Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

দাম্পত্য কলহে কুয়ায় ঝাঁপ স্বামীর! উদ্ধার করে পুলিশের মিষ্টিমুখ

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

সংসারে ঝগড়া চলছিলই। কথা বলেও দাম্পত্য কলহের সমাধান করাতে পারেনি প্রতিবেশীরা। শুক্রবার (১৭ জুন) সকালে আবারও ঝগড়া শুরু হতেই দৌড়ে গিয়ে কুয়ায় ঝাঁপ দিলেন স্বামী। এরপর প্রতিবেশী ও পুলিশের ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় উপরে তোলা হয় তাকে। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিছুটা সুস্থ করিয়ে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে আসে পুলিশ। সঙ্গে অনুরোধ, আর বিবাদ নয়। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়।

স্থানীয়রা জানান, অন্তত বছর পনেরো আগে পেশায় গাড়ির মিস্ত্রি নাসু শেখ ও ঝুমা বিবির মধ্যে বিয়ে হয়েছে। তাদের মেয়ের বয়স ১১ ও ছেলের ৭। তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে বিবাদ লেগেই থাকতো। ঝগড়া হতো নাসুর নেশা করা নিয়েও। বৃহস্পতিবার বিকেলেও দম্পতির মধ্যে ঝগড়ার খবর পৌঁছেছিল থানায়। তখন এক পুলিশ কর্মী বাড়িতে এসে দু’জনের সঙ্গে কথা বলেন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফের দম্পতির মধ্যে কথা কাটাকাটির আওয়াজ কানে আসে প্রতিবেশীদের। সকালে তারা জানতে পারেন কুয়ায় ঝাঁপ দেওয়া কথা। এরপর প্রতিবেশীরা মিলে ছুটে যান উদ্ধারে। থানায় খবর পৌঁছতেই আবারও ছুটে আসে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় নাসুকে।

চিকিৎসা শেষে পুলিশের গাড়িতেই তাকে ঘরে ফেরানো হয়। শেষে ওসি (মহম্মদবাজার) তপাই বিশ্বাসের কথায় ট্রাফিক ওসি বিদ্যাসাগর পাল ছোটেন মিষ্টি কিনতে। পুলিশের সামনে পরস্পরকে মিষ্টিমুখ করান ওই দম্পতি। বিদ্যাসাগর তাদের অনুরোধ করেন ঝগড়া মিটিয়ে নিতে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


আরও খবর



সিলেট ও সুনামগঞ্জ যেসব কারণ বারবার প্লাবিত হচ্ছে

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪০জন দেখেছেন
Image

এ বছর তৃতীয় দফায় বন্যার কবলে পড়েছে দেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এ জেলায় প্রায় ৩৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়া সারাদেশের সঙ্গে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীসহ আরও ১৭টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে নদী গবেষকরা বলেছেন, হঠাৎ শুরু হওয়া এই বন্যার পেছনে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে অতিবৃষ্টি ছাড়াও কয়েকটি কারণ রয়েছে।

নদী গবেষকরা বলছেন, সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত থেকেই ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি এলাকা শুরু হয়েছে। ফলে সেখানকার পানি সরাসরি বাংলাদেশের হাওরে এসে মেশে। ভৈরব বা মেঘনা নদী হয়ে সাগরে চলে যায়। কিন্তু অতীতের বৃষ্টিপাতের প্রেক্ষাপট আর এখনকার নদীগুলোর অবস্থার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে অতিবৃষ্টির কারণে এবারের ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, গত তিনদিন চেরাপুঞ্জিতে দুই হাজার ৪৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ও এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৫ সালে একবার এরকম বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তিনদিনে দুই হাজার ৭৯৮ মিলিমিটার আর ১৯৭৪ সালে দুই হাজার ৭৬০ মিলিমিটার। এরকম খুব কম দেখা যায়।

এই হঠাৎ বন্যার পেছনে চেরাপুঞ্জির এই প্রবল বৃষ্টিপাতকে প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে আবহাওয়া-জলবায়ু বা বৃষ্টির ধরন বদলে গেছে। এখন বৃষ্টি হলে অনেক বেশি গভীর বৃষ্টি হয়। প্যাসিফিকেও একটা লা নিনো আছে। সেটাও অতিবৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। চেরাপুঞ্জিতে যখন বৃষ্টি হয়, সেটা ছয় থেকে আট ঘণ্টার ভেতরে তাহিরপুরে চলে আসে। কিন্তু সেখানে এসে পানি তো আর দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে তখন সেটা আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে বন্যার তৈরি করছে।

