Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
চট্টগ্রাম টেস্ট

চতুর্থ দিন পুরোটা সময় ব্যাট করে যেতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Wednesday ১৮ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৭৬জন দেখেছেন
Image

স্পোর্টস রিপোর্টারঃ

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষেও বোঝার উপায় নেই আদৌ ফল আসবে কি না এই ম্যাচে। কেননা ম্যাচের তিন দিনেও শেষ হয়নি দুই দলের প্রথম ইনিংস। উইকেট পড়েছে মাত্র ১৩টি। ব্যাটিংবান্ধব এ উইকেটে ফল না আসার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বাংলাদেশ দলের রয়েছে ভিন্ন চিন্তা।

তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি, মাহমুদুল হাসান জয়, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ফিফটিতে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩১৮ রান। শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে করেছিল ৩৯৭ রান। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসে এখনও ৭৯ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে ফল আনার জন্য চতুর্থ দিন পুরোটা সময় ব্যাট করে যেতে চায় বাংলাদেশ। এরপর বড় লিড নিয়ে ম্যাচের শেষ দিন শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করার পরিকল্পনা স্বাগতিকদের। লিটন দাস, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানদের মতো দ্রুত রান তোলা ব্যাটার থাকায়


আরও খবর



সরকারের এমন ভাব যেন সবাই পদ্মা সেতুর শত্রু: মান্না

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৮১জন দেখেছেন
Image

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সরকার এমন ভাব করছে, যেন আমরা সবাই পদ্মা সেতুর শত্রু। আমরা শুধু বলছি, যে সেতু ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বানানো যাবে বলেছিলেন, সেখানে এরই মধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এত টাকা কীভাবে খরচ হলো সেই হিসাব দেন।

নাগরিক ঐক্যের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (৬ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক পদযাত্রা শেষে এক বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, পুরো মিরপুর দুইদিন ধরে বন্ধ। গার্মেন্টসের হাজার হাজার কর্মীরা রাস্তায় নেমেছে। তাদের দাবি, হয় জিনিসের দাম কমাও না হলে বেতন বাড়াও। সরকার কোনোটাই করতে পারছে না। বরং পদ্মা সেতু উদ্বোধনের নামে দেশব্যাপী কোটি কোটি টাকা খরচ করে উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে কী হৃদয়বিদারক একটা ঘটনা ঘটেছে। অথচ অন্য কোনো দিকে সরকারের লক্ষ্য নেই।

নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতিসহ নানা দুর্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় দুর্যোগের মধ্যে সরকার ঘোষণা দিয়েছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে ১০ লাখ লোকের সমাগম করবে, কেন? দেখাবেন যে, আমাদের অনেক শক্তি আছে। আরে আপনাদের তো শক্তি আছেই, আছে বলেই তো ভোট ডাকাতি করেন।

এসময় নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ক্ষমতাসীনদের আনন্দ মিছিল

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
Image

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীতে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো আনন্দ মিছিল করেছে। দলটির নেতারা এই বাজেটকে গণমুখী, সময়োপযোগী ও উন্নয়নমুখী বলে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেন। কোভিড-১৯ অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়। অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। আর অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

jagonews24

প্রস্তাবিত বাজেট বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ। বাজেটে সংগত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে।

এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকায় আনন্দ মিছিল করেছে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শাখা সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে জিরো পয়েন্ট ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট হয়ে স্টেডিয়ামের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

২০২২-২০২৩ অর্থবছরে শিক্ষাবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, জনকল্যাণমূলক, উন্নয়নমুখী বাজেট প্রণয়নের জন্য একই এলাকায় আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে যুবলীগ। মিছিল ও সমাবেশের নেতৃত্ব দেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

শিক্ষাবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।


আরও খবর



আজকের কৌতুক: স্ত্রীর সারপ্রাইজ

প্রকাশিত:Saturday ২৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ২১জন দেখেছেন
Image

স্ত্রীর সারপ্রাইজ
১ম বন্ধু: তোর স্যুটটা তো বেশ সুন্দর। কোথায় পেলি?
২য় বন্ধু: এটা আমার স্ত্রী দিয়েছে একটা সারপ্রাইজ গিফট হিসেবে।
১ম বন্ধু: কেমন সারপ্রাইজ?
২য় বন্ধু: আমি অফিস থেকে ফিরে দেখি সোফার উপর স্যুটটা পড়ে আছে।

****

রেস্তোরাঁর বাবুর্চি বদল
পরিচিত রেস্টুরেন্টে খাওয়া শেষে খদ্দের ওয়েটারকে ডেকে বলল-
খদ্দের: তোমাদের আগের বাবুর্চিটা মারা গেছে, তাই না?
ওয়েটার: আপনি কী করে জানলেন, স্যার? খাবার কি খারাপ হয়েছে?
খদ্দের: না, খাবার ঠিকই আছে। তবে আগে সাদা চুল পেতাম, ইদানীং কালো চুল পাচ্ছি।

