Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা

চোর-ছিনতাইকারী বলে গালি দেয়ায় ১০ বছরের শিশুর আত্মহত্যা

প্রকাশিত:Tuesday ২৬ April ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২২৭জন দেখেছেন
Image

সাভার প্রতিনিধিঃ

সাভার পৌর এলাকায় চোর-ছিনতাইকারী বলে গালির অপবাদ সইতে না পেরে আরাফাত (১০) নামে এক শিশু বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুঁলে আত্মহত্যা করেছে।সোমবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার দেঁওগায়ে কামালের বাড়ি থেকে শিশুটির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


শিশু আরাফাত চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার কালিবাজার গ্রামের জিন্নার ছেলে। সে সাভারে দেঁওগায়ে দাদির কাছে থাকতো। বিয়ে বিচ্ছেদের পর বাবা-মা শিশুটিকে দাদির কাছে রেখে যার যার মতো সংসার করছেন। তাদের সঙ্গে এখন আর কোন যোগাযোগ নেই দাদী জরিনা বেগমের।



দাদি জরিনা বেগম  বলেন, ‘বাপ-মায়ে চলে যাওয়ার পর আরাফাত আমার সঙ্গে সাভারেই থাকতো। শুনেছি কারা যেন আরাফাতকে চোর-ছিনতাইকারী বলে গালিগালাজ করেছে। পরে গতকাল (সোমবার) দুপুরে আমি বাসায় না থাকলে সে ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুঁলে আত্মহত্যা করে। তার মরদেহ পুলিশ এসে উদ্ধার করে।



আরও খবর



সীতাকুণ্ডে জাম পাড়তে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৪৭জন দেখেছেন
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাম পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে মো. রওশনজ্জামান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রওশন ওই এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।

নিহতের ভাগনে মো. রুবেল জাগো নিউজকে জানান, সকালে তার মামা জাম পাড়তে গাছে ওঠেন। একপর্যায়ে পা পিছলে নিচে পড়ে যান। এসময় তিনি মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। নিহত রওশনের চারটি সন্তান রয়েছে বলে জানান তিনি।

চমেক হাসাপাতাল তদারক ফাঁড়ি কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


আরও খবর



বাঁশের ঠিকা দিয়ে সরকারি কলেজে পাঠদান!

প্রকাশিত:Tuesday ২৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১১জন দেখেছেন
Image

জামালপুরের মেলান্দহ সরকারি কলেজে বাঁশ ও কাঠের ঠিকা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। এতে ঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কলেজের দুইটি ভবন এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, কলেজটি ১৯৭২ সালে চার একর জমির ওপর নির্মিত হয়। ১৯৮৭ সালে এটি সরকারিকরণ হয়। আট বছর আগে কলেজের প্রশাসনিক ভবনসহ দুইটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে ২০১৬ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়।

পরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে ভবনটির অফিস রুম, কন্ট্রোল রুম ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন এবং শর্ত সাপেক্ষে অন্যরুমগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেন। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এখনও ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন অভিভাবকরা।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লিটন জানান, কলেজের বিজ্ঞান ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ দুইটি ভবনে শ্যাওলা জমে রয়েছে। বিজ্ঞান ভবনের তৃতীয় ও দ্বিতীয় তলায় ভবনের বিভিন্ন জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ছে। জানালা দরজাগুলোও ভেঙে পড়েছে। ভবনে প্রবেশ পথের প্রথম গেট ভেঙে পড়ে আছে। পলেস্তারা যেন খসে না পড়ে তার জন্য কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ঠিকা দিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভবন ভেঙে পড়ার ভয়ে মা বাড়ি থেকে কলেজে আসতে দেয় না। কখন যেন ভেঙে পড়ে এই আতঙ্ক সব সময়। কলেজের সব ক্লাসরুমে একই অবস্থা প্রায়। সিঁড়ির ছাদ থেকেও প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। ভেঙে পড়ার ভয়ে মাঝে মধ্যে ক্লাস করি।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী লিনা আক্তার বলেন, ক্লাসে ঢুকলে ভয় লাগে, কখন যেন ভেঙে পড়ে। আতঙ্ক নিয়ে প্রতিনিয়ত ক্লাস করে যাচ্ছি। এভাবে ক্লাস করা সম্ভব নয়। যদি কোনো সময় ভূমিকম্প হয় সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়বে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করে যাচ্ছি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম বলেন, যেদিন আমার প্রথম ক্লাস ছিলো ওই দিনই চোখের সামনে ক্লাসরুমের জানালা ভেঙে পড়তে দেখেছি। এছাড়াও কিছুদিন আগে পরীক্ষা দেওয়ার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে পরীক্ষা দিতে পারিনি। পরে অন্য রুমে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি।

