Logo
আজঃ Friday ১৯ August ২০২২
শিরোনাম
রূপগঞ্জে আবাসিকের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়বহ অগ্নিকান্ড রূপগঞ্জে পুলিশের ভুয়া সাব-ইন্সপেক্টর গ্রেফতার রূপগঞ্জে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ॥ সভা সরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পুতা দিয়ে আঘাত করে হত্যা,,স্বামী গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা নাসিরনগরে স্বামীর পরকিয়ার,বলি ননদ ভাবীর বুলেটপানে আত্মহত্যা নাসিরনগরে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত ডেমরায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসুচি পালিত
সুস্থ ও স্বচ্ছ চিন্তা যে কোনো ভালো কাজের ভিত্তি

চিন্তা সমস্ত কর্মকাণ্ডের প্রাণ : মামুনুর হাসান টিপু

প্রকাশিত:Sunday ১০ October ২০২১ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৬৫১জন দেখেছেন
Image


 

সম্পাদকীয় :

চিন্তা হচ্ছে মানবীয় সমস্ত কর্মকাণ্ডের প্রাণ। সুস্থ ও স্বচ্ছ চিন্তা যে কোনো ভালো কাজের ভিত্তি। এ চিন্তার জগতে আমাদের দৈন্য এখন স্পষ্ট। সমাজের সিংহভাগ মানুষের চিন্তার সময় নেই। এরা বেকারত্ব, হতাশা, প্রতিহিংসা, অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত। যে স্বল্পসংখ্যক মানুষের সময় আছে তাদের চিন্তা বিভ্রান্ত হচ্ছে চারপাশের অনাকাঙ্ক্ষিত তর্ক-বিতর্কে; অস্পষ্ট ধ্যান-ধারণায়। এ পরিস্থিতিতে সমাজের সামগ্রিক চিন্তাজগতে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়াস চালানো অপরিহার্য।

 

আমরা দায়সারা গোছের, পেশাগত চিন্তার, গতানুগতিক সংশয়-বিতর্কের, শাখাগত সমস্যার ফিরিস্তি বয়ানের এতসব লেখা আপনাদের সামনে হাজির করতে চাই না। প্রতিটি সংখ্যায় অল্প ক’টি লেখা যথার্থ পর্যালোচনা ও সমালোচনার দাবি নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির করতে চাই। এবং আমাদের পোর্টালটিতে বাছাই করা লেখা, চিন্তা, মতামত ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য, সমাজকে নাড়া দেয়ার জন্য, চিন্তার খোরাক দেয়ার জন্য ভালো মানের অল্প লেখাই যথেষ্ট। তবে যদি আমরা মানসম্পন্ন চিন্তাশীল ব্যাপকসংখ্যক পাঠক-লেখক তৈরি করতে পারি তাহলে তাদের মতামত প্রকাশে কলেবর বৃদ্ধি করার ইচ্ছে আছে।

 

দেশ-বিদেশের প্রতি মুহূর্তের ‘ঘটনার’ সংবাদ এখন প্রায় প্রত্যেকের হাতের নাগালেই। চাইলেই পাচ্ছেন, না চাইলেও। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এসব সংবাদ আমাদের কতটুকু সচেতন বা আত্মসচেতন করছে? তর্ক তোলা যায় বিস্তর। কিন্তু না, তর্ক করার বা শোনার ইচ্ছে ও সময় কোনোটাই আমাদের নেই। কারণ আজকাল তর্কের অভাব নেই। সোশ্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়া, চায়ের দোকানে, হাটে-ঘাটে-মাঠে তর্ক-বিতর্ক বিস্তর। তাহলে আমরা যা পেশ করছি- এগুলো কী? কেবলই তর্ক-বিতর্ক নয়? প্রশ্নটা আজকের মতো থাকুক। সব কথা বলতে হয় না। কিছু বুঝে নিতে হয়, কিছু নিজেরা চিন্তা করে বের করে নিতে হয়। নইলে ব্রেন ডেম হয়ে যাবে।

 

️লেখক:মামুনুর হাসান টিপু, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব

 

 


