Logo
আজঃ Wednesday ২৬ January ২০২২
শিরোনাম
অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সহ-শিল্পীদের নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশের মাটিতে কৃষিপণ্য সরবরাহ বাড়াণোর লক্ষ্যে : ইরান রাজনৈতিক কঠিন চাপে রয়েছেন মেয়র আরিফুল স্বপ্নের মেট্রোরেল রওনা হলো আগারগাঁওয়ের উদ্দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণে ভারতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ মুরাদ হাসান এমিরেটসের ফ্লাইটে কানাডা গেলেন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আগামী বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের উন্নতি দেখতে চান করোনাভাইরাসে আরও ছয়জনের মৃত্যু বিশ্বের ৪৩তম ক্ষমতাধর নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিশ্বের ৪৩তম ক্ষমতাধর নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:Wednesday ০৮ December ২০২১ | হালনাগাদ:Wednesday ২৬ January ২০২২ | ২১০জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্কিন অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের ২০২১ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৩তম স্থানে রয়েছেন। বিশ্বজুড়ে রাজনীতি, মানবসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণমাধ্যম খাতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে আসা প্রভাবশালী নারীদের মাঝ থেকে ১০০ জনকে বেছে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এই তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের এই তালিকায় ৪৩তম স্থানে আছেন। এর আগে ২০২০ সালে ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীর তালিকায় ৩৯তম স্থানে ছিলেন তিনি।

শেখ হাসিনা সম্পর্কে ফোর্বস লিখেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হয়েছেন তিনি; যা তার মেয়াদেই টানা তৃতীয়বার। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জিতে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

ফোর্বস বলছে, এবারের মেয়াদই নিজের জন্য শেষ হিসেবে মনে করেন শেখ হাসিনা। এই মেয়াদে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।

মার্কিন এই সাময়িকী লিখেছে, ‌‘শেখ হাসিনার চলমান লড়াই বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করছে। বাংলাদেশি নির্বাচনে ভোটারদের দমনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেখ হাসিনা ও তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’

২০০৪ সাল থেকে প্রত্যেক বছর বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে ফোর্বস। এবারের ১৮তম সংস্করণে মার্কিন এই সাময়িকী বিশ্বের ৪০ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), ১৯ বিশ্ব নেতা, একজন ইমিউনোলজিস্ট রয়েছেন। এক দশকের বেশি সময় পর এবারই প্রথম নতুন প্রভাবশালী নারী বেছে নিয়েছে ফোর্বস।

ই–কমার্স জায়ান্ট আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ও সমাজসেবক ও লেখক ম্যাকেঞ্জি স্কট ফোর্বসের শীর্ষ ক্ষমতাধর নারী নির্বাচিত হয়েছেন। ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানের পর ২০১৯ সালে আমাজনের ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হন ম্যাকেঞ্জি স্কট। বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় ধনী নারী তিনি। কিন্তু সেই সম্পদে তার নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার—এবং অর্থবহ ও বৈপ্লবিক উপায়ে দান করার দৃঢ় সংকল্প তাকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রেখেছে।

ফোর্বসের শত প্রভাবশালী নারীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ-এশীয় নারী হিসেবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস। ফোর্বস বলছে, অনেক প্রথমের জন্ম দেওয়া কমলা হ্যারিস ২০১৬ সালে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন। তারও আগে ২০১০ সালে প্রথম আফ্রো-আমেরিকান এবং প্রথম নারী হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ফোর্বসের এই তালিকায় গত বছর ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিন লাগার্দ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও এবার ৩ নম্বরে নেমে গেছেন তিনি। গত মে মাসে স্বামী বিল গেটসের সঙ্গে ডিভোর্সের পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারীতে পরিণত হওয়া মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ফোর্বসের ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন।

মানবাধিকার ও নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছেন তিনি। বিচ্ছেদ হলেও দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেলিন্ডা গেটসের সম্পদের পরিমাণ ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ফোর্বসের ক্ষমতাধর নারীদের এই তালিকায় ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আছেন ৩৭তম স্থানে। গত বছর এই তালিকায় ৪১তম স্থানে ছিলেন ২০১৯ সালে ভারতের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সীতা। তিনিই ভারতের প্রথম পূর্ণ নারী অর্থমন্ত্রী।


আরও খবর



দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:Thursday ০৬ January ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৬ January ২০২২ | ১১০জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক" দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে উন্নয়ন, প্রযুক্তি জ্ঞান বৃদ্ধি এবং বিশ্ব দরবারে যেন তারা মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেইভাবে আওয়ামী লীগ সরকার পদক্ষেপ নেয় এবং বাস্তবায়ন শুরু করে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতগুলো উন্মুক্ত করে দেই। সরকার জনগণের সেবক; সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রাজধানীর বিজয় সরণিতে অবস্থিত সামরিক জাদুঘর উদ্বোধনের পর তিনি এসব কথা বলেন।

