Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

এক্সিকিউটিভ নেবে ওয়ালটন প্লাজা

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৮৬জন দেখেছেন
Image

ওয়ালটন প্লাজায় ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ওয়ালটন প্লাজা
বিভাগের নাম: ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট

পদের নাম: এক্সিকিউটিভ
পদসংখ্যা: ০১ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক/বিএসসি
অভিজ্ঞতা: ০১-০৩ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: সর্বোনিম্ন ২২ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা jobs.bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ১৫ জুন ২০২২

সূত্র: বিডিজবস ডটকম


আরও খবর



স্পেনের ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা, ১৮ অভিবাসী নিহত

প্রকাশিত:Saturday ২৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ২৪জন দেখেছেন
Image

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টার সময় ১৮ অভিবাসী নিহত হয়েছে। বিশাল ওই জনসমাগমে আরো অনেকে আহত হয়েছেন। প্রতিবেশী মরক্কোর কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসির।

বেশ কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত বেড়ার ওপর থেকে পড়ে গিয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকালে ওই সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী ও অভিবাসীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত মার্চে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনের পর এটাই প্রথম গণপ্রবেশের প্রচেষ্টা।

পশ্চিম সাহারার বিতর্কিত অঞ্চলের জন্য মরক্কোর স্বায়ত্তশাসনের পরিকল্পনাকে স্পেন সমর্থন করার পরেই দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।

স্প্যানিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকশ অভিবাসী বেড়া কেটে ছিটমহলে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ অভিবাসীকেই ফেরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও শতাধিক অভিবাসী ছিটমহলে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। তাদের একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে রাখার প্রক্রিয়া চলছে।

ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় থাকা অধিকাংশ সাব-সাহারান অভিবাসীদের জন্য সাম্প্রতিক বছরে মেলিলা ও সেউটা প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


আরও খবর



সীতাকুণ্ডের অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের সহায়তায় ১ কোটি টাকা

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ এক কোটি টাকা এবং এক হাজার শুকনা ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৫ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোয় আগুন ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতরে আগুন লাগে। কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি কনটেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়িঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে।


আরও খবর



কোরবানির পশুর বয়স ও গুণাগুণ

প্রকাশিত:Sunday ২৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৩জন দেখেছেন
Image

কোরবানির জন্য পশুর নির্ধারিত বয়স ও গুণাগুণ নির্ধারণ করেছে ইসলাম। নির্দিষ্ট সংখ্যক পশু দিয়েই এ কোরবানি দিতে হয়। এ সবের মধ্যে রয়েছে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। কোরআনুল কারিমের ভাষায় এ সব পশুকে ‘বাহিমাতুল আনআম’ বলা হয়। বিশুদ্ধ কোরবানির জন্য পশুর বয়স ও কিছু গুণাগুণ নির্ধারিত আছে। সেগুলো কী?

কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে যেসব পশু জবাই করা হয় হাদিসের পরিভাষায় এগুলোকে বলা হয় উজহিয়া। চাই তা উট-উষ্ট্রী, গরু-গাভী-ষাড়, ছাগল-ভেড়া-দুম্বা যা-ই হোক না কেন। এসব পশু কোরবানির জন্য বিশেষ কিছু গুণাগুণ থাকা জরুরি। তাহলো-

কোরবানির পশুর গুণাগুণ

কোরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি। গুণগত দিক থেকে সর্বোত্তম হলো-

> পশুটি দেখতে হবে সুন্দর;

> নিখুঁত বা দোষত্রুটি মুক্ত;

> অধিক গোশত সম্পন্ন এবং

> হৃষ্টপুষ্ট। এক কথায় প্রথম দেখায় যা পছন্দ হয়ে যায়।

কোরবানির পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হওয়ার জন্য নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনাও রয়েছে। হাদিসে এসেছে-

হজরত বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন আর আমার হাত তাঁর হাতের চেয়েও ছোট, তারপর বললেন, ৪ ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি করে তা জায়েজ হবে না। তাহলো-