আরও খবর



র‌্যাংকিং টুর্নামেন্টে সেরা রোমান-বিউটি

প্রকাশিত:Thursday ২১ July ২০২২ | হালনাগাদ:Thursday ১৮ August ২০২২ | ৫৩জন দেখেছেন
Image

আরচারদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ এবং ভালো পারফরমারদের উৎসাহ দিতে বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশন মাঝে-মধ্যেই আয়োজন করে ন্যাশনাল র‌্যাংকিং ওপেন টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টে যারা প্রথম ও দ্বিতীয় হন তাদের অর্থ ভাতাও প্রদান করে ফেডারেশন। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিাবর টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে হলো এই টুর্নামেন্ট।

এই প্রতিযোগিতায় রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড ডিভিশনে ৬১ জন পুরুষ ও মহিলা আরচার র‌্যাংকিংয়ের জন্য একক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। রিকার্ভ পুরুষ এককে প্রথম হয়েছেন রোমান সানা এবং দ্বিতীয় হয়েছেন মো: ফয়সাল।

রিকার্ভ মহিলা এককে প্রথম হয়েছেন বিউটি রায় ও দ্বিতীয় হয়েছেন দিয়া সিদ্দিকী। কম্পাউন্ড পুরুষ এককে প্রথম হয়েছেন মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ও দ্বিতীয় হয়েছেন মো. সোহেল রানা। কম্পাউন্ড মহিলা এককে প্রথম হয়েছেন শ্যামলী রায় ও দ্বিতীয় হয়েছেন সুমা বিশ্বাস।

রিকার্ভ পুরুষ এককে বাংলাদেশ আনসারের রোমান সানা ৬-০ সেটে আর্মি আরচারি ক্লাবের মো: ফয়সালকে পরাজিত করে ১ম স্থান অর্জন করেন। রিকার্ভ মহিলা এককে বাংলাদেশ পুলিশ আরচারি ক্লাবের বিউটি রায় ৬-০ সেটে বিকেএসপির দিয়া সিদ্দিকীকে পরাজিত করে ১ম স্থান অজর্ন করেন।

কম্পাউন্ড পুরুষ এককে বাংলাদেশ পুলিশ আরচারি ক্লাবের মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ১৪৪-১৪২ স্কোরে আর্মি আরচারি ক্লাবের মো: সোহেল রানাকে পরাজিত করে ১ম স্থান অর্জন করেন। কম্পাউন্ড মহিলা এককে বাংলাদেশ পুলিশ আরচারি ক্লাবের শ্যামলী রায় ১৪৩-১৩৯ স্কোরে বাংলাদেশ আনসারের সুমা বিশ্বাসকে পরাজিত করে ১ম স্থান অর্জন করেন।


আরও খবর



ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ

প্রকাশিত:Thursday ১৮ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ৫৫জন দেখেছেন
Image

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

তিনি বলেন, ‘সব ধর্মের মূল বাণী হচ্ছে মানুষের কল্যাণ। আদিকাল থেকেই এ দেশে সব ধর্মীয় উৎসব সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় বা জাতিগত ভেদাভেদের অজুহাত তুলে কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ পরিবেশ ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের একটি প্রতিনিধি দল। এসময় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, করোনা মহামারি ও বিশ্বব্যাপী বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে জন্মাষ্টমীর উৎসবে শামিল হতে পারে, সেজন্য রাষ্ট্রপতি সবার প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, সংসদ সদস্য ড. বীরেন শিকদার, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, পংকজ দেবনাথ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন ও সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



পর্যটকে মুখরিত কুয়াকাটা

প্রকাশিত:Friday ১৯ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ১৮জন দেখেছেন
Image

তিনদিনের টানা ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। শুক্রবার (১৯ আগস্ট) ভোর থেকে সৈকতে ভিড় করছে নানা বয়সী মানুষ। কক্ষ খালি না থাকায় পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন এখানকার হোটেল-মোটেল মালিকরা।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার সরকারি ছুটির থাকায় কুয়াকাটায় পর্যটকের উপস্থিতি বাড়ছে। ছুটির আগেই এখানকার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। থাকার জায়গা না পেয়ে পর্যটকরা আশপাশের বাসা-বাড়িতে রাত্রিযাপন করছেন।

