Logo
আজঃ Wednesday ১০ August ২০২২
শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২৪৩৫ লিটার চোরাই জ্বালানি তেলসহ আটক-২ নাসিরনগরে বঙ্গ মাতার জন্ম বার্ষিকি পালিত রূপগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ডিজিটাল সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভুইয়া সেন্টু ৬৫ নং ওয়ার্ডে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসুচীতে অংশগ্রহন করেন চান্দিনা থানায় আট কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নাসিরনগরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ নাসিরনগর বাজারে থানা সংলগ্ন আব্দুল্লাহ মার্কেটে দুই কাপড় দোকানে দুর্ধষ চুরি। ই প্রেস ক্লাব চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির মতবিনিময় সম্পন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ কেজি গাঁজাসহ হাইওয়ে পুলিশের হাতে আটক এক। সোনারগাঁয়ে পুলিশ সোর্স নাম করে ডাকাত শাহ আলমের কান্ড

দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিতে কাজ করছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:Monday ০৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ১০২জন দেখেছেন
Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষের জন্য যথাযথ ও বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিতে কাজ করছি আমরা। এজন্য যা যা দরকার করছি।

সোমবার (৬ জুন) বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের (সিবিপিএস) সুবর্ণজয়ন্তী এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের বলবো, দেশের মানুষ যাতে যথাযথ এবং বিশ্বমানের সেবা পায় সেটা নিশ্চিত করবেন। যদিও আমাদের জনসংখ্যা বেশি, রোগীর চাপ বেশি। বিদেশে একজন চিকিৎসক কয়েকজন রোগী দেখেন। আপনাদের অনেক রোগী দেখতে হয় তারপরও কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়।

রোগীদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসার চেয়ে সুন্দর আচরণ অনেক বেশি প্রয়োজন। কারণ ডাক্তারের সুন্দর কথায় কিন্তু মানুষ অনেকটা সুস্থ হয়ে যায়। আপনারা নিশ্চয় সেটি করবেন।

গবেষণার বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আমি সব সময় গবেষণায় গুরুত্ব দেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও গবেষণা বাড়াতে হবে। গবেষণাটা একান্ত প্রয়োজন। এদিকে নজর দিতে হবে সবার। এক্ষেত্রে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, আমার পক্ষ থেকে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাটা আমার কাছে একটা সুযোগ, মানুষের সেবা করার। ভোগ বিলাসে মত্ত থাকা নয়। আপনারাও যে যেই পেশায় থাকেন, সেখানে সেবা দেন। এতেই আনন্দ পাবেন। আমরা শিক্ষাসহ সব দিক দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হাঁচি-কাশি হলেও অনেকে বিদেশ চলে যায়। অবশ্য এখানে আমাদের রোগী কমে। কিন্তু করোনায় তো বিদেশে যেতে পারে নাই। তাদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশেও এত সুন্দর আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল আছে, জানতামই না। তারা যে এই শিক্ষাটা পেয়েছে, এজন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।


আরও খবর



দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছে অপূর্বের ‘নায়ক’

প্রকাশিত:Tuesday ১৯ July ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১০ August ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

ডাক্তার তানভীর শহরের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে মফঃস্বলের মানুষের চিকিৎসায় নিজেকে বিলিয়ে দেন। মানুষের কল্যাণে বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে পড়ে থাকেন নির্দিষ্ট অঞ্চলে। ক্লিনিকে অতিরিক্ত ভাড়া, সরকারি অ্যাম্বলেন্স থেকে কমিশন বন্ধ, ভেজাল ঔষধ সবকিছুর বিরুদ্ধে সোচ্চারসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর করে সাধারণ মানুষের সেবা করতে থাকেন। এমন গল্পেই নির্মিত হয়েছে নাটক ‘নায়ক’।

এখানে ডা: তানভীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। মাসরিকুল আলমের গল্পে এটি পরিচালনা করেছেন এস আর মজুমদার।

ঈদ উৎসবে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় পরে ইউটিউবে অবমুক্ত হয়েছে নাটকটি। প্রচারের পর এমন বাস্তববাদী গল্প এবং অপূর্বের অসাধারণ অভিনয় প্রশংসা কুড়াচ্ছে দর্শকমহলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ইউটিউবে মন্তব্যের ঘর সবখানেই কাজটি নিয়ে নানারকম পজেটিভ মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। নিজেদের অনুভূতি জানিয়ে দর্শকরা তাদের ভালো লাগার কথা শেয়ার করছেন।