১. অন্ধ : যে গরু চোখে দেখতে পায় তা স্পষ্ট।

২. রোগাগ্রস্ত : রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

৩. পঙ্গু : যে পশু হাটাচলা করতে পারে না। এবং

৪. আহত : যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে তা স্পষ্ট।

হাদিস গ্রন্থ নাসাঈতে ‘আহত পশুর স্থলে ‘পাগল’উল্লেখ করা হয়েছে। (তিরমিজি, নাসাঈ) হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এ সব পশু দ্বারা কোরবানি করলে তার কোরবানি পরিপূর্ণ হবে না।

তাই পশু কেনার সময় উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে। যাতে কোনো ভাবেই হাদিসে নিষেধ এমন পশু কোরবানির জন্য ক্রয় করতে না হয়।

কোরবানির পশুর বয়স

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানির পশুর বয়সের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আর তাহলো-

১. উট : কোরবানির সময় উটের বয়স ৫ বছর হতে হবে। সহজে উট বা উষ্ট্রী পাওয়া গেলে তা যেন ৫ বছরের নিচে না হয়।

২. গরু-মহিষ : কোরবানির সময় গরু বা মহিষের বয়স ২ বছর হতে হবে।

৩. ছাগল, ভেড়া, দুম্বা : কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ১ বছর বয়সের হতে হবে।

তবে কোনো পশু যদি দেখতে ৫, ২ ও ১ বছর বয়স না হয়; কিন্তু দেখতে ৫, ২ ও ১ বা তার চেয়েও বেশি বলে মনে হয়। অর্থাৎ দেখতে নাদুস-নুদুস হয় তবে ওই পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে।

একান্তই যদি উল্লেখিত বয়সের কোনো পশু পাওয়া না যায়; তবে সে ক্ষেত্রে এরচেয়েও কম বয়সী পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে। হাদিসে এসেছে-

হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই মুসিন্না (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর (পাওয়া কষ্টকর) হলে ছয় মাসের মেষশাবক কোরবানি করতে পারবে। (মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালবাসা অর্জনে ইসলামি শরিয়ত নির্ধারিত সুন্দর, উত্তম ও নির্ধারিত বয়সের পশু কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমানি।


আরও খবর



মেরুর বরফ ছাড়া কি শ্বেত ভালুক বাঁচবে?

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

পোলার বিয়ার বা শ্বেত ভালুকের প্রধান আবাসস্থল মেরু অঞ্চলের হিমশীতল পরিবেশ। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে যেভাবে মেরুর বরফ গলতে শুরু করেছে, তাতে বিনষ্ট হচ্ছে তাদের বাসস্থান। এরই মধ্যে বিপণ্ন প্রাণীর তালিকায় নাম উঠে এসেছে শ্বেত ভালুকের। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা না গেলে এই শতাব্দীর শেষের দিকে প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এ অবস্থা আশার আলো দেখাচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক এক গবেষণা।

এতে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা একদল শ্বেত ভালুক তুলনামূলক কম শীতল পরিবেশেই বছরের পর বছর ধরে বংশবৃদ্ধি করছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মেরু অঞ্চলের বরফ ছাড়াই এদের কিছু প্রজাতি হয়তো ভবিষ্যতে টিকে থাকতে পারবে।

সম্প্রতি দ্য জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দক্ষিণপূর্ব গ্রিনল্যান্ডের পাহাড়ি এলাকাটিতে বছরে মাত্র ১০০ দিনের মতো সামুদ্রিক বরফ থাকে। সেখানেই কয়েকশ শ্বেত ভালুক তুলনামূলক কম উষ্ণ পানিতে শিকারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিজ্ঞানী ও গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ক্রিস্টিন লেড্রে বলেন, শ্বেত ভালুকগুলো বছরে আট মাসেরও বেশি সময় সামুদ্রিক বরফবিহীন এলাকাটিতে বেঁচে থাকে। কারণ সেখানে হিমবাহ, মিঠাপানি ও বরফের সংযোগ রয়েছে।

Bear-2.jpg

তিনি বলেন, বড় প্রশ্ন হলো- মেরু ভালুকরা কোথায় টিকে থাকতে পারবে? আমি মনে করি, এমন জায়গার ভালুকগুলো আমাদের সে বিষয়ে অনেক কিছু শেখাতে পারে।