kuakata1

ঢাকা থেকে আসা সকলাইন নামের এক পর্যটক জানান, পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় প্রথম আসা। আগে বুকিং না দিয়ে আসায় হোটেল পেতে কিছুটা বিড়ম্বনা হয়েছে। তবে বেশি ভাড়ায় একটি রুম পেয়েছি।

kuakata1

সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, ২০ দিন আগে আমাদের সব রুম অগ্রিম বুকিং হয়েছে। ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় অনেক পর্যটককে ফিরিয়ে দিয়েছি। তবে রুম বাড়াতে আমরা কাজ করছি।

kuakata1

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ মোতালেব শরীফ জাগো নিউজকে বলেন, তিনদিনের ছুটি থাকায় পর্যটকদের এ ভিড়। লম্বা ছুটিগুলোতে পর্যটকদের চাপ সামালাতে কষ্ট হয়। বাকি সময়গুলোতে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।

kuakata1

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ জাগো নিউজকে জানান, টানা তিনদিন বন্ধের আজ দ্বিতীয় দিন। আমাদের কয়েকটি টিম সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রতিকার ঘটনা ঘটেনি।


আরও খবর



‘চোরা নাহি শুনে ধর্মের কাহিনী’

প্রকাশিত:Sunday ১৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ১৯ August ২০২২ | ২৭জন দেখেছেন
Image

শৈশবে গ্রামে দেখেছি সিঁধেল চুরি আর গরু চুরির হিড়িক। আজ রাতে এই বাড়িতে সিঁধ কেটেছে তো কাল ওই বাড়ির। আজ এই বাড়ির গোয়াল ফাঁকা হয়েছে তো কাল ওই বাড়ির। তবে গরু চুরির বিষয়ে ভিন্নতর একটা দৃশ্যও আমাদের চোখে পড়তো। তা হচ্ছে, গৃহস্থ জেনে যেতেন তার চুরি হওয়া গরুটি কোথায় এবং কার কাছে আছে।

কারণ চোর গরু চুরি করে নিয়ে তার বাড়িতে গরু রাখতো না। রাখতো তার নিজস্ব এবং বিশ্বস্ত কারও বাড়ি। কোনো সূত্রে গরু চোর গৃহস্থকে জানিয়ে দিতো তোমার গরু কাল এই সময় পর্যন্ত এমুকের বাড়িতে থাকবে। গৃহস্থ দৌড়াতো ওই বাড়ি এবং গরুগুলোর জন্য কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসতো। চোরের হাত থেকে যে ব্যক্তি এই গরুগুলো রাখতো তাকে বলা হতো ‘থাইব্বলদার’।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আজকাল এই ‘থাইব্বলদারদের’ আর দেখা পাওয়া যায় না। মনে হচ্ছে, গ্রামবাংলার থাইব্বলদাররা এখন উন্নত দেশে স্থানান্তর হয়েছে। আর গরু চোররা রয়ে গেছে বাংলাদেশে। এই থাইব্বলদার হচ্ছে সুইস ব্যাংকসহ বিভিন্ন দেশের কিছু ব্যাংক। তবে বাংলাদেশের অর্থচোরদের লেবাস যে গরুচোরদের মতো নয় সেটা তো সহজেই বোঝা যায়। বাংলাদেশের ওই লোকগুলো তাদের অবৈধ আয়ের টাকা এখন মালয়েশিয়া কিংবা সুইস ব্যাংকে জমা রাখছে। জমাকৃত অর্থ থেকে অর্জিত মুনাফা বাংলাদেশের আমানতকারীর সঙ্গে ভাগাভাগি করে খায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশে যখন ডলার সংকট চলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটকালে, বাংলাদেশ যখন তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ঠিক তখন হাজার হাজার কোটি টাকা সেই থাইব্বলদারদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে দেশকে অচল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। তবে ‘চোরা নাহি শুনে ধর্মের কাহিনী’ বলে একটা কথা আছে। বাংলাদেশেও তাই হচ্ছে। প্রতি বছরই অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকার পরিমাণ শুধু বাড়ছেই। যতই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হোক না কেন, যতই সংশোধনের আহ্বান জানানো হোক না কেন টাকা পাচার বন্ধ হচ্ছে না। পাচারকারীদের কানে যেন তুলো দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমে সংবাদ হচ্ছে, এবছর আগের বছরের তুলনায় অত কোটি টাকা বেশি পাচার হয়েছে। ওই যে গরুচোররা থেকে যেতো অন্ধকারে, হাল আমলের টাকা চোরেরাও থেকে যায় অন্ধকারে। ‘থাইব্বলদার’ আবার আইনগতভাবে নিজেদের ‘থাইব্বলদারি’ বাণিজ্য ঠিকই করে যেতে পারছে। মাঝখান থেকে সম্পদ হারাচ্ছে গৃহস্থ অর্থাৎ এখনকার বাংলাদেশ। ভাবা যায়! বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকেই জমা আছে ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।