আমিনুর রহমান নামে এক অভিভাবক জানান, একদিন কলেজে গিয়েছিলাম এক দরকারে। গিয়ে দেখি ছাদ থেকে ক্লাসরুমে পানি পড়ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে রড দেখা যাচ্ছে। তারপর থেকে আমার ছেলেকে আর কলেজে যেতে দেয়নি। টিসি নিয়ে অন্য কলেজে ভর্তি করিয়ে দেবো ভাবছি।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, সব সময় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করাতে হয়। কখন যেন কী ঘটনা ঘটে। আমাদের সব সময় আতঙ্কে দিন কাটে। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

কলেজের অধ্যক্ষ হাসান তৌফিক মো. আলী নূর জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে সরকারি কলেজের অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ভবনের একাংশ ও বিজ্ঞান ভবন মৌখিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী ও আমরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করার ভয়ে অনেকে কলেজে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে।

জামালপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, কলেজের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ থাকায় শিক্ষা-কার্যক্রম চালানো খুবই কষ্টসাধ্য। তাই ২০০৯ সালে একটি ভবন ও ২০১৮ সালে আরো একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এদিকে এমপি মহোদয়ের ডিও লেটারসহ ভবন বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।


আরও খবর



সঙ্গী মানসিকভাবে নির্যাতন করছে কি না বুঝে নিন ৪ লক্ষণে

প্রকাশিত:Friday ০৩ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৬৭জন দেখেছেন
Image

দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নারী-পুরুষ উভয়ের উপরই বর্তায়। তবে বিভিন্ন কারণে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। যদি দাম্পত কলহ কখনো কখনো সম্পর্ক মধুর করে তোলে আবার কখনো বিচ্ছেদের কারণ হয়েও দাঁড়ায়।

অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা স্বামী-স্ত্রী আছে যারা সঙ্গীর প্রতি একটু বেশিই সতর্ক থাকেন। তারা সঙ্গীকে কোনো বিষয়েই ছাড় দিতে চান না। আর এ কারণে সমস্যা দেখা দেয় দাম্পত্যে।

অন্যজন ভেবে অবাক হয়ে যান কেন তার সঙ্গী এমন ব্যবহার কেন করছেন? কখনো কারও সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সন্দেহ করেন সঙ্গী তো আবার কোথায় যাওয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত দিতে হয়। এসব কারণে অন্য সঙ্গী মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন।

যদিও এমন বিষয়কে বেশিরভাগ মানুষই অতিরিক্ত ভালোবাসার নমুনা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে সঙ্গীর এমন ব্যবহার অন্যজনের মানসিক নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কয়েকটি লক্ষণ আছে যার মাধ্যমে বুঝতে পারবেন সঙ্গী দ্বারা আপনি মানসিকভাবে নির্যাতিত বা অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন কি না। চলুন তা চেনে নেওয়া যাক-

>> একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে একে অন্যের প্রতি সম্মান রাখা জরুরি। যখনই দাম্পতির মধ্যে সম্মান কমে যাবে তখন ভালোবাসাতেও ভাটা পড়বে।

আপনি যদি সঙ্গীর কাছ থেকে কথায় কথায় অপমানিত হন তাহলে সতর্ক হয়ে যান। একবার বা দুবার এমন ঘটনা ঘটলে বারবার তিনি আপনাকে ছোট করার সাহস পেয়ে যাবেন। এটি একসময় আপনার মানসিক নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

>> কিছু মানুষ আছেন যারা বিভিন্ন বিষয়ে অন্যের খুঁত ও ভুলত্রুটি খুঁজে বের করেন। সব বিষয়েই এমন মানুষেরা সঙ্গীর বিষয়ে অভিযোগ রাখেন। আপনার সঙ্গীও যদি এমন স্বভাবের হন তাহলে বুঝবেন তিনি মানসিকভাবে আপনাকে টর্চার করছেন।

>> মানুষ বিভিন্ন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যান। তাই বলে কোনো বিষয়ে সঙ্গীকে অবহেলা করা বা এড়িয়ে চলা উচিত নয়। আপনি বিভিন্ন কারণে দুশ্চিন্তায় থাকতেই পারেন তাই বলে সঙ্গীর সঙ্গে বাজে ব্যবহার কিংবা তা পাত্তা না দেওয়ার বিষয়টি মোটেও সুবিধাপজনক নয়।

আপনার সঙ্গীও যদি মাঝে মধ্যেই এমন করেন তাহলে বুঝবেন তিনি আপনাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন। এসব বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন।

>> দু’জনের মধ্যে কথায় কথায় ঝামেলা হওয়ার মানে হলো, আপনাদের সম্পর্ক ভালো নেই। যদি আপনার সঙ্গী এমনই মনোভাবের হন তাহলে সাবধান থাকুন।

এ মানুষগুলো কারণে ও অকারণে ঝামেলা করেন। এবার এই মানুষগুলোর থেকে তো আপনাকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। কারণ এটা আপনাকে ছোট করা ছাড়া আর কিছু নয়।

আপনার সঙ্গে এমন হলে কী করবেন?

