Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

চট্টগ্রামে যুবকের অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত:Monday ০৯ May ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১৪৩জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহরে একটি বাড়ির নালা থেকে যুবকের অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


সোমবার হালিশহর এইচ ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর বাড়ির সীমানা প্রাচীরের পাশ থেকে মারুফ (২০) নামে ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।


হালিশহর সবুজবাগের আনন্দধারা হাউজিং এলাকায় নানীর সঙ্গে থাকতেন মারুফ। এই এলাকায় তিনি অটোরিকশা চালাতেন। 


হালিশহর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান,এইচ ব্লকের যে বাড়ির পাশ থেকে মারুফের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় সেটা পরিত্যক্ত ছিল।




আরও খবর



আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেওয়ার কথা বলে ৩০০ জনের টাকা আত্মসাৎ

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৪২জন দেখেছেন
Image

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। তারা ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

তারা হলেন- মো. সুমন হাওলাদার ওরফে সুমন উদ্দিন ওরফে ইদ্রিস আলী (৪০) ও তার স্ত্রী মোছা. পলি আক্তার (৩৫)।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৪০টি পাস বই, দুটি রেজুলেশন বই, চারটি রেজিস্টার, আবেদন ফরম ৩৮টি, নয়টি সিল, নয়টি আইডি কার্ড, ১০০টি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

র‍্যাব জানায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার জন্য প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ২-৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন তারা।

jagonews24

বুধবার (৮ জুন) র‍্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গ্রেফতার সুমন নিজেকে আন্তর্জাতিক সংস্থার এনজিও’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের সাংবাদিক পরিচয় দিতেন। সাংবাদিক ও এনজিও’র ভুয়া আইডি কার্ড দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেন।

আর তার স্ত্রী পলি খানম নারী প্রগতি সংসদের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে নারীদের সদস্য বানাতেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর ঘর দেবেন এমন আশ্বাসের মাধ্যমে পাস বই দিয়ে টাকা তুলে তা আত্মসাৎ করতেন।

এভাবে সাভারের গেন্ডারিয়া ও রাজাসন এলাকা থেকে নারীদের ভোটার আইডি ও ছবি সংগ্রহ করে টাকা আত্মসাৎ করেন পলি খানম। এমন প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগী রয়েছেন, যারা পলির সই করা পাস বইয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। 

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতাররা তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


আরও খবর



অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা দেওয়া হলো না মোহুয়ার

প্রকাশিত:Sunday ১২ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫০জন দেখেছেন
Image

দশম শ্রেণির অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা দেওয়া হলো না মেহেরপুরের মোহুয়া হোসেন তৃষার। রোববার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের জেলা পরিষদের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় সে। মোহুয়া বামনপাড়ার জেলা প্রশাসকের গাড়িচালক কাজী মোমিন হোসেনের মেয়ে।

নিহতের বাবা কাজী মোমিন বলেন, অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষায় অংশ নিতে খালাতো ভাই পলাশের সঙ্গে মোটরসইকেলযোগে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল মোহুয়া। জেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে পলাশ ও মোহুয়া সড়কে ছিটকে পড়ে। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রলি মোহুয়াকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহুয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে পলাশ।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা জাগো নিউজকে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। পারিবারিক সম্মতিতে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



গাজীপুরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

প্রকাশিত:Saturday ১৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

গাজীপুরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুন) দুপুরে জেলার কাপাসিয়ায় এক কৃষক এবং বিকেলে কালিয়াকৈরের ফুলবাড়িয়ায় বজ্রপাতে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন, কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে কিরণ মিয়া (৫০) ও কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মজিদচালা এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুস সোবাহান (৫৫)। বিলে মাছ ধরতে গিয়ে কিরণ মিয়া এবং মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুস সোবহানের মৃত্যু হয়।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম বলেন, বিকেল তিনটার দিকে কাইজলি বিলে মাছ ধরতে যান কৃষক কিরণ মিয়া। এসময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর কিরণ মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে কালিয়াকৈর থানাধীন ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল মোল্লা বলেন, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মজিদচালা গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবহান শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে যান। এ সময় বজ্রপাতে মাঠেই ওই কৃষকের মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী সোবহানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।


আরও খবর



ঘরের আসবাবপত্র কিনতে সন্তান বিক্রি করলেন মা!