****

গোপন কিছু দেখাতে হয় যেভাবে
প্রেমিকা: দরজা-জানালা বন্ধ করে দাও!
প্রেমিক: কেন?
প্রেমিকা: তোমাকে একটা গোপন জিনিস দেখাব!
প্রেমিক: সত্যি?
প্রেমিকা: হ্যাঁ, আগে সবকিছু বন্ধ করে দাও, যাতে আলো না আসে!
প্রেমিক: তারপর?
প্রেমিকা: আমার কাছে আসো
প্রেমিক: ওহ! আর কী করবো বলো?
প্রেমিকা: এবার দেখো, আমার ঘড়িতে লাইট জ্বলে!


আরও খবর



শিশুশ্রম নির্মূলে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়াতে হবে

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৮জন দেখেছেন
Image

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম দূর করার জন্য ২০০২ সাল থেকে “বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস” (World Day Against Child Labour) পালন করে আসছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ১২ জুন এ দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শিশুশ্রম বন্ধে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা’ (Universal Social Protection to End Child Labour)।

আইএলও এবং ইউনিসেফ কর্তৃক যৌথভাবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২০ এর শুরুতে বিশ্বব্যাপী ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ১০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশু শিশুশ্রমে জড়িত ছিল− যার আনুমানিক সংখ্যা ১৬০ মিলিয়ন। এর মধ্যে ৬৩ মিলিয়ন কন্যা শিশু এবং ৯৭ মিলিয়ন ছেলে শিশু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত দুই দশকে শিশুশ্রম কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও, সাম্প্রতিকতম তথ্য দেখায় যে শিশুশ্রম নিরসনের বৈশ্বিক অগ্রগতি ২০১৬ সাল থেকে থমকে গেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে , কভিড-১৯ মহামারি বিশ্বব্যাপী আরও লক্ষ লক্ষ শিশুকে শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে ফেলেছে। এটি ধারণা করা হচ্ছে যে উপযুক্ত নিরসন কৌশল ছাড়া, উচ্চ দারিদ্র্য এবং ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা ও ভঙ্গুরতার কারণে ২০২২ সালের শেষ নাগাদ নতুন করে ৮.৯ মিলিয়ন শিশু শিশুশ্রমে নিয়োজিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আইএলও পরামর্শ দিয়েছে যে শিশুশ্রম হ্রাস এবং নির্মূলের জন্য শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। পারিবারিক দারিদ্র্যের ঝুঁকি এবং ভঙ্গুরতা হ্রাস করে, জীবিকায়ন প্রকল্প বৃদ্ধি করে এবং শিশুদের স্কুলে ভর্তির সহায়তা করে, শিশুশ্রম নির্মূল ও প্রতিরোধের লড়াইয়ে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য।

আইএলও বলছে ২০১০ সাল থেকে পরিচালিত বেশ কয়েকটি গবেষণার ফলাফল দেখায় যে সামাজিক সুরক্ষা - পরিবারগুলিকে অর্থনৈতিক বা স্বাস্থ্যগত ধাক্কা মোকাবেলায় সহায়তা করে, শিশুশ্রম হ্রাস করে এবং স্কুলে পড়াশুনার সুবিধা দেয়৷

সংস্থাটি আরো বলছে সকল শিশু যাতে সামাজিক সুরক্ষা উপভোগ করে তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খুব কম অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ০ থেকে ৪ বছর বয়সী ৭৩.৬ শতাংশ বা প্রায় ১.৫ বিলিয়ন শিশু কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পায় না। এই বৃহৎ সুরক্ষা ফাঁক বা ব্যবধান দ্রুত বন্ধ করা আবশ্যক। আইএলও মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেছেন, "সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ করার অনেক কারণ আছে কিন্তু শিশুদের অধিকার এবং সুস্থতার উপর এর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে শিশুশ্রম নির্মূল করা সবচেয়ে বাধ্যতামূলক হতে হবে”।

আইএলও’র গবেষণায় বলা হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকারের বিভিন্ন নীতি রয়েছে যা তারা সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেপারে। যদি নীতি নির্ধারকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ না করেন, তাহলে কভিড-১৯ মহামারি, চলমান সংঘাত, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন শিশুশ্রমের প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলবে।

শিশুশ্রমের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে উল্টে দিতে আইএলও ও ইউনিসেফ বিশ্বের সরকার প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। যেমন, সর্বজনীন শিশু সুবিধাসহ সবার জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। মানসম্মত শিক্ষার পেছনে ব্যয় বাড়ানো এবং কভিড-১৯-এর আগে থেকেই স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদেরসহ সব শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনা।

পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যথোপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করা, যাতে পরিবারগুলোকে পারিবারিক উপার্জন বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে শিশুদের অবলম্বন করতে না হয়। শিশুশ্রমকে প্রভাবিত করে এমন ক্ষতিকারক লৈঙ্গিক রীতিনীতি এবং বৈষম্যের অবসান ঘটানো। শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, কৃষিজ উন্নয়ন, পল্লী জনসেবা, অবকাঠামো এবং জীবন-জীবিকার পেছনে বিনিয়োগ করা।

আমাদের দেশে শিশুশ্রমের দৃশ্যকল্পের দিকে তাকালে তা কম উদ্বেগজনক নয়। বিবিএস-এর ২০১৩ সালের এক জরিপ অনুসারে, বাংলাদেশে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন শিশু ১৬ টি সেক্টরে কর্মরত। আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই দেড় লাখের বেশি শিশু বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কিন্তু বাস্তবতা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন তা বোঝার জন্য পরিসংখ্যানের প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশে শিশুরা সাধারণত কৃষি, কলকারখানা, গণপরিবহন, আবাসন, খাবারের দোকান, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা এবং নির্মাণ কাজে কাজ করে। কভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন শিশুশ্রম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুশ্রম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য ও বৈষম্য। এভাবে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাড়লে আগামী দিনে শিশুশ্রম বৃদ্ধির আশঙ্কা অমূলক নয়।

কভিড-১৯ মহামারিকালে অনেক শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে এবং কাজে যুক্ত হয়েছে। এইভাবে, যে সমস্ত শিশুরা নিজেদেরকে শিশুশ্রমে নিয়োজিত করতে বাধ্য হয়েছে তারা শুধু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়নি, সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। কারণ, স্কুলগুলি সামাজিক সুরক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিশু এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স। তাই শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুরা শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে। শিশুশ্রম শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত করে, তাদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুযোগ সীমিত করে এবং তাদেরকে দারিদ্র্য এবং শিশুশ্রমের আন্তঃপ্রজন্মীয় দুষ্টচক্রের দিকে ঠেলে দেয়।

জাতিসংঘ ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এছাড়াও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ৮.৭ জোরপূর্বক শ্রম নির্মূল, আধুনিক দাসপ্রথা ও মানব পাচারের অবসান এবং নিকৃষ্টতম শিশুশ্রমের নিষেধাজ্ঞা ও নির্মূল করার জন্য অবিলম্বে এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১৬.২ শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ ও ব্যবহার, শোষণ, পাচার এবং সকল প্রকার সহিংসতা ও নির্যাতনের অবসান ঘটানো এবং সকল প্রকার শিশুশ্রমের অবসান ঘটানোর কথা উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই শিশুশ্রম নিরসনে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে বেশ কিছু উদ্যোগ, প্রকল্প ও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোও শিশুশ্রম নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে কারণ শিশুশ্রমের মাত্রা কমছে না বরং কভিড-১৯ ও চলমান যুদ্ধের কারণে তা আবার বৃদ্ধির সূত্রপাত করেছে। সুতরাং এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে মহামারী চলাকালীন ক্রমবর্ধমান শিশুশ্রমের জন্য আরও অনেক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

আইএলও এবং ইউনিসেফ শিশু শ্রমের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এ জন্য সর্বজনীন শিশু যত্নসহ সবার জন্য পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানসম্পন্ন শিক্ষায় ব্যয় বৃদ্ধি করা এবং কভিড-১৯ এর আগে যারা স্কুলের বাইরে ছিল তাদের সহ সকল শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনা; প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করা যাতে পরিবারের আয় বাড়াতে সাহায্য করার জন্য পরিবারগুলিকে শিশুদের আশ্রয় নিতে না হয়। শিশুশ্রমকে প্রভাবিত করে এমন ক্ষতিকর চর্চা এবং অসমতা দূর করা। শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়ন, গ্রামীণ জনসেবা, অবকাঠামো এবং জীবিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা। জাতীয় বাজেটে শিশুদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত
বরাদ্দ রাখা।

আইএলও এবং ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও নির্মূলের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে যেমন, শিশুদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতার ব্যবধান কমিয়ে আনা এর অর্থ শিশুর সুবিধাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সেইসাথে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরতদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনা; সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা; শিশুশ্রম হ্রাস করা আরো সহজ হবে যদি প্রত্যেক দেশে একটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে যা শিশু এবং পারিবারিক সুবিধা, মাতৃত্ব এবং বেকারত্বের সুবিধা থেকে শুরু করে বার্ধক্য পেনশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা প্রদান করে; নিশ্চিত করতে হবে যে, যে সকল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শিশু-শ্রমিক সংবেদনশীল কারণ এটি শিশু শ্রম হ্রাস করতে সর্বাধিক সাহায্য করবে।