জাদুঘরটি উদ্বোধন করে নিজেকে ধন্য মনে করেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,‘এটি সশস্ত্র বাহিনীর জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং আমাদের তিন বাহিনী সম্পর্কে আমাদের তরুণ প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবে। সম্যক জ্ঞান পাবে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের মধ্যে একটি প্রেরণা আসবে। তারা তৃপ্ত হবেন।’

সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার পেছনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন,‘স্বাধীনতার পরে তিনি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী গঠন করেন। তাদের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলেন। সাড়ে তিন বছর সময়ের মধ্যে রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি কাজ করেছেন। যুদ্ধ ক্ষতবিক্ষত দেশকে তিনি শূন্য থেকে দাঁড়িয়ে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন ও তারা যাতে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন তার জন্য বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য সেটা তিনি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। একই সঙ্গে আমার মা ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপনজন হারিয়েছিলাম এটা সত্য কিন্তু বাংলাদেশ কী হারিয়েছিল? একের পর এক ক্যু হয়েছে। শত শত সেনা অফিসারকে জীবন দিতে হয়েছে। অনেক পরিবার এখনো তাদের খোঁজও পায়নি। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চলে অত্যাচার নির্যাতন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ যে আদর্শ নিয়ে স্বাধীন হয়েছিল তার থেকে বিচ্যুত হয়। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থেমে যায় যা কখনো হওয়ার কথা নয়।’

বারবার নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে কেবল দেশের উন্নয়ন নয় বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। ইশতিহারের ঘোষণা অনুযায়ী, সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

জাদুঘরের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের যে ইতিহাস রয়েছে-স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সেই সঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক সশস্ত্র বাহিনী-দেশের মানুষ যেন সে সম্পর্কে জানতে পারে, উপলব্ধি করতে পারে, আমাদের সামরিক বাহিনী অর্থাৎ সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী কী কাজ করে, কিভাবে চলে বা অতীতে তারা কী করেছে সে বিষয়ে মানুষকে জানানো একান্তভাবে দরকার। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা, একই সঙ্গে আমাদের ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে-সে সম্পর্কে জানা দরকার।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকে যে সামরিক জাদুঘরটি আমরা দেখছি-এটি প্রথমে নির্মিত হয়েছিল খুব ক্ষুদ্র পরিসরে। বিজয় সরণির পাশের জায়গাটিতে এটি প্রস্তুত করা হয়। আমার খুব আকাঙ্খা ছিল-এটিকে খুব আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার। তারই পাশে আরেকটি জায়গায় আমি প্রথমবার যখন সরকারে আসি, প্লানেটোরিয়াম করে ফেলি।’

তিনি বলেন, ‘যে কোনো কাজ আমি প্রথমবার যখন করতে গেছি, প্রতিটি ব্যাপারেই কিন্তু পরবর্তী সরকার এসে আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। প্লানেটোরিয়াম যখন আমি করলাম এর জন্য আমার বিরুদ্ধে দুটো মামলা দেওয়া হয়েছিল। কেন দেওয়া হয়-আমি ঠিক জানি না। আমরা যখন প্লানেটোরিয়াম করেছি, তখনই সমস্ত ইউটিলিটি যেন সামরিক জাদুঘর এবং প্লানেটোরিয়াম-উভয়েই শেয়ার করতে পারে সে ব্যবস্থাও নিয়েছিলাম। আর সেই সঙ্গে সরকার প্রধান হিসেবে বিভিন্ন সময় বিদেশে যখন আমরা যাই বা কোনো সরকার প্রধান যখন আমাদের দেশে বেড়াতে আসে তখন যে উপহার দেয়-সেগুলো সংরক্ষণ করা এবং দৃষ্টিনন্দনভাবে রাখা ও মানুষের সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থাও করি। আমাদের যে তোষাখানা জাদুঘর আছে বঙ্গভবনে, সেখানে স্টোর রুমের মতো জিনিসপত্রগুলো রাখা। কিন্তু সেগুলো মানুষের সামনে প্রদর্শন করবার ব্যবস্থা আমি নিয়েছি। এজন্য এই জায়গায় আমরা তোষাখানা জাদুঘরও নির্মাণ করি। এবং এটা সামরিক বাহিনীর হাতেই দিয়েছিলাম, একটা কমিটিও আমরা করে দেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই সঙ্গে সামরিক জাদুঘরটাকেও অত্যন্ত আধুনিক করে গড়ে তোলা এবং এটা যেন দৃষ্টিনন্দন হয়-সারা বিশ্বের যত সামরিক জাদুঘর হয়েছে, তারমধ্যে যেন শ্রেষ্ঠ জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় সেটাই আমার আকঙ্খা ছিল। আমি এই জাদুঘরটি এখনো সরেজমিনে দেখিনি, প্রাথমিক পর্যায়ে যখন কাজ শুরু হয় তখন কিছুটা দেখেছি, যখন যতটুকু ডেভেলপ হয়েছে আমি ছবিতে দেখেছি, এবং যখন যেটা নির্দেশনা দেওয়ার আমি দিয়েছি, কিন্তু যতটুকু এখন দেখলাম—আমি মনে করি, এটা হবে সর্বশ্রেষ্ঠ, সুন্দর, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি সামরিক জাদুঘর। কাজেই সেভাবে এটি তৈরি হোক সেটাই আমি চাই।’

