Logo
আজঃ Tuesday ২৮ June ২০২২
শিরোনাম
নাসিরনগরে বন্যার্তদের মাঝে ইসলামী ফ্রন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ রাজধানীর মাতুয়াইলে পদ্মাসেতু উদ্ধোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল রূপগঞ্জে ভূমি অফিসে চোর রূপগঞ্জে গৃহবধূর বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট ॥ শ্লীলতাহানী নাসিরনগরে পুকুরের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৪ পদ্মা সেতু উদ্ভোধন উপলক্ষে শশী আক্তার শাহীনার নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করোনা শনাক্ত বেড়েছে, মৃত্যু ২ জনের র‍্যাব-১১ অভিমান চালিয়ে ৯৬ কেজি গাঁজা,১৩৪৬০ পিস ইয়াবাসহ ৬ মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে বন্যাকবলিত ভাটি অঞ্চল পরিদর্শন করেন এমপি সংগ্রাম পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপগঞ্জে আনন্দ উৎসব সভা ॥ শোভাযাত্রা
দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি

বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা যাবে-জাতিসংঘের মহাসচিব

প্রকাশিত:Sunday ২২ May 20২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ১১৪জন দেখেছেন
Image

খবর প্রতিদিন ডেস্কঃ

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস সামনের দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা যাবে বলে সতর্ক করেছেন।বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থা দুর্বল হয় করোনা মহামারিতে।এর প্রধান কারণ দেশে দেশে ধারাবাহিকভাবে কঠোর বিধিনিষেধ। বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ব্যস্ত তখনই শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ। যা খাদ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এরই মধ্যে দেশে দেশে দেখা দিয়েছে রেকর্ড মূল্যস্ফীতি। বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যয়।


জানা গেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমাদের কঠোর বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে বন্ধ হয়ে গেছে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি। ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বব্যাপী খাদ্যের ১০ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করে। তারা বিশ্বের গম রপ্তানির ৩০ শতাংশের পাশাপাশি সূর্যমুখী তেলের ৬০ শতাংশ উৎপাদন করে। কমপক্ষে ২৬টি দেশ তাদের অর্ধেকেরও বেশি খাদ্যশস্যের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল।


চলতি সপ্তাহের শুরুতে ২০২২ সালের পর গমের দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। আও ছয় শতাংশ বেড়ে যায় ভারতের গম রপ্তানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের পর।


গত বছরের জুলাইতে শুরু হওয়া ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে রাশিয়া বিশ্ব চাহিদার ১৬ শতাংশ গম রপ্তানি করে। এ ক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবদান ছিল ১০ শতাংশ। কিন্তু সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় দেশ দুইটি শস্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়।


ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের (ইএইইউ) বাইরে গম, রাই, যব ও ভুট্টা রপ্তানি ৩০ জুন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করে। এদিকে ইউক্রেন ওডেসাতে একমাত্র অবশিষ্ট বন্দর বন্ধ করে দিয়েছে।


তাছাড়া কাজাখস্তানসহ কয়েকটি প্রধান শস্য সরবরাহকারী দেশ যখন রপ্তানি বন্ধ করে দেয় তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেই দেশগুলো এমন সিদ্ধান্ত নেয়।


এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে না এমন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে একশ ৬০ কোটি। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে প্রায় ২৫ কোটি। পাশাপাশি আরও কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যতার মধ্যে পড়তে পারে।


আরও খবর



মাত্র একদিনের জ্বালানি তেল রয়েছে শ্রীলঙ্কায়

প্রকাশিত:Monday ২৭ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ২৮জন দেখেছেন
Image

অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া শ্রীলঙ্কায় আবারও জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, দেশটির হাতে কোনো রকম একদিনের জ্বালানি তেল রয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির সংরক্ষণাগারে কেবল এক দশমিক এক হাজার টন পেট্রল ও সাত দশমিক পাঁচ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় কোনো তেলবাহী জাহাজ পৌঁছায়নি। কারণ কলম্বো প্রয়োজনীয় মূল্য সরবরাহ করছে ব্যর্থ হচ্ছে। তাছাড়া সম্প্রতি ঋণ খেলাপি হওয়ায় দেশটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে বিদেশি কোম্পানিগুলো।

এদিকে মূল্যছাড়ে জ্বালানি তেল কিনতে রাশিয়া ও কাতারে মন্ত্রীদের পাঠাচ্ছে শ্রীলঙ্কার সরকার। অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বড় সংকট চলছে জ্বালানির। শনিবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্য সব কিছু থাকলেও জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটির পাম্প স্টেশনগুলোতে যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হতে শুরু হয়েছে।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকেরা রোববার বলেছেন, গত মাসে রাশিয়া থেকে ৯০ হাজার টন সাইবেরিয়ান ক্রুড কেনা হয়। এখন আরও তেল কিনতে সোমবার (২৭ জুন) দুই মন্ত্রীকে মস্কো পাঠানো হবে।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এই প্রথম তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এরই মধ্যে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ তলানিতে ঠেকেছে। দ্বীপ রাষ্ট্রটির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ আমদানিতে ডলার সরবরাহ করতে পারছে না।


আরও খবর



কৃষি অব্যবস্থাপনা: বেশি উৎপাদনেও কৃষকের কান্না!

প্রকাশিত:Thursday ১৬ June ২০২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৮ June ২০২২ | ৩৯জন দেখেছেন
Image

বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সুপরিবর্তনের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে প্রথমেই বলতে হবে কৃষি খাতের কথা। খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনই শুধু নয়, কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি খাতই ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করেছে উৎপাদনের দিক থেকে, যা বিশ্ব খাদ্য সংস্থা থেকে শুরু করে দুনিয়ার সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানই স্বীকার করে।

আমাদের কৃষকরা দেখিয়ে দিয়েছেন, তারা সহযোগিতা পেলে অসাধ্য সাধন করতে পারেন। এর সুফল ইতোমধ্যে দেশের মানুষ পাচ্ছে। কিন্তু তারপরও আমাদের বলতে হবে, বাংলাদেশে কৃষি ব্যবস্থাপনার অবস্থান উৎপাদনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে।

মনে করার যৌক্তিক কারণ আছে যে, খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য সব পক্ষ উৎপাদন বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধে নামলেও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া কিংবা ফলাফল সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা তেমন করা হয় না। করলেও তাদের চিন্তা-পরিকল্পনাগুলো গতি লাভ করতে পারেনি। অন্তত উৎপাদন বৃদ্ধির সমান্তরালে যেতে পারেনি।

আমাদের দেশের কৃষকরা আসলে লাভ লোকসানের কথা গভীরভাবে চিন্তা করেন না। তাদের মনোজগৎজুড়ে থাকে মাটি, আর উৎপাদিত ফসল। একাগ্রভাবে তাদের শ্রম মেধা প্রয়োগ করে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে। আগেই বলেছি তারা এক্ষেত্রে শতভাগ সফলও বটে।

উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের সহযোগিতার প্রসঙ্গ বলতে গেলে কৃতজ্ঞতাসহ স্বীকার করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দায়িত্বশীলতার প্রমাণ রাখছে অধিকাংশক্ষেত্রে। তাদের গবেষণা সাফল্যের ছোঁয়া প্রতিটি স্তরে চোখে পড়ার মতো। নতুন বীজ উদ্ভাবন, অধিক উৎপাদনশীলতা এবং সংরক্ষণ, চাষাবাদ প্রযুক্তি সবক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা যায়। কর্মচাঞ্চল্যটা আসলে ঢাকা কিংবা গবেষণাগারকেন্দ্রিক নেই। তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার কারণে ভোক্তারা এর সুফল ভোগ করছেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে চাই। বছর তিনেক আগে আমি ফলের বাগান করি গ্রামের বাড়িতে। সঙ্গত কারণেই ফসলি জমিতে মাটি ফেলে অনেকটা উঁচু করতে হয়। কুমিল্লা হর্টিকালচার বিভাগ এবং স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হয় সেই সুবাদে। আমার চাহিদা অনুযায়ী ফলের কলম চারা ইত্যাদি দিয়ে তারা সহযোগিতা করেন সরকারি মূল্যে। বিনামূল্যে দেন পরামর্শ। ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষি কর্মীদের যখনই ফোন করা হয়, তারা বাগান দেখেন, তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেন।

