Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

ঈদের দিন দেখা যাবে কাজল আরেফিন অমি’র ‘ব্যাচেলর কোরবানি’

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ১৩০জন দেখেছেন
Image

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’। কাজল আরিফিন অমি পরিচালিত নাটকটি নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনার শেষ নেই। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম অপেক্ষায় বসে থাকে কবে আসবে এই ধারাবাহিকের নতুন পর্ব।

যদিও নাটকটির ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে অনেক সমালোচনাও দেখা যায়। সবকিছু ছাপিয়ে ভিউয়ের দিক থেকে এই নাটকটি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয়। নাটকের চরিত্রগুলোও খুব জনপ্রিয়। এসব চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে ব্যাচেলর গল্পে নানা রকম নাটক তৈরি করেন অমি। এগুলো প্রকাশ হয় বিভিন্ন বিশেষ দিনগুলোতে।

আসছে কোরবানির ঈদেও অমি থাকছেন নতুন নাটক নিয়ে। নাম ‘ব্যাচেলরস কোরবানি’। সুখবরটি দিয়েছেন নির্মাতা নিজেই। তিনি জানান, নাটকটি ঈদের দিনই দেখতে পাবেন দর্শক। এটি প্রচার হবে ধ্রুব টিভি ইউটিউব চ্যানেলে।

অমি জানান, এ নাটকে তুলে ধরা হবে ব্যাচেলররা কীভাবে কোরবানির জন্য গরু কিনতে যায়, গরুর হাটে তাদের সঙ্গে কী ঘটনা ঘটে; কাবিলা, পাশা, শুভ কিংবা হাবু ভাইয়েরা কীভাবে ঈদ উদযাপন করে এ সমস্ত কিছু।

গত ঈদুল ফিতরে অমি নির্মাণ করেছিলেন একক নাটক ‘ব্যাচেলরস রমজান’। সেখানে দেখানো হয়েছিল রমজানে ব্যাচেলরদের নানা কর্মকাণ্ড। নাটকটি প্রচারের পর দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল দেখার জন্য। ভিউয়ের দিক থেকে নতুন এক রেকর্ডও গড়ে নাটকটি। মাত্র ৬ দিনেই ১ কোটি ভিউ হয়েছিল। যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে বিরল রেকর্ড।

ঈদের বিশেষ এই নাটকেও অভিনয় করছেন মারজুক রাসেল, জিয়াউল হক পলাশ, মিশু সাব্বির, চাষী আলম ও শিমুল শর্মা প্রমুখ।


আরও খবর



আফগানিস্তান থেকে নিজেদের খেলোয়াড়দের ডেকে নিলো পাকিস্তান

প্রকাশিত:Sunday ৩১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Saturday ০৬ August ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

আফগানিস্তানের ঘরোয়া লিগ থেকে নিজেদের চার ক্রিকেটারকে ডেকে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সম্প্রতি আফগানিস্তানের কাবুল স্টেডিয়ামে গ্রেনেড বিস্ফোরণের কারণে পিসিবি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিজেদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় পাকিস্তানের বোর্ড। গ্রেনেড বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর সঙ্গে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে এ বিষয়ে অনুরোধ করেছে তারা।

আফগানিস্তানের ঘরোয়া শাপাগিজা টি-টোয়েন্টি লিগে খেলছিলেন পাকিস্তানের চার ক্রিকেটার মির হামজা, ইফতিখার আহমেদ, আসিফ আফ্রিদি ও কামরান ঘুলাম। তাদের সবাইকেই দেশে ফেরত নিচ্ছে পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, কাবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চলার সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার কাবুল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঘরোয়া লিগের ম্যাচ চলাকালে দর্শকসাড়ির স্ট্যান্ডে এই বিস্ফোরণ হয়। আহত চার দর্শককে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

সূত্র: ক্রিকেটপাকিস্তানডটকম


আরও খবর



রাজধানীতে বুধবারের লোডশেডিং শিডিউল

প্রকাশিত:Wednesday ১০ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | জন দেখেছেন
Image