নদীর নাব্যতা নষ্টের জন্য ভারত অংশে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনকে দায়ী করেন বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ভারতের উজানে পাথর উত্তোলনের ফলে মাটি আলগা হয়ে নদীতে চলে আসে। ফলে নদীর তলদেশ ভরে যায়। সেখানে নাব্যতা সংকট তৈরি হচ্ছে। সেখানে গাছও কেটে ফেলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি নদীগুলো ঠিকমতো ড্রেজিং না হওয়া, ময়লা-আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরে যাওয়া, ঘরবাড়ি বা নগরায়নের ফলে জলাভূমি ভরাট হয়ে যাওয়া এই বন্যার জন্য দায়ী। এই কারণে মেঘালয় বা আসামে বেশি বৃষ্টিপাত হলেই সিলেট বা কুড়িগ্রাম এলাকায় বন্যার তৈরি হচ্ছে।

‘এবারের হঠাৎ বন্যার পেছনে মানুষের নিজেদের তৈরি কতগুলো কারণ রয়েছে। সিলেট বা সুনামগঞ্জ এলাকায় আগে ভূমি যে রকম ছিল, নদীতে নাব্যতা ছিল, এতো রাস্তাঘাট ছিল না বা স্থাপনা তৈরি হয়নি। ফলে বন্যার পানি এখন নেমে যেতেও সময় লাগে। আগে হয়তো জলাভূমি, ডোবা থাকায় অনেক স্থানে বন্যার পানি থেকে যেতে পারতো। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, হাওরে বিভিন্ন জায়গায় পকেট পকেট আমরা রোড করে ফেলেছি। ফলে পানি প্রবাহে বাধার তৈরি হচ্ছে। শহর এলাকায় বাড়িঘর তৈরির ফলে পানি আর গ্রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যার ফলে বন্যার তীব্রতা আমরা বেশি অনুভব করছি। এসব কারণে আগাম বন্যা হচ্ছে এবং অনেক তীব্র বন্যা হচ্ছে।

অধ্যাপক সাইফুল বলেন, আমাদের দেশে উজান থেকে পানি নামে উত্তর থেকে দক্ষিণে। এই রাস্তাটিও কিন্তু উত্তর থেকে দক্ষিণে তৈরি। ফলে এটা হয়তো হাওরের পানি প্রবাহের কিছুটা বাধার তৈরি করছে। কিন্তু বন্যার এটাই একমাত্র কারণ নয়।

নদী গবেষক মুমিনুল হক সরকার বলেন, প্রতি বছর উজান থেকে পানির সঙ্গে পলি আর পাথর নেমে আসে। সেটা এসে বাংলাদেশের অংশে নদীর তলদেশ ভরে ফেলে। নদীর পানি বহনের ক্ষমতা কমে যায়। তখন এই নদীতে বেশি পানি আসলে সেটা উপচে আশেপাশের এলাকা ভাসিয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, হাওরে যেসব রাস্তা পূর্ব-পশ্চিমে তৈরি করা হয়েছে, সেগুলোই হাওরের পানি চলাচলে মূল বাধার তৈরি করছে। এরকম অনেক রাস্তা কোনোরকম পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ বা নেত্রকোনা হাওর এলাকায় বেশিরভাগ জনপদে শহর রক্ষা বাঁধ নেই। ফলে কোনো কারণে হাওরে বা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করলে তার খুব দ্রুত শহরে বা আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে। তবে এবার বাংলাদেশে যেভাবে আকস্মিকভাবে বৃষ্টির বা পানি বাড়ার রেকর্ড ভেঙে বন্যার তৈরি হয়েছে, এরকম পরিস্থিতিতে বন্যা ঠেকানো খুব কঠিন হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


আরও খবর



সবার আগে একটা নিরপেক্ষ সরকার দরকার: মাহবুব তালুকদার

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য সবার আগে একটা নিরপেক্ষ সরকার দরকার।

রোববার (১২ জুন) সাবেক সিইসি, নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রোববার সকাল ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এ সংলাপ শুরু হয়।

সংলাপে মাহবুব তালুকদার বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা না করে নিজস্ব জনবল নিয়োগ দিতে হবে। ইভিএম বা ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকার ও ইসিকে বসতে হবে। সংবিধান সংশোধন না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা যাবে না।

এ সময় সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ বলেন, ব্যালট পেপারেও তো সিল মারা যায়। এজন্য ইভিএমকে দোষারোপ করে লাভ নেই। ইসিতে যে ডাকাত দাঁড়িয়ে থাকার কথাটি বলা হয়, এটা আসলে সত্যি। এই বিষয়টি শক্তভাবে দেখতে হবে। ডাকাত সরাতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