গত বছর জুন মাসে বাড়ি যাওয়ার সময় বাসার কাছের একটি মোদি দোকানে দেখি একটি বস্তার নিচে পড়ে আছে কিছু আদা। মাত্র ৬০০ গ্রাম। সবই চারা গজানো। নিয়ে যাই বাড়িতে। উদ্দেশ্য পরীক্ষামূলক লাগিয়ে দেখা। গ্রামে যেই শুনেছে সেই হাসাহাসি করেছে এই দেখে। তাদের কথা আদা-হলুদ লাগাতে হয় বৈশাখে। আমি তারপরও লাগাই। গত বছর আষাঢ় মাসে লাগানো আদা বৈশাখে তোলা হলো। ৬০০ গ্রাম আদা লাগিয়ে পাওয়া গেলো ৬ কেজি। নতুন মাটি ছিল। কোনো সার ওষুধ কিছুই লাগেনি। কোনো নিড়ানি কিংবা আলাদা শ্রমও দিতে হয়নি।

এই বছরও জ্যৈষ্ঠ মাসেই লাগালাম ১৫ কেজি আদা ও হলুদ। এটাও পরীক্ষামূলক। এবার দোঁয়াশ ও বালু মাটিতে লাগানো হয়েছে এবং সনাতন ধারায় বৈশাখে লাগানোর পরিবর্তে জুন মাসে। প্রথম বছর পরীক্ষামূলক লাগানোর পর যে ফল পাওয় গেছে তার অর্ধেক ফলনও যদি হয়, আর সেটা যদি হয় সারাদেশে তাহলে কোনো কারণেই কোটি কোটি টাকার আদা আমদানির প্রয়োজন হবে না। এখনও আমাদের কোটি কোটি টাকার আদা ও হলুদ আমদানি করতে হয়।

চাহিদার সামান্য অংশই দেশীয় উৎপাদিত মসল্লায় পূরণ হয়। এবারও আদা লাগানো হয়েছে ফলের বাগানে। হয়তো সবখানে এভাবে দ্বৈত চাষ সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি বাড়িরই আঙ্গিনা আছে, আম-জাম গাছতলা আছে। সেখানে দুটি মসলাই চাষ করা যায়। শুধু আদা-হলুদ চাষ করার জন্য আলাদা জমি না হলেও চলে। এটা আমার অভিজ্ঞতার কথা বলছি। একটা পরিসংখ্যানে দেখলাম ২০২০ সালেই ২ হাজার টন হলুদ আমদানি হয়েছে।

তাহলে সমস্যাটা কোথায়? মসল্লা উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ার পরও উৎপাদন হচ্ছে না কেন? মসলা গবেষণা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হচ্ছে প্রয়োজনীয় বীজ পাওয়া যায় না আদা ও হলুদের। প্রশ্ন হচ্ছে আমরা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে পারি মসলা আমদানি করতে গিয়ে, সেখানে বীজ আমদানি করতে নিরুৎসাহী কেন। অধিকাংশ মসলা চাষে জমির প্রয়োজন হয় কম। অনেক মসলা পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ সম্ভব। তাহলে বলতে হবে আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেই প্রতি বছর দুর্বিষহ অবস্থার মুখে পড়তে হয়।