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে ১৯ জুলাই থেকে চলছে এলাকাভিত্তিক শিডিউল করে লোডশেডিং। প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় লোডশেডিং কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের এ শিডিউল পরিবর্তনও হচ্ছে।

বুধবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সে ধারাবাহিকতায় শুরু হবে লোডশেডিং, চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) কোথায় কখন লোডশেডিং করবে, সে তালিকা দিয়েছে। যদিও শিডিউলের বাইরেও লোডশেডিং হচ্ছে।

ডিপিডিসির গ্রাহকরা লোডশেডিংয়ের শিডিউল দেখতে ক্লিক করুন এখানে এবং ডেসকোর গ্রাহকরা ক্লিক করুন এখানে


আরও খবর



উত্তরা লেক উন্নয়নে খরচ কমলো ১৫৯ কোটি টাকা

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

উত্তরা লেক উন্নয়নসহ ২ হাজার ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি একনেক সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বিস্তারিত তুলে ধরেন।

উত্তরা লেকের মূল অনুমোদিত প্রকল্পে মোট ব্যয় ছিল ৩৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। পরে প্রকল্পে হাতিরঝিলের আদলে তিনটি নান্দনিক ব্রিজ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৫০ কোটি টাকা। এখন সরকার ব্যয় সংকোচননীতি গ্রহণ করেছে। তাই সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় কমিয়ে ধরা হচ্ছে ৯০ কোটি ৭৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

মূল প্রকল্পটি জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৬ মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিল। পরে জুন ২০১৯ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তারপরও প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জুন ২০২০ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। জুন ২০২০ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ছিল ২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, বাস্তব অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জুন ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। ফলে ধাপে ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়ালো ৭ বছর।

এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- লেকগুলো বেদখল থেকে রক্ষা করা, লেকের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ কাজ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে মহানগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা ও পথচারীদের হাঁটার সুযোগ তৈরি করা। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ডাইভারশন ড্রেনেজের মাধ্যমে লেকের দূষণ প্রতিরোধ ও চিত্তবিনোদন সুবিধার উন্নয়ন করা।


আরও খবর



সুকুমার রায়ের মজার গল্প: ছয় বীর

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ১৬জন দেখেছেন
Image

সে প্রায় ছয়শত বৎসর আগেকার কথা সে সময়ে ইংরাজ ও ফরাসীতে প্রায়ই যুদ্ধ চলিত। দুই পক্ষেই বড় বড় বীর ছিলেন তাহাদের আশ্চর্য বীরত্বের কাহিনি ইউরোপের দেশ বিদেশে লোকে অবাক হইয়া শুনিত। ইংলন্ডের রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড তখন খুব বড় সৈন্যদল লইয়া ফ্রান্সে যুদ্ধ করিতে ছিলেন।

ফ্রান্সের উত্তর দিকে সমুদ্রের উপকূলে ইংলন্ডের খুব কাছাকাছি একটি শহর আছে, তাহার নাম ‘ক্যালে’। এই শহরটির উপর বহুকাল ধরিয়া ইংরাজদের চোখ ছিল। কারণ এইটি দখল করিতে পারিলে, ফ্রান্সে যাওয়া-আসার খুবই সুবিধা হয়। এডওয়ার্ড জলস্থল দুইদিক হইতে এই শহরটিকে ঘেরাও করিয়া ফেলিলেন। ‘ক্যালে’ শহরে সৈন্য সামন্ত বেশি ছিল না, কিন্তু সেখানকার দুর্গ বড় ভয়ানক। তার চারিদিকে উঁচু দেয়াল ঘেরা। সেই দেয়ালের বাহিরে প্রকাণ্ড খাল এক একটা ফটকের সামনে পোল।

সেই পোল দুর্গের ভিতর হইতে গুটাইয়া ফেলা যায়। সে সময়ে কামান ছিল বটে। তাহার গোলাতে মানুষ মরে কিন্তু দুর্গ ভাঙে না। সুতরাং জোর করিয়া দুর্গ দখল করা বড় সহজ ছিল না। কিন্তু এডওয়ার্ড তাহার জন্য ব্যস্ত হইলেন না। তিনি শহরের পথঘাট আটকাইয়া, প্রকাণ্ড তাম্বু গাড়িয়া দিনের পর দিন নিশ্চিন্তে অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। মতলবটি এই যে, যখন দুর্গের ভেতরের খাবার সব ফুরাইয়া আসিবে আর ভেতরের লোকজন ক্রমে কাহিল হইয়া পড়িবে, তখন তাহারা আপনা হইতেই হার মানিবে; মিছামিছি লড়াই হাঙ্গামা করিবার দরকার হইবে না।

ক্যালের লোকেরা যখন দেখিল, ইংরাজেরা চারিদিক হইতে পথঘাট ঘিরিয়া ফেলিতেছে, তখন তাহারা শিশু, বৃদ্ধ, অক্ষম এবং দুর্বল লোকদিগকে এবং স্ত্রীলোকদিগকে শহরের বাহিরে পাঠাইয়া দিল। তারপর কিছুদিন ধরিয়া ইংরাজ ও ফরাসিতে রেষারেষি চলিতে লাগিল। ফরাসীদের মতলব, বাহির হইতে দুর্গের ভিতর খাবার পৌঁছাইবে। ইংরাজের চেষ্টা যে সেই খাবার কিছুতেই ভিতরে যাইতে দিবে না।

ডাঙার পথে খাবার পৌঁছান একরূপ অসম্ভব ছিল। কারণ সেদিকে ইংরাজের খুব কড়াক্কড় পাহারা। সমুদ্রের দিকেও ইংরাজের যুদ্ধ-জাহাজ সর্বদা ঘোরাঘুরি করিত কিন্তু অন্ধকার রাতে তাহাদের এড়াইয়া, ফরাসি নাবিকেরা মাঝে মাঝে রুটি, মাংস, শাক সবজি প্রভৃতি শহরের মধ্যে পৌঁছাইয়া দিত। মোঁরৎ ও মেস্ত্রিয়েল নামে দুইজন নাবিক এই কাজে আশ্চর্য সাহস ও বাহাদুরি দেখাইয়াছিল। একবার নয়, দুইবার নয়, তাহারা বহুদিন ধরিয়া এই রকমে সে শহরে খাবার জোগাইয়াছিল। ইংরাজেরা তাহাদের ধরিবার জন্য কতবার কত চেষ্টা করিয়াছিল, কিন্তু প্রতিবারেই তাহারা ইংরাজ জাহাজগুলিকে ফাঁকি দিয়া পলাইত।

এইরকমে ছয়মাস কাটিয়া গেল, তবু দুর্গের লোকেরা দুর্গ ছাড়িয়া দিবার না পর্যন্ত করে না। তখন রাজা এডওয়ার্ড কিছু ব্যস্ত হইয়া পড়িলেন। তিনি আরও লোকজন আনাইয়া সমুদ্রের তীরে দুর্গ বানাইলেন, সেখানে খুব জবরদস্ত পাহারা বসাইলেন, সমুদ্রের ধারে পাহাড়ে বড় বড় পাথর ছুঁড়িবার যন্ত্র বসাইলেন। নৌকার সাধ্য কি সেদিক দিয়া শহরে প্রবেশ করে! খাবার আসিবার পথ যখন বন্ধ হইতে চলিল, দুর্গের লোকদেরও তখন হইতে ক্ষুধার কষ্ট আরম্ভ হইল, তাহারা দুর্বল হইয়া পড়ায় তাহাদের নানারকম রোগ দেখা দিতে লাগিল।