সাবেক কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের আচরণ দেখতে হবে। সরকারকে খুবই কঠোর হতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এই বিষয়ে ইসির সম্পৃক্ত হওয়া চলবে না। এটা সরকারি দলের কাছে ছেড়ে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগ সঠিকভাবে করতে হবে। তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব। আমরা সঠিকভাবে নির্বাচন করলেও মানুষ মনে করেছে সুষ্ঠু হয়নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত মার্চ মাস থেকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ এই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে।


আরও খবর



একাই ৬ ইভটিজারকে মেরে ঘায়েল

প্রকাশিত:Tuesday ১৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৬০জন দেখেছেন
Image

রাস্তায় বের হলে বিভিন্ন সময় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় নারীদের। কখনও তারা ইভটিজিংয়ের শিকার হন, কখনও আবার তাদের যৌন হেনস্থারও শিকার হতে হয়। সারা বিশ্বেই নারীদের নিরাপত্তা সব সময়ই একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে যুগের পরিবর্তনে অনেক নারীই এখন এসব পরিস্থিতি খুব ভালো ভাবেই সামাল দিতে পারেন। অনেকেই নিজেকে সাবলম্বী করে তুলছেন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলোও ঠিক মতো আয়ত্ত্ব করছেন।

সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, নির্জন একটি রাস্তায় এক নারীকে ঘিরে ধরেছে ছয় ব্যক্তি। তারা তাকে নানা ভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ছয়জন মিলেও ওই নারীর কোনো ক্ষতিতো করতে পারেননি বরং তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছেন তিনি।

তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করতেই পাল্টা প্রতিরোধ করেন তিনি। মার্শাল আর্ট জানা ওই নারী একাই ছয়জনকে লাথি-ঘুসি মেরে ঘায়েল করেন। ‘দ্য ফিজেন’ নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ওই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘মেয়েদের সঙ্গে পাঙ্গা নেবেন না।’


আরও খবর



জুমার বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৭জন দেখেছেন
Image

মুসলিম উম্মাহর কাছে অনেক মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন জুমা। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায় অনেক দিন-ক্ষণ-মাস ও মুহূর্তকেও বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন। তন্মধ্যে একটি জুমার দিন। কোরআন-সুন্নায় জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণিত রয়েছে। যার কিছু তুলে ধরা হলো-

১.শ্রেষ্ঠ দিন

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা এবং আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহ তাআলার কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ)

তিনি আরো বলেছেন, ‘যে সব দিনগুলোতে সূর্য উঠে; তন্মধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে।’ (মুসলিম)

২. ঈদের দিন

জুমার দিন ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আজহা হলে ওই দিন মুসলিম উম্মাহর দুই ঈদ একত্রে হয়। জুমার দিনকে ইহুদিরা ঈদের দিন বানানোর আফসোস করে। হাদিসের বর্ণনায় তা ওঠে এসেছে এভাবে-

হজরত ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি যখন-

اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ وَ اَتۡمَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ نِعۡمَتِیۡ وَ رَضِیۡتُ لَکُمُ الۡاِسۡلَامَ دِیۡنًا

এ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন; তখন তার কাছে একজন ইহুদি ছিল। সে বলল, যদি আয়াতটি আমাদের ওপর নাযিল হতো তাহলে আমরা দিনটিকে ঈদের দিন বানিয়ে নিতাম। এরপর ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আয়াতটি ঈদের দিনেই নাজিল হয়েছে (আর তা ছিল) জুমার দিন ও ‘আরাফার দিন।’ (তিরমিজি)

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা এবং আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহ তাআলার কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ)

৩. পাপ ক্ষমার দিন

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এক জুমা থেকে অপর জুমা এতদুভয়ের মাঝে (পাপের) কাফ্‌ফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা (বড়) গুনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে।’ (মুসলিম)

৪. বছরজুড়ে নামাজ-রোজার সওয়াব পাওয়ার দিন

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করে সকাল সকাল মসজিদে আসবে এবং ইমামের কাছাকাছি বসবে এবং মনোযোগ দিয়ে (খুতবা) শুনবে ও চুপ থাকবে তার জুমা’র নামাজে আসার প্রত্যেক কদমের বিনিময়ে এক বছরের নামাজ ও রোজা পালনের সওয়াব হবে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ)