সঙ্গী আপনার সঙ্গে এই ব্যবহার করতে শুরু করলে অবশ্যই সতর্ক হয়ে যাবেন। এসব বিষয় মুখ বুজে সহ্য করবেন না কিংবা মেনেও নেবেন না। সঙ্গী যদি বুঝতে পারে যে আপনাকে কাবু করা কঠিন তাহলে আর তিনি এমন ট্রিকস খাটাবেন না।


আরও খবর



বালু উত্তোলন বন্ধে নদীপাড়ে কাস্তে হাতে ৫ শতাধিক কৃষক

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৯৫জন দেখেছেন
Image

পদ্মা নদীতে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে কাস্তে হাতে মানববন্ধন করেছেন পাঁচ শতাধিক কৃষক।

শনিবার (৪ জুন) দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুরে নদীপাড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন জালাল আলী বিশ্বাস, রতন খান, নিজাম উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, আব্দুর রব প্রমুখ।

বালু উত্তোলন বন্ধে নদীপাড়ে কাস্তে হাতে ৫ শতাধিক কৃষক

বক্তব্যে ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দুই বা তিন ফসলি জমিতে পাট, ধান, বাদাম, তিল ও ভুট্টাসহ নানা ফসল আবাদ হয়। কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদী থেকে অবাধে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের পর বিক্রি করছেন। এতে আমাদের কয়েকশ বিঘা আবাদি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে শত শত কৃষকের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় সময় বালুখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


আরও খবর



মহাসাগরের গভীরে লুকিয়ে আছে যত রহস্য

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫৪জন দেখেছেন
Image

আজ বিশ্ব মহাসাগর দিবস। ২০০৮ সালের ৮ জুন থেকে জাতিসংঘ কর্তৃক পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব মহাসাগর দিবস। পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় ৭০ শতাংশ জুড়ে থাকা বিশাল জলরাশির গুরুত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়াতেই এই দিবস উদযাপন করা হয়।

এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের ৫ মহাসাগর- প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক, ভারতীয়, আর্কটিক ও দক্ষিণ (অ্যান্টার্কটিক) মহাসাগর ও এর জলজ প্রাণীদেরকে রক্ষা করা।

মহাসাগর সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানি, আবর এমন অনেক তথ্য অজানাও আছে। যেমন- সাগরের পানি আদৌ নীল নয় কিংবা মহাসাগরের তলেও আছে ঝরনা, হৃদ, নদী, আগ্নেগিরি, গভীর খাদ, সোনাসহ আরও অনেক কিছু। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক মহাসাগরের গভীরে লুকিয়ে থাকা কিছু রহস্য সম্পর্কে-

>> সাগরের নীলাভ রং দেখে সবাই মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তবে জানলে অবাক হবেন, সাগরের নিজস্ব কোনো রং নেই। সূর্যের কারণেই সমুদ্রে একটি নীল আভা তৈরি হয়।

সূর্যের লাল ও কমলা রং সাগরের অনেক গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। ফলে আপনি যত নীচে যাবেন সমুদ্র আরও নীল দেখাবে। সাগরের পানিতে আলো শোষণ করার জন্য পর্যাপ্ত অণু থাকে বলেই তা রং ধারণ করতে পারে।

>> সমুদ্রের গভীরতম অংশটি সত্যিই, সত্যিই গভীর। এ বিষয়েও অনেকেরই ধারণা নেই। মারিয়ানা ট্রেঞ্চকে বিশ্বের মহাসাগরের গভীরতম অংশ পৃথিবীর গভীরতম বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ট্রেঞ্চের অভ্যন্তরে চ্যালেঞ্জার ডিপ নামে পরিচিত একটি উপত্যকা আছে, যা পৃষ্ঠের নীচে প্রায় ৭ মাইল (৩৬ হাজার ফুট) বিস্তৃত।

জানলে অবাক হবেন, মাউন্ট এভারেস্টও নাকি ঢুকে যেতে পারে এই খাদে। ২০১৯ সালে ভিক্টর ভেসকোভো সমুদ্রের গভীরতম অংশে পৌঁছানো প্রথম ব্যক্তি হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন।

তবে তিনি এই খাদের ৩৫ হাজার ফুট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন। আজও এই খাদের সর্বশেষ অংশে কেউ পৌঁছাতে পারেননি।

>> মহাসাগরের তলদেশে একাধিক হ্রদ ও নদী আছে। সমুদ্রের কিছু পৃষ্ঠে এমন দর্শনীয় স্থান আছে যা দেখলে সবার চোখ কপালে উঠে যাবে।