নির্মাতাও জানান, কাজটি নিয়ে দর্শকদের বেশ পজেটিভ মন্তব্য পাচ্ছেন।

কলকাতা থেকে সঙ্গীতা নামে একজন ইউটিউবে মন্তব্যের ঘরে লিখেন, সমাজে দুর্নীতি অরাজকতা যে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সে -ই প্রকৃত নায়ক। সে কখনোই যে বিক্রি হয়ে যায়না তা 'নায়ক' নাটকটির মাধ্যমে লেখক তার লেখনি ও পরিচালক তার পরিচালনায় খুব সুন্দর ভাবে বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছেন।অপূর্ব ভাই ও সাবিলা নূর ম্যামের অভিনয় মনকে ছুঁয়ে গেল।

আব্দুর রহিম লিখেন, বাস্তবধর্মী নাটক আমাদের দেশে অনেক হয়েছে। কিন্তু এতো সুন্দর, পরিচ্ছন্ন গোছানো একটি প্রধান সামাজিক সামাজিক বিষয় নিয়ে নাটক খুব কমই পেয়েছি। নাটকটির পরিচালনা ও প্রত্যেকের অভিনয় ছিলো মনে রাখার মতো। নাটকটি অপূর্বের অভিনয় জীবনে একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

নির্মাতা এস আর মজুমদার বলেন, কাজটি প্রচারে আসার পর দর্শকদের অসংখ্য সাড়া পাচ্ছি, পজেটিভ মন্তব্য পাচ্ছি। দর্শকরা কাজটিকে পছন্দ করেছেন যার কারণে নিজেদের ভালো লাগাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখে জানাচ্ছেন। এত সাড়া পাওয়ায় খুবই ভালো লাগছে।


আরও খবর



উত্তরা লেক উন্নয়নে খরচ কমলো ১৫৯ কোটি টাকা

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ২৯জন দেখেছেন
Image

উত্তরা লেক উন্নয়নসহ ২ হাজার ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি একনেক সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বিস্তারিত তুলে ধরেন।

উত্তরা লেকের মূল অনুমোদিত প্রকল্পে মোট ব্যয় ছিল ৩৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। পরে প্রকল্পে হাতিরঝিলের আদলে তিনটি নান্দনিক ব্রিজ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৫০ কোটি টাকা। এখন সরকার ব্যয় সংকোচননীতি গ্রহণ করেছে। তাই সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় কমিয়ে ধরা হচ্ছে ৯০ কোটি ৭৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

মূল প্রকল্পটি জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৬ মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিল। পরে জুন ২০১৯ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তারপরও প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় জুন ২০২০ পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। জুন ২০২০ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ছিল ২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, বাস্তব অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জুন ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। ফলে ধাপে ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়ালো ৭ বছর।

এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- লেকগুলো বেদখল থেকে রক্ষা করা, লেকের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ কাজ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে মহানগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা ও পথচারীদের হাঁটার সুযোগ তৈরি করা। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ডাইভারশন ড্রেনেজের মাধ্যমে লেকের দূষণ প্রতিরোধ ও চিত্তবিনোদন সুবিধার উন্নয়ন করা।


আরও খবর



ঝিকরগাছা পৌরসভার নকশাকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:Thursday ০৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

যশোরের ঝিকরগাছায় মিজানুর রহমান (৪৪) নামের এক নকশাকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার বিএম হাইস্কুল এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

তিনি পৌরসভার নকশাকারের দায়িত্ব পালন করতেন। মিজানুর মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি জেলার শৈলকুপা উপজেলার নাগেরহাট গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজ পড়ে মিজানুর পাশের ঘরে যান। কিছুক্ষণ পর দুই মেয়ে তার বাবাকে ডাকতে রুমে যান। দরজা বন্ধ থাকায় বারবার ডেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর বারান্দার জানালা দিয়ে দেখা যায় তিনি ঝুলে আছেন।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত জানান, দরজা ভেঙে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



‘শেখ কামালের নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে দেশের মর্যাদা তুলে ধরতে হবে’

প্রকাশিত:Friday ০৫ August ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ০৯ August ২০২২ | ৩২জন দেখেছেন
Image

শেখ কামালের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের যুব সমাজ নিজেদেরকে গড়ে তুলবে এবং শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরো সমুন্নত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আমাদের জন্য যে নীতি আদর্শ, কর্মপন্থা ও দিক নির্দেশনা রেখে গেছেন তা থেকে আমাদের যুব সমাজ তাদের চলার পথে তার আদর্শকে সামনে রেখে, তা অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার-২০২২ প্রদান অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা শুধু দেশে নয় বিশ্ব তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেন আমাদের মেধা ও মননকে বিকশিত করে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরো উন্নত করতে পারি, সেভাবেই আমাদের ছেলে-মেয়েরা কাজ করবে সেটাই আমি চাই।’

তিনি বলেন, ‘আজকে কামাল আমাদের মাঝে নেই, আধুনিক ফুটবল খেলা এবং আবাহনী ক্রীড়া চক্র গড়ে তোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলাধুলায় ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে অন্তর্ভূক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছে কামাল। পাশাপাশি সংগীত চর্চায় স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন দেশিয় গানকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে তুলে এনে তাকে জনপ্রিয় করার কাজটিও সে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করে গেছে। কেননা বহুমুখী প্রতিভা নিয়েই জন্মেছিলেন শেখ কামাল।’

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, বাসার ছাদে তার সঙ্গীত দলের এই অনুশীলন চলতো যেখানে ফিরোজ সাঁই, ফেরদৌস ওয়াহিদ, নাসিরউদ্দিন সহ অনেকেই আসতো।

জাতির পিতা হত্যার ৬ বছর পর দেশে ফিরতে সক্ষম হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের জাতির পিতার বাড়িটিকে তিনি মিউজিয়াম করলে সেখানে ফিরোজ সাঁই কামালের অর্গান, যেটি দিয়ে তিনি গান তুলতেন সেটি দিয়ে যায়। তার সেই অর্গান এবং কামালের ‘সেতার’টি তিনি সেখানেই রেখে দিয়েছেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

Shiekh kamal

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ কামাল সেনাবাহিনীতে কমিশন পেলেও যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান শ্রেণীর লেখাপড়া তখনো শেষ হয়নি তাই মাস্টার্স ড্রিগ্রী গ্রহণের জন্য সেনাবাহিনীর চাকরী ছেড়ে আবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ভর্তি হয়; কিন্তু মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে চলে যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে শেখ কামালের অবদান সকলের মনে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সাথে সাথে এটা আমি চাই, আমাদের দেশের যুব সমাজ খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সমাজসেবাসহ সবদিকে আরো উদ্যোগী হবে এবং নিজেদেরকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করবে সেটাই আমার আকাঙ্খা।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, এজন্য তার দল যখনই সরকারে এসেছে তখনই দেশের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক জগতের উন্নতির প্রচেষ্ট চালিয়েছে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দুঃস্থদের সেবায় শেখ কামাল যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেই পদাংক অনুসরণ করেই তার সরকার সীড মানি দিয়ে বিভিন্ন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে দিয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী হাবলু স্মৃতিচারণমূলক বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শেখ কামালের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত ‘এক আলোর পথের যাত্রী’ শীর্ষক একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী পরে শেখ কামালকে নিয়ে রচিত’ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল আলোকিত তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি- শীর্ষক সচিত্র স্মারক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ শেখ কামালের ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী আজ।

PM
১৯৪৯ সালের এই দিনে তিনি তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বিপদগামী একদল সেনাকর্মকর্তার নির্মম বুলেটে মাত্র ২৬ বছর বয়সে জাতির পিতা ও বঙ্গমাতা সহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে শাহাদাতবরণ করেন।

শেখ কামালের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে কামালের জন্মদিন। কামাল বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলো। একাধারে সে হকি খেলতো, ফুটবল খেলতো, ক্রিকেট খেলতো। আবার সেতার বাজাতো। ভাল গান গাইতে পারতো। নাটকে অংশগ্রহণ করতো। তার অনেক নাটক করা আছে। উপস্থিত বক্তৃতায় সে সব সময় পুরস্কার পেত।’

এত প্রতিভার পাশপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল রাজনৈতিকভাবেও সচেতন ছিলেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘শাহীন স্কুল থেকে পাস করে যখন ঢাকা কলেজে পড়তো তখন থেকে সে ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। আমরা সংগঠন করতাম, কখনো কোন পদ নিয়ে আমাদের চিন্তা ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা শিখিয়েছেন মানুষের জন্য রাজনীতি করা। তার আদর্শ নিয়ে আমরা পথ চলতাম। তিনিই আমদের শিখিয়েছিলেন সাদাসিদে জীবন যাপন করতে হবে। কাজেই ‘সিম্পল লিভিং হাই থিংকিং’। এটাই ছিল আমাদের মটো। এটাই আমাদের শিখিয়েছিলেন এবং আমরা সেটাই করতাম।’