৫. দোয়া কবুলের দিন

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই জুমার দিন এমন একটি সময় আছে যে সময়ে কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো ভালো জিনিসের প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, তা সামান্য সময় মাত্র।’ (বুখারি ও মুসলিম); কেউ কেউ বলেন, এটি আসরের নামাজের পরের সময়।

৬. বিশেষ ইবাদতের দিন

জুমা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য বিশেষ ইবাদতের দিন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমা থেকে আল্লাহ আমাদের আগের উম্মতকে বিভ্রান্ত করে রেখেছিলেন। ফলে ইহুদিদের জন্য ছিল রোববার। এরপর আল্লাহ  আমাদের নিয়ে এসেছেন এবং আমাদের জুমার দিনের জন্য পথ দেখিয়েছেন এরপর শনি তারপর রোববার। এমনিভাবে কেয়ামতের দিনও তারা আমাদের পরে হবে। দুনিয়ার অধিবাসীদের মধ্যে আমরা সবার পরে এবং কেয়ামতের দিন আমাদের ফয়সালা সাবার আগে হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

৭. কেয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিনেই কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে।’ (মুসলিম)

৮. ফেতনামুক্ত হওয়ার দিন

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি জুমার দিনে অথবা জুমার রাতে মারা যায় তবে আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে মুক্তি দেবেন।’ (তিরমিজি)

নবিজীর বর্ণনা মতে জুমার দিন বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের দিন। জুমার দিন জোহরের সময় জুমার নামাজ পড়া সবার জন্য ফরজ। জুমার দিনের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেকগুণ বেশি হওয়ায় দিনটির ইবাদত-বন্দেগিও মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত জুমার দিন নামাজ, ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তেলাওয়াত, দরূদসহ তাওবা-ইসতেগফার বেশি বেশি করা। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করা। জুমার দিনের আমল থেকে বিরত না হওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দিনের নামাজ ও আমল যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে নিজেদের যুক্ত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


আরও খবর



বন্যাকবলিত হাওরে ডাকাত আতঙ্ক, রাত জেগে পাহারা

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ২৬জন দেখেছেন
Image

বন্যাকবলিত নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত তিন দিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা চার গ্রামে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছেন।

মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙাপুতা হাওর সংলগ্ন মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের বলদশী, খুরশীমূল, রামপাশা ও সিয়াধার গ্রামের বাসিন্দারা এখনো পানিবন্দি। গত কয়েকদিন ধরে গ্রামগুলোতে ডাকাত আতঙ্ক এখানকার মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ৪ গ্রামের অন্তত ১২শ পরিবার রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে বলদশী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক সজল সরকার, ইন্দ্রজিৎ দাশ ও সিয়াধার গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছ জানান, বন্যায় এমনিতে আমরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছি। তার ওপর ডাকাত পড়ছে। প্রতিরাতেই বিভিন্ন এলাকার মানুষজন চিৎকার-চেঁচামেচি করছে। এতে সবার মনে নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আবুল হাসেম আপ্তু মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে এলাকায় ডাকাত আসে, রাতভর জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে।

৮নং ওয়ার্ড মেম্বার আলয় চন্দ্র দে জানান, রামপাশা, বলদশী, খুরশীমূল ও সিয়াধার গ্রামে অন্তত ১২শ পরিবারের বসবাস। বন্যার পানি বাড়ায় ডাকাত আতঙ্কে ৩-৪টি ট্রলার নিয়ে প্রতিরাতেই এসব গ্রামের মানুষদের পাহারা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিনই পুলিশ আসছে। কয়েকদিনের জন্য স্থায়ীভাবে পুলিশ টহল রাখলে কিছুটা হলেও স্বস্তি আসবে। তাছাড়া গ্রামবাসীর সঙ্গে গ্রাম পুলিশ টহল দিচ্ছে।

মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিকী জানান, ডাকাত প্রতিরোধে ওই এলাকায় প্রতিদিনই পুলিশ যাচ্ছে। মানুষও রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রামপাশা, বলদশী, খুরশীমূল ও সিয়াধার এলাকায় ডাকাত পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যার পানি বেশি হওয়ায় ডাকাতির ভয়টা বেশি।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, এটা গ্রামবাসীর নিজেদের আতঙ্ক। পুলিশ পাঠিয়ে সত্যতা পাওয়া যায়নি। হাওরে রাতের বেলা মাছ ধরার ট্রলার দেখেও গ্রামবাসী চিৎকার চেঁচামেচি করে।


আরও খবর