Logo
আজঃ সোমবার ২৪ জুন 20২৪
শিরোনাম

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ২৭৭জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০৬ জনে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭৬ জন।

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যর সংখ্যা নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪২ জন, আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৪ জন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৯ হাজার ৭৩০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৪ হাজার ২৬৫ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৪৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৮৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৬৫ হাজার ১৪ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭৭ হাজার ৫৭৩ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫১। ঢাকায় ৬০ হাজার ২৪১ এবং ঢাকার বাইরে ৭১ হাজার ৯৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।


আরও খবর



ঈদ উপলক্ষে জয়পুরহাটে তরুনদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "শুকরিয়া"এর নগদ অর্থ প্রদান

প্রকাশিত:শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ৭৯জন দেখেছেন

Image
এস এম শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ"এখন যৌবন যার, সমাজ সেবা করার সুবর্ণ সুযোগ তার " এই শ্লোগানকে সামনে রেখে জয়পুরহাট পৌর এলাকার দেওয়ান পাড়ার কয়েকজন যুবক নিজেদের আয়ের টাকায় গরীব, অসহায়,দুস্থ পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন।শুক্রবার  (১৪ জুন) বিকেলে দেওয়ানপাড়া জুবিলি হল মাঠে  অসহায়দের হাতে নগদ অর্থ  তুলে দেন শুকরিয়া নামের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। 

এটি একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংগঠন, এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতি বাড়ানো এবং একটি অনুকরণীয় নিরাপদ এলাকা হিসেবে নিজেদের সু-প্রতিষ্ঠিত করা। এছাড়া এলাকাটি যেন মাদক মুক্ত থাকে সেলক্ষ্যে কাজ করা।

পাশাপাশি এলাকার দরিদ্র, বঞ্চিত, অবহেলিত মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করা। তাদের ভাগ্যোন্নয়নে ও পরিবর্তনে তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করা।সদস্য খুরশিদ আলম নয়ন মুঠোফোনে বলেন, যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস,এবং দুর্নীতি থেকে দূরে রাখতে আমরা কয়েকজন যুবক ২০২২ সালে এই সংগঠনের শুরু করেছিলাম।আমরা এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫০ জন পরিবারকে সহায়তা প্রদান করতে পেরে আমরা খুঁশি।আল্লাহতালা সহায়তা করলে সামনের দিনে আরও ব্যাপকভাবে সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছে আছে।

আরেক সদস্য ওমর নাসিফ বলেন,এটা আমাদের স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংগঠন, এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন করার চেষ্টা করা।আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমরা যেনো আপনাদের পাশে সব সময় থাকতে পারি।এই সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য  আলী আসলাম,ওহেদুর রহমান বকুল,আলী আসলাম,বুলবুল আহম্মেদ, সাংবাদিক জনি সরকার ও মিনহাজুর রহমান ছোটন।

আরও খবর



পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করায় দেশে স্থিতিশীল: আইজিপি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ৭৭জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে, ফলে দেশে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে, বলেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

আইজিপি বুধবার (১২ জুন) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কোয়ার্টারলি কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জঙ্গিদের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, পুলিশকে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে হবে না, আরো পেশাদারিত্বের সাথে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। পুলিশ প্রধান বলেন , পুলিশ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। ফলে পুলিশের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে। তিনি এ অবস্থা ধরে রাখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আতিকুল ইসলাম জানুয়ারি-মার্চ ২০২৪ কোয়ার্টারে দেশের সার্বিক অপরাধ চিত্র সভায় উপস্থাপন করেন।

সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান বিপিএম (বার), স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম (বার), অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আতিকুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) সহ অতিরিক্ত আইজিপিগণ, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) মোঃ কামরুল আহসান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি মো. মনিরুল ইসলাম, এপিবিএন'র অতিরিক্ত আইজি সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) খন্দকার লুৎফুল কবির, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি আব্দুল আলীম মাহমুদ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল মাসুদুর রহমান ভূঞা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।


আরও খবর



বাবার বাড়ি যাওয়া পথিমধ্যে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সমস্ত শরিল ছিন্নবিচ্ছিন্ন বৃদ্ধার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ৮২জন দেখেছেন

Image
রাণীশংকৈল,(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধিঃঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল মহা সড়কে দুর্ঘটনায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ফাতেমা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার দেহ ছিন্নবিচ্ছন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটছে।ফাতেমা উপজেলার গোগর মাঝাটলা গ্রামের আজিজুর রহমানের স্ত্রী। 