তিনি বলেন, ‘শেখ কামাল সব সময় অত্যন্ত সাদাসিদেভাবে চলাফেরা করতেন। তার পোশাক পরিচ্ছদ, জীবনযাত্রা খুবই সীমিত ছিল। এমনকি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে তার কোন অহংকার ছিল না। শুধু একজন ক্রীড়াবিদ নয়, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার যেমন দূরদর্শীতা ছিল তেমনি লেখাপড়াতেও ছিলেন মেধাবী।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে- সেই কথা মেনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত হচ্ছিল এবং শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে কাজ করছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ধানমন্ডি ১৯ নম্বর রোড, আবাহনী ক্লাব এলাকা ও সাত মসজিদ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার যুব সমাজকে সংগঠিত করার কাজ করেছিলেন। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ওই রাস্তায় ব্যারিকেড দেয়ার জন্য সে বাসা থেকে চলে যায়।

pm

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা করলে তৎকালিন ইপিআর-এর ওয়্যারলেস যোগে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এরপরই জাতির পিতাকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। মা-সহ পরিবারের সদস্যদের বন্দি করা হলে কামাল লুকিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে যায় (পরে শেখ জামালও মুক্তিযুদ্ধে চলে যান)।’

তিনি বলেন, ‘কামালকে কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন লেখাপড়া করার জন্য তাকে সবরকমের সহযোগিতা করবেন। কামাল তাতে রাজী না হয়ে বরং বলেছে, আমি যুদ্ধ করতে এসেছি যুদ্ধই করবো, ট্রেনিং নেব। সে দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কর্নেল ওসমানীর এডিসি নিযুক্ত হয়। সে এবং মেজর নূর কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী ও বড় বোন শেখ হাসিনা শেখ কামালের সঙ্গে ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কেননা পিঠাপিঠি ছোট ভাই কামাল যে তার খেলার সাথীও ছিল! ছোট্ট কামালকে নিয়ে কারাগারে বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখতে যাওয়ারও টুকরো স্মৃতির উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কামালের জন্মের পরপরই আব্বা গ্রেফতার হয়ে যান এবং ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। কামালের ছোট বেলায় আমি যেমন আব্বাকে দেখে আব্বা আব্বা বলে ছুটে যেতাম ও ঠিক তেমনটা যেতে পারতো না। আমাকে জিগ্গেস করতো, এইভাবে ওর ভেতর সবসময় একটা অতৃপ্তি ছিল। তবে, আব্বা বের হবার পর (কারা মুক্তির) তাকে যথেষ্ট আদর করতেন। কেননা ছোটবেলায় সে বাবার আদর বঞ্চিত হয়েছিল।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কামাল এবং খুনী নূর একই সাথে কর্ণেল ওসমানির এডিসি ছিল। নিয়তির কি নিষ্ঠুর পরিহাস যে এই নূরই প্রথম আসে। কামাল মনে হয় ধোকায় পড়ে গিয়েছিল তাকে দেখে। ভেবেছিল বোধহয় তারা উদ্ধার করতে এসেছে; কিন্তু তারা যে ঘাতক হয়েছে সেটা বোধহয় জানতো না। কারণ প্রথম তারা কামালকে গুলি করে। তারপর একে একে পরিবারের সব সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করে।’

PM

উল্লেখ্য, শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধানমন্ডিস্হ আবাহনী মাঠে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে এবং বনানীস্হ শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর সংস্থা দেশব্যাপী কোরআন খতম দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা আয়োজন করেছে। বিকেএসপি শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বৃক্ষ রোপণ ও চেক বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৬৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়।


আরও খবর



বাঁধ টেকসই করতে বেশি করে ঝাউগাছ লাগানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত:Tuesday ০২ August 2০২2 | হালনাগাদ:Monday ০৮ August ২০২২ | ১৩জন দেখেছেন
Image

নাফ নদী, টেকনাফ ও বঙ্গোপসাগরের পোল্ডারসহ কক্সবাজার এলাকার বাঁধগুলোতে বেশি বেশি ঝাউগাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্বে করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সচিবরা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের পোল্ডারে বেশি বেশি ঝাউগাছ লাগাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে করে বেড়িবাঁধ টেকসই হবে।’

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেশি বেশি গবেষণা করতে বলেছেন। বিশেষ করে তিলের বিষয়ে গবেষণা করতে বলেছেন।’

উত্তরা লেক উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধন করা হয় একনেক সভায়। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আপনারা খাল বা লেকের উন্নয়ন করলে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করেন।’


আরও খবর