এসব নদী-হ্রদের কয়েকটি মাইলের পর মাইল দীর্ঘ। সমুদ্রের তলদেশ থেকে পানি উঠে যায় ও লবণের স্তরগুলোকে দ্রবীভূত করার মাধ্যমেই এসব নদী-হৃদের সৃষ্টি হয়।

>> সমুদ্রেও নাকি সোনা আছে। তাও আবার মিলিয়ন টন। তবে তা অস্পৃশ্য। তাই চাইলেও সাগরের তলদেশ থেকে সোনা উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

>> পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাত আটলান্টিক মহাসাগরে। আটলান্টিক মহাসাগরের ডেনমার্ক প্রণালীতে সাগরের তলদেশে একটি জলপ্রপাত আছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ২০০০ জলপ্রপাতের সমতুল্য।

পূর্ব দিকের প্রণালীর ঠান্ডা পানি পশ্চিম থেকে আসা উষ্ণ তরলের চেয়ে বেশি ঘন। যখন দুটি পানি মিশে যায়, তখন ঠান্ডা সরবরাহ ডুবে যায় ও একটি জলপ্রপাত তৈরি করে।

>> আমরা সমুদ্রের বেশিরভাগ সামুদ্রিক জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানি। সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে লুকিয়ে থাকা সম্ভাব্য সামুদ্রিক জীবনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ শানাক্ত করেছি আমরা। এর বেশিরভাগই ছোট জীব, তবে সম্ভবত কিছু তিমি ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রজাতি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। প্রতিবছর গড়ে ২০০০ নতুন প্রজাতি শনাক্ত করা হয় মহাসাগর থেকে।

>> প্রশান্ত মহাসাগরের নামকরণ করেন ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান। ১৫১৯ সালে যখন ম্যাগেলান আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছিলেন, তখন তিনি অন্যদিকের পানির শান্তভাব দেখে প্রশান্ত মহাসাগর বা শান্তিপূর্ণ সমুদ্র বলে অভিহিত করেছিলেন। প্রশান্ত মহাসাগর ৫৯ মিলিয়ন বর্গ মাইলজুড়ে অবস্থিত। এটিই গ্রহের বৃহত্তম মহাসাগর হিসেবে বিবেচিত।

>> পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানের অবস্থান হলো দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে। যা পয়েন্ট নিমো নামে পরিচিত। ৩টি প্রতিবেশী দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ১০০০ সমদূরত্ব মাইল দূরে এর অবস্থান। এটি প্রায় মহাকাশের সমমান দুরত্বের স্থান।

>> অনেকেই হয়তো জানেন না যে, বেশিরভাগ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত সমুদ্রের পৃষ্ঠের নীচে ঘটে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভূমি-নিবাসীদের নজরে পড়ে না। কারণ পানির নিচে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, মহাসাগরের তলদেশে ১ মিলিয়নেরও বেশি আগ্নেয়গিরি আছে। যারা কিছু বিলুপ্ত ও কিছু খুব সক্রিয় আছে। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি সমুদ্রের পৃষ্ঠের নীচে অগ্ন্যুৎপাত ঘটিয়ে উত্তপ্ত লাভা ছড়ায়।

>> সমুদ্রের গভীরে বিলিয়ন ডলার মূল্যের ধন থাকতে পারে। সমুদ্রে কত হাজার হাজার জাহাজ ধ্বংস হয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। এসব জাহাজে থাকা ধনসম্পদ নিশ্চয়ই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাগরের তলদেশে।
ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ধারণা, এক মিলিয়ন ডুবে যাওয়া জাহাজ অন্ধকারে লুকিয়ে আছে; অন্যরা উদ্ধার না হওয়া গুপ্তধনের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

>> সাগরের মাছ প্রচুর প্লাস্টিক খাচ্ছে। প্রতিবছর সমুদ্রে ৭ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ফেলা হচ্ছে। সান দিয়েগোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ধারণা, প্রতি বছর সাগরের মাছেরা ১২-২৪ হাজার টন প্লাস্টিক গ্রাস করে।

>> সুনামির তরঙ্গ ১০০ ফুট লম্বা হতে পারে। ১৯৫৮ সালে আলাস্কায় ভূমিকম্প ও ভূমিধসের ফলে ১০০ ফুট উঁচু সুনামি তৈরি হয়েছিল। এতে ১৭২০ ফুট পর্যন্ত সমস্ত গাছপালা ধ্বংস হয়েছিল, যা ইতিহাসে বৃহত্তম সুনামি বলে রেকর্ড করা হয়।

>> সমুদ্রের সবচেয়ে বড় ঢেউগুলো তলদেশে হয়। তরঙ্গগুলো বিভিন্ন ঘনত্বের জলের স্তরগুলোর অংশ ও ভেঙে পড়ার আগে ৮০০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

সূত্র: মেন্টালফ্লস


আরও খবর