কৃষি ব্যবস্থাপনার অন্যতম আরেকটি দিক হচ্ছে বিপণন ব্যবস্থা। বিপণন ব্যবস্থা যে কতটা নাজুক তার প্রমাণ আমরা প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পাই। গত রমজানে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হয়েছে। সেই তরমুজ রোজার পর মৌসুমে এসে বিক্রি হয়েছে ১০-১৫ টাকা কেজি হিসেবে। শুধু তাই নয়, এমন ছবিও পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, কৃষকরা তরমুজ নদীতে ভাসিয়ে দিচ্ছে।

যেমন বিপাকে পড়েন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এলাকার আনারস চাষীরা। আমাদের কৃষি সমস্যায় দুটো দিক। একবারে শাখের কড়াতের মতো। উৎপাদন হয় না, হলে কৃষক উৎপাদন ব্যয় ঘরে তোলতে পারে না। অথচ আন্তরিকতা এবং শ্রমের ঘাটতি নেই। আরেকটি ব্যক্তিগত উদাহরণ দেই।

আমার গ্রামে কৃষি বিভাগীয় একজন কর্মীর সহযোগিতায় কুমিল্লা কৃষি গবেষণা সংস্থা থেকে এবার কচুরলতির আবাদের জন্য বিনামূল্যে ৪ হাজার চারা দেওয়া হয় একই জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা গ্রামের মোস্তফা ছারওয়ারকে। উদ্দেশ্য ওই এলাকায় একেবারে নতুন সবজির চাষ শুরু করা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ সহযোগিতার পাশাপাশি সারও দেওয়া হয়। মোস্তফা ছারওয়ার অর্ধেক চারা লাগান পরীক্ষামূলকভাবে। বাকি চারা আরেকজনকে দিয়ে দেন। মোট তিনজন কৃষক এবছর কচুরলতির চাষ করেন ৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায়। প্রথম বছরই অবাক করার মতো উৎপাদন হয়। শুধু মোস্তফা ছারওয়ারের জমিতে প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি লতি তোলা যাচ্ছে। কিন্তু খুশি থাকতে পারলেন না এই লতি চাষী।

তিনি উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে পারছেন না। বিক্রিমূল্য অস্বাভাবিক কম হওয়ার কারণে উদ্ভাবনের চেষ্টাকে বোকামি ভাবতে শুরু করেছেন। লতি বিক্রয়যোগ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ব্যয় বাদ দিয়ে শুধু জমি থেকে লতি বাজার পর্যন্ত নিতে যে ব্যয় হয় সেটাও পাচ্ছেন না লতি বিক্রি করে।

একজন কৃষিশ্রমিকের পক্ষে দিনে ৪০ কেজি লতির বেশি তোলা সম্ভব হয় না। প্রথম দিকে যখন দৈনিক ১৫-২০ কেজি উৎপাদন হতো তখন তিনি বিক্রি করতেন ২০-২৫ টাকা কেজি। কিন্তু যখনই দৈনিক উৎপাদন ৪০ কেজি বা তার বেশি হওয়া শুরু করে তখন স্থানীয় কয়েকটি বাজারে নিয়ে তিনি কচুরলতি বিক্রি করতে পারছেন না।

তিন চাষীর লতি যখন একই এলাকায় যেতে শুরু করেছে তখন স্থানীয় চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লতি বাজারে মজুত হয়। ফলে এক লাফে লতির দর নেমে যায় ১০ টাকা কেজিতে। এতে শুধু বাজারজাতকরণের জন্য তার পকেট থেকে দৈনিক ২-৩শত টাকা লোকসান গুনতে হয়। কারণ লতি তোলার জন্য একজন শ্রমিককে তার দৈনিক দিতে হয় ৪০০-৫০০ টাকা। পরিবহন খরচ ১০০ টাকা যোগ করে খরচ হয় ৬০০ টাকা। সেখানে বিক্রি করে পাচ্ছেন ৪০০ টাকা।