প্রকাশিত:Friday ১০ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৬৪জন দেখেছেন
Image

১৫ দিন বয়সী শিশুকে বিক্রি করেছেন এক মা। তার সঙ্গে ছিল আরও তিন নারী। টাকা দিয়ে ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ইন্দোরে।

নিজের সন্তানকে বিক্রি করার ঘটনায় অনেকেই বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। শিশুটির মা শাইনা বি তার সঙ্গী অন্তর সিংয়ের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন।

জানা গেছে, শাইনা বি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর অন্তর সিংকে জানান। কিন্তু এ সন্তান তার নয় বলে অস্বীকার করে গর্ভপাত করার কথা বলেন। শাইনা জানান, অনেক দেরি হয়ে গেছে এটা এখন সম্ভব নয়। এরপর দুইজনে চুক্তি করেন যে, জন্ম হওয়ার পর বিক্রি করে দেওয়া হবে।

ঘটনার পর অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লিনা সিং নামের যিনি শিশুটিকে কিনেছেন তার নামেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা বিক্রির টাকা দিয়ে একটি ফ্রিজ, একটি এলইডি টেলিভিশন সেট, ওয়াশিং মেশিন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কিনেছেন। যদিও পুলিশ এগুলো জব্দ করেছে।

যমজ সন্তান হারিয়ে একজন মধ্যস্থতার মাধ্যমে বাচ্চাটি কেনার সিদ্ধান্ত নেন লিনা। এঘটনায় এখনো সবাইকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সূত্র: জিও নিউজ


আরও খবর



ঢাকার আশপাশও খরার ঝুঁকিতে

প্রকাশিত:Friday ১৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রভাব দেখছে বিশ্ববাসী। এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান মরুকরণ একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। কোনো একটি জায়গায় যদি টানা ১৫ দিন অন্তত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে তাকে খরা বলেন বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয় ধাপে টানা এক মাস কোনো বৃষ্টিপাত না হলে তাকেও খরা বলা হয়। খরার কারণে জমিতে ফাটল দেখা দেয়। ফসলি জমি পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শস্য উৎপাদন ব্যবস্থা। অন্যদিকে বাতাসে প্রচুর ধুলাবালি জমে হয় বায়ূদুষণও, যা জনস্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে। এতদিন দেশের উত্তরাঞ্চলের কথা শোনা গেলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন ঢাকার আশপাশও আছে খরার ঝুঁকিতে।

জনসচেতনতা তৈরি এবং সংশ্লিষ্টদের করণীয় নজরে আনতে বিশ্বজুড়ে ১৭ জুন পালিত হয় বিশ্ব খরা ও মরুকরণ প্রতিরোধ দিবস। বাংলাদেশে প্রথম ১৯৯৫ সালে দিবসটি পালিত হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহীকে কেন্দ্রবিন্দু ধরে নগর থেকে ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে কাঁকনহাটে জাতীয়ভাবে প্রথমবারের মতো এই দিবস পালিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের মধ্যে খরাপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে রাজশাহী বিগত কয়েক দশক ধরে সবচেয়ে বেশি খরা মোকাবিলা করে আসছে। অন্যদিকে রংপুর অঞ্চলও রয়েছে এ ঝুঁকিতে। ভবিষ্যতে হয়তো ঢাকার আশপাশের অঞ্চলেও খরা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে মাটি ও পানি রক্ষা করতে হলে এখনই প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘খরাকে আমরা একাধিক ধাপে নির্ণয় করি। কোনো একটা জায়গায় যদি টানা ১৫ দিন ১০ মিলিমিটারের নিচে বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলেই আমরা তাকে খরা বলি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপে টানা একমাস বৃষ্টিপাত না হলেও আমরা তাকে খরা বলি। এই খরা আমরা যখন পরিমার্জন করি, তখন বায়ুমণ্ডল ও মৃত্তিকার আর্দ্রতার অভাব দেখা দেয়। এই আর্দ্রতা তখনই পূরণ হয়, যখন পর্যাপ্ত পানি প্রবাহমান থাকে, নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয়। খাঁটি বাংলায় যদি আমরা বলি, নদীনালা কমে গিয়ে পানির ঘাটতি কিংবা বৃষ্টির অভাব দেখা দিলেই সেটি খরা। এটা প্রাকৃতিক একটা দুর্যোগ।’