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দুপুরে উপজেলার পীরগঞ্জ- রাণীশংকৈল পাকা সড়কের পুরাতন সেন্টার নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ,ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রিমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানির একটি দশ চাকা বিশিষ্ট ট্রাক যার নং ঢাকা মেট্রো -উ ১১-৩৪১৭। ট্রাকের চালক পাবনা জেলার আমিনপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের সন্তেষ শেখের ছেলে ওসমান আলী(৪২)। 

সে সিমেন্ট ভর্তি ট্রাক নিয়ে পাবনা থেকে রাণীশংকৈল আসার পথে পুরাতন সেন্টার নামক স্থানে পথচারী ফাতেমা বেগমকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে সামনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ফাতেমার মুখ মন্ডলসহ দেহ খন্ড বিখন্ড হয়ে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। 

নিহতের ছেলে কালাম বলেন, আমার মা আজ দুপুরে পায়ে হেটে পাশের গ্রাম সহোদর নানী বাড়ি যাচ্ছিল। পথিমধ্যে এ দূর্ঘটনা ঘটে। আমার মায়ের শরিলের বিভিন্ন অংশ এবং পড়নে থাকা জিনিসপত্র দেখে আমরা চিন্তিত করেছি।  

এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়ন্ত কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। চালকসহ ঘাতক ট্রাকটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে । 

আরও খবর



আমাদের শিশুরাও পিছিয়ে থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ১২২জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:বিশ্ব প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের শিশুরাও পিছিয়ে থাকবে না। আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান দিয়ে আমরা তাদের গড়ে তুলব,বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 

মঙ্গলবার (৪ জুন) প্রধানমন্ত্রী বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতির পিতার ৯৯তম, শততম, ১০১তম, ১০২তম, ১০৩তম এবং ১০৪তম জন্মবার্ষিকীর প্রতিযোগিতার বিজয়ী ৩০৪ প্রতিযোগীর মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ২০০৮ সালে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন আমাদের ঘোষণা হলো, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। সেজন্য আমরা স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করে দিয়েছি, কম্পিউটার ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি তথা ডিজিটাল সিস্টেমের প্রসার আমরা ঘটাচ্ছি। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের ছেলে-মেয়েরা পিছিয়ে থাকবে কেন? তাদেরও সেভাবে একটি আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন জাতি হিসেবে গড়ে তুলব। আর ২০৪১-এর যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’, আজকের শিশু ও তরুণরাই হবে সেই স্মার্ট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার।

তিনি বলেন, তোমরাই বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেভাবেই আমরা দেশকে গড়তে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিশুদের সুরক্ষায় অনেক আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্য পাঠ্যপুস্তক প্রদান করছে। বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছে, উচ্চ শিক্ষায় বৃত্তি দিচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফ্যাশন ডিজাইন, অ্যারোস্পেস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিভিন্ন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছে। পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপের ফলে আজ স্বাক্ষরতার হার, যা ২০০৬ সালে মাত্র ৪৫ ভাগ ছিল, বর্তমানে ৭৬ দশমিক ৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং দুঃস্থদের সহায়তার জন্য তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করেছি।

তিনি এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত সেই ধানমন্ডির বাড়ি, যেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল, সেটিকে জাদুঘরে পরিণত করেছেন উল্লেখ করে বলেন, শেখ মুজিব তো জনগণের ছিলেন। কাজেই ওই বাড়ির ওপর এখন আমাদের অধিকার নেই। সেখানে মানুষের অধিকার। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রদানের একটি হলোগ্রামও করা হয়েছে। বাড়িটিতে সেই স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা হয়েছে যেখান থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, বসবাস করেছেন এবং শেষে সপরিবারে তাকে নির্মমভাবে হত্যাও করা হয়েছিল। কাজেই সেই বাড়ি আমরা দু’বোন ব্যবহার করব না, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতি ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।


আরও খবর



ভোলায় রাসেল ভাইপার আতঙ্ক, এক সপ্তাহে উদ্ধার-১৩

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | ৬৫জন দেখেছেন

Image

শরীফ হোসাইন, ভোলা বিশেষ প্রতিনিধি:ভোলায় রাসেল ভাইপার আতঙ্ক দিনদিন বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩টি এই সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সাপ মেরে ফেলেছেন স্থানীয়রা। আর একটি সাপ বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ও খেলার মাঠে একের পর এক রাসেলস ভাইপার সাপের দেখা মিলছে। সাপটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকাবাসী মেরে ফেলছেন। একের পর এক এই সাপ উদ্ধারে জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ভোলায় বিষাক্ত রাসেল ভাইপারের দংশনের শিকার হয়েছেন এক কৃষক। শুক্রবার (২১ জুন) বিকাল ৫টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। তার নাম মোঃ আফিজল বয়াতি। বর্তমানে ওই কৃষককে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কৃষক মোঃ আফিজল বয়াতি শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে মাঠে গিয়েছিলেন ঘাস কাটতে। এসময় বিষাক্ত রাসেল ভাইর তাকে দংশন করে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে সাপটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং আফিজলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক এরশাদ।