প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, এই পাচারকৃত অর্থ আগের বছরের চেয়ে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। মনে করার কারণ নেই, ওই সময় শুধু এই ৩ হাজার কোটি টাকাই বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। বাস্তবতা হচ্ছে- এখানে শুধু সুইস ব্যাংকের তথ্যই জানা গেছে। কিন্তু এশিয়ার একাধিক দেশেও এভাবে বাংলাদেশ থেকে টাকা যাচ্ছে। আর সেই ‘থাইব্বলদারদের’ নামও জানতে পারছে না বাংলাদেশের মানুষ।

আচ্ছা বাংলাদেশের অতীতের সেই গরুচোরদের নাম কি কোনোভাবেই জানা যেতো না? নাম কিন্তু কোনো না কোনোভাবে জানা হয়েই যেতো। তাহলে আধুনিক সুযোগ হাতে থাকার পরও বাংলাদেশ কোন কারণে টাকা পাচারকারীদের নাম জানতে পারছে না। কিংবা কোন কোন সূত্র থেকে সুইস ব্যাংকের ওই টাকাগুলো গেছে তা বের করাও কি এতটাই কঠিন বিষয়? বাংলাদেশ থেকে এই টাকাগুলো জমার সূত্র হিসেবে-বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনরা বলেন, বিদেশে অবস্থানকারীরা এই টাকা সরিয়েছে। আবার কখনো বলা হয়, এই টাকা আন্ডার ইনভয়েস কিংবা ওভার ইনভয়েস মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হয়েছে।

বিদেশে অবস্থানকারী বাঙালি কারও কাছ থেকে এই টাকা গেছে, এটা আদৌ কি বিশ্বাসযোগ্য। তাহলে বাকি থাকে হুন্ডি মাধ্যমে পাচার হওয়ার বিষয়টি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় অধিকাংশ টাকাই হুন্ডি মাধ্যমে পাচার হয়ে গেছে। এই হুন্ডি ব্যবসার খবর সবাই জানে। কিন্তু তাদের টিকিটিও ধরার কোনো ক্ষমতা কি বাংলাদেশের নেই?

এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটরিংয়ের বিষয়টি অনেকেই আলোচনা করেন। হয়তো তাদের ব্যর্থতার মাত্রাটাও একটিু বেশিই। তা নাহলে তারা সেগুলো ধরতে পারছে না কেন। এদিকে সরকার টাকা ফেরত আনার একটি বড় অপসন এবারও খোলা রেখেছে। চলতি বাজেটে এসব পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা এখনও শুনতে পারিনি যে, কী পরিমাণ টাকা বাংলাদেশে ফেরত এসেছে। কিংবা আদৌ সেই টাকা বাংলাদেশে ফেরত আসবে কি না।

এমন পরিস্থিতিতে ১১ আগস্ট দেশের উচ্চ আদালত সরকারকে বলেছেন, সুইস ব্যাংকে অবৈধপথে বাংলাদেশিরা যেসব অর্থ জমা রেখেছেন বা পাচার করেছেন সেসব বিষয়ে সরকার এবং দুদক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা জানতে চেয়েছেন। সময়ও বেঁধে দিয়েছেন আদালত। হয়তো সরকার আদালতের কাছে তাদের পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করবে।