jagonews24ছবি: সংগৃহীত

‘কোনো কোনো সময় দেখা যায়, ১৫ দিন কিংবা একমাস নয়, একেকটা ঋতুতেই কোনো বৃষ্টিপাত নেই। এজন্য প্রয়োজন প্রবাহমান জলাধার। আমাদের দেশের উত্তরাঞ্চলে যে ধরনের অবস্থা তৈরি হয়েছিল, ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদী-নালার পানিপ্রবাহটা কমে গেলো। এতে বৃষ্টিপাত ও বায়ুমণ্ডলে বাষ্পের পরিমাণও কমে যায়। একদিকে গাছপালা কম, অন্যদিকে বৃষ্টিপাতও কম আবার নদীনালার পানিও কম। এই তিনটার সংমিশ্রণে হলো আমাদের উত্তরাঞ্চলের খরা। একটা অঞ্চলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত দরকার, তার চেয়ে ২৫ শতাংশ কম হলেই তাকে আমরা বলবো আবহাওয়াজনিত খরা।’

এদিকে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী বিগত কয়েক দশক খরা মোকাবিলা করে এলেও তার সঙ্গে রংপুর অঞ্চলেও খরা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান রিপন জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে খরা তৈরি হচ্ছে, কিন্তু বন্যার প্রবণতাও বাড়ছে। বর্ষার সময় পাচ্ছেন বন্যা। বর্ষা শেষ হলেই খরা। রংপুর অঞ্চলে খরার ইনডেক্স যেভাবে বাড়ছে, যদি এর প্রবণতা আরও বাড়তে থাকে, তবে রাজশাহী অঞ্চলের চেয়েও ওই এলাকায় ভবিষ্যতে আরও খারাপ পরিস্থিতি দেখা দেবে। একই দেশ, একই গ্রাম অথচ বছরে একটা সময় খরায় মরছে, আবার আরেক সময় পানিতে ডুবে মরছে। এবছরও আমরা খবরে দেখেছি, যখন ধান লাগানো ছিল, তখন ধানগুলো রোদে পুড়ে গেলো। আবার বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ডুবে গেলো।’

‘রংপুরে খরার অন্যতম কারণ, তিস্তায় বাঁধ দেওয়া। আমাদের দেশের অভ্যন্তরে একটা ব্যারেজ বানিয়ে মূল প্রবাহ থেকে পানি বিভিন্ন দিকে নিয়ে গেছে। ফলে ‘ওয়াটার টেবিল’ যেটা আছে অর্থাৎ ‘গ্রাউন্ড ওয়াটার টেবিল’ এটা অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। মাটির দানা আমরা যেটাকে বলি, এটা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি এলে ওভার ফ্লো হয়ে যাচ্ছে, পানি মাটির নিচে প্রবেশ করতে পারছে না। পানি মাটির নিচে প্রবেশ না করার কারণে যখন শুষ্কতা বা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ আসছে তখন মাটির নিচে পানি না থাকার কারণে ফসল পুড়ে যাচ্ছে। দুই দিক থেকেই সমস্যাটা হচ্ছে।’