এ বিষয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা: আবু আহমেদ জানান, সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী থেকে এক লোক এসেছেন তাকে কিছু একটায় কামরিয়েছে। তবে সাপে দংশন করেছে এমন লক্ষণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি। আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তিনি আরো বলেন, ভোলা যেহেতু নদীমাতৃক এলাকা, তাই সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

আরো জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুরের ইউনিয়নের শান্তির হাট ‘গরিবের ডুবাই নামে খ্যাত’ চায়না ইপিজেড বালুর মাঠে একটি, বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের জসিম হাওলাদারের বাড়িতে একটি ও তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের একটি বসতবাড়ির সামনে একটি রাসেল ভাইপার পাওয়া যায়।

এছাড়াও গত বুধবার (১৯ জুন) তজুমউদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় খেলার মাঠ, মঙ্গলবার (১৮ জুন) সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশায় ইউপির পাকার মাথা এলাকায় বসতবাড়ির পাশের জালের সঙ্গে প্যাঁচানো অবস্থায় একটি রাসেল ভাইপার উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জালু মাঝির বসতঘর, রোববার (১৬ জুন) লালমোহনের লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউপির সৈয়দাবাদ এলাকায় একটি বাড়ির বাথরুমে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা ও সাগর উপকূল উপজেলা চরফ্যাশনের বিভিন্ন ইউনিয়নে আরো ৫টি রাসেলস ভাইপার সাপ দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে সাপগুলোকে মেরে ফেলেন। এর মধ্যে তজুমউদ্দিন উপজেলায় পাওয়া একটি সাপ বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে জেলাজুড়ে সর্বসাধারণের মাঝে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, সতর্কতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন রাখতে হবে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, রাসেল ভাইপার নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। স্কুল শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, অন্যথায় সাপের দংশনে প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এদিকে হঠাৎ করেই লোকালয়ে বিষধর এ সাপ ছড়িয়ে পড়ায় জেলার মানুষ অনেকটা আতঙ্কিত। এমন অবস্থায় রাসেল ভাইপার বংশবিস্তার ঠেকাতে এসব সাপের অবমুক্ত না করে মেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিষেজ্ঞদের কেউ কেউ। ভোলা সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব রহমান বলেন, পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় সাধারণত বিরল প্রজাতির জীবজন্তু বনে অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু যেসব প্রাণী পরিবেশ ও মানুষের জন্য হুমকি স্বরূপ, সেগুলো মেরে ফেলাই ভালো। কারণ, রাসেল ভাইপার অত্যন্ত বিপজ্জনক সাপ।

জোলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাসেল ভাইপার বিপজ্জনক ও বিষাক্ত সাপ। এটি সকল প্রাণির জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই এ সাপকে মেরে ফেলা উচিত। ভয়াবহ বিষাক্ত রাসেল ভাইপার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর কেউ কেউ সাপটি সম্পর্কে জানলেও প্রত্যান্ত এলাকার মানুষ কিছুই জানেন না। বিদেশি এ সাপটি উপকূলীয় জেলায় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই জনসচেতনতা বাড়ানো পাশাপাশি সাপটি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান সচেতন মহলের। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রাখার দাবি তাদের।

এ ব্যাপারে উপকূলীয় বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জহিরুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর সাপগুলো তাদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এরা লোকালয়ে চলে এসছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। কিন্তু সাপগুলো মেরে ফেলা সমাধান নয়, এ সাপ থেকে রক্ষায় বসতঘরের আশেপাশে কার্বোলিড এসিড ছিটিয়ে দিতে হবে। সাপটি লোকালয়ে কমই দেখা যায়। বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো লোকালয়ে আসে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সাপ দেখলেই বনবিভাগে খবর দিতে হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শফিকুজ্জামান, এই সাপ সবচেয়ে বিষাক্ত ও এর অসহিষ্ণু ব্যবহার। সাপটি লম্বা বহির্গামী বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দীর্ঘ যন্ত্রণার পর মৃত্যু হয়। তিনি আরো বলেন, সাপে কাটা রোগীদের জন্য ভোলা হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ‘এন্টি স্নেক ভেনিম’ ভ্যকসিন সরবরাহ রয়েছে। কোনো রোগী পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে পরামর্শ দিচ্ছে।

বিষধর রাসেল ভাইপার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কথা স্বীকার করে ভোলার জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, মানুষকে সচেতন করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর