটি সেক্টরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আরও এগিয়ে যাবো। ১৩ বছর আগে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বলে কিছু ছিল না। তখন আইটি খাত থেকে রপ্তানি আয় ছিল ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এখন ৫০০ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করে বেকারত্ব দূর করাকে অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আইটি পার্ক, পাশাপাশি আইটি ইনস্টিটিউট, আইটি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিরলস প্রচেষ্টায় আইটি খাত ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এসবই সম্ভব হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে হাঁটার ফলে।

একটি সদ্য স্বাধীনপ্রাপ্ত দেশের তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্যই চালু করা হয় বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি। ১৯৭০ সালে এই কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হলেও কেন্দ্রটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার এবং কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নানান চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু জাতির পিতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে কেন্দ্রটির কাজ অব্যাহত থাকে।

কেবল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্রুততার সাথে তথ্য আদান প্রদানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে এ কেন্দ্র থেকে। মনে রাখতে হবে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনা থেকেই ৪৭ বছর আগে এ দেশে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি চালু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর হাত ধরেই আজকের প্রযুক্তি প্রসারের বাংলাদেশ গৌরবান্বিত।

লেখক: বঙ্গবন্ধু গবেষক এবং লেখক, কবি, কলামিস্ট। সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ এবং অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]


আরও খবর



মার্ক টোয়েনের মজার ঘটনা: বুক রিভিউ

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

মার্ক টোয়েনের বই পড়ার শখ। যে বই হাতে নেন, তিনি সেটাই পড়েন। একদিন এক বন্ধু এসে বললেন, ‘সম্প্রতি অমুক লেখকের দারুণ একটা বই বেরিয়েছে, তুমি কি পড়েছ?’

মার্ক টোয়েন বললেন,‘হ্যাঁ পড়েছি।’ তার বন্ধু জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেমন লাগল?’ মার্ক টোয়েন বললেন, ‘এক কথায় বইটি বন্ধ করলে আর খোলাই যায় না।’

একবার বিখ্যাত এবং বিতর্কিত শিল্পী হুইসলার একখানা ছবি আঁকছেন। সেই অসমাপ্ত ছবিটি দেখে মতামত দেয়ার জন্য তিনি আমন্ত্রণ জানালেন মার্ক টোয়েনকে। তো মার্ক টোয়েন এলেন তার স্টুডিওতে।

কিছুক্ষণ মন দিয়ে ছবিটি দেখার পর ছবির কোণায় একটা মেঘের দিকে আঙুল দেখিয়ে মার্ক টোয়েন বললেন, ‘আমি হলে মেঘটা ঐখানে ঐভাবে আঁকতাম। ওটা মুছে দিলে ছবিটার কোনো ক্ষতি হবে বলে মনে হয় না।’ কথা বলতে বলতে মার্ক টোয়েন আঙুলটা ঠেকালেন ছবিটার ওপর।

এটা দেখে চেঁচিয়ে উঠলেন হুইসলার,‘আরে করেন কী! রংটা এখনো কাঁচা রয়েছে। এইমাত্র মেঘটা আমি এঁকেছি।’

মার্ক টোয়েন জবাব দিলেন,‘অত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। আমার হাতে দস্তানা পরা আছে, আশা করি রং লাগবে না।’

লেখা: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।


আরও খবর