আমরাও তেমন কিছু দেখার পর এটা কি বলতে পারবো, জমা হওয়া টাকার পরিমাণ অনেক কম। কিংবা পাচার হওয়া টাকাগুলো ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুইস ব্যাংকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়েছে কি? অবশ্য এই প্রশ্নের জবাব ঢাকায় নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড জানিয়েছেন এসব টাকা কীভাবে জমা হয়েছে, কারা জমা করেছেন এ বিষয়ে কোনো তথ্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়নি এই পর্যন্ত।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হতে পারে, সুইজারল্যান্ডের সংবিধান এবং ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকের হিসাবধারীদের তথ্য প্রকাশ করার বিধান নেই। কিন্তু সেটাও কি ধোপে টেকার মতো? কারণ সুইস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে সুইস ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের পরিচয় প্রকাশে বাধ্য, সেই অপরাধ সুইজারল্যান্ডই হোক আর অন্য কোনো দেশেই হোক।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যদি একযোগে কাজ করে তাহলে তথ্য জানা অসম্ভব কিছু থাকবে না। যেহেতু সুইস ব্যাংকেরই বিধান আছে অপরাধ তদন্তের প্রয়োজনে তারা গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশ করতে পারে, আর সেই সুযোগটি যদি বাংলাদেশ গ্রহণ করে তবে বাংলাদেশের অপরাধীদের চিহ্নিত করা অসম্ভব কিছু নয়।

অবৈধ অর্থ জমা দেওয়ার ব্যাংক হিসেবে সুইস ব্যাংকের খ্যাতি বেড়ে যাওয়ায় অর্থপাচারকারীরা নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি অন্য দেশের ব্যাংকগুলোকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। তাই এই মুহূর্তে যদি বিষয়টি সম্পর্কে দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এর মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, সেই পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে এই টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও সরকার গ্রহণ করতে পারে। অবৈধভাবে পাচার হওয়া আরাফাত রহমান কোকোর টাকা বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে। সুতরাং বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়টি অচিন্তনীয় এমন ভাবার কারণ নেই। সেই উদ্যোগটি যদি সুইস ব্যাংকে জমা হওয়া টাকার ক্ষেত্রেও গ্রহণ করা হয় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতি কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

লেখক: সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক।


আরও খবর



উ. কোরিয়ার অনুকরণ করছে চীন: তাইওয়ান

প্রকাশিত:Thursday ০৪ August ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ১৭ August ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

প্রতিবেশীদের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে চীন উত্তর কোরিয়ার মতো আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছে তাইওয়ান। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) চীনের সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে দ্বীপটির চারপাশে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেছে তাইওয়ানিজ সরকার। খবর বিবিসির।

তাইওয়ানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিতর্কিত সফর শেষ হওয়ার পরের দিনই ‘অভূতপূর্ব’ মাত্রায় সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। তাইপেই বলেছে, দ্বীপটির উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বেইজিং।

চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, দেশটি ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।

পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে সম্প্রতি চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র দাবি করলেও দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে চীন।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনের অভূতপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক মহড়ার কারণে দ্বীপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।

উ. কোরিয়ার অনুকরণ করছে চীন: তাইওয়ান

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, অন্য দেশের কাছাকাছি জলসীমায় ইচ্ছা করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়ার অনুকরণ করছে চীন।

এদিন তাইওয়ান অভিমুখে তাজা গোলা নিক্ষেপের মহড়াও শুরু করেছে বেইজিং। আগামী রোববার পর্যন্ত চলবে এই মহড়া।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে চীন। এতে তাইওয়ান থেকে সমুদ্র ও আকাশপথে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। জাহাজগুলো অন্য পথে যেতে বাধ্য হচ্ছে। দ্বীপের তাওয়ুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বেইজিংয়ের ‘এক-চীন’ নীতি স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র। তাইওয়ানের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। তবে দ্বীপটির সঙ্গে ভিন্ন আঙ্গিকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র যদিও জোর দিয়ে বলে, তাইওয়ান সংকট কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়েই সমাধান করা যায়। এরপরও মার্কিন আইনে তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহ এবং দ্বীপটিকে রক্ষায় নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। তবে চীন-তাইওয়ানের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে হস্তক্ষেপ করবে কি না অথবা কীভাবে করবে সে বিষয়ে বরবরই ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ বজা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।


আরও খবর