তবু তাহারা মাঝে মাঝে দল বাঁধিয়া ইংরাজদের শিবির হইতে খাবার কাড়িয়া আনিতে চেষ্টা করিত, কিন্তু তাহাতে যেটুকু জুটিত তাহা অতি সামান্য। দুর্গের সৈন্যেরা মাসের পর মাস ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করিয়াও, আশ্চর্য তেজের সঙ্গে দুর্গ রক্ষা করিতে লাগিল তাহাদের এক ভরসা এই যে, ফরাসি রাজা ফিলিপ নিশ্চয়ই সৈন্য সামন্ত লইয়া তাহাদের সাহায্য করিতে আসিবেন।

একদিন সত্য সত্যই দেখা গেল, শহর হইতে কিছু দূরে ফরাসি সৈন্যদল আসিয়া হাজির হইয়াছে। তাহাদের রঙিন নিশান আর সাদা তাম্বুগুলো দুর্গের লোকেরা যখন দেখিতে পাইল, তখন তাহাদের আনন্দ দেখে কে! তাহারা ভাবিল, আমাদের এত দিনের ক্লেশ সার্থক হইল। যাহা হউক, ফিলিপ আসিয়াই ইংরাজেরা কোথায় কেমনভাবে আছে, তাহার খবর লইয়া দেখিলেন যে, এখান হইতে ইংরাজদের হটান বড় সহজ হইবে না।

‘ক্যালে’ ঢুকিবার পথ মাত্র দুইটি, একটি একেবারে সমুদ্রের ধারে সেদিকে ইংরাজের বড় বড় যুদ্ধ-জাহাজ চব্বিশ ঘণ্টা পাহারা দেয়। আর একটি পথে পোলের উপর দিয়া নদী পার হইতে হয় সেই পোলের উপর ইংরাজেরা রীতিমত দখল জন্মাইয়া বসিয়াছে। পোলের মুখে দুর্গ বসাইয়া বড় বড় যোদ্ধারা তাহার মধ্যে তীরন্দাজ লইয়া প্রস্তুত রহিয়াছে তাহারা প্রাণ থাকিতে কেহ পথ ছাড়িবে না। ইহা ছাড়া আর সব জলাভুমি, সেখান দিয়া সৈন্য সামন্ত পার করা এক দুরূহ ব্যাপার।

ফিলিপ তখন ইংরাজ শিবিরে দূত পাঠাইয়া প্রস্তাব করিলেন, ‘আইস! তোমরা একবার খোলা ময়দানে আসিয়া আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর।’ এডওয়ার্ড উত্তর দিলেন, ‘আমি আজ বৎসরখানেক এইখানে অপেক্ষা করিয়া আছি, ইহাতে আমার খরচপত্র যথেষ্ট হইয়াছে। এতদিন দুর্গের লোকেরা কাবু হইয়া আসিয়াছে, এখন তোমার খাতিরে আমি এমন সুযোগ ছাড়িতে প্রস্তুত নই। তোমার রাস্তা তুমি খুঁজিয়া লও।’

তিন দিন ধরিয়া দুই দলে আপসের কথাবার্তা চলিল, কিন্তু তাহাতে কোনরূপ মীমাংসা হইল না। তখন ফিলিপ অগত্যা তাহার সৈন্যদের লইয়া আবার বিনা যুদ্ধেই ফিরিয়া গেলেন। তাহাকে ফিরিতে দেখিয়া দুর্গবাসীদের মন একেবারে ভাঙিয়া পড়িল। এতদিন তাহারা যে ভরসায় সকল কষ্ট ভুলিয়া ছিল, এখন সে ভরসাও আর রহিল না। তখন তাহারা একেবারে নিরাশ হইয়া সন্ধির প্রস্তাব করিল।