প্রতিবেদনের সহ-লেখক ও জিনতত্ত্ববিদ ড. বেথ শাপিরো জানান, তারা পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন শ্বেত ভালুকের দল পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই দলটি অন্তত কয়েকশ বছর ধরে অন্য মেরু ভালুকদের থেকে আলাদা বসবাস করছে।

তিনি জানান, বিচ্ছিন্ন এসব শ্বেত ভালুকের খুব একটা উন্নতি হচ্ছে তা নয়। এদের বংশবৃদ্ধির গতি খুবই ধীর এবং আকারেও ছোট।

পৃথিবীতে আনুমানিক ২৬ হাজার শ্বেত ভালুক অবশিষ্ট রয়েছে। ড. শাপিরো বলেন, এটি স্পষ্ট যে, আমরা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার কমাতে না পারলে মেরু ভালুক বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এই অসাধারণ প্রজাতি সম্পর্কে আমরা বেশি বেশি শিখতে পারলে তাদের আরও ৫০ থেকে ১০০ বছর বেঁচে থাকতে সাহায্য করতে পারবো।

সূত্র: বিবিসি


আরও খবর



কমেছে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ, সক্রিয় বড় বিনিয়োগকারীরা

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৯৪জন দেখেছেন
Image

দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ছিল। পাশাপাশি অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ছিল প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা। এতে টানা দরপতনের মধ্যে পড়ে শেয়ারবাজার। নির্বিশেষ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় মাত্র আট কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৫৫৫ পয়েন্ট পড়ে যায়। এতে বড় অঙ্কের পুঁজি হারিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত বিনিয়োগকারীরা।

এ পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্বশীলরা শেয়ারবাজার ভালো করতে বেশ তৎপর হয়ে ওঠেন। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে জারি করা হয় একের পর এক নির্দেশনা। আর্থিকখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী নিজেই। সরকারের দায়িত্বশীলদের এমন ভূমিকার কারণে আবারও বাজারে বেড়েছে বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে বড় পতনে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ কমেছে। যার সুফলও পেয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসই সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এতে আবারও লোকসান কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজারে যে ধরনের দরপতন হয়েছে তাতে ভালো অনেক কোম্পানির শেয়ার দাম যৌক্তিক মূল্যের নিচে চলে যায়। এ ধরনের দরপতনের পর বাজার ঘুরে দাঁড়ানোটাই স্বাভাবিক ছিল। তাছাড়া দরপতনের পর সরকারের দায়িত্বশীলরাও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের যুক্তিসঙ্গত আচরণ করতে হবে। অহেতুক প্যানিক না হয়ে বিনিয়োগ করতে হবে ভালো কোম্পানি বাছাই করে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন থেকে সরে আসতে হবে। বাজার চলতে দিতে হবে তার নিজস্ব গতিতে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১০ থেকে ২২ মে পর্যন্ত লেনদেন হওয়া আট কার্যদিবস শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমে ৫৫৫ পয়েন্ট। বাজার এমন পতনের মধ্যে পড়ায় ২২ মে মার্জিন ঋণের হার বাড়িয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। মার্জিন ঋণের হার ১ : ০.৮ থেকে বাড়িয়ে ১ : ১ করা হয়।

বিএসইসি থেকে মার্জিন ঋণের হার বাড়ানোর পাশাপাশি ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সিনিয়র অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাসকে নিয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকে শেয়ারবাজার ভালো করতে দিকনির্দেশনা দেন।

অর্থমন্ত্রী ও বিএসইসি থেকে এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় ২৩ মে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক একদিনেই বাড়ে ১১৮ পয়েন্ট। সূচকের এমন উত্থানের পরপরই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আইপিও আবেদনের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিএসইসি।

বিএসইসির এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইপিও আবেদনের ক্ষেত্রে এখন থেকে পেনশন, স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচ্যুইটি ফান্ড বাদে অন্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাট অফ ডেটে পুঁজিবাজারে কমপক্ষে তিন কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। আগে যেটা ছিল এক কোটি টাকা।