এমন পরিস্থিতিতে কয়েক মণ লতি তিনি জমির পাশে ডোবায় ফেলে দেন। কিন্তু জমিতে লতিগুলো গাছে থেকেই চারা গজাতে শুরু করায় তিনি বাধ্য হন জমি থেকে লতি তোলার জন্য। ফলে বেশি ফলনের কারণেও তিনি বিপাকে পড়েছেন। কিন্তু ৫-১০ মণ লতি নিয়ে শহরে যাওয়া সম্ভব নয় তার পক্ষে। দ্বিতীয়ত দূরের শহরে বিক্রি করতে গেলে তার যে সময় ব্যয় করতে হবে, তাতে অন্যদিক দিয়ে ক্ষতি আরও বেড়ে যাবে।

এখানে বড় ঘাটতি হচ্ছে কৃষি বিপণন ব্যবস্থার। স্থানীয় কৃষিকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম উপজেলা পর্যায়েও কৃষি বিপণন কার্যালয় নেই। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?

যেহেতু সবজির চাহিদা আছে এবং এই সবজির উৎপাদন বেশি। সেক্ষেত্রে কৃষি বিভাগকে এদিকে নজর দিতে হবে। নতুন এলাকা হওয়ার কারণে মধ্যস্বত্বভোগী পাইকাররাও জানে না এ খবর। সেক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি বিভাগ বিপণন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে যদি প্রথম বছরই বিক্রি সহায়তা করে তাহলে আগামীতে এই এলাকায় লতি চাষ বাড়বে। অন্তত নতুন চাষীরা বিক্রির নিশ্চয়তা পেলে এই এলাকাই হতে পারে বিশেষায়িত অঞ্চল।

শুরুতে কৃষি ব্যবস্থাপনার কথা বলছিলাম। এখানেও আমার দেখা কৃষি ব্যবস্থার কথা বলি। আমাদের শৈশবে আমাদের এলাকায় উন্নতজাতের ধান চাষ হতো না। আমন আউশ আর পাট চাষের ওপরই নির্ভর করতো মানুষ। আর হতো রবিশস্য চাষ। কিন্তু খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে মানুষ ধান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

সরকারিভাবেও সহযোগিতা বেড়ে যায় ধান চাষের ক্ষেত্রে। এখন রবিশস্য চাষ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে ওই এলাকায়। এলাকায় ধানের চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় ধানের দাম উৎপাদন ব্যয়ের চেয়েও কমে যায়। কিন্তু কৃষক নতুন আবাদের পরামর্শ পাচ্ছে না কিংবা দিকনির্দেশনাও পাচ্ছে না। ফলে ধান উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্যের পরও তার হতাশা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে ধান চাষের পাশাপাশি রবিশস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে মনে হয় কৃষক বাঁচবে একইসঙ্গে শত শত কোটি টাকার ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আদা আমদানিও করতে হবে না। হলেও তার পরিমাণ অনেকাংশে কমে যাবে। সবার আগে সরকারিভাবে কৃষি বিপণনের বিষয়টিকে জোরালো করতে হবে অবশ্যই। কৃষককে যেন চিৎকার করতে না হয় কোন ‘গুণ নাই তার কপালে আগুন’ বলে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট।


আরও খবর



ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত:Saturday ০৪ June ২০২২ | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৫৮জন দেখেছেন
Image

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষা, জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করিয়ে গড়ে তুলতে হবে। এটি প্রচলিত ও গতানুগতিক শিক্ষায় অসম্ভব। বাস্তবমুখী বিশ্বমানের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনেই কেবল যোগ্য নাগরিক গড়া সম্ভব।