তিনি বলেন, ‘জাদুঘর শুধু প্রদর্শনীর জন্য না, এটা দেখে আমাদের তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং দেশপ্রেমে জাগ্রত হয়ে তারা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যোগদান করতে আগ্রহী হবে, এগিয়ে আসবে।’


আরও খবর



বালু নদে নাব্যতা সংকটে আটকে আছে অসংখ্য বালুবাহী বালুভর্তি বাল্কহেড, কোটি কোটি টাকার লোকসান।

প্রকাশিত:Saturday ১৫ January ২০২২ | হালনাগাদ:Wednesday ২৬ January ২০২২ | ৯৫জন দেখেছেন
Image


মো. বজলুর রহমানঃ

রাজধানীর কোলঘেষা বালু নদে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে চরম আকারে। এ কারণে প্রতিনিয়ত ওই নদে আটকে যাচ্ছে বালুবাহী মাঝারি ও বড় বালুভর্তি বাল্কহেড। গত ৫ দিন ধরে ঢাকার ভাটারা থানাধীন বালু নদের বেরাইদ এলাকায় মক্কা মদিনা ৫, টিউলিপ ও অঞ্জুমান-২ নামে ২৬ হাজার ফুটের ৩ টি বড় বড় বাল্কহেড নাব্যতা সংকটে আটকে যাওয়ায় দীর্ঘ প্রায় ২ কিলোমিটার  বাল্কহেড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।


আর শুস্ক মৌসুমে প্রায়ই এ ধরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শীতকালে শত শত কোটি টাকার বাল্কহেড বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকার লোকসান গুণতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাল্কহেড শ্রমিকের মজুরিতেও চরম ভাটা পড়ে বলে পারিবারিকভাবে তারা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটায়। এদিকে আটকে পড়া বাল্কহেডের লাখো শ্রমিকরা বিগত করোনাকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনো ঋণের বোঝা বইছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


সরজমিন দেখা গেছে,শুক্রবার বিকেলেও বেরাইদ বাজার এলকায় নাব্যতা সংকটে বালু নদের পানি কম থাকায় ৪ দিন ধরে আটকে আছে বালুভর্তি ৩ টি বড় বাল্কহেড। এতে করে অন্যান্য শতাধিক বাল্কহেড ওই নদে আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে শ্রমিকরা নদের পঁচা পানির মধ্যেই বন্ধ বাল্কহেডে দিনাতিপাত করছেন। খাওয়া দাওয়া ও নামাজ পড়ছেন বাল্কহেডেই। জটে আটকা পড়ে শ্রমিকরা অলস সময় পাড় করছেন।


এ বিষয়ে রমজান আলী নামে সাদিয়া ২ নামের এক বাল্কহেড শ্রমিক বলেন, গত ৫ দিন ধরে বালু নদের পঁচা পানিতে আটকে মশার কামড় খাচ্ছি। খোরাকির টাকাও নাই হাতে।মালিক বিকাশে টাকা পাঠাচ্ছে আর খাচ্ছি কিন্তু টাকার অভাবে বাড়ির লোকেরা খাওয়ায় কষ্ট করছে। নদিটা গভীর থাকলে সমস্যায় পড়তামনা।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খনন বা ড্রেজিংয়ের অভাবে গত কয়েক বছর ধরে বালু নদে ফকিরখালি, বেরাইদ, নাওড়া ও নগরপাড়া এলাকায় নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এ সব এলাকায় অন্তত ১২ হাত পানির প্রয়োজন হয় বাল্কহেড চলাচল করতে। এক্ষেত্রে এসব এলাকায় এখন ৭ হাত পানি পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ নদের ৩১ টি মৌজায় বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃক ২০১৩-১৪ সালে রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনট্যানেন্স) ড্রেজিং করা হয়েছে। তারপর আর কোন খনন বা ড্রেজিং করা হয়নি বলে নদের তলদেশ অনেক ভরাট হয়ে গেছে। আর এ নদ দিয়ে বাল্কহেডের মাধ্যমে বালু বহন করে শহরের নি¤œাঞ্চলগুলো ভরাট করে আধুনিক নগরে রূপান্তর করা হচ্ছে। অথচ নাব্যতা সংকটে তা ব্যহত হচ্ছে চরমভাবে। তবে শুস্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকটে এ নদ দিয়ে ১২শ’ থেকে ১৬শ’ ফুটের বেশি বড় বাল্কহেড চলাচল করতে পারেনা।  