একইভাবে পেনশন ফান্ড, স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচ্যুইটি ফান্ডের ক্ষেত্রে আগে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে তারল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে কমিশন সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিএসইসি।

তারল্য বাড়াতে বিএসইসি এমন পদক্ষেপ নিলেও ২৪ ও ২৫ মে শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। এ পরিস্থিতিতে ২৫ মে সার্কিট ব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন এনে একদিনে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ দাম কমার নিয়ম বেঁধে দেয় বিএসইসি।

পরদিন ২৬ মে রাতে এক অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা আলাপ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী খুবই পজিটিভ। সবাই আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। শেয়ারবাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। বর্তমানে বহির্বিশ্বের কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। এটা সাময়িক। আপনারা ভয় পাবেন না। আশাকরি আগামী সপ্তাহে শেয়ারবাজারে ভালো কিছু হবে।

এরপর থেকেই টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে শেয়ারবাজার। শেষ ছয় কার্যদিবসের টানা ঊর্ধ্বমুখিতায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ২৬৪ পয়েন্ট বেড়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও নিয়ে কাজ করেন এমন একটি ব্রোকারেজ হাউজের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বাজারের এই ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, নানা ইস্যুতে শেয়ারবাজারে এক ধরনের প্যানিক সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে ডলারের দাম নিয়ে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। তাদের সঙ্গে দেশি বড় বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রি করে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে নিয়মিত যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বড় অঙ্কের লেনদেন হয়, তাদের লেনদেনের পরিমাণ কমে যায়। সবকিছু মিলে বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়।

তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ কমেছে। এসময় বিদেশিরা শেয়ার কিনেছেন। আবার বড় বিনিয়োগকারীরাও বাজারে সক্রিয় হয়েছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের লেনদেন চিত্র দেখে সেটা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। ফলস্বরূপ শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী। তবে বাজার যে হারে পড়েছিল, সেই হারে ওঠেনি। অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এখনো বেশ কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারের এ পরিস্থিতিকে কেনার উপযোগী বলা হয়।

ডিএসইর এক সদস্য বলেন, শেয়ারবাজারে নানা ইস্যুতে দরপতন হলেও এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় আছে। একদিকে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে ডলারের দামের অস্থিরতার কারণে এবার শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। অতীতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বাজারে বড় দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। তবে অর্থমন্ত্রী এবার দরপতনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ আর্থিকখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করায় বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ধারাণা জন্মেছে এবার শেয়ারবাজারের ক্ষতি হয়, এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নেবে না।

‘অর্থমন্ত্রী আর্থিকখাতের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী প্রায় এক ঘণ্টা বিএসইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। একথা বিএসইসির চেয়ারম্যানে নিজেই জানিয়েছেন। এতে এখন সবাই বিশ্বাস করছেন, সরকার শেয়ারবাজার ভালো করতে চায়। এ কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।’

শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে যে ধরনের কারেকশন (মূল্য সংশোধন) হয়েছে, তাতে ঘুরে দাঁড়ানোই স্বাভাবিক ছিল। আমি মনে করি এখনো বাজার কেনার জন্য যথেষ্ট উপযোগী। বিনিয়োগকারীদের এই বাজার থেকে ভালো প্রতিষ্ঠান বাছাই করে কেনা উচিত। তবে হুজুগে বিনিয়োগ করা উচিত হবে না।

‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে হুটহাট সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা ঠিক নয়। দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হতে পারেন। তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো করে বিচার-বিশ্লেষণ করে নিতে হবে। বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে ছেড়ে দিতে হবে।’

ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভী জাগো নিউজকে বলেন, শেয়ারবাজার ভালো করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া টানা দরপতনের পর বাজারে অনেক মূল্য সংশোধন হয়েছে। গত কয়েকদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও এখনো বাজারে কেনার জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। ভালো প্রতিষ্ঠান বাছাই করে কিনতে পারলে এই বাজার থেকে ভালো মুনাফা করা সম্ভব।


আরও খবর