শনিবার (৪ জুন) কক্সবাজারে কোস্টাল বায়োডাইভারসিটি মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ রিসোর্স সেন্টারের ‘মেরিন রিসার্চ হ্যাচারি’ উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেরিন রিসার্চ হ্যাচারিতে মালয়েশিয়ান কারিগরি প্রযুক্তিতে তেলাপিয়া-পাঙাশের মতো ভেটকি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন শুরু করতে পারলে তা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এটি সম্ভব হলে দেশের মৎস্যক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন হবে। এ লক্ষ্যে উন্নত গবেষণাগার হবে মেরিন হ্যাচারি। এখানে বাংলাদেশের গবেষকের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের গবেষকরা যৌথভাবে কাজ করবে।

jagonews24

দীপু মনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে পাবলিক অথবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হবে। যেহেতু কক্সবাজারে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তাই এই মুহূর্তে এখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইসেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) কক্সবাজার দরিয়ানগরস্থ কোস্টাল বায়োডাইভারসিটি মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ রিসোর্স সেন্টারের মেরিন রিসার্চ হ্যাচারি পরিদর্শন ও উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

সিভাসুর মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আবছার খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক এসময় উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



‘ডেইরি আইকন-২০২১’ নির্বাচিত এমজিআইয়ের ইউনাইটেড ফিডস

প্রকাশিত:Sunday ০৫ June ২০২২ | হালনাগাদ:Monday ২৭ June ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

 

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফিডস্ লিমিটেড, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ ফিডসের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে পোলট্রি ও ফিশারিজ শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রস্তুতকৃত, ইউনাইটেড ফিডস্ লিমিটেডের উন্নত মানের ‘ফ্রেশ ফিড’, খামারিদের কাছে বর্তমানে বেশ সমাদৃত একটি নাম।

সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২২ উদযাপন ও ডেইরি আইকন সেলিব্রেশন’ অনুষ্ঠানে, ‘পশু খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ’ ক্যাটাগরি-তে ‘ডেইরি আইকন-২০২১’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ইউনাইটেড ফিডস্ লিমিটেড।

বুধবার, (১ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই স্বীকৃতির ক্রেস্ট ও সম্মাননা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামালের পক্ষে এই ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন ডিরেক্টর ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের ফুড ও এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন, বিশ্বব্যাংক-এর সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান বার্জার, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানী।

ইউনাইটেড ফিডস্ লিমিটেডের পক্ষে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. হারুন অর রশিদ ও এজিএম (নিউট্রিশান অ্যান্ড কিউসি) ড. মো. মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বোচ্চ মানের পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখে, দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে অবদান রাখতে এমজিআই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই স্বীকৃতি, এমজিআই-এর সেই নিরলস প্রচেষ্টারই ফল। ‘ডেইরি আইকন-২০২১’-এর এই স্বীকৃতিতে ইউনাইটেড ফিডস্ লিমিটেড সত্যিই গর্বিত। এই অর্জনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইউনাইটেড ফিডস্ লিমিটেড ভবিষ্যতে দেশের পোলট্রি ও ফিশারিজ শিল্পের সাফল্যে আরও অবদান রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।


আরও খবর



ময়মনসিংহে বাসচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রকাশিত:Thursday ০২ June 2০২2 | হালনাগাদ:Sunday ২৬ June ২০২২ | ৪৯জন দেখেছেন
Image

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাসচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ত্রিশাল-বালিপাড়া সড়কের শেখবাজার করতালী ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের তেরছাটি গ্রামের মৃত আব্দুল হেলিমের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক (৪০) ও একই উপজেলার পৌর সদরের দত্তপাড়া গ্রামের শফিকুর রহমানের মেয়ে আইরিন সুলতানা (৩০)।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুই ব্যক্তির সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওই দুই মোটরসাইকেল আরোহী ত্রিশাল থেকে ঈশ্বরগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। বালিপাড়া সড়কের শেখবাজার করতালী ব্রিজ এলাকায় আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা শালবন পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।

ওসি আরও বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরও খবর