এড্ওয়ার্ড বলিলেন, ‘সন্ধি করিতে আমি প্রস্তুত আছি, কিন্তু তোমরা আমায় বড় ভোগাইয়াছ, আমার অনেক জাহাজ ডুবিয়াছে, টাকা ও সময় নষ্ট হইয়াছে, এবং অন্য নানারকমের ক্ষতি হইয়াছে। আমি ইহার ষোল-আনা শোধ না লইয়া ছাড়িব না। আমার সন্ধির শর্ত এই, ক্যালের দুর্গ শহর টাকাকড়ি লোকজন সমস্ত আমার হাতে ছাড়িয়া দিতে হইবে। আমার যেমন ইচ্ছা ফাঁসি, কয়েদ, জরিমানা ইত্যাদি দন্ডবিধান করিব এবং ইহাও জানিও যে, আমি যে শাস্তি দিব তাহা বড় সামান্য হইবে না।’

ইংরাজ দূত দখন ক্যালের লোকেদের এই কথা জানাইল, তাহারা এমন শর্তে সন্ধি করিতে রাজী হইল না। তাহারা বলিল, ‘রাজা এড্ওয়ার্ড স্বয়ং একজন বীরপুরুষ, তাহাকে বুঝাইয়া বলুন, তিনি এমন অন্যায় দাবী কখনো করিবেন না।’ ইংরাজ দলের ধনী এবং সম্ভ্রান্ত লোকেরা তখন তাহাদের পক্ষ লইয়া রাজাকে অনেক বুঝাইলেন। ক্যালের লোকেরা কিরূপ সাহসের সহিত কত কষ্ট সহ্য করিয়া, বীরের মত দুর্গ রক্ষা করিয়াছে, সে সকল কথা তাহারা বার বার বলিলেন। এমন শত্রুকে যে সম্মান করা উচিত একথা এক বাক্যে সকলে স্বীকার করিলেন। কিন্তু এডওয়ার্ডের প্রতিজ্ঞা অটল। অনেক বলা-কওয়ার পর, তিনি একটু নরম হইয়া এই হুকুম দিলেন ‘ক্যালের লোকেরা যদি ক্ষমা চায় তবে তাহাদের ছয়জন প্রতিনিধি পাঠাইয়া দিক তাহারা দুর্গের চাবি লইয়া, খালি পায়ে খালি মাথায় গলায় দড়ি দিয়া আমার কাছে আসুক এবং সকলের হইয়া শাস্তি গ্রহণ করুক। তাহা হইলে আর সকলকে মাপ করিতে পারি, কিন্তু এই ছয়জনের আর রক্ষা নাই।’

ইংরাজ দূত আবার দুর্গে গিয়া এই হুকুম জানাইল। দুর্গের লোকেরা রাজার আদেশ জানিবার জন্য ব্যগ্র হইয়া অপেক্ষা করিতেছি এই হুকুম শুনিয়া তাহারা স্তব্ধ হইয়া গেল। তখন ক্যালের সম্ভ্রান্ত ধনী বৃদ্ধ সেন্ট পিয়ের বলিয়া উঠিলেন, ‘বন্ধুগণ, আমার জীবন দিয়া যদি তোমাদের বাঁচাইতে পারি, তবে ইহার চাইতে সুখের মৃত্যু আমি চাহি না। আমি ছয়জনের মধ্যে প্রথম প্রতিনিধিরূপে দাঁড়াইলাম।’ এই কথায় চারিদিকে ক্রন্দনের রোল উঠিল অনেকে সেন্ট পিয়েরের পায়ে পড়িয়া কাঁদিতে লাগিল। দেখিতে দেখিতে আরও পাঁচজন লোক অগ্রসর হইয়া, তাহার পার্শ্বে আসিয়া দাঁড়াইল এবং বলিল, ‘আমরাও মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত গ্রহণ করিতে প্রস্তুত আছি।’