শিশু এবং পারিবারিক সুবিধাপ্রাপ্তি কর্মসূচীগুলি বাস্তবায়ন করা যা শিশুদের সহ সমস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছায়, বিশেষ করে যারা সবচেয়ে বেশি ঝূঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রয়েছে; নিবন্ধন পদ্ধতি সহজ করে এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্রদের জন্য তাদের সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাগুলি পেতে সহায়তা করা; শিশুদের জন্য সর্বজনীন, মানসম্পন্ন, মৌলিক শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিষেবাগুলিতে বর্ধিত বিনিয়োগের সাথে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিপূরক কর্মসূচি গ্রহণ করা;

শিশুশ্রমের অবসান এবং কর্মের জন্য ঐক্যমত্য জোরদার করার জন্য সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিমধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি গড়ে তোলা; টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা এবং ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে গৃহীত সহমত, দৃঢ় ঐকমত্য, সেইসাথে ডারবান শিশু শ্রমিক সম্মেলনের ফলাফল, আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলিকে সমন্বয় করতে সাহায্য করতে পারে; উন্নয়নের চালক হিসাবে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগের জন্য প্রচারনা চালানো। প্রায় সব দেশেই শিশুদের জন্য তাদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের জন্য দেশীয় সম্পদ পুঞ্জীভূত করা।

ইউনিসেফ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এখনো পর্যন্ত অতিমাত্রায় বিভক্ত। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে ১৩০টি কর্মসূচি যেগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটির সাথে অপরটি সংযুক্ত নয়। এসব কর্মসূচির লক্ষ্যসমূহ একটির সাথে অন্যটি মিলে যায়, এতে বাজেট কম এবং এদের আওতাও অপ্রতুল। যেকোনো দেশের জন্য যেকোনো পরিপ্রেক্ষিত থেকেই শিশু এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী মানবাধিকার ও অর্থনীতিকে রক্ষা করে।

সুতরাং, চলমান মহামারি ও যুদ্ধের কারণে এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে শৈশব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের জন্য সংগ্রাম করছে এমন শিশুদের কথা ভাবার সময় এসেছে। সরকারিভাবে এইসব শিশু ও তাদের পরিবারবর্কে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের বিত্তবানদেরও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। শিশুশ্রম নির্মূলে সামাজিক উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলন আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

যারা শিশুদেরকে জোরপূর্বক শিশুশ্রমে বাধ্য করে এবং তাদের শ্রম শোষণ করে তাদেরকেও সচেতন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সাথে ক্রমবর্মান দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য কমিয়ে এনে সকল শিশুর মানসম্মত ও জীবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারাও যে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।


আরও খবর



গুরুতর অভিযোগে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার হবে ইকুয়েডর, পরিবর্তে চিলি!

প্রকাশিত:Thursday ০৯ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২১ June ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে এবার যে চারটি দেশ সরাসরি কাতার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ইকুয়েডর। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে ইকুয়েডর। পেরু হয়েছে পঞ্চম, যারা মহাদেশীয় প্লে-অফে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে।

তবে, হঠাৎ করেই ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে চিলি। সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাতার বিশ্বকাপ থেকেই বহিষ্কার হয়ে যেতে পারে ইকুয়েডর। পরিবর্তে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে সপ্তম হওয়া চিলিই সুযোগ পেতে পারে কাতার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার। এ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ডেইলি মেইল অনলাইন, ফুটবলের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গোলডট কমসহ ইউরোপের প্রথমসারির প্রায় সব মিডিয়া।

কী সেই অভিযোগ? চিলি ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেশ করেছে যে, ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার বাইরন ক্যাস্টিলো মূলতঃ ইকুয়েডরিয়ান নন। তিনি মূলতঃ কলম্বিয়ান। তার জন্ম তথ্য গোপন করে ইকুয়েডর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ক্যাস্টিলোকে নিজেদের পক্ষে খেলিয়েছে। যা অবৈধ।

যদি বাইরন ক্যাস্টিলো সত্যি সত্যি কলম্বিয়ান হয়ে থাকেন, তাহলে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে তার কোনোভাবেই ইকুয়েডরের হয়ে খেলা বৈধ হবে না। সে ক্ষেত্রে ফিফা তদন্তে যদি এটা প্রমানিত হয়ে যায়, তাহলে নিশ্চিত কাতার বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার হয়ে যাবে ইকুয়েডর। সে ক্ষেত্রে চিলি’র সামনে কাতার বিশ্বকাপে খেলার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়ে যাবে।

বিস্তারিত আসছে...


আরও খবর