আধুনিক নগরায়ণ ও শিল্পায়নভিত্তিক উন্নয়নের দিকে নজর দিতে গিয়ে দেশে পরিবেশের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা একটা সময় ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকেও খরার দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন জেলায় খরাপ্রবণ জমি রয়েছে ৫৫ লাখ হেক্টরের মতো। এই জমিগুলো সাধারণত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে রয়েছে। মোটামুটি ১৩-১৪টি জেলায় খরা দেখা যায়। এর ভেতরে নওগাঁ, রাজশাহী, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও- এসব অঞ্চলে খরাঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। খরা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। ১৯৭৮ সালের দিকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি খরা মোকাবিলা করেছে। ওই সময় আমাদের দেশে প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি জমিতে খরা দেখা যায়।

jagonews24ছবি: সংগৃহীত

‘বর্তমানে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের কারণে আমরা প্রাকৃতিক জলাধারগুলো সংরক্ষণ করতে পারি না। এজন্য হঠাৎ করে যখন তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন জমিতে ফাটলের সৃষ্টি হয়। বলা যায়, এটা খরার একেবারে সবশেষ রূপ। এই খরায় দুটি ঘটনা ঘটে। একদিকে যেমন শুকনা খরা হয়ে যাওয়ার কারণে গরমের পরিমাণ বেড়ে যায়, অন্যদিকে শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে বাতাসে প্রচুর ধুলাবালি জমে। বায়ূদুষণও হয় খরার কারণে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে খরাটা মানুষও সৃষ্টি করে।’

ঢাকা অঞ্চলে কয়েক দশকের মধ্যে খরা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের যেসব এলাকায় বেশি চাষাবাদ হতো, সেসব এলাকায় মানুষ একটু সচেতন হওয়ার কারণে আগের তুলনায় এখন ভালো চাষাবাদ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ঢাকার আশপাশের অঞ্চলে যেটি ঘটছে, আমরা ভূগর্ভস্থ পানি অত্যধিক মাত্রায় আহরণ করছি। আবার ভূপৃষ্ঠের পানি সংরক্ষণের জন্য কোনো জলাধারও রাখিনি। এজন্য ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতে এক ধরনের খরা ধীরে ধীরে সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এখনো এটিকে খরা নাম দেইনি, তবে এটি যে বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে, সেটি খরার বৈশিষ্ট্যই। অর্থাৎ এ অঞ্চলে ঝুঁকি বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে খরায় রূপ নেবে।

এই শিক্ষক আরও বলেন, আমি কয়েকদিন আগেই জয়পুরহাট গিয়েছিলাম। সেখানে লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশের জমিগুলোতে ছোট ছোট করে জলাধার সৃষ্টি করা আছে, সেখান থেকে মানুষ সেচ ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু যখন টাঙ্গাইলের দিকে চলে এলাম, তখন দেখলাম রাস্তার দুই পাশেই কৃষির প্রতি মানুষের আগ্রহ কম। পানি স্বল্পতা আছে, শিল্পায়ন হচ্ছে, সেগুলোর জন্য ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাধার। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের পর থেকে ঢাকা অংশের কথা বলা যায়। এই অংশে গাছ-গাছালির পরিমাণ কম। কৃষিজমি ও উৎপাদন কম। যেহেতু গাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, আমি এই অঞ্চলটি নিয়ে আতঙ্কিত যে, অদূর ভবিষ্যতে এখানে এক ধরনের খরার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

ঢাকা অঞ্চলকে এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে পরামর্শ দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা অঞ্চলের কথা যদি বলতে হয়, এ অঞ্চলে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে গেছে। যমুনা ও পদ্মা নদীর পানি যেসব শাখা নদীর মাধ্যমে আসবে, সে শাখা নদীর মুখগুলো তো বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট ছোট খাল ভরাট করে ফেলার কারণে এখন আর পানি নেই। পানির প্রবাহ না থাকায় যত বর্জ্য আছে, তা যখন বুড়িগঙ্গায় পড়ছে, সেখানে ময়লা জমে নদী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানির প্রবাহ রাখতে হলে মূল নদীর সঙ্গে যে শাখা আছে, সে শাখার মুখগুলো দখলমুক্ত রাখতে হবে।


আরও খবর