এই দৃশ্য দেখিয়া ইংরাজ দূতের চক্ষে জল আসিল। তিনি বলিলেন, ‘রাজা এডওয়ার্ড যাহাতে ইহাদের প্রতি সদয় হন, আমি সে জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করিব।’ ছয়জন প্রতিনিধিকে রাজার সভায় উপস্থিত করা হইল। তাহারা শান্তভাবে রাজার সম্মুখে হাঁটু গাড়িয়া বসিলেন। তারপর সেন্ট পিয়ের ধীরে ধীরে বলিতে লাগিলেন, ‘আমাদের ক্যালেবাসী বন্ধুগণ এতদিন অসহ্য দুঃখ কষ্ট সহ্য করিয়া দুর্গ রক্ষা কারিয়াছেন। তাহাদের অযোগ্য প্রতিনিধি আমরা, আজ তাহাদের জীবনরক্ষার জন্য দুর্গের চাবি আপনার কাছে দিতেছি। এখন আমরা সম্পূর্ণভাবে আপনার ইচ্ছা ও আদেশের অধীনে রহিলাম।’

সভাশুদ্ধ লোকে স্তম্ভিত হইয়া তাহাদের দিকে চাহিয়া রহিল। ছয়জনের সকলেই বয়সে বৃদ্ধ; বহুদিন অনাহারে তাহাদের শরীর শুকাইয়া গিয়াছে, তাহাদের গম্ভীর প্রশান্ত মুখে কষ্টের রেখা পড়িয়াছে, এক একজন এত দুর্বল যে, চলিতে পা কাঁপে, অথচ তাহাদের মন এখনো তেজে পরিপূর্ণ। তাহাদের দেখিয়া ইংরাজ যোদ্ধাগণের মনে শ্রদ্ধার উদয় হইল। সকলেই বলিতে লাগিল, ‘ইহাদের উপর শাস্তি দিয়া প্রতিশোধ লওয়া উচিত নয়।’ যিনি দূত হইয়া গিয়াছিলেন তিনি বলিলেন, ‘ইহাদের শাস্তি দিলে রাজা এড্ওয়ার্ডের কলঙ্ক হইবে ইংরাজ জাতির কলঙ্ক হইবে।’ কিন্তু এডওয়ার্ডের মন গলিল না তিনি জল্লাদ ডাকিতে হুকুম দিলেন। তখন ইংলন্ডের রানি ফিলিপা বন্দীদের মধ্যে কাঁদিয়া পড়িলেন এবং দুই হাত তুলিয়া ভগবান যীশুর দোহাই দিয়া এড্অয়ার্ডকে বলিলেন, ‘ইহাদের তুমি ছাড়িয়া দাও।’ তখন এড্ওয়ার্ড আর না বলিতে পারিলেন না।

ছয় বীরকে মুক্তি দিয়া রানি তাহাদিগকে তাহার নিজের বাড়িতে লইয়া, পরিতোষ পূর্বক ভোজন করাইলেন এবং নানা উপহার দিয়া বিদায় দিলেন। ইহাদের বীরত্বের কথা ফরাসীরা আজও ভোলে নাই ইংরাজও তাহা স্মরণ করিয়া রাখিয়াছেন।

লেখা: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।


আরও খবর



ঢাকায় তুমুল বৃষ্টি, অন্যান্য স্থানেও বেড়ে কমতে পারে গরম

প্রকাশিত:Wednesday ২০ July ২০22 | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ৩৮জন দেখেছেন
Image

বৃষ্টিপাত কিছুটা বেড়েছে। বৃষ্টির প্রবণতা বুধবার (২০ জুলাই) আরও বাড়তে পারে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের আওতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সব বিভাগেই বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ফেনীতে। এ সময়ে ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ২ মিলিমিটার।

সকাল থেকে ঢাকার আকাশে রোদ ছিল। ছিল ভ্যাপসা গরমও। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মেঘের আনাগোনা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। বেলা সাড়ে ১২টার দিতে বৃষ্টি কিছুটা কমে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ৪৩টি বৃষ্টি পরিমাপক পয়েন্টের মধ্যে ৩৬টিতে বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর এবং নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু এলাকা থেকে প্রশমিত হতে পারে বলেও জানান তিনি। মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আগামী তিনদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।’

মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপে ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


আরও খবর