 

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকার ক্ষিলগাঁও থানাধীন বালু নদের ইটাখোলা থেকে ইদারকান্দি, ফকিরখালি ও ভাটারা থানাধীন বেরাইদ বাজার এলাকা পর্যন্ত বালুভর্তি বাল্কহেডের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আর নাব্যতা সংকটেই গত ৪ দিন ধরে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে তা অপসারণ করা যাচ্ছেনা। এক্ষেত্রে জোয়ারের পানির অপেক্ষায় রয়েছে দীর্ঘ প্রায় দুই মাইলের বাল্কহেড যানজট। তাছাড়া প্রতিবছরই ঢাকার বালুরপাড়, ফকিরখালি, ইদারকান্দি, বেরাইদসহ বালু নদের অধিকাংশ এলাকায় নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। নদের তলদেশ ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে।


এ বিষয়ে বেরাইদ বাজার এলাকার বাল্কহেড ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, বড় ৩ টি বাল্কহেড বালু নদে প্রবেশ করায় এ দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানা সত্বেও কেন এত বড় লোড জাহাজ এ নদ দিয়ে আনল বুঝলামনা। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


এ বিষয়ে বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান  এইচ এম সুমন বলেন, বালু নদে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বৃহৎপরিকল্পনা প্রয়োজন যা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। একই সঙ্গে নদী বাঁচাতে জলাবায়ু ঝুঁকি রাশের লক্ষ্যেও কাজ করছি। সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের নিয়ে দ্রুত জরুরী এসব কাজ সমাধানে সবার এগিয়ে আসতে হবে।


এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে টঙ্গী নদী বন্দরের সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা সমর কৃষ্ণ সরকার বলেন, নাব্যতা সংকট বালু নদে চরম। জরুরী ভিত্তিতে খনন প্রয়োজন, প্রয়োজন বৃহৎ পরিকল্পনারও। এত বড় বাল্কহেড যানজট লাগার একমাত্র কারণই হচ্ছে নাব্যতা সংকট।

আর জোয়ারের পানি না আসা পর্যন্ত এ যানজট নিরসন সম্ভব নয়। রোইদ এলাকায় অনেকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে যানজট নিরসনে। এখানে ১২ হাত গভীর পানির প্রয়োজন,অথচ পাওয়া যাচ্ছে ৭ হাত।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপের ফাইনালে রানার্স-আপ বাংলাদেশ

প্রকাশিত:Wednesday ২৯ December ২০২১ | হালনাগাদ:Tuesday ২৫ January ২০২২ | ১১৮জন দেখেছেন
Image


আজাদ হোসেনঃ

বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন মেনস ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপ-২০২১ এর ফাইনালে রানার্স-আপ হয়েছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে ৩-০ সেটে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। তিন সেট যথাক্রমে ২৮-২৬, ২৫-২০, ২৫-২০ পয়েন্টে হেরে যায় স্বাগতিকরা।অন্যম্যাচে বঙ্গমাতা এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন উইমেন্স ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপ-২০২১-এর মুকুট ধরে রেখেছে নেপাল।


মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ফাইনালে উজবেকিস্তানকে ৩-২ সেটে হারায় তারা। পাঁচ সেটে গড়ানো ম্যাচটি নেপালের মেয়েরা জিতে নেয় ২৬-২৪, ২৪-২৬, ২৫-১৫, ২২-২৫, ১৫-১০ ব্যবধানে।তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিরগিজস্তানকে ৩-০ সেটে হারায় শ্রীলঙ্কা। টানা তিন সেট তারা জিতে নেয় ২৬-২৪, ২৫-১৬, ২৫-২২ ব্যবধানে।ছেলেদের বিভাগে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন বাংলাদেশের হরষিত বিশ্বাস।


আর মেয়েদের বিভাগে সেরা খেলোয়াড় হন উজবেকিস্তানের জোজাখন সাতিভোলদিয়েভা।ফাইনাল শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, মিরপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা, উত্তরার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সেন্ট্রাল এশিয়ান ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ লতিফ, ইরান ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মোহাম্মদ দেওয়ারজানি রেজা, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও ভলিবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. ইউনুস ও ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু।বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন মেনস ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপ-২০২১ ও বঙ্গমাতা এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন মেনস ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপ-২০২১ এর টাইটেল স্পন্সর ছিল ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপ।

-খবর প্রতিদিন/ সি.বা 

আরও খবর



আইপিটিভি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ তথ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত:Thursday ২০ January ২০22 | হালনাগাদ:Wednesday ২৬ January ২০২২ | ৭৮জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: যেসব ইউটিউব চ্যানেল ও নিবন্ধনবিহীন আইপিটিভিতে সংবাদ প্রচার করা হয় সেগুলো বন্ধে দেশের সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ডা. হাছান মাহমুদ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন এক অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

ডা. হাছান মাহমুদ বলেন, ‌‘দেশের কোনো কোনো জায়গায় এখনো আইপিটিভির মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হয়। কিন্তু সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী, তারা এসব সংবাদ প্রচার করতে পারে না। ইউটিউবের মাধ্যমেও সংবাদের বুলেটিন প্রচার করা হয়। এটি আমাদের সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী করতে পারে না।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের আমরা বলেছি, অনেক আইপিটিভি স্থানীয়ভাবে অনেক পপুলার। মানুষ তাদের চেনে এবং নিয়মিত তাদের খবর প্রচার করছে। আমি বলছি, সম্প্রচার নীতিমালা অনুযায়ী তারা এটা পারে না এবং তারা যেন এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।’

জেলা প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, গত বছর ক্লিন ফিড বাস্তবায়নের যেভাবে ডিসিরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি। গত বছরের পহেলা অক্টোবর থেকে ক্লিন ফিড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখনো তাদের এ ব্যাপারে নজর রাখতে বলেছি। যারা কেবল নেটওয়ার্ক প্রচার করেন তারা যেন স্থানীয়ভাবে টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবে কোনো অনুষ্ঠান প্রচার না করে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলেছি জেল প্রশাসকদের।’


আরও খবর



প্রতারক লিটনের বিরোদ্ধে রবিউলের ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের আরো এক মামলা

প্রতারক লিটনের বিরোদ্ধে রবিউলের ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের আরো এক মামলা

প্রকাশিত:Saturday ২২ January 20২২ | হালনাগাদ:Tuesday ২৫ January ২০২২ | ১১৫জন দেখেছেন
Image

পর্ব -৩

মোঃ আব্দুল হান্নানঃ৷

ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদরের বাসিন্দা মৃত আব্দুল গাফ্ফারের ছেলে Rab এর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রতারক মোঃ লিটন (৩৫) এর বিরোদ্ধে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের আরো একটি প্রতারনার মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।বাদী গুনিয়াউক ইউনিয়নের চিতনা গ্রামের প্রবাসী মোঃ রবিউল মিয়া।

বাদী ও মামলা সুত্রে জানা গেছে,প্রতারক লিটন ২০১৫ সালের ২৩ আগষ্ট প্রবাসী রবিউলের নিকট নাসিরনগর সদরে ৩ শতাংশ জায়গা ১৫ লক্ষ টাকা বিক্রি করে উপস্থিত স্বাক্ষীদের সামনে ৩ শত টাকা মুল্যের ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ১২ লক্ষ টাকা গ্রহন করে।বাকী ৩ লক্ষটাকা জমি রেজিষ্টারির দিনে বুঝে নিয়ে রেজিষ্টারী করে দেয়ার কথা হয়।পরবর্তীতে রবিউল জমি রেজিষ্টারী করার কথা বললে দেম দিচ্ছি বলে ঘুড়াইতে থাকে।এক পর্য্যায়ে রবিউলের কাছে জমি বিক্রি করছে না বলে জানিয়ে দেয়।একপয্যার্য়ে লিটন ও তার ছোটভাই সাংবাদিক মনির মিলে রাস্তায় ফেলে রবিউলকে মারপিট করে।এমনকি রবিউলের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে রবিউলকে জেলেও পাঠায়।


অবশেষে নিরুপায় হয়ে রবিউল প্রতারক লিটনের বিরোদ্ধে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিজ্ঞ আদালতে অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করে।বর্তমানে লিটনের বিরোদ্ধে রবিউলের দায়ের করা মামলাটি আদালতে  বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।


-খবর প্রতিদিন/ সি.বা              


আরও খবর